তারেক জিয়া তোমার সঙ্গে দেখা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তারেক জিয়া তোমার সঙ্গে দেখা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (বাঁয়ে) ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মুরাদ আজকে এই জাতীয় প্রেস ক্লাবে বললাম আমি বাঙালি, আমি স্বাধীন বাংলায় জন্মগ্রহণ করেছি। আমি পাকিস্তানের মাটিতে জন্মগ্রহণ করি নাই। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি কোনো কু সন্তান নই। তারেক রহমান দেখা হবে তোমার সাথে।… কবে তুমি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করবা, সময় ঘোষণা করো।’

বিদেশের মাটিতে আস্ফালন না দেখিয়ে দেশে আসতে তারেক জিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। জানিয়েছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেখে নেবেন তিনি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে বৃহস্পতিবার একটি অনলাইন পোর্টালের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘অনেক সহ্য করেছি। বিদেশের মাটিতে তারেক জিয়া বসে বলবে জাতীয়তাবাদীদের পিতা খুনি জিয়াউর রহমান। এই অন্যায় কখনও বাংলায় হবে না। এই স্বপ্ন কোনো দিন পূরণ হবে না।

‘আমি মুরাদ আজকে এই জাতীয় প্রেস ক্লাবে বললাম আমি বাঙালি, আমি স্বাধীন বাংলায় জন্মগ্রহণ করেছি। আমি পাকিস্তানের মাটিতে জন্মগ্রহণ করি নাই। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি কোনো কু সন্তান নই। তারেক রহমান দেখা হবে তোমার সাথে।… কবে তুমি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করবা, সময় ঘোষণা করো। আমার মতো মেলা মুরাদ বেঁচে আছে। লন্ডনের আস্ফালন বন্ধ করতে কয়জন মুরাদ লাগবে?’

বিদেশে বসে দেশের নামে কুৎসা রটানো সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকতার নামে নষ্টামি ভণ্ডামি করবা এটা মেনে নেয়া হবে না। আমরা সব আইন করে দেব ইনশাআল্লাহ। গণমাধ্যম আইন, সম্প্রচার আইন সব করেছি।

‘এই যে ফ্রিডম অফ স্পিচের কথা বলেন, একটু সিঙ্গাপুর যান। সেখানে গিয়ে দেখেন ফ্রিডম কেমন। একটু আমেরিকা যান, বলেন সেখানে। বাংলাদেশে এই ফ্রিডম অফ স্পিচ জাতির পিতা দিয়েছেন। বাংলাদেশের ফ্রিডম জাতির পিতা এনেছেন। অন্য কেউ বাঁশি ফুঁ দিয়ে আনে নাই। আমরা বাংলাদেশ করুণা দিয়ে নয়, রক্ত দিয়ে এনেছি।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে মুরাদ হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিয়ে জিয়াউর রহমান পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল। বাংলাদেশের নাম দিয়েছিল ইসলামিক রিপাবলিক অফ বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে ধ্বংস করে পাকিস্তানের বাংলাদেশ বানাতে চেয়েছিল। তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল দালাল ও খুনি মুশতাক।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। বলেন, ‘শেখ হাসিনার জন্য এখন সব সম্ভব হচ্ছে। আমরা কত মানুষকে ভ্যাকসিনেটেড করতে সক্ষম হয়েছি... আমরা তো পৃথিবীর ধনী দেশ না। আমাদের সবচাইতে বড় অস্ত্র, বড় শক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি থাকলে কেউ না খেয়ে মরবে না। টিকা না নিয়ে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে মৃত্যুবরণ করবে না। কয়টা দেশে পয়সা ছাড়া টিকা দিয়েছে। বলতে পারবেন?’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ, বিডি সমাচার ২৪ ডটকমের উপদেষ্টা সুজিত রায় নন্দী, সম্পাদক মহসীন হোসেনসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
সাহস থাকলে তারেককে দেশে আনুন: কাদের
ইন্টারপোলে তারেকের রেড নোটিশ প্রত্যাহার যে কারণে
তারেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
তারেকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ বুধবার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিছিল থেকে নেতাকর্মীদের এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতাকর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিছিল থেকে নেতাকর্মীদের এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নেতাকর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতাকর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকেন।

এর আগে সকাল থেকেই দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার ফ্যাস্টুন নিয়ে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে নয়াপল্টন এলাকা, নাইটেঙ্গেল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

