বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা

বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা

কৃষকরা জানান, বিঘাপ্রতি ছয় হাজার টাকা খরচ করে ১০ মণ পর্যন্ত বাদাম উৎপাদন সম্ভব। প্রতি মণ বাদামের পাইকারি দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা। স্বল্প খরচে বেশি মুনাফা পাওয়ায় বাদাম চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা।

পঞ্চগড়ে বিভিন্ন নদীর চরে পরিত্যক্ত বিরাণভূমি এখন আর চোখে পড়ে না। এসব জমিতে আবহাওয়া উপযোগী এবং সীমিত উৎপাদন খরচে বেশি মুনাফা পাওয়ায় উচ্চ ফলনশীল বাদাম চাষ করছেন চাষিরা।

অর্থকরী ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারালেও বিকল্প এ ফসল চাষে লাভের মুখ দেখছেন এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা।

জেলায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন মিল থেকে প্রক্রিয়াজাত করা বাদাম যাচ্ছে দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলোতে। এতে চাষিদের পাশাপাশি বাদাম মিলে কাজ করে অনেকে হয়েছেন স্বাবলম্বী। আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতিও হয়েছে।

উন্নত প্রযুক্তি, ঋণসুবিধাসহ উৎপাদিত পণ্যের সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে পারলে এখানকার উৎপাদিত বাদাম গ্রামীণ জনপদের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা কৃষি বিভাগের।

বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা

জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, হিমালয়ের খুব কাছে অবস্থানের কারণে পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন। মাটিতে পাথর ও বালি বেশি থাকায় এ অঞ্চলে শীত ও গ্রীষ্মকালীন সবজি, ভুট্টা, কলা ও বাদাম চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা।

কৃষকরা জানান, জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বছরের দুই মৌসুমে বিপুল পরিমাণ জমিতে চাষ হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল বাদাম। বিশেষ করে জেলার দেবীগঞ্জ, বোদা ও সদর উপজেলায় বাদাম চাষ কৃষিতে এক নতুন বিপ্লব এনে দিয়েছে।

তারা আরও জানান, বিঘাপ্রতি ছয় হাজার টাকা খরচ করে ১০ মণ পর্যন্ত বাদাম উৎপাদন সম্ভব। প্রতি মণ বাদামের পাইকারি দাম ২ হাজার ৫০০ টাকা। স্বল্প খরচে অধিক মুনাফা পাওয়ায় বাদাম চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা।

সুষ্ঠু বাজারজাতকরণ এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় অবশ্য হতাশার কথা জানিয়েছেন চাষিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাদাম প্রক্রিয়াজাত করতে জেলায় ব্যক্তিমালিকানায় ২৫ থেকে ৩০টি মিল গড়ে উঠেছে। সেখানে নারী-পুরুষ সমানতালে কাজ করছেন। এতে অনেকের সংসারে দুর্দশা কেটেছে।

বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা


একটি বাদাম মিলের শ্রমিক শরিফা খাতুন বলেন, ‘সংসারের কাজকর্ম শেষ করে স্বামীর সঙ্গে বাদাম মিলে কাজ করতে আসি। প্রতিদিন ৩০০ টাকা আয় হয়। এতে সংসারে আর কোনো অভাব থাকে না।’

তবে নারী শ্রমিকরা কিছুটা মজুরি বৈষম্যের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন শরিফা। তিনি জানান, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাজ করার পরও মজুরি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার বেশি দেয়া হয় না।

বাদামের ভবিষ্যৎ বাজারের বিষয়টি চিন্তা করে স্বল্প সুদে ঋণের দাবি জানিয়েছেন মিলমালিকরা। তারা বলছেন, সরকার যদি মিল মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করেন তাহলে আরও বেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থান করা যেত।

দেবীগঞ্জের বাদাম মিল মালিক আকতারুজ্জামান অবশ্য অভিযোগ করে বলেন, ‘মিলমালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার বিষয়টি একাধিকবার জেলার কৃষি মিটিংয়ে উত্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, লাভবান হওয়ায় জেলায় এই বছর প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। আর জেলায় গড়ে ওঠা বাদাম প্রসেসিং (খোসা ছড়ানো) মিলে কাজ করে অনেক বেকার স্বাবলম্বী হয়েছেন।

বাদামে বদলেছে জীবনযাত্রা


ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাদাম মিল মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে জানানো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উৎপাদিত ফসলের সন্তোষজনক দাম এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে চাষিদের সহায়তা করা হচ্ছে। পঞ্চগড়ের উৎপাদিত বাদাম এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

আরও পড়ুন:
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল
আমেরিকার ফল অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ছে
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া
বিদ্যালয়ের মাঠে চাষাবাদ, জমির দলিল তলব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

