এনআরবি সিআইপি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে মাহতাব-ইয়াছিন

এনআরবি সিআইপি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে মাহতাব-ইয়াছিন

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন এনআরবি সিআইপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক শহর দুবাইয়ের ক্রাউন প্লাজা হোটেলে মঙ্গলবার সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২১-২০২৩ সালে জন্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া এনআরবি সিআইপিদের সর্বসম্মতিতে ২১ সদস্যের এ কমিটি নির্বাচিত হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের শীর্ষ সংগঠন এনআরবি সিআইপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন এনআরবি ব্যাংক এবং আমিরাতের আল হারামাইন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান।

নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ওমানের আকতার আল বেলুচি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াছিন চৌধুরী। তিনি এর আগের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক শহর দুবাইয়ের ক্রাউন প্লাজা হোটেলে মঙ্গলবার সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২১-২০২৩ সালে জন্য কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া এনআরবি সিআইপিদের সর্বসম্মতিতে ২১ সদস্যের এ কমিটি নির্বাচিত হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র সহসভাপতি থাতেইয়ামা কবির (জাপান), সহসভাপতি মো. মনির হোসেন (আরব আমিরাত), কাজী শারওয়ার হাবিব (জাপান), রফিকুল ইসলাম মিয়া আরজু (রাশিয়া) ও মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া (ওমান), সহসাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শফি উদ্দিন (বাহরাইন) ও মোহাম্মদ মাহাবুব আলম (আরব আমিরাত)।

এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহমুদুর রহমান খান শাহিন (হংকং), যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মোহাম্মদ ইদ্রিস (ওমান), কোষাধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আশরাফুর রহমান (ওমান), আন্তর্জাতিক সম্পাদক কাজী শাহ আলম জুনু (সুইডেন), দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ (ওমান), সহদপ্তর সম্পাদক আবদুল আজিজ খান (কাতার)।

কমিটির নির্বাহী সদস্যরা হলেন মোহাম্মদ সেলিম (আরব আমিরাত), শহীদ হোসেন জাহাঙ্গীর (অস্ট্রেলিয়া), মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদ (আরব আমিরাত), আবুল কালাম ((আরব আমিরাত), মোহাম্মদ আকতার হোসেন (আরব আমিরাত) ও কল্লোল আহমেদ (যুক্তরাষ্ট্র)।

বৈধপথে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর সারা বিশ্বের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে এনআরবি সিআইপি নির্বাচিত করে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দেয়া বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত সংগঠনটি দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবাসী ও তাদের পরিবারের জন্য দেশে-বিদেশে নানা সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে।

আরও পড়ুন:
বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কৃষিতে ঋণ বাড়লেও আদায় কমেছে

কৃষিতে ঋণ বাড়লেও আদায় কমেছে

ক্ষেতে আলুর পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। ফাইল ছবি

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকগুলো ৫ হাজার ২১০ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি, টাকার অংকে যার পরিমাণ ৫২৬ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কৃষিতে ব্যাংকগুলো বেশি ঋণ দিয়েছে। জুলাই ও আগস্টে ঋণ বিতরণ কম হলেও সেপ্টেম্বরে ঋণে গতি ফিরেছে। ফলে প্রথম ত্রৈমাসিকে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশ।

তবে এ সময়ে ঋণ বিতরণ বাড়লেও ঋণ আদায় কমেছে। তিন মাসে আদায় হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে আদায় হয়েছিল ৬ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ আদায় কমেছে ৬৯১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

এই অর্থবছরে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করে ব্যাংকগুলো। ওই অর্থবছরে কৃষি ও পল্লি খাতে ব্যাংকগুলোর ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অর্থবছর শেষে এ খাতে ঋণ বিতরণ হয় ২৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ব্যাংকগুলো ৫ হাজার ২১০ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি, টাকার অংকে যার পরিমাণ ৫২৬ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কৃষি ও পল্লিঋণ খাতে ব্যাংকগুলো ৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা বিতরণ করেছিল।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে ৯৪২ কোটি ও আগস্টে ১ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ হয়। কিন্তু সেপ্টেম্বরে কৃষি খাতে ২ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ হওয়ায় তিন মাসে ব্যাংকগুলো বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ১৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ ঋণ দিয়েছে।

করোনাভাইরাসের বিপর্যয় কাটাতে গত বছর এপ্রিলে কৃষি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ তহবিল থেকে হর্টিকালচার, ফুল, ফল, মৎস্য, পোলট্রি, ডেইরি ও প্রাণিসম্পদ খাতে গত ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ হাজার ২৯৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়।

করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় গত সেপ্টেম্বরে আরও ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বর্গাচাষিরা জামানত ছাড়াই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তহবিলের মেয়াদ হবে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আইন নয়: পলক

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আইন নয়: পলক

ই-কমার্স খাতকে সুশৃঙ্খল করতে করণীয় নিয়ে বৈঠকে বক্তব্য দেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: নিউজবাংলা

