আমদানি-রপ্তানির ভার নিতে পারছে না বাংলাবান্ধা

আমদানি-রপ্তানির ভার নিতে পারছে না বাংলাবান্ধা

বন্দরের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যে হারে বাড়ছে সে হারে সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ যাবতীয় সক্ষমতা বাড়াতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আমদানি-রপ্তানি চলছে এ বন্দরে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, জায়গার অভাবে রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে পারে না। ফলে বন্দর এলাকায় প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে।

ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ পণ্যবাহী ট্রাক এ বন্দরে আসে। শতাধিক ট্রাক রপ্তানিপণ্য নিয়ে ভারত ও নেপাল যায়।

চাল, ডাল, ভুট্টা, ভুসিসহ নানা খাদ্যপণ্যের আমদানি বাড়লেও জায়গা বাড়েনি বন্দরটিতে। এ কারণে বন্দরের ভেতরে পণ্য লোড-আনলোড করতে সমস্যায় পড়েন আমদানিকারকরা।

বন্দরে যত সমস্যা

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে বন্দর এলাকা পর্যন্ত ৩০০ মিটারের মধ্যে উদ্ভিদসঙ্গনিরোধ ও প্রাণীসঙ্গনিরোধ কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। কাস্টমস বাউন্ডারির মধ্যে বালু ভরাট, ইমিগ্রেশন ভবন ও বিজিবি ক্যাম্প নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এগুলোর দাপ্তরিক কাজ শুরু হলে সড়কে যানজট আরও বেড়ে যাবে।

এ অবস্থায় বন্দর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জমি অধিগ্রহণ ও বন্দরসংশ্লিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বন্দরে সাড়ে ১২ হাজার বর্গফুট ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড, ১ লাখ ৩৩ হাজার বর্গফুট ঢালাই করা ইয়ার্ড এবং ১ লাখ বর্গফুট ম্যাকাডাম করা ইয়ার্ড রয়েছে। আমদানি পণ্যের তুলনায় এই ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা খুবই সীমিত।

বন্দরে ৮ হাজার ১০০ বর্গফুট আয়তনের ২টি এবং ৫ হাজার বর্গফুটের ১টি ওয়্যারহাউস রয়েছে। এর মধ্যে এখন কাস্টমসের জব্দ করা ১৯০ টন গম ও ৮৫০ টন চাল রয়েছে। এ কারণে বস্তাজাত পণ্য সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

এসব সমস্যা সমাধানে অসমাপ্ত ইয়ার্ডের ঢালাই ও ওয়্যারহাউস নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আমদানিকারকরা।

বন্দরের ভেতরে রয়েছে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, সোনালী ব্যাংকসহ গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই-এর কার্যালয়। বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা মাত্র কয়েকজন আনসার সদস্য দিয়েই চালিয়ে নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

নেপাল থেকে মাসে গড়ে ৫০ থেকে ৬০টি ট্রাকে ডাল, চিরতা, হাড়ের গুঁড়া, হাজমোলাসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে মাসে গড়ে ১ হাজার ৫০০ ট্রাক সয়াবিন মিল, ওষুধ, আলু, ব্যাটারি, ফেব্রিক্স, প্রাণ ও ওয়ালটনের পণ্য, রানার মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে।

আমদানিপণ্য নিয়ে নেপালি ট্রাক সরাসরি ভারত হয়ে বাংলাবান্ধা বন্দরে এসে পণ্য খালাস করে।

আমদানি-রপ্তানির ভার নিতে পারছে না বাংলাবান্ধা

রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের ফুলবাড়ী সীমান্তে বাংলাদেশি ট্রাক থেকে নেপাল থেকে আসা ট্রাকে পণ্য ট্রান্সশিপমেন্ট করে নেপালে পণ্য রপ্তানি করতে হয়।

ভারতের ফুলবাড়ী সীমান্তে দেড় শতাধিক ট্রাকের ধারণক্ষমতার ম্যাকাডামের একটি ইয়ার্ড রয়েছে। ইয়ার্ডে নেপালের জন্য ৫০টি ট্রাকের জায়গা সংরক্ষিত। রপ্তানি বৃদ্ধি পেলেই ভারতের ফুলবাড়ীতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে বাংলাবান্ধা ও ফুলবাড়ী উভয় অংশে যানজট লেগে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন ব্যবসায়ীরা।

