জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

player
জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

করোনা মহামারির মধ্যেও রপ্তানি খাতের ইতিবাচক ধারা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ক্রমাগত পুনরুদ্ধার ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বৈশ্বিক আর্থিক খাতের মোড়ল সংস্থাটি সোমবার এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রশংসা করে করোনাভাইরাস মহামারির এই সংকটের সময়েও উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের আশার কথা শুনিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনের ধারাবাহিক ইতিবাচক ধারার রেকর্ড রয়েছে। দেশটি গত এক দশকে বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে।

আর এটা সম্ভব হয়েছে, দেশটির বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী (জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ), রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শক্তিশালী অবস্থান এবং স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে।

করোনা মহামারির মধ্যেও রপ্তানি খাতের ইতিবাচক ধারা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ক্রমাগত পুনরুদ্ধার ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

‘বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংক’ শিরোনামে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৫০তম জন্মদিনে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের একটি সফল পথচলার রেকর্ড রয়েছে। বিশ্বব্যাংক ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশকে ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সহায়তা দিয়েছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ বিশ্বকে দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নের একটি অসাধারণ গল্প বলে। ১৯৭১ সালে যখন স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়, তখন এই দেশটির মাথাপিছু আয় ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে কম। ৫০ বছরে উন্নয়নের অনেক গল্প যুক্ত হয়েছে দেশটির ইতিহাসে।

‘বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ ঘটেছে দেশটির; ২০২৬ সাল থেকে সেই পথচলা শুরু করবে বাংলাদেশ। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৬ সালের হিসাবে তা ১৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসে। এ ছাড়া মানব উন্নয়ন সূচকেও অনেক উন্নতি করেছে দেশটি।’

২০১৬ সালের পর দারিদ্র্যের হার নিয়ে নতুন কোনো তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি বাংলাদেশের সরকারি সংস্থা পরিসংখ্যান ব্যুরো।

এর আগে গত জুন মাসে প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক প্রসপেক্ট’ রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক বলেছিল চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ১ শতাংশ।

ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

বাংলাদেশ সরকার এই অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যা ব্যুরো (বিবিএস) ২০২০-২১ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে সাময়িক হিসাব প্রকাশ করেছে, তাতে প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরলেও মহামারি পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় তা সংশোধন করে ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হয়েছিল।

মহামারির শুরুর ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নেমে গিয়েছিল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে, যা তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ২০১৮-১৯ অর্থবছরে; ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।

চ্যালেঞ্জ

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুরোপুরি পুনরুদ্ধারের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে এবং গত এক দশকে অর্জিত কিছু অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

করোনা মহামারি গত ২০২০ সালে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমিয়েছে। দারিদ্র্য হ্রাসের গতি মন্থর করেছে। রপ্তানি হোঁচট খেয়েছে। বৈষম্য বেড়েছে। ২০২০ সালে দারিদ্র্যের হার ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।

এরপরও প্রবাসীদের পাঠানো রেকর্ড রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেছে।

জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৪ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক

সত্যিকার অর্থে উচ্চ-মধ্যম আয়ের মর্যাদা অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা সফল করার জন্য বাংলাদেশকে করোনা মহামারির চ্যালেঞ্জ দ্রুত মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব দেশের সব মানুষকে টিকা দিতে হবে। তাহলেই কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ও মৃত্যু কমবে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করতে সক্ষম হবে দেশটি।

এ ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ, দক্ষ শ্রমশক্তি, বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করে-এমন নীতি নিয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

আরও পড়ুন:
তিন মাস পর পর জিডিপির তথ্য
৩০ লাখ কোটির জিডিপিতে রাজস্ব কেন ৩ লাখ কোটি
করোনার ধাক্কা সামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গতি ফেরার পূর্বাভাস
করোনার মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.৫১% বড় অর্জন: অর্থমন্ত্রী
অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বড় ঋণে লাগাম, এক গ্রুপকে ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ নয়

