উপনিবেশবিরোধী লেখক গুরনাহর হাতে সাহিত্যের নোবেল

উপনিবেশবিরোধী লেখক গুরনাহর হাতে সাহিত্যের নোবেল

আব্দুরাজাক গুরনাহ। ফাইল ছবি

নোবেল কমিটি বলেছে, ঔপনিবেশিক প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক ও মহাদেশীয় বিচ্ছিন্নতার মধ্যে শরণার্থী জীবনের টানাপড়েনকে নিজের লেখায় আপসহীন ও সহানুভূতিশীল ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন আব্দুরাজাক গুরনাহ।

এ বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন তানজানিয়ান বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক আব্দুরাজাক গুরনাহ।

সুইডিশ অ্যাকাডেমি বৃহস্পতিবার ২০২১ সালের পুরস্কারজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটি বলেছে, ঔপনিবেশিক প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক ও মহাদেশীয় বিচ্ছিন্নতার মধ্যে শরণার্থী জীবনের টানাপোড়েনকে নিজের লেখায় আপসহীন ও সহানুভূতিশীল ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন আব্দুলরাজাক গুরনাহ।

১৯৪৮ সালে পূর্ব আফ্রিকার জাঞ্জিবারে (বর্তমানে তাঞ্জানিয়ার অংশ) জন্ম নেয়া আব্দুরাজাক গুরনাহ শরণার্থী হিসেবে ইংল্যান্ডে চলে আসেন ১৯৬০ এর দশকে। কিছু দিন আগ পর্যন্ত তিনি ক্যান্টারবারির ইউনিভার্সিটি অফ কেন্টে ইংলিশ অ্যান্ড পোস্টকলোনিয়াল লিটারেচার বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

২১ বছর বয়সে শরণার্থী হিসেবে ইংল্যান্ডে তার লেখক জীবন শুরু। শরণার্থীদের ছিন্নমূল জীবন অবলম্বনেই রচিত হয়েছে তার অধিকাংশ লেখা। এখন পর্যন্ত তার ১০টি উপন্যাস প্রকাশ হয়েছে। একই সঙ্গে লিখেছেন বহু ছোটগল্প।

১৯৯৪ সালে প্রকাশিত তার চতুর্থ উপন্যাস ‘প্যারাডাইস’-এর জন্য বিশ্বজোড়া পরিচিতি পান আব্দুরাজাক গুরনাহ। ১৯৯০ সালের দিকে পূর্ব আফ্রিকায় এক গবেষণার কাজে যাওয়ার পর সেখানকার অভিজ্ঞতা থেকে উপন্যাসটির উপকরণ খুঁজে পান তিনি।

একটি বিয়োগান্তক প্রেম ও ভিন্ন জগত ও ভিন্ন বিশ্বাসের সংঘর্ষের ঘটনাকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে এই উপন্যাস।

এরপর তার ২০০১ সালের উপন্যাস ‘বাই দ্য সি’ ও ২০০৫ সালে ‘ডেসারশন’ পাঠকপ্রিয়তা পায়। এবারের সাহিত্যে নোবেল বিজয়ীদের সম্ভাব্য তালিকায় ফেভারিট ছিলেন না গুরনাহ।

ব্রিটিশ বুকমেকারদের কাছে ফেভারিট ছিলেন কেনিয়ার এনগুগি ওয়া থিয়োঙ্গো, ফ্রান্সের আনি এনোঁ, জাপানের হারুকি মুরাকামি, কানাডার মারগারেট আর্টউড ও অ্যান্টিগান-আমেরিকান লেখক জ্যামাইকা কিনসেইড।

নোবেল পুরস্কার সাধারণত আলফ্রেড নোবেলের জন্মদিন ১০ ডিসেম্বর বিজয়ীদের হাতে তুলে দেয়া হয়। নোবেলের সনদের সঙ্গে সাহিত্যে পুরস্কারজয়ী ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনার অর্থ পান। বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্য প্রায় নয় কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

১৯৮৭ সালে ইতালির মানতুয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন গিলিয়া। বোলোগনার আকাদেমিয়া অব ফাইন আর্টস থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করার পর পেশা হিসেবে আঁকাআঁকিকেই বেছে নেন।

চিত্রকর্ম রং এবং কালি দিয়ে তৈরি হয় এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু মানুষ থাকে যারা একটু বেশিই মেধাবী হয়। তাদেরই একজন ইতালিয়ান আর্টিস্ট গিলিয়া বারনার্দেল্লি।