কর্তৃপক্ষ যা বলছে

এ ক্ষেত্রে ফুলবাড়ী বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বাংলাবান্ধা থেকে নেপালে সরাসরি ট্রাকে পণ্য রপ্তানির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে মনে করেন বাংলাবান্ধা স্থল বন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক সাইদুর রহমান সাগর।

এ ছাড়া জিরো পয়েন্টে ভারতীয় অংশের গেট দুটি প্রতিদিনের কর্মঘণ্টার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খোলা রাখা এবং উভয়মুখী পণ্যবাহী ও খালি ট্রাকের যাওয়া-আসা নিরবচ্ছিন্ন রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বন্দরের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এ বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম যে হারে বাড়ছে সে হারে সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। বন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণসহ যাবতীয় সক্ষমতা বাড়াতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

বন্দরের আমদানিকারক ও বন্দর শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ইদ্রীস আলী বলেন, ‘প্রতিবছর এ বন্দর থেকে সরকার রের্কড পরিমাণ রাজস্ব আদায় করছে। কিন্তু বন্দর ব্যবস্থাপনায় সরকারের কোনো ভূমিকা নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো কাজ করছে।

‘বিদেশি ট্রাকচালকরা এখানে এসে অনেক সময় দুই থেকে চার দিন আটকা পড়েন। তাদের থাকার জন্য কোনো শেড নেই, নেই খাবারের ব্যবস্থা।’

বন্দরের সহকারী কমিশনার কাস্টমস মবিন-উল-ইসলাম বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে এই বন্দরে দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় হয়েছে। সে তুলনায় বন্দরে অবকাঠামোসহ অন্য কোনো সুবিধা বাড়ছে না। ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নিলে বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

আরও পড়ুন:
হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাকচালকের মৃত্যু
বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের পিসিআর টেস্টের খরচ সরকারের
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজের ধাক্কা, বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক হচ্ছে যশোর বিমানবন্দর
শাহজালালের পিসিআর ল্যাবে আরব আমিরাতের অনুমোদন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এসবিএসি ব্যাংকের আমজাদসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এসবিএসি ব্যাংকের আমজাদসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংক লিমিটেডের (এসবিএসি) সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

দুদকের কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণ জালিয়াতির মামলাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ ও মামলার তদন্ত চলছে। অর্থ পাচারের ঘটনা এখন পর্যন্ত প্রমাণ হয়েছে।’

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কর্মাস ব্যাংক লিমিটেডের (এসবিএসি) সাবেক চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেনসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক বৃহস্পতিবার মামলা করে শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, কমপক্ষে চারটি দেশে টাকা পাচার করেছেন এস এম আমজাদ হোসেন। ৪০০ কোটি টাকারও বেশি ঋণ জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্ত আমজাদের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে মামলা করেন তদন্ত কর্মকর্তা সংস্থার উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার।

ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ‘খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ঋণ অনুমোদন করে ব্যাংক থেকে পুরো টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন আমজাদ। কাগুজে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক তিনি নিজেই।

এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ‘রূপসা ফিশ কোম্পানি’ নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ৩৭৪ কোটি টাকার ঋণপত্র লুটপাটের অভিযোগ থাকার কথা জানিয়েছে দুদক।

তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন বলছে, আমজাদ হোসেন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর ও কলকাতায় আত্মসাৎ করা অর্থের বড় একটি অংশ পাচার করেছেন।

গুলশান আনোয়ার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণ জালিয়াতির মামলাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি অভিযোগ ও মামলার তদন্ত চলছে। অর্থ পাচারের ঘটনা এখন পর্যন্ত প্রমাণ হয়েছে।’

এস এম আমজাদ হোসেন ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন, ব্যাংকটির ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহা. মঞ্জুরুল আলম, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক শাখা প্রধান এস এম ইকবাল মেহেদী, এক্সিকিউটিভ অফিসার ও ক্রেডিট ইনচার্জ নজরুল ইসলাম, ব্যাংকটির খুলনার শাখার সাবেক এমটিও ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার তপু কুমার সাহা, বিদ্যুৎ কুমার মন্ডল ও মারিয়া খাতুন।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের ৮ আগস্ট রেজিস্টার অফ জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস থেকে খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির ৫১ শতাংশ শেয়ার আমজাদ হোসেন এবং ৪৯ শতাংশের মালিকানা তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুনের।

খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান সুফিয়া আমজাদ হলেও মূলত ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমজাদ হোসেনের একক স্বাক্ষরে সবকিছু পরিচালনা হতো। ঋণের অর্থ তার স্বাক্ষরেই তোলা হয়।

