ই-কমার্সের জন্য আলাদা আইন লাগবে কি?

ই-কমার্সের জন্য আলাদা আইন লাগবে কি?

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সফিকুজ্জামান জানান, আইন প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে প্রথম দিন আলোচনায় উঠে এসেছে যে ই-কমার্স খাত নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু পরিচালনার আলাদা আইন ও পৃথক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আদৌ দরকার আছে কি না?

দেশেই ই-কমার্স খাতে প্রতারণা রোধ ও খাতটিকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য গত ২২ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও ডিজিটাল ই-কমার্স আইন করার সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ২৭ সেপ্টেম্বর ১৬ সদস্যের একটি আইন প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।

গঠিত সে কমিটিই এখন খতিয়ে দেখছে, ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে পৃথক কোনো আইন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের দরকার আছে কি না?

মঙ্গলবার ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ই-কমার্স আইন প্রণয়ন কমিটির প্রথম বৈঠক।

কমিটির আহ্বায়ক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি অনুবিভাগ) এএইচএম সফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে সফিকুজ্জামান জানান, আইন প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে প্রথম দিন আলোচনায় উঠে এসেছ যে ই-কমার্স খাত নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু পরিচালনার আলাদা আইন ও পৃথক নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আদৌ দরকার আছে কি না?

আলোচনায় আরও উঠে আসে ই-কমার্স খাত নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে ডিজিটাল ই-কমার্স সেল রয়েছে সেটিকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে সেটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের পরিপূরক হবে কি না?

এ ছাড়া দেশে বিদ্যমান মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ আরও যেসব আইন রয়েছে, সেসব আইনে সংশোধনী এনে তা ই-কমার্স খাতের সঙ্গে সমন্বয় করা যায় কি না?

পরে অংশীজনদের আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে আইন প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে ৯ সদস্য নিয়ে আরেকটি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

এ উপকমিটি সার্বিক দিক বিচার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে আগামী এক মাসের মধ্যে একটি প্রতিবেদন আইনি কমিটির কাছে জমা দেবে।

সফিকুজ্জামান বলেন, ‘কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন বিষয়ে পরে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

সম্প্রতি ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকাশপিংসহ বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের টাকা নিয়ে পণ্য না দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পর মামলাও হয়েছে। তাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শ শ কোটি টাকার প্রতারণার এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ই-কমার্সের জন্য আলাদা আইন করা যায় কি না সেটি নিয়ে চার মন্ত্রী বৈঠকে বসেছিলেন।

আইন প্রণয়ন কমিটির সদস্যসচিব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ সাঈদ আলী (ডিজিটাল কমার্স সেল) ছাড়াও আইন প্রণয়ন কমিটির বৈঠকে তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিনিধি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার ও সমবায় বিভাগের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ পুলিশ, সাইবার ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স শাখা, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ইক্যাব)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
কিউকমের সিইও রিপন মিয়া ২ দিনের রিমান্ডে
স্ত্রীসহ কারাগারে এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইও আল আমিন
টাকা ফেরত পেতে পারেন কিউকমের গ্রাহকরা: ডিবি
কিউকমের মালিক গ্রেপ্তার
এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইওসহ গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে ব্যাংকিং সেবায়। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি ও সিইও মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন অনেক ক্যাশলেস ব্যাংকিং করি। প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। ক্যাশলেস ব্যাংকিংয়ের দিকে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছি। একসময় দেখা যাবে নগদ টাকা ব্যবহার হচ্ছে না। ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিটকয়েন, ইথেরিয়াম এগুলোর ব্যবহার বাড়বে।’

আন্তর্জাতিক ব্যাংক দিবস আজ। এ উপলক্ষে দেশের চারটি ব্যাংকের চার শীর্ষ কর্মকর্তা তুলে ধরেছেন আগামীর ব্যাংক ভাবনা। পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রযুক্তির বিপ্লবের মধ্যে ব্যাংকিং সেবার ধরন আগামীতে কী হতে যাচ্ছে, তারা তা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত আগামীতে কোথায় যেতে পারে, কোথায় যাওয়া উচিত, সে বিষয়েও ভাবনা তুলে ধরেছেন তারা।

পৃথিবীর ৫০০ ব্যাংকের মধ্যে যেন আমাদের ব্যাংক থাকে

ড. আহসান এইচ মনসুর, চেয়ারম্যান, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় ব্যাংকের সুযোগ-সুবিধা আগামীতে যাতে প্রত্যেক বাঙালি পরিবার পায়, সে ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রত্যেক পরিবার যেন ব্যাংকিং খাতের আওতায় আসে।

আমাদের দেশে অনেক ব্যাংক থাকলেও বড় আকারের কোনো ব্যাংক নেই। বিশ্ব পরিমাপে কোনো ব্যাংক এখনও তহবিল করতে পারেনি। কারণ আমাদের চাহিদার তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি।

আমাদের একটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ যে সম্পদ আছে, সেটা আপেক্ষিকভাবে অনেক কম। বহির্বিশ্বে ব্যাংকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ওপর সম্পদ আছে। আমাদের একটি ব্যাংকের সর্বোচ্চ সম্পদ ১০ বিলিয়ন ডলারেরও কম।

আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাশীল ব্যাংকের প্রয়োজন। পৃথিবীর অন্তত ৫০০টি ব্যাংকের মধ্যে যেন একটি আমাদের ব্যাংক হয়। সেই মাপের ব্যাংক আমাদের দরকার।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
আহসান এইচ মনসুর

ব্যাংক খাতে গভর্নেন্সে (সুশাসন) বিশাল সমস্যা বিদ্যমান। এ সমস্যা ব্যাংক খাতের প্রবৃদ্ধিকে কমিয়ে ফেলবে। ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়টিতে অবশ্যই নজর দিতে হবে।