গিলিয়া একদিন কফির মগে চুমুক দিতে দিতে ড্রয়িং করছিলেন। আচমকা হাতের খোঁচা লেগে কফিভর্তি মগটি ক্যানভাসের ওপর পড়ে যায়। যেভাবে কফিটি ক্যানভাসে গড়িয়ে গিয়েছিল তা দেখে গিলিয়ার মাথায় এক ভাবনা উদয় হয়। তিনি তার চামচটিকে ব্রাশ হিসেবে ব্যবহার করে বাদামি রঙের পানীয়টি দিয়ে চিত্রকর্ম তৈরি করে ফেলেন। আর এভাবেই তার কফি আর্টের যাত্রা শুরু।

গিলিয়া বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম সেরা কফি আর্টিস্ট হিসেবে পরিচিত।

১৯৮৭ সালে ইতালির মানতুয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন গিলিয়া। বোলোগনার আকাদেমিয়া অব ফাইন আর্টস থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করার পর পেশা হিসেবে আঁকাআঁকিকেই বেছে নেন।

ইনস্টাগ্রামে তার এই কফি আর্ট তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। কফি আর্ট করতে গিলিয়া বিভিন্ন বিষয় থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে থাকেন। এর মধ্যে আছে জনপ্রিয় চিত্রকর্ম, স্থাপত্য কিংবা মানবশরীর।

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

ফেলে দেয়া কফি থেকে আর্ট

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস

শেয়ার করুন

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা

মিশরের পিরামিড। ছবি:সংগৃহীত

স্থপতি আদিল ডালবাই এবং মুকাসা পুরো দুনিয়াকে জানান দিতে চান আফ্রিকার স্থাপত্য নিয়ে, যা মিশরের পিরামিডের কথা মনে করিয়ে দেয়।

মিশরের পিরামিড বিশ্বজুড়ে নান্দনিকতার এক আশ্চর্যের নাম। কিন্তু অনেকেই জানেন না আফ্রিকার অনেক স্থাপত্যের মধ্যেও আছে ঠিক একই নান্দনিকতা।

স্থপতি আদিল ডালবাই এবং মুকাসা তাই পুরো দুনিয়াকে এর জানান দিতে চান সাব-সাহারান আফ্রিকা প্রকাশিত সাত খণ্ডের আর্কিটেকচারাল গাইডের মাধ্যমে। সম্প্রতি তারা এ দলের অংশ হিসেবে কাজ করছেন।

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা
ছবি: ডাকার রেলওয়ে স্টেশন (স্থপতি আদিল ডালবাই)

তাদের গভীর গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল পূর্বযুগের ভবনগুলো। ঔপনিবেশিক সময়ে সেনেগালের রাজধানী ডাকারে নির্মিত সম্প্রতি সংস্কার করা রেলওয়ে স্টেশন থেকে শুরু করে আধুনিক মাস্টারপিসের জন্য কাজ করেছেন এ দুই স্থপতি।

আফ্রিকার ১২টি উদ্ভাবনী, ঐতিহাসিক এবং আইকনিক ভবনগুলো হলো-

১. কাসুবি সমাধি, উগান্ডা– ১৮৮২

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা
ভবনের স্থপতি সেবাস্তিয়েন মরিসেত

উগান্ডার রাজধানী কামপালায় কয়েক হেক্টর কৃষি জমি জুড়ে তৈরি কাসুবির রয়েল কমপ্লেক্স হলো বুগান্ডা রাজ্যের রাজাদের সমাধিস্থল। মূলত কাঠ এবং অন্যান্য জৈব পদার্থ থেকে নির্মিত হয়েছিল এটি।

ভেতরে একটি পবিত্র বন প্রতিলিপি করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ৫২টি বুগান্ডা গোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য উপরের দিকে রয়েছে ৫২টি বৃত্তাকার রিং।

২. লিডেটা মার্কেট, ইথিওপিয়া– ২০১৭

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা
স্থপতি: গোঞ্জালো গুয়াজার্দো

শপিং সেন্টারটি ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় ‘ভিলাল্টা স্টুডিও’ তৈরি করেছে, যা হালকা ওজনের কংক্রিট দিয়ে তৈরি। নকশায় ছিদ্রযুক্ত মুখোমুখি রয়েছে যা প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, ভবনের চকচকে সাদা খোলকে সাজানো কাট-আউট প্যাটার্নটি একটি ঐতিহ্যবাহী ইথিওপীয় কাপড়ের অনুকরণ করে বানানো।

