দেবী দুর্গা সাজানোর উপকরণের বিপুল বিক্রি, বাজার চড়া

দেবী দুর্গা সাজানোর উপকরণের বিপুল বিক্রি, বাজার চড়া

শেষ সময়ে প্রতিমা সাজিয়ে তুলতে ব্যস্ত শিল্পী। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

ব্যবসায়ীরা জানান, এবার সারা দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। এ কারণে কারুকাজখচিত মুকুট, চুল, গদা, চুড়ি, বাজু, কাগজের নকশা, ময়ূর পেখম, মালা, আবির, রঙিন কাগজসহ মণ্ডপ সাজানোর উপকরণের চাহিদাও বেশি।

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে ১১ অক্টোবর। ষষ্ঠীতে দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উৎসব। তবে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে পূজার আমেজ।

মণ্ডপ আর প্রতিমা সাজানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আয়োজকেরা। তারা বলছেন, গত বছর করোনা মহামারির মাঝে বিবর্ণ ছিল দুর্গোৎসব। তবে এবার কমেছে মহামারির প্রকোপ, বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় প্রাণখোলা উৎসবে পূজিত হবেন দেবী দুর্গা।

প্রতিবারই সারা দেশে পূজার সাজসজ্জার উপকরণের মূল জোগান যায় পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজার থেকে। এবারও তার ব্যতিক্রম নেই, বরং গত বছরের করোনার মন্দা কাটিয়ে তেজিভাব চলছে শাঁখারিবাজারের বিভিন্ন দোকানে। দিনভর উৎফুল্ল মুখে ক্রেতার চাপ সামলাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

শাঁখারিবাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোনো দোকানেই ক্রেতার কমতি নেই। ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিমা সাজানোর অলংকার, মুকুট, শাখা, শঙ্খ, প্রতিমার কাপড়-শাড়ি, মালা, কদম মালা, ঘণ্টা, ঘট, প্রদীপ, ধূপদানি, ঠাকুরের মালা, জবের মালা, মুকুট, ধুতি, পাঞ্জাবি বিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ।

দেবী দুর্গা সাজানোর উপকরণের বিপুল বিক্রি, বাজার চড়া
পূজার উপকরণ বিক্রিতে ব্যস্ত শাঁখারিবাজারের ব্যবসায়ীরা

ব্যবসায়ীরা জানান, দেবীর সাজের বেশির ভাগ উপকরণ আসে ভারত থেকে। করোনার কারণে ভারতে যাতায়াত বন্ধ থাকলেও অনলাইনে অর্ডার দিয়ে আনা হয়েছে এসব উপকরণ।

বিপণিবিতান সাজঘরের মালিক বরুণ দত্ত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এবার ব্যবসা ভালো হলেও পণ্যের দাম বেশি। এবার আমরা ইমোর মাধ্যমে ইন্ডিয়াতে অর্ডার করেছি। এখানকার চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন তৈরি করে সেগুলো ইন্ডিয়ার ব্যবসায়ীদের কাছে পাঠিয়েছি।

‘তারা (ইন্ডিয়ার ব্যবসায়ী) আমাদের চাহিদামতো জিনিস বানিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন।’

ব্যবসায়ীরা জানান, এবার সারা দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। এ কারণে কারুকাজখচিত মুকুট, চুল, গদা, চুড়ি, বাজু, কাগজের নকশা, ময়ূর পেখম, মালা, আবির, রঙিন কাগজসহ মণ্ডপ সাজানোর উপকরণের চাহিদাও বেশি।

সুর ঘুড়ি ঘরের মালিক মোহন সুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতবার করোনার কারণে পূজার মৌসুমে আমরা ব্যবসা করতে পারিনি। জিনিসপত্র বেশি বিক্রি হয়নি। সবাই সীমিত আকারে পূজা করেছে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। এবার মায়ের দয়ায় আমাদের ব্যবসা ভালো হচ্ছে।’

মোহন বলেন, ‘গ্রাম থেকে আমাদের কাছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসেন। এবার তাদের সংখ্যা বেড়েছে। শাড়ি, গয়নার সেট, মুকুট এগুলোর রেট এবার বেশি, চাহিদাও বেশি। এগুলো সব ইন্ডিয়া থেকে আসে।’

দেবী দুর্গা সাজানোর উপকরণের বিপুল বিক্রি, বাজার চড়া

বুধবার মহালয়ার পর পূজার উপকরণ বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন মোহন।