পলক বলেন, ‘প্রথমে হবে কৌশলপত্র। তারপর একটি নীতিমালা, তারপর আইন। তবেই দেশটা একটি ডিজিটাল বেইজড ইকোনমির দিকে আগাবে। সে কারণে আমরা প্রথমে ডিজিটাল পলিসি করেছিলাম, সেটি ২০১৮ সালের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুমোদন হয়। এখন ই-কমার্স নীতিমালা সংশোধন হয়েছে। এখানে পরিধি, সংজ্ঞা এবং সার্বিক দিক নির্দেশনার সমন্বয়ের এমন একটি টাইমফ্রেম স্মার্ট পলিসি তৈরি হয়েছে, যা দিয়ে ই-কমার্স খাত সুষ্ঠু পরিচালন সম্ভব।’

ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠু পরিচালনায় সরকার আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে, বিষয়টি নিয়ে একটি আইনি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এমন সময় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানান, ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে আইনের পক্ষপাতী নন তিনি। বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও বিধিমালাতেই খাতটিতে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান সম্ভব।

মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ই-কমার্সের সাম্প্রতিক সমস্যা বিষয়ক পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এমন কথা জানান।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি স্ট্রাটেজি ফাস্ট, পলিসি সেকেন্ড এবং আইন হচ্ছে থার্ড।’

তিনি বলেন, ‘দেশে কোনো ইনোভেটিভ বা ক্রিয়েটিভ অথবা ডিজিটাল ইকোনমিক গড়ে তুলতে গেলে প্রথমেই আইন নয়। প্রথমেই রেগুলেশন নয়, প্রথমেই বাধা নয়।’

পলক বলেন, ‘প্রথমে হবে কৌশলপত্র। তারপর একটি নীতিমালা, তারপর আইন। তবেই দেশটা একটি ডিজিটাল বেইজড ইকোনমির দিকে আগাবে।

‘সে কারণে আমরা প্রথমে ডিজিটাল পলিসি করেছিলাম, সেটি ২০১৮ সালের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুমোদন হয়। এখন ই-কমার্স নীতিমালা সংশোধন হয়েছে। এখানে পরিধি, সংজ্ঞা এবং সার্বিক দিক নির্দেশনার সমন্বয়ের এমন একটি টাইমফ্রেম স্মার্ট পলিসি তৈরি হয়েছে, যা দিয়ে ই-কমার্স খাত সুষ্ঠু পরিচালন সম্ভব।’

নীতিমালায় এসক্রো সার্ভিস সিস্টেমের কথা বলা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর-এসওপির কথাও বলা আছে। মনিটরিংয়ের কথা বলা আছে। কার কী দায়িত্ব সেটাও বলা আছে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ঠিক, একটা নীতিমালা এভাবে থাকলে হবে না। প্রয়োগ করতে হবে। সে কারণেই আমরা বসেছি। ক্রাইসিস সিচুয়েশনের মধ্যেই সলিউশন থাকে। সমস্যা তৈরি হয়েছে বলেই আমরা বসেছি; বাণিজ্যমন্ত্রী এখন সাহসিকতার সঙ্গে ফাইট করছেন।’

ইভ্যালি আমাজন হবে প্রতিমন্ত্রীর একসময়কার এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ইভ্যালি অ্যামাজন না হয়ে হয়তো এখন সমস্যায় আছে। কিন্তু চাল-ডালের প্রবৃদ্ধি অলরেডি ৩০০ ভাগ। শপ আপ এর প্রবৃদ্ধি কয়েক শ পার্সেন্ট।

‘ইভ্যালি, চালডাল ও শপঅ্যাপ -যদি এই তিনটাকে মেনশন করে আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এই প্রেডিকশন দিয়ে থাকি, এই তিনজনের মধ্যে যদি দুইজন সাকসেসফুল হয় এবং আরেকজন যদি ফেইলর হয়; তাহলে আমাদের সাকসেসফুল পারসেন্টেন্স রেট কিন্তু সিলিকন ভ্যালি, সিঙ্গাপুর, ভারত থেকে বেশি।

‘কারণ ই-কমার্স খাতে যেসব স্টার্টআপ আছে, তাদের মাত্র ১০ ভাগ সফল হয়, বাকি ৯০ ভাগই ঝরে পড়ে। কিন্তু যে ১০ ভাগ উদ্যোক্তা সফল হয়, তা ওই ৯০ ভাগের অবদান ছাড়িয়ে যায়।’

পলক দাবি করেন, বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা খুবই সাহসী-সৎ ও সৃজনশীল। যে কারণে আমাদের ডিএনএর মধ্যে একটা উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয় আছে। এটা মূলত একটা ইকোসিস্টেম। প্রত্যেকটা দেশেই এ সিস্টেমের মাধ্যমে ই-কমার্স বেড়ে ওঠে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি ধরেন যে, চালডাল, শপআপ- যারা পাঁচ বছর আগে ব্যবসাটা শুরু করেছিল, এমন কয়েকজনের মূলধন ছিল কয়েক লাখ টাকা। আজ ৫ বছর পর তাদের মূলধন হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা।’

