১৭ লাখের সেতু বানাল গ্রামবাসীই

১৭ লাখের সেতু বানাল গ্রামবাসীই

সেতু প্রকল্পের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা না হলেও মানুষ চলাচলে সেতু খুলে দেয়া হয়েছে। প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছে সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে। ভাটিখাইন-করল গ্রামের লোকজনের টাকায় এই সেতু নির্মিত হয়েছে।’

দীর্ঘদিন বাঁশের সাঁকোই ছিল চট্টগ্রামের পটিয়ার শ্রীমতী খালের দুপাড়ের বাসিন্দাদের পারাপারের একমাত্র ভরসা। সরকারি অর্থায়ন না পেয়ে নিজেরাই টাকা তুলে খালের ওপর ১১১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৫ ফুট চওড়া সেতু বানিয়েছেন স্থানীয়রা। এর জন্য খরচ হয়েছে ১৭ লাখেরও বেশি টাকা।

উপজেলার ১৪ নম্বর ভাটিখাইন ইউনিয়নে ভাটিখাইন-করল গ্রামের মাঝখানে বয়ে গেছে শ্রীমতী খাল। এর এক পাশে করল গ্রাম, আরেক পাশে ভাটিখাইন গ্রাম, পশ্চিমে ছনহরা ইউনিয়ন। দুই পাড়ে আছে প্রাইমারি স্কুল, উচ্চ বিদ্যালয়, মসজিদ ও মাদ্রাসা। খাল পারাপারে বানানো বাঁশের সাঁকোটি প্রতিবছর বর্ষা এলে তলিয়ে যেত।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, ভাটিখাইন গ্রামে কেউ মারা গেলে কবরস্থানে মৃত ব্যক্তির খাটিয়া নিয়ে যেতে সাঁকো পার হওয়া ছিল কষ্টসাধ্য। অনেক সময় খালে নেমে খাটিয়া পার করতে হতো, নাহয় দীর্ঘপথ হেঁটে দক্ষিণপাড়া করল-ভাটিখাইন জামে মসজিদের পাশে কবরস্থানে দাফন করতে যেতে হতো।

করল গ্রামের ছাত্র-ছাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেত। ইরি-বোরো মৌসুমে সাঁকো দিয়ে ধান পরিবহন করতে ভোগান্তি হতো চাষিদের।

১৭ লাখের সেতু বানাল গ্রামবাসীই

ভাটিখাইন-করল দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ সেতু প্রকল্পের যুগ্ম সম্পাদক এএইচএম কাউছার জানান, ‘২০ বছর ধরে ভাটিখাইন-করল গ্রামের মানুষ শ্রীমতি খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ধরনা দিয়ে গেছেন। সবাই শুধু আশ্বাস দিয়েছে। কেউ এগিয়ে আসেনি স্থায়ী সেতু নির্মাণে।’

তিনি জানান, স্থানীয় উদ্যোগে সেতু নির্মাণে দুই গ্রামের মানুষের সমন্বয়ে একটি কমিটি হয়। এই কমিটির উদ্যোগে স্টিল স্ট্রাকচারে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সেতু।

সেতু প্রকল্পের সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা না হলেও মানুষ চলাচলে সেতু খুলে দেয়া হয়েছে। প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছে সেতুর কাজ সম্পন্ন করতে। ভাটিখাইন-করল গ্রামের লোকজনের টাকায় এই সেতু নির্মিত হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভোটের মাঠে আলোচনায় পৌরকর

ভোটের মাঠে আলোচনায় পৌরকর

পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ভোট ২ নভেম্বর। ভোটারদের প্রতিবাদী মনোভাব বুঝে সব প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণায় পৌরকর কমিয়ে আনা বা সহনীয় পর্যায়ে নামানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। দিচ্ছেন আধুনিক শহর গড়ে তোলা এবং সেবার মান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি।

পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর। ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের মধ্যেও আলোচনা কে হবেন মেয়র। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসছে পৌরকর ও নাগরিক সেবার মান।

