আ.লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে: জিএম কাদের

আ.লীগের রাজনীতি হারিয়ে যাচ্ছে: জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি সম্প্রতি আরেকটি জিনিস খেয়াল করছি যে, আস্তে আস্তে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে বা নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। শুধু সরকারি দল ও তাদের বিদ্রোহীরাই এখন নির্বাচনের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষকে মাঠে নামতে দেয়া হচ্ছে না।’

গোলাম মোহাম্মদ কাদের যিনি জিএম কাদের নামে অধিক পরিচিত। বর্তমান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতাও।

জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর দলের হাল ধরেন ২০১৯ সালে। দল ও দেশের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে তিনি সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন নিউজবাংলার সঙ্গে।

সংসদে আপনারা এখন প্রধান বিরোধী দল। দেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির যে অবস্থান তাতে কি আপনি খুশি?

হ্যাঁ, খুশি। খুশি না হওয়ার মতো কোনো অবস্থা ঘটেনি। রাজনীতি করলে চড়াই-উতরাই থাকবেই। একে স্বাভাবিক হিসেবেই ধরে নিতে হবে।

রাজনীতি সব সময় সরল অনুপাতে চলে না। রাজনীতিকে কুসুমাস্তীর্ণ পথ ভাবারও অবকাশ নেই। রাজনীতিতে নীতি যেমন আছে, অপরাজনীতি আছে, দুর্নীতি আছে, সংঘাত আছে, ষড়যন্ত্র আছে। রাজনীতিতে সব ধরনের এলিমেন্টন্স নিয়েই রাজনীতি। এ বিষয়টিকে গ্রহণ করেই আমাদের রাজনীতি করতে হয়।

আপনি একাধিকবার বিভিন্ন সভায় জাতীয় পার্টিকে সত্যিকারের বিরোধী দল হওয়ার কথা বলেছেন। হতে পেরেছেন কি?

সংবিধান অনুযায়ী সত্যিকার অর্থে সংসদ, যেটাকে বিরোধী দলের প্রধান চারণভূমি বলা যায়, সে জিনিসটির অভাব আছে। আমার বিশ্লেষণ অনুযায়ী সংবিধানে যে শাসনব্যবস্থার কথা বলা আছে, সেটিকে সংসদীয় গণতন্ত্র বলা যায় না। গণতন্ত্রও বলা যায় কি না, তা নিয়েও আমার সন্দেহ আছে।

সংবিধান অনুযায়ী গণতন্ত্রের চর্চার অবকাশ শূন্যের পর্যায়ে বলা যায়। বিরোধী দল হিসেবে আমরা জনসমক্ষে কিছু সমস্যা তুলে ধরা, জনগণের কথা বলা… সেটি বলি। সরকারের শোনা-না শোনা তাদের নিজস্ব বিষয়। সরকারের কোনো জবাবদিহি করার সুযোগ কিংবা সুবিধা সংসদে নেই।

ফলে প্রকৃত আর অপ্রকৃত যেই হোক, যখনই যে ছিল, যেভাবেই ছিল তারা কেউই কার্যকরভাবে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারেনি। আমরা এর মাঝখান থেকে যতটুকু সম্ভব সেভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

সংসদের বাইরে বিরোধীদের আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়টিও এখন একটু সমস্যা হয়ে গেছে। ২০১৩-১৪ সালের পর এমন একটি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে যে সাধারণ মানুষ মনে করছে, আন্দোলন খারাপ জিনিস। এতে সাধারণ মানুষের লাভের কোনো কিছু হয় না।

১৩-১৪ সালের পর থেকে মোটামুটিভাবে এটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, এখানে দেশ অচল হয়ে গেলেও সরকার পতন হবে না। ফলে সংসদের বাইরে যেটাকে বিরোধীদলীয় রাজনীতি বলার চেষ্টা করা হয়, সেই রাজনীতির পরিবেশও অবর্তমান।

আপনি দলকে বারবার শক্তিশালী করার কথা বলছেন। কিন্তু উপনির্বাচনসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেখা গেল, আপনার প্রার্থীরা রণেভঙ্গ দিচ্ছেন।

