যতদিন বিজেপি, ততদিন ন্যাড়া

যতদিন বিজেপি, ততদিন ন্যাড়া

কলকাতার আদিগঙ্গার পাড়ে বসে ন্যাড়া হন আশিস দাস

কলকাতার আদিগঙ্গার পাড়ে বসে ন্যাড়া হয়ে, যজ্ঞ করে বিজেপিতে যোগ দেয়ার প্রায়শ্চিত্ত করেন ত্রিপুরার সুরমা বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস।

ত্রিপুরার বিজেপি সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত মাথা ন্যাড়া করেই রাখবেন বলে পণ করেছেন রাজ্যটির সুরমা বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস। বিজেপি ছেড়ে তিনি এবার তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন।

কলকাতার আদিগঙ্গার পাড়ে বসে ন্যাড়া হয়ে, যজ্ঞ করে তবেই শুদ্ধ হন আশিস। তিনি বলেন, ‘বিজেপিতে যোগ দেয়া আমার অপরাধ হয়েছিল। আমি তার প্রায়শ্চিত্ত করছি।’

বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত না হওয়া পর্যন্ত মাথায় চুল রাখবেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ত্রিপুরা ও আরও কিছু রাজ্যের বিজেপি নেতারা প্রায়শ্চিত্ত করতে চান। আশিস বাবু অনুভব করেছেন, মানুষ কি চাইছেন, আর কি চাইছেন না? ওর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি।’

বিজেপিতে যোগ দেয়ার প্রায়শ্চিত্ত করতে মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় বিব্রত ত্রিপুরা বিজেপির নেতা সুব্রত চক্রবর্তী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশিসবাবু এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আসলে অপমান করলেন তার ভোটারদের। যাদের দয়ায় তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।’

পাল্টা আক্রমণ করে আশিস দাস বলেন, ‘কোনটা মুখ আর কোনটা মুখোশ, মানুষ বুঝে গেছে। তাই মা মাটি মানুষের প্রতি মানুষের সমর্থন বাড়ছে।’

আশিস দাস এখনও সুরমার বিজেপি বিধায়ক পদে ইস্তফা দেননি। তবে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন এবং বুধবারই যোগ দিচ্ছেন বলে খবর।

ত্রিপুরার মাটিতে সংগঠন মজবুত করতে এখন সক্রিয় তৃণমূল। বিজেপি ছেড়ে রাজ্যটির অনেকেই তৃণমূলে যোগ দেয়ার পায়তারা করছেন।

বিপ্লব দেব এবং ত্রিপুরা বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রসঙ্গে সুদীপ রায় বর্মন শিবিরের আশিস দাসের বক্তব্য, ‘একা বিপ্লব দেবকে দায়ী করে কোন লাভ নেই। দায়ী আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারাও। মাঝে মাঝে তারা প্রতিনিধি পাঠান। কিন্তু মাটির খবর রাখেন না। দলে কি চলছে তার খোঁজ রাখেন না।’

আরও পড়ুন:
ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা তৃণমূল-সিপিএম
ত্রিপুরায় মানিক সরকারের কনভয়ে বিজেপির হামলা
বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূলের প্রশংসায় সিপিএম
টিলাভাঙনে বিলীন হচ্ছে ত্রিপুরা পল্লি
জনমত যাচাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাকলেন জনসমাবেশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেঘনা থে‌কে কোস্ট গার্ড সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

মেঘনা থে‌কে কোস্ট গার্ড সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

হিজলা উপ‌জেলার হ‌রিনাথপুর ইউ‌নিয়নসংলগ্ন মেঘনা নদী‌ থে‌কে বৃহস্প‌তিবার সকা‌লে পার‌ভেজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন কোস্ট গার্ড ব‌রিশাল স্টেশ‌নের মি‌ডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট এস এম তাহ‌সিন রহমান।