বিদায়ী পৌর পরিষদ দুই দফায় বাড়িয়েছিল পৌরকর। কর বাড়ানোর প্রতিবাদে আন্দোলনও হয়েছে। পৌরকর নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে আছে অসন্তোষ।

ভোটারদের প্রতিবাদী মনোভাব বুঝে সব প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণায় পৌরকর কমিয়ে আনা বা সহনীয় পর্যায়ে নামানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। দিচ্ছেন আধুনিক শহর গড়ে তোলা এবং সেবার মান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ভোট ২ নভেম্বর।

পৌরকর নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্রীড়া সংগঠক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। তিনি বলেন, ‘তার পৌরকর চার গুণ বাড়ানো হয়েছিল, পরে আবেদন করে কিছুটা কমিয়েছেন। পৌরকর নিয়ে নিজেই বিব্রত উল্লেখ করে এ প্রার্থী বলেন, অনেকের ওপর বাড়তি পৌরকরের বোঝা চেপে বসে আছে।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে কর বাড়ানো অযৌক্তিক। আমি নির্বাচিত হলে পৌরকর বিষয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই সমন্বয় করব। পৌরসভার উন্নয়নে বিভিন্ন সেক্টরের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেব।’

আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম জানান, পৌরকর নির্ধারণে যে অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে, সেখানে ভুলত্রুটি আছে, এ কারণে কারও কারও কর অসহনীয় পর্যায়ে গেছে। নির্বাচিত হতে পারলে তিনি কর নির্ধারণে কাউন্সিলরদের দিয়ে কমিটি করে বিষয়গুলো সমন্বয় করবেন। তিনি জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করে দেবেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটন জানান, বর্তমানে পৌরকর নিয়ে নাগরিকদের অসন্তোষ আছে। তিনি নির্বাচিত হলে পৌরকর সমন্বয়ের উদ্যোগ নেবেন। গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে কর সমন্বয় করা হবে।

তিনি জানান, পৌরসভায় পাঁচটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, যেসব প্রকল্পের সুফল পাবেন পৌরসভার নাগরিকরা।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুখলেসুর রহমান জানান, পৌরকর যেন নাগরিকদের সহনীয় পর্যায়ে থাকে সে বিষয়ে তিনি প্রথমেই উদ্যোগ নেবেন।

তিনি ভোটারদের আধুনিক শহর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, উদাহরণ হিসেবে সামনে আনছেন রাজশাহীর কথা।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সভাপতি আসলাম কবির জানান, পাঁচ বছর অন্তর ১০ শতাংশ পৌরকর বৃদ্ধি পাওয়ার কথা, দেখা যায় অনেকেরই পৌরকর অনেক বেশি বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ আছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি, আগামীতে যিনি মেয়র হবেন, নাগরিকদের আয়সহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পৌরকর নির্ধারণ করবেন। এখন নির্বাচনি প্রচারণায় পৌরকর নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তা ভুলে যাবেন না তারা।’

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, পৌরকর কমানোর আবেদন নিয়ে অনেকেই পৌরসভায় এসেছেন। মেয়রের কক্ষে দেখা যায়, অনেকেই পৌরকর কমিয়ে আনার বিষয়ে কথা বলছেন।

এ বিষয়ে মেয়র নজরুল ইসলাম জানান, তার আগের মেয়রের সময়কালে পৌরকর নির্ধারণের জরিপ হয়েছিল, সেই পরিষদ নতুন কর কার্যকর করেনি। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর সেই জরিপের ভিত্তিতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নতুন পৌরকর কার্যকর করেন।

৫ বছর পরপর পৌরকর নির্ধারণের নিয়ম, সে অনুয়ায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে নতুন করে পৌরকর নির্ধারণ হয়েছে। ১৭ হাজার হোল্ডিংয়ে ১০ শতাংশ কর বেড়েছে। অনেকেই কর কমানোর আবেদন দিয়েছেন, সেগুলোর শুনানি করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মুখলেসুর রহমান (নৌকা) আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন সামিউল হক লিটন (মোবাইল ফোন), নজরুল ইসলাম (নারিকেলগাছ) এবং মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল (জগ)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোত্তাওক্কিল রহমান জানান, ইভিএমের মাধ্যমে ৭২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। মোট ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৯৭ জন।