‘একই সময়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে। দেশের ভেতর থেকেও বিনিয়োগ হয়েছে। এখানে ১৫ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে ডিজিটাল এই উদ্যোগ যদি পাঁচ বছর আগে না নিতাম, তাহলে দেশে স্টার্টআপ কালচারটা হয়তো এত দ্রুত বড় হত না,’ বলেন পলক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সিলিকন ভ্যালিতে এই স্টার্টআপ তৈরি হতে ৬০ বছর সময় লেগেছে। আমাদের এই স্টার্টআপ ক্যাম্পেইন কেবলমাত্র ২০১৬ সালে শুরু হয়েছে। এই পাঁচ বছরের মধ্যে আড়াই হাজার স্টার্টআপ তৈরি হয়েছে। স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি করোনার মধ্যেও নিবন্ধন নিয়ে ইতিমধ্যে ১৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। স্টার্টআপ উদ্যোগে ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই যে সাহসী উদ্যোগগুলোর ফলে আমাদের উদ্যোক্তা তৈরি, এটা নতুন সম্ভাবনার দ্বার সৃষ্টি করেছে।’

পলক বলেন, ‘দেশে ই-কমার্স খাতে স্টার্টআপ বেসিসের সঙ্গে পার্টনারশিপে শুরু হয়েছে ২০১৬ সালে। ২০১৭ সালে উপলব্ধি করেছি আমাদের ই-কমার্স পলিসি দরকার। খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এক বছর গবেষণা করে আমরা ই-কমার্স পলিসি দাঁড় করাই। হয়তো অনেক প্রেডিকশনই আমরা জানতাম না।

‘কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় অনুমান করেছিলেন এবং আমাদের বলেছিলেন, এই ই-কমার্স খাত এত বড় হবে এখনই যদি একটা নীতিমালা না করো তাহলে সমস্যা হবে। তখনই কিন্তু আমরা নীতিমালা করেছিলাম। যা এখন সময়ের সঙ্গে সংশোধন হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

তিন মাসের মধ্যে নিয়মে আসবে ই-কমার্স খাত

তিন মাসের মধ্যে নিয়মে আসবে ই-কমার্স খাত

ই-কমার্স ব্যবসার সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত জরুরি সভা। ছবি: পিআইবি

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি জানান, ই-কমার্স খাতে ব্যবসা করতে হলে সব ব্যবসায়ীকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ইউবিআইএন) নিতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা। ইউবিআইএন ছাড়া দেশে কেউ ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না।

আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের বিশৃঙ্খল ই-কমার্স খাতকে নিয়মের মধ্যে আনা হবে। এ সময়ের মধ্যে ই-কমার্স খাতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ইউবিআইএন) নিতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এ সংক্রান্ত সফটওয়্যার ডেভেলপ করবে।

এ ছাড়া চলতি বছরের জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ‘এসক্রও’ সার্ভিস সিস্টেমে আটকে থাকা ২১৪ কোটি টাকা গ্রাহককে ফিরিয়ে দেয়া হবে।

সোমবার ডিজিটাল কমার্স ই-কমার্স ব্যবসার সাম্প্রতিক সমস্যা নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত তিন মন্ত্রী ও এক উপদেষ্টার জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

এর আগে বিকেলে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সভায় ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ ও ডিজিটাল ই-কমার্স সংক্রান্ত কমিটির প্রধান এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

এ ছাড়া সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ই-ক্যাব, বেসিস, এফবিসিসিআই, প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আজকের বৈঠকের আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল দেশে ই-কমার্স খাত সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসাকে একটি নিয়মের মধ্যে আনতে করণীয় নির্ধারণ। আজকের আলোচনায় সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

টিপু মুনশি জানান, ই-কমার্স খাতে ব্যবসা করতে হলে সব ব্যবসায়ীকে ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (ইউবিআইএন) নিতে হবে। এর উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা। ইউবিআইএন ছাড়া দেশে কেউ ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। এ বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দেবে আইসিটি ডিভিশন।

এ ছাড়া সেন্ট্রাল লজিস্টিক চেক ইন দ্য প্ল্যাটফর্ম (সিএলটিপি) থাকবে। এটি একটি আইনগত কৌশল। যারা ই-কমার্স খাতে ব্যবসা করছে, তাদের ইউপিআই নম্বরসহ বিজনেস রিলেটেড সবকিছু ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।

ই-কমার্স লেনদেনে গ্রাহক ও ভোক্তার অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা বা গ্রহণের জন্য একটি সেন্ট্রাল কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম দাঁড় করানো হবে। সংক্ষুব্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত যে কেউ এখানে অভিযোগ দাখিল করতে পারবে, যা কর্তৃপক্ষ আমলে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবে। এসব বিষয়েও প্রযুক্তিগত সাপোর্ট দেবে আইসিটি ডিভিশন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে তারা এ বিষয়ে একটি পদক্ষেপ জানাতে পারবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এসব পদক্ষেপ ই-কমার্স খাতকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ধারায় পরিচালিত করতে সহায়তা করবে। তবে এখন বড় আলোচনার বিষয় গ্রাহকের টাকা ফেরত দেয়া। এ বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আরও যারা আছে, তারা একটি মতামত দিয়েছে।