ঋণ জালিয়াতির ওই ঘটনার শুরু ২০১৬ সালে। ওই বছরের ১ জুন জামানত ছাড়া খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেডকে ১৯ কোটি টাকা এসওডি (জেনারেল) ঋণসীমা প্রদানের জন্য সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের খুলনা শাখায় আবেদন করেন আমজাদ হোসেন। ১২ শতাংশ সুদে আমজাদের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব যাচাই না করে, ভুয়া ভিজিট রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং গ্রাহকের প্রদেয় স্টক লটের বাস্তবতা যাচাই ছাড়াই আবেদনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঋণ প্রপোজাল তৈরি করেন খুলনা শাখার কর্মকর্তা এমটিও তপু কুমার সাহা।

যেখানে ওই শাখার সিনিয়র অফিসার বিদ্যুৎ কুমার মন্ডল, এফএভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মোহা. মঞ্জুরুল আলম এবং ভিপি ও শাখাপ্রধান এস এম ইকবাল মেহেদী সুপারিশ করেন।

২০১৬ সালের ২ জুন ৪৮তম পরিচালনা পর্ষদের সভায় খুলনা বিল্ডার্সের অনুকূলে ১৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকার এসওডি ঋণ অনুমোদন হয়। ঋণপ্রস্তাব অনুমোদনের পর ওই বছরের ২ জুলাই খুলনা শাখা থেকে ১৫ কোটি টাকা তোলা হয়।

২০১৭ সালের ৫ আগস্ট ঋণের সীমা ১৫ দশমিক ৫৩ কোটি থেকে বাড়িয়ে করা হয় ২২ দশমিক ৪২ কোটি টাকা। এবারও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোনো প্রকার ক্রেডিট মিটিং ছাড়াই ৬৬তম সভায় (৮ আগস্ট) ঋণসীমা ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা করে নেন তিনি।

খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেডের ঠিকানায় দুদক একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অস্তিত্ব পায়। এর পাশের প্লটে হোটেল ওয়েস্টার্ন ইন ইন্টারন্যাশনাল অবস্থিত।

দুদকের সার্বিক পর্যালোচনায় ‘খুলনা বিল্ডার্স’ নামসর্বস্ব ও কাগুজে প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভুয়া ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। যার হোতা হিসেবে আমজাদ হোসেনকে দেখা হয় প্রতিবেদনে।

অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশ ঋণের সব অর্থ আড়াল করে গতিপথ পাল্টানোর চেষ্টা করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উঠে আসে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন আমজাদ হোসেন।

তার আগে ৫ জানুয়ারি ঋণ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে আমজাদ হোসেনের নামে থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে চিঠি দেয় দুদক।

চিঠিতে বলা হয়, আমজাদ হোসেন সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের শেয়ারসহ অন্য প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রির চেষ্টা করছেন। এসব অর্থ অবৈধ প্রক্রিয়ায় দেশের বাইরে পাচারের চেষ্টা করছেন, যা মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধ।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে এস এম আমজাদ হোসেন, স্ত্রী সুফিয়া আমজাদ ও মেয়ে তাজরিরের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় দুদক।

সে সঙ্গে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলে ‘বিপুল পরিমাণ অর্থ’ আত্মসাতের অভিযোগে আমজাদ হোসেনের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। তার বিরুদ্ধে আগেও অনেক অভিযোগ দুদকে জমা পড়ে বলে জানায় সংস্থাটি।

এসব অভিযোগ অনুসন্ধানে ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই আমজাদ হোসেন, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি রফিকুল ইসলাম ও সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। যদিও জিজ্ঞাসাবাদে অধিকাংশ অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

বিভিন্ন সময়ে দুদকে আসা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, আমজাদ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন কোম্পানি খুলে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের খুলনা সদর ও কাটাখালী শাখা ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি ও ঋণের আড়ালে নানাবিধ দুর্নীতি, অনিয়ম, জালিয়াতির মাধ্যমে আমানতকারীদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

খুলনা অঞ্চলের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান লকপুর গ্রুপের মালিকও আমজাদ হোসেন। তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- লকপুর ফিশ প্রসেস কোম্পানি লিমিটেড, বাগেরহাট সিফুড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, শম্পা আইস অ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, রূপসা ফিশ অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, মুন স্টার ফিশ লিমিটেড।

