শিক্ষকের ‘জাল সনদ বি‌ক্রি’, কারণ দর্শানোর নোটিশ

শিক্ষকের ‘জাল সনদ বি‌ক্রি’, কারণ দর্শানোর নোটিশ

বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের শিক্ষক এইচএম শামীম আহম্মেদ।

আ‌নিসুর রহমান স্বপন ব‌লেন, ‘একজন শিক্ষ‌কের সনদ বি‌ক্রির বিষয়‌টি খুবই দুঃখজনক। য‌দি ওই শিক্ষক এই কাজ ক‌রে থা‌কেন তাহ‌লে তি‌নি জা‌তির জন্য কলঙ্ক। বিষয়‌টি তদন্ত ক‌রে দৃষ্টান্তমূলক শা‌স্তির দাবি কর‌ছি।’

জাল সনদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বরিশালের সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন শিক্ষক। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মাধ‌্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অ‌ধিদপ্ত‌র।

যার বিরুদ্ধে সনদ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তার নাম এইচ এম শামীম আহম্মেদ। তিনি ব‌রিশাল নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোডের ফরাজী ওয়ার্কশ‌পসংলগ্ন ফজলুল হক রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মা‌লিক।

তার কাছ থেকে সনদ কেনার দাবি করেছেন মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘আ‌মি অষ্টম শ্রেণির সা‌র্টিফি‌কেট কিনতে যাই শামীম আহ‌ম্মে‌দের কা‌ছে। তি‌নি ১০ হাজার টাকা দাবি কর‌লে আ‌মি ৩ হাজার টাকা দিতে চাই। তি‌নি নি‌জেই সই করে সনদ ও প্রত‌্যয়নপত্র দেন।’

‘অর্থ লেনদেনের সময় ধারণ’ করা ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়ালে আলোচনার সৃষ্টি হয় বরিশালজুড়ে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হয় শিক্ষক শামীম আহ‌ম্মেদের সঙ্গে। তবে তিনি সব অভিযোগ নাকচ করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

হাতেম আলী কলেজের অধ‌্যক্ষ মু. মোস্তফা কামাল ব‌লেন, বিষয়টি শুনেছি এবং খোঁজখবর নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মাধ‌্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অ‌ধিদপ্ত‌র ব‌রিশা‌লের প‌রিচালক মোয়া‌জ্জেম হো‌সেন নিউজবাংলাকে ব‌লেন, শিক্ষক শামীমের বিরুদ্ধে সনদ বিক্রির অভিযোগ পেয়েছি। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হ‌য়ে‌ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আ‌নিসুর রহমান স্বপন ব‌লেন, ‘একজন শিক্ষ‌কের সনদ বি‌ক্রির বিষয়‌টি খুবই দুঃখজনক। য‌দি ওই শিক্ষক এই কাজ ক‌রে থা‌কেন তাহ‌লে তি‌নি জা‌তির জন‌্য কলঙ্ক। বিষয়‌টি তদন্ত ক‌রে দৃষ্টান্তমূলক শা‌স্তির দাবি কর‌ছি।’

আরও পড়ুন:
ডাক্তার সেজে করোনার জাল সনদ বিক্রি, ৪ জন রিমান্ডে
জাল সনদ তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু

নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার গোডাউন রোড মহাসড়কে যানবাহনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দেয়াসহ নাশকতার ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক আহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন। পুলিশ ২০১৫ সালে আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতা মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

চট্টগ্রামের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আ স ম শহীদুল্লাহ কায়সার সোমবার দুপুরে অভিযোগ গঠন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী আইনজীবী রুবেল পাল নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানি করেছে। শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন। ২৩ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।’

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন চলাকালে ২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার গোডাউন রোড মহাসড়কে যানবাহনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দেয়াসহ নাশকতার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক আহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৫ সালে আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তাদের মধ্যে ৪৮ আসামি পলাতক। আসলাম চৌধুরী এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে থাকলেও অন্য মামলায় তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

আদালত সাত আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করে। এ সময় দুজন আসামি সময়ের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করেছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

তার নামে বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা আছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে তিনটি মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ডাক্তার সেজে করোনার জাল সনদ বিক্রি, ৪ জন রিমান্ডে
জাল সনদ তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা করেছে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন। ছবি: নিউজবাংলা

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা প্রদর্শন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন ও প্রাণ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সভা ও নাটিকা প্রদর্শিত হয়।

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

নাটিকার মাধ্যমে তরুণরা মাটি, বায়ু ও পানি দূষণমুক্ত রাখার পাশাপাশি শূন্য কার্বনভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

পরে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন বাঁধনের নির্বাহী পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল হাসান ও সাংবাদিক আরিফুল হকসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
ডাক্তার সেজে করোনার জাল সনদ বিক্রি, ৪ জন রিমান্ডে
জাল সনদ তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাবনা সুজানগরে শিকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার প্রায় ২ শ দেশীয় প্রজাতির পাখি অবমুক্ত করা হয়েছে।

