কুষ্টিয়া মেডিক্যালে অনিয়ম: ব্যবস্থা চান প্রধানমন্ত্রী

কুষ্টিয়া মেডিক্যালে অনিয়ম: ব্যবস্থা চান প্রধানমন্ত্রী

নির্মাণাধীন কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্পটিতে যারা অনিয়মে জড়িত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি অবসরে গেলেও পার পাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রকল্পে অনিয়মে জড়িতদের কেউ অবসরে গেলে তাকেও ছাড় না দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘সভায় কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় আরও ৭১ কোটি টাকা বেড়েছে। এই প্রকল্প অনুমোদন দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন।

‘সে সঙ্গে প্রকল্পটিতে যারা অনিয়মে জড়িত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি অবসরে গেলেও পার পাবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এ প্রকল্পে কারা জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে। তা করতে গিয়ে প্রকল্পের যেন আরও দেরি না হয়।’

আলোচিত কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজের প্রকল্পটি ২০১২ সালের মার্চে একনেকে অনুমোদন পায়। তখন এর ব্যয় ছিল ২৭৫ কোটি টাকা। তিন বছরের মধ্যে এর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা হয়নি, বরং ব্যয় বেড়ে এখন ৬৮২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব একনেকে তোলা হলে তা ফেরত পাঠান প্রধানমন্ত্রী। তখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এ বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আইএমইডি শিডিউল পরিবর্তন, আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অতিরিক্ত ব্যয়, অনুমোদন ছাড়া নকশার পরিবর্তনসহ নানা অনিয়ম খুঁজে পায়। আইএমইডি অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য নাসিমা বেগম বলেন, ‘প্রকল্পটিতে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে সুপারিশসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। এরই মধ্যে জড়িতদের কেউ অবসরে গেছেন। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাদেরও ছাড় দেয়া যাবে না।

‘যদি কেউ অবসরে চলে যান তখন আর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা যায় না।’

কেউ যদি সরকারের স্বার্থহানির কোনো কাজ করে, তার বিরুদ্ধে পিডিআরএ (পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাকট)-এর আওতায় ব্যবস্থা নেয়া যায় বলে জানান কমিশনের সদস্য।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘অপশক্তিকে আর ছোবল মারার সুযোগ দেয়া হবে না’

‘অপশক্তিকে আর ছোবল মারার সুযোগ দেয়া হবে না’

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান কুমিল্লা নানুয়ারদীঘির পাড় এলাকা পরিদর্শন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন তিনি বলেন, ‘শান্তি শৃঙ্খলার সঙ্গে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখনই সুযোগ পেয়ে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি আবার দেশকে ছোবল মেরেছে। এটাই শেষ। তাদেরকে আর ছাড় দেয়া হবে না।’

দেশকে ছোবল মারা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড় এলাকা পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার সকালে একথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

এই এলাকার অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর কুমিল্লা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শান্তি শৃঙ্খলার সঙ্গে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে তখনই সুযোগ পেয়ে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি আবার দেশকে ছোবল মেরেছে। এটাই শেষ। তাদেরকে আর ছাড় দেয়া হবে না।’

এই এলাকা পরিদর্শনের পর প্রতিমন্ত্রী নগরীর চকবাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা ও সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহাউদ্দীন বাহার, কুমিল্লা-৭ আসনের সাংসদ ডা: প্রাণ গোপাল দত্ত, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদসহ জেলা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন

স্কুলছাত্রীকে হত্যার পর আটক কিশোরের মৃত্যু

স্কুলছাত্রীকে হত্যার পর আটক কিশোরের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের কালিহাতীর একটি নির্মাণাধীন ভবনের সিঁড়ি থেকে সুমাইয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, স্কুলছাত্রীর মরদেহের পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় মনিরের পড়ে থাকাটা তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। আহত মনিরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে র‍্যাব হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। সুস্থ হলে তাকে আদালতে তোলা হতো।

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার পর ‘আত্মহত্যার’ চেষ্টা করা কিশোর মনির মারা গেছে।

র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মনিরকে আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই সকালে সে মারা যায়।

তিনি আরও জানান, এর আগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে মনির ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টার কথা জানায়।

