বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?

বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?

সৌদি জেলে বন্দি স্বামীর মুক্তির জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরছেন রাবেয়া। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস

রাবেয়া বলেন, ‘অপরিচিত ওই ব্যক্তির প্যাকেট নিতে অস্বীকৃতি জানান আমার স্বামী। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেকে বিমানের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখান। প্যাকেট না নিলে তাকে ফ্লাইটে উঠতে দেবেন না বলেও ভয় দেখান। এতেও নিতে রাজি না হলে একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেই জোর করে আমার স্বামীর ব্যাগে প্যাকেটটি ঢুকিয়ে দেয়। ভয়ভীতি দেখানোয় এবং ফ্লাইটের সময় হয়ে যাওয়ায় কারও কাছে কোনো অভিযোগ না দিয়ে আমার স্বামী ফ্লাইটে উঠে পড়েন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তাকর্মীরা তার ব্যাগ তল্লাশি করলে ইয়াবার প্যাকেট পায় এবং আমার স্বামীকে জেলে পাঠায়।’

আচার আছে বলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সৌদিপ্রবাসীর ব্যাগে জোর করে একটি প্যাকেট দেন বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত একে ট্রেডার্সের এসআর সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ। না নিলে বিমানে উঠতে দেয়া হবে না, এমন ভয় দেখানোয় প্যাকেট নিতে বাধ্য হন সৌদিপ্রবাসী আবুল বাশার। প্যাকেট নিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরে ধরা পড়েন তিনি। আচারের প্যাকেটে মেলে ইয়াবা। পরে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে সৌদি আরবে ২০ বছরের সাজা হয়েছে বাশারের।

প্রবাসী বাশারের স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জোর করে বাশারকে প্যাকেট দেয়ার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।

এখন সৌদি আরবে সাজা হওয়া বাশারের কী হবে? বিনা অপরাধেই কী তাকে জেল খাটতে হবে?

নির্দোষ বাশারের মুক্তির জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না তার স্ত্রী রাবেয়া। তার দাবি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যেন বাশারকে মুক্ত করার ব্যবস্থা নেয়। পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে স্বামীর মুক্তির জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতনদের দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি।

রাবেয়া জানান, ছুটি শেষে এ বছরের ১১ মার্চ সৌদি আরব ফিরতে বিমানবন্দরে যান আবুল বাশার। এদিন রাত ১২টার পর বোর্ডিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়ালে নুর মোহাম্মদ তার স্বামীকে একটি প্যাকেট সৌদি আরব নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন। প্যাকেটে কিছু আচার ও খাবার আছে। সৌদিতে তার ভাই মো. সাইদ প্যাকেটটি বিমানবন্দর থেকে নেবেন বলে জানান নুর মোহাম্মদ।

রাবেয়া বলেন, ‘অপরিচিত ওই ব্যক্তির প্যাকেট নিতে অস্বীকৃতি জানান আমার স্বামী। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেকে বিমানের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখান। প্যাকেট না নিলে তাকে ফ্লাইটে উঠতে দেবেন না বলেও ভয় দেখান। এতেও নিতে রাজি না হলে একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি নিজেই জোর করে আমার স্বামীর ব্যাগে প্যাকেটটি ঢুকিয়ে দেয়। ভয়ভীতি দেখানোয় এবং ফ্লাইটের সময় হয়ে যাওয়ায় কারও কাছে কোনো অভিযোগ না দিয়ে আমার স্বামী ফ্লাইটে উঠে পড়েন। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর নিরাপত্তাকর্মীরা তার ব্যাগ তল্লাশি করলে ইয়াবার প্যাকেট পায় এবং আমার স্বামীকে জেলে পাঠায়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ত্যাগের পর থেকেই আমার স্বামীর খোঁজ পাচ্ছিলাম না। ২০ দিন পর ঘটনার বিস্তারিত এবং জেলে থাকার কথা জানিয়ে সৌদি থেকে টেলিফোন করেন তিনি। পরে ১৩ এপ্রিল বিমানবন্দরে গিয়ে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাই।

‘আর্মড পুলিশ আমার অভিযোগের ভিত্তিতে বিমাবন্দরের সিসি ক্যামেরার রেকর্ড চেক করে ঘটনার সত্যতা পায়। ১৪ এপ্রিল বিমানবন্দরে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত একে ট্রেডার্সের এসআর সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদকে আটক করে তারা। এ ঘটনায় আমি বিমানবন্দর থানায় মামলা করি। এরই মধ্যে নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