৩. হিকমা কমপ্লেক্স, নাইজেরিয়া- ২০১৮

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা
স্থপতি: জেমস ওয়াং

আর্কিটেকচার স্টুডিও এটেলিয়ার মাসোমির নাইজেরিয়ান প্রতিষ্ঠাতা মরিয়ম কামারা, স্টুডিও চাহারের ইয়াসামান ইসমাইলির যৌথ উদ্যোগে সাবেক একটি হাউসা মসজিদকে পুনরুদ্ধার করা হয়।এতে একটি কমিউনিটি স্পেস আর লাইব্রেরিও রয়েছে।

ডালবাইয়ের জন্য প্রকল্পটি পুরাতন এবং নতুনের অবিচ্ছিন্ন মিশ্রণে বিশেষভাবে তৈরি।

জার্মান এই স্থপতি বিবিসিকে বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই একটি সমসাময়িক ভবন যা নাইজেরিয়ান ঐতিহ্যকে গভীরভাবে প্রকাশ করে।

‘শুধুমাত্র সাংস্কৃতিকভাবে নয়, প্রযুক্তিগতভাবেও এটি পুরানো ভবনগুলোর কৌশল ও উপকরণের উপর নির্ভর করে।’

৪. মারোপেং ভিজিটরস সেন্টার, সাউথ আফ্রিকা– ২০০৬

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা
স্থপতি: গ্যাপ আর্কিটেক্টস অ্যান্ড আরবান ডিজাইনারস

মারোপেং একটি অত্যাধুনিক পর্যটন কেন্দ্র যা আধুনিক মানুষের প্রাথমিক বিকাশ সম্পর্কে জানতে সাহায্য করতে তৈরি করা হয়েছে।

এই আইকনিক স্ট্রাকচারটি সাউথ আফ্রিকার প্রতিষ্ঠান (GAPP Architects ও MMA Studio) দিয়ে ডিজাইন করা।

৫. মেরোস এর পিরামিড, সুদান–৩০০খৃস্টাব্দ

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা
স্থপতি: ভ্যালেরিয়ান গুইলট

এই ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটটি একসময় প্রাচীন কুশাইট সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। এর খনন থেকে প্রাসাদ, মন্দির এবং রাজকীয় গোসলখানার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।

এই পিরামিডগুলো বেলেপাথরের ব্লক দিয়ে নির্মিত হয়েছিল।

৬. বাসোথো হাউস, লেসোথো

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা
ছবি: গ্যারি ভ্যান

লেসোথোতে ‘লিটেমা’ হলো একটি ম্যুরাল, ডেকোরেশন খোদাই করা আর মোজাইক দিয়ে তৈরি।

মাটি ইট, প্লাস্টার দিয়ে নির্মিত ঘরটি উর্বরতা এবং ত্যাগের রক্তের প্রতীক লাল রঙে আঁকা। বিশুদ্ধতা ও শান্তির প্রতিনিধিত্ব করছে সাদা। পূর্বপুরুষদের উল্লেখ করার জন্য কালো, আর বৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আঁকা অন্ধকার মেঘ।

৭. কেনেথ ডাইক লাইব্রেরি, নাইজেরিয়া–১৯৫৪

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা
ছবি: ইয়াইন জ্যাকসন

গ্রন্থাগারটি নকশা করেছিলেন ইংল্যান্ডে আধুনিক আন্দোলনের পথিকৃৎ ম্যাক্সওয়েল ফ্রাই এবং জেন ড্রু। এটি ইবাদান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের অংশ।

১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ এটি প্রতিষ্ঠা করে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের গ্রন্থাগারটি সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে একটি ভবনের মধ্যে তাপ কমিয়ে আনে।

৮. মালির বিখ্যাত মসজিদ জেনি, ত্রয়োদশ শতাব্দী

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা

এ মসজিদটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাটির তৈরি কাঠামো। মসজিদটি জেনি শহরের প্রতীক,যা থেকে ৮০০ থেকে ১২৫০ সালের মধ্যে বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়েছিল।

ভবনটির মসৃণ ভাস্কর্যযুক্ত দেয়ালগুলো রোদে শুকানো ইট, বালি, মর্টার ও প্লাস্টারের একটি কোট দিয়ে নির্মিত।

প্রতি বছর শহরের অধিবাসীরা সাম্প্রদায়িকভাবে একটি একদিনের ইভেন্টের সময় মসজিদটি পুনরায় প্লাস্টার করে যা ক্র্যাপিসেজ দে লা গ্র্যান্ড মসজিদ (গ্রেট মসজিদের প্লাস্টারিং) নামে পরিচিত।