এ ছাড়া খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, খুলনা এগ্রো এক্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড, ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেড, মেট্রা অটো ব্রিকস লিমিটেড, খুলনা বিল্ডার্স লিমিটেডসহ বেশকিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ শিল্প গ্রুপে।

আরও পড়ুন:
হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাকচালকের মৃত্যু
বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের পিসিআর টেস্টের খরচ সরকারের
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজের ধাক্কা, বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক হচ্ছে যশোর বিমানবন্দর
শাহজালালের পিসিআর ল্যাবে আরব আমিরাতের অনুমোদন

শেয়ার করুন

আইফোন ১৩ নিয়ে এলো গ্রামীণফোন

আইফোন ১৩ নিয়ে এলো গ্রামীণফোন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাহকদের জন্য আইফোন সর্বশ্রেষ্ঠ লাইনআপ নিয়ে এসেছে গ্রামীণফোন, যার মধ্যে রয়েছে সৃজনী ও রুচির প্রশ্নে অনন্য আইফোন ১৩ প্রো, আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স, আইফোন ১৩ এবং আইফোন ১৩ মিনি।

বাংলাদেশি গ্রাহকদের জন্য আইফোন ১৩ নিয়ে এসেছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন।

অপারেটরটির শুক্রবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাহকদের জন্য আইফোন সর্বশ্রেষ্ঠ লাইনআপ নিয়ে এসেছে গ্রামীণফোন, যার মধ্যে রয়েছে সৃজনী ও রুচির প্রশ্নে অনন্য আইফোন ১৩ প্রো, আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স, আইফোন ১৩ এবং আইফোন ১৩ মিনি।

এতে উল্লেখ করা হয়, আগাগোড়া নতুন আঙ্গিকে সাজানো আইফোন ১৩ প্রো এবং আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের দিচ্ছে আইফোনের সর্বকালের সেরা প্রোক্যামেরা সিস্টেম, প্রো-মোশন সমৃদ্ধ সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে, উন্নত ব্যাটারি লাইফ এবং অ্যাপলের ডিজাইনকৃত ফাইভ-কোর জিপিইউ সংবলিত এ১৫ বায়োনিক চিপ। মসৃণ ও টেকসই ডিজাইনের আইফোন ১৩ ও আইফোন ১৩ মিনিতে ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন আইফোনের সর্বকালের সেরা ডুয়াল ক্যামেরা সিস্টেম এবং শক্তিশালী এ১৫ বায়োনিক চিপ।

গ্ৰামীণফোনে আইফোন ১৩ সিরিজের হ্যান্ডসেটে প্রি-অর্ডার থাকছে ৩৬ মাস পর্যন্ত। নির্দিষ্ট ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে শূন্য শতাংশ সুদে ইএমআইতে ক্রয়ের সুবিধা থাকছে। এ ছাড়াও থাকছে ফ্রি ১৪ জিবি ফোরজি ইন্টারনেটসহ (মেয়াদ ১৪ দিন) বিভিন্ন জিপি গিফট আইটেম, জিপি স্টার প্লাটিনাম প্লাস স্ট্যাটাস এবং বিভিন্ন জিপি স্টার পার্টনারের ডিসকাউন্ট কুপন।

ডিভাইস ইন্স্যুরেন্স সাবস্ক্রিপশনে ২০ শতাংশ ডিসকাউন্ট এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে ইএমআই ক্যাশব্যাক অফারও থাকছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ অক্টোবর থেকে গ্রাহকরা আইফোন ১৩ সিরিজের হ্যান্ডসেট প্রি-অর্ডার করতে পারবেন, যা তাদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে ২৯ অক্টোবর থেকে। প্রি-অর্ডার, মূল্যতালিকা ও প্রাপ্যতাসহ বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে ওয়েবসাইটে

আরও পড়ুন:
হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাকচালকের মৃত্যু
বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের পিসিআর টেস্টের খরচ সরকারের
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজের ধাক্কা, বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক হচ্ছে যশোর বিমানবন্দর
শাহজালালের পিসিআর ল্যাবে আরব আমিরাতের অনুমোদন

শেয়ার করুন

নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ-কানাডা যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ

নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ-কানাডা যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে কানাডিয়ান হাই কমিশনার প্রফনটেইন।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করতে এরইমধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ ট্রেড কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে কানাডিয়ান দূতাবাস।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদার করতে ২০১৭ সালে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করতে সম্মত হয়েছিল বাংলাদেশ ও কানাডা। এ লক্ষ্যে একটি কর্মপরিধিও তৈরি হলেও এখনও বাস্তব রূপ লাভ করেনি।