সুজানগর থানা চত্বর সোমবার দুপুরের পর পাখিগুলো অবমুক্ত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।

এর আগে চরদুলাই বাজারে অভিযান চালিয়ে পাখিসহ তিন শিকারীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আটক শিকারীরা হলেন গোবিন্দপুর গ্রামের আতোয়ার শেখ, ঘোড়াদহ গ্রামের আলাউদ্দিন, চলদুলাই গ্রামের মোজাহার আলী।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাখি অবমুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মুহা. আ. লতিফসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
ডাক্তার সেজে করোনার জাল সনদ বিক্রি, ৪ জন রিমান্ডে
জাল সনদ তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহবুবা রায়না। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, ১৮ অক্টোবর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য চিঠি পাঠান। তবে তার আবেদনপত্রে নানা ভুলত্রুটি ছিল বলে পুনরায় তাকে আবেদন করতে বলা হয়। পরদিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুনরায় আবেদন করেন রায়না।

কিশোরগঞ্জে পাঁচ বছর ধরে স্কুলে না পড়িয়েও বেতনভাতা তোলা সেই শিক্ষিক মেহবুবা রায়নার অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করেছে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক সোমবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া মেহবুবা রায়না করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

সুব্রত কুমার বণিক নিউজবাংলাকে জানান, স্কুলে না গিয়ে মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে গত ১৭ অক্টোবর রায়নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত তার অধীনেই শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ১৮ অক্টোবর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি চিঠি দেন। তবে তার আবেদনপত্রে নানা ভুলত্রুটি ছিল বলে পুনরায় তাকে আবেদন করতে বলা হয়। পরদিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুনরায় আবেদন করেন রায়না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার জানান, পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে চাকরি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন রায়না। সরকারি বিধি অনুযায়ী ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর মাসের মূল বেতনের অর্ধেক টাকা জমা দিয়েছেন তিনি।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর করিমগঞ্জ উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি আমলে নেন।

রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ডাকযোগে মেহবুবা রায়নার চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র হাতে পান তিনি। আবেদনপত্রে তার চাকরিতে যোগদানসহ কোনো তারিখের উল্লেখ ছিল না। চাকরি থেকে কবে তিনি অব্যাহতি নিতে চান সে বিষয়টিও উল্লেখ করেননি তিনি।

এ কর্মকর্তা আরও জানান, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে হাজির হয়ে সই করে আবেদন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও ওই শিক্ষক ডাকযোগে আবেদন করেছেন।

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ
Caption

তা ছাড়া অব্যাহতির বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা সহকারী কর্মকর্তাকেও অবগত করেননি তিনি। পরে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি আমলে নিয়ে সোমবার রায়নার অব্যাহতিপত্রে সই করেন রফিকুল ইসলাম তালুকদার।

অব্যাহতি দেয়ার তারিখ ১৮ অক্টোবর ধরে ওই দিন থেকেই পদটি শূন্য ধরা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

এরপরপই ফেসবুকে কিশোরগঞ্জ জেলাভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় সমালোচনা। এই অনিয়মের জন্য জেলা এবং উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়ী করে মন্তব্য করেন অনেকে।

রায়না ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যে স্নাতক শেষ করে এখন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। তিনি ২০১৬ সালে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০১৪-২০১৫ সেশনে।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ২০১৬ সালে রায়না স্কুলে যোগ দিয়ে তিন মাস নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন। এরপর স্কুলে যাননি টানা তিন বছর। ২০২০ সালের মার্চে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে ছয় মাস মাঝেমধ্যে আসতেন। করোনা শুরু হলে অন্য শিক্ষকরা স্কুলে এলেও তিনি আসেননি এক দিনের জন্যও।

স্কুলটির একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সারা বছর পরিশ্রম করে যে বেতন পাই, রায়না তার কিছুই না করেও একই বেতন পাচ্ছেন।

‘রায়না সরকারি চাকরি করে কর্মস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বিষয়টি গোপন করেছেন, আবার অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকরির ব্যাপারটা গোপন করেছেন। তিনি একসঙ্গে দুটি অপরাধ করেছেন।’

রায়নার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার তথ্য সেখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি ময়মনসিংহে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত আপডেটও করেন।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রায়নার নামও বলতে পারেনি। কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘হেই ম্যাডাম পহেলা কয়েক দিন ইস্কুলে আইছে, পরে আর আইছে না। হের লাইগ্যে হেই ম্যাডামের নামটা মনে নাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মেহবুবা রায়না বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়।’

তিনি জানান, রায়না চাকরিতে যোগ দেয়ার পর তিনি বিভিন্ন মেয়াদে শুধু মেডিক্যাল ছুটি কাটিয়েছেন ২১৩ দিন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তার কৈফিয়ত তলব করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়।

এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করেন৷ তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি জানান, রায়না ওয়ার্কশিট বিতরণ ও মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগসংক্রান্ত কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করেননি৷ তাকে প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জানালেও তিনি গুরুত্ব দেননি।

পরে রায়নার বেতন বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন মফিজুল ইসলাম। আর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেহবুবা রায়নাকে শোকজ করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এর জবাব দেন রায়না। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় রায়নার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফাইলটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে রায়নার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। পরে মেসেজ দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার হোয়াটস অ্যাপ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার বার্তা পাঠানোর পর তিনি নিউজবাংলার প্রতিবেদককে ব্লক করে দেন।

আরও পড়ুন:
ডাক্তার সেজে করোনার জাল সনদ বিক্রি, ৪ জন রিমান্ডে
জাল সনদ তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

প্রতীকী ছবি

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কয়রা থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন জানান, সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটছিল শিশু জামিলা। এ সময় পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে মারা যায় শিশুটি।

খুলনার কয়রায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় এক শিশু নিহত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা চলাকালে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

এর আগে উপজেলার বাগালি ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে সরদারবাড়ির সামনে সোমবার সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মৃত শিশুর নাম জামিলা খাতুন। তিন বছরের জামিলা নারায়ণপুর গ্রামের কবিরুল ইসলামের মেয়ে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটছিল শিশু জামিলা। এ সময় পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে মারা যায় শিশুটি।

ওসি শাহাদাৎ জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন:
ডাক্তার সেজে করোনার জাল সনদ বিক্রি, ৪ জন রিমান্ডে
জাল সনদ তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৫ দিন পর গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজের ৫ দিন পর গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনি এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন মনসুর। তবে পরে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় রোববার ডিমলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মনসুরের স্ত্রী সাহিদা বেগম।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে এক গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দোহলপাড়ায় তিস্তার গ্রোয়িং বাঁধের নিচ থেকে সোমবার দুপুর ১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত ব্যক্তির নাম মনসুর আলী। তার বাড়ি উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামের দৌলতপাড়া এলাকায়।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায়।

পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনি এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন মনসুর। তবে পরে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় রোববার ডিমলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মনসুরের স্ত্রী সাহিদা বেগম।

সাহিদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গরু কেনার জন্য কলোনি যান উনি। রাত ১১টা বেজে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় তারে কল দেই। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। ক্লিনিক, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।’

পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায় জানান, সোমবার দুপুরে দোহলপাড়ায় তিস্তার গ্রোয়িং বাঁধের নিচে স্থানীয়রা মনসুরের মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় জানায়। বাঁধের নিচে মরদেহটি আটকে ছিল।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলাও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ডাক্তার সেজে করোনার জাল সনদ বিক্রি, ৪ জন রিমান্ডে
জাল সনদ তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন

‘সত্য উদঘাটন করুন, গ্রেপ্তার-বাণিজ্য নয়’: সুজনের সম্পাদক

‘সত্য উদঘাটন করুন, গ্রেপ্তার-বাণিজ্য নয়’: সুজনের সম্পাদক

কুমিল্লা টাউন হল মুক্তিযোদ্ধা কর্নারে এক সংলাপে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘লোক দেখানো তদন্ত না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করুন। বিচারহীনতা, পরস্পর দোষারোপের সংস্কৃতি ও দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ।’

‘কুমিল্লার ঘটনায় গ্রেপ্তার-বাণিজ্য নয়, সত্য উদঘাটন করুন’- বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

কুমিল্লা টাউন হল মুক্তিযোদ্ধা কর্নারে এক সংলাপে সোমবার দুপুরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘লোক দেখানো তদন্ত না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করুন। বিচারহীনতা, পরস্পর দোষারোপের সংস্কৃতি ও দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ।

‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির ফলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নাগরিক সোচ্চার হলেই রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। দেশের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি ছেয়ে গেছে। এক শ্রেণির আমলা, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবী সরাসরি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।’

সুজন কুমিল্লার সভাপতি শাহ আলমগীর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হুমায়ুন কবির মাসুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজনের কুমিল্লা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ টিটু।

আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রুহুল আমিন ভুইয়া, কুমিল্লা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোসলে উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তারিকুল রহমান জুয়েল, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফারহানা আমিন, সিনিয়র জেলা তথ্য অফিসার নজরুল হক, জেলা কালচারার অফিসার আয়াজ মাবুদ, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি জহিরুল হক দুলাল।

আরও পড়ুন:
ডাক্তার সেজে করোনার জাল সনদ বিক্রি, ৪ জন রিমান্ডে
জাল সনদ তৈরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ জন রিমান্ডে

শেয়ার করুন