নগর উষ্ণায়নে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা

নগর উষ্ণায়নে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা

গবেষণা দলের প্রধান কাসকেড তুহলস্ক বলেন, ‘তাপমাত্রা এভাবে বাড়ার ফলে শারীরিক অসুস্থতা ও প্রাণহানি বাড়াচ্ছে। তা ছাড়া এ অবস্থায় মানুষের কাজ করার সক্ষমতা কমে আসে। যার বড় প্রভাব পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।’

নগর উষ্ণায়নে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরের তালিকায় সবচেয়ে ওপরে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।

‘গ্লোবাল আরবান পপুলেশন এক্সপোজার টু এক্সট্রিম হিট’ শিরোনামে গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকার (পিএনএএস) সাময়িকীতে

এই গবেষণার জন্য ১৯৮৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ১৩ হাজারের বেশি শহরের শহরের ইনফ্রারেড স্যাটেলাইট থেকে নেয়া ছবি, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা পর্যালোচনা করা হয়। এই ফলাফলের সঙ্গে সময় ব্যবধানে শহরের জনসংখ্যাকেও গণনায় নেন গবেষকরা।

এতে দেখা গেছে, ১৯৮৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আর এই সময়ে দিনে ৫ কোটি ৭৫ লাখ মানুষ তীব্র তাপ সহ্য করেছেন।

দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে চীনের সাংহাই, গুয়াংজু, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরেও।

গবেষণা বলছে, ১৯৮০ সালের পর থেকে নগর উষ্ণায়ন বেড়েছে তিন গুণ, যার প্রভাব পড়েছে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ মানুষের ওপর। শহরের তাপমাত্রা ও জনসংখ্যা এমন গতিতে বৃদ্ধি পাওয়াকে মারাত্মক হুমকি বলছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণা দলের প্রধান কাসকেড তুহলস্ক বলেন, ‘তাপমাত্রা এভাবে বাড়ার ফলে শারীরিক অসুস্থতা ও প্রাণহানি বাড়াচ্ছে। তা ছাড়া এ অবস্থায় মানুষের কাজ করার সক্ষমতা কমে আসে। যার বড় প্রভাব পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জুড়ীতে সাফারি পার্কের সমীক্ষায় অনুমোদন, মহাপরিকল্পনা ডিসেম্বরে

জুড়ীতে সাফারি পার্কের সমীক্ষায় অনুমোদন, মহাপরিকল্পনা ডিসেম্বরে

মৌলভীবাজারের জুড়ীর জঙ্গলে লজ্জাবতী বানর। ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সাফারি পার্কের প্রস্তাবিত এলাকায় অনেক জায়গা অবৈধ দখলে চলে গিয়েছে। এখানে সাফারি পার্ক নির্মিত হলে আর কেউ অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে পারবে না, তখন এখানকার পাহাড় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। বর্তমানে প্রস্তাবিত লাঠিটিলার জড়িছড়া ও লালছড়া গ্রামের ২৭০ একর সাফারি পার্ক এলাকায় অবৈধভাবে বসবাসকারী ৩৭টি পরিবারকে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন কিছু পর্যবেক্ষণসহ অনুমোদন করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

সচিবালয়ে সোমবার বিকেলে পরিবেশ মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে এক সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।

এ সময় সাফারি পার্কের মহাপরিকল্পনা ও ডিপিপি প্রণয়নের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন পরিবেশমন্ত্রী।

সাফারি পার্কটি নির্মাণ করা হলে, এটি হবে বঙ্গবন্ধুর নামে দেশের তৃতীয় সাফারি পার্ক।

সভায় পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সাফারি পার্কের প্রস্তাবিত এলাকায় অনেক জায়গা অবৈধ দখলে চলে গিয়েছে। এখানে সাফারি পার্ক নির্মিত হলে আর কেউ অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে পারবে না, তখন এখানকার পাহাড় ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।

‘বর্তমানে প্রস্তাবিত লাঠিটিলার জড়িছড়া ও লালছড়া গ্রামের ২৭০ একর সাফারি পার্ক এলাকায় অবৈধভাবে বসবাসকারী ৩৭টি পরিবারকে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’