সেই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ নভেম্বরের মধ্যে চালু করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাই কমিশনার বেনোই প্রফনটেইন।

বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রফনটেইন।

তিনি জানান, এই ওয়াকিং গ্রুপ কার্যকর করতে ইতোমধ্যেই কানাডার পক্ষ থেকে বেসরকারি খাতের চার প্রতিনিধি মনোনীত করা হয়েছে।

কানাডিয়ান হাই কমিশনারের এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, চলতি মাসেই যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই সভাপতি কানাডিয়ান হাই কমিশনারকে জানান, বাংলাদেশে নির্মাণাধীন ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে অনেকগুলো দেশ বিনিয়োগ করেছে। কানাডার বিনিয়োগকারীদের জন্যও এসব অঞ্চল আকর্ষণীয় হতে পারে। প্রাইমারি টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, সিরামিকস, আসাবাব শিল্প, অবকাঠামো ও ব্লু ইকোনমি খাতে বিনিয়োগের জন্য কানাডিয়ান উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানান জসিম উদ্দিন।

এ সময় বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসা করে কানাডিয়ান হাই কমিশনার বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিশাল বাজারের বিকাশসহ আর্থ সামাজিক নানা সূচকে এ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল অর্থনীতির দেশ হয়েও, কানাডার বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ এখনও অনেকটাই অপরিচিতি।’

এ কারণেই নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিবেচনা করছে না কানাডার উদ্যোক্তারা। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নত করতে এরইমধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ ট্রেড কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে কানাডিয়ান দূতাবাস।

সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি এম এ মোমেন বলেন, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা নানা কারণে বিনিয়োগের জন্য চীনের বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিবেচনা করতে পারে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কানাডার ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করারও আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি হাবীব উল্লাহ ডন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

আরও পড়ুন:
হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাকচালকের মৃত্যু
বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের পিসিআর টেস্টের খরচ সরকারের
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজের ধাক্কা, বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক হচ্ছে যশোর বিমানবন্দর
শাহজালালের পিসিআর ল্যাবে আরব আমিরাতের অনুমোদন

শেয়ার করুন

বৈশ্বিক মন্দা উত্তরণে বাধা মূল্যস্ফীতি: বিশ্বব্যাংক

বৈশ্বিক মন্দা উত্তরণে বাধা মূল্যস্ফীতি: বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও পরিচালক আয়হান কোস বলেন, ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির জন্য নিকট ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলবে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারকেও জটিল করে তুলতে পারে।’

২০০৭-২০০৮ সালের বৈশ্বিক মন্দার পর প্রায় এক যুগ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সূচক মূল্যস্ফীতি কমই ছিল। তবে সেই দিন বোধ হয় শেষ হতে চলেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ। লাগাম টানতে পারছে না সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রও। ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়। বাংলাদেশসহ অন্য দেশগুলোতেও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।

এরই মধ্যে উদ্বেগের খবর দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

সংস্থাটি বলছে, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতিতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। সার্বিকভাবে উচ্চ পণ্যমূল্য কিছু দেশে খাদ্য নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্যের এই অস্থিতিশীলতা বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনাভাইরাসের ধাক্কায় সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারকেও জটিল করে তুলেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক নামের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সাল শেষে জ্বালানির দাম গড়ে আগের বছরের চেয়ে কমপক্ষে ৮০ শতাংশ বাড়বে এবং এই উচ্চ মূল্য ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। জ্বালানির বাইরে খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের যে দাম বেড়েছে, সেটিও শিগগিরই কমবে না। ২০২২ সাল পর্যন্ত এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

সব মিলিয়ে এটি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপকে বাড়িয়ে তুলবে এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও বাধাগ্রস্ত করবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও পরিচালক আয়হান কোস বলেন, ‘জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির জন্য নিকট ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করেছে। এটি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলবে। দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বৈশ্বিক মন্দা থেকে পুনরুদ্ধারকেও জটিল করে তুলতে পারে।’

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে কিছু দ্রব্যমূল্য এতটাই বেড়েছে যে, সেটি মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১১ সালের পর এমনটা আর দেখা যায়নি।