হত্যার শিকার কিশোরীর নাম সুমাইয়া আক্তার। তার বাড়ি উপজেলার পালিমা এলাকায়। সে এলেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ত।

মনির মিয়ার বাড়ি উপজেলার ভাবলা গ্রামে। তবে সে মশাজান গ্রামে থেকে কালিহাতীতে পরিবহন শ্রমিক হিসেবে কাজ করত।

কমান্ডার আব্দুল্লাহ আল মামুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুলছাত্রী সুমাইয়ার মরদেহের পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় মনিরের পড়ে থাকাটা তদন্তের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। আহত মনিরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে র‌্যাব হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। সুস্থ হলে তাকে আদালতে তোলা হতো।

‘সুমাইয়ার সঙ্গে মনিরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুই মাস আগে সুমাইয়া অন্য আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি মনির সহ্য করতে না পেরে সুমাইয়াকে মারধর করে।

‘বুধবার কোচিংয়ে যাওয়ার সময় একপর্যায়ে মনির সুমাইয়াকে একটি ভবনের নিচ তলার নিয়ে ছুরি দিয়ে হত্যার পর নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে যে ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে সেটি মনিরের দুইটি টিকটক ভিডিওতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার মনির তার বন্ধুদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসে অস্ত্রের কথাও বলেছে। পরে মনির ওই স্কুলছাত্রীকে হত্যা করে নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করে।’

উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার শামসুল হক কলেজের সামনের একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে বুধবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে সুমাইয়ার গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেখানেই রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মনিরকে।

তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক রাজিব পাল চৌধুরী জানিয়েছিলেন, মনিরের গলায়, ঘাড়ে ও শরীরের বিভিন্নস্থানে গভীর ক্ষত ছিল।

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

নিহতের ছেলে ইমরান বলেন, ‘আমার অসুস্থ কাকার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। তার চিকিৎসার আড়াই লাখ টাকা বাবার সঙ্গে ছিল। ওই টাকাও সন্ত্রাসীরা লুটে নেয়।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতা আবু ছায়েদ ভূঞা রিপনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। লুট করা হয়েছে তার সঙ্গে থাকা আড়াই লাখ টাকা।

উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের বাদি গাছতলা এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি।

নিহত আবু ছায়েদ উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

ওসি জানান, বুধবার রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ছায়েদকে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে আরেকটি বাড়ির সামনে ফেলে যায়।

নিহতের ছেলে ইমরান হোসেন জানান, লাল সবুজ বাস পরিবহনের বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা বাস কাউন্টারের ম্যানেজার ছিলেন তার বাবা। বুধবার রাতে কাউন্টার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন ছায়েদ। তার সঙ্গে আড়াই লাখ টাকা ছিল।

ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। মরদেহ বারিয়া হাট বাজার সংলগ্ন মোসলে উদ্দিন মাওলানার বাড়ির দরজায় ফেলে রাখা হয়।

ইমরান বলেন, ‘আমার অসুস্থ কাকার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। তার চিকিৎসার আড়াই লাখ টাকা বাবার সঙ্গে ছিল। ওই টাকাও সন্ত্রাসীরা লুটে নেয়।’

ওসি মীর জাহেদুল জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’

ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’

পাটুরিয়ায় হেলে পড়া ফেরির নিচ থেকে দ্বিতীয় দিনের অভিযানে উদ্ধার করা হয় এই কাভার্ডভ্যান। ছবি: নিউজবাংলা

বিআইডব্লিউটিসির এজিএম (মেরিন) আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘উল্টে যাওয়া ফেরি শাহ আমানতের ফিটনেস ছিল না। ফিটনেসবিহীনভাবেই এটি নৌরুটে চলাচল করত। ফিটনেসের জন্য দীর্ঘদিন আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আবেদন করা হয়েছিল।’

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে কাত হয়ে আংশিক ডুবে যাওয়া ফেরিটি ফিটনেস ছাড়াই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে চলাচল করছিল বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) একজন কর্মকর্তা।

বিআইডব্লিউটিসির এজিএম (মেরিন) আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘উল্টে যাওয়া ফেরি শাহ আমানতের ফিটনেস ছিল না। ফিটনেসবিহীনভাবেই এটি নৌরুটে চলাচল করত। ফিটনেসের জন্য দীর্ঘদিন আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আবেদন করা হয়েছিল।’