ব‌রিশা‌লের মেঘনা নদী থে‌কে নি‌খোঁ‌জের দুই দিন পর কোস্ট গার্ড সদস‌্যের মরদেহ উদ্ধার ক‌রা হ‌য়ে‌ছে।

হিজলা উপ‌জেলার হ‌রিনাথপুর ইউ‌নিয়নসংলগ্ন মেঘনা নদী‌ থে‌কে বৃহস্প‌তিবার সকা‌লে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত কোস্ট গার্ড সদস্যের নাম পার‌ভেজ বলে নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ড ব‌রিশাল স্টেশ‌নের মি‌ডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট এস এম তাহ‌সিন রহমান।

তি‌নি জানান, মঙ্গলবার ভো‌রে হিজলার মেমা‌নিয়া ইউ‌নিয়নসংলগ্ন মেঘনা নদী‌তে জে‌লে‌দের ট্রলা‌রের সঙ্গে কোস্ট গা‌র্ডের ট্রলা‌রের সংঘর্ষ হয়। এ‌তে কোস্ট গা‌র্ডের ট্রলার‌ থে‌কে দুজন নদী‌তে প‌ড়ে যান।

এ সময় একজনকে উদ্ধার করা গেলেও পার‌ভেজ নি‌খোঁজ ছি‌লেন।

আরও পড়ুন:
ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা তৃণমূল-সিপিএম
ত্রিপুরায় মানিক সরকারের কনভয়ে বিজেপির হামলা
বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূলের প্রশংসায় সিপিএম
টিলাভাঙনে বিলীন হচ্ছে ত্রিপুরা পল্লি
জনমত যাচাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাকলেন জনসমাবেশ

শেয়ার করুন

মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

মুগদা হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগে। বাহিনীর সাত ইউনিট ১২টা ৫৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আগুন লাগে। বাহিনীর সাত ইউনিট ১২টা ৫৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া অফিসার মো. রায়হান নিউজবাংলাকে বলেছিলেন, ‘হাসপাতালের ছয় তলায় আগুন লেগেছে। তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।’

আগুন কীভাবে লেগেছে কিংবা এতে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

আরও পড়ুন:
ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা তৃণমূল-সিপিএম
ত্রিপুরায় মানিক সরকারের কনভয়ে বিজেপির হামলা
বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূলের প্রশংসায় সিপিএম
টিলাভাঙনে বিলীন হচ্ছে ত্রিপুরা পল্লি
জনমত যাচাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাকলেন জনসমাবেশ

শেয়ার করুন

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

উজানের ঢলে এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। ছবি: নিউজবাংলা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর ডালিয়ার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার পর তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এক দিনের বন্যা ও ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তিস্তার তীরবর্তী নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব এলাকার অর্ধলাখ মানুষ। চোখের সামনে ঘরবাড়ি, ফসল বন্যায় নষ্ট হতে দেখে বলার ভাষা হারিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে।

নীলফামারী

উজানের ঢলে বুধবার ভোরে প্রথম বিধ্বস্ত হয় ভারত-বাংলাদেশের জিরো পয়েন্টে থাকা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রোয়েন বাঁধ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, বাঁধের ৬০ মিটার ভেঙে যাওয়ায় তিন শতাধিক বসতঘরসহ কয়েক শ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়।

বন্যায় চরের শত শত হেক্টরের ভুট্টা, উঠতি আমন ধান, শাকসবজি, পুকুরের মাছ, বসতঘর ভেসে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পূর্বছাতনাই ঝাড় সিংহেশ্বর গ্রামের বৃদ্ধা মোহনা বেওয়ার। খোলা আকাশের নিচে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মোর (আমার) সব শেষ হইল (হয়েছে)। ঘর, গরু-ছাগল সব মোর এই বন্যা নিয়ে গেইল। অ্যালা (এখন) কি হইবে মোর?’

