আ.লীগের সাবেক এমপি মিজানুরের ‘দেড় কোটি টাকার’ অবৈধ সম্পদ

আ.লীগের সাবেক এমপি মিজানুরের ‘দেড় কোটি টাকার’ অবৈধ সম্পদ

মিজানুর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে খুলনা সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাঁচ বছর মেয়াদে নানা অভিযোগ ওঠার পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় খুলনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

এতে ২০ লাখ টাকার সম্পদ গোপনসহ ১ কোটি ৫৮ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা দুদক পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ সম্প্রতি এই প্রতিবেদন জমা দেন। আগামী ১০ অক্টোবর অভিযোগপত্র গ্রহণের ওপর শুনানি হবে।

দুদকের আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা মো. জুলফিকার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

২০১৯ সালের ৭ আগস্ট ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করে দুদক।

সংসদ সদস্য থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখায় তার বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়।

মিজানুর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে খুলনা সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাঁচ বছর মেয়াদে নানা অভিযোগ ওঠার পর ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখলের কাজ চলছে। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে পৌর শহরের চৌরাস্তা হাটের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় কোনো বাধা ছাড়াই জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও ভবন নির্মাণ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জমিটি দখলমুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ চলছে অবাধে ও প্রকাশ্যেই।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

পৌরসভা দপ্তরে সূত্রে জানা যায়, বাজারটি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পৌরসভা থেকে বার্ষিক ইজারায় দেয়া হয়। এরপর থেকে আর ইজারা দেয়া হয়নি। ভূমি অফিসের লোকজনের সহায়তায় সেখানে রাতারাতি অবৈধভাবে আধাপাকা বাড়ি, পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন এলাকার প্রভাবশালীরা।

হাটের জায়গায় ব্যক্তি মালিকানায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় পরে কর্তৃপক্ষ তা বাজার হিসেবে ইজারা দিতে চাইলেও প্রভাবশালী দখলদারদের ভয়ে কেউ লিজ নিতে রাজি হয়নি।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪-৮৫ এবং ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে দুটি মিস কেসের মাধ্যমে চৌরাস্তা হাটের সম্পত্তি পেরিফেরিভুক্ত করে ভূমি অফিস।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

বাজারের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ২০০৯ সালে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ওই বছরই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাস্তবায়নে পীরগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলেও সে সময় কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সেই সুযোগে শহরের প্রাণকেন্দ্র রঘুনাথপুর মৌজায় (ঢাকাইয়াপট্টি) পেরিফেরিভুক্ত চৌরাস্তা হাটের উত্তর পূর্বাংশে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনার কাজ শুরু করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি ইমদাদুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব।

শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি হাটের জমি দখল করতে ইমদাদুল হক সীমানা প্রাচীর তুলছেন। আর বিপ্লব ওই জমিতে বানাচ্ছেন বহুতল ভবন।

বিষয়টি নজর আসলে দখল ঠেকাতে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিমকে নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহাবুবুর রহমান।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

ডিসি নিউজবাংলাকে জানান, নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে জানিয়েছেন।

অথচ গত ১৪ অক্টোবর দেখা যায় নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ডিসির নিদের্শনা পর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ না করে দখলদারদের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে চলে যান। সরকারি জমি দখলদারদের পাইয়ে দেয়ার পেছনে খোদ ইউএনও রেজাউল করিম কাজ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও রেজাউল বলেন, অভিযোগ ঠিক নয়। কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। আবার কাজ চালু হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আবারও নির্মাণকাজ বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব বলেন, ‘আমি এখানে বিশ বছর ধরে আধাপাকা বাড়ি করে আছি। এখন ভেঙে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছি। হাটের পেরিফেরি থেকে জায়গাটা অবমুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।’

পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক বলেন, ‘পেরিফেরিভুক্ত জমিতে ঘর নির্মাণের অনুমতি পৌরসভা দিতে পারে না। কাজ বন্ধ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।’