পঞ্চগড়ে এবার দেরিতে বাজারে আসা শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চগড়ের কৃষকরা বলছেন, এ বছর জেলায় বৃষ্টি কম হওয়ায় শীতকালীন সবজির আবাদ ব্যাহত হয়েছে। আগাম সবজি উঠতে দেরি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা থেকে সবজি আসছে, এ কারণে দাম বেশি।

পঞ্চগড় জেলায় এ বছর একটু দেরিতে বাজারে আসা শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। বাজারে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, শিমসহ নানা ধরনের শীতের সবজি পাওয়া গেলেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে তার বেশি দামে। কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়, ফুলকপি ১০০, বাঁধাকপি ৮০, গাজর ২০০, শসা ৬০ ও টমেটো ২০০ টাকা কেজি দরে।

কৃষকরা বলছেন, এ বছর জেলায় বৃষ্টি কম হওয়ায় শীতকালীন সবজির আবাদ ব্যাহত হয়েছে। আগাম সবজি উঠতে দেরি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা থেকে সবজি আসছে, এ কারণে দাম বেশি।

এ ছাড়া বৃষ্টির অভাবে বাঁধাকপি, ব্রকলি, ফুলকপি ও শিমে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়ায় এসব ফসলের উৎপাদন কম হবার আশঙ্কা তাদের। সেটিও দামে প্রভাব ফেলছে।

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা, রতনিবাড়ী, বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মড়েয়া বড়শষি আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়া খাওয়া, সর্দারপাড়া, দেবীগজ্ঞ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ি, কালিগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শড়িয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় প্রচুর পরিমাণ সবজি চাষ হয়। এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রির পর চলে যায় রাজধানী ঢাকায়।

বোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজি চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর শীতের সবজি চাষ করে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ থাকে। এ বছর তিনি শিম, ঝিঙ্গা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতির আবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘চলতি বছর বৃষ্টি আশাতীতভাবে না হওয়ায় সবজির ফলন ভালো হয়নি। সবজি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় উৎপাদন কিছুটা হলেও কম হবে। আর প্রতি বছর আগাম সবজি বাজারজাত করতে পারলেও এ বছর একটু দেরি হবে।’

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

তবে সবজির চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার ভাবরঙ্গি গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও বেগুনের আবাদ ভালো হয়েছে। তবে আগে বাজারজাত করতে না পারায় লাভ কিছুটা কম হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সবজি চাষে ব্যাঘাত হয়েছে। শেষ সময়ের বৃষ্টিপাতে চাষিরা তা পূরণ করার চেষ্টা করছেন।

বৃষ্টি কম হওয়ায় এবার আগাম সবজি সেভাবে বাজারে ওঠেনি। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সবজি সরবরাহ বাড়বে।

আরও পড়ুন:
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল
আমেরিকার ফল অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ছে
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া
বিদ্যালয়ের মাঠে চাষাবাদ, জমির দলিল তলব

শেয়ার করুন

বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি

বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিনা-১৭ ধানের প্রতি বিঘায় প্রায় ২৬ থেকে ২৭ মণ ফলন হয়ে থাকে। অন্যান্য জাতের ধানের তুলনায় বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ দুই থেকে তিন হাজার টাকা কম হয়।

কম সময়ে, কম খরচে উৎপাদন বেশি হওয়ায় বিনা-১৭ ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন নওগাঁর কৃষকরা। তারা বলছেন, সার-পানি সাশ্রয়ী, আলোক সংবেদনশীল ও খরাসহিষ্ণু এই ধান। অন্য জাতের ধানের চেয়ে এক মাস আগেই বিনা-১৭ কাটার উপযোগী হয়।

এ জাতের ধানের আবাদে কৃষককে উদ্বুদ্ধ ও সহায়তা করে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) উপকেন্দ্র ও নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, নওগাঁয় চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৯৭ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বিনা-১৭ জাতের ধান ১ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

এই ধান রাণীনগরে ৫২০ হেক্টর, ধামইরহাটে ১২৫ হেক্টর, নিয়ামতপুরে ৫ হেক্টর ও মান্দা উপজেলায় ২০ হেক্টরসহ অন্যান্য উপজেলায় আংশিক আবাদ হয়েছে।

বিনা-১৭ জাতের ধানে পানি কম লাগার কারণে একে গ্রিন সুপার রাইস নামেও অভিহিত করেছেন অনেকে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ জাতের ধানে ইউরিয়া সার এক-তৃতীয়াংশ ও সেচ ৫০ শতাংশ কম লাগে। ধানের জীবনকাল ১১০ থেকে ১১৫ দিন। এর প্রতি শিষে ২০০ থেকে ২৫০ দানা থাকে।

প্রতি বিঘায় বিনা-১৭ প্রায় ২৬ থেকে ২৭ মণ ফলন হয়ে থাকে। অন্যান্য জাতের ধানের তুলনায় বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ দুই থেকে তিন হাজার টাকা কম হয়।

