যুবকের টাকা ফেরত আর কবে

যুবকের টাকা ফেরত আর কবে

যুবক-এ বিনিয়োগ করা লাখ লাখ গ্রাহকের টাকা উদ্ধারে নেই কোনো জোরাল উদ্যোগ। ছবি: সংগৃহীত

যুবক নামক সমবায় প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩ লাখ গ্রাহকের লগ্নি করা ২ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা আটকে আছে। যুবকের সম্পত্তি বিক্রি করে এই টাকা গ্রাহককে কীভাবে ফিরিয়ে দেয়া যায়, তা নিয়ে তিনটি কমিটি হয়েছে। তাদের সুপারিশ ১১ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারের কোন কর্তৃপক্ষ এ উদ্যোগ নেবে এ নিয়ে চলছে টানাটানি।

‘স্ত্রী-সন্তান কেউ এখন আর আমাকে বিশ্বাস করে না। সন্তানরা বলে, আমাদের জন্য কিছুই করতে পার নাই। আত্মীয়স্বজনও দুর্ব্যবহার করে সারাক্ষণ। মৃত্যুই এখন একমাত্র কাঙ্ক্ষিত, কিন্তু চোখ বুজলে তো পাওনাদাররা মাফ করবে না।’

যুব কর্মসংস্থান সোসাইটিতে (যুবক) ৩৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন আক্ষেপ করছেন মো. মোজাম্মেল হোসেন। বলেন, ‘এক বুক স্বপ্ন নিয়ে নিজের এবং আত্মীয়দের অর্থ এই প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করি, কিন্তু লাভ তো দূরের কথা, মূল টাকাই পেলাম না। টাকার শোকে কেটে গেছে এক যুগের বেশি সময়। আর কবে পাব টাকা, কবে একটু স্বস্তি নিয়ে মরতে পারব?’

উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমানত নেয় যুবক। নিবন্ধন না নিয়েই ১৯৯৪ সাল থেকে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করে এই প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৭ সালে ২০ ধরনের ব্যবসা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠান।

২০১৬ সালে যুবকের ব্যবসাকে অবৈধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর শুরু হয় হইচই। এরই মধ্যে যুবকের কাছে ৩ লাখ ৩ হাজার গ্রাহকের পাওনা দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা।

গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দিতে সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে গঠন করা হয় কমিটি। এরপর সাবেক যুগ্ম সচিব রফিকুল ইসলামকে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয় যুবক কমিশন। এ ছাড়া আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি তৈরি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। দায়দেনা নিরূপণ এবং তা পরিশোধে প্রশাসক নিয়োগের পরামর্শ দেয় সবাই, কিন্তু ফলাফল শূন্য। প্রশ্ন হচ্ছে, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?

ফরাসউদ্দিন কমিটি

যুবকের গ্রাহকদের পাওনা অর্থ কীভাবে উদ্ধার করে দেয়া যায়, তা বের করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে সভাপতি করে ২০১০ সালের ২৬ জানুয়ারি একটি কমিটি গঠন করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

ফরাসউদ্দিন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুবকের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য গ্রাহকদের পাওনার চেয়ে বেশি। তবে কমিশন স্থির করে যে, যুবক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর এ সম্পত্তি দখলে নিয়ে সেখানে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে তা বিক্রি করে গ্রাহকদের বিনিয়োগ করা অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যুবক যাতে এসব সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে না পারে, সে জন্য স্থগিতাদেশ আবশ্যক বলে মত দেয় কমিটি।

যুবক নিয়ে তৈরি করা প্রথম কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, যুবক ও যুবকের কর্মকর্তাদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং নামে-বেনামে হস্তান্তর করা সম্পত্তি প্রশাসনিক বা বিচারিক আদেশের মাধ্যমে সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা যায়। এ সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহকের আসল টাকা পরিশোধ করা যাবে। যুবক বা এ ধরনের জনস্বার্থবিরোধী কোনো গোষ্ঠী যাতে আর গড়ে উঠতে না পারে, সে জন্য অর্থ বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্থায়ী সংস্থা বা কমিশন গঠন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে এমএলএম কোম্পানির জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা দরকার।