বাশারের স্ত্রী রাবেয়া বলেন, ‘আমার স্বামী অপরাধ না করেও প্রায় ৭ মাস ধরে জেলে আছেন। সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আইনি সহায়তা না পাওয়ায় এক পক্ষীয়ভাবে আদালত তাকে ২০ বছরের সাজা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা না পেলে আমার স্বামীকে বিনা অপরাধে ২০ বছর জেল খাটতে হবে। আমি আমার পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে নিয়ে দেশে মানবেতর জীবন যাপন করছি।’

বিনা অপরাধে সৌদি জেলে ২০ বছর কাটাতে হবে বাশারকে?
স্বামী আবুল বাশারের সঙ্গে রাবেয়া।

মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্বামীর মুক্তিতে সরকারের সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছেন রাবেয়া।

তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী নিরপরাধ। তাকে জোর করে প্যাকেট দিয়ে দিছে। নুর মোহাম্মদ স্বীকারও করেছে। সরকার ও সৌদি আরবে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসি সাহায্য না করলে ২০ বছর কোনো অপরাধ না করেই জেলে কাটাতে হবে। আমি সরকারের সাহায্য চাই।’

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৩ এপ্রিল সৌদিপ্রবাসী বাশারের স্ত্রী রাবেয়ার অভিযোগ পেয়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নুর মোহাম্মদকে শনাক্ত করি। পরদিন তাকে আটক করি। তিনি আমাদের কাছে অপরাধের কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন। পরে বিমানবন্দর থানায় করা রাবেয়ার মামলায় নুর মোহাম্মদ কারাগারে রয়েছেন।’

জিয়াউল হক বলেন, ‘আমরা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের বিশেষ শাখায় বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছি। বিশেষ শাখা ইন্টারপোলের বাংলাদেশ ডেস্কে পাঠিয়েছে। তারাও সৌদি আরবের ইন্টারপোলকে চিঠি লিখেছে বলে জানি।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) মহিউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা এপিবিএন থেকে জানার পর ২৫ এপ্রিল এনসিবি রিয়াদকে চিঠি দিয়েছি। কোনো রেসপন্স পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় দফায় ২৪ আগস্ট আবার লিখেছি। এখনও কোনো রেসপন্স পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। রিয়াদ এনসিবির সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে।’

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানান, বাশারের মুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে উদ্যোগী হতে হবে। তাহলেই তিনি মুক্তি পেতে পারেন। এর জন্য সরকারের উদ্যোগ ছাড়া সম্ভব না।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল ইসলাম হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। এয়ারপোর্টের একজনের জন্য নিরীহ প্রবাসী ফেঁসে গেছেন। এখন রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব প্রবাসীকে মুক্ত করা। সৌদি সরকারকে বলতে হবে, এই ব্যক্তি নির্দোষ, তার মুক্তি চাই। আর এই অপরাধের জন্য যে দোষী, তাকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা
বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাতিলের দাবি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাতিলের দাবি জনশক্তি রপ্তানিকারকদের

‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি’ (বায়রা)-এর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সহজ করার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমধ্যসাগরে মানুষ ডুবে মারা যাওয়ার যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, সে জন্য মানুষ পুলিশকেই জবাবদিহি করছে। পুলিশের কথাই বলছে যে, পুলিশ কী করছে? কিভাবে এসব মানুষ পুলিশের চোখ আড়াল করে পাচার হলো?’

জনশক্তি রপ্তানির ডিমান্ড লেটার পাওয়ার পর কর্মীদের বিদেশে যেতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স উঠিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের নামে ২০ দিনের বেশি সময় নষ্ট হয়ে যায়। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে এ ধরনের পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন হয় না।

বুধবার রাজধানীর হোটেল শেরাটনে মানব পাচার আইনের হয়রানি থেকে মুক্ত করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি’ (বায়রা)-এর পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। এই অনুষ্ঠানেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বাতিলের দাবি জানান জনশক্তি রপ্তানিকারক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সহজ করার চেষ্টা করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভূমধ্যসাগরে মানুষ ডুবে মারা যাওয়ার যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, সে জন্য মানুষ পুলিশকেই জবাবদিহি করছে। পুলিশের কথাই বলছে যে পুলিশ কী করছে? কিভাবে এসব মানুষ পুলিশের চোখ আড়াল করে পাচার হলো? পুলিশ তখন দায়িত্ববোধ থেকে মামলা করতে বাধ্য হয়। এ জন্য ভালো ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বৈধভাবে পাঠালে সমস্যা হওয়ার কথা না। অল্প সময়ে যাতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স হয়, সেই ব্যবস্থা করছি।’

তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ই-পাসপোর্ট ও বিমানবন্দরে ই-গেট চালু হয়েছে। এ ছাড়া কয়েক দিনের মধ্যে এসব গেটে ভিসা সঠিক আছে কি না, সেটাও চেক করা যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে গেট অটো চালু হয়ে যাবে। এতে পুলিশের ভিসা চেক করার দরকার হবে না। ইমিগ্রেশনে লাইন ধরে দাঁড়াতে হবে না।’

