ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে বাবা-চাচাকে থানায়

ছাত্রদল নেতাকে না পেয়ে বাবা-চাচাকে থানায়

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারী সরকার তাদের বেসামাল অবস্থাকে সামাল দেয়ার জন্যই বিএনপির নেতাকর্মীকে দমন-নিপীড়নে লিপ্ত রয়েছে।’

ছাত্রদলের এক নেতাকে বাড়িতে না পেয়ে তার বাবা-চাচাকে আটকের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পাঠানো বিবৃতিতে এই অভিযোগ তুলে ঘটনার নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের মাগুরার বাড়িতে সোমবার রাতে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় তাকে না পেয়ে বাবা আক্কাস শেখ, চাচা আতর আলী শেখ ও এবাদত শেখকে আটক করা হয়।

বিএনপিকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কর্তৃত্ববাদী সরকার এখন জনবিস্ফোরণের ভয়ে ভীত। তাই নানাভাবে বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানি করেছে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভোট ছাড়াই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারী সরকার তাদের বেসামাল অবস্থাকে সামাল দেয়ার জন্যই বিএনপির নেতাকর্মীকে দমন-নিপীড়নে লিপ্ত রয়েছে।’

গণতন্ত্র, রাজনীতি ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে জনগণ এখন রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব।

মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি ওয়াশেকুর রহমান কল্লোল নিউজবাংলাকে বলেন, নয়নের ছোট ভাইয়ের নামে একটি মারামারির মামলা আছে। সেই মামলায় নয়নের বাবা-চাচাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার আদালতে তোলা হয়। পরে বিচারক তাদের জামিন দেন।

আরও পড়ুন:
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ভোট কাকে বলে দেখবেন: রিজভী
ফুল-কেক নিয়ে চীনের দূতাবাসে বিএনপি
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চায় বিএনপি
‘আনক্লিনড ব্যাম্বু’ নিয়ে রাস্তায় নামতে চান গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ই-কমার্স: এসক্রো পদ্ধতিতে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নেই!

ই-কমার্স: এসক্রো পদ্ধতিতে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা নেই!

ই-কমার্স ব্যবসায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতে লেনদেনে চালু করা হয়েছে এসক্রো পদ্ধতি। প্রতীকী ছবি

জুলাই মাসের পর লেনদেন করা ২১৪ কোটি টাকা গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে আটকা আছে, কিন্তু সেই টাকা ফেরত দেবার বিষয়ে কোনো উপায় বের করা হয়নি। ফলে অর্থ দাবি করে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে গ্রাহক, উপায় বের করতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক, মন্ত্রণালয়।

ই-কমার্স ব্যবসায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জুলাই মাস থেকে চালু হয়েছে এসক্রো পদ্ধতি। অর্থাৎ পণ্য নিতে হলে গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানে টাকা যাবে। গ্রাহক নিশ্চিত করলেই ছাড় হবে অর্থ, কিন্তু গ্রাহক যদি পণ্য না পেয়ে অর্থ ফেরত চায়, তার কোনো উপায় নেই।

ই-ভ্যালি, কিউকম, ই-অরেঞ্জসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্থ দিয়ে এখন বেকায়দায় পড়েছে হাজার হাজার গ্রাহক। জুলাই মাসের পর লেনদেন করা ২১৪ কোটি টাকা গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে আটকা আছে। কিন্তু সেই টাকা ফেরত দেবার বিষয়ে কোনো উপায় বের করা হয়নি। ফলে অর্থ দাবি করে দ্বারে দ্বারে ঘুরছে গ্রাহক, উপায় বের করতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক, মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শত শত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে, তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা পরিপালন করতে বাধ্য। কিন্তু অন্য অনুমোদনহীন যেসব পেমেন্ট গেটওয়ে রয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।’

গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নেই

ই-কমার্সে পেমেন্টের ক্ষেত্রে ক্রেতার অর্থের সুরক্ষা দিতে চালু হয়েছে গেটওয়ে পদ্ধতি। কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, গেটওয়েতে আটকে গেছে শত শত কোটি টাকা। অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাসহ অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে দু-একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ই-পেমেন্ট গেটওয়ে বা ই-ওয়ালেট সেবা দিতে এখন পর্যন্ত ৯টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটর বা ই-পেমেন্ট গেটওয়ে সেবার জন্য লাইসেন্স পেয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের। আর চারটি প্রতিষ্ঠানকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার বা ই-ওয়ালেট সেবার জন্য লাইসেন্স দেয়া হয়েছে।

পাঁচ পেমেন্ট সিস্টেমস অপারেটর (পিএসও) হলো: আইটি কনসালট্যান্টস, এসএসএল কমার্জ, সূর্যমুখী লিমিটেড, প্রগতি সিস্টেম ও পর্টোনিক্স লিমিটেড।

অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নথিপত্র জমা দিয়েছে আমার পে, ইজি পে ওয়ে, পে স্পেস, ওয়ালেট মিক্স ও ফস্টার পেমেন্ট গেটওয়ে।

এর বাইরে আরও সেবা দিচ্ছে বিডি স্মার্ট পে, বিটিটি পে, পোর্ট ওয়ালেট, টু চেক আউটসহ আরও কয়েকটি পিএসও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৬ সালে পেমেন্ট গেটওয়ে সংক্রান্ত নীতিমালা হলেও দেশে পেমেন্ট গেটওয়ে অপারেট করছে ২০১১ থেকে। কোনো কোনো পেমেন্ট গেটওয়ে তারও পুরনো।

তবে নীতিমালার পর ওইসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালু রাখবে না বন্ধ করে দেবে, সে বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করে। বাংলাদেশ ব্যাংক তখন ওইসব প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার নির্দেশনা দিলে প্রতিষ্ঠানগুলো পেমেন্ট গেটওয়ে হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করে। লাইসেন্সিংয়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করছে এসব প্রতিষ্ঠান।

ফস্টার পেমেন্টের হেড অফ পিআর মুনতাসির আহমেদ বলেন, ‘২০১৬ সালে লাইসেন্স অনুমোদেনের জন্য আবেদন করা হয়। এটা চলমান প্রক্রিয়া। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এনওসি (নো অবজেকশন লেটার) মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’

অর্থ ফেরত দেবার উপায় নেই

ই-কমার্স ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষায় ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১ জারি জারির পর জুলাই থেকে ভোক্তারা বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ৪৯০ কোটি টাকার পণ্য অর্ডার করেছেন। এর মধ্যে ভোক্তারা পণ্য বুঝে পেয়েছেন ২৮০ কোটি টাকার।

অবশিষ্ট ২১০ কোটি টাকা বিভিন্ন পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর ও মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গেটওয়েতে আটকে আছে।

গ্রাহকের একটি অর্থও তছরুপ হয়নি বলে দাবি করেছে ফস্টার পেমেন্ট। প্রতিষ্ঠানের হেড অফ পিআর মুনতাসির আহমেদ বলেন, ‘ফস্টার পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেন একটি টাকাও দেশের বাইরে যায়নি। সব টাকা বিভিন্ন ব্যাংকের চলতি হিসাবে রক্ষিত আছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যাংক ও মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে টাকা দেয়া হবে। এ বিষয়ে আমাদের চুক্তি করা আছে। চুক্তি অনুযায়ী টাকা গ্রাহক পেয়ে যাবে। ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে দেরি হচ্ছে।’

পিএসপি এবং এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা জানান, ১ জুলাই থেকে শুরু করে তারা ভোক্তাদের করা পেমেন্টগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রাস্ট-কাম-সেটেলমেন্ট অ্যাকাউন্টে (টিসিএসএ) রাখছে এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্যের ডেলিভারি নিশ্চিত করার তথ্যের অপেক্ষায় আছে।