মোহন সুরের দোকানে পূজার উপকরণ কিনতে আসা ক্রেতা তন্ময় নাগ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি মানিকগঞ্জ থেকে এসেছি। আর তো বেশি দেরি নেই, মণ্ডপ সাজানোর উপকরণ লাগবে। প্রতিবার শাঁখারিবাজার থেকেই কেনাকাটা করি।’

তন্ময় বলেন, ‘এবার সব দোকানেই ভিড়, দামও একটু বাড়তি। দুই বছর আগেও যে শাড়ি ৪০০-৫০০ টাকায় কিনেছি, এবার তার দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি।’

পূজার অঞ্জলি ও অর্ঘ্য দেয়ার ধূপকাঠি, ঘট, প্রদীপ, থালাসহ অন্যান্য উপকরণের দোকানেও ভিড় দেখা গেছে। এ ছাড়া পূজারি নারীর সিঁদুর, আলতা, টিপের কেনাকাটাও বেড়েছে কয়েক গুণ। ভিড় রয়েছে শাঁখার দোকানেও।

১১ অক্টোবর শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

আরও পড়ুন:
পুরান ঢাকায় শেষ মুহূর্তে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
কল্পনার রঙে সাজছেন দুর্গা
রঙের ছোঁয়া, সাজের অপেক্ষায় দুর্গা
পূজায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা
দুর্গাপূজার ভার্চুয়াল উদ্বোধন চান মমতা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৩৫তম ফোবানা সম্মেলন নভেম্বরে

৩৫তম ফোবানা সম্মেলন নভেম্বরে

জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে ফোবানা সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের সম্মেলনের ভেন্যু করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ন্যাশনাল হারবারের বিখ্যাত গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারকে।

বাধাবিপত্তি আর করোনার ভয়াবহতাকে মোকাবিলা করে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলন।

নভেম্বরের ২৬ তারিখে শুরু হবে তিন দিনব্যাপী ৩৫তম এই সম্মেলন। এটির আয়োজক আমেরিকান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি (এবিএফএস)।

এবারের সম্মেলনের ভেন্যু করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ন্যাশনাল হারবারের বিখ্যাত গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারকে।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অদম্য বাংলাদেশে অবাক বিশ্ব’।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে এ সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ফোবানা সম্মেলনের সদস্যসচিব শিব্বীর আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এবারের ফোবানা সম্মেলনের কনভেনার জি আই রাসেল।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোবানা চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, স্বাগতিক কমিটির নিরাপত্তাবিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারপারসন দেওয়ান জমিরসহ ফোবানার অন্য নেতারা।

বিশ্বে ফোবানা নামটি একটি ‘ব্র্যান্ড’ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব শিব্বীর আহমেদ বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে এই সংগঠনটি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশিদের মিলনমেলার আয়োজন করে আসছে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়।’

তিনি বলেন, ‘১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের একটি ছোট অডিটরিয়ামে অত্যন্ত ছোট পরিসরে যে ফোবানার জন্ম হয়েছিল, সেই ফোবানার ৩৫তম আসর আজ একই শহরের সবচেয়ে বড় বিলাসবহুল ও ব্যয়বহুল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’

সম্মেলনে দেশ ও প্রবাসের লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পীসহ গুণিজনরা অংশ নেবেন বলে জানান ফোবানার কনভেনার জি আই রাসেল।

তিনি বলেন, ‘৩৫তম ফোবানার অতিথি তালিকায় যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, স্টেট মিনিস্টার শাহরিয়ার আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবায়েত উল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম, দুবাইয়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নইম নিজাম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, অনন্যা প্রকাশনীর মনিরুল হক, ডিবিসি নিউজের সিইও মনজুরুল ইসলাম, সময় টেলিভিশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, চ্যানেল আই প্রধান ফরিদুর রেজা সাগর প্রমুখ।

এ ছাড়াও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী, বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী, শিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রীকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

কনভেনার রাসেল জানান, সম্মেলনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ফ্যাশন শো, মিস ফোবানা, ম্যাগাজিন, বিজনেস লাঞ্চ, বইমেলা, মিউজিক আইডল, ড্যান্স আইডল, সেমিনার, ইয়ুথ ফোরাম, ইন্টারফেইথ ডায়ালগসহ নানা ইভেন্টের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ এবং ওয়ার্দা রিহ্যাব অংশগ্রহণ করবেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, জেমস, তাহসান খান, হৃদয় খান, শফি মণ্ডল, লায়লাসহ জনপ্রিয় শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বৃহত্তর ওয়াশিংটন ও উত্তর আমেরিকার একঝাঁক শিল্পী ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানান রাসেল।

এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর বিজনেস নেটওয়ার্ক লাঞ্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই লাঞ্চে দেশের ও প্রবাসের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।

আরও পড়ুন:
পুরান ঢাকায় শেষ মুহূর্তে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
কল্পনার রঙে সাজছেন দুর্গা
রঙের ছোঁয়া, সাজের অপেক্ষায় দুর্গা
পূজায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা
দুর্গাপূজার ভার্চুয়াল উদ্বোধন চান মমতা

শেয়ার করুন

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আড়ম্বরহীন কুষ্টিয়ার আখড়াবাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় বাউল মেলা হবে ধরে নিয়েই সাধু-ফকির, বাউল ভক্তরা আখড়ায় জড়ো হয়েছেন। লালন ধামে আখড়াবাড়ির ভেতরে এবং বাইরের মাঠের গাছতলায় অবস্থান নিয়েছেন তারা।

মরমী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩১তম তিরোধান দিবস রোববার। করোনার কারণে এবারও বাউল মেলার আয়োজন বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। তবে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়ি খোলা থাকায় জড়ো হয়েছেন সাধু-বাউল-ফকিররা। প্রথা অনুযায়ী তারা ভক্তি-শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সাইঁজির চরণে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৩০ বছরের রেওয়াজ ভেঙে গত বছরই প্রথম বাতিল করা হয় লালনের এই স্মরণোৎসব। সে সময় করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ পর্যায়ে থাকায় আখড়াবাড়ির গেটও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় বাউল মেলা হবে ধরে নিয়েই সাধু-ফকির, বাউল ভক্তরা আখড়ায় জড়ো হয়েছেন। লালন ধামে আখড়াবাড়ির ভেতরে এবং বাইরের মাঠের গাছতলায় অবস্থান নিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন অ্যাকাডেমির আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম গত ১২ অক্টোবার ঘোষণা দিয়েছেন, এবারও তিরোধান দিবস পালন হবে না। করোনার কারণে গণজমায়েত এড়িয়ে চলতে এ ঘোষণা দিতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

আখড়াবাড়ির বাইরে লালন অ্যাকাডেমির মাঠে নিজস্ব রেওয়াজে ভক্তি-শ্রদ্ধা দিতে দেখা গেছে লালন অনুসারীদের।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ফকির বাবু বলেন, ‘এতো দূর থেকে আসলাম। টাকায় মায়া করি নাই, ত্যাগ করেছি আরাম। এসে মনটাই ভেঙে গেল। এখন সাঁইজিকে ভক্তি জানিয়ে চলে যাব। মেলা না হওয়ায় আমরা পাগলরা না খেয়ে থাকার মতো অবস্থা।’

সাধু সঙ্গ ও বাউল মেলা না হওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে অনেক বাউল, ফকির এবং লালন ভক্ত।

তারপরও আখড়াবাড়ির ভেতরে ও বাইরে চলছে জাতপাতহীন-মানবতার লালন দর্শনের প্রচার। বরাবরের মতো দর্শন প্রচার হচ্ছে তারই গানের মাধ্যমে। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া এখন লালনের গানের সুরে প্রকম্পিত।

২০০ বছর আগে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় বাউল-ফকিরদের দল গঠন করেছিলেন ফকির লালন সাঁই। অহিংস, জাতপাতহীন ও মানবতাবাদী গান বেঁধে প্রচার করতেন তারা। দিনে দিনে তার দল বড় হতে থাকে। বাড়তে থাকে অনুসারী ও ভক্তের সংখ্যা। আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে লালনের গান, তার বাণী।

১২৯৭ বঙ্গাব্দের পয়লা কার্তিক দেহত্যাগ করেন ফকির লালন। এই ১৩১ বছর ধরে আখড়া বাড়িতে চলা রেওয়াজ হলো, পহেলা কার্তিক লালনের তিরোধান দিবসে তার মাজার ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে বাউল-ফকিরদের জন্য অধিবাস, বাল্যসেবা এবং পূর্ণসেবার (খাবার) আয়োজন।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