গেস্ট অব অনারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি বলেন, ‘জনশক্তি রপ্তানিতে গার্মেন্টসের রেমিট্যান্স বেশি। গত বছর ২৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। করোনার কারণে গত বছর আগের চেয়ে কম ৭ থেকে ১০ লাখ মানুষ বিদেশে গেছে। মানুষ বিদেশে না গেলে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ত।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বায়রা’র সাবেক সভাপতি ও ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূর আলী বলেন, ‘বিদেশে কর্মী যেতে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স উঠিয়ে দেয়া উচিত। পৃথিবীর কোথাও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন হয় না। পুলিশ কিয়ারেন্স করতে ২০ দিন সময় লেগে যায়। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক কাজ করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। এ কারণে ডেসপাস কমে যায়। ব্যবসায়ীরা কাজ করতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে পরিমাণ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বিএমইটিতে সে পরিমাণ জনশক্তি নাই। জনশক্তি বাড়ানো দরকার।’

তিনি জানান, সৌদিতে এনলিস্টেড থাকার পরও কয়েক শ এজেন্সিকে দূতাবাস কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে না। এজেন্সিগুলো সৌদি আরবে কর্মী পাঠাতে পারছে না।

অনুষ্ঠানে বায়রা’র সাবেক সভাপতি বেনজির আহমদ এমপির সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, বিএমইটির মহাপরিচালক শহীদুল আলম, বায়রার সাবেক সভাপতি আবুল বাসার, সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন, শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা
বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীরা

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানালেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীরা

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত।

মানববন্ধনে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সহিংসতায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে মানববন্ধন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

ব্রিসবেনের প্রাণকেন্দ্র কিং জর্জ স্কয়ারে বুধবার বিকেলে এ মানববন্ধন হয়।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ব্রিসবেন (ব্যাব), বাংলাদেশ পূজা ও কালচারাল সোসাইটি ব্রিসবেন (বিপিসিএস), সোসাইটি অফ বাংলাদেশি ডক্টরস কুইন্সল্যান্ড, ব্রিসবেন বাংলা স্কুল, বাংলাদেশ গোল্ডকোস্ট সোসাইটিসহ ব্রিসবেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে পালন করা হয় এ কর্মসূচি।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ব্যাব প্রতিনিধি মাসুম ইসলাম, বিপিসিএস-এর বিকাশ শিকদার, কুইন্সল্যান্ড মাল্টিকালচারাল সেন্টার-এর উমেশ চন্দ্র, অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী প্রতিনিধি স্টিভ কোঘিল প্রমুখ।

তারা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির তৎপরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং সহিংসতায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কোরআন শরিফ পাওয়ার পর চলে ব্যাপক ভাঙচুর, আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশকিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলায়।

ইতোমধ্যে মণ্ডপে কোরআন রাখার দায় স্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন। একই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন মণ্ডপ থেকে ৯৯৯-এ ফোন করা রেজাউল হোসেন ইকরাম, হুমায়ুন কবির ও ফয়সাল হোসেন নামের তিনজন।

এদের মধ্যে হুমায়ুন ও ফয়সাল স্থানীয় দারোগাবাড়ী মাজার মসজিদের সহকারী খাদেম। ওই মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়ে পাশের পূজামণ্ডপে রাখা হয়ে। এই চারজনকেই সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা
বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের

শেয়ার করুন

হিন্দুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সিডনিতে সমাবেশ

হিন্দুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সিডনিতে সমাবেশ

সিডনির কেন্দ্রস্থলে হাইড পার্কে সমাবেশটি আয়োজন হয় ‘স্ট্যান্ড ফর রিলিজিয়াস মাইনরিটিস ইন বাংলাদেশ’ ব্যানারে। ছবি: নিউজবাংলা

সিডনির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরতলী প্যারামাটার লেবার দলীয় প্রতিনিধি দুর্গা ওয়েন বলেন, ‌‘বাংলাদেশি হিন্দুদের জন্য চরম দুঃখের ও অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন, কিন্তু পিছিয়ে যাওয়া চলবে না। আপনাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে লিখিতভাবে জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করুন। আমরা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশে ও অন্যান্য সমাজে বিদ্যমান এই বৈষম্য ও অত্যাচার বন্ধ করব।’

