এক লিটার পানির দাম ৬৮ লাখ টাকা!

এক লিটার পানির দাম ৬৮ লাখ টাকা!

বিশ্বের সবচেয়ে দামি পানি অ্যাকোয়া ডি ক্রিস্টালো ট্রিবুটো আ মডিগ্লিয়ানি। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে দামি পানি অ্যাকোয়া ডি ক্রিস্টালো ট্রিবুটো আ মডিগ্লিয়ানি। ফিজি ও ফ্রান্সের ঝরনা থেকে সংগ্রহ করা হয় এই পানি। ৭৫০ মিলিলিটারের এক বোতল পানির জন্য গুনতে হবে বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫১ লাখ টাকা।

বাজারে এক লিটার পানির বোতলের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা। তবে এমন খাবার পানিও আছে যার এক লিটার কিনতেই গুনতে হয় লাখ লাখ টাকা। শুনতে বিস্ময়কর হলেও প্রাপ্তিস্থান, স্বাদ, বিশুদ্ধতা আর বোতলের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বে কিছু বোতলজাত পানির দাম রীতিমতো আকাশছোঁয়া।

এমনই দামি ১০টি প্রতিষ্ঠানের পানি সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

১. অ্যাকোয়া ডি ক্রিস্টালো ট্রিবুটো আ মডিগ্লিয়ানি

বিশ্বের সবচেয়ে দামি পানি এটি। ২৪ ক্যারট সোনা দিয়ে তৈরি এই পানির ৭৫০ মিলিলিটারের বোতল। ফিজি ও ফ্রান্সের ঝরনা থেকে সংগ্রহ এই পানি স্বচ্ছতা ও স্বাদের দিক থেকে অন্য সব পানীয় থেকে একেবারেই আলাদা। এক বোতল ৭৫০ মিলিলিটারের অ্যাকোয়া ডি ক্রিস্টালো ট্রিবুটো আ মডিগ্লিয়ানি কিনতে গুনতে হবে ৬০ হাজার ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৫১ লাখ টাকা।

২. কোনা নিগারি

কোনা নিগারি প্রস্তুতকারীদের দাবি, তাদের পানি পান করলে দ্রুত সতেজ হওয়া যায়, ওজন কমে, ভালো থাকে ত্বক। হাওয়াইয়ে দ্বীপপুঞ্জের গভীর সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করা এই পানির ৭৫০ মিলিলিটারের এক বোতলের দাম ৪০২ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৪ হাজার ১৭০ টাকা।

এক লিটার পানির দাম ৬৮ লাখ টাকা!

৩. ফিলিকো

দাবার ঘুঁটির রাজা-রানির আদলে তৈরি এই পানির বোতলে ব্যবহার হয়েছে স্বরোভস্কি ক্রিস্টাল। স্বাদ ও বিশুদ্ধতার পাশাপাশি রাজকীয় এই বোতলের জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা রয়েছে ফিলিকোর। জাপানের কোবেতে নুনোবিকি ঝরনা থেকে সংগ্রহ এই পানির ৭৫০ মিলিলিটারের দাম ২১৯ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৮ হাজার ৬১৫ টাকা।

এক লিটার পানির দাম ৬৮ লাখ টাকা!

৪. ব্লিং এইচ২ও

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির গ্রেট স্মোকি মাউন্টেনসের ইংলিশ মাউন্টেন ঝরনা থেকে সংগ্রহ করা হয় এই পানি। তারপর ৯ ধাপে পরিশুদ্ধ করে এই পানি বোতলজাত করা হয়। পানির স্বাদ ও বোতলের কারুকার্যের জন্য ধনীদের কাছে এই পানির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ৭৫০ মিলিলিটারের এক বোতল ব্লিং এইচ২ও পানির দাম ৪০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় পড়বে ৩ হাজার ৪০০ টাকা।

এক লিটার পানির দাম ৬৮ লাখ টাকা!

৫. ভিন

ফিনল্যান্ডের টেঙ্গেলিও গ্রামের কাছে ফিনিশ ল্যাপল্যান্ডে একটি ঝরনা থেকে সংগ্রহ করা হয় এই পানি। দাবি করা হয়ে থাকে, এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানি। দ্রুত তেষ্টা মেটাতে এই পানির সুনাম রয়েছে। এই পানির ৭৫০ মিলিলিটারের এক বোতলের দাম ৩২ ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ২ হাজার ৭২০ টাকা।

এক লিটার পানির দাম ৬৮ লাখ টাকা!