তিন দিন ধরে চলে মেলাসহ সরকারি অনুষ্ঠানমালা। দিন-রাত ধরে চলত গানে গানে লালন দর্শনের প্রচার। দেশ বিদেশের লাখ লাখ মানুষ এতে অংশ নিতেন।

করোনার বাস্তবতায় দুই বছর বন্ধ এসব আয়োজন। ফকির-বাউলরা নিজেদের মতো করে সাঁইজিকে স্মরণ করতে পারছেন, তাতেই অনেকে খুশি।

আখড়ায় এসে ফকির আলম বলেন, ‘ধরা আজ জরাক্রান্ত। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। সাঁইজির কৃপায় এসব কেটে যাবে। আবার সব স্বাভাবিক হবে।’

আরও পড়ুন:
পুরান ঢাকায় শেষ মুহূর্তে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
কল্পনার রঙে সাজছেন দুর্গা
রঙের ছোঁয়া, সাজের অপেক্ষায় দুর্গা
পূজায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা
দুর্গাপূজার ভার্চুয়াল উদ্বোধন চান মমতা

শেয়ার করুন

‘দেবী’ ফিরলেন দেবালয়ে

‘দেবী’ ফিরলেন দেবালয়ে

শুক্রবার দুপুরের পর থেকে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন। ছবি: নিউজবাংলা

শুক্রবার দুপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের বিদায়ের সুর বেজে ওঠে, যার সূচনা হয়েছিল গেল সোমবার। হিন্দু পঞ্জিকা মতে, দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে এসেছেন, গেলেন দোলায় (পালকি) চড়ে। 

সাঙ্গ হলো বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে ‘দেবালয়ে’ ফিরে গেলেন দেবী দুর্গা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী ফিরে যান কৈলাসে স্বামীর ঘরে। এক বছর পর আবার তিনি আসবেন মর্তে ‘পিতৃগৃহে’।

শুক্রবার দুপুরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের বিদায়ের সুর বেজে ওঠে, যার সূচনা হয়েছিল গেল সোমবার।

হিন্দু পঞ্জিকা মতে, দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে এসেছেন, গেলেন দোলায় (পালকি) চড়ে।

রাজশাহী নগরীর মুন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে শুক্রবার দুপুরে পদ্মা নদীতে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন।

বিসর্জনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশানের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মুন্নজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুপুরের পর সারি সারি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে প্রতিমা নিয়ে। প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষের সমাগম হয় এখানে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, প্রতিমা বিসর্জনকে সামনে রেখে পদ্মা নদীর ধারে পুলিশের কন্ট্রোল রুম বসানো হয়েছে। সাদা পোশাকেও কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠান শেষ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রতিমা নিয়ে যাবার সময় রাস্তায় যাতে যানজট তৈরি না হয় সেজন্য ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

‘দেবী’ ফিরলেন দেবালয়ে

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রাজশাহী নগরের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ জানান, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছে। মুন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পদ্মা নদীতে চলছে প্রতিমা বিসর্জনের কাজ। শহরের অধিকাংশ প্রতিমা এখানে বিসর্র্জন হবে।’

নগর পুলিশের তথ্য মতে, এবারে রাজশাহীতে মোট ৪৫৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীতে ৯৩টি এবং বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে মণ্ডপ ছিল ৩৬০টি।

আরও পড়ুন:
পুরান ঢাকায় শেষ মুহূর্তে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
কল্পনার রঙে সাজছেন দুর্গা
রঙের ছোঁয়া, সাজের অপেক্ষায় দুর্গা
পূজায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা
দুর্গাপূজার ভার্চুয়াল উদ্বোধন চান মমতা

শেয়ার করুন

পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সমুদ্রে পর্যটকদের ঢল

পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সমুদ্রে পর্যটকদের ঢল

দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ছুটে গেছেন হাজার কর্মব্যস্ত মানুষ। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা হোটেল-মোটেল গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদারআবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে ছুটির দিনে কক্সবাজারের হোটেলগুলোর প্রায় ৮০% ভাগ রুম ভাড়া হয়েছে। আর গত দুই দিনে শতভাগ কক্ষ ভাড়া হয়েছে।’

মৃদুমন্দ ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকতে। তাতে পা ভিজিয়ে হাঁটছেন নবদম্পতি রাজিয়া ও কবির। সিলেট থেকে এসেছেন মধুচন্দ্রিমায়।