শারদীয় দুর্গোৎসবে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে।

স্থানীয় সময় রোববারের এ কর্মসূচিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিক্ষুব্ধ সদস্য, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ২৬টি সংগঠনের প্রতিনিধি, অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সিডনির কেন্দ্রস্থলে হাইড পার্কে সমাবেশটি আয়োজন হয় ‘স্ট্যান্ড ফর রিলিজিয়াস মাইনরিটিস ইন বাংলাদেশ’ ব্যানারে।

দুপুর ১২টায় প্রতিবাদকারীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, লিফলেট নিয়ে হাইড পার্কে সমবেত হন। সমাবেশ সমন্বয়কারী অমিত সাহা, অমল দত্ত, অপু সাহা, সুরজিত রায়, ড. স্বপন পালসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে তারা সমাবেশস্থলে অবস্থান নেন।

সভার শুরুতে হামলায় হতাহত এবং মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংগীত গেয়ে উভয় দেশের প্রতি সম্মান জানান জ্যোতি বিশ্বাস ও বর্ণালী রায়।

কী বলেন বক্তারা

স্বপন পাল ও অনন্যা ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় সভার শুরুতে অস্ট্রেলিয়ান বেঙ্গলি হিন্দু অ্যাসোসিয়েশনের (আভা) প্রতিনিধি ড. সমীর সরকার এ হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান।

সংখ্যালঘুদের প্রতি প্রতিটি সরকারের বিদ্বেষ ও বৈষম্যের পরিসংখ্যান টেনে তিনি বলেন, দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও হিন্দুদের জমিকে ‌‌‘শত্রু সম্পত্তি’ আইন করে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ কারণে হিন্দুরা প্রায় ২.৬ মিলিয়ন জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি হারিয়েছে, যার আর্থিক মূল্য আনুমানিক ১৪০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২১ সালের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৪০ ভাগ।

তিনি বলেন, আইনটি নতুন করে ‌‘অর্পিত সম্পত্তি’ শিরোনাম দিলেও এর আসলেই কোনো পরিবর্তন হয়নি। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বৈরী আচরণ ও অত্যাচারের কারণে বাংলাদেশ প্রায় আড়াই কোটি হিন্দু জনগোষ্ঠীও হারিয়েছে।

সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে বাংলাদেশকে ধর্মীয়ভাবে সহিষ্ণু একটি দেশে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট অজয় দাশগুপ্ত বলেন, ‘একাত্তরে আমরা সম্মিলিতভাবে দেশ স্বাধীন করেছি। এই দেশটা কোনো একক গোষ্ঠীর নয়। গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ এই জঙ্গি তৈরি করেছে। ভোটের দরকার নেই। তাই সংখ্যালঘুও নিগৃহীত।’

তিনি আরও বলেন, “অনেকে প্রশ্ন করেন, আমরা আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে বিচার চাই কেন? এর কারণ, নাৎসিদের বিচার হয়েছিল আন্তর্জাতিক আদালতেই। আর বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই অপরাধ নাৎসিদের কৃতকর্মের সঙ্গে তুলনীয়। আমরা বাংলাদেশেকে ভালোবেসে এতদিন বলেছি, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।’ কিন্তু এখন থেকে ‘আমি নয়নজলে ভাসি’ বলতে হবে।”

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ফেডারেল ইমিগ্রেশন মন্ত্রী লরি ফার্গুসন এ সমাবেশের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ‌‌‌বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রতি এ সহিংসতা ও বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এর অবসানের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিক ও সরকারকে এই প্রতিবাদ ও সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

সিডনির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহরতলী প্যারামাটার লেবার দলীয় প্রতিনিধি দুর্গা ওয়েন বলেন, ‌‘বাংলাদেশি হিন্দুদের জন্য চরম দুঃখের ও অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন। কিন্তু পিছিয়ে যাওয়া চলবে না।

‘আপনাদের স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে লিখিতভাবে জানান;সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করুন। আমরা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশে ও অন্যান্য সমাজে বিদ্যমান এই বৈষম্য ও অত্যাচার বন্ধ করব।’

৯ দফা

সভার শেষে অন্যতম সমন্বয়কারী অমল দত্ত ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

১. হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা এবং এ জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, তা নিশ্চিত করা।

২. হামলার ঘটনার পূর্ণ, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং তদন্তের ফল জনসমক্ষে উন্মোচন।

৩. হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনা।

৪. হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার বাড়িঘর, উপাসনালয় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুনর্নির্মাণ করতে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া।

৫. বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য একটি ভিন্ন মন্ত্রণালয় গঠন করা। সে মন্ত্রণালয় হিন্দু ও অন্য সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ আইন প্রণয়ন করবে।

৬. এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে একটি বিশেষ আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে, যেখানে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ সদস্য হিন্দু সম্প্রদায় থেকে নিতে হবে। বাকি সদস্যদের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি উদার হতে হবে।