৬. টেন থাউজ্যান্ড বিসি

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার হ্যাট মাউন্টেন গ্লেসিয়ার থেকে সংগ্রহ করা হয় এই পানি। হিমবাহ থেকে আসা বিশুদ্ধ এই পানি দাম আকাশছোঁয়া। ৭৫০ মিলিলিটারের এক বোতল পানির দাম ১৪ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা পড়বে ১ হাজার ১৯০ টাকা।

এক লিটার পানির দাম ৬৮ লাখ টাকা!

৭. অ্যাকোয়া ডেকো

ডেকো অর্থ শিল্প। জাঁকালো বোতলের জন্য এই পানিকে ডাকা হয় অ্যাকোয়া ডেকো নামে। কানাডার একটি দুর্গম ঝরনা থেকে সংগ্রহ করা হয় এই পানি। ৭৫০ মিলিলিটাররের এক বোতল অ্যাকোয়া ডেকোর দাম ১২ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় পড়বে ১ হাজার ২০ টাকা। বিলাসবহুল রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে এই পানির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

এক লিটার পানির দাম ৬৮ লাখ টাকা!

৮. লকুয়েন আর্টেস মিনারেল ওয়াটার

লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার দক্ষিণাঞ্চলের সাল কার্লোস বারিলপোসের গহিন অরণ্যে ভূপৃষ্ঠের ৫০০ মিটার নিচ থেকে এই পানি সংগ্রহ করা হয়। ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় থাকা এই পানি কেবল বোতলজাতের সময় পরিবেশের সংস্পর্শে আসে। ৭৫০ মিলিলিটারের এক বোতল পানির কিনতে গুনতে হয় ৬ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা পড়বে ৫১০ টাকা।

এক লিটার পানির দাম ৬৮ লাখ টাকা!

৯. তাসমানিয়া রেইন

দূষণমুক্ত আকাশের জন্য সুপরিচিত অস্ট্রেলিয়ায় তাসমানিয়া রাজ্য। বৃষ্টি হয়ে এই পানি মাটিতে পড়ার আগেই করা হয় বোতলবন্দি। স্বাস্থ্যকর এই পানির ৭৫০ মিলিলিটারের দাম ৫ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪২৫ টাকা।

এক লিটার পানির দাম ৬৮ লাখ টাকা!

১০. ফাইন

জাপানের মাউন্ট ফুজির আগ্নেয় পাথরে প্রাকৃতিকভাবে পরিশোধিত এই পানি খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ ও দূষণমুক্ত। মানবসৃষ্ট কোনো দূষণ এই পানিকে এখনও স্পর্শ করতে পারেনি। মৃদু গন্ধযুক্ত এই পানি ২০০৫ সালে বোতলজাত করে বিক্রি শুরু হয়। এই পানির ৭৫০ মিলিলিটারের দাম ৫ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪২৫ টাকা।

এক লিটার পানির দাম ৬৮ লাখ টাকা!

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লায় সহিংসতা: নিখুঁত তদন্ত রিপোর্ট চাইলেন ডিসি

কুমিল্লায় সহিংসতা: নিখুঁত তদন্ত রিপোর্ট চাইলেন ডিসি

কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে গত বুধবার কুমিল্লার পূজামণ্ডপে ভাঙচুর করা হয়। ছবি: নিউজবাংলা

ডিসি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে আরও তথ্য ও গ্রেপ্তার আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে। তাই তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি, আমরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন পেয়ে তা প্রকাশ করব।’

কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে কোরআন অবমাননার অভিযোগ ও এর জেরে সহিংসতার ঘটনায় নিখুঁত তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন জেলা প্রশাসক।

প্রতিবেদন জমা দেয়ার শেষ দিন সোমবার তদন্ত কমিটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) কামরুল হাসানের কাছে কয়েকজন সাক্ষীসহ গিয়ে প্রতিবেদন জমা দিলে তিনি আরও তথ্য ও তদন্ত চান।

ডিসি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনে আরও তথ্য ও গ্রেপ্তার আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন আছে। তাই তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি, আমরা আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন পেয়ে তা প্রকাশ করব।’

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ে একটি পূজামণ্ডপে গত বুধবার কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে ভাঙচুর করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুল আরেফিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ ও আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া আফরিন।