শেয়ার করুন

সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়

সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়

‘বড় ভাইদের’ সালাম না দেয়ায় এবং ছাত্রলীগের নিয়মকানুন না মানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি হল গেটে দাঁড়ান ছিলাম। পাশ দিয়ে তৃতীয় বর্ষের এক বড় ভাই চলে গিয়েছিল, আমি খেয়াল করিনি। পরদিন ইনফরমাল গেস্টরুমে আমাকে জহুরুল ভাই থাপ্পড় দেয়। আমি দাঁত চেপে সহ্য করতে পারছি। কিন্তু আমার অনেক বন্ধু এটা সহ্য করতে পারে না। তারা কান্না করে দেয়।’

সিনিয়রদের সালাম না দেয়ায় এবং ছাত্রলীগের নিয়মকানুন না মানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে রুমে ডেকে নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে দ্বিতীয় বর্ষের সাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

প্রায় প্রতিদিন প্রথম বর্ষের অন্তত একজন শিক্ষার্থীকে হলের ২২৫ ও ১১৯ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীরা যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন তারা হলেন ইতিহাস বিভাগের আনিসুর, দর্শন বিভাগের নাফি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাইসুল, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের সজীব, ফারসি বিভাগের জহিরুল, সমাজ কল্যাণ বিভাগের শাকিল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শামীম। তারা সবাই ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী।

দ্বিতীয় বর্ষের এসব শিক্ষার্থী হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল সোবাইলের ‘ছোট ভাই’ হিসেবে পরিচিত। সোবাইল ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী।

হল সুত্রে জানা যায়, হলের অধিকাংশ রুম ছাত্রলীগের দখলে। এসব রুমে ছাত্রলীগ নেতারাই সিট বরাদ্দ দেন। এরকম একটি রুম হলের ২২৮ নম্বর রুম। এই রুমটি সোবাইলের দখলে। প্রথম বর্ষের ২০ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে এই রুমে থাকেন। সোবাইলের অনুসারীরাই মূলত এসব শিক্ষার্থীদের হলে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বিনিময়ে তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে যেতে হয় ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে। আর রাতে বসতে হয় গেস্টরুমে।

গেস্টরুমে ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের নিয়ম জানিয়ে দেন। এর মধ্যে সিনিয়রদের বাধ্যতামূলক সালাম দেয়া, সালাম দিয়ে হ্যান্ডস শেক (করমর্দন) করা, নিয়মিত রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশ নেয়া অন্যতম। এ ছাড়া, সিনিয়রদের সামনে হলের ক্যান্টিনে খাবার না খাওয়া, হলের লিফটে না ছড়ার মতো উদ্ভট অনেক নিয়মও গেস্টরুম থেকে জানিয়ে দেয়া হয়।

এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতেই মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথম বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হয়েছেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী কর্মীরা। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের রুমে ডেকে চড়-থাপ্পড় এমনকি স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে।

আবদুল্লাহ আল সোবাইলের অনুসারীরা সপ্তাহে ছয়দিনই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গেস্টরুম নেয়। এসব গেস্টরুম এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। ছয়দিনের মধ্যে তিনদিন আনুষ্ঠানিক এবং বাকি তিনদিন অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুম।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আনুষ্ঠানিক গেস্টরুম হয় হলের নিচতলার অতিথি কক্ষে। এখানে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছাড়াও তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকায় এ গেস্টরুমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধর বা তাদের প্রতি খারাপ ভাষা ব্যবহার করা হয় না।

আর অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুম হয় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের রুমে। কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সেখানেই মূলত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধর এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, হল গেটে বড় ভাইদের সালাম না দেয়ায় গত কয়েকদিন ধরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর মারধর চলছে। প্রথমবর্ষের ১৫ থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের এসব মারের শিকার হয়েছেন। মারধরের বিষয়টি কাউকে না জানাতেও নির্দেশ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি হল গেটে দাঁড়ান ছিলাম। পাশ দিয়ে তৃতীয় বর্ষের এক বড় ভাই চলে গিয়েছিল, আমি খেয়াল করিনি। পরদিন ইনফরমাল গেস্টরুমে আমাকে জহুরুল ভাই থাপ্পড় দেয়। আমি দাঁত চেপে সহ্য করতে পারছি। কিন্তু আমার অনেক বন্ধু এটা সহ্য করতে পারে না। তারা কান্না করে দেয়।’