৭. পূজায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ, গোয়েন্দা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের মধ্যে দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৮. পাঠ্যক্রম সংস্কার করে মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করে এমন বিষয়বস্তু বাদ দেয়া এবং এর বদলে সেসব বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা, যা সমাজের সত্যিকার মূল্যবোধ তৈরিতে সাহায্য করে এবং প্রকৃত সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস তুলে ধরে।

৯. ধর্মীয় সমাবেশে সব ধরনের হিংসাত্মক বক্তব্য দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া এবং এর পরিবর্তে সহিষ্ণুতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতিবোধ জাগিয়ে তুলতে উৎসাহ দেয়া।

আরও পড়ুন:
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা
বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের

শেয়ার করুন

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় মিশিগানে প্রবাসীদের প্রতিবাদ

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় মিশিগানে প্রবাসীদের প্রতিবাদ

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে আমেরিকার মিশিগানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

মিশিগান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস শাকুর খান মাখন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজায় হামলা চালিয়েছে তারা দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য কাজ করছে। এর আগেও দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। আমরা মনে করি, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পারিক সহনশীল সম্পর্ক অটুট রেখে বাংলাদেশে এগিয়ে যাবে।’

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে মিশিগান মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ।

মিশিগানের বাংলা টাউন খ্যাত হ্যামট্রামেক সিটির কনান্ট রোডে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন মিশিগান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস শাকুর খান মাখন ও সঞ্চালনায় ছিলেন মিশিগান স্যাট যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ বদরুদ্দোজা জুনেদ।

আব্দুস শাকুর খান মাখন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে যারা হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজায় হামলা চালিয়েছে তারা দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য কাজ করছে। এর আগেও দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। আমরা মনে করি, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পারিক সহনশীল সম্পর্ক অটুট রেখে বাংলাদেশে এগিয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানাই, যারা দেশের সাম্প্রদায়িক চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করার চেষ্টা করছে তাদের যেন আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।’

প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন মিশিগান মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোতালিব, মিশিগান স্যাট যুবলীগের সভাপতি জাহেদ মাহমুদ আজিজ সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুম্মান আহমেদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইয়াহিয়া, মিশিগান স্যাট স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ইজাজুল হোসেইন, মিশিগান স্ট্যাট ছাত্রলীগের আহবায়ক খাজা আফজাল হোসেন, যুবলীগ নেতা আব্দুর রহমান রাজ, সেবুল আহমদ, পংকজ দাশ, নিপেশ সুত্রধর, সৌরভ চৌধুরী ও পিয়াংকা চৌধুরী।

আরও পড়ুন:
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা
বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের

শেয়ার করুন

৩৫তম ফোবানা সম্মেলন নভেম্বরে

৩৫তম ফোবানা সম্মেলন নভেম্বরে

জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে ফোবানা সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের সম্মেলনের ভেন্যু করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ন্যাশনাল হারবারের বিখ্যাত গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারকে।

বাধাবিপত্তি আর করোনার ভয়াবহতাকে মোকাবিলা করে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) সম্মেলন।

নভেম্বরের ২৬ তারিখে শুরু হবে তিন দিনব্যাপী ৩৫তম এই সম্মেলন। এটির আয়োজক আমেরিকান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি (এবিএফএস)।

এবারের সম্মেলনের ভেন্যু করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত ন্যাশনাল হারবারের বিখ্যাত গেলর্ড ন্যাশনাল রিসোর্ট অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারকে।

সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘অদম্য বাংলাদেশে অবাক বিশ্ব’।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে এ সম্পর্কিত এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ফোবানা সম্মেলনের সদস্যসচিব শিব্বীর আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন এবারের ফোবানা সম্মেলনের কনভেনার জি আই রাসেল।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোবানা চেয়ারম্যান জাকারিয়া চৌধুরী, স্বাগতিক কমিটির নিরাপত্তাবিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারপারসন দেওয়ান জমিরসহ ফোবানার অন্য নেতারা।

বিশ্বে ফোবানা নামটি একটি ‘ব্র্যান্ড’ উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সদস্যসচিব শিব্বীর আহমেদ বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে এই সংগঠনটি উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশিদের মিলনমেলার আয়োজন করে আসছে। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়।’

তিনি বলেন, ‘১৯৮৭ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের একটি ছোট অডিটরিয়ামে অত্যন্ত ছোট পরিসরে যে ফোবানার জন্ম হয়েছিল, সেই ফোবানার ৩৫তম আসর আজ একই শহরের সবচেয়ে বড় বিলাসবহুল ও ব্যয়বহুল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’