টেকনোলজি বা প্রযুক্তিগতভাবে আমরা খুব বেশি এগোতে পারিনি। প্রযুক্তির খরচ অনেকটা ফিক্সড। ছোট ব্যাংকের জন্য যে খরচ, বড় ব্যাংকগুলোর জন্যেও একই খরচ করতে হয়। বিদেশি ব্যাংকগুলোর সম্পদের পরিমাণ বেশি হওয়ার কারণে তারা এটা ভালোভাবে করতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশের ব্যাংকের আকার ছোট, সম্পদ কম। এ জন্য এ খাতে পর্যাপ্ত ব্যয় করার সামর্থ্য ব্যাংকের নেই। ফলে প্রযুক্তিগত ব্যাংকিং প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে পড়ব। সামনের দিনে এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যাংকের বরাদ্দ বাড়াতে হবে।

যে ব্যাংকগুলো ছোট, মূলধন কম, তাদের জন্য প্রযুক্তি খাতের বিশাল ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন। ফলে তারা এটা করতে পারবে না।

টেকনোলজির পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তায় জোর দিতে হবে। এখানেও ছোট ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে সমস্যা হবে। কারণ এটাও ব্যয়বহুল। আর আমাদের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা খুবই সীমিত। সাইবার হামলা মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এ খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। সাইবার হামলার বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। সাইবার হামলা সব দেশেই হয়। আমাদের এখানেও হয়েছে, আগামীতেও হবে। এ জন্য এসব বিষয়ে প্রস্তুতি আগে থেকে নিতে হবে।

ব্যাংক বেশি হওয়ার কারণে দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব দেখা গেছে। আবার ব্যাংকে সুশাসনের ঘাটতি থাকায় দক্ষভাবে পরিচালনাও সম্ভব হয় না। আগামীতে এদিকে আরও জোর দিতে হবে।

টাকাহীন যুগের জন্য ব্যাংককে প্রস্তুত হতে হবে

মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, অগ্রণী ব্যাংক

আদিকাল থেকে ব্যাংকিং পদ্ধতি বিভিন্নভাবে বিবর্তিত হয়ে আজ এ পর্যায়ে এসেছে। আমূল পরিবর্তন আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হয়ে যাবে।

আমাদের গতানুগতিক ব্যাংকিং সিস্টেমে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা এখনও আগের পদ্ধতিতে ব্যাংকের মূল্যায়ন করি। ব্যাংকের কয়টি শাখা, সেটা দেখে আমরা এখনও বলি কোন ব্যাংক কত বড়। যে ব্যাংকের শাখা যত বেশি, সেই ব্যাংককে তত বড় ব্যাংক হিসেবে পরিমাপ করা হয়। সামনের দিনে এমন থাকবে না। ব্যাংকের মোবাইল ওয়ালেট কত, মোবাইল ব্যাংকিং কত, ডিজিটাল প্লাটফর্ম কেমন, ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা– এসব বিষয় মূল্যায়ন করা হবে।

আমরা এখন অনেক ক্যাশলেস ব্যাংকিং করি। প্লাস্টিক কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। ক্যাশলেস ব্যাংকিংয়ের দিকে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছি। একসময় দেখা যাবে নগদ টাকা ব্যবহার হচ্ছে না। ক্রিপ্টোকারেন্সি, বিটকয়েন, ইথেরিয়াম এগুলোর ব্যবহার বাড়বে।

আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো নগদ টাকার ব্যবহার করবেই না। সব ডিজিটাল হয়ে যাবে।

আমাদের এখন থেকে সেদিকে আগ্রহী হতে হবে। কারণ গ্রাহক উপস্থিত থেকে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ এখন কমে গেছে। অনেক আধুনিক যন্ত্রপাতিও আসবে। তখন মেশিন অনেক কাজ করবে, যেটা এখন মানুষকে করতে হয়। একসময় কারেন্সিও থাকবে না। তখন ব্যাংকিং পদ্ধতি অন্য রকম হবে।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
মোহম্মদ শামস্-উল ইসলাম

সেই আমূল পরিবর্তনে নিজেদের মানিয়ে নিতে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। কারণ, ব্যাংকিং সেবা পদ্ধতি অন্য রকম হলে সেই পরিবেশে নিজেদের টিকে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রযুক্তির সঙ্গে খাপখাইয়ে নিতে সক্ষমতার বিকল্প নেই। আমাদের হয়তো রাতারাতি সব কিছু পরিবর্তন হবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে এসব চালু হবে।

তখন ব্যাংকের এত শাখাও থাকবে না। কারণ একটি শাখা চালাতে অনেক খরচ। সেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে এসব কাজ করা যাবে। ঘরে বসে মানুষ যেমন ব্যাংকের অনেক সেবা পাচ্ছে, তেমনি ঘরে বসে ব্যাংকিং সেবাও দেয়া যাবে।

ব্যাংকিং সেবাতেও প্রযুক্তির বিস্ফোরণ দেখতে চাই

মো. এহসান খসরু, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পদ্মা ব্যাংক লিমিটেড

স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানার চারটি আর বিশেষায়িত ব্যাংক ছিল দুটি। তখন ৭ কোটি মানুষের দেশে ছয়টি ব্যাংক পর্যাপ্ত ছিল না। ব্যাংকিং চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখন সব মিলিয়ে ৬১টি ব্যাংক হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের সংখ্যা বাড়লেও চাহিদা তৈরি করার তেমন উদ্যোগ ব্যাংকগুলো নিতে পারেনি।