বড় ঋণে লাগাম, এক গ্রুপকে ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ নয়

আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ কোনো গ্রুপকে দিতে পারবে না। বর্তমানে যা ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। ৩৫ শতাংশের হিসাব হয় সুদসহ, আর এখন কোনো গ্রুপের শুধু ঋণকে গণনায় ধরা হবে।

ব্যাংকের ঝুঁকি কমাতে বড় ঋণ বিতরণে লাগাম টেনে ধরল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে কোনো ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ কোনো একক গ্রাহক বা গ্রুপকে দিতে পারবে না। ফান্ডেড ও নন ফান্ডেড ঋণ মিলিয়েই এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতদিন একটি গ্রুপ ফান্ডেড ও নন ফান্ডেড মিলে একটি ব্যাংকের মূলধনের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পেত।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক একক গ্রাহক ও বড় ঋণের সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত সংশোধিত নীতিমালা জারি করেছে। যা আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এর আগেই ব্যাংকগুলোকে ঋণ ও ঋণ সুবিধা সীমার মধ্যে আনতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন করে এই নীতিমালা প্রণয়ন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, এখন থেকে কোনো ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ কোনো গ্রুপকে দিতে পারবে না। বর্তমানে যা ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। ৩৫ শতাংশের হিসাব হয় সুদসহ, আর এখন কোনো গ্রুপের শুধু ঋণকে গণনায় ধরা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, আইনের সঙ্গে ঋণ সীমার সামঞ্জস্য নেই- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে আপত্তি আসার পর বাংলাদেশ ব্যাংক এই পরিবর্তন এনেছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাংক তার মূলধনের ১৫ শতাংশের বেশি ঋণ কোন গ্রুপকে দিতে পারবে না, যা বড় ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হবে। আগে সুদসহ ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ শতাংশ। ফলে একটি গ্রুপকে আগের চেয়ে আরও বেশি ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক।

আর কোন ধরনের ব্যাংক কি পরিমাণ বড় ঋণ দিতে পারবে, তাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ৩ শতাংশের কম খেলাপি রয়েছে এমন ব্যাংকগুলো তার মোট ঋণের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বড় ঋণ দিতে পারবে।

তবে যাদের খেলাপি ২০ শতাংশের বেশি, তাদের ঋণের ৩০ শতাংশ হবে বড় ঋণ।

আর খেলাপি ঋণ ৩ থেকে ৫ শতাংশ হলে বড় ঋণ হবে ৪৬ শতাংশ, খেলাপি ঋণ ৫ থেকে ১০ শতাংশ হলে বড় ঋণ হবে ৪২ শতাংশ, খেলাপি ঋণ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হলে বড় ঋণ হবে ৩৮ শতাংশ এবং খেলাপি ঋণ ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হলে বড় ঋণ হবে ৩৪ শতাংশ।

প্রজ্ঞাপনে, গ্রুপের সংজ্ঞাও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

কোনো ব্যক্তির কোনো গ্রুপে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ মালিকানা বা ভোটাধিকার থাকলে তা ওই ব্যক্তির গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

কোনে ব্যক্তি কোনো গ্রুপের পর্ষদে থাকলে বা কোম্পানির সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকলে তা ওই ব্যক্তির গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত হবে।

এছাড়া দুই বা ততোধিক গ্রুপকে এক গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত করার কিছু শর্তও দিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, অন্য গ্রুপের ঋণে গ্যারান্টি দিলে বা খরচের ৫০ শতাংশ বহন করলে বা অন্য গ্রুপের ঋণ ব্যবহার করলে বা শোধ করলে তা এক গ্রুপ বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত হবে।

বড় গ্রুপগুলো ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেয়ার জন্য পরিবারের বাইরে আলাদা কোম্পানি ও গ্রুপ গড়ে তুলছে বলে অভিযোগ আছে।