সম্মেলনে দেশ ও প্রবাসের লেখক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পীসহ গুণিজনরা অংশ নেবেন বলে জানান ফোবানার কনভেনার জি আই রাসেল।

তিনি বলেন, ‘৩৫তম ফোবানার অতিথি তালিকায় যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, স্টেট মিনিস্টার শাহরিয়ার আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন চেয়ারম্যান ড. শিবলী রুবায়েত উল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শহিদুল ইসলাম, দুবাইয়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নইম নিজাম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, অনন্যা প্রকাশনীর মনিরুল হক, ডিবিসি নিউজের সিইও মনজুরুল ইসলাম, সময় টেলিভিশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আহমেদ জোবায়ের, চ্যানেল আই প্রধান ফরিদুর রেজা সাগর প্রমুখ।

এ ছাড়াও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী, বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী, শিক্ষাবিষয়ক মন্ত্রীকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

কনভেনার রাসেল জানান, সম্মেলনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ফ্যাশন শো, মিস ফোবানা, ম্যাগাজিন, বিজনেস লাঞ্চ, বইমেলা, মিউজিক আইডল, ড্যান্স আইডল, সেমিনার, ইয়ুথ ফোরাম, ইন্টারফেইথ ডায়ালগসহ নানা ইভেন্টের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ এবং ওয়ার্দা রিহ্যাব অংশগ্রহণ করবেন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, জেমস, তাহসান খান, হৃদয় খান, শফি মণ্ডল, লায়লাসহ জনপ্রিয় শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বৃহত্তর ওয়াশিংটন ও উত্তর আমেরিকার একঝাঁক শিল্পী ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানান রাসেল।

এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর বিজনেস নেটওয়ার্ক লাঞ্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই লাঞ্চে দেশের ও প্রবাসের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা অংশগ্রহণ করবেন।

আরও পড়ুন:
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা
বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের

শেয়ার করুন

মিশিগানে মোটরসিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন এশিয়া ইউনাইটেড

মিশিগানে মোটরসিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন এশিয়া ইউনাইটেড

এবারের মোটরসিটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দল হয় এশিয়া ইউনাইটেড। ছবি: নিউজবাংলা

টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া বিভিন্ন দলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার তাপস বৈশ্য, ইলিয়াস সানী, আবুল হাসান রাজু ও কামরুল ইসলাম রাব্বির মতো তারকারা ছিলেন। শেষ পর্যন্ত এসব তারকার কোনো দলই ফাইনাল ম্যাচের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

মোটরসিটি হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের ডেট্রয়েট সিটির লাস্কি ক্রিকেট মাঠে হলো মোটরসিটি ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল ম্যাচ।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে দুটি সেমিফাইনাল ম্যাচ সমাপ্তির পরই বিকেল ৩টার সময় শুরু হয় ফাইনাল ম্যাচ।

টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া বিভিন্ন দলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার তাপস বৈশ্য, ইলিয়াস সানী, আবুল হাসান রাজু ও কামরুল ইসলাম রাব্বির মতো তারকারা ছিলেন। শেষ পর্যন্ত এসব তারকার কোনো দলই ফাইনাল ম্যাচের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় মিশিগানের দুটি দল এশিয়া ইউনাইটেড ও মিশিগান চিতাস। খেলায় প্রথমে ব্যাটিং করে এশিয়া ইউনাইটেড চার ও ছক্কার সমাহার ঘটিয়ে ২০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান করে।

টুর্নামেন্টের অন্য খেলাগুলোতে বলতে গেলে মিশিগান চিতাস অপ্রতিরোধ্যই ছিল বলা চলে। কিন্তু দলটি শুরুটা করেছিল বেশ অগোছালোভাবে।

শুরুর দিকেই দলের ওপেনার তামিম ১ রান করে আউট হয়ে যান। তারপরই আরেক ব্যাটসম্যান রান আউট। দ্রুত উইকেট পতনে দলের রানের চাকা ঘোরাতে ব্যাটম্যানরা ব্যাকফুটে চলে যান।

মাঝে শাকের আহমেদ ও আরিফুল হক কিছুটা আশ্বস্ত করতে পারলেও এশিয়া ইউনাইটেডের বোলার জুবেল আহমেদের কাছেই ধরাশায়ী হয় মিশিগান চিতাসের ব্যাটম্যানরা।

জুবেল ৪ ওভার বল করে ১৮ রান খরচায় নেন ৬ উইকেট। শেষে এবারের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দল হয় এশিয়া ইউনাইটেড।

টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণীতে ছিল ভিন্ন আয়োজন। দুজন উপস্থাপক রশনি চাসমাওয়ালা ও রোম্মান আহমেদের উপস্থাপনা ছিল প্রাণবন্ত।