৯.সম্রাট ফ্যাসিলাইডের প্রাসাদ, ইথিওপিয়া- ১৭ শতকের শুরু

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা

প্রাসাদটি ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর গন্ডারে অবস্থিত, যা ‘ফাসিল ঘেবি’ (রয়েল এনক্লোসার) নামে পরিচিত।

এতে রয়েছে একটি দুর্গযুক্ত প্রাঙ্গন।রয়েছে ২০টি প্রাসাদ, রাজকীয় ভবন, বিস্তৃতভাবে সাজানো গীর্জা, মঠ ও অন্য কিছু ভবন।

এই ভবনগুলোর নকশা জেসুইট মিশনারিদের গন্ডারে আনা বারোক শৈলী দিয়ে প্রভাবিত হয়েছিল।

১০. ডোমিনিকান চ্যাপেল, নাইজেরিয়া-১৯৭৩

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা

শিল্পী দেমাস নোভোকো ভাস্কর্য উপাদান, আর আধুনিকতার সঙ্গে নাইজেরিয়ান স্থানীয় ভাষাশৈলীর স্থাপত্যের মিশ্রণ ঘটিয়েছেন।

আছে খোদাই করা কাঠের কলাম। ছোট রেলিং আর গেটগুলোতে বিস্তৃত ধাতব কাজও রয়েছে।

১১. গ্রেট মসজিদ, বেনিন–(১৯১২-১৯৩৫)

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা

বেনিনের রাজধানী পোর্ট-নভোতে অবস্থিত মসজিদটি উত্তর-পূর্ব ব্রাজিলীয় রাজ্য বাহিয়াতে ১৭ ও ১৮ শতকের গির্জার আদলে নির্মিত আফ্রো-ব্রাজিলীয় স্থাপত্যের একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ।

উজ্জ্বল হলুদ, বাদামী, সবুজ এবং নীল রঙের এ প্যালেট বাহিয়ার ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

এটি পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল বরাবর আফ্রো-ব্রাজিলিয়ান মসজিদের একটি।

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মুক্তি পাওয়া ক্রীতদাসদের বংশধর দিয়ে বানানো হয় এ মসজিদ।

১২. মাপুংগুবে ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার, সাউথ আফ্রিকা-২০০৯

আফ্রিকার ১২ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা

মাপুংগুয়ে ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে একটি পাথুরে ল্যান্ডস্কেপে অবস্থিত কেন্দ্রটি। ওয়ার্ল্ড আর্কিটেকচার ফেস্টিভালে সাউথ আফ্রিকার স্থপতি পিটার রিচ ২০০৯ ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং অফ দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে এই স্থাপত্যের জন্য।

মাটির মিশ্রণ তৈরির জন্য নির্মাণস্থল থেকে মাটি ও পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত সিমেন্ট ব্যবহার করে ইট তৈরি করা হয়েছিল এর জন্য।

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস

শেয়ার করুন

‘শামসুর রাহমানের কবিতা সর্বত্রগামী’

‘শামসুর রাহমানের কবিতা সর্বত্রগামী’

বাংলা একাডমিতে কবি শামসুর রাহমানের ৯৩তম জন্মদিন উদ্‌যাপন। ছবি: সংগৃহীত

শামসুর রাহমানের ৯৩তম জন্মদিন উপলক্ষে একক বক্তৃতায় কবি খালেদ হোসাইন বলেন, ‘কবিতাকে তিনি জনমানুষের হৃদয়ের প্রিয় বিষয়ে পরিণত করেছেন এবং প্রতিরোধের নন্দনকলায় সকল অসুন্দরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়ে চলেছেন।’

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ৯৩তম জন্মদিন ছিল শনিবার। এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি রোববার বেলা ১১টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতার আয়োজন করে। এতে বক্তৃতা দেন বিশিষ্ট গবেষক ও কবি অধ্যাপক খালেদ হোসাইন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। এতে শামসুর রাহমানের কবিতা থেকে পাঠ করেন বাচিক শিল্পী ডালিয়া আহমেদ।

কবি খালেদ হোসাইন বলেন, ‘শামসুর রাহমান তার কাব্যিক উন্মেষলগ্ন থেকেই সমসাময়িকদের মধ্যে ছিলেন স্বতন্ত্র। হৃদয়ের আকুতির সঙ্গে পরিপার্শ্বের কোলাহল তার কবিতায় অপরূপ ব্যঞ্জনা লাভ করেছে। একান্ত পাঠ-উপযোগিতার পাশাপাশি তার কবিতা হয়ে উঠেছে সর্বত্রগামী।’