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদেরকে গেস্টরুমে ১৪টা নিয়ম শেখানো হয়। প্রতিদিন এগুলো মুখস্থ বলতে হয়, কিন্তু আমি না পারায় আমাকে থাপ্পড় দিয়েছে আনিসুল ভাই। আমি গেস্টরুমে টিশার্ট পরে আসছি এটাও নাকি আমার অপরাধ ছিল।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, সপ্তাহের শনিবার সোমবার এবং বুধবার তাদের ইনফরমাল গেস্টরুম। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরাই মূলত তাদের গায়ে হাত তুলে।

দ্বিতীয়বর্ষের যে সাত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তাদের মধ্যে জহুরুলই সবেচয়ে বেশি উগ্র বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন বলেন, ‘ক্যাম্পাস খোলার পর থেকে সোবাইল ভাইয়ের গ্রুপের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা নিয়মিত গেস্টরুম করায়। সেখানে তারা বড় ভাইদের সালাম না দেয়া, হ্যান্ডশেক না করা, প্রোগ্রামে যেতে সামান্য দেরির কারণে মারধর করে।

‘সপ্তাহে তিনদিন আমাদের অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুমে হয়। প্রতিবারই তারা কাউকে না কাউকে মারধর করে। এ ছাড়া, পিতামাতার নাম নিয়ে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজও করেন।’

মারধরের প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার এক বন্ধুকে রাজু ভাস্কর্য কোথায় জিজ্ঞেস করেছিল দ্বিতীয় বর্ষের বড় ভাইয়েরা। তখন তার মাথায় বিষয়টি মনে আসছিল না, তাই সে বলতে পারেনি। এরপর তাকে জহুরুল ভাই এমন জোরে থাপ্পড় দিয়েছিল, আমার সে বন্ধু কান্না করে দিয়েছে। তার হাঁফানি রোগও ছিল। থাপ্পড় খেয়ে সে হাঁফাচ্ছিল। পরে তাকে গেস্টরুম থেকে ছুটি দিয়ে দেয়।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোবাইল গ্রুপের অনুসারী দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিসুর বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনি সোবাইল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আমাদের নেতা। এ ছাড়া, আমার আর কিছু বলার নেই।’

সোবাইলের অনুসারী শাকিল ও জহিরুল অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আর নাফি, সজীব, শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল সোবাইল বলেন, ‘আরও কয়েকজনের কাছে ঘটনাটা আমি শুনেছি। এরপর আলাদাভাবে দ্বিতীয় বর্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমি বসেছি। তারা বলেছে, তারা মারধর করেনি। সামান্য উচ্চ বাক্যে বকা বা ধমক দিয়েছে।’

তবে সুত্র বলছে, মারধরের বিষয়ে গণমাধ্যমের কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকের ফোন পেয়ে সোবাইল তাৎক্ষণিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগ কর্মীদের হলের অতিথি কক্ষে ডেকে আনেন। এরপর তিনি প্রথম বর্ষের কয়জন শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে সেটি জানতে চান। শুরুতে বলতে দ্বিধা করলেও পরে সোবাইলের কাছে স্বীকার করেন, তারা প্রথম বর্ষের তিনজন শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলেছেন, তবে বেশি মারেননি।

এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টি মাত্র শুনেছি। খোঁজ নিচ্ছি।’

শেয়ার করুন

বিদ্যুতায়িত হয়ে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু

বিদ্যুতায়িত হয়ে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু

নিহতরে স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। রাতে বাসায় ইলেকট্রিকের কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়েন, অচেতন হয়ে পড়েন। পরে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক বলেছেন, তিনি আর নেই।’

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কানাদিয়া এলাকায় নিজ বাসায় ইলেকট্রিকের কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে আহাদ মিয়া নামে এক ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে।