আরও পড়ুন:
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

শেয়ার করুন

স্ত্রী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন

স্ত্রী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন

মামলার বরাতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গুলজার আহমেদ জানান, ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল রাতে শ্বাসরোধে স্ত্রীকে হত্যা করেন মনির। পরে তা স্বীকার করেন স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে। ওই রাতেই মনিরকে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা।

নোয়াখালীর কবিরহাটে স্ত্রী হত্যা মামলায় এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে অর্থদণ্ড করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

নোয়াখালীর দায়রা জজ সালেহ আহমেদ সোমবার দুপুরে এ রায় দেন। রায়ের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে আসামিকে।

দণ্ডপ্রাপ্তের নাম মনির হোসেন বাবু। কবিরহাটের বাটইয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দয়ারামদি গ্রামে তার বাড়ি।

এসব নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গুলজার আহমেদ।

মামলার বরাতে তিনি জানান, ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল রাতে শ্বাসরোধে নববধূ নাজমাকে হত্যা করেন মনির। পরে তা স্বীকার করেন স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে। ওই রাতেই মনিরকে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা।

এই ঘটনায় নিহতের ভাই মনিরকে আসামি করে কবিরহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, যৌতুকের দাবিতে এই হত্যা।

তবে পুলিশের অনুসন্ধানে পাওয়া যায় ভিন্ন ঘটনা। তদন্ত কর্মকর্তা কবিরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ আলম পাটোয়ারী যে অভিযোগপত্র দেন তাতে বলা হয়, মনিরের সঙ্গে একই গ্রামের এক নারীর দীর্ঘদিনের প্রেম ছিল। সেই সম্পর্কের জেরেই খুন হন নাজমা।

আরও পড়ুন:
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

শেয়ার করুন

আ. লীগের ‘দুর্গে’ নেই নৌকা প্রতীক

আ. লীগের ‘দুর্গে’ নেই নৌকা প্রতীক

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ অক্টোবর সদর উপজেলায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনই এখানে স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ১৪টি ইউনিয়নে কোনো নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না

তৃতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাদারীপুর সদর উপজেলার যে ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তার একটিতেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের নেতাকর্মীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে অপর একটি পক্ষ বলছে, দলীয় প্রতীক না থাকায় অন্তকোন্দল সৃষ্টির সুযোগ থাকছে না। ভোটরাও স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে উৎসাহ পাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ অক্টোবর সদর উপজেলায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনই এখানে স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ১৪টি ইউনিয়নে কোনো নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এজাজুর রহমান আকনের উপস্থিতিতে বর্ধিত সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান।

আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি এবং তাদের আলাদা করে বাছাই করা উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সম্ভব হচ্ছে না বলে আলোচনা হয়। তাই সভায় সবার সম্মতিতে সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উম্মুক্ত রাখার সুপারিশ করা হয়। পরে সভার কার্যবিবরণী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে সদর উপজেলার আরেক অংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ চৌকদার ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা কামালের উপস্থিতিতে ১৯ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমিতে বর্ধিত সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা। সেই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু দলীয় সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শেষে সদর উপজেলায় তৃতীয় দফা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন থাকছে না বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

নৌকা প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, বিষয়টি জানার পর বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছে। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকাতে উঠান বৈঠকও করতে দেখা গেছে তাদের। এরই মধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র কিনতে শুরু করেছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক না থাকার বিষয়টি দেখছেন ভিন্নভাবে।

আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনীতিতেও একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কেউ ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিতে আবার কেউ কেউ উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে রয়েছেন।