তিনি বলেন, ‘জীবন ও জনতা শামসুর রাহমানের কবিতায় নমিত এবং সোচ্চার ভাষাবিন্যাসে ভাস্বর হয়েছে। দেশীয় এবং পাশ্চাত্য পুরাণের অনন্য ব্যবহারে কবিতাকে তিনি বৈচিত্রপূর্ণ করে তুলেছেন। একই সঙ্গে অসম সাহসে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং শোষণমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দশকের পর দশক তিনি কাব্যিক লড়াই চালিয়ে গেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কবিতাকে তিনি জনমানুষের হৃদয়ের প্রিয় বিষয়ে পরিণত করেছেন এবং প্রতিরোধের নন্দনকলায় সকল অসুন্দরের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়ে চলেছেন।’

সভাপতির বক্তব্যে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ‘শামসুর রাহমান আমৃত্যু পঙ্কে পদ্ম ফোটানোর সাধনা করেছেন। তার কবিতা বাঙালি জাতিসত্তার কাব্যিক ভাষ্য নির্মাণে ভূমিকা রেখেছে। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলা ভাষা, বাঙালি জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্রকে তিনি তার কাব্যিক হাতিয়ার দিয়ে মোকাবেলা করেছেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এরপর এদেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তার কবিতা আমাদের মাঝে উজ্জীবক অস্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘কবি শামসুর রাহমান গেরিলা পদ্ধতিতে আজীবন বাংলা, বাঙালিত্ব এবং মানবতার সংগ্রামে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন এবং ক্রমশ হয়ে উঠেছেন চিরজীবিত স্বাধীনতার কবি।’

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস

শেয়ার করুন

জীবনানন্দের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি

জীবনানন্দের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি

বরিশাল শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে শুক্রবার বিকেলে জীবনানন্দ স্মরণানুষ্ঠান হয়। ছবি: নিউজবাংলা

কবির জীবনের ওপর আলোচনা করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দিন, সরকারি ব্রজমোহন কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ হালদার ও কবি হেনরী স্বপন।

বরিশালে নানা আয়োজনে কবি জীবনানন্দ দাশের ৬৭তম প্রয়ান দিবস পালিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নগরীর শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে জীবনানন্দ স্মরণানুষ্ঠান হয় ।

আলোচনা, কবিতাপাঠসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে জীবনানন্দ দাশের স্মৃতি ধরে রাখতে তার বাড়ি ও সম্পদ রক্ষার দাবি জানান কবিরা।

বরিশাল শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চকে তারা কবি জীবনানন্দ দাশ মঞ্চ নামকরণের দাবি জানান।

কবির জীবনের ওপর আলোচনা করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দিন, সরকারি ব্রজমোহন কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেবাশীষ হালদার ও কবি হেনরী স্বপন।

এর আগে ব্রজমোহন কলেজ প্রশাসন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে কবির প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়া হয়।

সকালে কবি জীবনানন্দ দাশ মিলনায়তন ও পাঠাগারে জাতীয় কবিতা পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি নজমুল হোসেন আকাশ, জাতীয় কবিতা পরিষদ বরিশালের সভাপতি তপঙ্কর চক্রবর্তী, ব্রজমোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ স ম ইমামুল হাকিম, ছড়াকার দীপঙ্কর চক্রবর্তীসহ অনেকে।

বরিশাল নগরীর জীবনানন্দ দাশ সড়কে ‘ধানসিঁড়ি’ নামের কবির বাড়িটি বেদখল হয়ে আছে বলে জানান দেবাশীষ হালদার। বাড়িটি উদ্ধার করে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস

শেয়ার করুন

যুবলীগের চিঠি সংকলন ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ প্রকাশ

যুবলীগের চিঠি সংকলন ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ প্রকাশ

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ বইয়ের প্রচ্ছদ।

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ চিঠি সংকলন গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও নির্বাহী সম্পাদক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও প্রচ্ছদ করেছেন ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়।

বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশে লেখা প্রতীকী চিঠি নিয়ে গ্রন্থ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সম্পাদনায় রচিত গ্রন্থটির নাম রাখা হয়েছে ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’।

