সরকারি জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারে জোয়ার

সরকারি জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারে জোয়ার

সরকারি জ্বালানি খাতের সাতটি কোম্পানির মধ্যে কেবল একটির দর কমেছে বুধবার। বাকিগুলোর মধ্যে দুটির দর বেড়েছে সর্বোচ্চ পরিমাণে।

জ্বালানি খাতে সরকারি সব কটি কোম্পানি মৌলভিত্তিক, যেগুলো প্রতিবছর আকর্ষণীয় মুনাফা করে বেশ ভালো লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ও সম্পদমূল্য আকর্ষণীয় হলেও গত কয়েক বছর ধরে এগুলো ঘুমিয়ে ছিল। তবে সম্প্রতি এগুলোর শেয়ার দর চাঙা হয়ে উঠতে দেখা গেছে।

বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতন, কিন্তু সূচকের উত্থান, এই বৃত্তেই পুঁজিবাজার। আবারও বড় মূলধনি বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। লেনদেনের শীর্ষে লাফার্জ হোলসিম, ওরিয়ন ফার্মা ও বেক্সিমকো লিমিটেডই।

এর ভিড়ে সপ্তাহের চতুর্থ দিবসে একটি বিষয় লক্ষণীয়, সেটি হলো জ্বালানি খাতের সরকারি কোম্পানির শেয়ারের উল্লম্ফন।

দিনের সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া পাওয়ার গ্রিড জ্বালানি খাতের সরকারি খাতের মৌলভিত্তির কোম্পানি। এক দিনে দর বৃদ্ধির মূল্যসীমা ছুঁয়েছে এটি।

এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততটাই বেড়েছে জ্বালানি খাতেরই আরেক সরকারি প্রতিষ্ঠান ঢাকা পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানি ডেসকো। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দর বেড়েছে তিতাস গ্যাসের দরও।

জ্বালানি তেল বিপণনে সরকারি তিন কোম্পানি পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রলিয়াম ও যমুনা অয়েলের দামও বেড়েছে একই দিনে।

জ্বালানি খাতে একমাত্র সরকারি কোম্পানি হিসেবে দর হারিয়েছে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট, যেটির দর গত তিন মাসে হঠাৎ করেই দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার পর ক্রমাগত কমছে।

কেবল সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে, এমন নয়। পাওয়ার গ্রিডের শেয়ারের লেনদেন হয়েছে ব্যাপক। সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এমন কোম্পানির মধ্যে এটির অবস্থান চতুর্থ।

জ্বালানি খাতে সরকারি সব কটি কোম্পানি মৌলভিত্তিক, যেগুলো প্রতিবছর আকর্ষণীয় মুনাফা করে বেশ ভালো লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় ও সম্পদমূল্য আকর্ষণীয় হলেও গত কয়েক বছর ধরে এগুলো ঘুমিয়ে ছিল। তবে সম্প্রতি এগুলোর শেয়ার দর চাঙা হয়ে উঠতে দেখা গেছে।

গত কয়েক দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে এই প্রবণতা। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে দর সংশোধন শুরু হলে শুরুতে এসব কোম্পানির শেয়ারও দর হারাতে শুরু করে। কিন্তু পরে ঘুরে দাঁড়ায়।

এ সময়ে পাওয়ার গ্রিডের শেয়ার দর সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৮ টাকা ৫০ পয়সা।

ডেসকোর শেয়ার দর সর্বনিম্ন ৩৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৩ টাকা ৫০ পয়সা।

তিতাস গ্যাসের শেয়ার দর সর্বনিম্ন ৪১ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৫ টাকা ৯০ পয়সা।

পদ্মা অয়েলের শেয়ার দর সর্বনিম্ন ২২৭ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৪০ টাকা।

যমুনা অয়েলের শেয়ার দর ১৮১ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে আসার পর তা উঠেছে ১৮৬ টাকা ৯০ পয়সায়।

তবে উল্টোযাত্রায় থাকা ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের দর কমেছে এক দিনে যত কমা সম্ভব ততটাই। ১১০ টাকা ৯০ পয়সা বা ৪.৮৮ শতাংশ দম কমেছে কোম্পানিটির। এক দিনে এর চেয়ে বেশি কমা সম্ভব ছিল না।