ডেলিভারি নিশ্চিত না হওয়ায় ১ জুলাই থেকে ভোক্তাদের অগ্রিম পেমেন্ট টিসিএসএতে রাখা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ১০ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারির সময়সীমা পার হলেও পিএসপি বা এমএফএস সেবাদাতারা ভোক্তাদের কোনো ধরনের রিফান্ড দিতে পারে না।

এ ক্ষেত্রে টাকা ফিরিয়ে দেয়ার নির্দেশটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পিএসপি বা অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে অপারেটরদের কাছে যেতে হবে। এ ধরনের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পেমেন্ট সেবাদাতারা এই টাকা টিসিএসএতে আটকে রাখতে বাধ্য।

তবে ডেলিভারির ১০ দিনের নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে গ্রাহক যদি পণ্য না পায়, সে ক্ষেত্রে টাকা ফিরিয়ে দেয়ার কোনো নির্দেশনা তাদের দেয়া হয়নি।

পেমেন্ট গেটওয়ে অপারেটর বিকাশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পণ্য ডেলিভারি না হওয়া পর্যন্ত টাকা আমাদের গেটওয়েতে থাকবে। ভোক্তার সঙ্গে তাদের সরাসরি কোনো সংযোগ নেই। অন্য কোনো সিদ্ধান্ত হলে সেটা আমরা বাস্তবায়ন করব।’

এমএফএস অপারেটর নগদও জানিয়েছে, তারা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের নির্দেশ ছাড়া টাকা রিফান্ড করতে পারে না।

ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ-এর হেড অফ পাবলিক কমিউনিকেশন মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম সজল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো নির্দেশনা ছাড়া গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দিতে পারি না। ভোক্তার সঙ্গে আমাদের কোনো সরাসরি সংযোগ নেই। ভোক্তার টাকা ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়টি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল। পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা অর্থ ফিরে পেতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে একটি উপায় বের করার চেষ্টা করছে। তাদের নির্দেশমতো আমরা কাজ পরিচালনা করব।’

একাধিক ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলাইয়ের পরে কেউ ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পণ্য কিনলে যে ব্যাংকের কার্ড, সেখানে পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ জানাতে পারেন। তবে মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এখনও সরকার এ ধরনের প্রক্রিয়া চালু করেনি।

অর্থ ফেরত দিতে আদালতে রিট

পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফেরত দিতে ২১ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট দায়ের করা করেন ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটির (সিসিএস) পক্ষে ব্যারিস্টার সাবরিনা জেরিন।

রিটে ই-কমার্সে পণ্য অর্ডার করে পাননি এমন গ্রাহকদের অর্থ কেন ফেরত দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে প্রতিকার চাওয়া হয়।

একই সঙ্গে ই-কমার্স পেমেন্টের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত নিয়ম (এসক্রো সিস্টেম) সংশোধন করে গ্রাহকের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাওয়ার স্থায়ী পদ্ধতি কেন চালু করা হবে না, তা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

আগামী সপ্তাহের শুরুতে পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই বাংলাদেশ ব্যাংকে থেকে অনুমোদ নেয়নি। তাদের কর্মকাণ্ড কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে? তিনি বলেন, এ জন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে। লেনদেন করার আগে ভালোভাবে জেনে শুনে নিতে হবে। ছাড় দিলেই লুফে নিলে হবে না।

আরও পড়ুন:
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ভোট কাকে বলে দেখবেন: রিজভী
ফুল-কেক নিয়ে চীনের দূতাবাসে বিএনপি
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চায় বিএনপি
‘আনক্লিনড ব্যাম্বু’ নিয়ে রাস্তায় নামতে চান গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

‘অপশক্তিকে আর ছোবল মারার সুযোগ দেয়া হবে না’

‘অপশক্তিকে আর ছোবল মারার সুযোগ দেয়া হবে না’