১৭ অক্টোবর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। তারই অংশ ছিল এই চিঠি লেখা কর্মসূচি। সারাদেশ থেকে আসা শতাধিক চিঠি থেকে বাছাইকৃত চিঠি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে গ্রন্থটি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ অক্টোবর আইইবি মিলনায়তনে যুবলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আশ্রয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি, সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি, বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতারা ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ চিঠি সংকলন গ্রন্থের সম্পাদক ও প্রকাশক যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও নির্বাহী সম্পাদক যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল। গ্রন্থটির মুখবন্ধ লিখেছেন জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ও প্রচ্ছদ করেছেন ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়।

সম্পাদনা সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম মিল্টন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিপ্লব মোস্তাফিজ, উপ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ নবীরুজ্জামান বাবু এবং উপ প্রচার সম্পাদক আদিত্য নন্দী।

গ্রন্থটির সম্পাদক শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে প্রজন্মের ভাবনা, আবেগ, ভালোবাসা প্রকাশিত হোক- এমন ইতিবাচক উদ্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ আয়োজন করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রতীকী চিঠি লেখা কর্মসূচি। সারাদেশ থেকে প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠিগুলো থেকে বাছাইকৃত চিঠি নিয়ে প্রকাশিত হলো চিঠি সংকলন গ্রন্থ ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’।’

প্রিয় বঙ্গবন্ধু গ্রন্থটি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও শাহাবাগের পাঠক সমাবেশে পাওয়া যাবেও বলে জানান তিনি। এর শুভেচ্ছা মূল্য ধরা হয়েছে ৩২০ টাকা।

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস

শেয়ার করুন

তৃতীয় বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসব শুরু শুক্রবার

তৃতীয় বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসব শুরু শুক্রবার

বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসব শুরু হচ্ছে শুক্রবার। ছবি: সংগৃহীত 

রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে উৎসবের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে সব সিনেমা। এ জন্য আগ্রহী দর্শকদের একটি লিংকে নিবন্ধন করার আহ্বান জানিয়েছে গ্যোটে ইনস্টিটিউট।

গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ তৃতীয়বারের মতো আয়োজন করছে বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসব।

বিশ্বের ২২ দেশের ১২২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে আন্তর্জাতিক এ উৎসবে।

গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া উৎসব চলবে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এর মধ্যে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে ৩২টি চলচ্চিত্র।

শুক্রবার ভার্চুয়াল উদ্বোধন পর্বের মধ্য দিয়ে এসব চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী শুরু হবে।

রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে উৎসবের ওয়েবসাইটে দেখা যাবে সব সিনেমা। এ জন্য আগ্রহী দর্শকদের একটি লিংকে নিবন্ধন করার আহ্বান জানিয়েছে গ্যোটে ইনস্টিটিউট।

উদ্বোধন পর্বের রেজিস্ট্রেশনের জন্য ক্লিক করতে হবে এ লিংকে

উৎসব সামনে রেখে ২০ অক্টোবর সংক্ষিপ্ত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্যোটে ইনস্টিটিউট জানায়, করোনা মহামারিকে মাথায় রেখে এবারের উৎসবে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেয়া হবে।

দেশের দর্শকদের জন্য বোধগম্য করার লক্ষ্যে তিনটি চলচ্চিত্র বাংলায় ডাব করা হয়েছে। আরও তিনটি চলচ্চিত্রে সাবটাইটেল যুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসবকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিজ্ঞান যোগাযোগের উৎসব হিসেবে উল্লেখ করেছে গ্যোটে ইনস্টিটিউট।

তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র এবং শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সমসাময়িক বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত এবং পরিবেশগত সচেতনতা বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য ৩২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি থাকবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের জন্য কর্মশালা, কুইজ ও বিজ্ঞানবিষয়ক আলোচনা।

অনলাইন চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি কিছু চলচ্চিত্র স্থানীয় টেলিভিশনে প্রদর্শন হবে।

এবারের বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসবের স্থানীয় পার্টনার হিসেবে থাকছে অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই), ম্যাপেল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, চিটাগাং মাস্টার মাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, জাগো ফাউন্ডেশন, টিচ ফর বাংলাদেশ, নেটজ বাংলাদেশ, ব্র্যাক একাডেমি, ইউনেসকো বাংলাদেশ এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)।

সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গ্যোটে ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের পরিচালক ড. কির্স্টেন হ্যাকেনব্রোক বলেন, ‘বিজ্ঞান যে পরিবর্তন আনতে পারে এবং জীবন বাঁচাতে পারে, তা আমরা সবাই আবার নতুন করে শিখেছি। একজন বিজ্ঞানী হওয়ার অর্থ অজানার পথে হাঁটা, তর্ক-বিতর্কে অনুপ্রাণিত হওয়া, মানবতার জন্য স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ তৈরির লক্ষ্যে সহাবস্থান রাখা।

