কনকের বোনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

কনকের বোনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

আদালত প্রাঙ্গণে নুসরাত শাহরিন রাকা

মাদকসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ভাই কনক সারোয়ারকে সাহায্য করতে বিদেশি চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগ আছে নুসরাত শাহরিন রাকার বিরুদ্ধে।

সাংবাদিক কনক সরোয়ারের বোন নুসরাত শাহরিন রাকার পৃথক দুই মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই বদরুল মিল্লাত আসামি রাকাকে আদালতে হাজির করেন। পরে সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় সাত দিন এবং মাদক মামলায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আবুবকর ছিদ্দিকের আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় এবং আরেক হাকিম নিভানা খায়ের জেসীর আদালতে মাদক মামলার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরণ এসব তথ্য জানান।

এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরায় অভিযান চালিয়ে রাকাকে গ্রেপ্তার করেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি এবং মাদক আইনে আরেকটি মামলা করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, বিদেশে অবস্থানকারী একটি ‘চক্র’ দেশে থাকা ‘এজেন্টদের যোগসাজশে’ ভার্চুয়ালি ‘রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার’ চালাচ্ছে। বিষয়টি নিজেদের গোয়েন্দা নজরে আসার পর তাদের ধরতে সক্রিয় হয় বাহিনীটি। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ভাই কনক সারোয়ারকে সাহায্য করতে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাকা, এমন অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন:
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আইস সিন্ডিকেটের খোকন-রফিক রিমান্ডে

আইস সিন্ডিকেটের খোকন-রফিক রিমান্ডে

গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি মোহাম্মদ হোসেন ওরফে খোকন ও তার সহযোগী মোহাম্মদ রফিক। ছবি: নিউজবাংলা

পুলিশের দাবি, টেকনাফকেন্দ্রিক মাদক কারবারে জড়িত সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা খোকন ও রফিক। তারা নৌপথে মিয়ানমার থেকে মেথামফেটিন-জাতীয় মাদকদ্রব্য আইস আনেন। কক্সবাজার সীমান্ত হয়ে বড় বড় চালান তারা ছড়িয়ে দেয় ঢাকাসহ সারা দেশে।

মাদক চোরাচালানে আইস (ক্রিস্টালমেথ) সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা মোহাম্মদ হোসেন ওরফে খোকন ও তার সহযোগী মোহাম্মদ রফিককে ৯ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকার মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমানের আদালত রোববার আসামিদের মাদক মামলায় পাঁচ দিন করে রিমান্ড দেয়। অস্ত্র মামলায় মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালত তাদের চার দিনের রিমান্ড আদেশ দেন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শনিবার এক অভিযানে খোকন ও রফিককে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তাদের কাছে পাওয়া যায় প্রায় পাঁচ কেজি আইস ও বিদেশি অস্ত্র। জব্দ করা আইসের আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে ১২ কোটি টাকা।

র‌্যাব-১৫-এর নায়েব সুবেদার ফিরোজ আহমেদ অস্ত্র ও মাদক আইনে যাত্রাবাড়ী থানায় তাদের বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই শরীফুল ইসলাম রোববার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন। তিনি দুই মামলায় তাদের ২০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, আসামিরা মাদকচক্রের সক্রিয় সদস্য। বিশেষ এ সিন্ডিকেট মেথামফেটিন জাতীয় মাদকদ্রব্য আইস সংগ্রহ করে মিয়ানমার থেকে। এরপর কক্সবাজার সীমান্ত থেকে বড় বড় চালান নিয়ে ছড়িয়ে দেয় ঢাকাসহ সারা দেশে। তারা যুবকশ্রেণিসহ অনেক মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। মাদক কারবারে তারা আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের রিমান্ডের আদেশ দেন।

র‍্যাব জানায়, টেকনাফকেন্দ্রিক মাদক কারবারে জড়িত সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা খোকন। তিনি নৌপথে নিয়মিত মিয়ানমার যেতেন। পাঁচ বছর ধরে ইয়াবা কারবারে জড়িত। কয়েক মাস ধরে তারা ভয়ংকর মাদক আইস নিয়ে আসছে। এই সিন্ডিকেটে ২০ থেকে ২৫ জন রয়েছে।