বক্তব্য শেষে প্রতিবাদ মিছিল করবে বিএনপির নেতাকর্মীরা। মিছিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন।

আরও পড়ুন:
সাহস থাকলে তারেককে দেশে আনুন: কাদের
ইন্টারপোলে তারেকের রেড নোটিশ প্রত্যাহার যে কারণে
তারেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
তারেকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ বুধবার

শেয়ার করুন

আইসিইউ থেকে কেবিনে খালেদা জিয়া

আইসিইউ থেকে কেবিনে খালেদা জিয়া

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বায়োপসি হয়েছে খালেদা জিয়ার। ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এটাতো আসলে অপারেশন ঠিক না। এটা একটা ডায়াগনস্টিক পার্ট। যেকোনো ছোটখাটো কিছুর পরই আইসিউতে রাখা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক ঘণ্টা আইসিউতে রেখে রাতেই তাকে কেবিনে শিফট করা হয়েছে।’

বায়োপসির পর কয়েক ঘণ্টা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিউ) রেখে কেবিনে নেয়া হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে।

সোমবার রাতেই বেগম জিয়াকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয় বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, ‘এটাতো আসলে অপারেশন ঠিক না। এটা একটা ডায়াগনস্টিক পার্ট। যেকোনো ছোটখাটো কিছুর পরই আইসিউতে রাখা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক ঘণ্টা আইসিউতে রেখে রাতেই তাকে কেবিনে শিফট করা হয়েছে।’

এর আগে সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়ার বায়োপসি হয়। এরপর খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসে বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট্ট একটি অপারেশন হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা দেখলেন, উনার একটা বায়োপসি করা দরকার। ছোট একটা লাম্প (পিণ্ড) আছে এক জায়গায়। যেহেতু লাম্প আছে, তার নেচার অফ ভিউ জানার জন্য লাম্পে বায়োপসি করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেই থেকেই হাসপাতালটিতে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। শুরুতে গুলশানের বাসভবন ফিরোজার দ্বিতীয় তলায় একটি রুমে চিকিৎসা চলছিল বিএনপি নেত্রীর।

১৫ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে সিটি স্ক্যান করানো হয় খালেদা জিয়ার। এরপর ফিরিয়ে আনা হয় গুলশানের বাসভবনে। অবস্থার অবনতি হলে ২৭ এপ্রিল একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বিএনপির প্রধানকে।

৩ মে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে খালেদা জিয়াকে কেবিন থেকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বিএনপি থেকে খালেদা জিয়ার করোনা মুক্তির খবর দেয়া হয় ৯ মে।

তবে সিসিইউতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। ৩ জুন চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে কেবিনে ফিরিয়ে আনা হয়। এর ১৬ দিন পর বাসায় ফেরেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

হাসপাতালে নেয়ার কিছুদিন পর খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নিয়ে যেতে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিবার ও দল। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয় বিএনপি ও খালেদার পরিবারের।

নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদনও করেন খালেদা জিয়া, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বিদেশ যেতে অনুমতি দেয়নি সরকার। জানানো হয়, বিএনপি নেত্রী একাধিক দণ্ডিত মামলার আসামি হওয়ায় আইন অনুযায়ী তাকে বিদেশ যেতে অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই।

এর মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন খালেদা জিয়া। মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ১৯ জুলাই প্রথম ডোজ টিকা নেয়ার পর একই হাসপাতালে দ্বিতীয় ডোজ টিকা নেন ১৮ আগস্ট।

খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলে দল থেকে জানানো হয়েছে। আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, হাঁটুর জটিলতা ছাড়াও নানা ধরনের শারীরিক সমস্যা রয়েছে তার। ২০১৭ সালে যুক্তরাজ্যে খালেদা জিয়ার চোখেও অপারেশন করা হয়।

এর মধ্যে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়েছে সরকার।

আরও পড়ুন:
সাহস থাকলে তারেককে দেশে আনুন: কাদের
ইন্টারপোলে তারেকের রেড নোটিশ প্রত্যাহার যে কারণে
তারেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
তারেকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ বুধবার

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা নিয়ে ভাবনায় জাতীয় পার্টি

রোহিঙ্গা নিয়ে ভাবনায় জাতীয় পার্টি

রাজধানীর বনানী কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ছবি: সংগৃহীত