দেশের প্রথম সাফারি পার্ক তৈরি করা হয় ১৯৯৯ সালে কক্সবাজারের চকরিয়ায়; নাম ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক।

দেশের দ্বিতীয় সাফারি পার্ক তৈরি করা হয় ২০১১ সালে, গাজীপুরের শ্রীপুরে। পার্কের নাম রাখা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্ক।

শেয়ার করুন

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাবনা সুজানগরে শিকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার প্রায় ২ শ দেশীয় প্রজাতির পাখি অবমুক্ত করা হয়েছে।

সুজানগর থানা চত্বর সোমবার দুপুরের পর পাখিগুলো অবমুক্ত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।

এর আগে চরদুলাই বাজারে অভিযান চালিয়ে পাখিসহ তিন শিকারীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আটক শিকারীরা হলেন গোবিন্দপুর গ্রামের আতোয়ার শেখ, ঘোড়াদহ গ্রামের আলাউদ্দিন, চলদুলাই গ্রামের মোজাহার আলী।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাখি অবমুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মুহা. আ. লতিফসহ আরও অনেকে।

শেয়ার করুন

ডলফিন হত্যাকারীর তথ্য দিলে পুরস্কার

ডলফিন হত্যাকারীর তথ্য দিলে পুরস্কার

শুধু কুয়াকাটা সৈকতে চলতি বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভেসে এসেছে ২১টি মৃত ডলফিন। ফাইল ছবি

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ‘ডলফিন সংরক্ষণে বর্তমান সরকার সচেষ্ট। এ কার্যক্রমকে সফল করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অনেকে ডলফিনের তেল সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে ইচ্ছাকৃত ডলফিন হত্যা করে। যারা বন অধিদপ্তরকে ডলফিন হত্যাকারীদের তথ্য দেবেন তাদের পুরস্কার দেয়া হবে।’

ডলফিন হত্যাকারীর তথ্য দিলে পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়।

আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবস উপলক্ষে রোববার বন অধিদপ্তরের এক আলোচনা সভায় এ ঘোষণা দেন পরিবেশ মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ‘ডলফিন সংরক্ষণে বর্তমান সরকার সচেষ্ট। এ কার্যক্রমকে সফল করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। অনেকে ডলফিনের তেল সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে ইচ্ছাকৃত ডলফিন হত্যা করে।

‘যারা বন অধিদপ্তরকে ডলফিন হত্যাকারীদের তথ্য দেবেন তাদের পুরস্কার দেয়া হবে।’

বাংলাদেশে প্রধানত ১২ প্রজাতির ডলফিন দেখা যায়। এর মধ্যে দুটি মিঠা পানিতে পাওয়া যায়। এই দুই প্রজাতি হল গাঙ্গেয় এবং ইরাবতী।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ডলফিনের সংখ্যা প্রায় সাত হাজার, যা ছয় হাজারই রয়েছে সুন্দরবন এলাকায়।

প্রায়ই জেলেদের জালে আটকা পড়ে ডলফিন মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর বাইরেও অনেকেই গোপনে ডলফিন শিকার করেন।

এক সময় ঢাকার বুড়িগঙ্গা, পদ্মাসহ বড় নদীগুলোতেও সচরাচর দেখা মিলতো গাঙ্গেয় ডলফিন বা শুশুক। নদী দূষণের কারণে এর মধ্যে টিকে আছে হাতে গোনা কয়েকটি।

এ সময় ডলফিন সংরক্ষণে সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন বনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের ডলফিন সংরক্ষণের জন্য সাতটি ডলফিন কনজারভেশন দল গঠন করা হয়েছে, অন্যান্য এলাকায় ও এ ধরনের টিম গঠন করা হবে। জেলেসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

‘ডলফিন সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ যাবৎ সরকার দেশে নয়টি ডলফিন অভয়ারণ্য ঘোষণা করেছে, অন্যান্য এলাকাতেও এটি ঘোষণা করা হবে।’

বনমন্ত্রী বলেন, ‘ডলফিন অ্যাকশন প্ল্যান এবং ডলফিন এটলাস প্রস্তুত করা হয়েছে। হালদা নদীতে ডলফিনের সংখ্যা নির্ণয় এবং ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে ডলফিন হত্যার অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ লাক্খ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা রয়েছে।’

শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘দেশের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে নিবেদিত ব্যক্তিদের ডলফিন রক্ষায় নিজ নিজ স্থান থেকে একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সকলের সমন্বিত প্রয়াসেই আমরা ডলফিন সংরক্ষণ কার্যক্রমে সফল হব।’

শেয়ার করুন

জলবায়ু তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ দাবি দেশি গবেষকদের

জলবায়ু তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ দাবি দেশি গবেষকদের

‘কপ-২৬’ উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সভায় দেশি জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

করোনার কারণে ২০২০ সালে কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়ার এবারের সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে রাষ্ট্রগুলোকে একটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিবে হবে বলেও মনে করেন সিপিআরডি-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা।

জলবায়ুজনিত ক্ষতির প্রভাব কমিয়ে আনতে প্রতিশ্রুত অর্থ দিচ্ছে না শিল্পোন্নত দেশগুলো। এ জন্য আসন্ন কপ-২৬ সম্মেলনে জলবায়ু তহবিল বা গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার ডেইলি স্টার সেন্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপম্যান্ট’ (সিপিআরডি) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এই দাবি করেন।

ইউএনসিসিসি’র ২৬তম জলবায়ু সম্মেলন অর্থাৎ ‘কপ-২৬’ উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবনা’ শীর্ষক ওই সভায় কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন অংশ নেয়।

সভায় অংশ নেয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে সিপিআরডি-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবের জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলো দায়ী হলেও এর ক্ষতির শিকার হচ্ছে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। এ ক্ষতি কমাতে শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখছে না। আগামী কপ-২৬ সম্মেলনে এই তহবিলে ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাহ অব্যাহত প্রতিশ্রুতির বাস্তয়নে জোর দিতে হবে।’

ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিল্পোন্নত দেশগুলোতে ২০৩০ সালের মধ্যে এবং উন্নয়নশীল বিশ্বকে ২০৪০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। কপ-২৬ সম্মেলনেই এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি নিতে হবে।’

শামসুদ্দোহা জানান, করোনার কারণে ২০২০ সালে কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়ার এবারের সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে রাষ্ট্রগুলোকে একটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিবে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ধরিত্রী সরকার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা থাকলেও উন্নত বিশ্ব তা প্রাক-শিল্প বিপ্লব সময়ের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যথাযথ সঠিক এনডিসি ডকুমেন্টই পারে এই বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে।’

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে সরকার, গবেষক, নীতি-নির্ধারক এবং নাগরিক সমাজকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, ‘অসছে সম্মেলনে শিল্পোন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের পাশ কাটিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে। এ জন্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে এই অপচেষ্টাকে মোকাবিলা করতে হবে।’

সিডিপির নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গির হাসান মাসুম বলেন, ‘উন্নত বিশ্ব কার্বন নির্গমণ কমানোর বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন ইস্যুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলো যদি কার্বন নির্গমন কমানোর উপরই মূল চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতো তাহলে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন রকম থাকত।’

শেয়ার করুন

১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে

১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে

ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দেখা মেলে এই মায়া হরিণের। ছবি: সংগৃহীত

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বনে প্রায় ৫৮৭ দিন চালানো ক্যামেরা ট্র্যাপ জরিপে দেখা গেছে, এই বনে টিকে থাকা ১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ীর মধ্যে আছে প্রায় বিলুপ্ত ঢোল, চিতা বিড়াল, কুলু বানর, এবং বড়গাছচিকা।

১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী প্রাণীর সন্ধান মিলেছে হবিগঞ্জের সাতছড়ি সংরক্ষিত বনে। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া ঢোল বা বনকুকুরও পাওয়া গেছে এ বনে। সন্ধান পাওয়া বাকী প্রাণিগুলোর বেশিরভাগ দেশে এখন সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৮-১৯ সালে ক্যামেরা-ট্র্যাপ পদ্ধতিতে সাতছড়ি বনে এ গবেষণা চালানো হয়। এই গবেষণাপত্রটি গত মাসে প্রকাশিত ম্যামাল সোসাইটি অব জাপানের ‘ম্যামাল স্টাডি’ নামের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