শেয়ার করুন

সন্তানকে খুনের কথা জানিয়ে জ্ঞান হারালেন মা

সন্তানকে খুনের কথা জানিয়ে জ্ঞান হারালেন মা

প্রতীকী ছবি।

শুক্রবার ৪ মাসের সন্তানকে নিয়ে ভাসুরের বাড়িতে বেড়াতে আসেন ফাতেমা আক্তার। সোমবার সকালে বাড়ির সবাইকে তিনি জানান, শ্বাসরোধ করে সন্তানকে হত্যা করেছেন। এরপরপর জ্ঞান হারান।

গাজীপুরের কাশিমপুরে এক নারীর বিরুদ্ধে সন্তান হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

পূর্ব এনায়েতপুর এলাকায় সোমবার সকাল ৬টায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত শিশুর নাম মোহাম্মদ আবিদুর রহমান। ৪ মাসের আবিদুরের বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানায়।

কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবে খোদা এসব নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে তিনি জানান, চার মাসের আবিদুরকে নিয়ে গত শুক্রবার ভাসুরের বাড়িতে বেড়াতে আসেন মা ফাতেমা আক্তার।

সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সবাইকে তিনি জানান, আবিদুরকে শ্বাসরোধ করে করেছেন। এরপরপর অচেতন হয়ে পড়েন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গাজীপুর পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করে।

ওসি বলেন, ‘মৃতের গলায় আঙ্গুলের ছাপ রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

কাশিমপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হান সন্ধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, শিশুর মায়ের জ্ঞান ফিরেছে। চিকিৎসকের ছাড়পত্র পেলে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

শেয়ার করুন

আয় আরও বেড়েছে কন্টিনেন্টালের

আয় আরও বেড়েছে কন্টিনেন্টালের

তিন প্রান্তিক মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৩২ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স গত বছরের তুলনায় আরও বেশি আয় করার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পেরেছে।

চলতি বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনটি প্রান্তিকেই আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি আয় করেছে কোম্পানিটি।

সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকাশ করেছে।

এতে দেখা যায়, এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৫৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩৩ পয়সা।

তিন প্রান্তিক মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৩২ পয়সা।

এর আগের দুই প্রান্তিকেও কোম্পানিটি আগের বছরের তুলনায় বেশি আয় করতে পেরেছিল।

গত জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১৭ পয়সা। ২০২০ সালে একই সময়ে এই আয় ছিল ৯৯ পয়সা।

এর মধ্যে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে আয় ছিল ৭০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫৬ পয়সা।

এর আগে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করে ৪৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

সেপ্টেম্বর শেষে কন্টিনেন্টালে শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৫১ পয়সা, যা জুন শেষে ছিল ১৯ টাকা ৮০ পয়সা।

২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ২৯ পয়সা আয় করে ৬০ পয়সা করে নগদ ও প্রতি ১০০ শেয়ারে ৪টি বোনাস শেয়ার দেয়া কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগ করে শেয়ারধারীরা শুরুতে বেশ মুনাফা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে হতাশ হয়েছেন।

২০২০ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এক দফায় এবং চলতি বছরের মার্চের শেষ প্রান্তিক থেকে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় শেয়ার মূল্যে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও গত চার মাস ধরে দাম কমছে।

গত বছরের মে মাসে শেয়ার মূল্য ২০ টাকার নিচে থাকলেও অক্টোবরে তা ৬০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। পরে তা কমতে কমতে এক পর্যায়ে মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ৩০ টাকায় নেমে আসে। এরপর আরেক দফা উত্থানে মে মাস নাগাদ আবার ৬০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধনে দাম কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ২০ পয়সা।

শেয়ার করুন

দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ

দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ

চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

ইআরডি বলছে, দেশের শিল্পকারখানাগুলো তুলনায় বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। দেশে দেশে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও চাকরির ক্ষেত্রে এখনও তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন খাতে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের লক্ষ্যে উচ্চ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি ও নতুন করে কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার বা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে উন্নয়ন সংস্থা বিশ্বব্যাংক। এ অর্থে দেশের কারিগরি খাতের দক্ষতা উন্নয়ন করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা জানিয়েছে সরকার।

সোমবার এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-ইআরডি।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন এবং ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

ইআরডি বলছে, দেশের শিল্পকারখানাগুলো তুলনায় বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। দেশে দেশে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও চাকরির ক্ষেত্রে এখনও তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন খাতে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের লক্ষ্যে উচ্চ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শ্রম উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জেন্ডার আয়ের সমতা বিধান এবং কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ করে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হাতকে আরও দক্ষ করে তুলতে হবে। এসব বিবেচনায় সরকার ‘এক্সিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ইকনোমিক ট্রান্সফরমেশন (এসেট)’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (আইডএ) এ ঋণ অ্যাসেট প্রকল্পে ব্যয় হবে।