কক্সবাজার শহরের লাবণী পয়েন্টে শুক্রবার সকালে গিয়ে কথা হয় তাদের সঙ্গে।

কবির জানান, এটিই প্রথম সমুদ্র দেখা তাদের। সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে কক্সবাজার এসেছেন বৃহস্পতিবার রাতে। এসেই সৈকতে বসে জ্যোৎস্না দেখার সুযোগ পেয়ে যান।

কবির বলেন, ‘প্রথম এসেছি সমুদ্র সৈকতে। আবার জ্যোৎস্না রাতও পেয়েছি। জীবনে এমন সময় কখনও ভুলব না।’

সাপ্তাহিক ছুটি ও পূজার ছুটি এবার একই দিনে পড়েছে। তাই কেউ পূজা উপলক্ষে, কেউ সপ্তাহ শেষে অবসর কাটাতে জড়ো হয়েছেন সৈকতে। শুক্রবার সকাল থেকে তাই পর্যটকের ঢল সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে।

কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ২ কিমি সমুদ্র সৈকত জুড়ে শুক্রবার সকাল হতেই হাজার হাজার পর্যটক দেখা গেছে।

শহরের রাস্তায়ও ভিড়। রীতিমতো দেখা দিয়েছে যানবাহন সংকট। গণপরিবহণগুলো পর্যটকদের ‘রিজার্ভ’ ভাড়া ধরতে গিয়ে স্থানীয়দের এড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ শোনা গেছে।

কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল গেস্টহাউজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘লকডাউনে দীর্ঘ দিন ঘরবন্দী মানুষগুলো এখন মুক্ত হাওয়ার সন্ধানে সাগর দেখতে আসছে। কক্ষ বুকিংয়ের প্রচুর কল পাই আমরা। তবে একটি কক্ষে গাদাগাদি করে অতিরিক্ত পর্যটক থাকার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাপল বেড ও টুইন বেডে সর্বোচ্চ ২ জন অবস্থান করতে পারছেন।’

তিনি জানান, কক্সবাজার শহর ও শহরতলীর চার শতাধিক হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসে এক দিনে সর্বোচ্চ ৮২ হাজার পর্যটক রাত যাপন করতে পারছে এখন। করোনার আগে এই সক্ষমতা ছিল দ্বিগুণ।

পূজা ও সাপ্তাহিক ছুটিতে সমুদ্রে পর্যটকদের ঢল

আবুল কাশেম বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহে ছুটির দিনে কক্সবাজারের হোটেলগুলোর প্রায় ৮০% ভাগ রুম ভাড়া হয়েছে। আর গত দুই দিনে শতভাগ কক্ষ ভাড়া হয়েছে।’

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান এম এ হাসিব বাদল বলেন, ‘কক্সবাজারে এখন লাখো পর্যটক অবস্থান করছেন। শীত যতই ঘনিয়ে আসবে, কক্সবাজারে পর্যটকও তত বাড়বে।’

টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দীন আহমদ জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবসময় টুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি পুলিশের একাধিক দল সাদা পোশাকে সৈকতসহ বিভিন্ন স্পটে অবস্থান করেছে।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত তারা।

আরও পড়ুন:
পুরান ঢাকায় শেষ মুহূর্তে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
কল্পনার রঙে সাজছেন দুর্গা
রঙের ছোঁয়া, সাজের অপেক্ষায় দুর্গা
পূজায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা
দুর্গাপূজার ভার্চুয়াল উদ্বোধন চান মমতা

শেয়ার করুন

সিঁদুররাঙা মুখে দেবীকে বিদায়ের প্রস্তুতি

সিঁদুররাঙা মুখে দেবীকে বিদায়ের প্রস্তুতি

বিজয়া দশমীতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন নারীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

ভক্তরা একে অপরের মুখে মেখে দিচ্ছে লাল সিঁদুর। দেবীর বিদায়বেলায় কষ্ট ভুলে হাসিমুখে বিদায় জানানোর জন্য তারা মেতেছে এ খেলায়।

বিজয়া দশমীর দিনে মন্দিরে মন্দিরে ভক্তদের ভিড়। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী আবার মর্ত্যলোক ছেড়ে স্বর্গলোকে যাবেন। বিদায়ের এ সময়ে মাকে হাসিমুখে বিদায় জানাতে সিঁদুর খেলে রঙিন মুখে চলছে বিদায়ের প্রস্তুতি।