বিশ্বব্যাংকের প্রসপেক্টস গ্রুপের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জন বাফেস বলেন, ‘প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার উচ্চ দাম অন্যান্য পণ্যের উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লার উচ্চমূল্যের কারণে সারের উৎপাদন কমেছে। অন্যদিকে বেড়েছে দাম। সারের এই উচ্চমূল্য খাদ্যশস্যেরই উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম ও জিংকের মতো কিছু ধাতুর উৎপাদনও কম হয়েছে জ্বালানির মূল্য বাড়ার কারণে।’

বাংলাদেশেও চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫.৬ শতাংশ।

এর অর্থ হলো, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

আগের মাস আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫.৫৪ শতাংশ। জুলাইয়ে হয়েছিল ৫.৩৬ শতাংশ।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫.৬৪ শতাংশ।

এর পর থেকে প্রতি মাসেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।

সেপ্টেম্বরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বৃহস্পতিবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫.৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫.৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫.৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে।

অর্থাৎ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে খানিকটা বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলেছে, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে খাদ্যের মূল্য এখন ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক দাঁড়িয়েছে ১৩০। অথচ গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৭.৯ শতাংশ। খাদ্যে ব্যয় বৃদ্ধি অবস্থাপন্ন মানুষের জন্য বড় সমস্যা না হলেও দরিদ্র মানুষের জন্য তা বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। কারণ আনুপাতিক হারে দরিদ্র মানুষের খাদ্যব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র

স্বস্তিতে নেই মার্কিন ভোক্তারা। বেড়েই চলেছে মূল্যস্ফীতির হার। মার্কিন শ্রম বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরেও দেশটিতে ভোক্তা মূলকসূচক বেড়েছে ০.৪ শতাংশ। আবারও উঠে এসেছে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সেপ্টেম্বরে বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ অর্থনীতির ভোক্তারা খাদ্য ও সেবার জন্য ৫.৪ শতাংশ বেশি দিচ্ছে।

সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। এ মাসে পেট্রলের দাম বেড়েছে ১.২ শতাংশ ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৩.৯ শতাংশ। খাদ্যের দাম গত মাসের তুলনায় বেড়েছে ০.৯ শতাংশ ও বাসাভাড়া বেড়েছে ০.৫ শতাংশ।

১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়

১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়। সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে ৪.৪ শতাংশ। আগস্টের তুলনায় বেড়েছে ৪.১ শতাংশ।

২০০৩ সালের পর এই প্রথম এতটা মূল্যস্ফীতি বাড়ে কানাডায়। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, পরিবহন, আবাসন ও খাদ্যের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে দেশটির ওপরে।

কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসারও কথা রয়েছে তাদের।

মূল্যস্ফীতির প্রভাব

অর্থনীতিবিদরা বলেন, কিছুটা মূল্যস্ফীতি থাকা খারাপ নয়। এর অর্থ হলো অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য আছে। মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক নিরূপণে বহুল ব্যবহৃত ফিলিপস (নিউজিল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ এ ডব্লিউ ফিলিপস) কার্ভের সারকথা হলো, বেকারত্ব কম থাকলে এবং মজুরি ঊর্ধ্বমুখী হলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মূল্যস্ফীতির হার বেশি হলে সমস্যা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন সুদহার বৃদ্ধি করে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ গ্রহণ কমে যায়। বিনিয়োগে প্রভাব পড়ে। ফলে এটা এক ধরনের উভয়সংকট।

দেশে সরকার সুদহার যতই নিয়ন্ত্রণ করুক না কেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন। তারা যদি না জানেন, বিনিয়োগ থেকে কতটা লভ্যাংশ পাওয়া যাবে, তাহলে তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এতে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।

বৈশ্বিক পরিসরে মূল্যস্ফীতি বাড়লে বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘করোনা স্বাভাবিক হয়ে আসায় বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া জাহাজ ভাড়াসহ অন্য পরিবহন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।’

আগামী দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দেন এই অর্থনীতিবিদ।

আরও পড়ুন:
হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাকচালকের মৃত্যু
বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের পিসিআর টেস্টের খরচ সরকারের
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজের ধাক্কা, বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক হচ্ছে যশোর বিমানবন্দর
শাহজালালের পিসিআর ল্যাবে আরব আমিরাতের অনুমোদন