যদিও এসব গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ থাকে বড় গ্রুপের হাতেই। ফলে নামে-বেনামে সীমার অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে যাচ্ছে একই গ্রুপ বা প্রতিষ্ঠান। সেজন্য মালিকানার পাশাপাশি ব্যবসায়িক নির্ভরতার বিষয়টিকে ধরে গ্রুপের মালিকানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
তিন মাস পর পর জিডিপির তথ্য
৩০ লাখ কোটির জিডিপিতে রাজস্ব কেন ৩ লাখ কোটি
করোনার ধাক্কা সামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গতি ফেরার পূর্বাভাস
করোনার মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.৫১% বড় অর্জন: অর্থমন্ত্রী
অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি

শেয়ার করুন

প্রণোদনা বাড়ায় বাড়ছে রেমিট্যান্স

প্রণোদনা বাড়ায় বাড়ছে রেমিট্যান্স

অর্থনীতির গবেষক ও ব্যাংকাররা বলছেন, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে সরকার রেমিট্যান্সপ্রবাহে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। তারই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই সূচকে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হওয়ায় ওই সব দেশ থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসছে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সপ্রবাহে ফের গতি ফিরছে। টানা পাঁচ মাস কমার পর ডিসেম্বরে কিছুটা বেড়েছিল অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। নতুন বছরেও সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে।

চলতি জানুয়ারি মাসের ১৩ দিনে ৮৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। বর্তমান বিনিময়হার (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৭ হাজার ১৮৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা।

অর্থনীতির গবেষক ও ব্যাংকাররা বলছেন, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে সরকার রেমিট্যান্সপ্রবাহে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। তারই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এই সূচকে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হওয়ায় ওই সব দেশ থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসছে বলে জানিয়েছেন তারা।

রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়াতে ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দিয়ে আসছিল সরকার। ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তা বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো প্রবাসী এতদিন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে যার নামে পাঠাতেন তিনি ১০২ টাকা পেতেন। এখন পাচ্ছেন ১০২ টাকা ৫০ পয়সা।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্সের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি জানুয়ারি মাসের ১৩ দিনে (১ থেকে ১৩ জানুয়ারি) প্রবাসীরা বিভিন্ন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ৮৩ কোটি ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার দেশে পাঠিয়েছেন।

এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১ কোটি ৭১ লাখ ডলার। ৪২টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৬৪ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। আর পাঁচটি বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩০ লাখ ডলার।

টানা পাঁচ মাস কমার পর ডিসেম্বরে কিছুটা বেড়েছিল রেমিট্যান্স। ২০২১ সালের শেষ মাসে ১৬৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন তারা, যা ছিল আগের মাস নভেম্বরের চেয়ে সাড়ে ৭ কোটি ডলার বা ৫ শতাংশ বেশি।

সব মিলিয়ে ২০২১ সালে ২ হাজার ২০৭ কোটি (২২.০৭ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছিল বাংলাদেশ, যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি। এর আগে এক বছরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালে, ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালে এসেছিল ১৮ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ১ হাজার ২৩ কোটি (১০.২৩ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত অর্থবছরের একই সময় ছিল ১ হাজার ২৯৪ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২৭০ কোটি ডলার বা ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।

তবে নতুন বছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সপ্রবাহ ফের বাড়বে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশার।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘মহামারির মধ্যে একটা ভিন্ন পেক্ষাপটে রেমিট্যান্সে উল্লম্ফন হয়েছিল। যার কাছে যা জমানো টাকা ছিল পরিবার-পরিজনের প্রয়োজনে সব দেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল। করোনায় সবকিছু বন্ধ থাকায় অবৈধ পথে (হুন্ডি) কোনো রেমিট্যান্স আসেনি; সব এসেছিল ব্যাংকিং চ্যানেলে। সে কারণেই গত অর্থবছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।