প্রান্তিক জনগণের কাছে ব্যাংক সেভাবে যেতে পারেনি। ইনোভেটিভ ব্যাংকিং হচ্ছিল না। ফলে ব্যাংকের চাহিদা তৈরির জন্য ইনক্লুসিভ ব্যাংকিং সেবা শুরু হলো। প্রান্তিক মানুষকে ব্যাংকসেবার আওতায় আনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন প্রণোদনা দেয়া শুরু করে। এরপর থেকে কৃষি ও এসএমই ঋণ, রেমিট্যান্সে প্রণোদনা– সব সেবা ব্যাংকের মাধ্যমে দেয়া শুরু হয়।

ব্যাংকের চাহিদা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সেবা চালু হলো। এতে অধিকসংখ্যক মানুষ ব্যাংকের সুবিধাগুলো নেয়া শুরু করে। ফলে অনেক মানুষ ব্যাংক সেবার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হলো।

ব্যাংকগুলোও নিজ উদ্যোগে সীমিত ক্ষমতায় প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংক কার্যক্রম চালু করে। কিন্তু বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকের সেবা পৌঁছে দেয়ার সক্ষমতা সব ব্যাংকের নেই। ফলে অনেক ধরনের সেবা চালু হলেও ইনক্লুসিভ ব্যাংকিংয়ের পরিপূর্ণতা এখনও আসেনি।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
মো. এহসান খসরু

সামনের দিনে ব্যাংকিং খাতের ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশনের ক্ষেত্রে টেকনোলজির অবকাঠামো সরকারিভাবে আসা দরকার। কারণ একটার পর একটা ধাক্কা আসবে। করোনার পর আসছে ওমিক্রন। আগের মতো অর্থনীতিতে প্রভাব পড়লে ব্যাংকেও তার আঘাত লাগবে।

সামনের দিনে এসব মহামারি মেকাবিলার জন্য আরও প্রস্তুতি নিতে হবে। এই মুহূর্তে সব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে হবে। কারণ টিকা দেয়া না হলে মানুষের চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মুভমেন্ট কমে যায়।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ট্যাক্সি কোম্পানি উবার, কিন্তু এটা দেখা যায় না। সবচেয়ে বড় হোটেল এয়ার বিএনবি, এটাও দেখা যায় না। এগুলো টেকনোলজির বিস্ফোরণ। ইন্টারনেটের মাধ্যমে এগুলো পরিচালনা করা হয়।

সামনের দিনে ব্যাংকিং সেবাতেও এ জাতীয় টেকনোলজির বিস্ফোরণ দেখতে চাই, যে সেবা দেখা যাবে না, কিন্তু টেকনোলজির অবকাঠামোর কারণে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাবে।

এ অবকাঠামোর খরচ বহন করার সামর্থ্য সব ব্যাংকের নেই। ব্যাংকিং সিস্টেমে ইন্টিগ্রেটেড উপায়ে টেকনোলজিকে এগিয়ে নিতে হবে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে এটা করতে হবে।

টেকনোলজির মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষ যেন সরাসরি ব্যাংক সেবা পেতে পারে, সে ব্যবস্থা করা দরকার।

আগামী দিনে ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের’ শাস্তি দিতে দেশে শক্তিশালী আইন হচ্ছে। ব্যাংকগুলোই ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের চিহ্নিত করবে। কিন্তু আইন যদি সাপোর্টিভ না হয়, ক্লায়েন্ট যদি রিট করে দেয়, তাহলে আর কাজ হয় না। এ জন্য আইন শক্তিশালী করা হচ্ছে।

পাশাপাশি আদালতে কোনো রিট যেন না হয়, সেদিকে দেখতে হবে। আইন যেন সরাসরি ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিপক্ষেই থাকে।

ব্যাংকিং সেবা সব মানুষের কাছে পৌঁছাবে

মো. আরফান আলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যাংক এশিয়া লিমিটেড

আমরা লেজার বুক মার্কিং দিয়ে ব্যাংকসেবা শুরু করেছিলাম। স্বাধীনতার পর ’৯০-এর দশক পর্যন্ত এভাবেই চলে। এর পরই কিছু কিছু ব্যাংক অনলাইন লেনদেন চালু করে।

২০০০ সালের পর থেকে যে পরিবর্তন হয়েছে, সেটা লক্ষণীয়। ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। কম্পিউটার ও এমআইএস ব্যাংকিং (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম) সফটওয়্যার ব্যবহার অনেক বেড়েছে। পরবর্তীকালে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন চলছে।

আমরা এখন পরিবর্তনের সময়ে অবস্থান করছি। বিশেষ করে ব্যাংকিং রেগুলেশনে যেমন অনেক পরিবর্তন আসছে, পাশাপাশি ব্যাংকিং পদ্ধতিরও অনেক পরিবর্তন আসছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো ডিজিটাইজেশনের যুগে আমরা প্রবেশ করেছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগানের সঙ্গে ব্যাংকিং সেবাও পুরো ডিজিটাল করার পরিকল্পনা সব ব্যাংকেরই আছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে নতুন নতুন সেবা যুক্ত হচ্ছে। পারসোনাল (ব্যক্তি) ব্যাংকিংয়ে অনেক ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে একজন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সব লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে। এর সঙ্গে এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং এবং বিভিন্ন পেমেন্ট সেবাও চালু আছে। সামনে এসব সেবা আরও বাড়বে।

ব্যাংকারদের চোখে আগামীর ব্যাংকিং
মো. আরফান আলী

বাংলাদেশের ব্যাংকের অটোমেটেড ক্লিয়ারিং হাউস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সিস্টেমের আওতায় ব্যাংকিং সেবাকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে।

করপোরেট বিশ্বেও গ্রাহকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে।

ভবিষ্যতে ব্যাংকিং সেবা সব মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। এখনও ৫০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ব্যাংক সেবার বাইরে আছে। তাদের কাছে প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকসেবা পৌঁছাতে হবে। এটা ব্যাংক কমিউনিটির দায়।