কোম্পানিটির শেয়ার দর গত ১৮ আগস্ট থেকে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছিল। সেদিন দাম ছিল ১ হাজার ৪১৭ টাকা ৮০ পয়সা। হঠাৎ করে বাড়তে বাড়তে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ২ হাজার ৮০৮ টাকা ৩০ পয়সা হয়ে যায়। এরপর থেকে দাম কমতে শুরু করেছে।

জ্বালানি খাতের সরকারি কোম্পানির পাশাপাশি বেশ ভালো পরিমাণ বেড়েছে বিবিধ খাতের বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ার দরও। এই কোম্পানিটিও মুনাফায় আছে আর ব্যবসা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

টেলিকমিউনিকেশন খাতে বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানির শেয়ার দরও বেড়েছে। তবে বৃদ্ধির হার খুব একটা উল্লেখযোগ্য নয়।

তবে প্রকৌশল ও খাদ্য খাতে সরকারি লোকসানি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। কমেছে ব্যাংক খাতের একমাত্র সরকারি কোম্পানি রূপালী ব্যাংকের দরও। এগুলোর মধ্যে কেবল রূপালী ব্যাংক সামান্য মুনাফায় আছে। কিন্তু বাকিগুলো লোকসানি।

কোন কোম্পানির দর কত বাড়ল

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির শেয়ারদর মঙ্গলবার ছিল ৬২ টাকা ৩০ পয়সা। দিনে দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে ৬৮ টাকা ৫০ পয়সায়। শতকরা হিসেবে দাম বেড়েছে ৯.৯৫ শতাংশ।

কোম্পানিটির শেয়ার দর গত ২ বছরে সর্বোচ্চ। তবে এখনও সম্পদমূল্যের চেয়ে নিচেই আছে শেয়ার দর।

২০২০ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১১০ টাকা ৩৯ পয়সা। চলতি বছর প্রথম তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩ টাকা ৯৩ পয়সা।

আগামী ১৪ অক্টোবর ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার দিন ঢাকা পাওয়ার সাপ্লাই কোম্পানি ডেসকোর দর বাড়ল ৯.৫৭ শতাংশ। আগের দিন দর ছিল ৩৯ টাকা ৭০ পয়সা, দিন শেষে দর দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৫০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী এর চেয়ে বেশি দর বাড়া সম্ভব ছিল না।

শেয়ারটির দর তার এক বছরের সর্বোচ্চ দরের কাছাকাছি। এই সর্বোচ্চ দর ৪৪ টাকা ৫০ পয়সা।

গত ৩১ মার্চ তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ৪৩ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য ৪৬ টাকা ৭৬ পয়সা।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দর বেড়েছে তিতাস গ্যাসের ৮ শতাংশ। আগের দিন দর ছিল ৪২ টাকা ৫০ পয়সা। ৩ টাকা ৪০ পয়সা বেড়ে দাম দাঁড়িয়েছে ৪৫ টাকা ৯০ পয়সা।

তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ১২ পয়সা। কোম্পানির শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ৭১ টাকা ৩৯ পয়সা।

জ্বালানি তেল বিপণনে তিন কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫.০৮ শতাংশ দর বেড়েছে পদ্মা অয়েলের। আগের দিন দাম ছিল ২২৮ টাকা ৪০ পয়সা। দাম বেড়ে হয়েছে ২৪০ টাকা।

এই কোম্পানিটির দর এক বছরের সর্বোচ্চ দরের চেয়ে এখনও কম। এই সর্বোচ্চ দর ছিল ২৫৭ টাকা।

কোম্পানিটির শেয়ার দর তার সম্পদ মূল্যের চেয়ে কিছুটা বেশি। শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ১৫৭ টাকা ৬৪ পয়সা।

মার্চ শেষে তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ১৬ টাকা ২৩ পয়সা।

আরেক কোম্পানি মেঘনা পেট্রলিয়ামের শেয়ারদর ১৯৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৫ টাকা ৬০ পয়সা। দাম বেড়েছে ২.৮৫ শতাংশ।

মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ১৭ টাকা ৪০ পয়সা। শেয়ার প্রতি কোম্পানির সম্পদ মূল্য ১৪৮ টাকা ২১ পয়সা।