সব ক্ষেত্রে সরে দাঁড়ায়নি। এ ক্ষেত্রে দলের কৌশল হলো- যুদ্ধের ময়দানে থাকতে হবে, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে হবে। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। যে জিনিসটি হয়েছে, যারা সরে দাঁড়িয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের ওপর নানা ধরনের সন্ত্রাস থেকে শুরু করে চাপ এবং অন্যান্য লোভ-লালসা দেখিয়ে তাদের নির্বাচনের মাঠ থেকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ জন্য তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

শেষ পর্যন্ত টিকে গেলে অনেক ক্ষেত্রে মামলাও দেয়া হচ্ছে। তাদের বাড়িঘরে, আত্মীয়স্বজনের ওপরে, সমর্থকদের ওপরে সশস্ত্র আক্রমণ করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা এ রকমও অভিযোগ পেয়েছি যে, প্রশাসনও তাদের সঙ্গে জড়িত ছিল।

সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করি যে, নির্বাচনের যে ফলাফল ও পরিস্থিতি সেটা সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে না।

নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের যে ভূমিকা পালন করার কথা ছিল, সেই ভূমিকা আমরা দেখছি না, দৃশ্যমান নয়। ফলে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন দেখছি না, এবং জনগণ, রাজনৈতিক দলগুলো হতাশ হয়ে পড়ছে।

আমি সম্প্রতি আকেটি জিনিস খেয়াল করছি যে, আস্তে আস্তে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে বা নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। শুধু সরকারি দল ও তাদের বিদ্রোহীরাই এখন নির্বাচনের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষকে মাঠে নামতে দেয়া হচ্ছে না।

যদি মানুষ আগে থেকে ধরে নেয় যে এ নির্বাচনে তার সমর্থন কোনো ভূমিকা রাখবে না, সেখানে নির্বাচনে যাওয়ার উৎসাহ মানুষ হারিয়ে ফেলে।

যারা ভোটার তারা ভোট দেয়ারও উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। ফলে একদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নেতা-কর্মী হারাচ্ছে, তাদের সংগঠন তৈরি করতে অসুবিধা হচ্ছে।

এতে করে আওয়ামী লীগসহ দেশের রাজনীতির সব দল রাজনীতির বাইরে চলে যাচ্ছে। আমি মনে করি যে, একপর্যায়ে এসে তারা একটা সাইনবোর্ডসর্বস্ব, নিবন্ধনসর্বস্ব, নেতাসর্বস্ব অস্তিত্ব নিয়ে দাঁড়াবে।

এ ক্ষেত্রে উত্তরণের উপায় কী বলে মনে করেন?

সেটা খুব সহজ নয়। সংবিধান অনুযায়ী আমরা যদি আইন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে পারি, সংবিধানের ১২৬ ধারা অনুযায়ী প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে উনাদের কর্তৃত্ব নিশ্চিত করতে পারি, তাহলে একটা সমাধান হয়।

সরকারের বাইরে, সরকারের নির্দেশের বিরুদ্ধে হলেও তাদের সেটা শুনতে হবে। এটা আমাদের সংবিধানের বিধানে আছে। ফলে উনারা অনেকটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে একটা বডি হবেন। এ ধরনের যদি পরিস্থিতির সৃষ্টি করা যায়, তাহলেই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।

এর বাইরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শুধু সরকার পরিবর্তনের একটি ব্যবস্থা। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন দীর্ঘদিন দিতে পারে না। আমি মনে করি এই ব্যবস্থাটি অকার্যকর।

আপনি বলেছেন, আপনারা সব নির্বাচনে অংশ নেবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু কোথাও তো ভালো ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। এমনকি জাতীয় পার্টির দুর্গ বলা হতো যে এলাকা রংপুর, কুড়িগ্রামেও ভালো ফলাফল আসছে না। তাহলে কি দল ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে?

এটা বলার আগে বলতে হবে, নির্বাচন কি অবাধ-সুষ্ঠু হচ্ছে? জনগণের মতামতের প্রতিফলন হচ্ছে? যদি তাই হয় তাহলে আমরা ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছি। আর এই মতামতের সঙ্গে যদি আপনি দ্বিমত প্রকাশ করেন তাহলে ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছি না।

নির্বাচনব্যবস্থা যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় তাহলেই প্রকৃতভাবে আমাদের অবস্থানটা আমরা জানতে পারব, জনগণও জানতে পারবে। তবে আমরা মনে করি, আমাদের অবস্থান কোথাও খারাপ হয়নি।

আপনি বলেছেন, জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে আপনার দল কি করেছে? ভবিষ্যতে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?

জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল বলেছি, তার দুটি কারণ। একটি হলো এখন যে রাজনীতিতে স্থবিরতা, বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়া চলছে, তাতে বড় বড় অনেক নেতা, নামীদামি মানুষ রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারছেন না।

আমরা ৯০-এর পর থেকে প্রায় ৩১ বছর ক্ষমতার বাইরে। এরশাদ সাহেবের মতো একজন টাওয়ারিং পারসোনালিটি, যার ভাবমূর্তি দেশে ও বিদেশে, সব কিছু মিলিয়ে তার অবদান, সারা দেশের মানুষ তাকে গ্রহণ করেছিল।

উনার অবর্তমানে এই দলটি টিকে থাকবে কি না, উনার সমকক্ষ কোনো নেতৃত্ব আসবে কি না, এমন সন্দেহ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু দেখা গেল সব দল তলিয়ে গেলেও এখন ৩টি দল মাঠপর্যায়ে আছে। তার মধ্যে জাতীয় পার্টি একটি।

যদিও জাতীয় পার্টিকে তিন নম্বর বলা যায়। এক কিংবা দুইয়ের ম্ধ্যে আমরা এখনও আসতে পারিনি। এখন মানুষের আমাদের ওপর সেই বিশ্বাস আছে।

আগামী নির্বাচনে কি আবার আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি জোট হচ্ছে, না আপনারা এককভাবে নির্বাচন করবেন?

নির্বাচনের এখনও দুই বছরের বেশি সময় আছে। নির্বাচনের আগে দেশের রাজনীতিতে অনেক মেরুকরণ হতে পারে। সুতরাং দুই বছর পর পরিস্থিতি কী হয় এখনও নিশ্চিত হতে পারছি না। তখনই আমরা হয়তো সিদ্ধান্ত নেব।

তবে তাত্ত্বিক কথা বলি, সেটা হলো- দল হিসেবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি তিনটি দলই মধ্যপন্থি। আওয়ামী লীগ মধ্যপন্থি হলেও ওনাদের বামপন্থিদের সঙ্গে মিত্র হওয়ার একটা ঐতিহ্য আছে। সে জন্য ওনাদের মধ্য বাম ঘেঁষা মধ্যপন্থি দল বলা হয়।

বিএনপি এবং জাতীয় পার্টি ডান ঘেঁষা মধ্যপন্থী দল। বিএনপি ও জাতীয় পার্টি তৈরিই হয়েছে আওয়ামী লীগের কাউন্টারে। ফলে যেটা দাঁড়িয়েছে, সেটা হলো আমাদের ও বিএনপির সমর্থক গোষ্ঠী কিংবা ভোটব্যাংক প্রায় একই কোয়ালিটির।

আমরা একসঙ্গে হলে খুব বড় শক্তি। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়, জাতীয় পার্টির অস্থিত্ব নিয়ে সংকট দেখা দিতে পারে, যেহেতু একই ধরনের মানসিকতা, আদর্শ নিয়ে দল করা হচ্ছে।

যে নেতৃত্ব সেখানে শক্তিশালী হবে, সে নেতৃত্বও দলের পুরো অংশকে নিয়ে নিতে পারে, দলের স্বকীয়তা হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট হলে আমাদের স্বকীয়তা বজায় রাখা সুবিধাজনক হয়। আর আওয়ামী লীগেরও একটা স্বার্থ থাকে। এ দুটি সমীকরণ আমাদের অতীত রাজনীতিতে কাজ করেছে। সামনে কী হবে এটা-সেটা আমি বলতে পারছি না।

বিএনপি তো আবার আন্দোলনে যাবার কথা বলছে। এই অবস্থায় আপনি কি আবার ২০১৩-১৪ সালের মতো সহিংস পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখছেন? প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা হিসেবে সরকারের প্রতি কী পরামর্শ থাকবে আপনার?