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান কুমিল্লা নানুয়ার দিঘির পাড় এলাকা পরিদর্শন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন তিনি বলেন, ‘শান্তি শৃঙ্খলার সঙ্গে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখনই সুযোগ পেয়ে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি আবার দেশকে ছোবল মেরেছে। এটাই শেষ। তাদেরকে আর ছাড় দেয়া হবে না।’

দেশকে ছোবল মারা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড় এলাকা পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার সকালে একথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

এই এলাকার অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর কুমিল্লা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শান্তি শৃঙ্খলার সঙ্গে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখনই সুযোগ পেয়ে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি আবার দেশকে ছোবল মেরেছে। এটাই শেষ। তাদেরকে আর ছাড় দেয়া হবে না।’

এই এলাকা পরিদর্শনের পর প্রতিমন্ত্রী নগরীর চকবাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা ও সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহাউদ্দীন বাহার, কুমিল্লা-৭ আসনের সাংসদ ডা: প্রাণ গোপাল দত্ত, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদসহ জেলা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ভোট কাকে বলে দেখবেন: রিজভী
ফুল-কেক নিয়ে চীনের দূতাবাসে বিএনপি
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চায় বিএনপি
‘আনক্লিনড ব্যাম্বু’ নিয়ে রাস্তায় নামতে চান গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

স্কুলছাত্রীকে হত্যার পর আটক কিশোরের মৃত্যু

স্কুলছাত্রীকে হত্যার পর আটক কিশোরের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর একটি নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ি থেকে সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, স্কুলছাত্রীর মরদেহের পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় মনিরের পড়ে থাকাটা তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। আহত মনিরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে র‍্যাব হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। সুস্থ হলে তাকে আদালতে তোলা হতো।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা করা কিশোর মনির মারা গেছে।

র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মনিরকে আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই সকালে সে মারা যায়।

তিনি আরও জানান, এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে মনির ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টার কথা জানায়।

হত্যার শিকার কিশোরীর নাম সুমাইয়া আক্তার। তার বাড়ি উপজেলার পালিমা এলাকায়। সে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত।

মনির মিয়ার বাড়ি উপজেলার ভাবলা গ্রামে। তবে সে মশাজান গ্রামে থেকে কালিহাতীতে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করত।

কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুলছাত্রী সুমাইয়ার মরদেহের পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় মনিরের পড়ে থাকাটা তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। আহত মনিরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে র‌্যাব হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। সুস্থ হলে তাকে আদালতে তোলা হতো।

‘সুমাইয়ার সঙ্গে মনিরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই মাস আগে সুমাইয়া অন্য আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি মনির সহ্য করতে না পেরে সুমাইয়াকে মারধর করে।

‘বুধবার কোচিংয়ে যাওয়ার সময় একপর্যায়ে মনির সুমাইয়াকে একটি ভবনের নিচ তলার নিয়ে ছুরি দিয়ে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে যে ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে সেটি মনিরের দুইটি টিকটক ভিডিওতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার মনির তার বন্ধুদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসে অস্ত্রের কথাও বলেছে। পরে মনির ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করে নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করে।’

উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার শামসুল হক কলেজের সামনের একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সুমাইয়ার গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেখানেই রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মনিরকে।

তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রাজিব পাল চৌধুরী জানিয়েছিলেন, মনিরের গলায়, ঘাড়ে ও শরীরের বিভিন্নস্থানে গভীর ক্ষত ছিল।

আরও পড়ুন:
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ভোট কাকে বলে দেখবেন: রিজভী
ফুল-কেক নিয়ে চীনের দূতাবাসে বিএনপি
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চায় বিএনপি
‘আনক্লিনড ব্যাম্বু’ নিয়ে রাস্তায় নামতে চান গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতের ছেলে ইমরান বলেন, ‘আমার অসুস্থ কাকার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। তার চিকিৎসার আড়াই লাখ টাকা বাবার সঙ্গে ছিল। ওই টাকাও সন্ত্রাসীরা লুটে নেয়।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছায়েদ ভূঞা রিপনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। লুট করা হয়েছে তার সঙ্গে থাকা আড়াই লাখ টাকা।

উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের বাদি গাছতলা এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি।

নিহত আবু ছায়েদ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ওসি জানান, বুধবার রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ছায়েদকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে আরেকটি বাড়ির সামনে ফেলে যায়।

নিহতের ছেলে ইমরান হোসেন জানান, লাল সবুজ বাস পরিবহনের বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা বাস কাউন্টারের ম্যানেজার ছিলেন তার বাবা। বুধবার রাতে কাউন্টার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন ছায়েদ। তার সঙ্গে আড়াই লাখ টাকা ছিল।

ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। মরদেহ বারিয়া হাট বাজার সংলগ্ন মোসলে উদ্দিন মাওলানার বাড়ির দরজায় ফেলে রাখা হয়।

ইমরান বলেন, ‘আমার অসুস্থ কাকার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। তার চিকিৎসার আড়াই লাখ টাকা বাবার সঙ্গে ছিল। ওই টাকাও সন্ত্রাসীরা লুটে নেয়।’

ওসি মীর জাহেদুল জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ভোট কাকে বলে দেখবেন: রিজভী
ফুল-কেক নিয়ে চীনের দূতাবাসে বিএনপি
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চায় বিএনপি
‘আনক্লিনড ব্যাম্বু’ নিয়ে রাস্তায় নামতে চান গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’

ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’

পাটুরিয়ায় হেলে পড়া ফেরির নিচ থেকে দ্বিতীয় দিনের অভিযানে উদ্ধার করা হয় এই কাভার্ডভ্যান। ছবি: নিউজবাংলা

বিআইডব্লিউটিসির এজিএম (মেরিন) আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘উল্টে যাওয়া ফেরি শাহ আমানতের ফিটনেস ছিল না। ফিটনেসবিহীনভাবেই এটি নৌরুটে চলাচল করত। ফিটনেসের জন্য দীর্ঘদিন আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আবেদন করা হয়েছিল।’

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে কাত হয়ে আংশিক ডুবে যাওয়া ফেরিটি ফিটনেস ছাড়াই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে চলাচল করছিল বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) একজন কর্মকর্তা।

বিআইডব্লিউটিসির এজিএম (মেরিন) আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘উল্টে যাওয়া ফেরি শাহ আমানতের ফিটনেস ছিল না। ফিটনেসবিহীনভাবেই এটি নৌরুটে চলাচল করত। ফিটনেসের জন্য দীর্ঘদিন আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আবেদন করা হয়েছিল।’

তবে ফেরিটি চার মাস আগে মেরামত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘শাহ আমানত ১৯৭৯ সালে তৎকালীন আরিচা ফেরি সেক্টরে যোগ হয়। এরপর নাব্য সংকটের কারণে ২০০২ সালের পাটুরিয়া ফেরিঘাট স্থানান্তর করা হয় এবং ফেরির তলায় সমস্যা থাকায় গত চার মাস আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেরিটি মেরামত করা হয়।’

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফেরির ব্যালাস্ট ট্যাংক ফুটো হয়ে যাওয়ায় এটি কাত হয়ে পড়েছে।

ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক দিনোমনি শর্মা বলেন, ‘ব্যালেন্সের ওই ট্যাংক ফুটো হয়ে ভেতরে অতিরিক্ত পানি ঢোকার কারণে ফেরিটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। যার ফলে ফেরি থেকে কিছু গাড়ি নেমে যাওয়ার পরে এক পাশে কাত হয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