আরও পড়ুন:
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

মুসার ‘সঙ্গী’ কাদের কারাগারে

মুসার ‘সঙ্গী’ কাদের কারাগারে

কথিত অতিরিক্ত সচিব কাদেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদের পর বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন মুসা বিন শমসের।

রোববার আব্দুল কাদেরকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) নূরে আলম সিদ্দিকী।

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় করা প্রতারণার মামলায় জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পরিচয় দেয়া আব্দুল কাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ভূয়া সরকারি কর্মকর্তার পরিচয় দেয়া কাদেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আলোচিত অস্ত্র ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি।

রোববার আব্দুল কাদেরকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) নূরে আলম সিদ্দিকী।

পরে ঢাকার মহানগর হাকিম আবু সাঈদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট থানার আদালতের সাধারণ শাখার নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান নিউজবাংলাকে কাদেরকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৩ অক্টোবর আব্দুল কাদেরের তিন দিনের রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত।

৭ অক্টোবর ঠিকাদার কনস্ট্রাকশনের মালামাল সরবরাহকারী শেখ আলী আকবর প্রতারণা করে ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আব্দুল কাদেরের স্ত্রী সততা প্রোপার্টিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ছোঁয়া ও ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

৩৫তম ফোবানা সম্মেলন নভেম্বরে

৩৫তম ফোবানা সম্মেলন নভেম্বরে

জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে ফোবানা সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের সম্মেলনের ভেন্যু করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ন্যাশনাল হারবারের বিখ্যাত গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারকে।

বাধাবিপত্তি আর করোনার ভয়াবহতাকে মোকাবিলা করে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলন।

নভেম্বরের ২৬ তারিখে শুরু হবে তিন দিনব্যাপী ৩৫তম এই সম্মেলন। এটির আয়োজক আমেরিকান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি (এবিএফএস)।

এবারের সম্মেলনের ভেন্যু করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ন্যাশনাল হারবারের বিখ্যাত গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারকে।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অদম্য বাংলাদেশে অবাক বিশ্ব’।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে এ সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ফোবানা সম্মেলনের সদস্যসচিব শিব্বীর আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এবারের ফোবানা সম্মেলনের কনভেনার জি আই রাসেল।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোবানা চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, স্বাগতিক কমিটির নিরাপত্তাবিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারপারসন দেওয়ান জমিরসহ ফোবানার অন্য নেতারা।

বিশ্বে ফোবানা নামটি একটি ‘ব্র্যান্ড’ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব শিব্বীর আহমেদ বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে এই সংগঠনটি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশিদের মিলনমেলার আয়োজন করে আসছে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়।’

তিনি বলেন, ‘১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের একটি ছোট অডিটরিয়ামে অত্যন্ত ছোট পরিসরে যে ফোবানার জন্ম হয়েছিল, সেই ফোবানার ৩৫তম আসর আজ একই শহরের সবচেয়ে বড় বিলাসবহুল ও ব্যয়বহুল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’

সম্মেলনে দেশ ও প্রবাসের লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পীসহ গুণিজনরা অংশ নেবেন বলে জানান ফোবানার কনভেনার জি আই রাসেল।

তিনি বলেন, ‘৩৫তম ফোবানার অতিথি তালিকায় যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, স্টেট মিনিস্টার শাহরিয়ার আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবায়েত উল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম, দুবাইয়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নইম নিজাম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, অনন্যা প্রকাশনীর মনিরুল হক, ডিবিসি নিউজের সিইও মনজুরুল ইসলাম, সময় টেলিভিশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, চ্যানেল আই প্রধান ফরিদুর রেজা সাগর প্রমুখ।

এ ছাড়াও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী, বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী, শিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রীকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