বিএনপি তো অনেক দিন থেকে প্রোগ্রাম দিতে চাচ্ছে, চেষ্টা করছে। এখন যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়ে গেছে, রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোকে যেভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেখানে খুব সহজ হবে না, এটা বলতে পারি আমি।

তারা আন্দোলন করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারবে, পরবর্তীকালে সুবিধা পাবে- এমন সম্ভাবনা আমি কম দেখি। একেবারে শূন্য বলব না, তবে সম্ভাবনা কম।

সরকারের প্রতি পরামর্শ হলো- আমরা মনে করি, যেকোনো জায়গায় চরমপন্থা তখনই জয়লাভ করে যখন মানুষের মধ্যে হতাশার জায়গা বেশি থাকে। সাধারণ মানুষ যখন সাধারণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলতে গিয়ে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়, হতাশাগ্রস্ত হয়, এই হতাশাটাই একপর্যায় এসে তারা চরমপন্থি হয় বা চরমপন্থিদের সমর্থক হয়।

বাংলাদেশে চরমপন্থার উত্থান স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বামদের দ্বারা হয়েছিল। এখন আবার জামায়াত-হেফাজত মিলে একটি ডানপন্থি চরমপন্থার আশঙ্কা দেখা দেয়।

ভবিষ্যতে যদি এই সরকার এর সমাধান না করে তাহলে চরমপন্থার উত্থান হতে পারে। যেটা দেশের কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

আমরা মনে করি, যদি মানুষের মধ্যে হতাশা থাকে তা থেকে তাদের মুক্তি দিতে হবে। না হলে দেশ চরমপন্থার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন:
করোনায় জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যু
জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত উজ্জ্বল: জি এম কাদের
ভোট থেকে সরলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জি এম কাদেরের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান: তথ্যমন্ত্রী

ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সাংবাদিকদের সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে শান্তি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সম্প্রীতি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সৌহার্দ্য। সেই মূল মর্মবাণী ধারণ করে যারা এই হানাহানি সৃষ্টি করতে চায়, যারা ফেতনা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’  

ধর্মের নামে ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় বুধবার সকালে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে জশনে জুলুসে ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপমহাদেশে ইসলামের প্রসার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই ভারতীয় উপমহাদেশে কোনো যুদ্ধবিগ্রহের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। এই উপমহাদেশে আমাদের দেশে অলি-আউলিয়াদের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে, মানুষকে বুঝিয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এনেছে এই জনপদে। তাদের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

‘যারা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা ফেতনা সৃষ্টিকারী। যারা ইসলামের কথা বলে হানাহানিতে লিপ্ত হয়, তারা ফেতনা সৃষ্টিকারী। যারা ইসলামের কথা বলে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ করে, তারাও ফেতনা সৃষ্টিকারী।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আপনাদের মাধ্যমে আহ্বান জানাব নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ না রেখে, নিজেদের মধ্যে ফেতনা সৃষ্টি না করে ইসলামের কথা বলে দেশে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করার অনুরোধ করছি।’

পৃথিবীতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নিজেদের ঐক্য-সংহতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়, নিজেদের মধ্যে ঐক্য-সংহতির মাধ্যমে মিয়ানমারের মুসলমানরা আজকে যারা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে, তারা যেন পূর্ণ অধিকার নিয়ে আবার মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করা দরকার। পৃথিবীর অন্য জায়গায় যেখানে মুসলমাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করার জন্য আল্লাহর কাছে আজকে ফরিয়াদ করব।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে শান্তি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সম্প্রীতি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সৌহার্দ্য।

‘সেই মূল মর্মবাণী ধারণ করে যারা এই হানাহানি সৃষ্টি করতে চায়, যারা ফেতনা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম সমস্ত ব্যাপারে কত উদার, কত মানবিক এবং কত বাস্তবসম্মত, সেগুলো আমাদের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা যেন পৃথিবীবাসীর কাছে তুলে ধরতে পারি। ইসলামের নাম নিয়ে যারা ইসলামকে ধ্বংস করতে চায় তারা প্রতিহত হবে।’

আরও পড়ুন:
করোনায় জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যু
জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত উজ্জ্বল: জি এম কাদের
ভোট থেকে সরলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জি এম কাদেরের

শেয়ার করুন

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনায় রিজভী

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনায় রিজভী

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা চালের দাম, লবনের দাম, পেঁয়াজের দাম, ডালের দাম বাড়াবেন আর তার সিন্ডিকেটদের পকেট ফুলবে। এর মধ্য দিয়ে তার ময়ুরসিংহাসন টিকে থাকবে এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার অভিপ্রায়। তার সিন্ডিকেটকে সুযোগ দিতে জনগণের দৃষ্টি চৌমুহনীতে, হাজীগঞ্জে, চট্টগ্রাম ও পীরগঞ্জে নিয়ে যাচ্ছেন মন্ত্রীরা।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে বিএনপির আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সয়াবিন তেল এক লাফে লিটারে ৭ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। ওবাদুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বাজার মনিটরিং করছেন।