শাজাহান খানপন্থি একাংশের নেতাদের দাবি, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দলীয় মনোনয়ন দিতে গেলে একাধিক যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে বেছে নেয়া দুরূহ হতো। তা ছাড়া পরস্পরের মধ্যে মনোমালিন্য ও দূরত্ব সৃষ্টি হতো। এই মনোমালিন্য আর দূরত্ব রোধে সদরের ১৪টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। দলীয় সমর্থনে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সব প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম বলেন, ‘সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রার্থীতা উন্মুক্ত রেখেছে। এখানে দলীয় একক কোনো সমর্থন দেয়া হয়নি। কারণ প্রার্থীদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একক প্রার্থী দিলে অন্তদ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এখন ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবে। আমাদের আর কোনো সমস্যা নেই।’

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা জানান, ‘নেত্রীর সিদ্ধান্তই আমরা মেনে চলি। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সেটাই আমরা পালন করব। তারপরেও জেলা আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের দলীয়ভাবে নিবেদিত কর্মীদের সমর্থন দিব। যাতে ত্যাগীরা জয়ী হতে পারে।’

মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তৃতীয় ধাপে সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ। যাচাই-বাছাই হবে ৪ নভেম্বর, ১১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ এবং ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। এ উপজেলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২ লাখ ২১ হাজার ৭৮৩ জন ভোটার। আমাদের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

শেয়ার করুন

রাঙামাটিতে কঠিন চীবর দানে পুণ্যার্থীদের ভিড়

রাঙামাটিতে কঠিন চীবর দানে পুণ্যার্থীদের ভিড়

কঠিন চীবর দান উৎসবে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে ধর্ম দর্শন দেন নন্দপাল মহাস্থবির। ছবি: নিউজবাংলা

সোমবার সকালে বৌদ্ধরত্ন উপাধিপ্রাপ্ত ও বনভান্তের প্রধান শিষ্য ভদন্ত শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন ভক্তরা। বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রূপক চাকমার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল পাঠ করেন কমিটির সভাপতি পূর্ণচক্র চাকমা।

হাজারো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি সদরে শেষ হয়েছে দুই দিনের ৩৮তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান।

উপজেলার বন্দুকভাঙ্গা ইউনিয়নের যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রে সোমবার বিকেলে শেষ হয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের এই শ্রেষ্ঠ দান উৎসব।

বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি পূর্ণচক্র চাকমা জানান, দুই দিনের এই উৎসবে দূরদূরান্ত থেকে হাজারো পুণ্যার্থী অংশ নেন। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে বিহার প্রাঙ্গণ। ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুদিনব্যাপী দান উৎসবের দ্বিতীয় দিন।

তিনি আরও জানান, সকালে বৌদ্ধরত্ন উপাধিপ্রাপ্ত ও বনভান্তের প্রধান শিষ্য ভদন্ত শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবিরকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন ভক্তরা। বিহার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রূপক চাকমার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল পাঠ করেন কমিটির সভাপতি পূর্ণচক্র চাকমা।

দুপুরে কল্পতরু ও কঠিন চীবরকে পুরো বিহার এলাকা প্রদক্ষিণ করে আনন্দ শোভাযাত্রা করা হয়। বিকেলে পঞ্চশীল পাঠ করেন স্থানীয় সাংবাদিক বিহারি চাকমা।

সন্ধ্যায় জগতের সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় ফানুস ওড়ানো হয়।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্র বিহার পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি দয়াল কৃষ্ণ চাকমা।

রাঙামাটিতে কঠিন চীবর দানে পুণ্যার্থীদের ভিড়
হাজারো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি সদরে শেষ হয়েছে দুই দিনের ৩৮তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান

বিশেষ বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমার স্ত্রী রিপা চাকমা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগীয় প্রকৌশলী মহিনী রঞ্জন চাকমার স্ত্রী নিরালা চাকমা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিহার পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রভাত চাকমা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নতুন ধন চাকমাসহ অনেকে।