‘এর শুরু হতে পারে শিশুকাল থেকেই। এ গুরুতর প্রচেষ্টাটি কীভাবে মজাদার হতে পারে, তা দেখানো বিজ্ঞান চলচ্চিত্র উৎসবের একটি লক্ষ্য।’

এ বছর প্রথমবারের মতো উৎসবটি নিজস্ব কুইজ শো পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ কুইজ।

তিনটি পর্যায়ে হবে কুইজ।

১. জাতীয় অনলাইন রাউন্ড (অক্টোবর-নভেম্বর)

২. জাতীয় স্তরের ভিডিও কনফারেন্স রাউন্ড (ডিসেম্বর)

৩. আন্তর্জাতিক স্তরের ভিডিও কনফারেন্স রাউন্ড (ডিসেম্বর)।

কুইজে অংশ নিতে ক্লিক করতে হবে এ লিংকে

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস

শেয়ার করুন

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিকদের সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

‘একটি সম্প্রদায়ের উপর আঘাত মানে আপনার-আমার উপর আঘাত, বাংলাদেশের সংবিধানের উপর আঘাত। কারণ, মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তা, ভিন্নমতের মানুষ ও ভিন্ন ধর্মের মানুষের অধিকার যখন ক্ষুণ্ণ করা হয়, তখন লেখক হিসেবে আমার অধিকারও ক্ষুণ্ণ হয়। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারকে আন্তধর্মীয় সংলাপের উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিকদের সমাবেশ থেকে। সেই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে উসকানি ও ঘৃণার বক্তব্য সরানোর দাবি জানানো হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপে ভাঙচুর, তাদের বাড়িঘরে আগুন দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

‘সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক’ এর ব্যানারে সমাবেশের সামনে রঙতুলি দিয়ে প্রতিবাদী স্লোগান লিখে প্রতিবাদ জানান চিত্রশিল্পীরা।

সমাবেশে কবি-সাহিত্যিক, শিল্পী-সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে লেখক স্বকৃত নোমান সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

দাবিগুলো হলো,

সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা;

রামু, নাসিরনগরসহ দেশে সংগঠিত প্রতিটি হামলার প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে প্রকাশ এবং এতে রাজনৈতিক ব্যক্তি জড়িত তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করে বিচার করা;

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ওয়াজ মাহফিল থেকে সাম্প্রদায়িক এবং নারীবিদ্বেষমূলক বক্তব্য বন্ধের উদ্যোগ নেয়া;

স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তক থেকে সাম্প্রদায়িক পাঠ বিলুপ্ত করে৷ অসাম্প্রদায়িক পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা;

সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সরকারি উদ্যোগে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আন্তধর্মীয় সংলাপের আয়োজন করা;

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সারাদেশে সংস্কৃতিচর্চার প্রসার ঘটানো এবং স্বাধীন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অনুপ্রাণিত করা;

এবং

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে পাঠাগার এবং সংস্কৃতি কেন্দ্র স্থাপন করা।

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা আজ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত। লজ্জায় আমরা মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছি। তবে এ মাটি থেকেই আমাদের ওঠে দাঁড়াতে হবে।

‘কারণ, পরাজিত হওয়ার জন্য ৩০ লক্ষ শহিদ বাংলাদেশ স্বাধীন করেনি। দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের পূজামণ্ডপ এবং বাড়ি ঘরে যে হামলা হয়েছে এটা একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে ঘটতে পারে আমরা কল্পনাও করতে পারি না। আমরা চাই, দেশের সমস্ত মানুষ এক হয়ে এ দাঙ্গাবাজ, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমি মনে করি, একটি সম্প্রদায়কে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করার চক্রান্ত হয়েছে। একে ইথনিক ক্লিঞ্জিং বলে। এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

‘একটি সম্প্রদায়ের উপর আঘাত মানে আপনার-আমার উপর আঘাত, বাংলাদেশের সংবিধানের উপর আঘাত। কারণ, মুক্তবুদ্ধি, মুক্তচিন্তা, ভিন্নমতের মানুষ ও ভিন্ন ধর্মের মানুষের অধিকার যখন ক্ষুণ্ণ করা হয়, তখন লেখক হিসেবে আমার অধিকারও ক্ষুণ্ণ হয়। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।’

