ব্রিফিংয়ে র‌্যাব

কক্সবাজার হয়ে জাপান যেতে চেয়েছিল ৩ কলেজছাত্রী

কক্সবাজার হয়ে জাপান যেতে চেয়েছিল ৩ কলেজছাত্রী

উন্নত, স্বাধীন জীবনযাপন ও উচ্চশিক্ষার জন্য জাপান যেতে ঘর ছেড়েছিল তিন কলেজছাত্রী। ছবি: সংগৃহীত

উন্নত, স্বাধীন জীবনযাপন ও উচ্চশিক্ষার জন্য হাফসা চৌধুরী নামে এক নারীর সহায়তায় তিন কলেজছাত্রী জাপানে যেতে ঘর ছেড়েছিল।

রাজধানীর পল্লবী থেকে ‘নিখোঁজ’ তিন কলেজছাত্রী কক্সবাজার হয়ে জাপান যেতে চেয়েছিল।

উন্নত, স্বাধীন জীবনযাপন ও উচ্চশিক্ষার জন্য হাফসা চৌধুরী নামে এক নারীর সহায়তায় তারা জাপানে যেতে ঘর ছেড়েছিল।

ঢাকায় ফেরার পর বুধবার ভোরে তিন কলেজছাত্রীকে মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে উদ্ধার করে র‌্যাব-৪।

বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিন কলেজছাত্রীর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানান র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি জানান, কক্সবাজার যাওয়ার পর তিন কলেজছাত্রীর সঙ্গে থাকা টাকা ও স্বর্ণালংকার একজন নিয়ে যাওয়ার পর তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। যে হোটেলে অবস্থান নিয়েছিল, তার আশপাশে র‌্যাবের উপস্থিতি দেখে তারা ঢাকায় ফিরে আসে।

কেন বাসা ছেড়েছিল ছাত্রীরা

র‌্যাব জানায়, ওই তিন কলেজছাত্রী মিরপুরের স্থানীয় কলেজে লেখাপড়া করত। করোনাভাইরাস মহামারিতে দীর্ঘদিন কলেজ বন্ধ থাকায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তারা। দিন দিন লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এর ফলে তাদের পরিবার পড়াশোনা ও ধর্মীয় বিধান মেনে চলার জন্য চাপ দিত। অতিরিক্ত পারিবারিক বিধিনিষেধের ফলে তারা বিরক্ত হয়ে পড়ে।

র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘তাদের (তিন বান্ধবী) নিজেদের পরিবারের নিয়মকানুন ভালো লাগত না এবং এসব সামাজিক ও ধর্মীয় নিয়মকানুন তাদের কাছে অত্যাচার মনে হতো। তারা মূলত উচ্চাভিলাষী জীবনযাপন পছন্দ করত। দীর্ঘদিন বাসায় আবদ্ধ থাকার সময় তারা পশ্চিমা সংস্কৃতি, বিশেষ করে জাপানি সংস্কৃতির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘তারা অধিক পরিমাণে জাপানি সিনেমা-সিরিয়াল, সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম দেখে দেখে জাপানি ভাষা কিছুটা আয়ত্ত করে নেয়। তারা দেশ ছেড়ে স্বাধীন জীবনযাপন ও উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে জাপান যাওয়ার পরিকল্পনা করার কারণ হিসেবে জাপানি সংস্কৃতিতে নারী-পুরুষের সম-অধিকার, স্বাধীনতা, দত্তক নেয়ার সুযোগ এবং অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক বিধিনিষেধ না থাকার কারণ উল্লেখ করে।’

যেভাবে কক্সবাজার

র‌্যাব জানায়, ২ মাস আগে তিন বান্ধবী তাদের বন্ধু তরিকুলের সঙ্গে দিয়াবাড়ী এলাকায় ঘুরতে গিয়ে হাফসা চৌধুরী নামের ২৪-২৫ বছরের এক নারীর সঙ্গে পরিচিত হয়। আলোচনার একপর্যায়ে তারা জাপানে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। হাফসা চৌধুরী তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়।

তিন বান্ধবী হাফসার সঙ্গে পরিকল্পনা করে কক্সবাজার রুট দিয়ে নৌপথে জাপান যেতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। বের হয়ে প্রথমে রিকশায় যায় গাবতলী।