পরে বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, কঠিন চীবর দান, সূত্রপাঠ, ধর্মীয় দেশনা, কল্পতরু প্রদক্ষিণ ও ফানুস বাতি উৎসর্গসহ নানা ধরনের দান সম্পন্ন হয়।

এক ধর্মীয় সভায় পুণ্যার্থীদের উদ্দেশে ধর্ম দর্শন দেন নন্দপাল মহাস্থবির।

ভিক্ষুদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন রাজবন বিহারের সিনিয়র ভিক্ষু ভদন্ত সত্যপ্রেম মহাস্থবির, দীঘিনালা বনবিহার আবাসিক সিনিয়র ভিক্ষু ভদন্ত শ্রীমৎ শুভবর্ধন মহাস্থবির, ধুতাঙ্গটিলা বনবিহার অধ্যক্ষ দেবধাম্মা মহাস্থবির, যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রের বিহার অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ কল্যাণজ্যোতি মহাস্থবিরসহ অনেকে।

গৌতম বুদ্ধের প্রধান সেবিকা মহাপুণ্যবতী বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে তুলা থেকে সুতা ও সুতা থেকে ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র (চীবর) বুননের মধ্য দিয়ে এবং ধর্মীয় নানা আচার মেনে রোববার বিকেলে শুরু হয় কঠিন চীবর দান উৎসব।

আরও পড়ুন:
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: সেই মাদ্রাসাশিক্ষক জামিনে মুক্ত

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: সেই মাদ্রাসাশিক্ষক জামিনে মুক্ত

জামিনে মুক্ত হওয়া মাদ্রাসাশিক্ষক মঞ্জুরুল কবির। ছবি: নিউজবাংলা

মাদ্রাসাশিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরের আইনজীবী কামাল উদ্দিন জানান, মামলার বাদীর আপত্তি না থাকায় আদালত মঞ্জুরুলের জামিন আবেদন গ্রহণ করে। বিকেলে কারামুক্ত হন তিনি।

লক্ষ্মীপুরে আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার সেই শিক্ষক জামিন পেয়েছেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রহিবুল ইসলাম সোমবার দুপুরে জামিন আবেদন গ্রহণ করেন। বিকেলে কারামুক্ত হন তিনি।

মাদ্রাসাশিক্ষক মঞ্জুরুল কবিরের আইনজীবী কামাল উদ্দিন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার বাদীর আপত্তি না থাকায় আদালত মঞ্জুরুলের জামিন আবেদন গ্রহণ করেছে। বিকেলে তিনি জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর মঞ্জুরুলকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে উপস্থিত করে জামিন আবেদন করা হয়। বিচারক তারেক আজিজ আবেদন গ্রহণ না করে কারাগারে পাঠান।

মঞ্জুরুল কাজিরদিঘীরপাড় আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও বামনী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির।

এর আগে নাশকতার একাধিক মামলায় জেল খেটেছেন এই শিক্ষক। এসব কারণে আগেও তাকে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয় বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার এএইচএম কামরুজ্জামান।

গত ৬ অক্টোবর ক্লাস চলার সময় মাদ্রাসার দশম শ্রেণির সাত শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন মঞ্জুরুল। ৯ তারিখ চুল কাটার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

ওইদিন রাতে এক শিক্ষার্থীর মা মঞ্জুরুলকে আসামি করে রায়পুর থানায় মামলা করেন। এর আগেই তাকে আটক করে পুলিশ। মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাগারে পাঠান।

আরও পড়ুন:
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

শেয়ার করুন

পুলিশে চাকরির আশ্বাসে টাকা লেনদেন, আটক ১

পুলিশে চাকরির আশ্বাসে টাকা লেনদেন, আটক ১

ঘুষ বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে আটক মোহাম্মদ হাসান। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কে এম শামসুদ্দিন বলেন, ‘সোমবার বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগের বাছাই প্রক্রিয়া চলছিল। তা ঘিরে ১ নম্বর গেটের কাছে ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হচ্ছিল। গোয়েন্দা পুলিশ এ সময় টাকাসহ হাতেনাতে আটক করে হাসান নামের এক ব্যক্তিকে। আর যিনি টাকা দিয়েছিলেন ভিড়ের মধ্যে তিনি পালিয়ে যান।’