রফিকুল ইসলাম কমিশন

দুই বছর মেয়াদে ২০১১ সালের ৭ মে সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব মো. রফিকুল ইসলামকে চেয়ারম্যান করে ‘যুবক কমিশন’ গঠন করে সরকার। এই কমিশন পাঁচটি সুপারিশ করে। যুবক গ্রাহকদের অর্থের পরিমাণ সুনির্দিষ্টকরণ, অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি নির্ধারণ, সকল সম্পত্তি বিক্রি এবং হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা দেয়া ছাড়াও প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ দেয় কমিশন। মেয়াদ পূর্তিতে কমিশন সুপারিশসহ প্রতিবেদনও দেয়। কিন্তু এর বাস্তবায়ন নেই।

যুবকের টাকা ফেরত আর কবে
ঢাকায় যুবকের নামে রয়েছে এমন বেশ কয়েকটি ভবন। ছবি: নিউজবাংলা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি

যুবক গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দেবার কৌশল বের করতে ২০১৪ সালের শেষ দিকে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

১০ সদস্যের ওই কমিটির সুপারিশে বলা হয়, ‘কমিশন অব ইক্যুইটি অ্যাক্ট, ১৯৫৬ অনুযায়ী সরকার/বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুবক বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিধি নিয়ে প্রশাসনিক আদেশে জনস্বার্থ সম্পৃক্ত বিষয়ে কমিশন গঠন করে ধারা-১১ ক্ষমতাবলে ওই আইনের পুরো আইনি ক্ষমতা অর্পণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকার একজন হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি/অবসরপ্রাপ্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা/অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন অথবা পাঁচ সদস্যের কমিশন গঠন করতে পারে।’

প্রশাসক নিয়োগ আর হয় না

অদৃশ্য কারণে এক যুগেরও বেশি সময় পরও যুবক নিয়ে কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়নি কেউ। বাধা কোথায় তাও স্পষ্ট না। তবে, আইনগত দিক সামনে আসায় এ বিষয়ে দায়িত্ব নেয়নি কেউ। মামলা থাকায় এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে দায় এড়িয়েছে মন্ত্রণালয় ও সংস্থা।

সম্পদ বিক্রি করছে যুবক

ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন কমিটি সম্পদের হিসাব চাইলে সেখানে তথ্য দেয় যুবক। তাদের তথ্যে দেখা যায়, ১৮টি বাড়ি, ১৮টি প্রকল্পসহ ২ হাজার ২০০ একর জমির মালিক যুবক।

এ ছাড়া অন্যান্য হিসাব বলছে, যুবকের মোট জমির পরিমাণ ৩ হাজার একর। প্রকল্প রয়েছে ১৮টি। আর বাড়ি রয়েছে ১৮টি, বর্তমান বাজারমূল্যে যা দাঁড়ায় ৬ হাজার কোটি টাকা। কার্যক্রম বন্ধের পর যে সম্পদ ছিল, এখন তা নেই। কোনোটি বিক্রি হয়েছে, কোনোটি আবার দখল হয়ে গেছে। নেপথ্যে থেকে তেজগাঁও শিল্প এলাকায় যুবকের একটি শিল্প প্লট ভোগদখল করছে যুবকের পুরোনো কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া পল্টনে বি কে টাওয়ার এখন দখল হয়ে গেছে। সেখানে দোকান দিয়ে ব্যবসা করছে প্রভাবশালী একটি মহল। ৫৩/১ নয়াপল্টনের একটি চারতলা বাড়ি দখলে নিয়েছে প্রভাবশালী মহল। সেখানে মাদ্রাসার নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যুবকের নেতৃত্বে যারা ছিলেন, তারা জামিনে বের হয়ে নেপথ্যে থেকে সম্পদ বিক্রি এবং ভোগদখলে নেমেছেন।

যুবক ক্ষতিগ্রস্ত কমিটির সুপারিশ

যুবক গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় গঠন করা হয়েছে যুবক ক্ষতিগ্রস্থ জনকল্যাণ সোসাইটি। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে অবস্থিত এই সংগঠন এ সংকট সুরাহায় নানাভাবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু কেউ সুরাহায় এগিয়ে আসেনি।