‘সিদ্ধান্ত হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে যাদের টাকা আটকে আছে, তাদের টাকা তাদের কাছে ফেরত যাবে। এ ক্ষেত্রে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। টাকা ফেরত যেতে সময় লাগবে। এ ক্ষেত্র তিন মাসের মতো সময় লাগতে পারে।’

আরও পড়ুন:
বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

তুলার বাড়তি দামে সংকট বস্ত্র খাতে

তুলার বাড়তি দামে সংকট বস্ত্র খাতে

বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে তুলার দাম। ছবি: সংগৃহীত

নেতারা বলেন, কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে তুলার দাম বেড়ে চলেছে। গত এক দশকের মধ্যে এখন তুলার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ছিল ৯০ সেন্ট। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ সেন্টে। প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে দাম। এভাবে তুলার দাম বাড়ার কারণে বস্ত্র ও পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

তৈরি পোশাকশিল্পের মৌলিক কাঁচামাল তুলার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় বস্ত্র ও পোশাক খাতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীতে সোমবার প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা জানান এ উদ্বেগের কথা।

তুলার দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারি নীতি সহায়তার পাশাপাশি জরুরিভাবে সমন্বিত নীতি প্রণয়নের দাবি জানান বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ রপ্তানি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

বিশ্ববাজারে তুলার দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সংকটজনক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে তুলার দাম বেড়ে চলেছে। গত এক দশকের মধ্যে এখন তুলার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তুলার দাম যেভাবে বাড়ছে তা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে তা কেউ বলতে পারছে না।

সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ছিল ৯০ সেন্ট। এখন তা বেড়ে দাড়িয়েছে ১২০ সেন্টে। প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে দাম।

নেতারা বলেন, শুধু তুলার দাম বাড়ার কারণে বস্ত্র ও পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ধিত জাহাজ ও কন্টেইনার ভাড়া, বন্দরের যানজটসহ অন্য অনেক সমস্যা। সব মিলিয়ে বস্ত্র ও পোশাক খাত বিপর্যের মুখে পড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, তুলা পোশাকশিল্পের প্রধান মৌলিক কাঁচামাল। তুলা থেকে সুতা, এরপর সুতা থেকে কাপড় এবং তা থেকে পোশাক তৈরি হয়। বাংলাদেশে ৯৯ শতাংশ তুলা আমদানি করা হয়।

তুলার দাম বাড়ার ফলে সুতার দাম বাড়ছে। ফলে কাপড়ের দামে তা প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থায় তৈরি পোশাক খাত তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। কারণ, ক্রেতারা বেশি দামে বাংলাদেশি পোশাকপণ্য কিনতে চাচ্ছে না। এ অবস্থায় তুলার দাম স্থিতিশীল রাখা জরুরি বলে মনে করে বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহাম্মদ আইউব।

এ সময় বিকেএমইর নিবার্হী সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ টেরিটাওয়াল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহদাত হোসেনসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেএমইএর মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘রপ্তানিমুখী বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের স্বার্থে সুতার বাজার স্থিতিশীল রাখা উচিত। সুতার দাম বাড়ার বিষয়ে আমরা একটা সতর্ক বার্তা দিলাম। যাতে করে বায়ারদের সঙ্গে দরকষাকষিতে পোশাকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায়।’

বিটিএমএর ফজলুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিনই সুতার দাম বাড়ছে। কোথায় গিয়ে যে ঠেকে তা বলা কঠিন। বিশ্ববাজারে সব কিছুর দাম বাড়ছে। শুধু বাড়ছে না বাংলাদেশি পোশাকের দাম। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।’

টেরিটাওয়াল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘তুলার দাম না কমলে রপ্তানিমুখী শিল্পে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।’

বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহাম্মদ আইউব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার বাড়তি দাম বিবেচনায় নিয়ে দেশীয় তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত ক্রেতাদের সাথে দরকষাকষি করা।’

আরও পড়ুন:
বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

‘নগদ’ ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইন বিজয়ীর হাতে বাইক তুলে দিলেন তামিম

‘নগদ’ ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইন বিজয়ীর হাতে বাইক তুলে দিলেন তামিম

বাইক বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তামিম ইকবাল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ‘নগদ’-এর আকর্ষণীয় এই ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইনে এ সপ্তাহের বিজয়ীরা হলেন খন্দকার রিয়াজুল হক ও মো. মাজহারুল ইসলাম। তারা দুজনই ঢাকার অধিবাসী।

ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর চলমান ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়া বিজয়ীদের মোটরবাইক হস্তান্তর করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর তামিম ইকবাল।