বিদ্যুতায়িত হওয়ার পর অচেতন আহাদকে বুধবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরে স্ত্রী তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি। রাতে বাসায় ইলেকট্রিকের কাজ করার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়েন, অচেতন হয়ে পড়েন। পরে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক জানান, তিনি আর নেই।’

তাসলিমা জানান, তাদের ঘরে দুই সন্তান; এক ছেলে, এক মেয়ে। তারা নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন কানাদিয়া নতুন মহল্লায় থাকতেন। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানার কালিয়াপুর গ্রামে।

নিহত আহাদ তার চার ভাই, দুই বোনের মধ্যে ছিল সবচেয়ে ছোট ছিলেন।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া জানান, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সিদ্ধিরগঞ্জ থানাকে জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

‘কিশোরদের দ্বন্দ্বে’ কলেজছাত্রকে হত্যা

নিহত কিশোরে স্বজনদের আহাজারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

নিহত মো. আকাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের চিনাইর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বয়স ১৮, বাড়ি উত্তরপাড়া এলাকায়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার চার বন্ধুও।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আহত হয়েছে তার চার বন্ধু।

আহতদের অভিযোগ, এলাকায় গাঁজা সেবনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বুধবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মো. আকাশ সদরের চিনাইর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বয়স ১৮, বাড়ি উত্তরপাড়া এলাকায়।

আহতরা হলো ১৬ বছরের মো. ফায়েজ, ২০ বছরের মো. আরমান, ১৪ বছরের মো. রাকিব ও ১৭ বছরের মো. মাসুম।

মাসুম জানান, সুলতানপুর গ্রামের দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি বেসরকারি স্কুলের সামনে একই এলাকার শেখ কামরুলের ছেলে শেখ রিফাত বসে গাঁজা খায়। এ নিয়ে আকাশের সঙ্গে বুধবার সকালে তার তর্কাতর্কি হয়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি মীমাংসা করলে তারা সরে যায়।

মাসুম বলেন, বিকেলে সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যান তিনি ও আকাশসহ এলাকার কয়েকজন বন্ধু। খেলা শেষে সন্ধ্যায় তাদের ওপর ছুরি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় রিফাত ও তার সহযোগীরা।

ছুরির আঘাতে আকাশ গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আকাশকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, আকাশের মাথা ও বুকে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। হাসপাতালে নেয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। আহতদের সেখানে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সদর থানার ওসি এমরানুল জানান, ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায়ের অপেক্ষা

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায়ের অপেক্ষা

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ফাইল ছবি

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আলোচিত এই মামলার রায় পড়ে শোনাবেন। এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পেছানো হয়।

চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় হবে আজ।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আলোচিত এই মামলার রায় পড়ে শোনাবেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পেছানো হয়।

মামলায় আসামিরা খালাশ পাবেন বলে দাবি তাদের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম অনির। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, মামলার শুনানিতে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে মামলার ঘটনা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া, জেরার সময় সাক্ষীরা তাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের দাবি, আসামিদের অপরাধ প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তাই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ৫ অক্টোবর এ রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেছিলেন আদালত। বিচারক ছুটিতে থাকার কারণে সেদিন আর রায় হয়নি।

গত ২৪ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলার অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত বছরের ১৩ আগস্ট একই আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলা তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ।

আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগারে, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এবং একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জামিনে আছেন।

এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন।

শেয়ার করুন

চীনের আরও অর্ধকোটি টিকা ঢাকায়

চীনের আরও অর্ধকোটি টিকা ঢাকায়

চীন থেকে ঢাকায় এসেছে করোনারোধী আরও ৫৫ লাখ টিকা। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের আরও ৫৫ লাখ ডোজ করোনা টিকা রাত ১টার দিকে ঢাকায় আসে। এর আগে ৩১ আগস্ট চীনের সিনোফার্মের করোনা টিকার ৫৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫০ ডোজ দেশে পৌঁছে। চুক্তির পর দেশে আসা এটাই ছিল চীনের সবচেয়ে বড় টিকার চালান।