নিয়ামতপুর উপজেলার শালবাড়ি গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম খলিল এই প্রথম তার চার বিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধানের আবাদ করেছেন।

বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি

তিনি বলেন, ‘আমি কয়েক মাস আগে ইউটিউবে বিনা-১৭ জাতের ধানের সুফল দেখার পর এর উপকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জেলার কৃষি অফিসে যোগাযোগ করি। সেখানকার কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহায়তা নিয়ে আমার চার বিঘা জমিতে বিনা-১৭ জাতের ধান রোপণ করেছিলাম।

‘বর্তমানে ধান কাটার উপযোগী হয়েছে। আমার জমিগুলোর পাশেই স্বর্ণা-৫, তেজ ধানি গোল্ড, বিনা-৭ জাতের ধানের আবাদ করেছে এখানকার কৃষকরা। তবে তাদের ধান এখনও কাঁচা রয়েছে। আরও প্রায় এক মাসের মতো সময় লাগবে এসব ধান কাটার উপযোগী হতে।’

এই ধান চাষে খরচ কেমন লেগেছে জানতে চাইলে ইব্রাহিম বলেন, ‘সেচ, সার, ওষুধ ও পানির খরচ অনেকটাই কম। অন্য জাতের ধানে বিঘাপ্রতি সব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মতো, কিন্তু বিনা-১৭ জাতের ধানে বিঘাপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা কম খরচ হচ্ছে।’

ইব্রাহিম জানান, এরই মধ্যে এক বিঘা জমির ধান কাটা হয়েছে। সেখান থেকে ২৭ মণ ধান পাওয়া গেছে। ঝড়-বৃষ্টিতে এই ধানের শিষ তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

রাণীনগর উপজেলার জলকৈ গ্রামের কৃষক রবিউল হোসেন বলেন, ‘হামার সাত বিঘা জমিত এবার বিনা-১৭ জাতের ধানের আবাদ করিছি। পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যেই হামি জমির ধানগুলা কাটমু। ১১০ থ্যাকা ১১৫ দিনের মধ্যেই ধান পাকা গেছে। ফলনও ভাল হচে। তাই সব মিলা এই জাতের ধান আবাদ লাভজনক।’

বিনা-১৭ ধানে কৃষকের হাসি

নওগাঁ জেলা কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কে এম মঞ্জুরে মওলা নিউজবাংলাকে জানান, বিনা-১৭ চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় বীজ ও সার সহায়তা দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলায় কৃষকদের নিয়ে মাঠ দিবসও পালন করা হচ্ছে।

নিয়ামতপুরে কৃষক ইব্রাহিমের জমির ধান পরিদর্শনে গিয়েছেন বিনা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. হাসানুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘বিনা-১৭ একটি স্বল্পমেয়াদি জাতের ধান। এটি খরাসহিষ্ণু, ৩০ শতাংশ পানি কম প্রয়োজন হয় এর চাষে। যে জমিতে দুটি ফসল হতো, সেখানে এ জাতের ধান চাষে এখন তিনটি ফসল করা সম্ভব। বিনা ধান-১৭ স্বল্প জীবনকালীন হওয়ায় ধান কাটার পর ওই একই জমিতে কৃষক সরিষা, মসুর বা আলু চাষ করতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরে জমি তৈরি করে বোরো ধান লাগানো যাবে। আমরা নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার কৃষকদের এই ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল
আমেরিকার ফল অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ছে
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া
বিদ্যালয়ের মাঠে চাষাবাদ, জমির দলিল তলব

শেয়ার করুন

বিজ্ঞানীদের গবেষণা: পাতে ফিরছে দেশীয় মাছ

বিজ্ঞানীদের গবেষণা: পাতে ফিরছে দেশীয় মাছ

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেশি মাছের পোনা উৎপাদন করা হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

দেশে স্বাদু পানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ১৪৩ প্রজাতির ছোট মাছ রয়েছে। এর মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় মাছের সংখ্যা ৬৪টি। ইতোমধ্যে ৩১টি দেশীয় মাছের পোনা কৃত্রিম প্রজননে উৎপাদন করেছেন বিজ্ঞানীরা। বাকিগুলোও উৎপাদন করতে গবেষণা চলছে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) বিজ্ঞানীরা বিলুপ্তপ্রায় সকল দেশীয় মাছ খাবার টেবিলে আনতে ক্লান্তিহীন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা উৎপাদনে সফল হয়েছেন তারা। এর মধ্যে ১৯ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছ সারা দেশে চাষ হচ্ছে।

এসব দেশীয় মাছ উৎপাদনে বিপ্লব ঘটাচ্ছেন চাষিরা।

মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, দেশে স্বাদু পানির ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ১৪৩ প্রজাতির ছোট মাছ রয়েছে। এর মধ্যে বিলুপ্তপ্রায় মাছের সংখ্যা ৬৪টি। ইতোমধ্যে ৩১টি দেশীয় মাছের পোনা কৃত্রিম প্রজননে উৎপাদন করেছেন বিজ্ঞানীরা। বাকিগুলোও উৎপাদন করতে গবেষণা চলছে। উৎপাদিত দেশীয় মাছের পোনা চাষিদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