জি এম কাদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চার বছরেও সাফল্য নেই, এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারে না। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আমরা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছি। কিন্তু এ অবস্থা তো অনন্তকাল চলতে পারে না। মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করে দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে না পারাটা আমাদের ব্যর্থতা।’

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চার বছরেও অগ্রগতি না পেয়ে চিন্তিত ও হতাশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। আন্তর্জাতিক মহলকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুততার সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের শুরু চান তিনি।

রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চার বছরেও সাফল্য নেই, এর চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর হতে পারে না। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আমরা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছি। কিন্তু এ অবস্থা তো অনন্তকাল চলতে পারে না। মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করে দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে না পারাটা আমাদের ব্যর্থতা।

‘রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক হলেও আমরা আন্তর্জাতিক মহলকে সেভাবে সম্পৃক্ত করতে পারিনি। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে কাজে লাগাতে পারিনি। আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শৃংখলা রক্ষা করাও সম্ভব হয়নি।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘মানবিক আশ্রয়ে থাকলেও রোহিঙ্গারা ইতোমধ্যে মাদক চোরাচালানসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে খুন-খারাবি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। তাই, দ্রুততার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলকে সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে হবে।’

বনানীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার জাপা চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিনিময় করেন লক্ষ্মীপুর জেলা জাতীয় পার্টি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। এ সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, সোলায়মান আলম শেঠসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
সাহস থাকলে তারেককে দেশে আনুন: কাদের
ইন্টারপোলে তারেকের রেড নোটিশ প্রত্যাহার যে কারণে
তারেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
তারেকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ বুধবার

শেয়ার করুন

নুরের কর্মীদের কাছে টাকা দাবির অভিযোগে কী বলছে পুলিশ?

নুরের কর্মীদের কাছে টাকা দাবির অভিযোগে কী বলছে পুলিশ?

ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (বাঁয়ে) এবং জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে হামলায় স্বীকারোক্তি দেয়া দলটির চট্টগ্রাম কমিটির সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ মিজান। ছবি: নিউজবাংলা

নুরের অভিযোগ, ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ৯ নেতা-কর্মীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। চোখে কালো কাপড় বেঁধে ক্রসফায়ারেরও হুমকি দিয়েছে। পরে মামলায় জড়িয়ে থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি আদায় করেছে পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। এ ছাড়া কারও কাছে টাকাও চায়নি পুলিশ।

চট্টগ্রামে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের গ্রেপ্তার নেতাদের নির্যাতন এবং তাদের পরিবারের কাছ থেকে টাকা দাবি করেছে পুলিশ, নুরুল হক নুরের এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাহিনীটি।

পুলিশ বলছে, ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকির অভিযোগটি ভিত্তিহীন। এ ছাড়া কারও কাছে টাকাও চায়নি পুলিশ।

রাজধানীর নয়াপল্টনে যুব ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার দলটির আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এমন অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার জেরে চট্টগ্রামে জেএমসেন হল পূজামণ্ডপে হামলার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত না করে ছয় মাস ধরে কারাগারে থাকা তিন বিএনপিকর্মীকে মামলার আসামি করা হয়েছে।

‘ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ৯ নেতা-কর্মীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে টাকা দাবি করা হয়েছে। চোখে কালো কাপড় বেঁধে ক্রসফায়ারেরও হুমকি দিয়েছে। পরে মামলায় জড়িয়ে থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি আদায় করেছে পুলিশ।’

নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে নিউজবাংলা।

তবে তারা কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের আইনজীবীও রাজি হননি কথা বলতে।

নুরের দলের গ্রেপ্তার ৯ জনের মধ্যে আছেন ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মো. নাছির। তিনি নগরের তামাকুমন্ডি লেনে ব্যবসা করেন। সেখানে তার বাবা ও বড় ভাইয়েরও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে।

সোমবার গিয়ে দেখা যায়, নাছিরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ।

পরিবারের কাছে পুলিশ টাকা চেয়েছে কি না জানতে চাইলে তার বড় ভাই আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা কথা বলতে পারব না। আমাদের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন।’