ভক্তরা একে অপরের মুখে মেখে দিচ্ছে লাল সিঁদুর। দেবীর বিদায়বেলায় কষ্ট ভুলে হাসিমুখে বিদায় জানানোর জন্য তারা মেতেছে এ খেলায়।

সনাতন ধর্মাবলম্বী বিবাহিত নারীদের সিঁদুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা দেবী দুর্গার পায়ে সিঁদুর লাগিয়ে স্বামীর মঙ্গলও কামনা করেন, যেন সারাটা বছর সবাই আনন্দে থাকতে পারেন।

শুধু বিবাহিত নারীর মধ্যে এই সিঁদুর খেলা সীমাবদ্ধ থাকে না; অবিবাহিত নারীরাও রঙিন হন লাল সিঁদুরে।

নারীদের পরনে লাল পাড়ওয়ালা সাদা শাড়ি। দেবীকে সিঁদুর ছোঁয়াতে মন্দিরগুলোতে দীর্ঘ লাইন।

বাদ্যের তালে তালে নেচে-গেয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে দুর্গার বিদায় প্রস্তুতি। বিকেলে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের।

আরও পড়ুন:
পুরান ঢাকায় শেষ মুহূর্তে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
কল্পনার রঙে সাজছেন দুর্গা
রঙের ছোঁয়া, সাজের অপেক্ষায় দুর্গা
পূজায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা
দুর্গাপূজার ভার্চুয়াল উদ্বোধন চান মমতা

শেয়ার করুন

মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরছেন দেবী দুর্গা

মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরছেন দেবী দুর্গা

বিজয়া দশমীতে ভক্তদের কাঁদিয়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। ফাইল ছবি

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহিষাসুরের সঙ্গে নয় দিন নয় রাত যুদ্ধের পর দশম দিনে জয়ী হন দেবী দুর্গা। এ জন্যই বিজয়া দশমী। যুদ্ধ জয়ের আনন্দে সামিল হতে এ দিন হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাই মেতে ওঠে সিঁদুর খেলায়।’

ষষ্ঠী, সপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী পেরিয়ে দুর্গাপূজার আজ বিজয়া দশমী। অর্থাৎ পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব সমাপ্তির দিন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এ উৎসবের।

বিজয়া দশমীতে ভক্তদের কাঁদিয়ে কৈলাসে ফিরে যাবেন দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। এ জন্য মণ্ডপে মণ্ডপে বাজছে বিদায়ের সুর।

বিদায়ের কষ্ট ভুলে থাকতে এবং দেবীকে হাসিমুখে বিদায় জানানোর জন্য দিনটিতে ভক্তরা সাধারণত সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন।

রাজধানীর প্রধান মন্দির ঢাকেশ্বরীতে সকাল ৯টা ১১ মিনিটের মধ্যে দশমীবিহিত পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন দেয়া হবে। দশমী হবে বেলা ১১টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাশ চট্টোপাধ্যায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মহিষাসুরের সঙ্গে নয় দিন নয় রাত যুদ্ধের পর দশম দিনে জয়ী হন দেবী দুর্গা। এ জন্যই বিজয়া দশমী। যুদ্ধ জয়ের আনন্দে সামিল হতে এই দিন হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাই মেতে ওঠে সিঁদুর খেলায়।’

এদিকে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পূজার আগে থেকে মণ্ডপগুলো ঘিরে আমাদের কঠোর নিরাপত্তা ছিল। বিসর্জনেও আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার থাকবে। যেখানে যে ধরনের নিরাপত্তা দরকার, সেই প্রস্তুতিই আমাদের রয়েছে।’

পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী মর্ত্যে এসেছেন ঘোড়ায় চেপে। পুরাণ অনুযায়ী, দুর্গা ঘোড়ার পিঠে চড়ে এলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যুদ্ধ, গৃহযুদ্ধ, ঝড়, রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে।

বিজয়া দশমীতে দেবী মর্ত্য ছাড়ছেন দোলায় চড়ে। দোলায় গমনেও বাড়বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্বিপাক।