ফেরিতে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের চালক কামাল মিয়া বলেন, ‘বেনাপোল থেকে তুলা নিয়া গাজীপুর যাচ্ছিলাম, কিন্তু মাঝ নদীতে ফেরিতে পানি দেখি। মনে হচ্ছিল ফেরি ধুইছে তার পানি। পাটুরিয়া আসার পর যখন কয়েকটা গাড়ি আনলোড হইল, তখন ফেরিটি ডান দিকে কাইত হইয়া যেতে লাগল। এর পরই ওল্টাইয়া গেল। কোনো মতে লাফাইয়া জানে বাঁচছি। আরেকটু হইলে গেছিলাম। ফেরিতে সমস্যার কারণেই তো পানি উঠেছে। সমস্যা না হলে তো পানি উঠত না।’

বেঁচে যাওয়া আরেকটি কাভার্ড ভ্যানের চালক সেলিম মিয়া বলেন, ‘ফেরিতে পানি দেখেই ঘাটে আসা মাত্রই হেলপার ও মালিকের একজন দৌড়ে ফেরি থেকে নামেন। আমার আগে গাড়ি থাকায় নামাতে পারি নাই। তাড়াতাড়ি করে নামার সময় গাড়িটা পন্টুনে আটকায় যায়। পরে গাড়ি রাইখা জীবন বাঁচাইতে নদীতে লাফ দেই। আর আমার গাড়ি ভাসতে ভাসতে ভাটিতে চলে যায়।’

পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে বুধবার সকালে আমানত শাহ ফেরিটি হেলে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা দিনোমনি শর্মা জানান, হেলে পড়ার সময় ফেরিতে ১৪টি কাভার্ড ভ্যান, তিনটি ট্রাক ও সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেল ছিল।

ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’

ফেরি ও এতে থাকা যানবাহন উদ্ধারে ঘটনাস্থলে বুধবার কাজ করছিল হামজা নামে উদ্ধারকারী জাহাজ। এর কমান্ডার ছানোয়ার হোসেন জানান, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেল পানি থেকে তোলা গেছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য মুন্সিগঞ্জ থেকে প্রত্যয় নামের আরেকটি জাহাজ যোগ দেয়ার কথা।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা দিনোমনি জানান, রাতে উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আবারও শুরু হয় অভিযান। দুপুর ১২ টায় একটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করে হামজা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাড়ির মালিক কামাল হোসেন।

এদিকে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় এগোতে পারছে না বলে বৃহস্পতিবার সকালে নিউজবাংলাকে জানান এর কমান্ডার মাসুদ উল হক।

তিনি জানান, দুটি টাগবোটের বোর্ডের সাহায্যে মেঘনা নদী পাড়ি দিতে পারলেও পদ্মা-মেঘনার মোহনায় বুধবার রাত থেকে নোঙর করে রাখা হয়েছে প্রত্যয়কে।

মাসুদ বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় মেঘনা পাড়ি দিয়ে পদ্মা নদীতে প্রত্যয় নিয়ে এগোতে থাকি। অল্প কিছুদূর এগোলে পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নোঙর করতে বাধ্য হই। রাতে কয়েকবার চেষ্টা করলে এগোনোর থেকে পিছিয়ে পড়ি।

‘প্রত্যয়কে তিনটি টাগবোট এবং জোয়ারের পানি আসলে চেষ্টা করা হবে এগোনো যায় কি না। তবে কতটা সফলতা আসবে তখন বোঝা যাবে। যদি এগোনো যায় তাহলে বিকেল নাগাদ পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে কখন নাগাদ পৌঁছাব- এটা সঠিকভাবে বলা খুবই কষ্টকর।’

ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’
পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় এগুতে পারছে না

ফেরি দুর্ঘটনার তদন্তে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাত সদস্যের কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে নৌপরিবহন সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বুধবার এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ জানান, তাদের গঠন করা চার সদস্যের কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পাটুরিয়া ঘাটে থাকা শিমু আক্তার নামের এক নারী বুধবার নিউজবাংলাকে জানান, তার স্বামী মো. তুহিন ওই ফেরিতে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা দিনোমনি শর্মা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনও হতাহত কাউকে পাইনি। কেউ যদি ওই ফেরিতে থাকা কোনো স্বজন নিখোঁজ থাকার অভিযোগ করে, তাহলে আমরা বিষয়টি মাথায় রাখব।’