হাফসার পরামর্শে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন তাদের অবস্থান চিহ্নিত না করতে পারে, সে জন্য তারা নিজেদের ই-মেইল, ফেসবুক আইডি এবং ব্যবহৃত মোবাইল গাবতলী এলাকায় ধ্বংস করে। পরে তারা নৌকায় করে নদী পার হয়ে আমিনবাজার এলাকায় পৌঁছায়। সেখান থেকে হাফসার ২ জন লোক একটি কালো রঙের নোয়াহ গাড়িতে করে ঢাকারই এক জায়গায় নামিয়ে দেয় তাদের।

ঢাকার ওই জায়গা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যায় তিনজন। কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে চট্টগ্রামগামী কোনো ট্রেন না পাওয়ায় বাসে করে কুমিল্লার ময়নামতি যায় তারা।

পথে তারা নিজেদের পরিচয় গোপনের জন্য পশ্চিমা সংস্কৃতির আদলে নিজেদের চুল কেটে ফেলে; পশ্চিমা বেশভূষা ধারণ করে। কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় পৌঁছে তারা কেডস, পোশাক ও একটি মোবাইল কেনে। সেখান থেকে তারা আবার বাসে করে চট্টগ্রাম সিনেমা প্লেস বাসস্ট্যান্ডে যায়। সেখানে দুটি মোবাইল কিনে বাসে করে কক্সবাজার যায়।

কেন সিম কেনেনি

র‌্যাব জানায়, আত্মগোপনে থাকার জন্য কোনো সিম কেনেনি তিন ছাত্রী। কক্সবাজার পৌঁছে তারা ১ থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কলাতলীতে একটি হোটেলে অবস্থান নেয়। সিমের পরিবর্তে ওয়াইফাই সংযোগ ব্যবহার করে তিনজন।

২ অক্টোবর তারা কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত এলাকায় বেড়াতে গেলে হাফসার লোক পরিচয়ে আসিফ ও শফিক নামের ৩০ থেকে ৩২ বছরের দুজন তাদের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও কিছু টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে হোটেল অবস্থান নেয়।

হোটেলের আশপাশে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ৫ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ছদ্মবেশে বাসে করে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় তিনজন। আবদুল্লাহপুর পৌঁছালে বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।

হাফসা কোথায়

র‌্যাব জানায়, হাফসা নামের ওই নারীর কোনো ফেসবুক, ই-মেইল আইডি তিন কলেজছাত্রী শনাক্ত করতে পারেনি। এ কারণে হাফসাকে শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

হাফসা, নোয়াহ গাড়িতে থাকা ২ ব্যক্তি এবং কক্সবাজারের বিচে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়া ২ জনসহ সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে গিয়েছিল সেই ৩ ছাত্রী
পল্লবী থেকে নিখোঁজ ৩ কলেজছাত্রী উদ্ধার
টাকা-অলংকার নিয়ে নিখোঁজ তিন কলেজছাত্রী
বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর
স্বর্ণকিশোরীর ওপর হামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রকল্প ছাড়াই তোলা ১৮ লাখ টাকা ফেরত দিলেন সেই চেয়ারম্যান

প্রকল্প ছাড়াই তোলা ১৮ লাখ টাকা ফেরত দিলেন সেই চেয়ারম্যান

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন।

কারণ দর্শানোর নোটিশের পর ৩ অক্টোবর ভ্যাট ও আয়করের ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৩ টাকা এবং ৬ অক্টোবর ভূমি হস্তান্তর কর বরাদ্দের তুলে নেওয়া সাড়ে ১৮ লাখ টাকা পরিষদের ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে প্রকল্প ছাড়াই ভূমি হস্তান্তর কর বরাদ্দের তুলে নেয়া সেই সাড়ে ১৮ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন ৩ নম্বর দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন।

কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্পে ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি হস্তান্তর কর (১ শতাংশ) বরাদ্দের ব‌্যাংক হিসাব নম্বরে এই টাকা জমা করেন চেয়ারম্যান। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ভ্যাট ও আয়কর হিসেবে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকাও জমা করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে।

এ ছাড়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে ক্ষমতাসীন দলের এই চেয়ারম‌্যান ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউপি সচিব নুরজামান মিয়া।

রোববার বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রোকসানা বেগম।

নিউজবাংলাকে ইউএনও বলেন, ‘শোকজের লিখিত জবাব গত বৃহস্পতিবার আমার দপ্তরে জমা পড়েছে। শোকজের জবাব গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগমের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া উত্তোলন করা সাড়ে ১৮ লাখ টাকা ও আয়কর বাবদ আড়াই লাখ টাকা জমার কথা জানিয়েছেন তিনি।’