কনভেনার রাসেল জানান, সম্মেলনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ফ্যাশন শো, মিস ফোবানা, ম্যাগাজিন, বিজনেস লাঞ্চ, বইমেলা, মিউজিক আইডল, ড্যান্স আইডল, সেমিনার, ইয়ুথ ফোরাম, ইন্টারফেইথ ডায়ালগসহ নানা ইভেন্টের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ এবং ওয়ার্দা রিহ্যাব অংশগ্রহণ করবেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, জেমস, তাহসান খান, হৃদয় খান, শফি মণ্ডল, লায়লাসহ জনপ্রিয় শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বৃহত্তর ওয়াশিংটন ও উত্তর আমেরিকার একঝাঁক শিল্পী ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানান রাসেল।

এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর বিজনেস নেটওয়ার্ক লাঞ্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই লাঞ্চে দেশের ও প্রবাসের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।

আরও পড়ুন:
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

বিসিএস না দিয়ে চিকিৎসক জয়দেব কি আত্মহত্যা করেছেন?

বিসিএস না দিয়ে চিকিৎসক জয়দেব কি আত্মহত্যা করেছেন?

মৃত চিকিৎসক জয়দেব কুমার দাস। ছবি: সংগৃহীত

নিকুঞ্জ-২ এর ১৫ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাড়ির ৮ তলার দক্ষিণের পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে থাকতেন সদ্য পাস করা জয়দেব। তিনি কয়েকদিন কক্ষটি থেকে বের হননি। দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। তার বাম হাতে লাগানো একটি সিরিঞ্জ পাওয়া গেছে, যাতে তরল জাতীয় পদার্থ ছিল। সেখানে একটি নোটও ছিল।

সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে সদ্য পাস করা জয়দেব কুমার দাস ঢাকা এসে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শনিবার রাতে অর্ধগলিত অবস্থায় তার মরদেহ খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এর একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়।

জয়দেবের বাম হাতে একটি সিরিঞ্জ লাগানো ছিল। যাতে তরল জাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সঙ্গে একটি নোটও পেয়েছে পুলিশ। সেটি জয়দেবের নিজের লেখা কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।

খিলক্ষেত থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, জয়দেব আত্মহত্যা করেছেন। তবে সিরিঞ্জে পাওয়া তরলের পরীক্ষা, নোটের হাতের লেখার যাচাই এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি।

জয়দেব কবে মারা গেছেন, সেটি নিশ্চিত নয়। নিকুঞ্জ-২ এর ১৫ নম্বর সড়কের ৮ নম্বর বাড়ির ৮ তলার দক্ষিণের পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর বিষয়টি জানাজানি হয়।

কক্ষটি কয়েকদিন ধরে বন্ধ ছিল- এমন খবর পেয়ে শনিবার রাত ৯টার দিকে ওই বাড়িতে যায় পুলিশ। কক্ষের দরজা ভেঙে পশ্চিম পাশের বিছানায় জয়দেবকে চিৎ অবস্থায় মৃত পাওয়া যায়।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আলামত উদ্ধার করে। সুরতহাল ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে রাত ২টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

রোববার দুপুরে ময়নাতদন্ত করা হয়। তবে রাত ৮টা পর্যন্ত মরদেহ হস্তান্তর করা হয়নি।

নিকুঞ্জ-২ এর বাড়িটির দারোয়ানের বরাতে মরদেহ উদ্ধারের পর খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি সাব্বির আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জয়দেব গত তিন দিন বাসা থেকে বের হতে দেখেননি। ওই কক্ষে তিনি একাই থাকতেন।’

খবর পেয়েই নিকুঞ্জ-২ এলাকার ওই বাসায় হাজির হয়েছিলেন খিলক্ষেত থানার উপ পরিদর্শক রাসেল পারভেজ। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘উনার বাম হাতে লাগানো একটি সিরিঞ্জ পেয়েছি। যাতে তরল জাতীয় পদার্থ ছিল। সিরিঞ্জের ভেতরে কী রয়েছে তা সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষার পর জানা যাবে। একটি নোট খাতা ও লাল কলম পেয়েছি।