টুর্নামেন্টে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন এশিয়া ইউনাইটেডের মাসুদ হক, যার সংগ্রহ ৫ ম্যাচে ১৮৫ রান ও ৫ উইকেট।

মিশিগান চিতাসের বোলার শাকের আহমেদ ১৪টি উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির পদকটা পেয়ে যান। টুর্নামেন্টে সেরা ফিল্ডার হন মিশিগান চিতাসের ফয়েজ লিংকন।

এবারের মোটরসিটি ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা বাংলাদেশি-আমেরিকান ক্রিকেটার নিয়ে ১০টি দল গঠন হয়।

বিশাল বাজেটের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানি ছিল ১৭ হাজার ডলার ও দৃষ্টিনন্দন ট্রফি।

আরও পড়ুন:
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা
বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের

শেয়ার করুন

১৮৩ বছরের বাগান কবরস্থান

১৮৩ বছরের বাগান কবরস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত গ্রিনমাউন্ট সিমেটারি। ছবি: লেখক

গ্রিনমাউন্ট সিমেটারিতে শায়িত প্রথম কবর দু’বছর বয়সী ওলিভিয়া কাশিং উইটরিজের। এখানে বিখ্যাত সব ব্যক্তি, কুখ্যাত কিছু ব্যক্তির কবরও রয়েছে। আর এ মুহূর্তে শায়িত আছেন ৬৫ হাজার জন।

সুরম্য এক বাগান। যেরকম বাগান বা পার্কের দেখা হরহামেশাই মেলে যুক্তরাষ্ট্রের সাজানো-গোছানো শহরগুলোয়। তবে বাগানটির কিছু বিশেষত্ব তো আছেই। নইলে আর দেখতে আসা কেন?

পাহাড়ি এলাকার পার্কটিতে ঢোকার একটু পরই অভ্যর্থনা জানাবে সুবজ রঙা এক পরী। কিছুদূর হাঁটতেই বুঝতে পারা যায়, অন্যান্য পার্কের সঙ্গে এর পার্থক্য।

গাছের ফাঁকে ফাঁকে নজরে পড়বে সারি সারি গ্রেভস্টোন বা সমাধিস্তম্ভ। তবু, যেন ঠাহর করতে পারা যায় না, আসলেই এটি কোনো গোরস্থান না বাগান? এর নান্দনিক রূপ দেখে এটিকে দর্শকের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গিতে বারবারই বাগান বলে ভুল হয়।

এমনই এক গোরস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম রুরাল গার্ডেন সিমেটারির মধ্যে অন্যতম, মেরিল্যান্ড রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত গ্রিনমাউন্ট সিমেটারি। খুব বেশি নয়। এই গার্ডেন সিমেটারি বা বাগান গোরস্থানের বয়স মোটে ১৮৩ বছর। তবু তো একটি গোরস্থানই। কী এমন বিশেষত্ব এর যার জন্য এটির কথা বহু বছর ধরেই উঠে আসে সংবাদ আকারে?

১৮৩ বছরের বাগান কবরস্থান

ধরা যাক আপনি একজন ‘বিজার ট্রাভেলার’। অর্থ্যাৎ বেড়াতে বেরিয়ে গতানুগতিক পর্যটকেঠাসা জায়গাগুলো আপনাকে কখনোই আকর্ষণ করে না। পছন্দের তালিকায় থাকে অদ্ভুত কিছু জায়গা। যার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, ঝাঁ চকচকে টু্রিস্ট স্পট থেকে অনেক বেশি। এমনকি, এমনসব জায়গা যা স্থানীয়দের সম্পর্কে জানতে খুব বেশি সাহায্য করে। সেক্ষেত্রে এই গ্রিন মাউন্ট সিমেটারি বা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এ ধরণের বাগান সদৃশ গোরস্থান আদর্শ জায়গা। ম্যাসাচুসেটসের মাউন্ট অবার্ন সিমেটারি দেখে এসে মেরিল্যান্ডে একই ধরণের গোরস্থান প্রতিষ্ঠা করতে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬০ একর জায়গা কিনে ফেলেন, তামাক বণিক স্যামুয়েল ওয়াকার। সময়টা ১৮৩৮ সাল।

পরে, কিছু ধনকুবের বন্ধুর সঙ্গে আলাপ করে ১৮৩৯ সালে গ্রিন মাউন্ট নাম দিয়ে রাজ্য সংসদে অনুমোদনের মাধ্যমে দান করেন সাধারণের জন্য। শর্ত একটাই, প্রোপাইটার বা রক্ষক যেই হোক না কেন, তাদের দায়িত্ব হবে এর সৌন্দর্য বর্ধন করে যাওয়া। যা বছরের পর বছর ধরে একে আউটডোর গ্যালারি অফ আর্টস অ্যান্ড আর্কিটেকচার বা সহজ ভাষায় শিল্প ও স্থাপত্যের এক অনিন্দ্য সুন্দর দর্শনীয় স্থানে পরিণত করেছে। বিশাল এই কবরস্থানে গিয়ে ঢোকার মুখেই মিলে যায় রুট ম্যাপ বা নির্দেশিকা।