পুরাণ অনুযায়ী, ব্রহ্মার বর পেয়ে মানুষ ও দেবতাদের অজেয় হয়ে উঠেছিলেন মহিষাসুর। ফলে তাকে পরাজিত করার জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর যে মহামায়ারূপী নারী শক্তি তৈরি করেন, তিনিই দেবী দুর্গা। দশভূজা দুর্গা টানা নয় দিন যুদ্ধ করে মহিষাসুরকে বধ করেন।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। গত বছর সারা দেশে দুর্গাপূজার মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার ২১৩টি।

ঢাকা মহানগরে এবার পূজা হয়েছে ২৩৭টি মণ্ডপে। এর মধ্যে সূত্রাপুর থানায় সবচেয়ে বেশি ২৫টি, কোতোয়ালি থানায় ২১টি, ওয়ারীতে ১৬টি, গেণ্ডারিয়ায় ১৪টি, হাজারীবাগে ১৩টি, তুরাগে ১২টি, বাড্ডায় ১০টি, বনানীতে নয়টি, মোহাম্মদপুরে নয়টি, দারুসসালাম ও গাবতলীতে আটটি করে, ডেমরায় আটটি এবং তেজগাঁও থানায় ছয়টি মণ্ডপ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
পুরান ঢাকায় শেষ মুহূর্তে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
কল্পনার রঙে সাজছেন দুর্গা
রঙের ছোঁয়া, সাজের অপেক্ষায় দুর্গা
পূজায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা
দুর্গাপূজার ভার্চুয়াল উদ্বোধন চান মমতা

শেয়ার করুন

নির্বিঘ্নে পূজা করুন, পাশে আছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

নির্বিঘ্নে পূজা করুন, পাশে আছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

বনানী পূর্জা মণ্ডপ থেকে ছবিটি তুলেছেন সাইফুল ইসলাম

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণকে অনুরোধ করব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো গুজবে কান দেবেন না। বিভ্রান্ত হবেন না। যারা গুজব ছড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও ছড়াবে তাদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। আমি হিন্দু সম্প্রদায়কে অনুরোধ করব, আপনারা নির্বিঘ্নে পূজোৎসব পালন করুন। সরকার ও জনগণ আপনার সঙ্গে আছে।’

সারা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজার উৎসব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বলেছেন, সরকার তাদের পাশে আছে।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লায় যে ঘটনা ঘটেছে তার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। এ ঘটনার পর সারা দেশেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

‘জনগণকে অনুরোধ করব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো গুজবে কান দেবেন না। বিভ্রান্ত হবেন না। যারা গুজব ছড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও ছড়াবে তাদের কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। আমি হিন্দু সম্প্রদায়কে অনুরোধ করব, আপনারা নির্বিঘ্নে পূজোৎসব পালন করুন। সরকার ও জনগণ আপনার সঙ্গে আছে।’

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘীর উত্তরপাড়ের একটি পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ তোলার পর বুধবার সকাল থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির বিপুল সংখ্যক সদস্য। তবে আলোচিত মণ্ডপের পূজার আয়োজকেরা বলছেন, সেখানে পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এল সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

বুধবার সকালে বিষয়টি পূজারিদের নজরে আসে। এর আগে গভীর রাত পর্যন্ত পূজা উদযাপন শেষে মণ্ডপটি জনশূন্য ছিল।

পূজার আয়োজক দর্পনসংঘের সভাপতি সুবোধ রায় জানান, কম বাজেটের মণ্ডপ বলে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়নি। এ ঘটনায় কারা জড়িত সেটি বের করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের আপাতত লক্ষ্য হচ্ছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। এখন সেটার জন্য যা যা প্রয়োজন তা-ই করা হচ্ছে। কে বা কারা কী উদ্দেশ্যে এ কাজ করেছে তা এখনই বলা যাচ্ছে না, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর তদন্ত শুরু হবে। তদন্তের জন্য আমরা তিন সদস্যের কমিটি করেছি।’

বিজিবির কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম ফজলে রাব্বি নিউজবাংলাকে জানান, শহরে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ছাড়া, জেলা প্রশাসনের চাহিদা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় এরই মধ্যে কুমিল্লা, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জসহ ২২ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করেছে সরকার। প্রয়োজনে সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
পুরান ঢাকায় শেষ মুহূর্তে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি
কল্পনার রঙে সাজছেন দুর্গা
রঙের ছোঁয়া, সাজের অপেক্ষায় দুর্গা
পূজায় থাকবে কঠোর নিরাপত্তা
দুর্গাপূজার ভার্চুয়াল উদ্বোধন চান মমতা

শেয়ার করুন