আমাদের সরকারের ফিন্যানশিয়াল ইনক্লুশন স্ট্রাটেজি পেপারে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মধ্যে সবার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। ২০২৪ সালের মধ্যে জনসংখ্যার বিরাট অংশকে ব্যাংক সেবার আওতায় আনতে পারব এবং নতুন নতুন সেবা দিয়ে গ্রাহকের চাহিদা মেটাতে পারব।

আমাদের ব্যাংকগুলো শহরভিত্তিক ছিল, কিন্তু এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ব্যাংকের সেবা পৌঁছে গেছে। এটা আরও ছড়িয়ে দিতে হবে।

আগামী দিনের ব্যাংক খাত আরও ভালো করবে বলে আমি আশা করি। সম্পদের সমৃদ্ধি আরও ভালো হবে। ক্যারিয়ার ব্যাংকিংও ভালো হবে। ব্যাংক খাতে কাজ করার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন:
কিউকমের সিইও রিপন মিয়া ২ দিনের রিমান্ডে
স্ত্রীসহ কারাগারে এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইও আল আমিন
টাকা ফেরত পেতে পারেন কিউকমের গ্রাহকরা: ডিবি
কিউকমের মালিক গ্রেপ্তার
এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইওসহ গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

‘বস্ত্রখাতের বিশ্বায়ন: বাংলাদেশের উন্নয়ন’

‘বস্ত্রখাতের বিশ্বায়ন: বাংলাদেশের উন্নয়ন’

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তিতে পরিণত হয়েছে বস্ত্রখাত। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

জাতীয় বস্ত্র দিবস উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাষ্ট্রপতি বলেন, বস্ত্র মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের ইতিহাস সুপ্রাচীন এবং গৌরবময়।

বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেশে তৃতীয়বারের মতো আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় বস্ত্র দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাত্য ‘বস্ত্রখাতের বিশ্বায়ন: বাংলাদেশের উন্নয়ন’।

জাতীয় বস্ত্র দিবস উপলক্ষে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বস্ত্র মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। বস্ত্রশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি।

বস্ত্রখাতের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়টিও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ বস্ত্রশিল্প থেকে অর্জিত হচ্ছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বস্ত্রখাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের ইতিহাস সুপ্রাচীন এবং গৌরবময়। বস্ত্রখাত দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বস্ত্রশিল্প খাতকে নিরাপদ, শক্তিশালী এবং প্রতিযোগিতা সক্ষম করে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে আরও জানান, বস্ত্র কারিগরি শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ বস্ত্রশিল্পকে সহায়তার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বস্ত্র চাহিদা পূরণ, রপ্তানি বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ নিরাপদ, টেকসই, শক্তিশালী এবং প্রতিযোগিতা সক্ষম বস্ত্রখাত গড়ে তুলতে ‘বস্ত্র নীতি, ২০১৭’, ‘বস্ত্র আইন, ২০১৮’ এবং ‘বস্ত্রশিল্প (নিবন্ধন ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস কেন্দ্র) বিধিমালা, ২০২১’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

জাতীয় বস্ত্র দিবস উপলক্ষে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মূল অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এতে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে (কভিড-১৯) বিপর্যয়ের অভিঘাতে বস্ত্রখাত রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় সাতটি সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান করা হবে জানিয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন খাতের পাশাপাশি বস্ত্রখাতেও প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করায় এ খাত জাতীয় রপ্তানির ধারাকে করোনা ভাইরাসের ক্ষতিকর প্রাবমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

আরও পড়ুন:
কিউকমের সিইও রিপন মিয়া ২ দিনের রিমান্ডে
স্ত্রীসহ কারাগারে এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইও আল আমিন
টাকা ফেরত পেতে পারেন কিউকমের গ্রাহকরা: ডিবি
কিউকমের মালিক গ্রেপ্তার
এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইওসহ গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

উন্নয়নশীলে টেকসই হওয়ার পথ খুঁজছে বাংলাদেশ

উন্নয়নশীলে টেকসই হওয়ার পথ খুঁজছে বাংলাদেশ

উন্নয়নশীলে অবস্থান টেকসই করার জন্য এখন থেকেই উপায় খুঁজছে বাংলাদেশ। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

উন্নয়নশীল দেশের কাতারে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এই উত্তরণে অপেক্ষা করছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নানা জটিল সমীকরণ। প্রস্তুতি হিসেবে সক্ষমতার ঘাটতি এবং তা দূর করার উপায় অনুসন্ধানে গবেষণার কাজ শুরু করেছে সরকার।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চূড়ান্ত সম্মতির পর বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট বড় কোনো দুর্ঘটনার মুখোমুখী না হলে ২০২৬ সালের পরই বিশ্ব দরবারে উন্নয়নশীলদের কাতারে স্থায়ী ঠাঁই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অঙ্গনে এই উত্তরণকে টেকসই করা না গেলে বাংলাদেশকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মুখোমুখী হতে হবে নানা জটিল সমীকরণের।

এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কোথায় কোথায় সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে এবং তা দূর করতে উপায় কী হতে পারে, তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার।

এরই ধারাবাহিকতায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড সাপোর্ট মেজারস অনুবিভাগ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিভিন্ন প্রভাবের ওপর একটি সমীক্ষা চালানো হয়। এতে সাত ধরনের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বা সক্ষমতার ঘাটতি শনাক্ত করা হয়।

এগুলো হচ্ছে:

০১. বাণিজ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা হারানো।

০২. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের জন্য ক্রমান্বয়ে আমদানি শুল্ক হ্রাস।

০৩. কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা বা অন্যান্য প্রণোদনা দেয়ার সুযোগ সঙ্কুচিত হওয়া।

০৪. প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা।

০৫. দক্ষ ব্যবস্থাপক তথা দক্ষ মানব সম্পদের ঘাটতি।

০৬. পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক দাম ধরে রেখে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন।