তবে ফেরিটি চার মাস আগে মেরামত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘শাহ আমানত ১৯৭৯ সালে তৎকালীন আরিচা ফেরি সেক্টরে যোগ হয়। এরপর নাব্য সংকটের কারণে ২০০২ সালের পাটুরিয়া ফেরিঘাট স্থানান্তর করা হয় এবং ফেরির তলায় সমস্যা থাকায় গত চার মাস আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে ফেরিটি মেরামত করা হয়।’

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ফেরির ব্যালাস্ট ট্যাংক ফুটো হয়ে যাওয়ায় এটি কাত হয়ে পড়েছে।

ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক দিনোমনি শর্মা বলেন, ‘ব্যালেন্সের ওই ট্যাংক ফুটো হয়ে ভেতরে অতিরিক্ত পানি ঢোকার কারণে ফেরিটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। যার ফলে ফেরি থেকে কিছু গাড়ি নেমে যাওয়ার পরে এক পাশে কাত হয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

ফেরিতে থাকা একটি কাভার্ড ভ্যানের চালক কামাল মিয়া বলেন, ‘বেনাপোল থেকে তুলা নিয়া গাজীপুর যাচ্ছিলাম, কিন্তু মাঝ নদীতে ফেরিতে পানি দেখি। মনে হচ্ছিল ফেরি ধুইছে তার পানি। পাটুরিয়া আসার পর যখন কয়েকটা গাড়ি আনলোড হইল, তখন ফেরিটি ডান দিকে কাইত হইয়া যেতে লাগল। এর পরই ওল্টাইয়া গেল। কোনো মতে লাফাইয়া জানে বাঁচছি। আরেকটু হইলে গেছিলাম। ফেরিতে সমস্যার কারণেই তো পানি উঠেছে। সমস্যা না হলে তো পানি উঠত না।’

বেঁচে যাওয়া আরেকটি কাভার্ড ভ্যানের চালক সেলিম মিয়া বলেন, ‘ফেরিতে পানি দেখেই ঘাটে আসা মাত্রই হেলপার ও মালিকের একজন দৌড়ে ফেরি থেকে নামেন। আমার আগে গাড়ি থাকায় নামাতে পারি নাই। তাড়াতাড়ি করে নামার সময় গাড়িটা পন্টুনে আটকায় যায়। পরে গাড়ি রাইখা জীবন বাঁচাইতে নদীতে লাফ দেই। আর আমার গাড়ি ভাসতে ভাসতে ভাটিতে চলে যায়।’

পাটুরিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাটে বুধবার সকালে আমানত শাহ ফেরিটি হেলে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা দিনোমনি শর্মা জানান, হেলে পড়ার সময় ফেরিতে ১৪টি কাভার্ড ভ্যান, তিনটি ট্রাক ও সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেল ছিল।

ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’

ফেরি ও এতে থাকা যানবাহন উদ্ধারে ঘটনাস্থলে বুধবার কাজ করছিল হামজা নামে উদ্ধারকারী জাহাজ। এর কমান্ডার ছানোয়ার হোসেন জানান, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও একটি মোটরসাইকেল পানি থেকে তোলা গেছে।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য মুন্সিগঞ্জ থেকে প্রত্যয় নামের আরেকটি জাহাজ যোগ দেয়ার কথা।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা দিনোমনি জানান, রাতে উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আবারও শুরু হয় অভিযান। দুপুর ১২ টায় একটি কাভার্ডভ্যান উদ্ধার করে হামজা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাড়ির মালিক কামাল হোসেন।

এদিকে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় এগোতে পারছে না বলে বৃহস্পতিবার সকালে নিউজবাংলাকে জানান এর কমান্ডার মাসুদ উল হক।

তিনি জানান, দুটি টাগবোটের বোর্ডের সাহায্যে মেঘনা নদী পাড়ি দিতে পারলেও পদ্মা-মেঘনার মোহনায় বুধবার রাত থেকে নোঙর করে রাখা হয়েছে প্রত্যয়কে।