এই সময়ে এসেও একটি বনে এতো প্রজাতির প্রাণির সন্ধান পাওয়াকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। সিলেটের অন্যান্য বনগুলোতেও বিরল প্রজাতির বিভিন্ন প্রাণীর আবাস থাকতে পারে বলে আশা তাদের।

গবেষকরা জানান, এই গবেষণার জন্য বিশেষভাবে বানানো ক্যামেরা বনে বসিয়ে রাখা হয়। প্রতিটি ক্যামেরা একটি পূর্ণ দিন সক্রিয় থাকলে তাকে এক ক্যামেরা-ট্র্যাপ দিবস বলা হয়। যে কোনো নড়াচড়ায় ক্যামেরাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে, ছবি তোলে এবং গবেষকদের কাছে পৌঁছে দেয়। যার মাধ্যমে বনে প্রাণীর উপস্থিতি ও তাদের জীবনচারণ সম্পর্কে জানা যায়।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বনে প্রায় ৫৮৭ দিন চালানো ক্যামেরা ট্র্যাপ জরিপে দেখা গেছে, এই বনে টিকে থাকা ১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ীর মধ্যে আছে প্রায় বিলুপ্ত ঢোল, চিতা বিড়াল, কুলু বানর, এবং বড়গাছচিকা।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি সংরক্ষিত বনকে ২০০৫ সালে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। উদ্যানের ভেতরে সাতটি পাহাড়ি ছড়া থাকার কারণে এর নাম সাতছড়ি। রঘুনন্দন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান হওয়ায় আগে এই বনের নাম ছিলো- ‘রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্ট’। প্রাণি ও জীববৈচিত্রের অন্যতম আঁধার হিসেবে পরিচিত এই বনের অনেক প্রাণিই হারিয়ে গেছে বলে এতোদিন বলা হচ্ছিল।

১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে

উত্তরপূর্ব বাংলাদেশের হবিগঞ্জ-মৌলভিবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকায় ছয়টি সংরক্ষিত বন রয়েছে। এগুলো হলো- মৌলভীবাজারের রাজকান্দি সংরক্ষিত বন, পাথারিয়া সংরক্ষিত বন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, সাগরনাল বন, হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান।

এসব বনে চিতাবাঘসহ ২৭ রকমের মাংসাশী স্তন্যপায়ী প্রাণির আবাস রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) বাংলাদেশে ২০১৫ সালের নিরীক্ষা, ড. রেজা খানের ২০১৫ সালের ফিল্ড গাইড এবং অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খানের ২০১৮ সালের ফিল্ড গাইডেও এমনটি উল্লেখ আছে।

তাদের গবেষণার তথ্য মতে, পুরো ভারত উপমহাদেশের প্রায় অর্ধেক মাংসাশী স্তন্যপায়ী প্রাণির আবাস এই ছয় বনে।

সাতছড়ি বনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে গবেষকরা যে ১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী প্রাণির অস্থিত্ব পেয়েছেন, তার ১০টিই মাংশাসী স্তন্যপায়ী। এগুলোর মধ্যে আছে মায়া হরিণ, বন্য শুকর, রেসাস বানর, সিংহলেজী বানর, সজারু, কাঠবিড়ালী এবং গাছচিকা।

এর মধ্যে আবার গাছচিকা এই প্রথম সাতছড়িতে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এছাড়া দেশের উত্তরপূর্ব অঞ্চলের বনগুলোতে এই প্রথমবারের মতো ঢোল বা বনকুকুরের সন্ধান মিলেছে সাতছড়িতে।

গবেষকরা বলছেন, সাতছড়িতে সন্ধান পাওয়া প্রাণীদের মধ্যে ১২টিরই অস্তিত্ব বাংলাদেশে হুমকির মুখে। আর তিনটির অস্তিত্ব বিশ্বব্যাপীই হুমকির মুখে। এর মাঝে রয়েছে ঢোল, সিংহলেজী বানর ও বড় বাগদাশ।

‘ম্যামাল স্টাডি’-তে প্রকাশিত গবেষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সাতছড়িতে প্রাণীরা বেশিরভাগই নিশাচর জীবন-যাপন করে। ঢোল, বানর, মারটেন এবং কাকড়াভুক বেজী ছাড়া আর কোনো দিবাচর প্রাণি পাওয়া যায়নি এখানে।

