শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষকদের

শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি মাদ্রাসা শিক্ষকদের

ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নেয়া মাদ্রাসা শিক্ষকদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসা শিক্ষকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানান। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদ বাতিল করে প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুপারিশ করেন তারা। মাদ্রাসা শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা এবং সরকারি শিক্ষকদের মতো শতভাগ বাড়ি ভাড়ার দাবি তোলেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা জেনারেল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমজিটিএ)।

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার ভার্চুয়াল আলোচনায় বিএমজিটিএ নেতারা এ দাবি জানান।

আলোচনা সভায় মাদ্রাসা শিক্ষকরা তাদের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানান। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদ বাতিল করে প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুপারিশ করেন তারা। মাদ্রাসা শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা এবং সরকারি শিক্ষকদের মতো শতভাগ বাড়ি ভাড়ার দাবি তোলেন শিক্ষকরা।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ এতে সভাপতিত্ব করেন। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মহাসচিব শান্ত ইসলাম সভা সঞ্চালনা করেন।

আলোচনায় অংশ নেন সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম, সুলতান মাহমুদ, ফকরুল ইসলাম, সহসভাপতি আব্দুস শাকুর, কবি সুরুজ্জামান, খান আনোয়ার হোসেন, আব্দুস সাত্তার, আব্দুল ওয়েদ, শাহ্ মাহমুদ কবির, মোহাম্মদ আলী, কামরুন্নাহার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কেএম শামীম, সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ আলম, অর্থ সম্পাদক মেহেদী হাসান সরকারসহ অনেকে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সংঘর্ষে জড়ানোয় ১২ ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার চবির

সংঘর্ষে জড়ানোয় ১২ ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার চবির

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, গত কয়েকদিনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য যাছাই বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ হেলথ, রেসিডেন্স, অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় ১২ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার অভিযোগে দুই জনকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় গ্রুপের ১২ নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ, রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় রোববার রাতে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে জানান প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

সভায় উভয় গ্রুপ থেকে দুই জনকে ১ বছর করে এবং ১০ জনকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুর নেতৃত্বাধীন ‘সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের ৬ জনকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নেতৃত্বাধীন ‘সিএফসি’ গ্রুপের ৬ জন কর্মী রয়েছেন।

’সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের বহিষ্কৃতরা হলেন, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মো. নাঈম, একই শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের সাইফুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আশরাফুল আলম নায়েম, একই শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের আকিব জাভেদ, ইতিহাস বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের জুনায়েদ হোসেন জয় ও অর্থনীতি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ফরহাদ।

এদের মধ্যে আশরাফুল আলম নায়েমকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

‘সিএফসি’ গ্রুপের বহিষ্কৃতরা হলেন, আইন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মির্জা খবির সাদাফ, একই বিভাগের ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের খালেদ মাসুদ, লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের অহিদুজামান সরকার, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলাম, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তানজিল হোসেন ও আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের তৌহিদ ইসলাম।

তাদের মধ্যে সাদাফকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, গত কয়েকদিনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য যাছাই বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ হেলথ, রেসিডেন্স, অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় ১২ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার অভিযোগে দুই জনকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বহিষ্কারের মেয়াদ রোববার থেকেই কার্যকর হবে৷ এ সময় বৃহষ্কৃতরা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলে অবস্থান করতে পারবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিহাব আরমান মানিক নামে ‘সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের এক কর্মীকে মারধর করেন ‘সিএফসি’ গ্রুপের কর্মীরা। এ নিয়ে সেদিন রাতেই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

তারা জানান, মারধরের ওই ঘটনার জেরে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে সিএফসির কনিষ্ঠ কর্মীরা শাহ আমানত হলে ঢুকতে গেলে সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করেন। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সিক্সটি নাইন গ্রুপের তিনজন এবং সিএফসি গ্রুপের একজন আহত হন।

ওই ঘটনার জেরেই রোববার বিকেলে ফের সংঘর্ষে জড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এই দুই গ্রুপ। এতে দুইজন আহত হন।

শেয়ার করুন

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় হল পরিদর্শন করেন উপাচার্য অধ্যাপক এম কামরুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা

এক ঘণ্টার এই ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১টায়। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারে দেখা যায় বৈচিত্র্য।

কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই একসঙ্গে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিন আজ।

রোববার দেশজুড়ে ২৬টি কেন্দ্রে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। এই ইউনিটে আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ শিক্ষার্থী।