‘এরই মধ্যে দুটি সুসংবাদ এসেছে। তিন বছর পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে; ফের শ্রমিক যাবে সেখানে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি চাঙা হয়েছে। সেখান থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসবে। আরেকটি সুখবর হচ্ছে, সরকার ১ জানুয়ারি থেকে রেমিট্যান্সের প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করেছে। সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যে আমরা সেই প্রভাব দেখতে পাচ্ছি।’

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ কথা ঠিক যে, চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সপ্রবাহে ধীরগতি লক্ষ করা যাচ্ছে। কিন্তু সেটা কিন্তু গত অর্থবছরের চেয়ে কম। আগের যেকোনো অর্থবছরের সঙ্গে তুলনা করলে এই রেমিট্যান্সকে কিন্তু কম বলা যাবে না। করোনা মহামারির মধ্যে সবকিছু বন্ধ থাকায় গত অর্থবছরে কিন্তু পুরো রেমিট্যান্স এসেছিল ব্যাংকিং চ্যানেলে; হুন্ডির মাধ্যমে আসেনি। এখন সবকিছু খুলে যাওয়ায় এবং ব্যাংক রেটের চেয়ে কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বেশ বেশি হওয়ায় সম্ভবত হুন্ডির মাধ্যমেও কিছু রেমিট্যান্স আসছে। সে কারণেই ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কম দেখা যাচ্ছে।’

‘তবে আমার মনে হচ্ছে, রেমিট্যান্সপ্রবাহে ফের গতি ফিরে আসবে। সরকার প্রণোদনার পরিমাণ বাড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতেও গতি ফিরে এসেছে। এসব কিছুর প্রভাব রেমিট্যান্সে পড়বে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রণোদনা বেড়েছে। সামনে দুইটা ঈদ উৎসব আছে। সবকিছু মিলিয়ে আগামী দিনগুলোয় রেমিট্যান্স বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে।’

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর রেমিট্যান্সপ্রবাহেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ওই বছরের এপ্রিলে মাত্র ১০৯ কোটি ২৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা। মে মাসে তা বেড়ে ১৫০ কোটি ৪৬ লাখ ডলারে ওঠে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে রেমিট্যান্স বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

মহামারির মধ্যেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরোটা সময়ে (২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন) রেমিট্যান্সের উল্লম্ফন লক্ষ করা যায়। ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

গত অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে সাত মাসই ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।

কিন্তু চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্সপ্রবাহে ভাটার টান লক্ষ করা যায়। প্রথম মাস জুলাইয়ে আসে ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার। আগস্টে আসে ১৮১ কোটি ডলার। সেপ্টেম্বরে আসে ১৭২ কোটি ৬২ লাখ ডলার। অক্টোবরে আসে ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। নভেম্বর মাসে আসে আরও কম, ১৫৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার।

তবে গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে তা কিছুটা বেড়ে ১৬৩ কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বিভিন্ন দেশে থাকা সোয়া কোটি বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ। দেশের জিডিপিতে সব মিলিয়ে রেমিট্যান্সের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

রিজার্ভ ৪৫ বিলিয়ন ডলার

গত ৫ জানুয়ারি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। গত কয়েক দিনে তা বেড়ে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ওপর অবস্থান করছে।

রোববার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৫ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন:
তিন মাস পর পর জিডিপির তথ্য
৩০ লাখ কোটির জিডিপিতে রাজস্ব কেন ৩ লাখ কোটি
করোনার ধাক্কা সামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গতি ফেরার পূর্বাভাস
করোনার মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.৫১% বড় অর্জন: অর্থমন্ত্রী
অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি

শেয়ার করুন

পরিদর্শন প্রতিবেদন চূড়ান্তের আগে বিশেষ সভার নির্দেশ

পরিদর্শন প্রতিবেদন চূড়ান্তের আগে বিশেষ সভার নির্দেশ

আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

সার্কুলারে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিশদ পরিদর্শন প্রতিবেদন পাঠানোর দুই মাসের মধ্যে বিশেষ পর্ষদ সভা আহ্বান করতে হবে। পর্ষদ সভায় আবশ্যিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বা উপমহাব্যবস্থাপক ও পরিদর্শন দল এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