২০০৮-২০০৯ সালে চাষের মাধ্যমে দেশি মাছের উৎপাদন ছিল ৬৭ হাজার টন। ২০১৯-২০২০ সাল নাগাদ তা প্রায় চার গুণ বেড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টন হয়েছে। ফলে বাজারে এখন দেশি মাছের ছড়াছড়ি।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা: পাতে ফিরছে দেশীয় মাছ

গবেষণায় উৎপাদিত মাছগুলোর মধ্যে রয়েছে পাবদা, গুলশা, ট্যাংরা, শিং, মাগুর, গুজি আইড়, চিতল, ফলি, মহাশোল, বৈরালী, রাজপুঁটি, মেনি, বালাচাটা, গুতুম, কুঁচিয়া, ভাগনা, খলিশা, বাটা, দেশি সরপুঁটি, কালবাউশ, কই, গজার, গনিয়া, পিয়ালি, ঢেলা, রানি, বাতাসি ও কাকিলা। এ ছাড়া বিলুপ্তির আশঙ্কায় থাকা বাকি মাছগুলো নিয়েও গবেষণা চলছে।

বিজ্ঞানীরা জানান, বাংলাদেশে মিঠাপানির হ্যাচারি রয়েছে ৯৩০টি। বিলুপ্তপ্রায় মাছের পোনা সারা দেশে ব্যাপক হারে উৎপাদনের জন্য ইনস্টিটিউটে হ্যাচারি মালিক ও চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। উৎপাদিত পোনাগুলোও স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে।

ইনস্টিটিউটের প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদন করছে হ্যাচারিমালিকরা। পরে ব্যবহার করা হচ্ছে চাষাবাদে। কর্মসংস্থান হয়েছে লক্ষাধিক লোকের। দেশীয় মাছের জিন সংরক্ষণ, প্রজননের কৌশল উদ্ভাবন এবং চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে সফলতা এসেছে।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা: পাতে ফিরছে দেশীয় মাছ

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. জুলফিকার আলী বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ও আয়োডিনের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ রয়েছে। এগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং রক্তশূন্যতা, গলগণ্ড, অন্ধত্ব প্রভৃতি রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

গবেষণায় উৎপাদিত মাছের পোনা মাঠপর্যায়ে সম্প্রসারিত হওয়ায় বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির মাছের প্রাপ্যতা সাম্প্রতিককালে বেড়েছে এবং মাছের দাম সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে এসেছে।

ময়মনসিংহে ইনস্টিটিউটের স্বাদুপানি কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শাহা আলী বলেন, ‘পাবদা মাছ দুই বছর আগেও ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এখন ৫০০ টাকার কমেই পাওয়া যায়। বাজারে এখন শিং মাছের দাম ৪০০ টাকা, ট্যাংরা মাছের দামও ৪০০ টাকা।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা: পাতে ফিরছে দেশীয় মাছ

‘এসব মাছ ছাড়াও সাম্প্রতিককালে বাজারে বিপন্ন প্রজাতির মেনি, চিতল, ফলি, কই ইত্যাদি মাছের প্রাপ্যতা যেমন বেড়েছে, দামও নেমে এসেছে সহনশীল পর্যায়ে। এ ছাড়া গবেষণায় উৎপাদিত মাছের পোনা চাষে হ্যাচারিমালিকসহ চাষিরাও লাভবান হচ্ছেন।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয় সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র ইতোমধ্যে অনেক বিনষ্ট হয়েছে। প্রাকৃতিক জলাধার যেমন হাওড়, খাল-বিল ও নদনদীতে এসব মাছের প্রাপ্যতা হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশীয় মাছ সংরক্ষণের জন্য ময়মনসিংহে ইনস্টিটিউটের সদরদপ্তরে লাইভ জিন ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সারা দেশে যত ছোট মাছ আছে, সেগুলো সংগ্রহ করে এই লাইভ জিন ব্যাংকে রাখা হচ্ছে। যদি প্রকৃতি থেকে কোনো মাছ হারিয়ে যায়, তাহলে সংরক্ষণে থাকা মাছটিকে গবেষণা করে আবারও ওই মাছের পোনা উৎপাদন করা হবে। ফলে বিলুপ্ত হওয়া মাছ সারা দেশে চাষের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাবে।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা: পাতে ফিরছে দেশীয় মাছ

তিনি আরও বলেন, চাষের আওতায় আসা বিলুপ্তপ্রায় ১৯ প্রজাতির দেশীয় মাছ ছাড়া উৎপাদিত আরও ১২টি মাছের পোনা নিয়ে গবেষণা চলছে। দ্রুত সেই মাছগুলোকেও চাষের আওতায় আনা হবে।