এর আগে ‘প্রকল্পের নেই খোঁজ, চেয়ারম্যানের ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন’-শিরোনামে ১০ অক্টোবর নিউজবাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ‌্যমে খবর প্রকাশের পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সরকারি বরাদ্দের টাকা গোপনে তুলে নেয়ার ওই ঘটনায় পরিষদের মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের মাঝেও ক্ষোভ দেখা দেয়।

প্রকল্প ছাড়াই টাকা তোলার ঘটনাটি ধরা পড়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে নথিপত্র যাচাইয়ে। এতে প্রকল্প ছাড়াই সাড়ে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ভ্যাট ও আয়কর হিসেবে ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা জমা না দেয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

ওই ঘটনার পর চেয়ারম‌্যান সাজেদুলকে ২৯ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশে (শোকজ) এক সপ্তাহের মধ‌্যে লিখিত জবাব দেয়ার নির্দেশ দেন গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগম।

সেই নোটিশের পর ৩ অক্টোবর ভ‌্যাট ও আয়করের ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৩ টাকা এবং ৬ অক্টোবর ভূমি হস্তান্তর কর বরাদ্দের তুলে নেওয়া সাড়ে ১৮ লাখ টাকা পরিষদের ব‌্যাংক হিসাবে জমা করা হয়।

ইউপি সচিব মো. নুরজামান মিয়া বলেন, ‘সোনালী ব‌্যাংক সাদুল্লাপুর শাখার হিসাব নম্বরে এসব টাকা জমার রশিদ এবং ট্রেজারি চালানের কপি ইউএনওসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

তার দাবি, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় টিউবওয়েল, স্প্রে মেশিন বিতরণ ও কালভার্টসহ উন্নয়ন প্রকল্পের চলমান কাজগুলোও হচ্ছে ভূমি হস্তান্তর কর বরাদ্দের টাকায়। এ কারণে জমা দেয়ার পর ওই টাকা ফের তুলে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রোখছানা বেগম জানান, চেয়ারম‌্যান স্বাধীনের লিখিত জবাব ইউএনওর মাধ‌্যমে পাঠানো হয়েছে। তার জবাব পর্যালোচনা করাসহ সরেজমিনে অভিযোগগুলো তদন্ত করেই পরবর্তী ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে গিয়েছিল সেই ৩ ছাত্রী
পল্লবী থেকে নিখোঁজ ৩ কলেজছাত্রী উদ্ধার
টাকা-অলংকার নিয়ে নিখোঁজ তিন কলেজছাত্রী
বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর
স্বর্ণকিশোরীর ওপর হামলা

শেয়ার করুন

নেথোয়াই মারমা হত্যায় পাহাড়ি আঞ্চলিক দল: এমপি দীপংকর

নেথোয়াই মারমা হত্যায় পাহাড়ি আঞ্চলিক দল: এমপি দীপংকর

গুলিতে নিহত চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী নেথোয়াই মারমা। ছবি: নিউজবাংলা

বিবৃতিতে দীপংকর বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিছুদিন বন্ধ ছিল। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা আবারও সহিংসতা শুরু করেছে।’

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হত্যায় পার্বত্য আঞ্চলিক দলগুলোকে দায়ী করেছেন জেলার সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার।

হত্যার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার বিকেলে গণমাধ্যমকে দেয়া বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিবৃতিতে দীপংকর বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে আঞ্চলিক দলগুলো বেছে বেছে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। তারা নেথোয়াই মারমাকে হত্যা করেনি, হত্যা করেছে দেশের গণতন্ত্রকে। নেথোয়াইয়ের অপরাধ ছিল গণতান্ত্রিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছিলেন। এর আগে জুরাছড়ির অরবিন্দ চাকমা, বিলাইছড়ির সুরেশ তঞ্চঙ্গ্যাসহ অনেক নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর তৎপরতার কারণে সন্ত্রাসী কার্যক্রম কিছুদিন বন্ধ ছিল। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা আবারও সহিংসতা শুরু করেছে।’

কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নে শনিবার রাত ১টার দিকে একদল অস্ত্রধারী নেথোয়াই মারমার বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি ১১ নভেম্বরের চিৎমরম ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।

এই হত্যায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছেন কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী।

রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন নিউজবাংলাকে জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নেথোয়াইয়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনার জেরে ভোটের তারিখ পিছিয়ে ২৮ নভেম্বর করা হয়েছে বলে রোববার বিকেলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে গিয়েছিল সেই ৩ ছাত্রী
পল্লবী থেকে নিখোঁজ ৩ কলেজছাত্রী উদ্ধার
টাকা-অলংকার নিয়ে নিখোঁজ তিন কলেজছাত্রী
বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর
স্বর্ণকিশোরীর ওপর হামলা

শেয়ার করুন

মাদ্রাসার নিচে বিস্ফোরণ রহস্যে ঘেরা

মাদ্রাসার নিচে বিস্ফোরণ রহস্যে ঘেরা

চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানা এলাকার বালুচরা কাশেমীয়া ইসলামিক একাডেমির নিচের কলোনিতে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিস্ফোরণে একজন নিহত ও দুইজন দগ্ধ হন। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানা এলাকার বালুচরা কাশেম কলোনিতে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিস্ফোরণে একজন নিহত ও দুইজন দগ্ধ হয়েছেন। কলোনি নামে পরিচিত হলেও তিনতলা ভবনটির ওপরের অংশ ব্যবহার হয় মসজিদ ও মাদ্রাসা হিসেবে। নিচতলায় কয়েকটি ঘরে ভাড়া থাকেন শ্রমিকরা। সামনের অংশে রয়েছে দোকান।

বিকট শব্দে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন শ্রমিক দিদার হোসেন। দেখেন বিস্ফোরণে ধসে পড়েছে তার ঘরের দেয়াল। ছিটকে পড়া ইটের আঘাতে আহত হন তিনি। জানতে পারেন পাশের ঘরে ঘটেছে বিস্ফোরণ। মারা গেছেন একজন, দগ্ধ দুজন। তবে দিনভর অনুসন্ধানে এ বিস্ফোরণের রহস্য ভেদ করতে পারেননি ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

নির্মাণশ্রমিক দিদার থাকেন চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানা এলাকার বালুচরা কাশেম কলোনিতে। সেখানেই রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিস্ফোরণে একজন নিহত ও দুইজন দগ্ধ হয়েছেন। তিনতলা ভবনের ওপরের অংশ ব্যবহার হয় মসজিদ ও মাদ্রাসা হিসেবে। নিচতলায় কয়েকটি ঘরে ভাড়া থাকেন শ্রমিকরা। তাদেরই একজন দিদার।

এ ঘটনায় আহত দিদার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘুমের ভেতর হঠাৎ বিকট শব্দ শুনি, তারপর চোখ খুলে দেখি সবকিছু আমার গায়ের ওপর পড়ছে। আমার স্ত্রী ও সন্তান ছিল খাটে, আমি মেঝেতে। ঘরের দেয়াল ভেঙে পড়েছে, ওপাশে আগুন জ্বলতেছে। বেরিয়ে দেখি দেয়ালের নিচে চাপাপড়া একজনের মাথা ও শরীর থেকে রক্ত পড়ছে।’

‘ততক্ষণে আগুনে পোড়া দুজনকে বের করা হয়েছে। পরে শুনছি দেয়াল চাপাপড়া লোকটা মারা গেছেন। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আগুন নিভিয়েছেন ৷’

মাদ্রাসার নিচে বিস্ফোরণ রহস্যে ঘেরা
বিস্ফোরণে ধসে পড়া দেয়ালচাপায় নিহত হন একজন। ছবি: নিউজবাংলা

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মুখলেসুর রহমান, এডিসি আরাফাতুন ইসলাম ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার রওনকুল ইসলাম। বিস্ফোরণের কারণ নিশ্চিত হতে পারেননি তাদের কেউ।

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক ফরিদ আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিস্ফোরণের কারণ বের করা যায়নি। স্থানীয়রা বিস্ফোরণ হয়েছে বলে দাবি করলেও বিষয়টি নিশ্চিত না। যে দুটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার কোনোটিতেই গ্যাস সিলিন্ডার ছিল না। সেখানে যে গ্যাসলাইন, তা ঠিক আছে।’

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার রওনকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা গ্যাস লাইনগুলো চেক করেছি, সব ঠিক আছে। যে দুটো ঘরে বিস্ফোরণের কথা বলা হচ্ছে সেখানেও গ্যাসলাইন অক্ষত। গ্যাসের সংযোগ লাইনে একটি ছিদ্র থাকলেও তা সাবান দিয়ে বন্ধ করা ছিল। এটার সঙ্গে বিস্ফোরণের সম্পর্ক আছে বলে মনে হচ্ছে না।’

রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বালুচরা এলাকার তুফানী রোডের ‘হাজী কাশেম কলোনি’ নামের ভবনটিতে তৃতীয় তলায় মাদ্রাসা, দ্বিতীয় তলায় মসজিদ। নিচতলায় কয়েকজন ভাড়া থাকেন।

বিস্ফোরণে বাইরের একটা দেয়াল ছাড়াও দুই ঘরের মাঝের দেয়াল ধসে পড়েছে। দগ্ধ দুজন ছিলেন তৃতীয় ঘরের বাসিন্দা, আর অপেক্ষাকৃত কম আহত দিদার ছিলেন দ্বিতীয় ঘরে।

ভবনমালিক প্রয়াত হাজি কাশেমের ছেলে কুবসুর আলম জানান, নিচতলার একটি ঘরে ফ্যামিলি থাকলেও অন্য ঘরে শ্রমিকরা থাকেন মেসের মতো করে।

ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি বাসায় ছিলাম। কলোনি থেকে পূর্ব দিকে আমার বাসা। খবর পেয়ে ছুটে আসি। কয়েকজন জানালেন বিস্ফোরণ হয়েছে। কিন্তু তা কীভাবে হয়েছে বুঝতে পারছি না। যে ঘরে বিস্ফোরণের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে ৫ জন থাকেন, তারা সবাই নির্মাণশ্রমিক। তিনজন কাজে গিয়েছেন, দুজন ছিলেন তারা দগ্ধ হয়েছেন। তারা প্রায় ১৫ বছর ধরে এ ঘরে আছেন।’

মাদ্রাসা ও মসজিদের নিচে যেসব ঘরে লোকজন ভাড়া থাকেন সেখানে রয়েছে আরেকটা কলোনিতে যাওয়ার পথ। সেই পথের মাঝেই দেয়ালচাপায় নিহত হন মো. ফারুক নামের শ্রমিক। তিনি খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার বদিউল আলমের ছেলে বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আবুল কালাম ও মো. ফোরকানের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে গিয়েছিল সেই ৩ ছাত্রী
পল্লবী থেকে নিখোঁজ ৩ কলেজছাত্রী উদ্ধার
টাকা-অলংকার নিয়ে নিখোঁজ তিন কলেজছাত্রী
বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর
স্বর্ণকিশোরীর ওপর হামলা

শেয়ার করুন

প্রার্থীকে হত্যা: রাঙ্গামাটির সেই ইউপির ভোট পেছাল

প্রার্থীকে হত্যা: রাঙ্গামাটির সেই ইউপির 
ভোট পেছাল

গুলিতে নিহত চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী নেথোয়াই মারমা। ছবি: নিউজবাংলা

শনিবার রাত ১টার দিকে একদল অস্ত্রধারী লোক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী নেথোয়াই মারমার বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে চিৎমরম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান প্রার্থীকে গুলি করে হত্যার পর ভোট পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।

ওই ইউপিতে ১১ নভেম্বর ভোট হওয়ার কথা ছিল। পরিবর্তিত তারিখ অনুযায়ী, ভোট হবে ২৮ নভেম্বর।

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার রাত ১টার দিকে একদল অস্ত্রধারী লোক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী নেথোয়াই মারমার বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন।

এই হত্যায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করেছেন কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অংসুচাইন চৌধুরী।

তিনি জানান, ‘শনিবার নেথোয়াই মারমা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সে কারণে রাতে তার বাড়িতে ঢুকে জেএসএসের সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে।’

তবে এ বিষয়ে জেএসএসের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে গিয়েছিল সেই ৩ ছাত্রী
পল্লবী থেকে নিখোঁজ ৩ কলেজছাত্রী উদ্ধার
টাকা-অলংকার নিয়ে নিখোঁজ তিন কলেজছাত্রী
বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর
স্বর্ণকিশোরীর ওপর হামলা

শেয়ার করুন

ধর্ম নিয়ে ‘কটূক্তি’, কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ধর্ম নিয়ে ‘কটূক্তি’, কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার বলেন, ‘অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এরপর তার নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে শিশু সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।’

বরগুনার পাথরঘাটায় ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় এক কিশোরকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাথরঘাটার বিচারিক হাকিম আদালত শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তাকে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

এর আগে শনিবার দুপুরে পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া এলাকার আব্দুস সবুর নামে একজন মামলাটি করেন।

পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে একটি ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করে নাচনাপাড়া ইউনিয়নের সপ্তগ্রাম এলাকার ওই কিশোর। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা হয়। পরে স্ক্রিনশট ভাইরাল হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে ওই পোস্ট সরিয়ে নেয়া হয়। শনিবার ভোররাতে আটক করা হয় ওই কিশোরকে। জব্দ করা হয় তার মোবাইল ফোন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার বলেন, ‘অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়। এরপর তার নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়। আদালত তাকে শিশু সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।’

তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে গিয়েছিল সেই ৩ ছাত্রী
পল্লবী থেকে নিখোঁজ ৩ কলেজছাত্রী উদ্ধার
টাকা-অলংকার নিয়ে নিখোঁজ তিন কলেজছাত্রী
বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর
স্বর্ণকিশোরীর ওপর হামলা

শেয়ার করুন

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’

মাগুরায় ‘রাজনৈতিক প্রভাবকে’ কেন্দ্র করে হতাহতদের নেয়া হয় সদর হাসপাতালে। ছবি: নিউজবাংলা

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, জগদল ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ায় বিবদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের, অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে পাল্টাপাল্টি প্রার্থী দেয়া নিয়ে দ্বন্দ্বে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা।

মাগুরা সদরের জগদল ইউনিয়নে সংঘর্ষে চার খুনের কারণ হিসেবে পুলিশ ও স্থানীয়দের কথায় উঠে এসেছে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদা দাবি।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। আর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কথায় উঠে এসেছে নির্বাচনের খরচ জোগাতে চাঁদা দাবির তথ্য। দোষ প্রতিপক্ষের ওপর চাপাতে নিজ পক্ষের লোকজনকে হত্যার অভিযোগও উঠেছে।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, ওই গ্রামে বিবদমান দুটি পক্ষ রয়েছে। একটি ৩ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি মেম্বার নজরুল ইসলামের, অপরটি গ্রাম্য মাতবর সবুর মোল্লা ও তার দুই ভাইয়ের।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নিবার্চনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নজরুল ফের প্রার্থী হয়েছেন। এই ওয়ার্ডে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। নজরুলের বিরোধী পক্ষ হওয়ায় হাসানকে সমর্থন দেয় সবুর মোল্লা ও তার পক্ষ। এ নিয়ে নজরুল ও সবুর মোল্লার পক্ষে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়।

সেই বিরোধের জের ধরেই নজরুল ও সবুরের পক্ষের মধ্যে শুক্রবার বিকেলে সংঘর্ষ হয় বলে তাদের ধারণা। এতে দুই ভাই সবুর মোল্লা ও কবির মোল্লা, তাদের চাচাতো ভাই রহমান মোল্লা এবং মো. ইমরান নামে একজন নিহত হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, ওই ঘটনার পর গ্রামের সবাইকে পুলিশের নজরদারিতে আনা হয়েছে। নিহতের পরিবার থেকে এখনও কেউ মামলা করেনি। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে মামলা না হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

নিহত তিন ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের কথায়ও উঠে এসেছে আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি। এ ছাড়া সবুর মোল্লার স্বজনরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের জন্য চাওয়া চাঁদা না দেয়ায় নজরুলের পক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়।

আর নিহত ইমরানের পরিবার জানিয়েছে, ইমরান নিজের পক্ষের হওয়ার পরও নজরুল তাকে হত্যা করে দোষ প্রতিপক্ষের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন বলে ধারণা তাদের।

শনিবার জগদলের দক্ষিণ পাড়ায় নিহত সবুরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শতাধিক মানুষ স্বজনহারা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

চার খুনের নেপথ্যে গ্রামে ‘প্রভাব বিস্তার, চাঁদা’
মাগুরায় সংঘর্ষে নিহত সবুরের পরিবারে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা ও শোকের ছায়া

কবির মোল্লার মেয়ে চাঁদনী বলেন, ‘বাবার মৃত্যুতে আমরা দিশেহারা হয়ে গেছি। আমরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমার বাবা আর এই বাড়িতে নেই।’

ঘটনার দিনের বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘ঘটনার দিন বাবা পাশের বাড়িতে একটা দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরেন। এরপর আমরা সেখানে খেতে যাই। তখন বাড়ির পাশে রাস্তার ওপরে বাবাকে খুব চিন্তিত মনে হয়। হঠাৎ শুনলাম আমাদের বাড়ির কাউকে সামনের হাকিমের মোড়ে কারা যেন মারধর করছে।