দর্শনার্থী হিসেবে চলা যাবে নির্দেশিকা মেনে। এলোমেলো ঘুরলেও কোনো সমস্যা নেই। দুর্দান্ত সুন্দর সব ভাস্কর্য, কবরের নকশা বা সমাধলিপি অথবা এপিটাফ, দেখতে দেখতে আর পড়তে পড়তে অবাক, আবেগআপ্লুত আর মুগ্ধ হতেই হয়।

১৮৩ বছরের বাগান কবরস্থান

বারবার মনে প্রশ্ন জাগে, তবে সমাধিক্ষেত্রও এমন হওয়া সম্ভব? কোনটা রেখে কোনটা দেখা যায়! এই হয়তো স্বর্গদ্বাররক্ষীর ভাস্কর্যের সৌন্দর্যে বিমোহিত হওয়া শুরু হলো তখনই অচেনা এক পাখির ডাকে চোখ ফেরাতেই দেখা মিলল অদ্ভুত এক দেবশিশুর। যে বসে আছে কোনো এক শিশুর কবরের ওপরে।

গ্রিনমাউন্টের মূল নকশাকার তিনজন স্থপতি। যাদের মধ্যে দুজন আবার নিজেদের শেষ ঠিকানা হিসেবে এই কবরস্থানকেই বেছে রেখেছিলেন কাজের শুরুতে। এখানে শায়িত প্রথম কবরটি দু’বছর বয়সী ওলিভিয়া কাশিং উইটরিজের। এ মুহূর্তে শায়িত আছেন ৬৫ হাজার জন।

ভেতরে আছে অপূর্ব স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত একটি চ্যাপেল বা খ্রীস্টিয় ভজনালয়। আকৃতি বিশাল হওয়ায়, ফুলের নাম বা বিশেষ শব্দ দিয়ে চিহ্নিত করা আছে জায়গাগুলো। যেমন, ডেইজি বা ওয়ালনাট এরিয়া। অসংখ্য বিখ্যাত মানুষ চিরনিদ্রায় আছেন গ্রিন মাউন্টে। যুক্তরাষ্ট্রে ফিলানথ্রপিস্ট বা পরোপকারীরা বরাবরই সমাজে বিশেষ অবদান রাখেন। যাদের মধ্যে এই অঞ্চলের অনেকেরই কবর আছে এখানে। যার মধ্যে আবার অন্যতম হলো, চিকিৎসা বিজ্ঞানে গবেষণার জন্য বিশ্বখ্যাত জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জনস হপকিন্সের কবর।

১৮৩ বছরের বাগান কবরস্থান

আছেন রাজনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা, মিলিটারি সদস্য, লেখক, গবেষক, গভর্নর ও মেয়রসহ অসংখ্যা মানুষের কবর। কুখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন এক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার ষড়যন্ত্রকারী ও তার সহকারীর কবরও। পাহাড়ি এই কবরস্থানটির সর্বোচ্চ স্থানের উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ১৯০ ফুট ওপরে।

গ্রিনমাউন্ট পক্ষী বিশারদ ও গবেষকদের জন্যও একটি প্রিয় জায়গা। লোকালয়ে দেখা মেলে না এমন কিছু পাখির অভয়ারণ্য এই বাগান সদৃশ গোরস্থানটি। সুসজ্জিত ওক, মেপল, ওয়ালনাট, লিন্ডেন, চেস্টনাট বা বিচ গাছের ছায়াতলে শতবর্ষ ধরে শায়িতরা যে একটুও একঘেঁয়ে বোধ করেন না তা ওখানেই গেলেই বোঝা যায়।

১৯৮০ সালে গ্রিনমাউন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার ফর হিস্টোরিক প্লেসেসে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়। একই রকম জায়গায় ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হলে এই গার্ডেন সিমেটারিটিই হতে পারে একদম ভিন্নস্বাদের একটি পর্যটকস্থল।

আরও পড়ুন:
শওকত মাহমুদের সই-সিল জালিয়াতি করে বিএনপির প্রবাসী ফোরাম
দুবাইয়ে ৪৬ যাত্রী পাঠিয়ে অপেক্ষায় ঢাকা
মেয়ের মুখ দেখা হলো না সোহেলের
আশ্বাস পেয়ে অনশন ভাঙলেন প্রবাসীরা
বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের

শেয়ার করুন