আরেক কোম্পানি যমুনা অয়েলের দর ১৮১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৮৬ টাকা ৯০ পয়সা। দর বেড়েছে ২.৬৮ শতাংশ।

মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ১২ টাকা ৬৫ পয়সা। শেয়ার প্রতি কোম্পানির সম্পদ মূল্য ১৬১ টাকা ৪০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান
বিনিয়োগের আগে পর্যালোচনা জরুরি: শিবলী রুবাইয়াত
স্বল্প মূলধনি, দুর্বল কোম্পানির উল্টোযাত্রায় আরও হতাশা
আতঙ্কিত হলে ক্ষতি: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তৃতীয় প্রান্তিকে ‘হোঁচটেও’ সিটি ব্যাংকের আয়ে প্রবৃদ্ধি

তৃতীয় প্রান্তিকে ‘হোঁচটেও’ সিটি ব্যাংকের আয়ে প্রবৃদ্ধি

রাজধানীতে সিটি ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৬ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ছিল। অর্থাৎ আয় বাড়ে ১০৬ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১ টাকা ৮৯ পয়সা।

প্রথম দুই প্রান্তিকের চমক তৃতীয় প্রান্তিকে ধরে রাখতে না পারলেও তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখল সিটি ব্যাংক।

গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ৮৯ পয়সা।

অর্থাৎ আয় বেড়েছে ২.৯৭ শতাংশ।

নিঃসন্দেহে ভালো। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিক জুন পর্যন্ত হিসাব বিবেচনায় নিলে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হতাশ হতে পারেন।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৬ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ছিল। অর্থাৎ আয় বাড়ে ১০৬ শতাংশ।

তৃতীয় প্রান্তিকে আয় খুব খারাপ, এমনটা বলার সুযোগ নেই। এই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯০ পয়সা। তবে আগের বছরের একই সময়ের হিসাব বিবেচনায় নিলে হতাশ হতেও পারে।

গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় করেছিল ১ টাকা ৮৯ পয়সা। অর্থাৎ জুন পর্যন্ত শতভাগ আয় বাড়ানো ব্যাংকটি তৃতীয় প্রান্তিকে এসে আয় করেছে আগের বছরের ৫০ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকটির সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ার প্রতি সম্পদ ছিল ৩০ টাকা ১১ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর এই সম্পদ ছিল ২৭ টাকা ৬৫ পয়সা।

সম্পদমূল্যের চেয়ে কম দামে লেনদেন হওয়া ব্যাংকটি ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ২৯ পয়সা আয় করে ১ টাকা ৭৫ পয়সা নগদ ও ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২০টি শেয়ারে একটি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল।

প্রান্তিক প্রকাশের দিন সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর ছিল ২৮ টাকা ২০ পয়সা।

গত এক বছরে ব্যাংকটির শেয়ারদর ২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

করোনার মধ্যেও গত বছর ব্যাংক খাত অভাবনীয় আয় করে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। চলতি বছর অর্ধবার্ষিকে বেশিরভাগ বাংকই আয় আগের বছরের চেয়ে বাড়াতে পেরেছে। তৃতীয় প্রান্তিকেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট চারটি ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিকের আয় প্রকাশ পেল। এর মধ্যে শুরু থেকেই লোকসানে থাকা আইসিবি ইসলামী ব্যাংক এবারও লোকসানের বৃ্ত্তেই আছে। শেয়ারদরে গত এক বছরে উল্লম্ফন হলেও কোম্পানিটি লোকসান কমাতে পারেনি, উল্টো বেড়েছে।

অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে এসসিসি ব্যাংক ২৩ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংক ১৬ শতাংশ আয় বাড়াতে পেরেছে।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান
বিনিয়োগের আগে পর্যালোচনা জরুরি: শিবলী রুবাইয়াত
স্বল্প মূলধনি, দুর্বল কোম্পানির উল্টোযাত্রায় আরও হতাশা
আতঙ্কিত হলে ক্ষতি: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান

শেয়ার করুন

আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও

আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও

গত করোনার বছরে আগের বছরের চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এবারও জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আয়ে চমক দেখায়। দ্বিগুণ, তিন গুণ এমনকি তার চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এখন তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব প্রকাশ করছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংকও আগের বছরের চেয়ে চলতি বছর বেশি আয় করতে পারছে।

গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করতে পেরেছে ২ টাকা ৬৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল (ইপিএস) ২ টাকা ৩০পয়সা। আয় বেড়েছে ৩৭ পয়সা বা ১৬ শতাংশ।

এর আগে এনসিসি ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনেও আয় বাড়ার বিষয়টি উঠে আসে। এই ব্যাংকটি চলতি বছর তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি আয় করেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে নানা রকম আলোচনা থাকলেও বেশির ভাগ কোম্পানির আয় এবং লভ্যাংশ প্রতিবছরই চমকপ্রদ।

গত করোনার বছরে আগের বছরের চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এবারও জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আয়ে চমক দেখায়। দ্বিগুণ, তিন গুণ এমনকি তার চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এখন তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব প্রকাশ করছে।

ইসলামী ব্যাংক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৫৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩৬ পয়সা।

আয়ের পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যও বাড়ছে। ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি সম্পদ হয়েছে ৪০ টাকা ৫৯ পয়সা। গত ৩০ ডিসেম্বরে এই সম্পদ ছিল ৩৮ টাকা ৮৯ পয়সা।

কোম্পানিটির শেয়ারদর বর্তমানে তার সম্পদের চেয়ে কম। আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ টাকায়।

বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমানত ও ঋণদানকারী এই ব্যাংকটির শেয়ারমূল্য গত এক বছর ধরেই স্থিতিশীল। এই সময়ে শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ২৫ টাকা ৪০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৩২ টাকা।

কোম্পানিটি প্রতিবছরই বেশ ভালো আয় করলেও লভ্যাংশের ইতিহাস খুব একটি ভালো নয়। ২০১৬ সাল থেকে টানা ৫ বছর শেয়ারপ্রতি ১ টাকা করে লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান
বিনিয়োগের আগে পর্যালোচনা জরুরি: শিবলী রুবাইয়াত
স্বল্প মূলধনি, দুর্বল কোম্পানির উল্টোযাত্রায় আরও হতাশা
আতঙ্কিত হলে ক্ষতি: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান

শেয়ার করুন

সাবমেরিন ক্যাবলে আয়ে চমকের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ

সাবমেরিন ক্যাবলে আয়ে চমকের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ

২০১২ সালে তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি ২ টাকা লভ্যাংশই এর আগে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ছিল। গত বছরও সম পরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। সে বছর শেয়ারে আয় ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা। এবার শেয়ার প্রতি ১১ টাকা ৫৭ পয়সা আয় করে ৩৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা এসেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আয় করে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে টেলিকম খাতের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি।

গত ৩০ জুন, ২০২১ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারধারীদেরকে ৩ টাকা ৭০ পয়সা করে, অর্থাৎ ৩৭ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

বৃহস্পতিবার পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

২০১২ সালে তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি ২ টাকা লভ্যাংশই এর আগে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ছিল। গত বছরও সম পরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ১১ টাকা ৫৭ পয়সা। এটিও তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। আগের বছর এই আয় ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা।

কোম্পানিটির আয় বেড়েছে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার কারণে। এরপর আয় কীভাবে বেড়েছে, তা ২০১৬ সালের পর থেকে আর্থিক হিসাবে স্পষ্ট হবে।

২০১৬ সালে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল এক টাকা। পরের বছর তা কিছুটা বেড়ে হয় ১ টাকা ৯৩ পয়সা। ২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি আয় কমে যায়। ওই বছর এই আয় হয় ৪৪ পয়সা।

তবে এরপর থেকে আয় বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালে শেয়ারে ৩ টাকা ৫৫ পয়সা আর ২০২০ সালে আয় দাঁড়ায় ৫ টাকা ৮০ পয়সা।

২০২১ সালে কোম্পানির আয় প্রতি প্রান্তিকেই বেড়েছে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ২ টাকা ১ পয়সা, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২ টাকা ৩৬ পয়সা, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে ৩ টাকা ২০ পয়সা এবং এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রান্তিকে আয় হয় ৪ টাকা।