‘এই মনিটরিং করতে গিয়েই চালের দাম, ডালের দাম হু হু করে বাড়ছে। এটিই হচ্ছে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অপকৌশল। রংপুর পুড়ছে চৌমহন ও হাজীগঞ্জ পুড়ছে। এর মধ্য দিয়েই তিনি তার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা মনে করেন আমি চালের দাম, লবনের দাম, পেয়াজের দাম, ডালের দাম বাড়াবো, আর আমার সিন্ডিকেটরা পকেট ফোলাবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের ময়ুরের সিংহাসন টিকে থাকবে এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার অভিপ্রায়।

‘তার সিন্ডিকেটকে সুযোগ করে দিতে তিনি জনগণের দৃষ্টি চৌমুহনীতে, হাজীগঞ্জে, চট্টগ্রাম ও পীরগঞ্জে নিয়ে গেছেন। আর ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য মন্ত্রীদের উনি বলে রেখেছেন, তোমরা জনগণকে এগুলো নিয়ে ব্যস্ত রাখো। সেই কাজটা তারা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন।’

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লাবাসী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও বলছে তারা নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। বলেছিলাম। কিন্তু যথাসময়ে সাড়া না দিয়ে তারা অনেক দেরিতে এসেছে। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায়ও লেখালেখি হচ্ছে। অন্যদিকে একের পর এক বিএনপি’র নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। সাড়া দেশ পুড়ছে আর তিনি ভানুর মতো শুধু দেখছেন।িউনি ভাবছেন, আমার বাড়ি আমি দেখবো না। বাংলাদেশকে নিজের জমিদারিতে পরিণত করেছেন তিনি। আবার বলছেন, তিনি না দেখলে কে দেখবেন। একটা ভয়ঙ্কর মিথ্যার ওপর দিয়ে তারা বসবাস করছেন। অন্যকে বলেছেন মিথ্যেবাদী।

‘উনি যদি আসলেই নামাজ পড়তেন, রাসুল (সা.) এর কয়েকটি বাণী যদি আয়ত্ত্ব করতেন হৃদয় দিয়ে তাহলে তিনি আজকে নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট এর মত হতেন না। তিনি জালেম সরকারের প্রধান শাসক হতেন না। এটাতো উনি ধারণ করেননি। উনি ধারণ করেছেন, নির্বাচন আগে বোরকা পড়া, হাতে তজবি নেয়া, যার সবটাই ভণ্ডামি।’

রিজভী বলেন, ‘গুম-খুনের রাজনীতিতে, আজকে মিথ্যাচারের রাজনীতিতে আমরা প্রত্যেকে প্রশিক্ষিত হলে এ সরকার বেশি দিন টিকতে পারবে না। আদর্শের কাছে, ন্যায়ের কাছে, ইনসাফের কাছে, সুশাসনের কাছে, নীতির কাছে কখনোই জুলুমকারীরা টিকে থাকতে পারে না। টিকে থাকতে সরকার একটি গভীর নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে।’

ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা শাহ মোহাম্মাদ নেছারুল হকের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
করোনায় জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যু
জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত উজ্জ্বল: জি এম কাদের
ভোট থেকে সরলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জি এম কাদেরের

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দায় বিএনপির: কাদের

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দায় বিএনপির: কাদের

বিএনপিকে ‘রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িক’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘তারা সংখ্যালঘুদের শত্রু মনে করে। তারা ভেবেছে, পূজামণ্ডপে হামলা করলে সরকারের ওপর হিন্দু সম্প্রদায়ের অনাস্থা বাড়বে। আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরাজমান বন্ধুত্ব নষ্ট হবে।’

শারদীয়া দুর্গাপূজায় দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ও পূজার পর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য বিএনপি ও তার মিত্রদের দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার নিজ বাসভবনে বুধবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্মকে যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করে, তারাই পরিকল্পিতভাবে বিভাজন তৈরি করতে চায়।’

বিএনপি নেতারা ‘মিথ্যাচারকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক।

কাদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলায় নাকি সরকার জড়িত! আসলে ভিডিও ফুটেজে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে দেখে, তারা একচোখা দৈত্যের আচরণ শুরু করেছে।