এক ঘণ্টার এই ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১টায়। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারে দেখা যায় বৈচিত্র্য।

ব‌রিশালে অনুপ‌স্থিত ২২৪ পরীক্ষার্থী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হলেও এদিন অনুপস্থিত ছিলেন ২২৪ পরীক্ষার্থী।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটে ৩ হাজার ৪৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ২৩৪ জন। উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি গুচ্ছে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক কষ্ট লাঘব হবে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি।’

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটে উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ

সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একটি গুচ্ছে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব আরও ত্বরান্বিত হবে।’

দিনাজপুরে উপস্থিতির হার ৯৮ শতাংশ

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল ৯৮ শতাংশ।

হাবিপ্রবি কেন্দ্রের পরীক্ষায় অংশ নেন ৭ হাজার ২৫ শিক্ষার্থী।

পরীক্ষা শুরুর পর বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম কামরুজ্জামান।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আজ একটি ইতিহাস রচিত হলো। গুচ্ছ পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের পরীক্ষায় উপস্থিতির হার অনেক বেশি, ৯৮ শতাংশের মতো। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা দিয়েছেন।

এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

কুবিতে অনুপস্থিত ১১১ জন

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) কেন্দ্রে প্রথম দিন স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও অনুপস্থিত ছিলেন ১১১ পরীক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা থাকলেও পরীক্ষা দিয়েছেন ২ হাজার ৩৯৪ জন। উপস্থিতির হার প্রায় ৯৬ শতাংশ।

পরীক্ষা শেষে সাকিব আল হাসান নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষা আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। হলে কোনো সমস্যা হয়নি। স্যাররা যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন।’

ফারহানা হোসেন সাথী নামের আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্ন কিছুটা কঠিন হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হয় নাই। মূল গেট থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন, রোভার, বিএনসিসি, ছাত্রলীগের কাছ থেকে কক্ষ খুঁজে পেতে সহযোগিতা পেয়েছি।’

আব্দুস সাত্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়ে ভালোই হয়েছে। বাড়ির কাছেই পরীক্ষা দিতে পেরেছে ছেলেমেয়েরা। আমাদের ভোগান্তি অনেকখানি কমেছে, পাশাপাশি আর্থিক দিকটাও সাশ্রয় হয়েছে। আমরা চাই সামনেও যেন এ ধারা অব্যাহত থাকে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র নন্দী বলেন, “সবার সার্বিক সহযোগিতায় আমরা ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে পেরেছি। সামনেও এ রকম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।”

গুচ্ছ পদ্ধতিতে বি ও সি ইউনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেবে ৪ হাজার ৫২১ পরীক্ষার্থী।

কুষ্টিয়ায় পরীক্ষার্থী উপস্থিত ৯৮ শতাংশ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শেষ হয়েছে ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপরেজিস্ট্রার সাহেদ হাসান নিউজবাংলাকে জানান, পরীক্ষা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি ভবনের ১১৪টি কক্ষে। ৭ হাজার ৮৫ পরীক্ষার্থীর ৯৮ ভাগই উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রে।

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৮ শতাংশ পরীক্ষার্থীই উপস্থিত ছিলেন

তিনি আরও জানান, কোনো পরীক্ষার্থীকেই মাস্ক ছাড়া কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ক্যাম্পাসে টহল দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দিতে ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ফটকে হেল্প ডেস্ক বসানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ নভেম্বর ‘ডি’ ইউনিটে ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষা হবে। দেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ অনুষদ না থাকায় স্বতন্ত্রভাবে পরীক্ষা হবে।”

ময়মনসিংহে পরীক্ষা দিয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা

ময়মনসিংহে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায় খুশি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

পরীক্ষার সময় বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান।

পরীক্ষা দিতে আসা নেত্রকোণা সদরের জান্নাতুল ফেরদৌস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নেত্রকোণা সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেছি। ভর্তিযুদ্ধে টিকে থাকতে গত কয়েক মাস ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করেছি। এই কেন্দ্রে (বাকৃবি) পরীক্ষা হওয়ায় বাসা থেকে ভোরে রওনা হয়েছি। টাকা ও পরিশ্রম দুটোই কম লেগেছে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায়।’

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার এক অভিভাবক নূর জাহিদ বলেন, ‘কেন্দ্র পর্যন্ত আসতে যানজটসহ কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। বিভাগীয় শহরের এই কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিশ্চিন্তে আসতে পেরেছি। প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অপেক্ষায় থাকা সব অভিভাবকই স্বাস্থ্যবিধি মেনেছেন।’