কোম্পানিটি তৃতীয় সাবমেরিক ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

কোম্পানিটির আয়ের মতো সম্পদমূল্যেও উল্লম্ফন হয়েছে। গত ৩০ জুন শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য ছিল ৫২ টাকা ৪৯ পয়সা। আগের বছর এই সম্পদমূল্য ছিল ৪০ টাকা ৯৩ পয়সা।

প্রতি প্রান্তিকেই আয় বাড়তে থাকার পর কোম্পানিটির শেয়ার মূল্যও বাড়তে থাকে। গত এক বছরে ১২৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৩৬ টাকা পর্যন্ত উঠে। তবে লভ্যাংশ ঘোষণার দিন দাম ছিল ২১২ টাকা ৫০ পয়সা।

কোম্পানিটির লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ঠিক করা হয়েছে আগামী ১১ নভেম্বর। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে শেয়ার থাকবে, তারাই পাবেন লভ্যাংশ। আগামী ৭ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান
বিনিয়োগের আগে পর্যালোচনা জরুরি: শিবলী রুবাইয়াত
স্বল্প মূলধনি, দুর্বল কোম্পানির উল্টোযাত্রায় আরও হতাশা
আতঙ্কিত হলে ক্ষতি: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান

শেয়ার করুন

১০ টাকার শেয়ারে ১৪ টাকা লোকসান

১০ টাকার শেয়ারে ১৪ টাকা লোকসান

তিন মাস আগে থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদরে উত্থান ঘটে। গত ২৬ জুন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৫ টাকা ৫০ পয়সা। সেখান থেকে টানা বাড়তে বাড়তে গত ৭ সেপ্টেম্বর গিয়ে দাঁড়ায় ১১ টাকা ৭০ পয়সা। পরদিন থেকে শুরু হয় দরপতন। ৫ সপ্তাহের ব্যবধানে সর্বোচ্চ দর থেকে শেয়ারদর কমেছে ৪ টাকা ২০ পয়সা।  

পর্ষদ পুনর্গঠনের খবরে শেয়ারদরে লাফ দিয়ে হাজারো বিনিয়োগকারীর টাকা আটকে যাওয়া ফাস ফাইন্যান্সের ২০২০ সালের আর্থিক হিসাব চরমভাবে হতাশা করেছে বিনিয়োগকারীদেরকে।

অর্থবছর শেষ হওয়ার ১০ মাস পর ডাকা পর্ষদ সভা শেষে জানানো হয়েছে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ১৪ টাকা ৬১ পয়সা লোকসান হয়েছে কোম্পানিটির। বৃহস্পতিবার পর্ষদ সভা শেষে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশও ঘোষণা করা হয়নি।

আলোচিত ব্যাংকার পি কে হালদার কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া কোম্পানিটিকে টেনে তুলতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দিয়েছে। এরই মধ্যে একটি বড় কোম্পানিকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এর দায়িত্ব নিতে। তবে সেই কোম্পানিটি কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

তবে এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তিন মাস আগে থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদরে উত্থান ঘটে। গত ২৬ জুন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৫ টাকা ৫০ পয়সা। সেখান থেকে টানা বাড়তে বাড়তে গত ৭ সেপ্টেম্বর গিয়ে দাঁড়ায় ১১ টাকা ৭০ পয়সা।

পরদিন থেকে শুরু হয় দরপতন। ৫ সপ্তাহের ব্যবধানে সর্বোচ্চ দর থেকে শেয়ারদর কমেছে ৪ টাকা ২০ পয়সা।

যখন শেয়ারদর বাড়ছিল, তখন তাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। বিপুল সংখ্যক শেয়ার কেনাবেচা হতে থাকে। আর বেশি দামে শেয়ার কিনে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

যখন দাম বাড়ছিল, তখন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, কোম্পানির লোকসান কমে আসবে। কিন্তু দেখা গেছে উল্টো চিত্র। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৮ টাকা ৫৪ পয়সা। পরের তিন মাসে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি লোকসান হয় ৬ টাকা ৭ পয়সা।

২০১৯ সালে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১০ টাকা ১২ পয়সা লোকসান দিয়েছিল পি কে হালদার কেলেঙ্কারির কারণে।