০৭. দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বাইরে ডব্লিউটিওর আওতায় অন্যান্য সুবিধায় লাগাম।

সমীক্ষায় দাবি করা হয়, এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘাটতি দূর করে উত্তরণের আগেই বাংলাদেশের পরিপূর্ণ সক্ষমতা অর্জনে যত দ্রুত সম্ভব এসব বিষয়ে গবেষণা এবং যত দ্রুত সম্ভব এ সংক্রান্ত প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আওতায় মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা যথাযথ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়। এই জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকেই এ সমীক্ষা চালানো হয়।

ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে গবেষণা প্রকল্প চালু করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছে ট্রেড সাপোর্ট মেজারস অনুবিভাগ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সেলের মহাপরিচালক ও ট্রেড সাপোর্ট মেজার্স অনুবিভাগ প্রধান মো. হাফিজুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। কিছু চ্যালেঞ্জ আমরা তাৎক্ষণিক উদ্যোগে মোকাবিলা করতে পারব না।

‘এজন্য দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ লাগবে এবং তা হতে হবে খুবই সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত। সেখানে বিশ্ব বাণিজ্যের নানা জটিল মেরুকরণ এবং অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতা উত্তরণে গবেষণালব্ধ পদক্ষেপ ছাড়া খুব বেশি এগোনো যাবে না। বাস্তবতার নিরীখে পদক্ষেপ নিতে না পারলে উত্তরণ প্রক্রিয়াটিও সুখকর হবে না। এ কারণেই গবেষণায় জোর দেয়া হয়েছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চিহ্নিত বিষয়গুলোতে উন্নততর গবেষণা করা গেলে ওই গবেষণালব্ধ ফলাফল সক্ষমতা বাড়াতে সঠিক পদক্ষেপ নিতে সহায়ক হবে। গ্রহণযোগ্যতার মানদণ্ড অনুযায়ী দেশি-বিদেশি গবেষণা প্রতিষ্ঠান দিয়ে এই গবেষণার কাজটি করা যায়, যেখানে অর্থনীতিবিদ, বাণিজ্য বিশ্লেষক, কূটনীতিক, প্রযুক্তিবিদ ও পরিকল্পনাবিদরা অন্তর্ভূক্ত থাকতে পারেন।’

কেন এই সক্ষমতার অভাব

বিশ্বজুড়ে তৈরি পোশাকের অন্যতম কাঁচামাল ছিল তুলা বা সুতা। প্রযুক্তির কল্যাণে এখন তার জায়গা দখলে নিয়েছে এক ধরনের কৃত্রিম তন্তু।

সময়ের এই চাহিদাকে লুফে নিয়েছে বিশ্বের অনেক দেশ। তারা তুলা বা সুতার পরিবর্তে কৃত্রিম তন্তু দিয়েই বিভিন্ন পোশাক পণ্য উৎপাদন করছে।

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় হলেও এখন পর্যন্ত কৃত্রিম তন্তু দিয়ে পোশাক পণ্য উৎপাদনের কোনো প্রযুক্তি দেশে আনতে পারেনি। এমনকি গড়ে ওঠেনি এর কোনো পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পও। এ দুইয়ের অপ্রতুলতার কারণে দেশের উদ্যোক্তারা কৃত্রিম তন্তু দিয়ে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি কোনোটাই করতে পারছে না।

অপরদিকে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন কারখানায় সিনিয়র ও মিডল ম্যানেজমেন্টে অনেক বিদেশি নাগরিক কর্মরত আছেন।

বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) তথ্য মতে, দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন ও মধ্যবর্তী ব্যবস্থাপক পদে ১ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিক কাজ করছেন। এরা তাদের দক্ষতার মাধ্যমে প্রতি বছর দেশ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করে নিজ দেশে নিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকলে এ বিপুল অর্থ বিদেশে চলে যাওয়া যেমন এড়ানো যেত, পাশাপাশি এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি আরও বড় হতে পারত।

অপরদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, উত্তরণ পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে পাওয়া শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা আর থাকবে না। এর ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ শুল্ক বাড়বে। এতে দেশের রপ্তানি খাত নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাত্রা শুরুর পরপরই বাংলাদেশকে বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ), প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) এবং রিজিওনাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (আরটিএ) এর মতো বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য চুক্তি করতে হবে। তখন ক্রমান্বয়ে আমদানি শুল্ক কমাতে হবে।

এছাড়া, একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা বা প্রণোদনা দেয়ার সুযোগও সংকুচিত হয়ে আসবে।

যে কারণে গবেষণায় জোর

বাজার সুবিধা না থাকা, আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেয়ার রেওয়াজ সঙ্কুচিত হওয়া- এই ত্রিমুখী প্রতিকূলতার মুখে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ কী হবে, তা অনুসন্ধান করতে গবেষণা ছাড়া বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের উৎপাদনে সক্ষমতা যাচাইয়ে তৈরি পোশাক ছাড়া কোন কোন পণ্যে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিযোগিতামূলক দামে বাংলাদেশে উৎপাদন করা যায় এবং কী ধরনের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে, তা যাচাই সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বের করার জন্যেও গবেষণা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে উৎপাদিত পণ্যসকে কীভাবে আরও বেশি রপ্তানিমুখী করা যায়, তার ওপর তেমন কোনো গবেষণা নেই।

একইভাবে উত্তরণের পর সার্ভিস সেক্টরে এর প্রভাব সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ধারনা পেতে চান সংশ্লিষ্টরা।

কৃষিখাতে বর্তমানে দেয়া বিভিন্ন প্রণোদনা ও নীতি সুবিধা হ্রাস করতে হলে কৃষিখাতে এর প্রভাব কেমন হবে নিরূপণ করতে হবে।