একই গ্রামের রজব আলী বলেন, ‘ফজর নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাই। তখন বাঁধ ভাঙার খবর পাই। নামাজ শেষে বের হয়ে দেখি নদীর পানি বাড়তাছে। ৩০ মিনিটের মধ্যে বাড়িতে কোমর পর্যন্ত পানি উঠে আসে।’

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

বাঁধ ভাঙার পরপরই নীলফামারী জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দ্রুত উদ্ধারকাজ চালায়।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ডিমলা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জিআরের ৪০ টন চাল ও টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শহর রক্ষা বাঁধসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়া বন্যা ও ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

ডিমলা উপজেলা ফায়ার সর্ভিসের ইনচার্জ এটি এম গোলাম মোস্তফা জানান, তিস্তার বন্যায় চর এলাকায় আটকে পড়া অসংখ্য পরিবারকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। এ কারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর ডালিয়ার বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার পর তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী (উত্তরাঞ্চল) জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বলেন, ‘এই বন্যায় তিস্তা ব্যারেজ ও নদী রক্ষার প্রায় ৯টি স্পার্ক, ক্রস ও গ্রোয়েন বাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

লালমনিরহাট

দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের লালমনিরহাট অংশে প্রচণ্ড পানির চাপে ফ্লাড বাইপাস বাঁধের ৩০০ মিটার ভেঙে যায়।

জেলা পাউবো সংশ্লিষ্টরা জানায়, ৬৯৬ মিটার দীর্ঘ এই ব্যারেজ রক্ষা বাঁধের ৩০০ মিটার ভেঙে যাওয়ায় নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

পাউবোর উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বলেন, ‘অনেক জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে; আমরা প্রটেক্টশন দেয়ার চেষ্টা করছি। এখনও আমাদের কাজ চলছে।’

রংপুর

তিস্তায় হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বানভাসীরা কেউ সড়কে, কেউ বাঁধে, কেউ বা আবার অস্থায়ী তাঁবুতে রাত কাটিয়েছেন। গৃহপালিত পশু রাখা হয়েছে সড়কের ওপর। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট।

হঠাৎ বন্যায় শত শত একর ফসলি জমির আবাদ নষ্ট হয়েছে। পানির তোড়ে কাঁচা রাস্তা বিলীন হয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

বানভাসী মজনু মিয়া বলেন, ‘নদী তো শুকনে ছিল। শুকনে নদীত হঠাৎ পানি। সেই পানি বাড়িঘর ভাসি গেইল। গরু-ছাগল, বাচ্চা নিয়ে আস্তাত আছি। খুব ক্ষতি হইচে।’

আরেক বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পানিতে বাড়ি যাওয়ার রাস্তা নাই। কষ্ট করি রাস্তার উপরে আছি। রান্না নাই, খাওয়াও নাই।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করি বন্যা আসি, ধান চাল সোগ শ্যাষ। ৬ দোন মাটির ধান কাটি থুচি আর সব ভাসি গেইচে। ছৈল পৈল নিয়ে কি খামো। কপাল নিয়ে গেইচে পানি।’

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

আব্দুল মজিত বলেন, ‘হামার আবাদি জমি সোগ তলে গেইচে। হঠাৎ এমন করি ভারত পানি ছাড়লে হামরা বাঁচমো ক্যামন করি? একে তো এবারের বানোত (বন্যা) হামার মেলা ক্ষয়ক্ষতি হইছে। তার ওপর এই অসময়ে ফির বান! নদীপাড়োত হামার সুখ-শান্তি নাই।’

বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গংগাচড়ার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, গজঘণ্টা লক্ষ্মীটারী ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের কোথাও আংশিক, কোথাও ৩ থেকে ৫টি পাড়াসহ তিস্তা নদীর উত্তরে গংগাচড়া উপজেলার সব মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে মানবতার জীবন যাপন করছেন। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি বলেন, ভয়াবহ এ বন্যায় ইউনিয়নের কেল্লারপাড়, শংকরদহ, বাগেরহাটসহ বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিস্তার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন যে পরিস্থিতি, তাতে আর দু-এক দিন এভাবে পানি বাড়তে থাকলে স্মরণকালের বন্যা হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘বুধবার বন্যাকবলিতদের ২০ টন চাল ও ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলো বিতরণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা তৃণমূল-সিপিএম
ত্রিপুরায় মানিক সরকারের কনভয়ে বিজেপির হামলা
বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূলের প্রশংসায় সিপিএম
টিলাভাঙনে বিলীন হচ্ছে ত্রিপুরা পল্লি
জনমত যাচাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাকলেন জনসমাবেশ

শেয়ার করুন

একাত্তরে গণহত্যা: ময়মনসিংহের ১২ জনকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

একাত্তরে গণহত্যা: ময়মনসিংহের ১২ জনকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল জানান, ‘প্রাথমিক তদন্তে হত্যা-গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আমরা তাদের গ্রেপ্তারে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করি। আদালত আমাদের আবেদন শুনানি করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।’

একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহ জেলার ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামসহ তিন সদস্যের আদালত এ আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও তাপস কান্তি বল।

আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাদের নাম বলতে রাজি হননি প্রসিকিউটররা। শুধু এটুকু জানিয়েছেন, আসামি সবাই ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জের বাসিন্দা।

প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল জানান, ১২ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এসব অভিযোগ আসায় তাদের গ্রেপ্তার করতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করি। আদালত আমাদের আবেদন শুনানি করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তারা ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার বাসিন্দা।’

আরও পড়ুন:
ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা তৃণমূল-সিপিএম
ত্রিপুরায় মানিক সরকারের কনভয়ে বিজেপির হামলা
বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূলের প্রশংসায় সিপিএম
টিলাভাঙনে বিলীন হচ্ছে ত্রিপুরা পল্লি
জনমত যাচাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাকলেন জনসমাবেশ

শেয়ার করুন

এক মাসে গরুর দুধের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

এক মাসে গরুর দুধের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বেড়েছে গরুর দুধের দাম। ছবি: নিউজবাংলা

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য শাহজাহান মাস্টার বলেন, ‘সারা বছর দুধের দাম কম থাকে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে আশ্বিন-কার্তিক মাসে দুধের দাম বেশি থাকে। গত শনিবার ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হয়েছে। কিছুদিন পর আগের দামে চলে যাবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এক মাসে দ্বিগুণ বেড়েছে গরুর দুধের দাম।

বাজারে প্রতি লিটার দুধ এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। গত মাসেও গরুর দুধের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৪০-৫০ টাকা।

বিক্রেতারা জানায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবের কারণে বেড়েছে দুধের চাহিদা। সরবরাহ সে অনুযায়ী দিতে না পারলেও দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হয়েছে গরুর দুধ।

উপজেলার আড়াউসিধা ইউনিয়নের চকবাজার থেকে মঙ্গলবার সকালে দুধ কিনতে আসেন দিদার মিয়া। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এ বাজারে দুধ বিক্রি হচ্ছে অর্ধশত বছর ধরে। তবে কিছুদিন থেকে দুধের দাম বাড়তি। কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

‘আগে এ বাজারে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হতো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা করে। আর এই অক্টোবর মাসে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত। সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।’

এক মাসে গরুর দুধের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

ইদ্রিস হোসেন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘আশ্বিন কার্তিক মাসে আমাদের এলাকায় বিয়ের আমেজ থাকে। তা ছাড়া সনাতন ধর্মীদেরও চলছে পূজার আমেজ। তাই দুধের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আজকে এক লিটার দুধ নিতে হয়েছে ৯০ টাকায়।’

দুধ বিক্রেতা নাহিদ মিয়া বলেন, ‘এক মাস ধরে দুধের ভালো দাম পাচ্ছি। আগে ৪০ টাকা লিটার বিক্রি করতাম। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকা করে বিক্রি করছি। সারা বছর এই দামে বিক্রি করতে পারলে গাভী পালন করে লাভবান হতে পারতাম।’