পরপর দুই বছর বড় লোকসান দেয়ার কারণে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য শূন্য হয়ে উল্টো ঋণাত্মক হয়ে গেছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর শেয়ার প্রতি দায় দাঁড়ায় ১৯৯ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছর শেয়ার প্রতি সম্পদ ছিল ১৬৯ টাকা ৪০ পয়সা।

কোম্পানিটির লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ নভেম্বর। আগামী ৩০ নভেম্বর কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান
বিনিয়োগের আগে পর্যালোচনা জরুরি: শিবলী রুবাইয়াত
স্বল্প মূলধনি, দুর্বল কোম্পানির উল্টোযাত্রায় আরও হতাশা
আতঙ্কিত হলে ক্ষতি: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান

শেয়ার করুন

লোকসান আরও বেড়েছে আইসিবি ব্যাংকের

লোকসান আরও বেড়েছে আইসিবি ব্যাংকের

গত বছর তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হয়ে এসেছিল। সে বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথমবারের মতো শেয়ার প্রতি ১৭ পয়সা আয় করে চমক দেখায়। তবে অর্থবছর শেষে সেই লোকসানের বৃত্তেই থাকে।

শেয়ারদর বাড়তে থাকলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি হয়নি।

টানা তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটি লোকসান দিল আর এর মধ্য দিয়ে গত জানুয়ার থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৭ পয়সা। আগের বছর এই সময়ে লোকসান ছিল ১৫ পয়সা।

এর মধ্যে ৩২ পয়সা লোকসান ছিল জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত। আর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থেকে তিন মাসে লোকসান হয়েছে ১৫ পয়সা।

বৃহস্পতিবার কোস্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে এই অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

গত বছর তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হয়ে এসেছিল। সে বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথমবারের মতো শেয়ার প্রতি ১৭ পয়সা আয় করে চমক দেখায়। তবে অর্থবছর শেষে সেই লোকসানের বৃত্তেই থাকে।

লোকসানের কারণে লভ্যাংশ দিতে না পারলেও গত এক বছরে ব্যাংকটির শেয়ার মূল্যে উল্লম্ফন হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ ব্যাংক গত বছর আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও সেগুলোর শেয়ার মূল্য বেড়েছে কমই।

বিপরীতে লভ্যাংশ দিতে না পারা আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর এই সময়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়।

গত বছরের জুলাইয়ে শেয়ারদর ২ টাকা ৮০ পয়সা থাকলেও বর্তমান দর ৫ টাকা ৫০ পয়সা।

তবে মাঝে একবার শেয়ারদর বেড়ে ৭ টাকা ৪০ পয়সা হয়ে যায়। ব্যাংকটি মুনাফায় ফিরছে, এমন গুঞ্জনের পাশাপাশি মালিকানা বদলের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর শেয়ারমূল্য বাড়তে থাকে। পাশাপাশি বাড়ে লেনদেন।

তবে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধনে দুর্বল নানা কোম্পানির পাশাপাশি আইসিবি ইসলামীও ব্যাপক দর হারিয়েছে। মাঝে দাম এক পর্যায়ে ৪ টাকা ৭০ পয়সাতেও নেমে গিয়েছিল। পরে কিছুটা বাড়ে।

কোম্পানিটির লোকসানের পাশাপাশি শেয়ার প্রতি দায়ও বাড়ছে। এই কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি কোনো সম্পদ নেই। উল্টো দায় আছে ১৮ টাকা ১ পয়সা। এটি গত সেপ্টেম্বরের হিসাব। গত বছরের ডিসেম্বরে এই দায় ছিল ১৭ টাকা ৫৪ পয়সা।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান
বিনিয়োগের আগে পর্যালোচনা জরুরি: শিবলী রুবাইয়াত
স্বল্প মূলধনি, দুর্বল কোম্পানির উল্টোযাত্রায় আরও হতাশা
আতঙ্কিত হলে ক্ষতি: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান

শেয়ার করুন

ন্যাশনাল পলিমারে লভ্যাংশ কমল

ন্যাশনাল পলিমারে লভ্যাংশ কমল

২০১১ সাল থেকে টানা বোনাস শেয়ার দিয়ে আসা কোম্পানিটি গত বছরই কেবল ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এবার তা ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় বাড়ার পর লভ্যাংশ কমিয়েছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ন্যাশনাল পলিমার।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৮২ পয়সা আয় করে ১ টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কোম্পানির ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ নগদ লভ্যাংশ। ২০১১ সাল থেকে টানা বোনাস শেয়ার দিয়ে আসা কোম্পানিটি গত বছরই কেবল ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

ওই বছর কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৫০ পয়সা আয় করে ১ টাকা ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

ওই বছর শেষে কোম্পানিটির মোট আয় শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ১২ পয়সা হয়েছিল। তবে পরে একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার যুক্ত হওয়ার পর আয় সমন্বিত হয়ে কমে যায়। আবার প্রতি শেয়ারে ৫ টাকা প্রিমিয়াম যুক্ত হয়।

১০০ শতাংশ রাইট শেয়ার যুক্ত হওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কিছুটা কমেছে। গত ৩০ জুন এই সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৪৯ পয়সা। আগের বছর তা ছিল ৩৫ টাকা ৮৭ পয়সা।

এই লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৪ নভেম্বর। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে শেয়ার থাকবে, তারাই পাবে এই লভ্যাংশ।

এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ২২ ডিসেম্বর।

কোম্পানিটির শেয়ার দর গত এক বছরে ৫২ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৭৭ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকের আয় সংশোধনকে কেন্দ্র করে শেয়ারমূল্য পরে কমে যায়।

লভ্যাংশ ঘোষণার দিন শেয়ার দর ছিল ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান
বিনিয়োগের আগে পর্যালোচনা জরুরি: শিবলী রুবাইয়াত
স্বল্প মূলধনি, দুর্বল কোম্পানির উল্টোযাত্রায় আরও হতাশা
আতঙ্কিত হলে ক্ষতি: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান

শেয়ার করুন

তালিকাভুক্তির পর সর্বনিম্ন লভ্যাংশ বিবিএস ক্যাবলস

তালিকাভুক্তির পর সর্বনিম্ন লভ্যাংশ বিবিএস ক্যাবলস

কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৬৬ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ বোনাস ও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১৯ সালেও লভ্যাংশ ছিল সম পরিমাণ, ওই বছর শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৮ টাকা ১৭ পয়সা। ২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি ৮ টাকা ৮ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৭ সালে তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪ টাকা ১২ পয়সা। প্রথম বছরে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা নগদের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ বোনাস পেয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বিবিএস ক্যাবলস আগের বছরের চেয়ে কম আয় করে লভ্যাংশ কমিয়েছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থ বছরে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ৮৪ পয়সা আয় করে এক টাকা নগদ ও প্রতি ২০টি শেয়ারে একটি বোনাস শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

অর্থাৎ এবার ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস মিলিয়ে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ পাবে বিবিএস ক্যাবলসের বিনিয়োগকারীরা, যা ২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর সবচেয়ে কম লভ্যাংশ।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৬৬ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ বোনাস ও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১৯ সালেও লভ্যাংশ ছিল সম পরিমাণ, ওই বছর শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৮ টাকা ১৭ পয়সা।

২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি ৮ টাকা ৮ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৭ সালে তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪ টাকা ১২ পয়সা। প্রথম বছরে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা নগদের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ বোনাস পেয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য কিছুটা বেড়েছে। গত ৩০ জুন এই সম্পদমূল্য ছিল ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা। আগের বছর তা ছিল ৩২ টাকা ৫২ পয়স।

লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ নভেম্বর। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে শেয়ার থাকবে, তারাই এই লভ্যাংশ পাবে। আগামী ২০ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভায় লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে।

আরও পড়ুন:
পুঁজিবাজারে এখনকার উত্থান-পতন স্বাভাবিক: সালমান
বিনিয়োগের আগে পর্যালোচনা জরুরি: শিবলী রুবাইয়াত
স্বল্প মূলধনি, দুর্বল কোম্পানির উল্টোযাত্রায় আরও হতাশা
আতঙ্কিত হলে ক্ষতি: বিএসইসি চেয়ারম্যান
ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান

শেয়ার করুন