শেয়ার করুন

বোর্ডের কাছে ৬ মাস টাকা চাইতে পারবে না ইভ্যালির গ্রাহক

বোর্ডের কাছে ৬ মাস টাকা চাইতে পারবে না ইভ্যালির গ্রাহক

ফাইল ছবি

ইভ্যালির স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তির হিসাবসহ সব তথ্য নতুন বোর্ডের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদেশে ইভ্যালির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন দম্পত্তিকে সব সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির গ্রাহকরা আগামী ছয় মাস আদালতের নিয়োগ দেয়া বোর্ডের কাছে অর্থ ফেরত দিতে চাপ দিতে পারবে না। এমন আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তবে গ্রাহকেরা সমস্যা সমাধানে ইভ্যালির প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার এ আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশ হয়েছে।

একইসঙ্গে, স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত সম্পত্তির হিসাবসহ সব তথ্য নতুন বোর্ডের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি বোর্ড গঠন করে গত ১৮ অক্টোবর আদেশ দেয় বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

লিখিত আদেশে ইভ্যালির বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন দম্পত্তিকে সব সম্পত্তি বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। এসময় তারা ইভ্যালির একজন শেয়ার হোল্ডার হিসেবে থাকবেন।

লিখিত আদেশের এসব নির্দেশনার পাশাপাশি নতুন কমিটির সদস্যদের সম্মানী নির্ধারণ করে দিয়েছে আদালত।

আদেশে আদালত ইভ্যালির জন্য গঠিত বোর্ডের প্রধান বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জন্য বোর্ড মিটিংয়ে ২৫ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতি বার্ষিক সাধারণ সভায় ২ লাখ টাকা পাবেন।

আর বোর্ডের তিন সদস্য সাবেক সচিব মো. রেজাউল আহসান, আইনজীবী ব্যারিস্টার খান মো. শামীম আজিজ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহম্মেদ প্রতি বোর্ড মিটিংএ ১০ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন। আর বার্ষিক সাধারণ সভায় তারা এক লাখ টাকা করে পাবেন।

আর বোর্ডের অপর সদস্য ওএসডিতে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর সরকার থেকে বেতন নেবেন। তবে তিনি অবসরে গেলে তখন থেকে তার সর্বশেষ বেতনের আনুপাতিক ইভ্যালি থেকে পাবেন।

আদালতে ইভ্যালি অবসায়ন চেয়ে করা আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসাইন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন তাপস কান্তি বল।

গত ২২ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে আবেদন করা হয়। সেখানে একটি আবেদন ছিল ইভ্যালি অবসায়নে যাতে একটি কমিটি বা বোর্ড গঠন করে দেয়।

ইভ্যালি যে পরিমাণ সম্পদ থাকার কথা জানিয়েছে, তা গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনার তুলনায় অনেক কম। বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এনে সক্ষমতা বাড়িয়ে নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম দিয়ে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনা পরিশোধের কথা বলা হয়। ইভ্যালিতে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েও তা থেকে সরে আসে যমুনা গ্রুপ।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইভ্যালিসহ ১০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে থার্ড পার্টি অডিটর নিয়োগ করে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জানতে আলাদা নিরীক্ষা করার সুপারিশ জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাকচালকের মৃত্যু
বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের পিসিআর টেস্টের খরচ সরকারের
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজের ধাক্কা, বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক হচ্ছে যশোর বিমানবন্দর
শাহজালালের পিসিআর ল্যাবে আরব আমিরাতের অনুমোদন

শেয়ার করুন

বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে এমওইউ চায় স্পেন

বাণিজ্য বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে এমওইউ চায় স্পেন

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডি আসিস বেনিতেজ সালাস। ছবি: নিউজবাংলা

স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডি আসিস বেনিতেজ সালাস জানান, বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা–বাণিজ্য বাড়বে। সে জন্য সমঝোতা স্মারক সই হওয়া জরুরি। এর মধ্য দিয়ে স্পেনের উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায় স্পেন। এ জন্য দু দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কথা জানিয়েছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এমনটি জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত ফ্রান্সিসকো ডি আসিস বেনিতেজ সালাস।

স্পেনের রাষ্ট্রদূত জানান, ইনডিটেক্স ও জারাসহ অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসা করছে। কিন্তু কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মেশিন প্রস্তুতসহ বেশ কয়েকটি খাতে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় বহু স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তাদের অনেকেরই বাংলাদেশ সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। তাই দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা–বাণিজ্য বাড়বে। সে জন্য দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়া জরুরি।

এর মধ্য দিয়ে স্পেনের উদ্যোক্তাদের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।

এমওইউ-এর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে হলে, দুদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়ন জরুরি।