বিএনপিকে ‘রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িক’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘তারা সংখ্যালঘুদের শত্রু মনে করে। তারা ভেবেছে, পূজামণ্ডপে হামলা করলে সরকারের ওপর হিন্দু সম্প্রদায়ের অনাস্থা বাড়বে। আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরাজমান বন্ধুত্ব নষ্ট হবে।

‘যারা নিজেরা এদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, মেনে নিতে পারেনা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি, তারাই জাতিকে বিভাজন করে দুর্বল করতে চায় এবং দেশের ইমেজ নষ্ট করতে চায়। আর এ বিভাজন রেখা তৈরি করতে চায় বিএনপি ও তার দোসররা।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘বিএনপির চরিত্র হচ্ছে, মুখে শেখ ফরিদ, বগলে ইট। তাদের কথায় পুষ্পবৃষ্টি হলেও অন্তর কদর্যে ভরা।

‘মসজিদগুলো মন্দির হয়ে যাবে, মসজিদে উলুধ্বনি হবে, এসব অপপ্রচার বিএনপি অতীতেও চালিয়েছে’ বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘এসব অপকর্ম ও নির্জলা মিথ্যার পেটেন্ট একমাত্র বিএনপির।’

২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের ওপর বিএনপির নির্মমতা একাত্তরকেও হার মানিয়েছিল বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এখনও তারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।’

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। দিনটি মুসলিম উম্মার জন্য পবিত্র এবং মহিমান্বিত জানিয়ে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার মহানবীর যে অমর বাণী সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

সেই সঙ্গে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান ওবায়দুল কাদের।

আরও পড়ুন:
করোনায় জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যু
জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত উজ্জ্বল: জি এম কাদের
ভোট থেকে সরলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জি এম কাদেরের

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলা কালীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি সদস্যের তালিকায় আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম। ছবি: নিউজবাংলা

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলায় তৃতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির এক সদস্য।

এটি বাতিলের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর আবেদন করেছেন তালিকায় থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা।

নেতা-কর্মী জানান, গত ১৭ অক্টোবর উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে সভা হয়।

এতে তৃণমূলের রায়ে ১৪ ভোট পেয়ে আফতারুজ্জামান বাবুল প্রথম হন। ১২ ভোট পেয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু দ্বিতীয় ও ৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন নুর ইসলাম মিয়া।

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ‘এর জন্য দায়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব। এটি কোনোভাবে মেনে নেয়ার মতো না।

‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরোক্ষ ইশারায় বিএনপির সক্রিয় সদস্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নে স্থান পেয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আমরা ওই তালিকা থেকে আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম বাদ দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু বলেন, ‘বাবুল কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ১৪ নম্বর সদস্য। বিষয়টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে। তারা সেদিন বর্ধিত সভায় চুপ থেকে তাকে প্রার্থী বাছাইয়ে অংশ নায়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

‘সেদিন হাউসের অনেককে ম্যানেজ করে বিতর্কিত ওই ব্যক্তি তৃণমূলর রায় তার পক্ষ নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর প্রতিবাদে আমি ওই তালিকা থেকে বাবুলর নাম কেটে পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নাম দেয়ার জন্য ১৮ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আফজালুল হক খোকা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাবুল বিএনপির সদস্য হয়ে থাকলে তার নাম আওয়ামী লীগে কীভাবে এসেছে, সেটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আগের সভাপতি ও সম্পাদক ভালো জানেন।

‘আমরা এর জন্য দায়ী নই। বর্তমানে তার নাম ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে আছে। আর এ কারণেই তিনি দলীয় প্রার্থী হতে চেষ্টা চালিয়েছেন।’

আফতারুজ্জামান বাবুল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি জীবনে কোনো দিন বিএনপি করিনি। বিএনপির তালিকায় কীভাবে নাম গেল, সেটা আমার জানা নেই। ছাত্রলীগের মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ২০১৭ সালে আমি আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির সদস্য হই। ২০১৮ সালে আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত হই।’

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর বলেন, ‘আফতারুজ্জামান বাবুলকে আমি আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবেই চিনি। তিনি ছাত্রলীগ করেছে। ২০০২ সালে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ছিল।’

আরও পড়ুন:
করোনায় জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যু
জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত উজ্জ্বল: জি এম কাদের
ভোট থেকে সরলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জি এম কাদেরের