সবশেষ ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে এই সংগঠনের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেয়া হয়। সেখানে যুবক বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি কামনা করে প্রশাসক নিয়োগের দাবি তোলা হয়। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে অর্থমন্ত্রী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে প্রশাসক নিয়োগের পরামর্শ দেন। বলেন, প্রশাসক নিয়োগের এখতিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

এর পরেও কোনো পদক্ষেপ না নেয়া হলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ২০২০ সালের মার্চ মাসে বাণিজ্যসচিবকে চিঠি দেয়া হয়। উপসচিব মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘যুবকের সম্পত্তি সরকারি হেফাজতে গ্রহণ, রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও বিক্রয়পূর্বক এর ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জমাকৃত মূল আমানত পরিশোধের লক্ষ্যে একজন রিসিভার বা প্রশাসক নির্বাচন করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।’

উদ্যোগ নিচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

সম্প্রতি সাংবাদিকদের এক কর্মশালায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ডেসটিনি ও যুবকের প্রতারিত গ্রাহকেরা অন্তত ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ টাকা ফেরত পেতে পারেন বলে মন্তব্য করেন ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডেসটিনি ও যুবকের সম্পদগুলোর দাম বর্তমানে বেড়েছে অনেক। ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করলেও যে টাকা পাওয়া যাবে, তা দিয়ে গ্রাহকদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ টাকা ফেরত দেয়া যাবে।

এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে সাংবাদিকদের জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘আইনমন্ত্রী আমাকে বললেন, এটা আদালতের বিষয়। কোনো সংস্থা দিয়ে সংযুক্ত করে ক্ষতিপূরণ দেয়া যেতে পারে। আইন মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে।’

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলল তদন্তে
এলডিসিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
করোনায় অর্থনীতির ক্ষতি: কমনওয়েলথের সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইভ্যালির মামলা তদন্ত করবে না দুদক

ইভ্যালির মামলা তদন্ত করবে না দুদক

দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ই-কমার্স বা ইভ্যালির দুর্নীতি দুদকের শিডিউলভুক্ত অপরাধ নয়। শুধু মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি দেখে আমরা এটি আমলে নিয়েছিলাম।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে সরে আসছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ মঙ্গলবার অফিস ছাড়ার সময় সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স বা ইভ্যালির দুর্নীতি দুদকের শিডিউলভুক্ত অপরাধ নয়। শুধু মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি দেখে আমরা এটি আমলে নিয়েছিলাম।’

গত জুলাইতে ইভ্যালির অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল সংস্থাটি।

ইভ্যালির বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ ছিল অনেক দিন ধরে। এসবের মধ্যেই গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এরপর গুলশান থানায় করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। এই মামলায় রিমান্ড শেষে ধানমন্ডি থানায় করা অর্থ আত্মসাতের অপর এক মামলায় রাসেলকে ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আসামি দুজনই বর্তমানে কারাগারে।

এ ছাড়া গত ১৬ অক্টোবর ইভ্যালির ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধ করে দেয়া হয়। গঠন করা হয় একটি পরিচালনা পরিষদ। সরকারের সাবেক সচিব ও বর্তমানসহ চার কর্মকর্তাকে পরিষদে রাখা হয়েছে।

হাইকোর্টের গঠন করে দেয়া বিশেষ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলল তদন্তে
এলডিসিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
করোনায় অর্থনীতির ক্ষতি: কমনওয়েলথের সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী

শেয়ার করুন

লিটারে ৭ টাকা বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম

লিটারে ৭ টাকা বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম

নতুন দাম অনুযায়ী, এক লিটার খোলা সয়াবিন বাজারে বিক্রি হবে ১৩৬ টাকা। অনুরূপভাবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হবে ১৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম পড়বে ৭৬০ টাকা।  এ ছাড়া প্রতি লিটার পামওয়েল বিক্রি হবে ১১৮ টাকায়। 

খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের সয়াবিনের দাম লিটারে ৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিজ্ঞপ্তিতে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, এক লিটার খোলা সয়াবিন বাজারে বিক্রি হবে ১৩৬ টাকা। অনুরূপভাবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হবে ১৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম পড়বে ৭৬০ টাকা।