আইডিএ অর্থায়নের এই ঋণ পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ (এ সময়ের মধ্যে কোনো ঋণ পরিশোধ করতে হবে না) ৩০ বছরে শোধ দিতে হবে। ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বাৎসরিক দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ ও ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের উপর দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি দিতে হবে।

এ প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ যুবক ভবিষ্যৎ চাহিদা উপযোগী কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ পাবে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে এ প্রকল্পে প্রধান বাস্তবায়নকারী থাকবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। সহবাস্তবায়ন সংস্থা হিসেবে থাকবে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে।

শেয়ার করুন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহবুবা রায়না। ছবি: সংগৃহীত

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

কিশোরগঞ্জে পাঁচ বছর ধরে স্কুলে না পড়িয়েও বেতন ভাতা তোলা সেই বিতর্কিত শিক্ষিক মেহবুবা রায়নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পরদিনই ওই শিক্ষক চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক রোববার রায়নার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলার তদন্ত তার অধীনেই হবে।

তিনি জানান, স্কুলে না গিয়ে মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সুব্রত জানান, সোমবার মেহবুবা রায়না উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন।

করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ (সোমবার) দুপুরে ডাকযোগে মেহবুবা রায়নার চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র পেয়েছি। তার আবেদন পত্রে নানা ভুল-ত্রুটি রয়েছে। সেখানে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। চাকরি থেকে কবে তিনি অব্যাহতি নিতে চান সে বিষয়েরও কোনো উল্লেখ নেই।’

এ কর্মকর্তা জানান, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে তার সামনে সাক্ষর করে আবেদন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রায়না ডাকযোগে আবেদন করেছেন।

তাছাড়া অব্যাহতির বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক সহকারী কর্মকর্তাকেও অবগত করেননি ওই শিক্ষক।

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন, শিক্ষক রায়নার অব্যাহতির আবেদন

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বিষয়গুলো উল্লেখ করে রায়নাকে পুনরায় চিঠি পাঠানো হবে।’

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

এরপরপই ফেসবুকে কিশোরগঞ্জ জেলাভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় সমালোচনা। এই অনিয়মের জন্য জেলা এবং উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়ী করে মন্তব্য করেন অনেকে।

রায়না ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের ওপর স্নাতক শেষ করে এখন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। তিনি ২০১৬ সালে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০১৪-২০১৫ সেশনে।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ২০১৬ সালে রায়না স্কুলে যোগ দিয়ে তিনমাস নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন। এরপর স্কুলে যাননি টানা তিন বছর। ২০২০ সালের মার্চে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে ছয় মাস মাঝেমধ্যে আসতেন। করোনা শুরু হলে অন্যান্য শিক্ষকরা স্কুলে এলেও তিনি আসেননি এক দিনের জন্যও।

স্কুলটির একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সারা বছর পরিশ্রম করে যে বেতন পাই, রায়না তার কিছুই না করেও একই বেতন পাচ্ছেন।

‘রায়না সরকারি চাকরি করে কর্মস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বিষয়টি গোপন করেছেন, আবার অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকরির ব্যাপারটা গোপন করেছেন। তিনি একসঙ্গে দুটি অপরাধ করেছেন।’

রায়নার ফেসবুক প্রোফাইল চেক করে দেখা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার তথ্য সেখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি ময়মনসিংহে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত আপডেটও করেন।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রায়নার নামও বলতে পারেনি। কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘হেই ম্যাডাম পহেলা কয়েকদিন ইস্কুলে আইছে, পরে আর আইছে না। হের লাইগ্যে হেই ম্যাডামের নামটা মনে নাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মেহবুবা রায়না বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়।’

তিনি জানান, রায়না চাকরিতে যোগ দেয়ার পর তিনি বিভিন্ন মেয়াদে শুধু মেডিক্যাল ছুটি কাটিয়েছেন ২১৩ দিন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তার কৈফিয়ত তলব করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়।

এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করেন৷ তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি জানান, রায়না ওয়ার্কশিট বিতরণ ও মূল্যায়ন এবং অভিভাকদের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করেননি৷ তাকে প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জানালেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি।