রোববার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচের পর ৭১ টিভিতে ‘নগদ’ প্রেজেন্ট তামিম ইকবাল শো-তে এসে দুই বিজয়ী বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালের কাছ থেকে মোটরবাইক বুঝে নেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ‘নগদ’-এর আকর্ষণীয় এই ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইনে এ সপ্তাহের বিজয়ীরা হলেন খন্দকার রিয়াজুল হক ও মো. মাজহারুল ইসলাম। তারা দুজনই ঢাকার অধিবাসী।

বাইক হস্তান্তরের সময় তামিম ইকবাল বিজয়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তারা কুইজে অংশ নিয়ে কীভাবে স্কোর করেছেন, সে কৌশল জানতে চান।

গ্রাহকদের জন্য ‘নগদ’-এর বিশেষ ক্যাম্পেইনটি চলবে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। ক্যাম্পেইনটির আওতায় ‘নগদ’ গ্রাহকেরা ক্যাশ-ইন বা অ্যাড মানি, মোবাইল রিচার্জ ও টি-টোয়েন্টি কুইজ খেলে প্রতিদিন জিতে নিতে পারবেন একটি করে মোটরবাইক। পাশাপাশি প্রতি মিনিটে ক্যাশ-ইন করা প্রথম পাঁচজন গ্রাহক পাবেন ১০০ টাকা পর্যন্ত বোনাস।

‘নগদ’-এর ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইন নিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষের ক্রিকেটের প্রতি এই যে ভালোবাসা সে কারণেই বাংলাদেশের ক্রিকেট এক সময় অনেক উচ্চতায় উঠবে। কুইজে অংশ নিয়ে বেশি বেশি বোনাস পাওয়ার পাশাপাশি বাইক জেতার সুযোগ সবারই নেয়া উচিত।’

ক্যাম্পেইনটির বিষয়ে ‘নগদ’-এর চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) শেখ আমিনুর রহমান বলেন, “গ্রাহকদের জন্য সব সময় আকর্ষণীয় অফারসহ সেরা সেবা নিশ্চিত করে ‘নগদ’। আর সে কারণেই ‘নগদ’ আজ সাড়ে ৫ কোটি গ্রাহকের আস্থা আর নির্ভরতার জায়গা।”

টি-টোয়েন্টি কুইজে অংশ নেয়ার পদ্ধতি

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে প্রতিদিন মোটরবাইক জেতা ও বোনাস পাওয়ার ক্যাম্পেইন চালু করেছে ‘নগদ’। এ জন্য গ্রাহকদের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে উদ্যোক্তা পয়েন্ট থেকে সকাল ১০টা থেকে রাত ০৯টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে নূন্যতম ১ হাজার টাকা ক্যাশ-ইন অথবা যেকোনো ব্যাংকের ভিসা বা মাস্টার কার্ড থেকে নূন্যতম ১ হাজার টাকা বা তার বেশি টাকা অ্যাড মানি করতে হবে।

ক্যাম্পেইনটির আওতায় মোটরবাইক জিততে চাইলে গ্রাহককে ১ হাজার টাকা বা তার বেশি ক্যাশ-ইন বা অ্যাড মানি করতে হবে, পাশাপাশি যেকোনো পরিমাণ মোবাইল রিচার্জ ও ‘নগদ’ অ্যাপের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি কুইজ খেলতে হবে।

এই তিনটি কাজ করতে হবে একসাথে। টি-টোয়েন্টি কুইজে করা সর্বোচ্চ স্কোরের ভিত্তিতে প্রতিদিন একজন গ্রাহক মোটরবাইক বিজয়ী হতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী

রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী

রিজার্ভ বাড়িয়ে বলা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইএমএফ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাড়িয়ে বলার সুযোগ নেই। এক কর্মকর্তা বলেছেন, আইএমএফের কথা না শুনে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেয়া হয়েছে। সে কারণেই এ বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থাটি নাখোশ হয়ে হঠাৎ করে রিজার্ভের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে থাকতে পারে।

বাংলাদেশে বিদেশি মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভ একটুও বাড়িয়ে বলা হয়নি বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই সব সময় রিজার্ভের হিসাব করে থাকে বাংলাদেশ। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) অযথাই রিজার্ভ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে বলে প্রশ্ন তুলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আইএমএফের এই প্রশ্নে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, ‘রিজার্ভ কীভাবে বাড়িয়ে বলা সম্ভব! এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। হঠাৎ আইএমএফ রিজার্ভ নিয়ে কথা বলছে কেন, সেটাই তো আমি বুঝতে পারছি না।’

২০২১ সালের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সুরক্ষা মূল্যায়নের একটি খসড়া প্রতিবেদনে আইএমএফ বিদেশি সম্পদের ভুল শ্রেণীকরণ চিহ্নিত করেছে। এই ভুল শ্রেণীকরণের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের আকার বড় হয়েছে বলে দাবি করেছে আইএমএফ।

আইএমএফ বলেছে, চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে বাংলাদেশে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ থাকার যে কথা বলা হয়েছিল, তা আসলে ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে বলা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে রিজার্ভ হবে ৩৯ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভ-বহির্ভূত সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করে রিজার্ভ ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী

আইএমএফের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই সব সময় রিজার্ভের হিসাব করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্পর্শকাতর এই সূচকটির বিষয়ে সব সময় সঠিক মানদণ্ড অনুসরণ করে হিসাব-নিকাশ করে রিজার্ভের হিসাব করা হয়। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) আইএমএফের এই হিসাব মোটেই আমলে নিচ্ছি না। আইএমএফ তাদের কথা বলেছে, বলুক। আমরা তো জানি, আমাদের কোনো ভুল নেই। আমরা যে মেকানিজমে, যে সংজ্ঞার মাধ্যমে যেটাকে রিজার্ভ হিসেবে ট্রিট করি, সে ব্যাখ্যা কিন্তু আইএমএফকে জানানো আছে। আইএমএফ এখন সেটা যাচাই-বাছাই করে দেখুক। যেহেতু তারা প্রশ্ন তুলেছে, তাদের প্রশ্নের ভিত্তি আছে কি না, তারাই এখন দেখুক।’

তিনি বলেন, ‘আইএমএফ কিন্তু জানে, বাংলাদেশ ব্যাংক কোন কোন বিষয় রিজার্ভের সঙ্গে দেখায়। তারা এখন পর্যালোচনা করে দেখুক, তারা কী মতামত দেয় দেখি। তখন আবার আমরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব।

‘তবে, আমি আবারও বলছি, রিজার্ভ একটুও বাড়িয়ে বলা হয়নি। এটা বাড়িয়ে বলার কোনো সুযোগ নেই।’

রিজার্ভ বাড়িয়ে বলা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডলারের দর ওঠা-নামার ওপর এটা রিজারভেশন (রিজার্ভ) হয়। ডলারের দর বাড়লে বা কমলে সেটা সমন্বয় করা হয়। এটাকে গেইন অর লস বলে। কিন্তু এটা তো মূল রিজার্ভ না।’

সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঋণ পেমেন্ট করলে একটা ভ্যালু ডেট থাকে। যারা ঋণ নেয়, তারা সেটা না তোলা পর্যন্ত রিজার্ভ হিসেবে থাকবে।’

সালেহউদ্দিন বলেন, ‘হঠাৎ আইএমএফ রিজার্ভ নিয়ে কথা বলছে কেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎপর হওয়া দরকার। আগ বাড়িযে এসব কেন বলছে, সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। হুট করে একটা স্টেটমেন্ট দিলে তো হবে না।’

অন্য দেশকে ঋণ দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা দেশের তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের রিজার্ভ দিয়ে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। শ্রীলঙ্কাকে খুব সামান্য ঋণ দেয়া হয়েছে। যেহেতু রিজার্ভ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা। বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভের খাত সম্পর্কে আইএমএফকে আরও স্পষ্ট করতে হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফ রিজার্ভ থেকে পায়রা বন্দরসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন না করতে অনেক আগে থেকেই বলে আসছিল। তাদের সেই আপত্তি উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভার অনুমোদন নিয়ে বন্দর এবং বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য সরকারের গঠন করা বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে (বিআইডিএফ) রিজার্ভ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তহবিল থেকে প্রথম ঋণ দেয়া হয়েছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে। ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৪১৭ কোটি টাকার সমান, যা দেয়া হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরোয়।

‘আইএমএফের কথা না শুনে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেয়া হচ্ছে, সে কারণেই তারা নাখোশ হয়ে হঠাৎ করে রিজার্ভের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে থাকতে পারে।

‘রিজার্ভ থেকে যে ঋণ বা বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ডসভার অনুমোদন সাপেক্ষে যথার্থভাবে করা হয়েছে। এসব বিনিয়োগের গ্যারান্টি আছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। আইএমএফও সেটা ভালোভাবে জানে। এরপরও এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর বলে আমি মনে করি।’

স্পর্শকাতর বিষয়ে সবকিছু ভালোভাবে জেনেবুঝে বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গণমাধ্যমকে অনুরোধ করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা।

শনিবার একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭.২ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে বলা হয়েছে: আইএমএফ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএমএফ বলেছে যে, রিজার্ভের একটি অংশ অর্থায়ন, রেসিডেন্ট ব্যাংকগুলোতে আমানত, নন-ইনভেস্টমেন্ট গ্রেড বন্ডে বিনিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক বোর্ড ও এর বিনিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দেয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবু কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব রিজার্ভ-বহির্ভূত সম্পদকে রিজার্ভের পারফরম্যান্স ও ঝুঁকি বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করে চলেছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে এ রকম অতিরঞ্জন করলে রিজার্ভের পরিমাণ সম্পর্কে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষতা এবং আইটি সক্ষমতা দুটোই সীমিত পর্যায়ের।

আইএমএফ সুপারিশ করেছে, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির অবমূল্যায়ন এড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত রিজার্ভ-বহির্ভূত সম্পদ থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আলাদা রাখা এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে রিপোর্ট করা।