এখন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশদ পরিদর্শন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার আগে পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ সভা করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে বিশদ পরিদর্শন প্রতিবেদনের গুরুতর অনিয়ম, ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো উপস্থাপন করতে হবে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে কার্যরত সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিশদ পরিদর্শন প্রতিবেদন পাঠানোর দুই মাসের মধ্যে বিশেষ পর্ষদ সভা আহ্বান করতে হবে।

পর্ষদ সভায় আবশ্যিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বা উপমহাব্যবস্থাপক ও পরিদর্শন দল এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।

সভার কার্যবিবরণী সভা-পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগে পাঠাতে হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচালনা পর্ষদের বর্ণিত বিশেষ সভা অনুষ্ঠানের কমপক্ষে ১০ কার্যদিবস আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে অবহিত করতে হবে।

এ ছাড়া পরিদর্শন প্রতিবেদনের উল্লিখিত অনিয়ম, ত্রুটি-বিচ্যুতি সমাধানের অগ্রগতি সময়ে সময়ে পর্ষদ সভায় উপস্থাপন করতে হবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩-এর ১৮ (ছ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
তিন মাস পর পর জিডিপির তথ্য
৩০ লাখ কোটির জিডিপিতে রাজস্ব কেন ৩ লাখ কোটি
করোনার ধাক্কা সামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গতি ফেরার পূর্বাভাস
করোনার মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.৫১% বড় অর্জন: অর্থমন্ত্রী
অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি

শেয়ার করুন

সিআইবির তথ্য দেয়ার সময় কমল

সিআইবির তথ্য দেয়ার সময় কমল

সার্কুলারে বলা হয়, ‘চলতি ২০২২ সালের জানুয়ারি ও পরবর্তী প্রতি মাসভিত্তিক ব্যাচ কন্ট্রিবিউশন পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সিআইবি অনলাইন সিস্টেমে আপলোড করতে হবে।’

ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য দেয়ার সময়সীমা কমিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে প্রতি মাসের ব্যাচ ডাটা পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সিস্টেমে আপলোড করতে হবে। আগে এ তথ্য পরবর্তী মাসের ২০ তারিখের মধ্যে দেয়ার নির্দেশ ছিল।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, ‘চলতি ২০২২ সালের জানুয়ারি ও পরবর্তী প্রতি মাসভিত্তিক ব্যাচ কন্ট্রিবিউশন পরের মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সিআইবি অনলাইন সিস্টেমে আপলোড করতে হবে।

‘এ ছাড়া সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এক টাকা বা তদূর্ধ্ব বকেয়া স্থিতিসম্পন্ন ঋণতথ্য (পজিটিভ বা নেগেটিভ ক্রেডিট কার্ডের ডাটাসহ) পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সিআইবি অনলাইন সিস্টেমে আপলোড করতে হবে।’

এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে বলে সার্কুলারে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
তিন মাস পর পর জিডিপির তথ্য
৩০ লাখ কোটির জিডিপিতে রাজস্ব কেন ৩ লাখ কোটি
করোনার ধাক্কা সামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গতি ফেরার পূর্বাভাস
করোনার মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.৫১% বড় অর্জন: অর্থমন্ত্রী
অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি

শেয়ার করুন

দেশে ‘সার্কুলার অর্থনীতির’ বিপুল সম্ভাবনা

দেশে ‘সার্কুলার অর্থনীতির’ বিপুল সম্ভাবনা

পুনঃপ্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে পুনরায় সম্পদে রূপান্তর করার পক্ষে ব্যবসায়ীরা। ছবি: সংগৃহীত

শিল্পমন্ত্রী জানান, সার্কুলার অর্থনীতি নিয়ে কাজ করতে মন্ত্রণালয়ে আলাদা একটি সেল গঠন করা হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৪০ শতাংশ প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হচ্ছে, বাকি ৬০ শতাংশকেও এর আওতায় আনতে হবে।