পরে রায়নার বেতন বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন মফিজুল ইসলাম। আর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেহবুবা রায়নাকে শোকজ করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এর জবাব দেন রায়না। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় রায়নার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফাইলটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে রায়নার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে মেসেজ দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার হোয়াটস অ্যাপ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার বার্তা পাঠানোর পর তিনি নিউজবাংলার প্রতিবেদকে ব্লক করে দেন।

শেয়ার করুন

‘সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি’

‘সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি’

বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশালে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল বলেন, তারেক জিয়ার নেতৃত্বে নানা অপকর্ম হয়েছে। মানুষটির মগজ থেকে ২১ আগস্টের মত ঘটনা তৈরি হয়েছে। তার দল বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখছে।

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

সোমবার বিকালে বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সংঘাত নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। তারা মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেও ধর্মান্ধ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেয়। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন ঠেকানোর নামে দলটি সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়েছিল।

ফেসবুকে যারা গুজব ছড়াবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে আফজাল আরও বলেন, তারেক জিয়ার নেতৃত্বে নানা অপকর্ম হয়েছে। মানুষটির মগজ থেকে ২১ আগস্টের মত ঘটনা তৈরি হয়েছে। তার দল বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখছে।

তিনি বলেন, যেসব স্থানে হামলা, ভাংচুর হয়েছে সেখানে স্থানীয়ভাবে সংকট থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তি সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে আফজাল বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য আওয়ামী লীগ একাট্টা। সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টি করে যারা হত্যা, সন্ত্রাস করে তাদের বিচার হবে না, তা হতে পারে না।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলা ঠেকাতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

দক্ষিণাঞ্চলের দলীয় সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো: ইউনুস, ঝালকাঠী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনিরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি জালিয়াতির প্রধান আসামির জামিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নথি জালিয়াতির প্রধান আসামির জামিন

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

নথি জালিয়াতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে নথিটি গেলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে একজনের নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশের নামে প্রতারণার অভিযোগ ছিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে।

দুদকের করা এই প্রতারণার মামলায় সোমবার জামিন পেয়েছেন প্রধান আসামি শাহজাহান।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে তিনি আইনজীবী শাহীনুল ইসলাম অনির মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। দুদকের পক্ষ থেকে তার জামিনের বিরোধিতা করেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ২০ হাজার টাকা মুচলেকায় ১১ নভেম্বর পর্যন্ত শাহজাহানের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের পেশকার ফয়েজ আহমেদ।

মামলাটির নথি থেকে জানা যায়, গত বছর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য তিনজনের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। যাদের নাম প্রস্তাব করা হয় তারা হলেন- ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এনামুল হক, বুয়েটের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর এম আবদুস সালাম আজাদ।

সেই প্রস্তাবপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি অধ্যাপক ড. এম এনামুল হকের নামের পাশে টিক চিহ্ন দেন। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য নথিটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিস সহকারী ফাতেমার কাছে ওই প্রস্তাবপত্র। এ সময় তিনি এম আবদুস সালাম আজাদ অনুমোদন না পাওয়ার গোপনীয় তথ্য ছাত্রলীগ নেতা তরিকুলকে ফোনে জানিয়ে দেন।

পরে ২০২০ সালের ১ মার্চ নথিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কৌশলে বের করে ৪ নম্বর গেটের সামনে আসামি ফরহাদের হাতে তুলে দেন ফাতেমা। পরে এই নথিতে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ বিকৃত করেন আসামিরা। এই কাজের জন্য ফাতেমাকে তারা ১০ হাজার করে বিকাশে মোট ২০ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ।

৩ মার্চ আসামিরা নথিটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠালেও এক পর্যায়ে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। জালিয়াতির ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৭ মোহাম্মদ রফিকুল আলম বাদি হয়ে গত ৫ মে মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

অভিযোগ দুদকের এখতিয়ারভুক্ত হওয়ায় কমিশনের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী পরে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত বদলে দেয়ায় অভিযুক্তরা হলেন- নর্থ সাউথ ইউনির্ভাসিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি (বহিষ্কৃত) তরিকুল ইসলাম মমিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মচারী ফাতেমা খাতুন, নাজিম উদ্দীন, রুবেল, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফরহাদ হোসেন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সাবেক কোষাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর এম আবদুস সালাম আজাদ ও রবিউল আউয়াল।

শেয়ার করুন