চীনের সিনোফার্মের করোনা প্রতিরোধী বিবিআইবিপি-করভি টিকার আরও ৫৫ লাখ ডোজ ঢাকায় পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় টিকা।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্মের আরও ৫৫ লাখ ডোজ করোনা টিকা রাত ১টার দিকে ঢাকায় আসে। এই টিকা গ্রহণ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তারা।’

এর আগে ৩১ আগস্ট চীনের সিনোফার্মের বিবিআইবিপি-করভি টিকার ৫৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৫০ ডোজ দেশে পৌঁছে। চুক্তির পর দেশে আসা এটাই ছিল চীনের সবচেয়ে বড় টিকার চালান।

কেনার পাশাপাশি চীন থেকে উপহার ও কোভ্যাক্সের মাধ্যমেও ৫৫ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ।

দেশে গণটিকা শুরু হয় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড দিয়ে। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে আনা হয় সে টিকা। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজ কেনার চুক্তি করে সরকার। তবে ৭০ লাখ টিকা দিয়ে সংকটের কারণ দেখিয়ে সে সময় আর টিকা দেয়নি ভারত। সাত মাস পর অক্টোবরে ২০ লাখ টিকা পাঠিয়েছে সিরাম।

বর্তমানে সংকট কাটলেও ভারত থেকে টিকার জোগান আশানুরূপ নয়। সে তুলনায় চীনের সিনোফার্মের টিকা আসছে বেশি। ক্রয়চুক্তির বাইরে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মডার্নার ৫৫ লাখ, ফাইজারের ১ লাখ ৬২০ ডোজ এবং জাপান থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩০ লাখ ৫৯ হাজার ৩৮৭ ডোজ টিকা এসেছে দেশে।

শেয়ার করুন

সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া

সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া

ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ে সেবা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সরকারি পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে। এ উপখাত থেকে এসেছে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। ‘অন্যান্য ব্যবসায় সেবা’থেকে এসেছে ৮ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আয় হয়েছে ৯ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

পণ্য রপ্তানির মতো সেবা রপ্তানির পালেও হাওয়া লেগেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সেবা রপ্তানি থেকে ৬৩ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময়হার হিসাবে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৬৫ পয়সা) টাকার অংকে এই অর্থের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৪১১ কোটি টাকা।

এই রপ্তানি গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ১০ শতাংশ।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক মাসে সেবা খাত থেকে এত বিদেশি মুদ্রা দেশে আসেনি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পণ্য রপ্তানির তথ্য চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশ করলেও সেবা খাতের এক মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে মঙ্গলবার।

ইপিবি অবশ্য বরাবরই সেবা খাতের রপ্তানির তথ্য পরে প্রকাশ করে থাকে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে মোট চার হাজার ৫৩৬ কোটি ৭২ লাখ (৪৫.৩৭ বিলিয়ন) আয় করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয় ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ।

সেবা খাত থেকে আসে ৬৬০ কোটি ৮৯ লাখ (৬.৬ বিলিয়ন) ডলার; বেড়েছিল ২৫ শতাংশের মতো।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সেবা খাত থেকে ৭৫০ কোটি (৭.৫ বিলিয়ন) ডলার বিদেশি মুদ্রা আয়ের লক্ষ্য ধরেছে সরকার।

এরমধ্যে প্রথম মাস জুলাইয়ে আয়ের লক্ষ্য ছিল ৫৭ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। আয় হয়েছে ৬৩ কোটি ১৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার। গত বছরের জুলাইয়ে আয় হয়েছিল ৪৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

এ হিসাবেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পণ্য রপ্তানির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেবা খাতের রপ্তানিতে। পণ্য রপ্তানি বাড়লে সেবা খাতের রপ্তানি বাড়বে-এটাই স্বাভাবিক। কেননা, এক খাত অন্য খাতের সঙ্গে পুরোপুরি সম্পর্কিত এবং নির্ভরশীল।’

আগামী দিনগুলোতেও পণ্য রপ্তানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেবা খাতের রপ্তানি বাড়বে বলে আশার কথা শোনান ফারুক হাসান।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই মাসে সেবা খাতের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৬২ কোটি ২৭ লাখ ডলারই এসেছে সরাসরি সেবা খাত থেকে। অর্থাৎ মোট রপ্তানির ৯৮ দশমিক ৫৬ শতাংশই এসেছে সরাসরি সেবা খাত থেকে।