কৃত্রিম তন্তু উৎপাদনে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প স্থাপন ও প্রযুক্তি আমদানি সহ ঘাটতি অন্যান্য খাতগুলোয় কীভাবে বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায় এবং এ বিষয়ে কোন ধরনের নীতি সহায়তা দেয়া যায়, সে বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে উপায় খোঁজ করাও হবে এসব গবেষণার উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন:
কিউকমের সিইও রিপন মিয়া ২ দিনের রিমান্ডে
স্ত্রীসহ কারাগারে এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইও আল আমিন
টাকা ফেরত পেতে পারেন কিউকমের গ্রাহকরা: ডিবি
কিউকমের মালিক গ্রেপ্তার
এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইওসহ গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

রানার মোটরসাইকেল কিনে কিস্তি, বিল পরিশোধ করা যাবে নগদে

রানার মোটরসাইকেল কিনে কিস্তি, বিল পরিশোধ করা যাবে নগদে

রানার মোটরসাইকেল কিনতে নগদ অ্যাকাউন্টধারীদের সুবিধা দিতে চুক্তি। ছবি: সৌজন্যে

গ্রাহকের চাহিদা পূরণের কথা মাথায় রেখে ডাক বিভাগের সেবা ‘নগদ’ ইএমআই-এর মাধ্যমে পেমেন্টের সুবিধা করে দিচ্ছে। ফলে ‘নগদ’-এর মাধ্যমে রানার থেকে মোটরসাইকেল কিনলে গ্রাহকেরা সেবাটিও উপভোগ করতে পারবেন।

এখন থেকে রানার অটোমোবাইলসের মোটরসাইকেল কেনার কিস্তিসহ সব ধরনের বিল পরিশোধ করতে পারবেন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর গ্রাহকেরা।

‘নগদ’-এর বিল পেমেন্ট অপশন ব্যবহার করে গ্রাহকেরা ইএমআই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

গ্রাহকের চাহিদা পূরণের কথা মাথায় রেখে ডাক বিভাগের সেবা ‘নগদ’ ইএমআই-এর মাধ্যমে পেমেন্টের সুবিধা করে দিচ্ছে। ফলে ‘নগদ’-এর মাধ্যমে রানার থেকে মোটরসাইকেল কিনলে গ্রাহকেরা সেবাটিও উপভোগ করতে পারবেন।

সম্প্রতি ‘নগদ’ ও দেশের বাজারে দেশীয় শীর্ষস্থানীয় মোটরসাইকেল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের মধ্যে এ সম্পর্কিত একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

এ সময় ‘নগদ’-এর পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাহেল আহমেদ, প্রধান বিপণন কর্মকর্তা (সিএমও) শেখ আমিনুর রহমান, হেড অফ বিজনেস সেলস মো. সাইদুর রহমান দিপু, হেড অফ করপোরেট সেলস (ঢাকা) মো. হেদায়াতুল বাশার ও করপোরেট সেলস (ঢাকা) মো. রিফাত রহমান উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রানার অটোমোবাইলসের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) ও চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) রিয়াজুল হক চৌধুরী, সিএফও সনাত দত্ত ও সিনিয়র ম্যানেজার সুমন কুমার রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘নগদ’ ও রানার অটোমোবাইলসের চুক্তির বিষয়ে ‘নগদ’-এর প্রধান বিপণন কর্মকর্তা শেখ আমিনুর রহমান বলেন, ‘‘দেশের বাজারে দেশিয় দুটি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সেরা সেবা দেয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। অনেকেই আছেন, যারা ক্যাশ টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল কিনতে কিছুটা সমস্যায় পড়েন। সেই সমস্যা সমাধান করবে ‘নগদ’। এখন চাইলেই ‘নগদ’-এর মাধ্যমে কিস্তিতে রানার মোটরসাইকেল কিনতে পারবেন গ্রাহকেরা।’’

আরও পড়ুন:
কিউকমের সিইও রিপন মিয়া ২ দিনের রিমান্ডে
স্ত্রীসহ কারাগারে এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইও আল আমিন
টাকা ফেরত পেতে পারেন কিউকমের গ্রাহকরা: ডিবি
কিউকমের মালিক গ্রেপ্তার
এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইওসহ গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

ওয়ালটন ল্যাপটপ-অ্যাক্সেসরিজে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

ওয়ালটন ল্যাপটপ-অ্যাক্সেসরিজে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

ওয়ালটন ল্যাপটপ কেনায় অফার ক্যাম্পইন উদ্বোধনে অতিথিরা। ছবি: সৌজন্যে

নগদ মূল্যে কেনার ক্ষেত্রে পণ্য ও মডেলভেদে সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাবেন ক্রেতারা।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বা ৫০ বছর উদযাপন করছে বাংলাদেশ। এ উপলক্ষ্যে ‘ওয়ালটন ল্যাপটপ বিজয় উল্লাস’ ক্যাম্পেইন চালু করেছে। এর আওতায় ওয়ালটনের যে কোনো শোরুম কিংবা অনলাইনের ই-প্লাজা থেকে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও কম্পিউটার এক্সেসরিজ কেনায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড় পাচ্ছেন গ্রাহকরা।

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর জুড়ে এ সুবিধা উপভোগ করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ওয়ালটন।

ঢাকায় ওয়ালটনের করপোরেট অফিসে সম্প্রতি এক প্রোগ্রামে এ ঘোষণা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে অনলাইনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্টেলের কান্ট্রি বিজনেস ম্যানেজার হুসেইন ফকরুদ্দিন এবং মাইক্রোসফটের প্রতিনিধি কেনেডি গোহ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও গোলাম মুর্শেদ। ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এন এম জিয়াউল আলম বলেন, ‘‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় ওয়ালটন বেশ বড় ভূমিকা রাখছে। ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ক্যাম্পেইনের বড় অংশীদার ওয়ালটন। আমরা বাংলাদশে তৈরি প্রযুক্তিপণ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। দেশে তৈরি পণ্যের জন্য আলাদা পলিসি প্রণয়ন করছি। দেশীয় আইটি পণ্যের বাজারে ওয়ালটনের বড় ভূমিকা রয়েছে এবং তাদের মার্কেট শেয়ার প্রতিনিয়ত বাড়ছে।’’

ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম বলেন, ‘বর্তমানে দেশের গ্রাহকদের চাহিদা অনুসায়ী বছরে ১৫ লাখ ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সক্ষমতা ওয়ালটনের আছে। ওয়ালটন পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রকল্পে সরকার ওয়ালটন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং আমরা এই চ্যালেঞ্জটি সফলভাবেই অতিক্রম করেছি।’

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও গোলাম মুর্শেদ বলেন, ‘এখন একটি ল্যাপটপ কিংবা একটি মোবাইল ফোন একজন মানুষকে স্বশিক্ষিত এবং স্বাবলম্বী করে তোলার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এক্ষেত্রে ওয়ালটন নীরবে দেশের মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।’

ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্যে ইন্টেল এবং মাইক্রোসফটের প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে সবাইকে অভিনন্দন জানান। তারা ওয়ালটন ল্যাপটপ বিজয় উল্লাস শীর্ষক ক্যাম্পেইনের সাফল্য কামনা করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লক্ষ্য নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী লিয়াকত আলী।

ক্যাম্পেইন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন ওয়ালটন কম্পিউটার ও আইটি এক্সেসরিজের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান রাদ।

তিনি জানান, নগদ মূল্যে কেনার ক্ষেত্রে পণ্য ও মডেলভেদে সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্ট পাবেন ক্রেতারা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ডিমএডি নজরুল ইসলাম সরকার ও এমদাদুল হক সরকার, ওয়ালটন প্লাজা ট্রেডের সিইও মোহাম্মদ রায়হান, ওয়ালটন গ্রুপের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান এস এম জাহিদ হাসান, নির্বাহী পরিচালক আজিজুল হাকিম ও জিনাত হাকিম প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
কিউকমের সিইও রিপন মিয়া ২ দিনের রিমান্ডে
স্ত্রীসহ কারাগারে এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইও আল আমিন
টাকা ফেরত পেতে পারেন কিউকমের গ্রাহকরা: ডিবি
কিউকমের মালিক গ্রেপ্তার
এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইওসহ গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, কমছে আমানতের সুদ

মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, কমছে আমানতের সুদ

গত কয়েক মাসে আমানতের সুদহার।

গত জুলাই মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। প্রতি মাসে বাড়তে বাড়তে তা পৌঁছেছে ৫ দশমিক ৭০ শতাংশে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ ছিল ব্যক্তি আমানতের সুদহার থাকবে মূল্যস্ফীতির বেশি। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুলাইয়ে সুদহার ছিল ৪ দশমিক ১১ শতাংশ। এখন সেটা কমে হয়েছে ৪ দশমিক ০১ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির চেয়ে আমানতের সুদহার বেশি রাখার নির্দেশের পরও আমানতের সুদহার ক্রমেই কমছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্য বলছে, ব্যাংক খাতে আমানতের গড় সুদহার এখন ঠেকেছে ৪ দশমিক ০১ শতাংশে। অথচ মূল্যস্ফীতির হার এখন ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

অবশ্য এটাও ঠিক যে, মূল্যস্ফীতির চেয়ে সুদহার বেশি রাখতে যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, সেটি শুধু ব্যক্তি আমানতের ওপর। প্রাতিষ্ঠানিক আমানতের সুদহার সর্বনিম্ন কত হবে, সে বিষয়ে অবশ্য কিছু বলা নেই। আর ব্যাংকে যে টাকা জমা রাখা হয়, তাতে ব্যক্তি আমানতের অবদান শতকরা হিসাবে অর্ধেকেরও কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে ব্যাংকগুলোর সংগৃহীত আমানতের গড় সুদহার ছিল ৪ দশমিক ০৮। কিন্তু অক্টোবরে সেখান থেকে আরও কমে যায়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ব্যাংকে আমানতের সুদহার এর চেয়ে কম কখনও ছিল না। ফলে ব্যাংক খাতে আমানতের সুদ হার নিয়ে হতাশা ক্রমেই বাড়ছে।

গত আগস্টে আমানতের গড় সুদহার ছিল সর্বনিম্ন ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ।

করোনা শুরুর আগে দেশের প্রায় সব বেসরকারি ব্যাংক আমানতের তীব্র সংকটে ছিল। তখন বেশি সুদের অফার দিয়ে অন্য ব্যাংকের গ্রাহককে নিজ দখলে নেয়ার প্রতিযোগিতায় ছিলেন ব্যাংকাররা।

কিন্তু করোনোর প্রাদুর্ভাবের শুরুতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতি হারালে ঋণের চাহিদা যায় কমে। বিনিয়োগ-খরায় দেশের মুদ্রাবাজারে তৈরি হয় অলস তারল্যের পাহাড়। সে সময় কোনো কোনো ব্যাংক আমানতের সুদহার নামায় ২ শতাংশের নিচে।

এই পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগী হয়ে ওঠে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলার দিয়ে জানানো হয়, মেয়াদি আমানতে সুদহার আগের তিন মাসের গড় মূল্যস্ফীতির কম থাকা চলবে না।

কিন্তু এই সার্কুলারের সঙ্গে ব্যাংকের সুদহারের কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে, গত জুলাই মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৩৬ শতাংশ। গত আগস্টে তা বেড়ে হয় ৫.৫৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে তা আরও বেড়ে হয় ৫.৫৯ শতাংশ। অক্টোবরে তা বাড়ে আরও।