নাছিরের সঙ্গে দেখা হয়েছে কি না সে প্রশ্নে বলেন, ‘আদালতে নিয়ে গেলে দূর থেকে দেখেছি। রোববার বিকেলে আমরা কারাগারে গিয়েছিলাম তার সঙ্গে দেখা করতে কিন্তু পারিনি। করোনার কারণে নাকি দেখা করা নিষেধ। তাই এখনও নাছিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।’

নাছিরের বাবা ব্যস্ততার কথা জানিয়ে নিউজবাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের বায়েজিদ বোস্তামী থানার আহ্বায়ক মো. রাসেলের বাসায় গেলে তার পরিবারের সদস্যরাও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

দলটির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুলিশ ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে জবানবন্দি নিয়েছে। তবে টাকা দাবির বিষয়টি আমি শুনিনি।’

ওই ৯ নেতা-কর্মীর মামলা পরিচালনা করছেন চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মাইনুল হোসেন ভূঁইয়া।

নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু মামলা পরিচালনা করি। এর বাইরে কোনো কিছু বলার সুযোগ আমার নেই।’

টাকা দাবির বিষয়ে জানান, তাকে এই বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি। পরিবারের সদস্যরা এখনও আদালতকে কিছু জানায়নি।

নুরের অভিযোগ অস্বীকার করে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জোর করে কারও কাছ থেকে পুলিশ জবানবন্দি নেয়নি। ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকির অভিযোগ ভিত্তিহীন। পুলিশ কারও কাছে টাকা চায়নি।’

পুলিশ জানায়, দলটির চট্টগ্রাম কমিটির সাবেক আহ্বায়ক হাবিবুল্লাহ মিজান রোববার চট্টগ্রামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তিনি ১৫ অক্টোবরের হামলার দুদিন আগে এ বিষয়ে পরিকল্পনা করার কথা জানান। পরিকল্পনা অনুযায়ী মণ্ডপে হামলার দিন মুসল্লিদের জড়ো করেন।

আরও পড়ুন:
সাহস থাকলে তারেককে দেশে আনুন: কাদের
ইন্টারপোলে তারেকের রেড নোটিশ প্রত্যাহার যে কারণে
তারেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
তারেকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ বুধবার

শেয়ার করুন

ভোটের মাঠে আলোচনায় পৌরকর

ভোটের মাঠে আলোচনায় পৌরকর

পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ভোট ২ নভেম্বর। ভোটারদের প্রতিবাদী মনোভাব বুঝে সব প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণায় পৌরকর কমিয়ে আনা বা সহনীয় পর্যায়ে নামানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। দিচ্ছেন আধুনিক শহর গড়ে তোলা এবং সেবার মান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি।

পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর। ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের মধ্যেও আলোচনা কে হবেন মেয়র। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে পৌরকর ও নাগরিক সেবার মান।

বিদায়ী পৌর পরিষদ দুই দফায় বাড়িয়েছিল পৌরকর। কর বাড়ানোর প্রতিবাদে আন্দোলনও হয়েছে। পৌরকর নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে আছে অসন্তোষ।

ভোটারদের প্রতিবাদী মনোভাব বুঝে সব প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণায় পৌরকর কমিয়ে আনা বা সহনীয় পর্যায়ে নামানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। দিচ্ছেন আধুনিক শহর গড়ে তোলা এবং সেবার মান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ভোট ২ নভেম্বর।

পৌরকর নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্রীড়া সংগঠক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। তিনি বলেন, ‘তার পৌরকর চার গুণ বাড়ানো হয়েছিল, পরে আবেদন করে কিছুটা কমিয়েছেন। পৌরকর নিয়ে নিজেই বিব্রত উল্লেখ করে এ প্রার্থী বলেন, অনেকের ওপর বাড়তি পৌরকরের বোঝা চেপে বসে আছে।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে কর বাড়ানো অযৌক্তিক। আমি নির্বাচিত হলে পৌরকর বিষয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই সমন্বয় করব। পৌরসভার উন্নয়নে বিভিন্ন সেক্টরের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেব।’

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম জানান, পৌরকর নির্ধারণে যে অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে, সেখানে ভুলত্রুটি আছে, এ কারণে কারও কারও কর অসহনীয় পর্যায়ে গেছে। নির্বাচিত হতে পারলে তিনি কর নির্ধারণে কাউন্সিলরদের দিয়ে কমিটি করে বিষয়গুলো সমন্বয় করবেন। তিনি জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করে দেবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটন জানান, বর্তমানে পৌরকর নিয়ে নাগরিকদের অসন্তোষ আছে। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরকর সমন্বয়ের উদ্যোগ নেবেন। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে কর সমন্বয় করা হবে।