এ ছাড়া প্রতি লিটার পামওয়েল বিক্রি হবে ১১৮ টাকায়।

এর আগে রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ও চিনি ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে প্রাথমিকভাবে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়। তবে গত ১৪ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ১০ শতাংশ শুল্ক কমানোর ঘোষণায় চিনির দাম বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

গত ৬ সেপ্টেম্বর লিটারে তেলের দাম বাড়ানো হয় ৪ টাকা। ওই দাম বাজারে কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিনের দাম নির্ধারিত ছিল লিটারপ্রতি ১৫৩ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম ৭২৮ টাকা। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছিল ১২৯ টাকায়।

বৈঠকের পর দাম বাড়ানোর সুপারিশে সম্মতি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলল তদন্তে
এলডিসিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
করোনায় অর্থনীতির ক্ষতি: কমনওয়েলথের সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ

ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ

নোটিশে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে মার্কিন ডলারের দাম অনৈতিক ও অন্যায়মূলকভাবে বাড়ানো হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মান অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রার অবমূল্যায়নের দরুণ বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিতে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে এবং আমদানিকৃত খাদ্য দ্রব্য ও জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং অনলাইনে ডলার কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর মঙ্গলবার নোটিশটি পাঠান সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য মূলত মার্কিন মুদ্রা ডলার ব্যবস্থায় করা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ডলারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ২০০৬ সালে ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৭০ টাকা। অপরদিকে ২০২১ সালের অক্টোবরে ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৫.৬০ টাকা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৮৮ টাকা দরে ডলার বিক্রি হচ্ছে।

নোটিশে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে মার্কিন ডলারের দাম অনৈতিক ও অন্যায়মূলকভাবে বাড়ানো হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মান অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রার অবমূল্যায়নের দরুণ বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিতে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে এবং আমদানিকৃত খাদ্য দ্রব্য ও জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ব্যাপক সমস্যায় পড়েছে; দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ তাদের প্রযোজনীয় খাদ্য দ্রব্য কিনতে পারছে না।

আইনি নোটিশে বলা হয়, মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়ন রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতার জন্য দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে বাংলাদেশ ফরেন একচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ব্যাতীত বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপরও বাংলাদেশে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অধিক মূল্যে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে।

নোটিশে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং অনলাইনে ডলার কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলল তদন্তে
এলডিসিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
করোনায় অর্থনীতির ক্ষতি: কমনওয়েলথের সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী

শেয়ার করুন

নজরদারিতে আসছে ই-কমার্স

নজরদারিতে আসছে ই-কমার্স

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ফাইল ছবি

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ই-কমার্স তো বন্ধ করা যাবে না। সুতরাং তাদের সবাইকে রেজিস্ট্রেশন ও মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। কীভাবে মনিটর করা যাবে, সে ব্যবস্থা আমরা করে ফেলেছি। আশা করি, দেড় বা দুয়েকের মধ্যে একটা ভালো কিছু হবে।’

সরকার ই-কমার্স বন্ধ করতে চায় না। তবে এ পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

পাশাপাশি ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নজরদারির আওতায় আনার বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক পরবর্তী এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘ই-কমার্স তো বন্ধ করা যাবে না। সুতরাং তাদের সবাইকে রেজিস্ট্রেশন ও মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। কীভাবে মনিটর করা যাবে, সে ব্যবস্থা আমরা করে ফেলেছি। আশা করি, দেড় বা দুয়েকের মধ্যে একটা ভালো কিছু হবে।’

ই-কমার্স নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানান সচিব। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে গত কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক সভায় পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দেয়া হয়েছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সচিব বলেন, ‘এক মাস সময় দেয়া হয়েছিল। আমার মনে হয় আগামী ২০ দিনের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন। বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিব দুজনই বলেছেন তারা অনেকদূর এগিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। গত দু্ই থেকে আড়াইমাস ধরে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ই-কমার্সের প্রলোভনে না পড়তে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও মন্ত্রিসভায় জোর দেয়া হয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘জনগনকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যে, তিনি কী জাতীয় প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ লাখ টাকার মোটরবাইক আড়াই লাখ টাকায় দেয়া হবে বলছে। সেটি শুনেই ঝাঁপিয়ে না পড়ে নিজেরও বিচার বিবেচনা থাকা দরকার।’