শেয়ার করুন

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির শোভাযাত্রায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অশান্তি ঘটালেন আপনারা, আগুন দিলেন আপনারা, মারলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা করে আজকে শান্তি মিছিল বের করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এই আওয়ামী লীগ এটাই। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে।’

হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী শান্তি মিছিলকে ক্ষমতাসীন দলের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার’ উপায় হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে এবং বিভাজন সৃষ্টি করে তারা এটাকে পুঁজি করে সেটাকে আবার তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চাচ্ছে।

‘অশান্তি ঘটালেন আপনারা, আগুন দিলেন আপনারা, মারলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা করে আজকে শান্তি মিছিল বের করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এই আওয়ামী লীগ এটাই। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

এবারের পূজামণ্ডপে মানুষজনের কম উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘এই সাম্প্রদায়িক সমস্যা-সংকট সরকার তৈরি করেছে। এখানে দাদা (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়) আছেন, দাদার বাড়িতে পূজা হয়েছে, সেই বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। এর আগের বছর যখন গিয়েছি, তখন দেখেছি কী উৎসব কী আনন্দ! সেখানে কাছাকাছি আরো কয়েকটা পূজামণ্ডপে পূজা হচ্ছে, লোকজন রাস্তায় বোঝাই হয়ে ছিল।

‘এবার গিয়ে দেখলাম দাদার বাড়িতে ওইভাবে লোক নেই। কারণ, মানুষ ভয় পেয়ে গেছে, সেভাবে লোক আসছে না। পূজা সেভাবে হচ্ছে না।

‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরেও আমি দেখেছি অনেক কম মানুষ। বনানীতে পূজামণ্ডপে গেছি। সেখানেও অনেক কম মানুষ। কেন? আমাদের অন্যতম ভাই, আমাদের পাড়া-প্রতিবেশী, আমাদের দেশের স্বাধীন নাগরিক তারা কোনো তাদের ধর্মের উৎসব পালন করতে পারবে না?’

সরকার হটানোর আহ্বান

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এ দেশের মানুষ অনেক বেশি কষ্ট পাবে। আমাদের অর্জনগুলো সব হারিয়ে যাবে। আমরা আরও বেশি নিচের দিকে নামতে থাকব। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সব সচেতন মানুষ যারা আছি তাদের এই দানবীয় সরকারকে সরাতে হবে।’

সরকার পতনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সাদা-কালো, বাম-ডান সবাইকে এক হয়ে এদের সরাতে হবে।

‘এদের সরিয়ে এখানে জনগণের একটা রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে, জনগণের একটা সরকার তৈরি করতে হবে, জনগণের একটা বাসভূমি তৈরি করতে হবে। তাহলেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবকে সবচেয়ে বেশি সম্মান প্রদর্শন করা হবে।’

দেশে গণতন্ত্র নেই অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র তারা নিজের হাতে শেষ করেছে ১৯৭৫ সালে এবং এবার ২০০৮ সাল থেকে শুরু করেছে।

‘বাংলাদেশের আত্মা হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক সমাজ, মুক্ত সমাজ। সেই আত্মাকে তারা ধ্বংস করছে পরিকল্পিতভাবে। তারা কথা বলতে দেয় না, লিখতে দেয় না।’

বিএনপির এই আয়োজন টেলিভিশনে বড়জোর দুই সেকেন্ড/তিন সেকেন্ড বা ১/২ মিনিট দেখানো যাবে, পত্রিকায় এক কলাম সংবাদ হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আমি বলি দোষ তাদের না। তাদের ম্যানজেমেন্ট, মালিক… যারা সবাই কোনো না কোনোভাবে সরকারের সঙ্গে জড়িত আছে। হয় ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনোভাবে অথবা সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। যদি কিছু লিখতে যায় সাংবাদিকের চাকরি চলে যায়, পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, পেশাজীবী নেতা গাজী আব্দুল হক, প্রকৌশলী মিয়া মুহাম্মদ কাইয়ুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও রাখেন।

আরও পড়ুন:
করোনায় জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যু
জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত উজ্জ্বল: জি এম কাদের
ভোট থেকে সরলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জি এম কাদেরের