নওগাঁয় কনস্টেবল পদে নিয়োগের আশ্বাসে টাকা লেনদেনের সময় প্রতারকচক্রের এক সদস্য আটক হয়েছেন। জব্দ হয়েছে লেনদেনের ৫০ হাজার টাকা।

পুলিশ লাইন্সের সামনে সোমবার বেলা ৩টার দিকে তাকে আটক করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সদস্যরা।

আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ হাসান। ৪৮ বছরের হাসানের বাড়ি পত্নীতলা উপজেলার গগণপুর পূর্ব পাড়ায়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কে এম শামসুদ্দিন এসব নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সোমবার বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগের বাছাই প্রক্রিয়া চলছিল। তা ঘিরে ১ নম্বর গেটের কাছে ৫০ হাজার টাকা লেনদেন হচ্ছিল। গোয়েন্দা পুলিশ এ সময় টাকাসহ হাতেনাতে আটক করে হাসান নামের এক ব্যক্তিকে। আর যিনি টাকা দিয়েছিলেন ভিড়ের মধ্যে তিনি পালিয়ে যান।’

কে এম শামসুদ্দিন আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাসে অভিযোগ স্বীকার করেছেন হাসান। এই চক্রে জড়িত আরও কয়েকজনের তথ্যও পাওয়া গেছে তার কাছ থেকে। সেগুলো তদন্ত হচ্ছে।’

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘ডিবি পুলিশের হাতে আটক হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

শেয়ার করুন

ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪

ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৪

নরসিংদীতে ডিবি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে ছিনতাই করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার বাদী এরশাদ আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘ডিবি পরিচয়ে আমাকে বাস থেকে নামিয়ে আমার আইফোন ও নগদ টাকা ছিনতাই করে। এ ঘটনার পর আমি ২০ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা করি।’

নরসিংদীতে ডিবি পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে ছিনতাই করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার বিকেল ৫টার দিকে এ তথ্য জানানো হয়। তার আগে রোববার রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে নরসিংদী সদরের শীলমান্দি এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ছিনতাইয়ের শিকার ব্যক্তি সদর মডেল থানায় মামলা করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, নরসিংদীর চিনিশপুর এলাকার মো. রানা, ভেলানগর এলাকার কামরুল ইসলাম, বানিয়াছল এলাকার রাতুল মিয়া ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগর থানার চিনিশপুরের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন।

মামলার বাদী এরশাদ আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘ডিবি পরিচয়ে আমাকে বাস থেকে নামিয়ে আমার আইফোন ও নগদ টাকা ছিনতাই করে। এ ঘটনার পর আমি ২০ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাতপরিচয়ে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা করি।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ এলাকার এরশাদ আলী কক্সবাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে মিনিবাসে করে রওনা দেন। বাসটি সদর উপজেলার দক্ষিণ শিলমান্দি এলাকায় পৌঁছালে গ্রেপ্তার চার ব্যক্তি ডিবি পরিচয়ে মিনিবাস থেকে এরশাদ আলীকে নামায়।

এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে সব ছিনিয়ে নেয়। গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটির তদন্তভার পেয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়।

পরে অভিযান চালিয়ে ভেলানগর এলাকা থেকে অভিযুক্ত মো. রানা, মাধবদী থানাধীন শান্তির বাজার হতে কামরুল ইসলাম, সদরের কান্দাপাড়া এলাকা থেকে রাতুল মিয়া ও শিবপুরের কারারচর এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ইনামুল হক সাগর জানান, ছিনতাই হওয়া ফোন, নগদ টাকা ও এটিএম কার্ড থেকে তোলা টাকা জব্দ করা হয়েছে। আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর সোমবার তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

শেয়ার করুন