বাংলাদেশে সার্কুলার (বৃত্তাকার) অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বিকাশের জন্য অপরিহার্য হচ্ছে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প। এটি আনুষ্ঠানিক শিল্পের মর্যাদা পাওয়া উচিত বলে মনে করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

রোববার মতিঝিলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘সার্কুলার অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি: সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

সার্কুলার বা বৃত্তাকার অর্থনীতি হচ্ছে সম্পদ পুনঃব্যবহার করা। একে রি-সাইক্লিং শিল্পও বলে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী জানান, সার্কুলার অর্থনীতি নিয়ে কাজ করতে মন্ত্রণালয়ে আলাদা একটি সেল গঠন করা হবে। এই সেলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধিদের যুক্ত করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমানে ৪০ শতাংশ প্লাস্টিক পুনঃপ্রক্রিয়াজাত হচ্ছে। বাকি ৬০ শতাংশকেও এর আওতায় আনতে হবে।

টেকসই উন্নয়নে সার্কুলার অর্থনীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন, ২০৩১ সাল নাগাদ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবার লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশের।

এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আর সে জন্য সার্কুলার অর্থনীতির বিকাশ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

তিনি বলেন, দেশে নির্মাণ শিল্প, টেক্সটাইল, মোটরগাড়ি, কৃষি, আসবাব, তেল ও গ্যাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সার্কুলার ইকোনমিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ নেতা আরও বলেন, বাংলাদেশে মাথাপিছু বার্ষিক প্লাস্টিক ব্যবহার মাত্র ৭ থেকে ৮ কেজি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর পরিমাণ ১৩০ কেজি। পুনঃপ্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্যকে পুনরায় সম্পদে রূপান্তর করছে দেশটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো সার্কুলার অর্থনীতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। ইউরোপীয় কমিশন এরই মধ্যে সার্কুলার অর্থনীতি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করেছে। এ ছাড়া চীন, ব্রাজিল, কানাডা ও জাপান তাদের অর্থনীতিকে সার্কুলার অর্থনীতিতে রুপান্তরের জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশেরও একই উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন। তিনি জানান, যে হারে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার হচ্ছে, তাতে কয়েক বছরের মধ্যে মূল্যবান বিভিন্ন খনিজের মজুদ শেষ হয়ে যাবে। তবে সম্পদের পুনঃব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এ বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব।

এই খাতকে শিল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলে দেশের সার্কুলার অর্থনীতির বিকাশ আরও গতিশীল হবে বলে জানান তিনি।

প্যানেল আলোচনায় বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এনভায়রনমেন্টাল স্পেশালিস্ট ইয়ুন জো অ্যালিসন ই বলেন, গত ১০ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি খুবই প্রশংসনীয়। কিন্তু এটি পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধির দিকে যাবে কিনা এখন তা নির্ধারণ করার সময় এসেছে। কেননা, সম্পদের অবক্ষয় শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে কিংবা প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং ভবিষ্যতকেও চরম ঝঁকিতে ফেলবে। টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আরও বিনিয়োগ করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

প্যানেল আলোচনায় আরও অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজান আর খান, এফবিসিসিআই-এর প্যানেল উপদেষ্টা ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই-এর সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, মো. হাবীব উল্লাহ ডনসহ অন্যান্য পরিচালকরা।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন এফবিসিসিআই-এর মহাসচিব মাহফুজুল হক।

আরও পড়ুন:
তিন মাস পর পর জিডিপির তথ্য
৩০ লাখ কোটির জিডিপিতে রাজস্ব কেন ৩ লাখ কোটি
করোনার ধাক্কা সামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গতি ফেরার পূর্বাভাস
করোনার মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.৫১% বড় অর্জন: অর্থমন্ত্রী
অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি

শেয়ার করুন

ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ

ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ

রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ইউনিয়ন ব্যাংকের শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

টাকার অংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিতে হবে ৭ হাজার ৯২০ টাকা আর প্রবাসী আবেদনকারীদের আবেদনের বিপরীতে কাটা হবে ৫ হাজার ৩৭০ টাকা। রোববার ব্যাংকটির শেয়ার বরাদ্দ শেষে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আবেদনকারীদের মধ্যে শেয়ার বরাদ্দ দিলো ইউনিয়ন ব্যাংক। ১০ হাজার টাকা আবেদনের বিপরীতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে ৭৯২টি শেয়ার। প্রবাসী আবেদনকারীরা পেয়েছেন ৫৩৭টি শেয়ার।

টাকার অংকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দিতে হবে ৭ হাজার ৯২০ টাকা আর প্রবাসী আবেদনকারীদের আবেদনের বিপরীতে কাটা হবে ৫ হাজার ৩৭০ টাকা। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ব্যাংকটির শেয়ার বরাদ্দ শেষে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, ইউনিয়ন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, ডিএসইর সিআরও (ইনচার্জ) ও উপ-মহা ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম ভূইয়া, ডিএসইর ট্রেনিং অ্যাডেমির প্রধান ও উপ-মহা ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে আইপিও আবেদনের নতুন নির্দেশনা কার্যকর করে বিএসইসি। যেখানে আবেদন করলেই শেয়ার পাবার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। তবে এজন্য নূন্যতম ২০ হাজার টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে পুঁজিবাজারে।

সোনালী লাইফকে দিয়ে যখন আইপিওতে প্রথম সবার জন্য শেয়ারের ব্যবস্থা চালু হয়, সে সময় থেকে ন্যূনতম ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ দেয়া হয় একেকজন বিনিয়োগকারীকে। পরে কেবল ১০ হাজার টাকার শেয়ারের জন্য আবেদনের সুযোগ দেয়া হয়।

ইউনিয়ন ব্যাংককে গত ৫ সেপ্টেম্বর দুই শর্তে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

শর্ত হিসেবে বলা হয়, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আগে ব্যাংকটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না। এছাড়া ব্যাংকটিকে ২০২১ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

গত এক বছরের বেশি সময়ে ইউনিয়ন ব্যাংক সহ মোট তিনটি ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর আগে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ও সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেছে।

ইউনিয়ন ব্যাংক পুঁজিবাজারে মোট ৪২ কোটি ৮০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ৪২৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু হবে ১০ টাকা।
উত্তোলন করা টাকা দিয়ে ব্যাংকটি এসএমই ও প্রজেক্ট অর্থায়ন, সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও আইপিওর করতে খরচ করবে।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া নেট অ্যাসেটভ্যালু ১৬ টাকা ৩৮ পয়সা। শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৭৭ পয়সা। বিগত ৫ বছরের ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৮২ পয়সা।

ব্যাংকটিকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

কোন কোম্পানির আবেদনে কত শেয়ার মিলেছে

লটের বদলে আইপিওতে সবার জন্য শেয়ার ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত একেকজন সাধারণ বিনিয়োগকারী প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ৫৪টি শেয়ার পেয়েছেন বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির একেকটি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন ২৯ টাকা করে। এই হিসাবে প্রতিজনের লেগেছে ১ হাজার ৫৬৬ টাকা।

৬০টি করে শেয়ার পেয়েছেন সাউথবাংলা ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরা। এ জন্য ১০ হাজার টাকা আবেদন করলেও বিনিয়োগকারীর সেই আবেদন থেকে কেটে নেয়া হয়েছে ৬০০ টাকা।

সর্বোচ্চ ৪০টি করে শেয়ার পাওয়া গেছে একটি পেস্ট্রিসাইডসের। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের এই শেয়ারের বিপরীতে কেটে রাখা হয়েছে ৪০০ টাকা।

সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার পাওয়া গেছে ১৯টি করে, বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কেটে নেয়া হয়েছে ১৯০ টাকা আর একেকজন সোনালী লাইফের শেয়ার বরাদ্দ পেয়েছেন ১৭টি করে, একেকজনের কাছ থেকে কাটা হয়েছে ১৭০ টাকা।

গত ১ এপ্রিল থেকে আইপিওতে সবার জন্য শেয়ার বরাদ্দের পদ্ধতি চালু হওয়ার আগে স্থিরমূল্যে আইপিওতে আসা বিনিয়োগকারীরা ৫০০টি শেয়ার বরাদ্দের জন্য আবেদন করতেন ৫ হাজার টাকায়। আর বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে যেসব কোম্পানি শেয়ার ইস্যু করেছে, সেগুলোর আইপিওতে টাকার পরিমাণ ভিন্ন হতো।

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের আবেদনে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পেয়েছিলেন ৩০টি শেয়ার। আর প্রবাসী আবেদনকারীরা পেয়েছিলেন ২২টি শেয়ার।

ইউনিয়ন ব্যাংকের আগে সর্বশেষ ১১ জানুয়ারি শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয় বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির। সেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ১০ হাজার টাকায় আবেদনের বিপরীতে শেয়ার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৬টি, প্রবাসীদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২০টি।

আরও পড়ুন:
তিন মাস পর পর জিডিপির তথ্য
৩০ লাখ কোটির জিডিপিতে রাজস্ব কেন ৩ লাখ কোটি
করোনার ধাক্কা সামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গতি ফেরার পূর্বাভাস
করোনার মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.৫১% বড় অর্জন: অর্থমন্ত্রী
অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি

শেয়ার করুন

আইটি সেবা রপ্তানিতে নগদ সহায়তা সহজ হলো

আইটি সেবা রপ্তানিতে নগদ সহায়তা সহজ হলো

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড পলিসি বিভাগ থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লেসের মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম সম্পাদন হতে হবে এবং যথাযথ ডকুমেন্ট থাকতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ৫ হাজার ডলারের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা (আইটিইএস) রপ্তানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তার প্রক্রিয়া আরও সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এখন থেকে সহায়তা প্রাপ্তিতে টেলি ট্রান্সফার (টিটি) বার্তার ভাষ্যে আমদানিসংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রের প্রয়োজন হবে না। এ ক্ষেত্রে পাঁচটি শর্ত পরিপালন করতে হবে।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড পলিসি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

সার্কুলারে বলা হয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক স্বীকৃত আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লেসের মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম সম্পাদন হতে হবে এবং যথাযথ ডকুমেন্ট থাকতে হবে।

ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে মার্কেট প্লেসের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক শাখাকে সংশ্লিষ্ট ওয়েব লিংক সরবরাহ করবে।

একই সঙ্গে ব্যাংক শাখাকে আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লেসের মাধ্যমে সফটওয়্যার ও আইটিইএস রপ্তানি কার্যক্রম সম্পর্কে ওয়েব লিংকসহ তথ্য সংগ্রহ ও তা যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে।

রপ্তানি আয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থের সপক্ষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রস্তুতকৃত ইনভয়েস কনফার্মেশনগুলোর প্রিন্ট আউট আবেদনপত্রের সঙ্গে দাখিলসহ ওই দলিলাদি যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অডিট ট্রেইলের ওয়েব লিংক আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রদান করবে।

সার্কুলার জারির তারিখ থেকে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে।

আরও পড়ুন:
তিন মাস পর পর জিডিপির তথ্য
৩০ লাখ কোটির জিডিপিতে রাজস্ব কেন ৩ লাখ কোটি
করোনার ধাক্কা সামলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গতি ফেরার পূর্বাভাস
করোনার মধ্যে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩.৫১% বড় অর্জন: অর্থমন্ত্রী
অর্থনীতিকে ‘বাঁচিয়ে’ রেখেছে কৃষি

শেয়ার করুন