কথা সাহিত্যিক মোজাফফর হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে যে সংখ্যালঘু শব্দের প্রচলন রয়েছে। আমরা চাই সেটি বন্ধ হোক। এ দেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়। যদি কোনো ধর্মের একজনও থেকে থাকে তাহলেও তিনি সংখ্যালঘু না। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকেও আমরা সংখ্যালঘু বলতে চাই না। এই দেশে প্রত্যেকের সমান অধিকার আছে।’

পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘কোনো মুসলমান মন্দিরে আজান দেবে না, কোনো হিন্দুও মন্দিরে কোরআন রাখতে পারে না। যারা এই কাজ করেছে, তারা মানুষরূপী অসুর। চলুন, আজ এই সমাবেশ থেকে ঘোষণা দিই—এসব মানুষরূপী অসুরদের বদ করতে হবে।’

কথাসাহিত্যিক রেজা ঘটক বলেন, ‘সরকার আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও সুষ্ঠু বিচার করেনি। এই বিচারহীনতায় বারবার এ ঘটনাগুলোকে উসকে দিচ্ছে। যারা এসব হামলা করছে তারা ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী। কিন্তু সেই গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার কেনো বারবার ব্যর্থ হচ্ছে! এটি কি কোনো চক্রান্ত?’

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানা বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে কেন আজ আমার মূর্তির উপর আঘাত আসে? কেন আজ আমি আমার মাকে শান্তিতে বিসর্জন দিতে পারি না? এই দুঃখ কোথায় রাখব?’

অনলাইন থেকে ঘৃণার বক্তব্য সরান

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে সংগঠনটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সংগীতা ইমাম বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনায় আমরা এখানে এসে দাঁড়াই। কিন্তু এই যে সাম্প্রদায়িক হামলাগুলো হচ্ছে, এগুলোর কোনো বিচার হচ্ছে না? রামু থেকে নাসিরনগরের ঘটনাগুলোর বিচার যদি হতো, তবে আজকে চাঁদপুর-নোয়াখালী-কুমিল্লায় এই ধরনের ঘটনাগুলো ঘটতো না।’

একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক জুলহাস নুর বলেন, ‘আমি একজন সংবাদকর্মী। আমরা নিউজরুমে কাজ করি। যখন এই ধরনের হামলার ঘটনাগুলো আমাদের কাছে আসে এবং এগুলো নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়, তখন আমরা ভীষণভানে মুষড়ে পড়ি।

‘আমরা যখন এখানে দাঁড়িয়ে আছি, এর আগেই ঘটে গেছে হাজীগঞ্জ, চৌমুহনী, পীরগঞ্জের ঘটনা। এসব ঘটনা যারা ঘটাচ্ছেন, তারা বারবার ঘটিয়ে চলেছে। এই ঘটনাগুলো প্রতিরোধে যে গণপ্রতিরোধ হওয়া দরকার, সরকার-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনীতিবিদদের যা করা দরকার, আমরা কি তা ঠিকঠাক করছি?’

চারুশিল্পী সংসদের সাধারণ সম্পাদক চিত্রশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ কখনও পরাজিত হতে পারে না। এই দেশে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা আছে মানুষ আর পিশাচে। যারা এসব ঘটাচ্ছে, তারা পিশাচ আর আমরা মানুষ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, কবি আলতাফ শাহনেওয়াজ, গৌরব একাত্তরের সাধারণ সম্পাদক এফএম শাহীন, যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুস্তাফিজ বিপ্লব, কথাসাহিত্যিক আহমদ মোস্তফা কামাল, লেখক ও গবেষক চঞ্চল আশরাফ, অভিনয়শিল্পী মৌটুসী বিশ্বাস, চিত্রনির্মাতা মাসুদ প্রতীক, কবি লেখক শিক্ষক ঝর্ণা রহমান, কবি টোকন ঠাকুর, কথা সাহিত্যিক পারভেজ হোসেন, আবৃত্তিশিল্পী মাসুম আজিজুল বাশার, রবীন্দ্র সংগীতশিল্পী মকবুল হোসেনও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন:
আফটারলাইভস: ঔপনিবেশিক নৃশংসতাকে প্রশ্ন করার উপন্যাস
আবদুরাজাক গুরনাহর ‘প্যারাডাইস’: একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া
গুরনাহর সৃষ্টি: শিকড়সন্ধানী মানুষের অভিজ্ঞতার নির্যাস

শেয়ার করুন