‘তখন বাবার ফোনে একটা কল আসে। বাবা সেই ফোন পেয়ে চলে যায়। এরপর আমার বাবা আর জীবিত ফেরেনি। গলা কাটা অবস্থায় আমার বাবাকে এলাকাবাসী হাকিমের মোড় থেকে উদ্ধার করে।’

সবুর মোল্লার ভাইয়ের ছেলে মাহফুজ ইয়াসিন অভিযোগ করেন, বেশ কয়েকবার ইউপি সদস্য হওয়ায় নজরুলের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে গিয়েছিল। তারা এর প্রতিবাদ করায় বিষয়টি ভালোভাবে নেননি নজরুল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নজরুল মেম্বার আগে বিএনপি করত। ২০১২ সালেও তিনি জগদল ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে নিজের দল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে মিশে যান। স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিকুল হাসানের অন্যতম শক্তি এই নজরুল। নজরুল ছাড়া চেয়ারম্যানের কোনো ক্ষমতা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এবার পরিষদ নির্বাচনে আমাদের এলাকার ভোটার টানতে আমার চাচা সবুর মোল্লাকে বলা হয়। আমার চাচা শান্তি চান, তাই তাদের অন্যায় সহ্য করেও কিছু বলেননি।

‘এ ছাড়া নির্বাচনের খরচ জোগাতে আমার দুই চাচা নিহত সবুর ও কবির মোল্লার কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন নজরুল মেম্বার। তা দিতে না পারায় তারা আরও ক্ষেপে যান। এই নিয়ে এলাকায় কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়। তবে চেয়ারম্যান তাদের পক্ষ নেন।’

সবুর মোল্লার আরেক ভাইয়ের মেয়ে মোছা. মুরশিদা বলেন, ‘২০০৩ সালে আমার বাবা জরিপ মোল্লাকে বাড়ির সামনে ভোরবেলা ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করে এই নজরুল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। সেই ঘটনায় নজরুল মেম্বারকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়।

‘তবে সেই মামলার সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিল এবং নজরুল তখন মেম্বারসহ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থাকায় মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করে। তাই বাবার হত্যার বিচার আমরা আপসের মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলি।’

সবুর মোল্লার স্ত্রী মিলিনা খাতুন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী এলাকায় সুনামের সঙ্গে বিভিন্ন সালিশ-বিচার করত। সবাই সম্মান করত। এটাতে তার জনপ্রিয়তা ছিল। এ জন্য বহু মানুষ আমাদের কথামতো চলত। তাই ভোটের সময় আসলি নজরুল মেম্বার আমাদের তাদের সমর্থন দিতে বলত। কিন্তু এবার তারা চাঁদাও চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘চাঁদা না দেয়ার জন্য তারা এই খুন করল। এই খুনের সঙ্গে জড়িত নজরুল মেম্বার। সে ১৮ বছর আগেও আমার স্বামীর ভাই জরিপ মোল্লাকে কুপিয়ে খুন করে। একই ঘটনায় এবার আমার স্বামীসহ তার আপন ভাই ও চাচাতো ভাইকে আমরা হারালাম।

‘ওদের সবার আমি ফাঁসি চাই। সেই সঙ্গে চেয়ারম্যান নজরুল মেম্বারকে সব রকম সুযোগ দিয়ে আসছে। তারেও আইনের আওতায় আনা হোক।’

তিন ভাই ছাড়া নিহত আরেকজন ইমরান। মাত্র পাঁচ মাস হয় বিয়ে করেছিলেন ইমরান। এইচএসসি শেষ করে ইমরান এক্সকাভেটর মেশিন চালাতেন। ঘটনার দিন চিৎকার শুনতে পেয়ে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল মেম্বারের বাড়ির পাশে হাকিম মোড়ে যান ইমরান। পরে বাড়ির লোকজন জানতে পারেন তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইমরানের পরিবার জানায়, ইমরানসহ তারা সবাই নজরুলের দল করতেন। তাদের পাশেই নজরুল মেম্বারের বাড়ি।

ইমরানকে কারা হত্যা করেছে, এমন প্রশ্নে তারা জানান, নজরুল মেম্বারের লোকেরাই তাকে ধরে আমাদের রাস্তার পাশে ফেলে চলে যায়।

ইমরানের ভাবি বলেন, ‘নজরুল মেম্বার নিজের দোষ আড়াল করতে নিজের পক্ষের ইমরানকে খুন করিয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, নজরুল সুবিধাবাদী। তিনি যে দল ক্ষমতায় সেই দল করেন। বিএনপি দিয়ে তার রাজনীতি শুরু। এরপর আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তার বিপরীতে কেউ প্রার্থী হলে তিনি মেনে নিতে পারেন না।