‘এছাড়া তার কক্ষ থেকে তিনটি সিরিঞ্জে তরল পদার্থ পাওয়া গেছে ও পাঁচটি কেসিএল ইনজেকশনের খালি প্যাকেট পাওয়া গেছে।’

নোটে কী লিখা ছিল তা বলতে চাননি রাসেল পারভেজ। বলেন, ‘এটি তদন্তের বিষয়। আর আমি এখন মনে করতে পারছি না। তবে নোটে লিখাটি জয়দেবের কি না তা যাচাই করা হবে।’

জয়দেবের গ্রামের বাড়ি বাড়ি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের দক্ষিণ সালান্দার কুমারপাড়া গ্রামে। মৃত্যুর খবর পেয়ে তার ভাই নয়ন চন্দ্র দাস ঢাকা মেডিক্যালে আসেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঢাকায় ও বিসিএসের পড়াশুনা করছিল। কেন, কীভাবে হলো জানি না। আমি ক্লান্ত।’

জয়দেব মৃত্যুর ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানান খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর জানা যাবে। পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

হামলার পেছনের কারণ জানানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হামলার পেছনের কারণ জানানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হামলার শিকার কুমিল্লার একটি মণ্ডপ পরিদর্শনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে ঘটনাগুলো ঘটেছে; আমি শুরু থেকেই বলছি, এটি উদ্দেশ্যমূলক। বাংলাদেশের কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষ ধর্মান্ধ নয়, তারা ধর্মভীরু। যে যার ধর্ম পালন করেন। এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের পবিত্র গ্রন্থকে এরকম করবে, এটি এদেশের মানুষ বিশ্বাস করে না।’

অতীতে সাম্প্রদায়িক হামলার পর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসেনি। এবাবের ঘটনার পেছনে কী কারণ সেটি খুঁজে বের করে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

শহীদ শেখ রাসেলের ৫৮ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে রোববার বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ কথা জানান।

‘শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারটি জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত হয়।

এবাবের সাম্প্রদায়িক হামলার কারণ সামনে আসবে কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘যে ঘটনাগুলো ঘটেছে; আমি শুরু থেকেই বলছি, এটি উদ্দেশ্যমূলক। বাংলাদেশের কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষ ধর্মান্ধ নয়, তারা ধর্মভীরু। যে যার ধর্ম পালন করেন। এক ধর্মের মানুষ অন্য ধর্মের পবিত্র গ্রন্থকে এরকম করবে, এটি এদেশের মানুষ বিশ্বাস করে না। এর পেছনে কী কারণ, তা আমরা অবশ্যই খুঁজে বের করব। পরে আপনাদের জানাব। যারা এগুলো করেছেন এবং যে উদ্দেশ্য নিয়ে করেছেন তাদের উদ্দেশ্য কোনদিনই সফল হবে না। তাদেরকে আমরা প্রতিহত করব।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ইতোমধ্যে অনেক কিছুই আপনাদের কানে এসেছে। অনেক কিছু জেনেছেন, আরও জানবেন। যেহেতু তদন্ত চলছে তাই আমি আর মুখ খুলছি না।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক আইজিপি শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘অতীতের ঘটনায় পরিষ্কার বুঝা যায়- স্বাধীনতাবিরোধীরা গুজব ছড়িয়ে ফায়দা নিয়েছে। আমাদের বিকৃত মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, প্রগতিশীল রাজনৈতিক চর্চা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শত শত লোক যেভাবে ওয়াজ করে বলে, সেগুলো কুরআন-হাদীসের ধারে কাছে নেই। এবার হেফাজত মাঠে নামেন নাই। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে মনে হয়। তাদেরকে মেইনস্ট্রিমে নিয়ে আসতে হবে।’

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের আহ্বাক ড. মীজানুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, সাবেক আইজিপি ও কলামিস্ট এ কে এম শহীদুল হক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, জাগো নিউজের সহকারী সম্পাদক ও কলামিস্ট ড. হারুন রশিদ বক্তব্য দেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলামিস্ট মিথুশিলাক মুরমু। স্বাগত বক্তব্য দেন কলামিস্ট ও ফোরামের সদস্য-সচিব অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস।