মহাপরিচালক বলেন, একটি মাছ নিয়ে ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সময় ধরে গবেষণা করতে হয়। মোটা বাইন নামে একটি পিচ্ছিল দেশীয় মাছ নিয়ে প্রায় তিন বছর যাবৎ গবেষণা চলছে। হরমোন প্রয়োগ করে পোনা উৎপাদনে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে গবেষণা চলছে। আগামী বছরের জুন-জুলাইয়ের মধ্যে বিলুপ্তির আশঙ্কায় থাকা দেশীয় আট থেকে ১০ প্রজাতির মাছের পোনা উৎপাদনে সফলতার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞানীদের গবেষণা: পাতে ফিরছে দেশীয় মাছ

বর্তমানে ময়মনসিংহ স্বাদুপানি কেন্দ্র ছাড়াও বগুড়ার সান্তাহার, নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর ও যশোর উপকেন্দ্রে বিলুপ্তপ্রায় মাছ সংরক্ষণে গবেষণা চলছে। দেশীয় মাছ সংরক্ষণ গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্যে ২০২০ সালে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট একুশে পদক অর্জন করে।

আরও পড়ুন:
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল
আমেরিকার ফল অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ছে
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া
বিদ্যালয়ের মাঠে চাষাবাদ, জমির দলিল তলব

শেয়ার করুন

বেডে বেডে ভাসছে সবজি

বেডে বেডে ভাসছে সবজি

ঝালকাঠিতে ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

উপকূলীয় হওয়ায় ঝালকাঠিতে কৃষকদের চাষাবাদ নিয়ে সমস্যা লেগেই থাকত। সেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ভাসমান বেডে নানান সবজি, মসলা রোপণ করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

ঝালকাঠিতে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলার চাষ। এতে ঘুচছে বেকারত্ব; কৃষকদের সংসারে ফিরছে সচ্ছলতা।

উপকূলীয় হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের চাষাবাদ নিয়ে সমস্যা লেগেই থাকত। সেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ভাসমান বেডে নানান সবজি, মসলা রোপণ করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

বেড পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা কৃষকরা বলছেন, এক-একটি বেডে বছরে ৭ থেকে ৮ বার সবজি চাষ করা যায়। সেই সঙ্গে বেডের জলে মাছ চাষও করা যায়।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি নিম্নাঞ্চল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যেত কৃষকের তৈরি বীজতলা। কৃষি বিভাগ নিজেদের উদ্যোগে কৃষকদের কলাগাছের ভেলা ও কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরি করে দিচ্ছে।

জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে ভাসমান বেড রয়েছে। ভাসমান এসব বেডে চাষ করা হচ্ছে লালশাক, মুলাশাক, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢ্যাঁড়শ, ধনিয়াসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি ও মসলা।

বেডে বেডে ভাসছে সবজি

বেড পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লাভবান কৃষক সালেহ আহম্মেদ জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় গত দুই বছর ধরে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করছেন তিনি। লালশাক, মুলাশাক, ঢ্যাঁড়শসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মসলা চাষ করেছেন।

বেড পদ্ধতির চাষে তেমন কোনো খরচ না থাকায় লাভবান হয়েছেন বলেও জানান সালেহ।

বেড তৈরির কৌশল কী তা জানতে চাইলে কৃষক মোকসেদ আলী জানান, প্রথমে পানির ওপরে কলাগাছ অথবা বাঁশ বিছিয়ে বেড বা মাচা তৈরি করতে হয়। তার ওপর কচুরিপানা তুলে বেড প্রস্তুত করা হয়। আর কচুরিপানা পচিয়ে তার ওপরেই বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়।

তিনি বলেন, বর্ষা বা বন্যার পানি যতই হোক বেডের ওপরে রোপণ করা চারার কোনো ক্ষতি হয় না। বেড পদ্ধতির আরেকটি গুণ হচ্ছে এতে কোনো ধরনের সার-কীটনাশকও দিতে হয় না।

বেডে বেডে ভাসছে সবজি

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফজলুল হক নিউজবাংলাকে জানান, ঝালকাঠি জেলায় চাষাবাদের জমি অন্য জমির তুলনায় বেশ নিচু হওয়ায় বর্ষার পানিতে ডুবে যায়। তাই বেড পদ্ধতির চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

তিনি বলেন, ‘এতে কৃষিকাজে লাভের মুখ দেখবেন চাষিরা। জলাবদ্ধ ও বন্যাদুর্গত এলাকার কৃষকরা এ ধরনের ভাসমান বেডে সারা বছরই সবজি চাষ করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে অনেকেই বেড পদ্ধতিতে চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।’

আরও পড়ুন:
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল
আমেরিকার ফল অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ছে
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া
বিদ্যালয়ের মাঠে চাষাবাদ, জমির দলিল তলব