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বৈদেশিক মুদ্রা সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের বিপরীতে গ্যারান্টি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে সমপরিমাণ শ্রীলঙ্কান রুপি ডিপোজিট করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দিলে তার জামিন হিসেবে ওই একই মুদ্রায় লেনদেন করা উচিত।

আইএমএফ যেসব রিজার্ভ-বহির্ভূত সম্পদ চিহ্নিত করেছে সেগুলো হলো, স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে বিদেশি মুদ্রায় দেয়া ঋণ ৬ হাজার ১৯৮ মিলিয়ন ডলার, স্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ডিপোজিট ৬৫১ মিলিয়ন ডলার; আইটিএফসিতে (আইডিবি গ্রুপ) ডিপোজিট ২৮৮ মিলিয়ন ডলার এবং বিনিয়োগ গ্রেডের নিচে ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ ৬০ মিলিয়ন ডলার।

পায়রা বন্দরসহ সরকারের অগ্রাধিকারমূলক অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার ব্যবহারের বিষয়েও আপত্তি তুলেছে আইএমএফ।

আইএমএফ বলেছে, অপর্যাপ্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কারণে বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকে প্রায়শই ভুগতে হয় এবং তাৎক্ষণিক ক্ষতির ভার সাধারণত অর্থ প্রদানকারীই বহন করে। ফলে রিজার্ভ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতিরও আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, পেমেন্ট ব্যালেন্সের চাপ এবং রেমিট্যান্স ও বাণিজ্যের অস্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়ার আগে রিজার্ভ কোন পর্যায়ে আছে, তা যেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার দিনের শুরুতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৬ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন) ডলার এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) ঋণ রিজার্ভে যোগ হওয়ায় এক লাফে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

এর পর থেকে তা কমতে কমতে গত সপ্তাহে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। গত কয়েক দিনে খানিকটা বেড়ে রোববার ৪৬ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা

শেয়ার করুন

ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ

ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ

ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণ কয়েকটি। করোনা শেষে মূলধনি যন্ত্র ও কাঁচামাল আমদানি যেমন বেড়েছে, তেমনি দেড় বছর পর খুলে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সীমান্ত। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। করোনার কারণে থেমে যাওয়া বহুজাতিক বিমান সংস্থাগুলো এখন অনেক রুট তথা গন্তব্যে তাদের বিমান চলাচল শুরু করেছে। ফলে মানুষের পেশাগত কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কেনাকাটার জন্য বিভিন্ন দেশে যাতায়াত শুরু হয়েছে।

পণ্যমূল্য বেড়ে চলার মধ্যে আরও একটি দুঃসংবাদ হলো ডলারের দরের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে আমদানি পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মুদ্রাবাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ডলারের। খোলাবাজারে ডলারের দর ৯০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে ৮৮ টাকার ওপরে। তবে সেখানে চাইলেই তা কেনা যায় না।

তবে আন্ত ব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত এক সপ্তাহে ডলারের দর বাড়েনি; ৮৫ টাকা ৬৫ পয়সা দরেই বিক্রি হয়েছে।

আমদানির জোয়ারে আর রেমিট্যান্সের নিম্নগতিতে দেখা দিয়েছে এই সংকট। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভেও টান পড়েছে। বাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদা বেড়েছে ঠিক। কিন্তু ডলারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত ডলার আছে। চাহিদা পূরণে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণ কয়েকটি। করোনা শেষে মূলধনি যন্ত্র ও কাঁচামাল আমদানি যেমন বেড়েছে, তেমনি দেড় বছর পর খুলে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সীমান্ত। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। করোনার কারণে থেমে যাওয়া বহুজাতিক বিমান সংস্থাগুলো এখন অনেক রুট তথা গন্তব্যে তাদের বিমান চালানো শুরু করেছে। ফলে মানুষের পেশাগত কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কেনাকাটার জন্য বিভিন্ন দেশে যাতায়াত শুরু হয়েছে।

ডলার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাইরে যাওয়ার জন্য হঠাৎ ডলারের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। সে তুলনায় হাতে হাতে দেশে ডলার আসছে না। ফলে দাম বেড়ে গেছে। হাতে হাতে ডলার দেশে না এলে এই ঊর্ধ্বগতি শিগগির থামবে না।

মতিঝিলের ডলার ব্যবসায়ী রিপন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডলারের প্রচুর চাহিদা। কেউ বিক্রি করতে আসে না; সবাই কিনতে আসে। সে কারণেই প্রতিদিনই দাম বাড়ছে।’

গ্রাহকরা চাইলে পাসপোর্ট এনডোর্স করে ব্যাংক থেকেও ডলার কিনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোও ৮৮ টাকা দরে ডলার বিক্রি করছে। তবে ঋণপত্রের (এলসি) দেনা পরিশোধে ব্যবসায়ীদের প্রতি ডলারের জন্য দিতে হচ্ছে ৮৫ টাকা ৬৫ পয়সা।