আরও পড়ুন:
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

বনানীতে রেললাইনে ২০০ গজে দুই মরদেহ

বনানীতে রেললাইনে ২০০ গজে দুই মরদেহ

বনানীতে ট্রেনে কাটা পড়ে দুজন নিহত হয়েছেন।

এয়ারপোর্ট রেলওয়ে পুলিশ ফাড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সাকলাইন বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ৮টার সময় বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ীতে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসে এক নারী ও এক পুরুষ কাটা পড়েন। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই।’

রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় ঢাকাগামী ট্রেনে কাটা পড়ে ২০০ গজের মধ্যে ২ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতের মধ্যে একজন পুরুষ ও অন্যজন নারী। নিহত পুরুষের নাম সাইদুল ইসলাম। তবে ওই নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি।

রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় রেলওয়ে পুলিশ।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এয়ারপোর্ট রেলওয়ে পুলিশ ফাড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. সাকলাইন বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ৮টার সময় বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ীতে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসে এক নারী ও এক পুরুষ কাটা পড়েন। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই।’

নিহত সাইদুল ইসলাম হাওলাদার পেশায় রিকশাচালক। তার বাড়ি বরগুনা সদরের আন্ধারমানিক গ্রামে। তিনি মহাখালী সাততলা বস্তিতে থাকতেন বলে জানান তিনি।

সাকলাইন আরও বলেন, ‘কাটা পড়া ওই নারীর পরিচয় শনাক্তে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের একটি টিম ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ মেডিক্যালের মর্গে রাখা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন

জগন্নাথে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের হাতাহাতি, আহত দুই

জগন্নাথে ছাত্রদল-ছাত্রলীগের হাতাহাতি, আহত দুই

হাতাহাতির আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনে ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুল কলম বিতরণ করেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্রদলের আহ্বায়ক প্রার্থী তাজ বলেন, ‘আমরা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুল ও কলম বিতরণ করছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগ অতর্কীত হামলা করে।’

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে।

রোববার হাতাহাতির এ ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতা গুরুতর আহত হন।

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিনে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা শুরুর আগে আধিপত্য ধরে রাখাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় ভর্তিচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অনেকেই ভয় পেয়ে ওই স্থান ত্যাগ করেন।

ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা জানান, সকালেই শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে ক্যাম্পাসে আসেন তারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক প্রার্থী মেহেদী হাসান হিমেল, তাজ, রাতুল, নাহিদ, নাসিম, জামাল, শাহরিয়ার, মাহাবুব, আজিজ মোহাম্মদ, আলামিন, স্মরণ, ইমরান সহ আরও ৪-৫ জন। তারা পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে গেলে ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাদের নির্দেশে ছাত্রলীগকর্মী মফিজুর রহমান হামিম, শেখ রাসেল, নাজমুল হাসান মুন্না, মেহেদী হাসান, নওশের বিন আলম ডেভিডসহ আরও অনেকেই হামলা করেন।

এতে গুরুতর আহত হন ছাত্রদলের আহ্বায়ক প্রার্থী মেহেদী হাসান হিমেল এবং শাখা ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার হোসেন।

হামলার বিষয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক প্রার্থী তাজ বলেন, ‘আমরা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুল ও কলম বিতরণ করছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগ অতর্কীত হামলা করে। আমার দুই সহকর্মী হিমেল ও শাহারিয়ার গুরুতর আহত হয়েছে। পরে ন্যাশনাল মেডিক্যালে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।’

ছাত্রলীগের জামাল উদ্দীন বলেন, ‘ছাত্রদলের কিছু নেতা-কর্মী পরীক্ষা চলাকালীন বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করেছিল। আমরা তাদের সরিয়ে দিয়েছি।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর কেউ এমন কোনো অভিযোগ করেনি।’

আরও পড়ুন:
মাদকসহ গ্রেপ্তার কনক সারোয়ারের বোন

শেয়ার করুন