এজন্য, স্পেনের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের সঙ্গে এফবিসিসিআই’র সমঝোতা স্মারকের প্রয়োজন। এতে করে ব্যবসায়ীক তথ্য দেয়া-নেয়া সহজ হবে।

এফবিসিসিআই‘র সভাপতি বলেন, শুধু রপ্তানি নয়, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্যও বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এখন আকর্ষণীয় গন্তব্য।

দেশজুড়ে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড় তোলার তথ্য জানিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, চীন, জাপান, কোরিয়া, ভারতের মতো স্পেন এককভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপন করতে পারে।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু দুদেশের ব্যবসায়ীদের যৌথ মালিকানায় সিরামিক ও টাইলস খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি এম এ মোমেন এবং মো. হাবীব উল্লাহ ডন, পরিচালক মোহাম্মাদ রিয়াদ আলী এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।

আরও পড়ুন:
হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাকচালকের মৃত্যু
বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের পিসিআর টেস্টের খরচ সরকারের
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজের ধাক্কা, বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক হচ্ছে যশোর বিমানবন্দর
শাহজালালের পিসিআর ল্যাবে আরব আমিরাতের অনুমোদন

শেয়ার করুন

চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ

চড়ছে মূল্যস্ফীতির পারদ

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

এর অর্থ হলো, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যে পণ্য বা সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সেই পণ্য বা সেবার জন্য ১০৫ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

আগের মাস আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। জুলাইয়ে হয়েছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

এর পর থেকে প্রতি মাসেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।

সেপ্টেম্বরে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক বেড়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বৃহস্পতিবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে গড় মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরেছে সরকার। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে এই লক্ষ্য ধরা ছিল ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। কিন্তু অর্থবছর শেষ হয় ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে।

অর্থাৎ বাজেটের লক্ষ্যের চেয়ে খানিকটা বেশি ছিল গড় মূল্যস্ফীতি।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করার পর থেকেই বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে ছোট-বড় সব দেশে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফসহ বিভিন্ন আর্থিক সংস্থা পূর্বাভাস দিয়েছে, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলেছে, খাদ্যশস্য ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে খাদ্যের মূল্য এখন ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক দাঁড়িয়েছে ১৩০। অথচ গত বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। খাদ্যে ব্যয় বৃদ্ধি অবস্থাপন্ন মানুষের জন্য বড় সমস্যা না হলেও দরিদ্র মানুষের জন্য তা বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। কারণ, আনুপাতিক হারে দরিদ্র মানুষের খাদ্যব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি।

সংস্থাটি বলছে, সারা বিশ্বেই পণ্যের মূল্য বাড়ছে। ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই মূল্যস্ফীতি বাড়তির দিকে। আবার এ সমস্যার শিগগির সমাধান হচ্ছে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি হয়েছে কানাডায়। সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। আগস্টের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।

২০০৩ সালের পর এই প্রথম এতটা মূল্যস্ফীতি বাড়ে কানাডায়। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, পরিবহন, আবাসন ও খাদ্যের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে দেশটির ওপরে।

কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসারও কথা রয়েছে তাদের।

বৃহস্পতিবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার খবর আগেই প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

গত ১২ অক্টোবর প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতিও বাড়বে।

আইএমএফ বলছে, গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এবার তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ২১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ১৯ শতাংশ।

আগের মাস আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সেপ্টেম্বর মাসে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে শহরাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগস্টে হয়েছিল ৫ দশমিক ২২ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বর মাসে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

এই মাসে শহর এলাকায় খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৪ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির হ্রাস-বৃদ্ধি পর্যালোচনায় বিবিএস বলেছে, আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে চাল, আটা-ময়দা, চিনি, ব্রয়লার মুরগি, ডিম, সবজিসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দামই বেড়েছে।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনা স্বাভাবিক হয়ে আসায় বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বাড়লে দাম বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এ ছাড়া জাহাজ ভাড়াসহ অন্য পরিবহন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে।’

আগামী দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দেন এই অর্থনীতিবিদ।

আরও পড়ুন:
হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় ট্রাকচালকের মৃত্যু
বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের পিসিআর টেস্টের খরচ সরকারের
চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে জাহাজের ধাক্কা, বিপুল ক্ষতির আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক হচ্ছে যশোর বিমানবন্দর
শাহজালালের পিসিআর ল্যাবে আরব আমিরাতের অনুমোদন

শেয়ার করুন