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলল তদন্তে
এলডিসিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
করোনায় অর্থনীতির ক্ষতি: কমনওয়েলথের সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী

শেয়ার করুন

কার্ডে আন্তব্যাংক লেনদেনে চার্জ নির্ধারণ

কার্ডে আন্তব্যাংক লেনদেনে চার্জ নির্ধারণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের আওতায় একটি ব্যাংকের গ্রাহক ভিন্ন ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করলে বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা নেয়া যাবে। আর ৫ টাকা দেবে ব্যাংক কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক। এ ছাড়া, স্থিতি অনুসন্ধান ও খুদে বিবরণীর জন্য বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে ৫ টাকা ফি নেয়া যাবে।

ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের (এনপিএসবি) আওতায় এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করলে দিতে হবে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ। এর মধ্যে গ্রাহক দেবেন ১৫ টাকা। বাকি ৫ টাকা কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক দেবে।

তবে এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহার করে টাকা জমা দিলে ২০ টাকা খরচ হবে, যার পুরোটাই কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংককে দিতে হবে।

এটিএম, পয়েন্ট অফ সেল বা পস এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ফান্ড ট্রান্সফারের জন্য ফি ও চার্জ নতুন করে নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ বাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে।

দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের নতুন নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ ও ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিমের আওতায় লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের আওতায় একটি ব্যাংকের গ্রাহক ভিন্ন ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনে বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা নেয়া যাবে। আর ৫ টাকা দেবে ব্যাংক কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক। এ ছাড়া, স্থিতি অনুসন্ধান ও খুদে বিবরণীর জন্য বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে ৫ টাকা ফি নেয়া যাবে।

পাশপাশি এটিএম থেকে তহবিল স্থানান্তরে কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা এবং অন্য ব্যাংকের এটিএমে জমার জন্য ২০ টাকা ফি নেয়া যাবে।

দেশের ভেতরে পস ব্যবহার করে নগদ অর্থ উত্তোলনে প্রতি লেনদেনে গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা চার্জ নেয়া যাবে।

এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের পস ব্যবহার করে মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট থেকে মোট লেনদেনের ন্যূনতম ১ দশমিক ৬০ শতাংশ ডিসকাউন্ট বাবদ আদায় করবে। এর ১ দশমিক ১ শতাংশ বিনিময় ফি হিসেবে কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক দেবে।

এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং তহবিল স্থানান্তরে লেনদেন প্রতি গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা এবং বাংলা কিউআরে মার্চেন্ট থেকে মোট লেনদেনের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ চার্জ কাটা যাবে। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বিনিময় চার্জ বাবদ কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংককে দিতে হবে।

কার্ডের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবার মূল্য পরিশোধের কর পরিশোধে বাংলাদেশে ইস্যুকৃত কার্ডের জন্য ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধে গ্রাহক থেকে লেনদেন প্রতি সর্বোচ্চ ২০ টাকা আদায় করবে। এর মধ্যে ২৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রচলিত ফি দেবে।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলল তদন্তে
এলডিসিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
করোনায় অর্থনীতির ক্ষতি: কমনওয়েলথের সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী

শেয়ার করুন

আইএফসির কাছে সহজ শর্তে ঋণ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

আইএফসির কাছে সহজ শর্তে ঋণ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

আইএফসির এমডিকে উদ্দেশ্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। এ জন্য অনেক বেশি বিনিয়োগ দরকার। তাই পিপিপির মাধ্যমে বেসরকারি খাতে অধিক বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।’  

বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আইএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম্যাকথার ডিউপের সঙ্গে সোমবার এক বৈঠকে তিনি এ অনুরোধ করেন।

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বার্ষিক সভার সাইড লাইনে বাংলাদেশ ও আইএফসির মধ্যে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী। আইএফসির পক্ষে ছিলেন সংস্থার এমডি ম্যাকথার ডিউপ।