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য শাহজাহান মাস্টার বলেন, ‘এ বাজারে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ মণ দুধ বিক্রি হয়। সারা বছর দুধের দাম কম থাকে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে আশ্বিন কার্তিক মাসে দুধের দাম বেশি থাকে। গতকাল শনিবার ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হয়েছে। কিছুদিন পর আগের দামে চলে যাবে।’

আরও পড়ুন:
ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা তৃণমূল-সিপিএম
ত্রিপুরায় মানিক সরকারের কনভয়ে বিজেপির হামলা
বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূলের প্রশংসায় সিপিএম
টিলাভাঙনে বিলীন হচ্ছে ত্রিপুরা পল্লি
জনমত যাচাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাকলেন জনসমাবেশ

শেয়ার করুন

ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

ফেনীতে স্ত্রীকে হত্যায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি। ছবি: নিউজবাংলা

ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বারাহিপুর এলাকা ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল ফেসবুকে লাইভে এসে স্ত্রীকে হত্যা করেন টুটুল।

ফেনী শহরের বারাহিপুর এলাকায় ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে আসামি ওবায়দুল হক টুটুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম জেবুন্নেছা বৃহস্পতিবার দুপুরে এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দাম্পত্য কলহের জেরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন স্বামী টুটুল।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল এই ঘটনা ঘটে।

ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বারাহিপুর এলাকার টুটুল এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের তাহমিনার বিয়ে হয় প্রায় পাঁচ বছর আগে। তাদের একমাত্র সন্তানের বয়স ঘটনার সময় ছিল দেড় বছর।

ঘটনার দিন ফেসবুকে লাইভে এসে টুটুল জানান, পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি স্ত্রীকে হত্যা করছেন। শিশুকন্যাকে দেখভালের জন্য তিনি সবার কাছে অনুরোধ করেন এবং হত্যার ঘটনার জন্য মাফও চান।

এরপর তাহমিনাকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় তাহমিনার বাবা সাহাব উদ্দিন ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার করা হয় টুটুলকে।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর টুটুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি শুরু হয় মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। ১৩ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষে বৃহস্পতিবার এই রায় দেয় আদালত।

রায় ঘোষণার পর নিহত তাহমিনার বাবা সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি... সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

এই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু। তিনি নোয়াখালীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলারও আইনজীবী ছিলেন। তাহমিনা হত্যা মামলা নিজ খরচে তিনি পরিচালনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘অল্প সময়ে মামলাটির বিচারকাজ শেষ হয়েছে। এ রায়ের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। আমরা সুবিচার পেয়েছি। মাত্র ৬০ কার্যদিবসে এই হত্যার বিচার হয়।’

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস সাত্তার জানান, সুবিচার হয়নি। উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

আরও পড়ুন:
ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা তৃণমূল-সিপিএম
ত্রিপুরায় মানিক সরকারের কনভয়ে বিজেপির হামলা
বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূলের প্রশংসায় সিপিএম
টিলাভাঙনে বিলীন হচ্ছে ত্রিপুরা পল্লি
জনমত যাচাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাকলেন জনসমাবেশ

শেয়ার করুন

দেশ উন্নয়নশীল হলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে না, বাড়বে

দেশ উন্নয়নশীল হলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে না, বাড়বে

রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মনীতির আওতায় যেসব বিকল্প সহায়তা পাওয়া যাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেগুলো আমরা নেব, নিতে পারব। কাজেই আমার মনে হয় এখানে কোনো অসুবিধা হবে না।…সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার থেকেও সুবিধা অর্জন করতে পারব আরও অনেক অনেক বেশি।’

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে বাংলাদেশ বাণিজ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে না, বরং আরও অনেক বেশি সুবিধা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজধানীর পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’-এর উদ্বোধনের সময় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান।

অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মনীতির আওতায় যেসব বিকল্প সহায়তা পাওয়া যাবে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সেগুলো আমরা নেব, নিতে পারব। কাজেই আমার মনে হয় এখানে কোনো অসুবিধা হবে না।

‘অনেকের হয়তো একটু সন্দেহ থাকতে পারে, উন্নয়নশীল দেশ হলে বোধ হয় অনেক সুবিধা বঞ্চিত হব। সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার থেকেও সুবিধা অর্জন করতে পারব আরও অনেক অনেক বেশি।’

সুবিধা অর্জন করার সুযোগটা ‘বড় বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে আমরা আরও সুযোগ পাব রপ্তানি সম্প্রসারণ করতে, দেশের বিনিয়োগ সম্প্রসারণ করতে।’

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাইরে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও সরকার তৈরি করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমরা আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, অনেক দেশে আমরাও বিনিয়োগ করতে পারি। আমাদের ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করতে পারেন। বেসরকারি খাতও বিনিয়োগ করতে পারবে। আমি ভবিষ্যতে সেই সুযোগটাও সৃষ্টি করব। তার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

নিজের উন্নয়ন দর্শন তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা ছিল বলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ থেকে ধারাবাহিকভাবে এই ২০২১ সাল পর্যন্ত সরকারে আছি বলেই প্রকৃতপক্ষে উন্নয়নটা আমরা পরিকল্পিতভাবে করতে পেরেছি। যার জন্য আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল বাংলাদেশের মর্যাদাটা পেয়েছে। এটাই আমাদের বড় একটা অর্জন।

‘সেজন্য আমি বাংলাদেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানাই, কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা আমাদের প্রতি নির্বাচনে সহযোগিতা করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন, ভোট দিয়েছেন তাদেরও আমি ধন্যবাদ জানাই।’

মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে ‘কিপ্টামি’ নয়

দেশের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা ও বাজার বাড়াতে মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সেখানে কিন্তু কিপ্টামি চলবে না।’

এ সময় রপ্তানি বাজারে টিকে থাকতে ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা তৈরির ওপরও তাগিদ দেন সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘যখনই আপনারা কোনো পণ্য উৎপাদন করবেন সময়ের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে বা কোন দেশের জন্য করছেন, সেখানকার চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে উন্নতমানের (পণ্য) উৎপাদন করতে হবে। সেখানে কিন্তু কিপ্টামি করলে চলবে না। কাজেই সেটা যদি করতে পারেন, বাজারে টিকে থাকতে পারবেন।’

পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন বাজার তৈরিতে উদ্যোক্তাদের নজর দেয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের যত শিল্প খাত আছে, তাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সেই প্রস্তুতিতে আমি এতটুকু বলতে পারি, আপনাদের সরকারের পক্ষ থেকে যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেই সহযোগিতাটা আপনারা পাবেন। সেটা আপনাদের আমরা দেব, কিন্তু আপনাদের সেই উদ্যোগ থাকতে হবে।

‘ব্যাবসায়িক সম্প্রদায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো তাদের সবাইকে আমি এই অনুরোধটা করব, আপনারা এই চেষ্টাটা করবেন; আমাদের পণ্যের আরও বহুমুখীকরণ করা, রপ্তানি বাস্কেটটা আরও বৃদ্ধি করা এবং কোন ধরনের পণ্য কোন দেশে আমরা রপ্তানি করতে পারি, সে বিষয়টার ওপর আরও গুরুত্ব দেয়া এবং সেভাবে পণ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা নেয়া।’

আরও পড়ুন:
ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা তৃণমূল-সিপিএম
ত্রিপুরায় মানিক সরকারের কনভয়ে বিজেপির হামলা
বিজেপির সমালোচনা করে তৃণমূলের প্রশংসায় সিপিএম
টিলাভাঙনে বিলীন হচ্ছে ত্রিপুরা পল্লি
জনমত যাচাইয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাকলেন জনসমাবেশ

শেয়ার করুন