এই গবেষক দলের প্রধান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মুনতাসির আকাশ। তার মতে, মানুষের চলাচল দিনে অনেক বেশি থাকায় দিবাচরপ্রাণীরা অসুবিধায় রয়েছে।

মুনতাসির বলেন, ‘বনে অতিমাত্রায় পর্যটক প্রবেশ, বনের ভেতরে বাড়িঘর নির্মাণসহ নানা কারণে মানুষের উপস্থিতি প্রাণিদের ভীত করে তুলছে। ফলে অনেক দিবাচর প্রাণিও এখন নিশাচর হয়ে যাচ্ছে।’

বর্তমানে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের ৬টি সংরক্ষিত বনের প্রাণি নিয়ে গবেষণা করছেন মুনতাসির আকাশের নেতৃত্বাধীন গবেষক দল।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই বনসহ হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারের অন্যান্য বনেও কীভাবে কতগুলো প্রাণি মানুষের উপস্থিতিতে খাপ খাইয়ে আছে সেটি গবেষণার দাবি রাখে।

‘এসব বনে কী কী মাংশাসী স্তন্যপায়ী প্রাণী আছে সেটি জানা এবং তাদের জন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা সময়ে দাবি। এ বনগুলোর মাত্র ১০ শতাংশ দুইটি জাতীয় উদ্যান এবং একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য দিয়ে সংরক্ষিত। হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজারে জাতীয় উদ্যানের সংখ্যা বাড়ানোও এখন সময়ের দাবি।’

১৭ প্রজাতির স্থলজ স্তন্যপায়ী সাতছড়িতে

সাতছড়ি উদ্যানের প্রাণি নিয়ে এ গবেষণা বিষয়ে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান জানান, তারা খুব চমৎকার একটি কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এই কাজের মাধ্যেম আমরা জানতে পারলাম এই এলাকার বন্যপ্রাণীর অবস্থা। আগে তো আমরা শুধু ধারণার উপরে বলতাম যে, প্রাণি কমে গেছে, কিন্তু এই গবেষণা আশা দেখিয়েছে যে অনেক প্রাণি এখনও টিকে আছে।

‘বনের ভেতর পর্যটক প্রবেশসহ নানা কারণে প্রাণিরা প্রকাশ্যে কম আসে। তবে সিলেটের প্রতিটি বন দেশের অন্য জায়গা থেকে ভাল আছে, কারণ এখানে বনের পাশে চা বগান রয়েছে। যে চা বাগানগুলো বনের বাফার জোন হিসেবে কাজ করছে বনকে রক্ষা করতে। সাধারণত দেশের অন্য বনে দেখা যায় যেখানে বন শেষ সেখানে জনবসতি শুরু। তাই সিলেট অঞ্চলের বনের জন্য চা বাগানগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

এই গবেষক জানান, কয়েক বছর আগে হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা ও মৌলভীবাজারের লাঠি টিলায় চিতা বাঘের অস্তিত্ব তিনি নিজে পেয়েছেন এবং মৌলভীবাজারে লাঠি টিলায় ২০০৮ সালে একটি বাঘের রেকর্ড আছে। তবে এই বাঘটি এখানের স্থায়ী নয়; হয়তো ভারত থেকে ঢুকেছিল।

এই অঞ্চলের বন্যপ্রাণির অবস্থা জানার জন্য প্রচুর গবেষণার প্রয়োজন বলে মনে করেন এই প্রাণি বিশেষজ্ঞ।

বনে মানুষের অবাধ প্রবেশে বন্যপ্রাণির জীবনাচরণে পরিবর্তন আনছে জানিয়ে বন বিভাগের সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণি ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘কিছু প্রাণি অভ্যাস বদল করে দিনের বদলে রাতে চলাচল করে। যেমন শিয়াল সাধারণত দিনেই ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু মানুষের কারণে ভয়ে এখন দিনে বের হয় না।

‘২০১১-১২ সালে বন বিভাগের সার্ভেতে দেখা গেছে, অতিরিক্ত পর্যটক বনে প্রবেশ করছেন। এরপর থেকে আমরা পর্যটক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি।’