শেয়ার করুন

খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফাইল ছবি/এএফপি

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয় এদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। আমরা যেন আর কখনও খাদ্যের অভাবে না ভুগি। বাংলাদেশে আর যেন কখনও দুর্ভিক্ষ না হতে পারে। কেউ যেন চক্রান্ত করেও দুর্ভিক্ষ না করতে পারে সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

বাংলাদেশে আর কখনই খাবারের অভাব হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে কৃষি গবেষণা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শনিবার সকালে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাবারে বাংলাদেশে আর কোনোদিন অভাব থাকবে না। তবে গবেষণাটা অব্যাহত রাখতে হবে। এ বিষয়ে সকলেকে নজর দিতে হবে।

‘জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয় এদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। আমরা যেন আর কখনও খাদ্যের অভাবে না ভুগি। বাংলাদেশে আর যেন কখনও দুর্ভিক্ষ না হতে পারে। কেউ যেন চক্রান্ত করেও দুর্ভিক্ষ না করতে পারে সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

খাদ্য অপচয় যাতে না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদও দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে, খাদ্যের অপচয় কমাতে হবে। সারা বিশ্বেই কিন্তু একদিকে খাদ্যের অভাব অন্যদিকে প্রচুর খাদ্য অপচয় হয়। এই অপচয় যেন না হয়।

‘যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে সেটিকে পুনর্ব্যবহার করা যায় কীভাবে সে বিষয়টি আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের দিতে হবে। খেতে বসেও যে খাদ্যটা উদ্বৃত্ত থাকবে সেটা দিয়ে অন্যকোনো চাহিদা পূরণ করা যায় কি না সেটিও গবেষণায় রাখা দরকার।’

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জোর

খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর এবার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জোর দেয়া কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ও কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য পূর্বাচলে ৫ একর জমি দেয়া হয়েছে। দুই একর, তিন একর না পাঁচ একর বরাদ্দ দেয়া আছে। এছাড়া আটটি বিভাগে আটটি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘খাবারের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিও দরকার। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমিষজাতীয় খাবার যাতে উৎপাদন হয় অর্থাৎ গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি এমনকি কোয়েল থেকে শুরু করে সব কিছুই, এমনকি টার্কিও এখন বাংলাদেশে হচ্ছে।

‘আমরা এই আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের যা চাহিদা সেগুলো পূরণ করে উদ্বৃত্ত যাতে প্রক্রিয়াজাত করা যায়। আমরা সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি সেখানে যাতে এই প্রক্রিয়াজাত করা যায় সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিতে গবেষণার ফলে দেশি-বিদেশি অনেক ফল, তরি-তরকারি সবকিছু এখন উৎপাদন হচ্ছে। ফুলকপি-পাতাকপি বা গাজরজাতীয় সবজি ১২ মাস পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অনেক বিদেশি ফল আমাদের দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। এটা তো আমাদের কৃষিবিদদেরই অবদান। এ ক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব সহযোগিতা দেয়ার আমরা দিচ্ছি।’

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার ও বিদ্যুতে ভর্তুকির বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সারের দাম কমিয়ে একেবারে নূন্যতম পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। কোথায় ৮০-৯০ টাকা দাম ছিল, সেটা ১৬-২২ টাকা এ হারে আমরা কমিয়েছি।

‘তারপর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তাদের ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছি, তারপর রিবেট দিচ্ছি। পাশাপাশি সোলার সিস্টেমে যাতে সেচ চালাতে পারে সে ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি।’

খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে সোনারগাঁও হোটেলে আলোচনা অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘আগে চাহিদা পূরণ, পরে রপ্তানি’

দেশের আভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের অর্থনৈতিক যে কার্যক্রম আমরা সেটা সেভাবেই পরিচালনা করব। প্রথমে আমাদের দেশ, আগে নিজের খাদ্য চাহিদা পূরণ করব, সেই সঙ্গে যেটা অতিরিক্ত হবে সেটা প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

‘আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এরই মধ্যে আমরা ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করেছি। খাদ্য শুধু উৎপাদন নয় এর মানও যেন ঠিক থাকে। এটা দেশে যারা ব্যবহার করবে তাদের জন্য যেমন প্রযোজ্য। আমরা যখন রপ্তানি করব প্রক্রিয়াজাত করে তার জন্যও প্রযোজ্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয়বার যখন সরকারে আসি, আমাদের গবেষণা যেগুলো আমরা শুরু করেছিলাম সেগুলো চলতে থাকে। আমি গবেষকদের ধন্যবাদ জানাই, তাদের গবেষণার ফলেই আমরা আজকে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছি। দ্বিতীয় দফায় সরকারে এসেও আমরা কৃষিখাতে আবার নানা পদক্ষেপ নিই, যেন খাদ্য চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারি।