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান

নূর জাহিদের মেয়ে সালমা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষা খুব কঠিন কিংবা খুব সহজও হয়নি। তবে আমার পরীক্ষা ভালো হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হলে পরীক্ষা দিতে পেরেছি।’

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা তৌফিকুর রহমান ও মজিবুর রহমান নামে দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষা শেষে নিউজবাংলাকে জানান, অন্য বিষয়ের চেয়ে গণিত প্রশ্ন কঠিন হয়েছে। কিছু উত্তর ভুল হলেও ভর্তিযুদ্ধে টিকবেন বলে আশাবাদী তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ হাজার ৫৩৯ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও পরীক্ষা দেন ১০ হাজার ৮০১ জন। উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনও প্রশ্ন ফাঁসের নজির নেই। আজকেও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রের সব কক্ষে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা দিয়েছে।’

বশেমুরবিপ্রবিতে উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬ হাজার ৯১২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ৮৯২ জন। উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২৪ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিট এবং ১ নভেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন বরিশালের তন্ময় তপু, দিনাজপুরের কুরবান আলী, কুষ্টিয়ার জাহিদুজ্জামান, ময়মনসিংহের কামরুজ্জামান মিন্টু এবং গোপালগঞ্জের মোজাম্মেল হোসেন মুন্না

শেয়ার করুন

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ সাড়ে ১৮ হাজার

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনে উত্তীর্ণ সাড়ে ১৮ হাজার

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

চূড়ান্ত ফলে ১৮ হাজার ৫৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে স্কুল-২ পর্যায়ে ৯৯৬ জন। স্কুল পর্যায়ে ১৪ হাজার ৪৬ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ৩ হাজার ৫০৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। রোববার সন্ধ্যায় এ ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রার্থীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেয়া হবে। এ ছাড়া প্রার্থীরা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে (www.ntrca.gov.bd) রাত ১০টার পর থেকে ফল দেখতে পারবেন।

এর আগে, গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রার্থীদের ভাইভা শেষ হয়েছে। গত বছরের ১১ নভেম্বর ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

চূড়ান্ত ফলে ১৮ হাজার ৫৫০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে স্কুল-২ পর্যায়ে ৯৯৬ জন। স্কুল পর্যায়ে ১৪ হাজার ৪৬ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ৩ হাজার ৫০৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

লিখিত পরীক্ষায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৫ জন অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ২২ হাজার ৩৯৮ প্রার্থী। এতে স্কুল-২ পর্যায়ে ১ হাজার ২০৩ জন, স্কুল পর্যায়ে ১৭ হাজার ১৪০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ৪ হাজার ৫৫ জনসহ ২২ হাজার ৩৯৮ জন উত্তীর্ণ হয়।

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় ২০১৯ সালের ২৩ মে। পরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয় ওই বছরের ৩০ আগস্ট, ফল প্রকাশ করা হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। লিখিত পরীক্ষা হয় ১৫ ও ১৬ নভেম্বর।

শেয়ার করুন

৫৭৮ দিন পর মুখর রাবির হল

৫৭৮ দিন পর মুখর রাবির হল

হলে প্রবেশের সময় ফুল-চকলেট দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিতে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে প্রশাসন। হলের প্রবেশ গেটে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার জন্য বেসিন বসানো হয়েছে। হল ক্যান্টিন ও শৌচাগার সংস্কার করা হয়েছে। ক্যান্টিনগুলোর পরিচালক ও কর্মচারীদের টিকা নেয়ার নির্দেশ দেয়া দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

করোনায় দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ক্যাম্পাস।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও এর (রাবি) ব্যতিক্রম ঘটেনি। খুলেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো। রোববার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা হলে ওঠা শুরু করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। এরপর শহীদ জিয়াউর রহমান হলসহ কয়েকটি হল পরিদর্শন করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিতে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে প্রশাসন। হলের প্রবেশ গেটে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার জন্য বেসিন বসানো হয়েছে। হল ক্যান্টিন ও শৌচাগার সংস্কার করা হয়েছে। ক্যান্টিনগুলোর পরিচালক ও কর্মচারীদের টিকা নেয়ার নির্দেশ দেয়া দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

৫৭৮ দিন পর মুখর রাবির হল
হলের প্রবেশ গেটে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার জন্য বেসিন বসানো হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শামীম রেজার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলে ফেরায় আজকের অনুভূতিটা অন্যরকম। হলের সব বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। বেশ আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে আমাদের হল কর্তৃপক্ষ বরণ করে নিয়েছে। দীর্ঘদিন পরে চিরচেনা হলে ফিরতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।’

শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী আবদুর রাকিব বলেন, ‘১৯ মাস পর হলে এসেছি। দিনটা স্মৃতির পাতায় লেখা থাকবে। বড় ভাই, বন্ধুদের সঙ্গে সেই চিরচেনা হাসি-খুশি মুখে কুশলাদি বিনিময়ের অনুভূতিটা সত্যি অসাধারণ।’

উপউপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, ‘নিজ নিজ হলের প্রাধ্যক্ষ ও কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণের বিষয়টি দেখছেন। আমরা কয়েকটি হল পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা গুলো দেখছি। আনন্দঘন পরিবেশেই তাদের বরণ করে নিচ্ছি।’

৫৭৮ দিন পর মুখর রাবির হল
শহীদ শামসুজ্জোহা হলের এক শিক্ষার্থী ফিরেছেন এভাবেই।

শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ সুজন সেন বলেন, ‘মাস্ক, চকলেট ও একটি গোলাপ দিয়ে আমরা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বৈধ কাগজপত্রসহ করোনার এক ডোজ টিকা গ্রহণের সনদপত্র দেখে তাদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হচ্ছে।’

তিনি আর বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ৫৯৮টি সিট। প্রথম দিনেই ২০০ মতো শিক্ষার্থী এসেছে।’

এদিকে বিশ্বিবদ্যালয় আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক বাবুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ২৭ হাজার শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১৪ হাজার ৫৫০ জন করোনা টিকা নিয়েছে। আরও সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছে।

শেয়ার করুন

জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: নিউজবাংলা

জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে প্রথমবারের মতো গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কষ্ট লাঘব করতেই গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে পরীক্ষা দিয়েছে। আমাদের উদ্যোগ সফল হয়েছে।’

গুচ্ছ পদ্ধতিতে দেশের ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার কর্মদিবসের শুরুতে পরীক্ষার্থীদের ভিড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

তবে ভোগান্তি হলেও একটি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ভর্তিযুদ্ধ শেষ করতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশ উপভোগ করেন অনেকে।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে প্রথম দিনে পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে সকাল ৯টা থেকেই ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেন। ১০টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি গেট ও পোগোজ স্কুলসংলগ্ন গেটটি খুলে দেয়ার পর শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

পরীক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে মূল ফটকসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করেন। দুপুর ১২টায় জবি ও এর আওতাভুক্ত পোগোজ স্কুল কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) পরীক্ষা শুরু হয়।

এর আগে কেন্দ্রের বাইরে জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ, বিভিন্ন ধর্মীয় ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী স্বেচ্ছাসেবকদের পরীক্ষার্থীদের মোবাইল, ঘড়িসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে দেখা যায়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক পরীক্ষার হল পরিদর্শন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ, প্রক্টর ড. মোস্তফা কামালসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরান ঢাকা একটি ব্যস্ততম স্থান। এখানে যানজট হওয়াটা স্বাভাবিক। এর মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী যানজটে আটকা পড়ে দেরিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছালে তাদেরও পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়।

জবিতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত
পরীক্ষার্থীদের ভিড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

পরীক্ষা চলাকালীন ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গেটে পুলিশ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছে। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরাও সব দিকে খেয়াল রেখেছেন। স্বেচ্ছাসেবকরা শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করেছেন।’

পরীক্ষার হল পরিদর্শন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশে প্রথমবারের মতো গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কষ্ট লাঘব করতেই গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে পরীক্ষা দিয়েছে। আমাদের উদ্যোগ সফল হয়েছে।’

এতগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা একসঙ্গে হওয়ার পরও ছুটির দিনে পরীক্ষা না নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনাকালীন আমরা বারবার পরীক্ষা পিছিয়েছি। এখন এ পরীক্ষা না নিলে এটি আবার পিছিয়ে নভেম্বরে চলে যেত। আর শুক্রবার আগে থেকেই অনেক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তাই বাধ্য হয়েই রোববার পরীক্ষা নিতে হলো।’

তবে সময় যখনই হোক, একসঙ্গে পরীক্ষা দিতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষা শেষে নটর ডেম কলেজ থেকে পাস করা সুচ্চ রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্ন মানসম্মত হয়েছে। গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান অংশের প্রশ্ন কিছুটা কঠিন হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে একসঙ্গে পরীক্ষা দিতে পেরে ভালো লাগছে। এতে আমাদের ভোগান্তি কমেছে। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ।’