শেয়ার করুন

লোকালয় থেকে উদ্ধার অজগর সুন্দরবনে অবমুক্ত

লোকালয় থেকে উদ্ধার অজগর সুন্দরবনে অবমুক্ত

খুড়িয়াখালী গ্রামের একটি বসতবাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার হয় ২০ ফুটের অজগরটি। ছবি: নিউজবাংলা

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘খুড়িয়াখালী গ্রামের জামাল গাজী নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। এটি সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী পার হয়ে লোকালয়ে চলে এসেছিল।’

বাগেরহাটের শরণখোলায় বসতবাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার ২০ ফুটের একটি অজগরকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

শরণখোলার সুন্দরবন অংশে শুক্রবার দুপুরে সাপটিকে অবমুক্ত করেন বন বিভাগের সদস্যরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন অফিসার আব্দুল মান্নান।

তিনি বলেন, খুড়িয়াখালী গ্রামের জামাল গাজী নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। এটি সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী পার হয়ে লোকালয়ে চলে এসেছিল।

সাপের অবস্থান টের পেয়ে স্থানীয়রা বন সুরক্ষা কমিটির (ওয়াইল্ড টিম ও টাইগার টিম) সদস্যদের খবর দেন। রাতেই তারা বন বিভাগের সহায়তায় সাপটিকে উদ্ধার করেন। শুক্রবার দুপুরে এটিকে অবমুক্ত করা হয়।

শেয়ার করুন

পাহাড়ে ধসে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল

পাহাড়ে ধসে বিপর্যস্ত পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে পাহাড়ি অঞ্চলে ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ছবি: আনন্দবাজার

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের পর উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি শুরু হয়, যার জেরে এমন পরিস্থিতি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এবং একের পর এক ভূমিধসের ফলে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় সমস্যায় পড়েছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল।

একটানা বৃষ্টির কারণে ভারতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ভূমিধস হয়েছে, বিপর্যস্ত জনজীবন।

বুধবারের পরে বৃহস্পতিবার ও নেমেছে ধস। এতে পাহাড় আর সমতলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ অবস্থায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজে হাত লাগিয়েছে প্রশাসন।

ভূমিধসের জন্য শিলিগুড়ি থেকে সিকিম যাওয়ার ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ও শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার ৫৫ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ রয়েছে।

ফলে জায়গায় জায়গায় আটকা পড়েছেন বহু পর্যটক। অনেকেই মাঝপথে আটকে; যান চলাচল শুরুর অপেক্ষায় বসে আছেন।

দার্জিলিংয়ের ধোতরে, রিম্বিক, মানভঞ্জন, গোক, বিজনবাড়ি এলাকায় ধস নেমেছে। সড়কের একদিক খুলে পর্যটকদের নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। খুব ধীর গতিতে চলছে গাড়ি।

এ অবস্থায় আগামী তিনদিন পর্যটকদের পাহাড়ের দিকে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

শুক্রবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে বলে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাসে জানিয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের পর উত্তরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি শুরু হয়, যার জেরে এমন পরিস্থিতি। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এবং একের পর এক ভূমিধসের ফলে উদ্ধারকাজ পরিচালনায় সমস্যায় পড়েছে পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল।

আগ্নেয় বা পাললিক- যে শিলা দিয়েই পাহাড় তৈরি হোক না কেন, মুষলধারে বৃষ্টি হলে পাহাড়ের ফাটলে পানি প্রবেশ করে এবং ভূমিধস অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।

তবে সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিধস বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে ভূতাত্ত্বিকরা বলছেন, মানুষের লোভ আর অজ্ঞতার কারণে পাহাড়ি অঞ্চল হুমকির মুখে পড়েছে।

নির্বিচারে বন ধ্বংস আর পাহাড়ের গাছ কেটে ফেলার ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের সবুজ আচ্ছাদন সরে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচার প্রাকৃতিক ঢাল না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় গোটা পাহাড়।

নানা অবকাঠামো নির্মাণে জন্য পাহাড়ের মাটি কেটে, নদী-ঝরণার গতিপথে বাধা সৃষ্টি করে, পাহাড়ের প্রাকৃতিক গঠন নষ্ট করে, মানুষই ধসের মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

তারা বলছেন, এমনটাই ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে।

শেয়ার করুন