বাংলাদেশের পক্ষে সভায় বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রী ২০১৯ সালে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ ‘বাংলা বন্ড’ ইস্যু করার জন্য আইএফসির প্রশংসা করেন এবং করোনা মহামারির সময় বেসরকারি খাতে বিশেষ করে ব্যাংক, বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান ও নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সহযোগিতা অব্যাহত রাখায় আইএফসিকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ‘টাকা বন্ড’ ইস্যুসহ সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কার, আইএফসির কান্ট্রি স্ট্র্যাটেজি এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর মাধ্যেমে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের উন্নয়নে পিপিপিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য আইএফসিকে অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রী।

আইএফসির এমডিকে উদ্দেশ্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। এ জন্য অনেক বেশি বিনিয়োগ দরকার।

তাই পিপিপির মাধ্যমে বেসরকারি খাতে অধিক বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।

এ ছাড়া আইএফসির সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পার্টনারশিপ আরও সংহত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুস্তফা কামাল।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলল তদন্তে
এলডিসিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
করোনায় অর্থনীতির ক্ষতি: কমনওয়েলথের সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী

শেয়ার করুন

সহজে দেশে আনা যাবে সেবা খাতের আয়

সহজে দেশে আনা যাবে সেবা খাতের আয়

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

সার্কুলারে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মে কিংবা বিদেশি পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার (এডি) বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব বা নস্ট্রো হিসাবে জমা করা অর্থ ওই ব্যাংক পরে সেবা প্রদানকারী গ্রাহকের হিসাবে জমা করবে।

ফ্রিল্যান্সার ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণে এখন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারগুলো কাজ করতে পারবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে সেবা খাতের আয় দেশে আনার পদ্ধতি আরও সহজ হলো।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সেবা সরবরাহকারি আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে মার্চেন্ট হিসাব পরিচালনাসহ বিদেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীরা নোশনাল হিসাব করতে পারবে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব অনুমোদিত ডিলারের কাছে পাঠানো হয়।

এর আগে সেবা খাতের আয় প্রত্যাবাসনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১১ সালে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে বিদেশে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারদের (ওপিজিএসপি) সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দেয়।

সার্কুলারে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মে কিংবা বিদেশি পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার (এডি) বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব বা নস্ট্রো হিসাবে জমা করা অর্থ ওই ব্যাংক পরে সেবা প্রদানকারী গ্রাহকের হিসাবে জমা করবে।

এক্ষেত্রে এডি ব্যাংকসেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে পরিচালিত মার্চেন্ট হিসাব পরিচালনা এবং বিদেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে তার নোশনাল হিসাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেবে।

এরপর সেবা প্রদানকারীর সেবা কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্যাদিসহ ঘোষণা নিতে হবে। প্রদত্ত সেবার বিপরীতে প্রাপ্য আয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন কিংবা নোশনাল ও মার্চেন্ট হিসাবে জমার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তা দেশে আনার বিষয়ে গ্রাহকের নিকট থেকে আন্ডারটেকিং গ্রহণ করবে। সেবা খাতের বিপরীতে প্রাপ্ত আয় গ্রাহকের হিসাবে জমা হবে।

নতুন নির্দেশনায় গ্রাহকের স্থানীয় ডিজিটাল ওয়ালেটে উক্ত অর্থ টাকায় জমা করা যাবে। প্রাপ্ত আয়ের প্রযোজ্য অংশ গ্রাহকের সম্মতি সাপেক্ষে এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবে জমা করতে পারবে। প্রযোজ্য কর কর্তন, পরিশোধের বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়েও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

সেবা আয় দেশে আনার জন্য মার্চেন্ট বা নোশনাল হিসাব ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে দেশের বাইরে অর্থ সংরক্ষণ করা যাবে না। সেবা খাতের এ আয় নির্ধারিত চার মাসের মধ্যে দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুন:
চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলল তদন্তে
এলডিসিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন: অর্থমন্ত্রী
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
করোনায় অর্থনীতির ক্ষতি: কমনওয়েলথের সহযোগিতা চান অর্থমন্ত্রী

শেয়ার করুন