তিনি জানান, পৌরসভায় পাঁচটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, যেসব প্রকল্পের সুফল পাবেন পৌরসভার নাগরিকরা।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুখলেসুর রহমান জানান, পৌরকর যেন নাগরিকদের সহনীয় পর্যায়ে থাকে সে বিষয়ে তিনি প্রথমেই উদ্যোগ নেবেন।

তিনি ভোটারদের আধুনিক শহর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, উদাহরণ হিসেবে সামনে আনছেন রাজশাহীর কথা।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি আসলাম কবির জানান, পাঁচ বছর অন্তর ১০ শতাংশ পৌরকর বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, দেখা যায় অনেকেরই পৌরকর অনেক বেশি বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ আছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, আগামীতে যিনি মেয়র হবেন, নাগরিকদের আয়সহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পৌরকর নির্ধারণ করবেন। এখন নির্বাচনি প্রচারণায় পৌরকর নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তা ভুলে যাবেন না তারা।’

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, পৌরকর কমানোর আবেদন নিয়ে অনেকেই পৌরসভায় এসেছেন। মেয়রের কক্ষে দেখা যায়, অনেকেই পৌরকর কমিয়ে আনার বিষয়ে কথা বলছেন।

এ বিষয়ে মেয়র নজরুল ইসলাম জানান, তার আগের মেয়রের সময়কালে পৌরকর নির্ধারণের জরিপ হয়েছিল, সেই পরিষদ নতুন কর কার্যকর করেনি। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর সেই জরিপের ভিত্তিতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নতুন পৌরকর কার্যকর করেন।

৫ বছর পরপর পৌরকর নির্ধারণের নিয়ম, সে অনুয়ায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে নতুন করে পৌরকর নির্ধারণ হয়েছে। ১৭ হাজার হোল্ডিংয়ে ১০ শতাংশ কর বেড়েছে। অনেকেই কর কমানোর আবেদন দিয়েছেন, সেগুলোর শুনানি করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মুখলেসুর রহমান (নৌকা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন সামিউল হক লিটন (মোবাইল ফোন), নজরুল ইসলাম (নারিকেলগাছ) এবং মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল (জগ)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোত্তাওক্কিল রহমান জানান, ইভিএমের মাধ্যমে ৭২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। মোট ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯৭ জন।

আরও পড়ুন:
সাহস থাকলে তারেককে দেশে আনুন: কাদের
ইন্টারপোলে তারেকের রেড নোটিশ প্রত্যাহার যে কারণে
তারেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
তারেকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ বুধবার

শেয়ার করুন

আ. লীগের ‘দুর্গে’ নেই নৌকা প্রতীক

আ. লীগের ‘দুর্গে’ নেই নৌকা প্রতীক

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ অক্টোবর সদর উপজেলায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনই এখানে স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ১৪টি ইউনিয়নে কোনো নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না

তৃতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাদারীপুর সদর উপজেলার যে ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তার একটিতেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের নেতাকর্মীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে অপর একটি পক্ষ বলছে, দলীয় প্রতীক না থাকায় অন্তকোন্দল সৃষ্টির সুযোগ থাকছে না। ভোটরাও স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে উৎসাহ পাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ অক্টোবর সদর উপজেলায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনই এখানে স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ১৪টি ইউনিয়নে কোনো নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এজাজুর রহমান আকনের উপস্থিতিতে বর্ধিত সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান।

আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি এবং তাদের আলাদা করে বাছাই করা উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সম্ভব হচ্ছে না বলে আলোচনা হয়। তাই সভায় সবার সম্মতিতে সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উম্মুক্ত রাখার সুপারিশ করা হয়। পরে সভার কার্যবিবরণী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে সদর উপজেলার আরেক অংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ চৌকদার ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা কামালের উপস্থিতিতে ১৯ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমিতে বর্ধিত সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা। সেই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু দলীয় সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শেষে সদর উপজেলায় তৃতীয় দফা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন থাকছে না বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