ফলে খোলাবাজারের সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দামের পার্থক্য সাড়ে ৪ টাকা ছাড়িয়ে গেছে; স্বাভাবিক সময়ে যা দুই-আড়াই টাকার মধ্যে থাকে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক রোববার ৮৮ টাকায় ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ৮৬ টাকা ২৫ পয়সায়। অগ্রণী ব্যাংক কিনেছে ৮৫ টাকা ৮০ পয়সায়। বিক্রি করেছে ৮৭ টাকা ৭০ পয়সায়।

মতিঝিল ও গুলশানের এক্সচেঞ্জ হাউস ও খোলাবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন ডলার বিক্রি করতে কেউ আসছেন না। শুধু কেনার জন্য আসছেন। এই কারণে দাম বাড়ছে।

ডলারের দাম বাড়ায় পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আর আমদানি খরচের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে করোনার টিকা।

রোববার ৯০ টাকা ২৯ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে; আর এতে দাম বাড়াটা স্বাভাবিক। গত অর্থবছরে প্রচুর রেমিট্যান্স আসায় ডলারের সরবরাহ বেড়ে গিয়েছিল। চলতি অর্থবছরে তেমনটি আর নেই। প্রতি মাসেই কমছে।’

‘রেমিট্যান্স কমতে থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও ডলার বিক্রি করতে হবে’ পরামর্শ দিয়ে আহসান মনসুর বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এখান চাহিদা মোতাবেক বাজারে ডলার ছাড়তে হবে।’

আগস্ট থেকে উত্তাল ডলারের বাজার

গত আগস্ট মাসের শুরু থেকেই আমদানি বাড়ার কারণে ডলারের চাহিদা বাড়তে থাকে। প্রায় প্রতিদিনই ৫-১০ পয়সা করে বেড়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বাজারে ডলারের জোগান বাড়িয়েছে।

আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ছেড়েছে ৩০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে এর পরিমাণ দ্বিগুণ করে ছাড়া হয়েছে ৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। চলতি অক্টোবর মাসের রোববার পর্যন্ত ছাড়া হয়েছে ৪০ কোটি ডলারের মতো।

আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত রিজার্ভ থেকে বাজারে ছাড়া হয়েছে ১৪০ কোটি ডলারের বেশি। শুধু চলতি অক্টোবরেই ৭০ কোটি ডলারের চাহিদার কথা ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি–সব ধরনের পণ্যের আমদানি বাড়ছে। ইউরোপ-আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। বাংলাদেশে করোনা মহামারির মধ্যেই পুরোদমে উৎপাদন কর্মকাণ্ড চলছে।

‘সব মিলিয়ে আমদানি বাড়াটাই স্বাভাবিক। আর এটা অর্থনীতির জন্য মঙ্গল।’

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডলার বিক্রি করছে। এত দিন বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডলার কেনা হয়েছিল। এখন সেই একই কারণে বিক্রি করা হচ্ছে।

‘এই কাজটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব সময়ই করে থাকে। যখন যেটা প্রয়োজন, সেটাই করা হয়।’

আমদানি-রপ্তানি দুটিই বাড়ছে

করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান দুই সূচক আমদানি-রপ্তানি দুটিই বাড়ছে সমানতালে।

গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গত বছরের একই সময়ের চেয়ে পণ্য রপ্তানি থেকে ১১.৩৭ শতাংশ বেশি আয় করেছে বাংলাদেশ।

আগামী দিনে রপ্তানি আয় আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা বিশ্বে রপ্তানির পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এজন্য উদ্যোক্তারা প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে ব্যাক টু ব্যাক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানির পরিমাণও বাড়ছে।

পণ্য আমদানির দুই মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের (জুলাই-আগস্ট) পণ্য আমদানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। আর এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে আরও বেশি; ৪৮.৬০ শতাংশ।

রেমিট্যান্স কমেছেই

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় ছিল প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। আগের বছরের চেয়ে বেড়েছিল ৩৬.১০ শতাংশ। কিন্তু এবার নিম্নমুখী এই সূচকে। প্রতি মাসেই কমছে রেমিট্যান্স।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গত বছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিট্যান্স কমেছে ১৯.৪৪ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে বেড়েছিল ৪৮.৫৪ শতাংশ। পুরো অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৩৬.১০ শতাংশ।

চলতি অক্টোবর মাসেও সেই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ১২০ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের অক্টোবর মাসে এসেছিল ২১০ কোটি ২১ লাখ ডলার।

রিজার্ভে টান

রেমিট্যান্স কমায় আর আমদানি বাড়ায় বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৬.৪০ বিলিয়ন ডলার।

গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন) ডলার এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) ঋণ রিজার্ভে যোগ হওয়ায় এক লাফে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

এর পর থেকে তা কমতে কমতে গত সপ্তাহে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। গত কয়েক দিনে খানিকটা বেড়ে রোববার ৪৬.৪০ বিলিয়র ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা

শেয়ার করুন