শেয়ার করুন

পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি: রিজভী

পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি: রিজভী

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মিসভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আপনারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাজি নন। ফায়দা লুটতে আপনারা খাল কেটে কুমির আনছেন, একসময় সেই কুমির সবকিছু গ্রাস করবে, এটা টের পাচ্ছেন না। এই কুমির সরকারকে খেয়ে ফেলতে পারে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে, নানাভাবে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। যে আগুন নিয়ে খেলছেন, সেই আগুনে সরকার ছারখার হয়ে যাবে।’

পুলিশ সঠিক সময়ে না আসায় কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও রংপুরে সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সাম্প্রদায়িক সংঘাতের জন্য সরকার ও প্রশাসনকে দায়ী করে রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লার জনগণ ঘটনার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলেছিল, কিন্তু প্রশাসন সেটা করেনি। পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি বলেই সহিংস ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও রংপুরে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল।

মিলাদ শেষে কর্মিসভায় রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা আওয়ামী লীগের সহ্য হয় না। তার প্রমাণ ২০১৮ সালে দিনের বেলা ভোট করতে তারা সাহস পায়নি। রাতের নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা ১০ মাস আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে। যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তিনি তাতে জড়িত ছিলেন না।

‘তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে শেষ করতে সরকার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। তাদের সেই নীলনকশা আমরা কেন বাস্তবায়ন করতে দেব? জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে পারবে না কেউ। সুতরাং আমরা একীভূত হতে পারলে স্বৈরশাসককে সরাতে পারব। শেখ হাসিনার ময়ূর সিংহাসন স্থির রাখা যাবে না, এটা আমাদের উল্টাতে হবে।’

সরকারের সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘আপনারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাজি নন। ফায়দা লুটতে আপনারা খাল কেটে কুমির আনছেন, একসময় সেই কুমির সবকিছু গ্রাস করবে, এটা টের পাচ্ছেন না। এই কুমির সরকারকে খেয়ে ফেলতে পারে।

‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে, নানাভাবে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। যে আগুন নিয়ে খেলছেন, সেই আগুনে সরকার ছারখার হয়ে যাবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, মহানগর উত্তরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
করোনায় জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যু
জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত উজ্জ্বল: জি এম কাদের
ভোট থেকে সরলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জি এম কাদেরের

শেয়ার করুন

‘বাহাদুরি থামান’ শাজাহানকে শাহাবুদ্দিন

‘বাহাদুরি থামান’ শাজাহানকে শাহাবুদ্দিন

মাদারীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মঙ্গলবার বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা। ছবি: নিউজবাংলা

শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘এখন আর নৌকার বিরোধিতা করবেন না। আপনি নৌকা নিয়েই ৬ বার এমপি হয়েছেন। এখন আবার নৌকাবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন। বাহাদুরি থামান। আর বাহাদুরি করবেন না।’

মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানকে বাহাদুরি থামাতে বলেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, ‘আপনি (শাজাহান খান) ২০১৮ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতা করে নিজের ভাইকে বিদ্রোহী প্রার্থী করেছিলেন। তখন তৃণমূল আওয়ামী লীগ শক্তিশালী ছিল না। কিন্তু শক্তিশালী।

‘এখন আর নৌকার বিরোধিতা করবেন না। আপনি নৌকা নিয়েই ৬ বার এমপি হয়েছেন। এখন আবার নৌকাবিরোধী ষড়যন্ত্র করছেন। বাহাদুরি থামান। আর বাহাদুরি করবেন না।’

শাজাহান খানকে উদ্দেশ করে সভাপতি শাহাবুদ্দিন আরও বলেন, ‘এখন নৌকা আপনার পরিবারের লোকজন আর আপনার দালালরা পাবে না। তাই নৌকার বিরোধিতা শুরু করেছেন। সময় আছে, সাবধান হয়ে যান। না হলে আওয়ামী লীগ আপনাকে ছাড়বে না।’

জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তৃতীয় দফা ইউপি নির্বাচন নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ চোকদার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজাদুর রহমান মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ। এ সময় সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি মাদারীপুরে একটি অনুষ্ঠানে শাজাহান খান নির্বাচনে শাহাবুদ্দিনকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার পক্ষে বক্তব্য দেন। যা নিয়ে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন:
করোনায় জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর মৃত্যু
জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত উজ্জ্বল: জি এম কাদের
ভোট থেকে সরলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি জি এম কাদেরের

শেয়ার করুন