দেশের মোট ২৬টি কেন্দ্রে একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষায় বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য- এই তিনটি ইউনিট রয়েছে। মোট আসনসংখ্যা ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

শেয়ার করুন

মধুতে এসে জায়গা পেল না ছাত্রদল

মধুতে এসে জায়গা পেল না ছাত্রদল

১৭ মাস পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এসে ছাত্রলীগের কারণে বসার জায়গা পায়নি ছাত্রদল। ছবি: নিউজবাংলা

মধুর ক্যান্টিনে আসার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘অনেক দিন আমরা মধুর ক্যান্টিনে আসিনি। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে সোচ্চার ছিলাম। এসময়ে মধুর ক্যান্টিনের যে রাজনীতি চর্চা সেটি আমরা করিনি। আজকে থেকে আমরা এটি শুরু করেছি। সামনেও এটি অব্যাহত থাকবে।’

দেড় বছরের বেশি সময় পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এসে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ছাত্রদল। তবে আগে থেকেই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্যান্টিন নিজেদের দখলে রাখায় সেখানে বসতে পারেনি তারা।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টায় মধুর ক্যান্টিনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তবে সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থানের কারণে ক্যান্টিনের ভেতরেই ঢুকতে পারেননি তারা।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যান্টিনের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ভবনের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনও।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম। এই সময়ের মধ্যে মধুর কেন্টিনেও সব ধরনের জন সমাগম বন্ধ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় খুলতেই আবার সরব হয়েছে মধুর ক্যানটিন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের সভাপতি আসার পর নেতাকর্মীদের একটি অংশ মধুর ক্যান্টিনে অবস্থান নেন। এরপর ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা মুহুর্মুহু স্লোগান শুরু করেন। একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যান্টিন থেকে বের হয়ে যান। পরে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক শোডাউন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাচ চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সহ-সভাপতি আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, যুগ্ম-সম্পাদক আরিফুল হক, মাহবুব মিয়া, রিয়াদ ইকবাল, নিজাম উদ্দিন রিপন, শরিফুল ইসলাম, সুলতানা জেসমিন জুই।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সদস্য সচিব আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম-আহবায়ক আকতার হোসেন, নাসির উদ্দিন, জহির উদ্দিন আহমদ, আশরাফুল ইসলাম খান আনিক, খোরশেদ আলম সোহেল, আরিফুল ইসলাম আরিফ, শাফি ইসলাম, এজ্জাজুল কবির রুয়েল, সোহেল রানা, মুস্তাফিজুর রহমান আহ্বায়ক সদস্য শরীফ প্রধান, এস এম দিদারুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম আরিফ, মাসুম বিল্লাহ, মামুন, আবু হান্নান, ফারহান আরিফ, নাসির উদ্দিনসহ হল পর্যায়ের অনেক নেতা।

মধুর ক্যান্টিনে আসার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘অনেক দিন আমরা মধুর ক্যান্টিনে আসিনি। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে সোচ্চার ছিলাম। এসময়ে মধুর ক্যান্টিনের যে রাজনীতি চর্চা সেটি আমরা করিনি। আজকে থেকে আমরা এটি শুরু করেছি।৷ সামনেও এটি অব্যাহত থাকবে।’

শেয়ার করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান শুরু

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদান শুরু

রাবিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে কোভিড-১৯ টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে। প্রথম ডোজের জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই রেজিস্ট্রেশনের কপি নিয়ে আসতে হবে। দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার জন্য অবশ্যই প্রথম ডোজের প্রমাণপত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেয়া শুরু হয়েছে রোববার থেকে। টিকার এই কার্যক্রম চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।

শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (টিএসসিসি) রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় টিকাদান। এর উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার।

টিকা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর বলেন, ‘যেসব শিক্ষার্থী জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন শেষ করেছেস, আজ তাদের টিকা দেয়া হচ্ছে। আর যারা জন্মনিবন্ধন কার্ড দিয়ে ইউনিভ্যাক-এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তাদের তথ্য ইউজিসি সুরক্ষা অ্যাপ পাঠাবে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে। এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টিকা নিতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে কোভিড-১৯ টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে। প্রথম ডোজের জন্য শিক্ষার্থীদের অবশ্যই রেজিস্ট্রেশনের কপি নিয়ে আসতে হবে। দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার জন্য অবশ্যই প্রথম ডোজের প্রমাণপত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে।’

শেয়ার করুন