মাসুদ বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় মেঘনা পাড়ি দিয়ে পদ্মা নদীতে প্রত্যয় নিয়ে এগোতে থাকি। অল্প কিছুদূর এগোলে পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে নোঙর করতে বাধ্য হই। রাতে কয়েকবার চেষ্টা করলে এগোনোর থেকে পিছিয়ে পড়ি।

‘প্রত্যয়কে তিনটি টাগবোট এবং জোয়ারের পানি আসলে চেষ্টা করা হবে এগোনো যায় কি না। তবে কতটা সফলতা আসবে তখন বোঝা যাবে। যদি এগোনো যায় তাহলে বিকেল নাগাদ পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে কখন নাগাদ পৌঁছাব- এটা সঠিকভাবে বলা খুবই কষ্টকর।’

ফেরিটির ‘ফিটনেস ছিল না’
পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় এগুতে পারছে না

ফেরি দুর্ঘটনার তদন্তে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সাত সদস্যের কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে নৌপরিবহন সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে বুধবার এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ জানান, তাদের গঠন করা চার সদস্যের কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে পাটুরিয়া ঘাটে থাকা শিমু আক্তার নামের এক নারী বুধবার নিউজবাংলাকে জানান, তার স্বামী মো. তুহিন ওই ফেরিতে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা দিনোমনি শর্মা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনও হতাহত কাউকে পাইনি। কেউ যদি ওই ফেরিতে থাকা কোনো স্বজন নিখোঁজ থাকার অভিযোগ করে, তাহলে আমরা বিষয়টি মাথায় রাখব।’

শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবিধানে যুক্ত করতে রিট

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবিধানে যুক্ত করতে রিট

ছবি: সংগৃহীত

রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ স্বাধীনের পরে যে সংবিধান হয়েছে, তার কোথাও না কোথাও তো এটি উল্লেখ থাকবে। অথচ সংবিধানের কোথাও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।’

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানে যুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে।

ছয় জন বীর মুক্তিযোদ্ধার করা গত মঙ্গলবারের রিটটি শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘রিটে সংবিধানের সঙ্গতিপূর্ণ স্থানে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি যুক্ত করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।’

রিটে বিবাদী করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে।

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ স্বাধীনের পরে যে সংবিধান হয়েছে, তার কোথাও না কোথাও তো এটি উল্লেখ থাকবে। অথচ সংবিধানের কোথাও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।’

তার মতে, বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্টভাবে সংবিধানে উল্লেখ না থাকায় ইতিহাস বিকৃতির সম্ভাবনা থাকে।

তিনি বলেন, ‘যাদের জীবনের ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে সংবিধানে তাদের স্বীকৃতি কেন থাকবে না। দেশটি যে একটি যুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে সেটি সংবিধানে উল্লেখ থাকুক। সে কারণে আমরা রিটটি দায়ের করেছি।’

শেয়ার করুন

নরসিংদীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ২

নরসিংদীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ২

নরসিংদীর রায়পুরায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আজিজুর রহমান জানান, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে শাহ আলম মেম্বার ও একই গ্রামের ছোট শাহ আলমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। সামনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দুই গ্রুপের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে সংঘর্ষ হলে ছোট শাহ আলম গ্রুপের দুজন নিহত হন।

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন।

উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার কাচারিকান্দি গ্রামের সাদির মিয়া ও একই গ্রামের মো. হিরণ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে শাহ আলম মেম্বার ও একই গ্রামের ছোট শাহ আলমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলেছিল। সেই জেরে ৬ মাস আগে এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ওই সংঘর্ষে ছোট শাহ আলম গ্রুপের ইয়াসিন ও শাহিন নামে দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় বড় শাহ আলম গ্রুপের সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।

ওসি আরও জানান, ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য শাহ আলম মেম্বারের লোকজন আবার গ্রামে ঢোকার চেষ্টা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে মেম্বার গ্রুপের সদস্যরা টেঁটা, বল্লম ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রামে ঢুকে ছোট শাহ আলমের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় ছোট আলমের সমর্থকরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এবারও ছোট শাহ আলম গ্রুপের সাদির ও হিরণ নামের দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

গুলি ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহতদের উদ্ধার করে রায়পুরাসহ নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই ছোট শাহ আলমের সমর্থক। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জজ মিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন

জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন চান রেজা কিবরিয়া 

জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন চান রেজা কিবরিয়া 

নতুন রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

নতুন আত্মপ্রকাশকারী রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া টেলিফোনে নিউজবাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের দাবির দুই পার্ট আছে, একটা হলো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার হোক এবং তার অধীনে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। না হলে আমরা চাই, অল্টারনেটিভ হলো, জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে একটা নির্বাচন হোক।’

দেশে এখন গৃহযুদ্ধকালীন অবস্থা চলছে বলে মনে করেন নতুন আত্মপ্রকাশকারী রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া। আগামী দিনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সব দলকে নিয়ে আন্দোলনে যাবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে তারা চান জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন। বুধবার টেলিফোনে নিউজবাংলাকে দেয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সব দলের সঙ্গে আন্দোলনে যেতে প্রস্তুত জানিয়ে রেজা কিবরিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দাবির দুই পার্ট আছে, একটা হলো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার হোক এবং তার অধীনে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।

‘না হলে আমরা চাই, অল্টারনেটিভ হলো, জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে একটা নির্বাচন হোক। বিভিন্ন দেশে, যেখানে নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, বিভিন্ন কারণে সে সব দেশে তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করে, যেটা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য। জাতিসংঘ যেন এখানেও একই ব্যবস্থা নেয়। এই দুইটার মধ্যে যে কোনোটা হলেই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

জাতিসংঘ পরিচালিত নির্বাচনব্যবস্থা বলতে কী বোঝাতে চাচ্ছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। দুঃখজনক আমাদের সেনাবাহিনী অন্য দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গেছে, কিন্তু আমাদের দেশে সেটা করার মানসিকতা কিংবা সাহস তাদের ছিল না। আপনি জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশে খোঁজ করেন, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নে নির্বাচন হয়। যেখানে নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, সেখানে।’

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নে সে সব দেশেই নির্বাচন হয়, যেখানে গৃহযুদ্ধ হয়। তাহলে কি আপনি মনে করছেন বাংলাদেশে সেই অবস্থা চলছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সেটাই হয়েছে। কিংবা আরও খারাপ হতে যাবে। কারণ যে দেশে একটা দল গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করেছে, মিথ্যা নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হয়েছে, সংসদে বসে আছে, সেখানে আমরা মনে করি এ ধরনের হস্তক্ষেপ করা দরকার। সাধারণত হয় না। খুবই দুঃখজনক যে আওয়ামী লীগ সরকারের কাজের জন্য এমন অবস্থা হয়েছে। জনগণের কাছে সরকারের সাজানো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না কখনও।’

রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা কাদের সঙ্গে জোটে যাব, সেটা বড় ব্যাপার না। আমাদের সঙ্গে নিশ্চয়ই অন্য সব দল আসবে। কারণ দাবি তো এক।’

বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা সব দলের সঙ্গে থাকব। কে ডেকেছে, কে ডাকেনি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমার মনে হয়, আমাদের সঙ্গে সব দল একসঙ্গে কাজ করবে। এটা হবে। আমরা বিএনপির ডাকে আসছি, কি অন্য কারও ডাকে আসছি- এটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমরা সবাই একত্রিতভাবে এই অত্যাচারী এবং স্বৈরাচারী সরকারের কাজগুলো রোধ করব। এবং আমরা বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করব।’

প্রয়োজনে জামায়াতের সঙ্গে যাবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনার মনে হয় ওই দলে খুব ইন্টারেস্ট। কিন্তু আমি ওই দলটাকে অত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। জামায়াতের ব্যাপারে আমরা '৯১ সালে আমাদের যে এখন প্রধানমন্ত্রী, উনি যে সিস্টেমে কাজ করেছেন, ওই সিস্টেমটিকে আমরা অনুসরণ করতে পারি। উনি যেভাবে সারা দেশে ঐকমত্যের সঙ্গে ছিলেন, আমরাও সেভাবে ঐকমত্যের সঙ্গে থাকব। যারাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য যুদ্ধ করবে, আমরা তাদের সঙ্গে আছি, একসঙ্গে কাজ করব।’

শেয়ার করুন