নৌকা প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, বিষয়টি জানার পর বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছে। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকাতে উঠান বৈঠকও করতে দেখা গেছে তাদের। এরই মধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র কিনতে শুরু করেছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক না থাকার বিষয়টি দেখছেন ভিন্নভাবে।

আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনীতিতেও একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কেউ ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিতে আবার কেউ কেউ উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে রয়েছেন।

শাজাহান খানপন্থি একাংশের নেতাদের দাবি, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দলীয় মনোনয়ন দিতে গেলে একাধিক যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে বেছে নেয়া দুরূহ হতো। তা ছাড়া পরস্পরের মধ্যে মনোমালিন্য ও দূরত্ব সৃষ্টি হতো। এই মনোমালিন্য আর দূরত্ব রোধে সদরের ১৪টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। দলীয় সমর্থনে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সব প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম বলেন, ‘সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রার্থীতা উন্মুক্ত রেখেছে। এখানে দলীয় একক কোনো সমর্থন দেয়া হয়নি। কারণ প্রার্থীদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একক প্রার্থী দিলে অন্তদ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এখন ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবে। আমাদের আর কোনো সমস্যা নেই।’

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা জানান, ‘নেত্রীর সিদ্ধান্তই আমরা মেনে চলি। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সেটাই আমরা পালন করব। তারপরেও জেলা আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের দলীয়ভাবে নিবেদিত কর্মীদের সমর্থন দিব। যাতে ত্যাগীরা জয়ী হতে পারে।’

মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তৃতীয় ধাপে সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ। যাচাই-বাছাই হবে ৪ নভেম্বর, ১১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ এবং ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। এ উপজেলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২ লাখ ২১ হাজার ৭৮৩ জন ভোটার। আমাদের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সাহস থাকলে তারেককে দেশে আনুন: কাদের
ইন্টারপোলে তারেকের রেড নোটিশ প্রত্যাহার যে কারণে
তারেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
তারেকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ বুধবার

শেয়ার করুন

বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সেটি জমা দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কিছু জায়গায় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিতে তাদের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নামও পাঠাতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে ব্রিফিংয়ের সময় এ নির্দেশনা দেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপিলের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সেটি জমা দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কিছু জায়গায় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তৃণমূল থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার পরিষদের মনোনয়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রার্থীর তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা তারপর জেলা হয়ে কেন্দ্রে নামের সুপারিশ আসে। এর আগে নাম তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও লোভের বশবর্তী না হয়ে এবং প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য গোপন না করতে দলীয়ভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের বক্তব্য আত্মঘাতী প্রবণতা ছাড়া আর কিছুই নয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে বিএনপি এখনও পুরোনো ধূসর পথে হাঁটছে। সময় ও স্রোতের মতো নির্বাচনও বসে থাকবে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হবে না। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়, তবে সেটি ব্যালটের মাধ্যমে নয়। ভিন্ন কোনো অগণতান্ত্রিক এবং চোরাগলি পথে।’

বিএনপি আরও একটি ওয়ান-ইলেভেনের স্বপ্নে বিভোর মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ দেশে আর এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হয় না। দেশের জনগণের ধ্যান- ধারণা বদলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জনগণ এখন উন্নয়নপ্রিয়, ভবিষ্যৎদর্শী।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা গুজব ও অপপ্রচারকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নিয়েছে, তাদের চেহারা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। বিএনপি নিজেরাই নিজেদের ফাঁদে আটকা পড়েছে, তাই তো তারা এখন উভয় সংকটে। না পারছে আন্দোলন জমাতে, না পারছে নির্বাচনে যেতে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নয়, প্রকৃত অর্থে বিএনপিই এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন তাই নির্বাচনকে ভয় পায়। তাদের আন্দোলনের কথা শুনলে মানুষ হাসে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ষড়যন্ত্র ও গুজবনির্ভর। তাদের রাজপথে কোনো অস্তিত্ব নেই। তাদের অস্তিত্ব শুধু ফেসবুক আর অনলাইনে। এসব কি বিএনপির দেউলিয়াত্বের লক্ষণ নয়?’

আরও পড়ুন:
সাহস থাকলে তারেককে দেশে আনুন: কাদের
ইন্টারপোলে তারেকের রেড নোটিশ প্রত্যাহার যে কারণে
তারেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা
তারেকের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ বুধবার

শেয়ার করুন