তারা আরও অভিযোগ করেন, এবার নজরুলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ হাসান নামে একজন। তিনিও আওয়ামী লীগ করেন। একই গ্রামের পাশের ওয়ার্ডের সবুর মোল্লা ও তার পরিবার হাসানকে সমর্থন দেয়ায় নজরুল মেম্বার হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।

শনিবার সকালে নজরুল মেম্বারের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে তার বাড়ি থেকে ফ্রিজ, টিভিসহ আসবাবপত্র ভ্যানে করে সরাতে দেখা যায়। পরে পুলিশ বাধা দিলে ভ্যানচালক চলে যান।

জগদল ইউনিয়ন পরিষদ বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তাই নিজেদের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এটা হতে পারে। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে মেম্বার প্রার্থী দেয়া নিয়ে সেটা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, ‘আমরা এই খুনের ঘটনাটি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখছি। গতকালের পর থেকে এই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ রয়েছে। এলাকায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। মামলা হলে সে মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা নেব।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে গিয়েছিল সেই ৩ ছাত্রী
পল্লবী থেকে নিখোঁজ ৩ কলেজছাত্রী উদ্ধার
টাকা-অলংকার নিয়ে নিখোঁজ তিন কলেজছাত্রী
বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর
স্বর্ণকিশোরীর ওপর হামলা

শেয়ার করুন

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: গ্রেপ্তার স্বামী

মা ও দুই শিশুর মৃত্যু: গ্রেপ্তার স্বামী

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকার এই ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে মোহাম্মদপুর এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে সুমিতা, তার সাত বছরের মেয়ে জান্নাত মুন ও আড়াই বছরের ছেলে শানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে এক নারী ও তার দুই শিশু সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় ওই নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

মৃত সুমিতা খাতুনের স্বামী সোহেল রানার বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় শুক্রবার রাত ১টার দিকে মামলা হয়।

সুমিতার ফুপা শামসুল ইসলাম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন। ওই মামলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান।

পরিদর্শক সাদেকুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের পরই সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তিনি আমাদের হেফাজতেই ছিলেন। মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

‘এখন পর্যন্ত যেটা জানতে পেরেছি, টাকা-পয়সা বিষয়ক কিছু ব্যাপার নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। এই কলহ থেকেই সন্তান নিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন সুমিতা।’

পাঁচলাইশের মোহাম্মদপুর এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে সুমিতা, তার সাত বছরের মেয়ে জান্নাত মুন ও আড়াই বছরের ছেলে শানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির জানান, ভোর ৫টার দিকে খবর আসে ওই ফ্ল্যাটের দরজা সারা রাত ভেতর থেকে বন্ধ। গৃহকর্তা সোহেল রানা ঘরে ঢুকতে পারেননি রাতভর। সন্দেহ হওয়ায় তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান।

ভোরে গিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মরদেহগুলো দেখতে পায় পুলিশ। এর মধ্যে সুমিতা ও শিশু শানের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বিছানায় পড়ে ছিল জান্নাতের নিথর দেহ।

ওইদিন গৃহকর্তা সোহেল নিউজবাংলাকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তিনি কাজ শেষে ফিরে দেখেন, দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে তিনি আত্মীয়-প্রতিবেশীদের খবর দেন। সারা রাত ধরে সবাই চেষ্টা করেও ভেতর থেকে সাড়া পাননি। এরপর পুলিশে খবর দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) নাঈমা সুলতানা নিউজবাংলাকে ঘটনার দিন বলেন, ‘ধারণা করছি, শ্বাসরোধে প্রথমে ছেলেকে হত্যা করা হয়। তারপর মেয়েকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেন মা।’

ফ্ল্যাটের ওপর তলার বাসিন্দা আব্বাস উদ্দিন নিউজবাংলাকে জানান, ওই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তারা ওপর থেকে চিৎকার শুনতেন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে কোনো শব্দ পাওয়া যায়নি।

পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাদেকুর রহমান জানান, দুপুরে সোহেল রানাকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে গিয়েছিল সেই ৩ ছাত্রী
পল্লবী থেকে নিখোঁজ ৩ কলেজছাত্রী উদ্ধার
টাকা-অলংকার নিয়ে নিখোঁজ তিন কলেজছাত্রী
বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর
স্বর্ণকিশোরীর ওপর হামলা

শেয়ার করুন