বাকিটা দেশের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কেনা পণ্য ও সেবা এবং মার্চেন্টিংয়ের অধীনে পণ্য বিক্রির আয়।

কোনো অনাবাসীর কাছ থেকে পণ্য কিনে একই পণ্য কোনো অনাবাসীর কাছে বিক্রি করাকে মার্চেন্টিং বলে। এই প্রক্রিয়ায় মোট বিক্রি থেকে মোট ক্রয় বাদ দিয়ে নিট মার্চেন্টিং রপ্তানি আয় হিসাব করা হয়।

দেশের স্থল, সমুদ্র বা বিমান বন্দরে বিদেশি পরিবহনগুলো সেসব পণ্য ও সেবা- যেমন জ্বালানি তেল ও মেরামত সেবা- কিনে থাকে সেগুলোকে সেবা খাতের আওতায় ধরা হয়েছে।

জুলাই মাসে সেবা খাতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে সরকারি পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে। এ উপখাত থেকে এসেছে ১৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার।

অন্য উপখাতগুলোর মধ্যে ‘অন্যান্য ব্যবসায় সেবা’থেকে এসেছে ৮ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি থেকে আয় হয়েছে ৯ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ডলার।

বিভিন্ন ধরনের পরিবহন সেবা (সমুদ্র, বিমান, রেল এবং সড়ক) থেকে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয় হয়েছে।

আর্থিক সেবা খাত থেকে ৭৮ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং ভ্রমণ সেবা উপখাত থেকে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদেশে বিভিন্ন সেবা বিক্রি করে ৬১৩ কোটি ১৯ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাত থেকে ৬৩৫ কোটি ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এসেছিল ৪৩৪ কোটি ডলার।

সেবা রপ্তানি আয় দেশে আনা আরও সহজ হয়েছে

সেবা রপ্তানি ও ফ্রিল্যান্সারদের আয় দেশে আনা আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সেবা রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। আবার অন্য দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট গেটওয়েতে অনানুষ্ঠানিক হিসাব (নোশনাল অ্যাকাউন্ট) খোলার সুযোগ পাবেন।

গত সোমবার এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্ম কিংবা বিদেশি পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পাওয়া আয় প্রথমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের ‘নস্ট্রো’হিসাবে জমা হবে। এরপর ব্যাংক সেবা প্রদানকারী গ্রাহকের হিসাবে তা জমা করবে। গ্রাহকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি স্থানীয় ডিজিটাল ওয়ালেটেও অর্থ জমা করা যাবে।

গ্রাহক চাইলে প্রযোজ্য অংশ ইআরকিউ হিসাবে জমা করতে পারবেন। সব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কর পরিশোধের বিধান মেনে চলতে হবে। আর সেবা রপ্তানির চার মাসের মধ্যে আয় দেশে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্ম বা পেমেন্ট গেটওয়েতে খোলা হিসাবের অর্থ আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কিছু শর্ত পরিপালন করতে হবে। বিশেষ করে সেবা প্রদানকারীর আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে পরিচালিত মার্চেন্ট হিসাব পরিচালনা এবং বিদেশস্থ লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে তার নোশনাল হিসাব সম্পর্কে তথ্য নিতে হবে।

সেবা কার্যক্রম বিষয়ে তথ্য সংগ্রহসহ ঘোষণাপত্র নিতে হবে। সেবার বিপরীতে পাওয়া আয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন কিংবা অনানুষ্ঠানিক হিসাবে জমার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তা দেশে আনার বিষয়ে গ্রাহক থেকে অঙ্গীকার নামা নিতে হবে।

ক্ষুদ্র পরিসরে সেবা খাতের আয় প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালে এডি ব্যাংকগুলোকে বিদেশস্থ ওপিজিএসপির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দেয়। এখন তা আরও সহজ করা হলো।

শেয়ার করুন