‘আমরা বিনা পয়সায় খাদ্য বিতরণ করি, যারা একেবারে দুস্থ-দরিদ্র সেসব মানুষগুলোকে, বিশেষ করে বয়স্ক-বিধবা নারীদের। তাদের জন্য আমরা ভাতার ব্যবস্থা করে দেই। পরবর্তীতে ১০ টাকায় যেন চাল কিনতে পারে সে ব্যবস্থা করে দেই। আবার ওএমএস চালু রাখি। মানে খাদ্যটা যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়। খাদ্যের অভাব যেন মানুষের না হয়।’

কৃষিখাতে সরকারের দেয়া ভর্তুকির নানা দিক তুলে ধরেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষিতে যে ভর্তুকি দেই এটা দেয়ার বিষয়েও কিন্তু অনেক বাঁধা ছিল। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বাধা দিত ভর্তুকি দেয়া যাবে না। আমরা তাদের কথা শুনিনি।

‘৯৬ সালে সরকারে আসার আগে থেকেই অনেকের সঙ্গেই কথা হতো। যেমন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকই বলেছিল যে এখানে ভর্তুকি দেয়া যাবে না। আমি বললাম পৃথিবীর সব দেশ দেয় তো আমরা দেব না কেন। আমার দেশের মানুষের খাদ্যটা আগে। প্রথম চাহিদাটা হচ্ছে খাদ্য, আগে তো আমাকে খাদ্য দিতে হবে। তার জন্য আমার উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঠিক আছে আমাকে যদি এ ব্যাপারে কেউ ঋণ না দেয় তো আমরা নিজের পয়সায় দেব। তখনও কিন্তু সরকারে আমরা আসি নাই। তার আগে থেকেই এসব আলোচনা আমার সঙ্গে করত। আমার যেটা নীতি ছিল, আমি তাদের স্পষ্ট জানিয়েছে এবং আমরা সেটাই করেছি।

‘আমরা কৃষি উপকরণ কার্ড করে দিয়েছি এবং সরাসরি কৃষকদের হাতে যেন ভর্তুকি পোঁছায় সে ব্যবস্থা করেছি। প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে আমরা এ কার্ড দিয়েছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বেসরকারি খাতে ব্যাপকভাবে আমরা ব্যাংক করতে দিয়েছি। সেখানে একটা নির্দেশনা আছে যে, এর শাখা সারা দেশে হতে হবে। কৃষকেরা যেন মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে সে ব্যবস্থা করে দিই।

‘কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বর্গা চাষিদের বিনা জামানতে ঋণ দেয়া শুরু করি। কারণ বর্গা চাষিদের জমি নাই, তারা জামানত রাখতে পারত না। এ কারণে তারা ঋণ পেত না। আমার কথাই ছিল, ব্যাংক কৃষকের কাছে পৌঁছে যাবে। নগদ টাকা না থাকলে তারা উৎপাদন বাড়াবে কীভাবে? আমরা সেটা ৯৬ থেকে শুরু করি।’

প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার ১৪৩ জন কৃষক ১০ টাকার অ্যাকাউন্ট খুলে সুবিধা পাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভ্যালু চেইন ব্যবস্থাপনায় গুরত্বারোপ করছি।

‘২০০৯ সাল থেকে ৬৫৫টি উন্নত ফলনশীল ফসলের জাত এবং ৫৯১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে। জলবায়ু ও মৃত্তিকা অনুযায়ী শস্য বিন্যাস করেছি। কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছি।’

আরও পড়ুন:
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল
আমেরিকার ফল অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ছে
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া
বিদ্যালয়ের মাঠে চাষাবাদ, জমির দলিল তলব

শেয়ার করুন

‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

পাহাড়ে চলছে পাকা ধান কাটার ধুম। ছবি: নিউজবাংলা

পৌষ ও মাঘ মাস এলেই পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল সাফ করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন জুম চাষিরা। শুরু হয় জুম চাষের প্রস্তুতি। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের তীব্র রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করা হয় জুমক্ষেত।

পাহাড়ে এখন ধান তোলার সময়। পাকা ধান কাটার ধুম পড়েছে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি জনপদে। জুমঘরের চারদিকে যেন ধান নয়, সোনা ছড়িয়ে আছে।

রাঙ্গামাটির মগবান ইউনিয়নের বড়াদাম, মগবান, বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়ন ও কুতুকছড়ির কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘ নয় মাসের পরিশ্রমের ফসল কেটে ঘরে তুলছেন চাষিরা। কর্মব্যস্ততায় মুখর পাহাড়। দেখে মনে হয় যেন পাহাড় খুঁড়ে ঘরে তোলা হচ্ছে মূল্যবান সোনা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে জুম চাষ করা হয়।

পৌষ ও মাঘ মাস এলেই পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল সাফ করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন জুম চাষিরা। শুরু হয় জুম চাষের প্রস্তুতি। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের তীব্র রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করা হয় জুমক্ষেত।

‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠে জুম চাষিদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। হিড়িক পড়ে আগুনে পোড়ানো জুমের মাটিতে বিভিন্ন বীজ বপনের। দা ও কোদাল দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে বপন করা হয় ধান, হলুদ, তুলা, শিম, মারফা, আঁখ, তিল, ভুট্টা ইত্যাদি।

জুমচাষ পাহাড়িদের আদি পেশা। পাহাড়ের অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস জুমচাষ।

প্রতি বছরের তুলনায় করোনার কারণে এ বছর চাষ হয়েছে কম। তবে ফলন হয়েছে অনেক বেশি।

রাঙ্গামাটি সদরের বন্দুকভাঙ্গার জুম চাষি ত্রিদেবী চাকমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোটামুটি এ বছর জুম থেকে অনেকগুলো ধান তুলতে পেরেছি। যদি সঠিক সময়ে বৃষ্টি হতো তাহলে আরও বেশি ধান পাওয়া যেত।’

‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

কুতুকছড়ি এলাকার জুম চাষি সুখময় চাকমা বলেন, ‘ফলন আরও বেশি পেতাম যদি কৃষি বিভাগ থেকে সাহায্য করা হতো। তবে এ বছরে ছোট জুমে অনেক ফলন পেয়েছি। বিশেষ করে মারফা ও ভুট্টা ভালো হয়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছর ধানের পাশাপাশি সবজির ভালো ফলন হয়েছে। ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলার ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ১ দশমিক ৩০ টন।’

আরও পড়ুন:
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল
আমেরিকার ফল অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ছে
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া
বিদ্যালয়ের মাঠে চাষাবাদ, জমির দলিল তলব

শেয়ার করুন

বন্যার পর ছত্রাকে দিশেহারা চিলমারীর কৃষক

বন্যার পর ছত্রাকে দিশেহারা চিলমারীর কৃষক

ছত্রাকের আক্রমণের ক্ষেতের ফসল লালচে হয়ে যাচ্ছে। ছবি: নাজমুল হোসেন/কুড়িগ্রাম

কৃষক জয়দুল মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ এমন পোকার আক্রমণে আমনের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেনা করে আবাদ করছি। ফলন আসার আগেই ক্ষেত মরি গেলে দেনা শোধ করমো নাকি সংসার চালাব, জানি না।’

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আমন ক্ষেতে ছত্রাকের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।

তাদের ভাষ্য, ছত্রাকের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। ওষুধ দিয়েও কাজ হচ্ছে না।

কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছে সংক্রমিত চারা তুলে ফেলার।

কৃষকরা বলছেন, চলতি বছরের বন্যায় উপজেলায় আমন ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর বন্যা কেটে গেলে তারা ধার-দেনা করে আমন চারা সংগ্রহ করে আবারও রোপণ করেন।

তারা আরও জানান, ছত্রাকের আক্রমণে ক্ষেতের ধানগাছ লালচে বর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে।

উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকার কৃষক গোলজার হোসেনের জমির আমন ক্ষেত ছত্রাকের আক্রমণে পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে আনছার আলী, মমিন মিয়া, জয়দুল হক, বেলাল হক, আশরাফুল হক, ধলা মিয়া ও আমিন উদ্দিনের ক্ষেতে।

বন্যার পর ছত্রাকে দিশেহারা চিলমারীর কৃষক

গোলজার হোসেন জানান, প্রথম দফা বন্যার পরে আমন ক্ষেত রোপণ করেন তিনি। দ্বিতীয় দফার বন্যায় আমনের সেই ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। পরে সুদের ওপর টাকা নিয়ে আমন চারা কিনে আবার রোপণ করেন তিনি।

পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি অফিসের পরামর্শে ওষুধ দিয়েও লাভ হয়নি।পরে অন্য ওষুধ দিয়েও সুফল মেলেনি।

পুরো জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান এ কৃষক।

একই এলাকার কৃষক জয়দুল মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ এমন পোকার আক্রমণে আমনের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেনা করে আবাদ করছি। ফলন আসার আগেই ক্ষেত মরি গেলে দেনা শোধ করমো নাকি সংসার চালাব, জানি না।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কুমার প্রণয় বিষাণ দাস বলেন, ‘আক্রান্ত জমিতে কৃষকদের সপসিন, মিপসিন, ইমিটাফ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। তা না করে অন্য ওষুধ দেয়ায় ফল পাওয়া যায়নি। কৃষকদের সংক্রমিত চারা তুলে ফেলার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।’

কৃষকদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আমরা এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা করব।’

আরও পড়ুন:
কম খরচে বেশি ফলনের ধান বিনা-২১
কম কষ্টে বেশি লাভের তিল
আমেরিকার ফল অ্যাভোকাডো চাষে আগ্রহ বাড়ছে
বাক্সে বাক্সে ঝিঙে-কুমড়া
বিদ্যালয়ের মাঠে চাষাবাদ, জমির দলিল তলব

শেয়ার করুন