আরও পড়ুন:
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ভোট কাকে বলে দেখবেন: রিজভী
ফুল-কেক নিয়ে চীনের দূতাবাসে বিএনপি
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চায় বিএনপি
‘আনক্লিনড ব্যাম্বু’ নিয়ে রাস্তায় নামতে চান গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবিধানে যুক্ত করতে রিট

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবিধানে যুক্ত করতে রিট

ছবি: সংগৃহীত

রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ স্বাধীনের পরে যে সংবিধান হয়েছে, তার কোথাও না কোথাও তো এটি উল্লেখ থাকবে। অথচ সংবিধানের কোথাও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।’

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানে যুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে।

ছয় জন বীর মুক্তিযোদ্ধার করা গত মঙ্গলবারের রিটটি শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘রিটে সংবিধানের সঙ্গতিপূর্ণ স্থানে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি যুক্ত করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।’

রিটে বিবাদী করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে।

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ স্বাধীনের পরে যে সংবিধান হয়েছে, তার কোথাও না কোথাও তো এটি উল্লেখ থাকবে। অথচ সংবিধানের কোথাও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।’

তার মতে, বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্টভাবে সংবিধানে উল্লেখ না থাকায় ইতিহাস বিকৃতির সম্ভাবনা থাকে।

তিনি বলেন, ‘যাদের জীবনের ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে সংবিধানে তাদের স্বীকৃতি কেন থাকবে না। দেশটি যে একটি যুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে সেটি সংবিধানে উল্লেখ থাকুক। সে কারণে আমরা রিটটি দায়ের করেছি।’

আরও পড়ুন:
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ভোট কাকে বলে দেখবেন: রিজভী
ফুল-কেক নিয়ে চীনের দূতাবাসে বিএনপি
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চায় বিএনপি
‘আনক্লিনড ব্যাম্বু’ নিয়ে রাস্তায় নামতে চান গয়েশ্বর

শেয়ার করুন

নরসিংদীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ২

নরসিংদীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ২

নরসিংদীর রায়পুরায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আজিজুর রহমান জানান, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে শাহ আলম মেম্বার ও একই গ্রামের ছোট শাহ আলমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। সামনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দুই গ্রুপের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে সংঘর্ষ হলে ছোট শাহ আলম গ্রুপের দুজন নিহত হন।

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন।

উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার কাচারিকান্দি গ্রামের সাদির মিয়া ও একই গ্রামের মো. হিরণ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে শাহ আলম মেম্বার ও একই গ্রামের ছোট শাহ আলমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলেছিল। সেই জেরে ৬ মাস আগে এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ওই সংঘর্ষে ছোট শাহ আলম গ্রুপের ইয়াসিন ও শাহিন নামে দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় বড় শাহ আলম গ্রুপের সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।

ওসি আরও জানান, ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য শাহ আলম মেম্বারের লোকজন আবার গ্রামে ঢোকার চেষ্টা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে মেম্বার গ্রুপের সদস্যরা টেঁটা, বল্লম ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রামে ঢুকে ছোট শাহ আলমের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় ছোট আলমের সমর্থকরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এবারও ছোট শাহ আলম গ্রুপের সাদির ও হিরণ নামের দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

গুলি ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহতদের উদ্ধার করে রায়পুরাসহ নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই ছোট শাহ আলমের সমর্থক। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জজ মিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
ফখরুলের জন্য কষ্ট হয়: হানিফ
নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ভোট কাকে বলে দেখবেন: রিজভী
ফুল-কেক নিয়ে চীনের দূতাবাসে বিএনপি
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল চায় বিএনপি
‘আনক্লিনড ব্যাম্বু’ নিয়ে রাস্তায় নামতে চান গয়েশ্বর

শেয়ার করুন