অন্যদিকে গত মে মাসে আমানতের গড় সুদ ছিল ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। জুনে তা কমে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ১৩ শতাংশে, জুলাইয়ে যা আরও কমে হয় ৪ দশমিক ১১ শতাংশ। পরের দুই মাসেও ধারাবাহিকভাবে কমে আরও।

সুদহার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম থাকায় আসলে ব্যাংকে টাকা রেখে মানুষের আসলে কোনো লাভ হচ্ছে না। উল্টো টাকার মান কমে যাওয়ায় লোকসান হচ্ছে।

আমানতের সুদহার কমালেও ঋণের সুদহার ঠিকই বাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো। করোনার সময় যখন ঋণপ্রবাহ তলানিতে ঠেকেছিল, তখন ৭.৯৯ শতাংশ সুদহারে পারসোনাল লোন নিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠানো হতো।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতির পর আর্থিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ার পর ঋণের চাহিদাও বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ঋণের সুদহারও।

সবশেষ তথ্য বলছে, ঋণের গড় সুদহার এখন ৭.১৫ শতাংশ, যা গত বছর এই সময়ে ছিল ৭.৬৭ শতাংশ। গত আগস্টে তা ছিল ৭.২৪ শতাংশ, জুলাইয়ে ছিল ৭.৩০ শতাংশ।

২০২০ সালের এপ্রিল মাসে আমানত-ঋণের সুদ হার নিদির্ষ্ট করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন ঠিক হয় ক্রেডিট কার্ড ছাড়া যেকোনো ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯ শতাংশ, আর আমানতের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৬ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির চেয়ে আমানতের সুদহার বেশি রাখার আদেশ না মানার বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাধারণ সম্পাদক দ্য সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করলে সুদহার বেড়ে যেত। কিন্তু এক লাখ টাকা দেখা যাচ্ছে ডিপোজিট না করে সেভিংস অ্যকাউন্টে রাখা হচ্ছে। টাকা ব্যাংকে না রেখে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করছে।’

তিনি বলেন, ‘ফিক্সড ডিপোজিটে মানুষ টাকা না রেখে টাকা শেয়ারবাজারে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সমান সুদ ফিক্সড ডিপোজিটে দেয়ার কথা। কিন্তু দেখা গেছে, প্রচুর পরিমাণে কারেন্ট ও সেভিংস অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে। এসব অ্যাকাউন্টের কোনো নির্ধারিত মাত্রা বলে দেয়া নেই।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদেশ অমান্য করে মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হারে সুদ দেয়ার কারণ জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘নতুন আমানতে সুদহার বাড়া শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে এটা বেড়ে যাবে এমন নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ব্যাংকাররা মেনে চলছে।’

ব্র্যাক ব্যাংকে আমানতের বিপরীতে এখন কী হারে সুদ দেয়া হচ্ছে- এমন প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট জবাব না দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে চলছি।’

তবে ব্র্যাক ব্যাংকের আমানতের গড় সুদহার বিবেচনায় নিলে আহসান মনসুরের এই দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, এই ব্যাংকে আমানতের গড় সুদহার এখন আড়াই শতাংশের কম। মূল্যস্ফীতির হার এর চেয়ে অনেক বেশি।

কোন ব্যাংকে কত সুদ দিচ্ছে

অক্টোবর শেষে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের গড় সুদ হার ৪.০৬ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে যা ছিল ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ।

সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম সুদ হার সোনালী ব্যাংকে, ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বরে এই সুদহার ছিল ৩.৩৫ শতাংশ।

বিশেষায়িত কৃষি, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ও প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের গড় সুদ হার ৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর গড় সুদ হার ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম সুদহার ছিল ডাচ্‌-বাংলায়, ১.৭২ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বরে এই ব্যাংকটির গড় সুদহার ছিল ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। আগস্টে এই ব্যাংকটির গড় সুদহার ছিল ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

অক্টোবরে ব্র্যাংক ব্যাংকের আমানতের গড় সুদহার ২.৩০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির গড় সুদহার ছিল ২ দশমিক ২০ শতাংশ। আগস্টে ব্র্যাক ব্যাংকের আমানতের গড় সুদহার ছিল ২ দশমিক ১১ শতাংশ।

প্রাইম ব্যাংকে আমানতের গড় সুদহার ছিল ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ছিল ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগস্টে আমানতের গড় সুদহার ছিল ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

আইসিবি ইসলামী ব্যাংকে গত অক্টোবরে আমানতের গড় সুদহার বেড়ে ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির সুদহার ছিল ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আগস্টে আমানতের গড় সুদহার ছিল ২ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

ইস্টার্ন ব্যাংকে গত অক্টোবরে আমানতের গড় সুদহার ছিল ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ছিল ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আগস্টে আমানতের গড় সুদ ছিল ২ দশমিক ৬১ শতাংশ।

এ ছাড়া সিটি ব্যাংকের গড় সুদ ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

তবে এত কিছুর পরও ব্যাংকে আমানত বাড়ছে। সেপ্টেম্বরে ব্যাংক খাতে আমানত বেড়ে ১৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। এর আগের বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যাংক খাতে আমানত ছিল ১২ লাখ ৩৬ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এক বছরে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
কিউকমের সিইও রিপন মিয়া ২ দিনের রিমান্ডে
স্ত্রীসহ কারাগারে এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইও আল আমিন
টাকা ফেরত পেতে পারেন কিউকমের গ্রাহকরা: ডিবি
কিউকমের মালিক গ্রেপ্তার
এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইওসহ গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন

আমদানিতে রেকর্ডের পর রেকর্ড

আমদানিতে রেকর্ডের পর রেকর্ড

আমদানিতে ব্যস্ত চট্রগ্রাম বন্দর। ছবি: নিউজবাংলা

অক্টোবরে আমদানি বেড়েছে গত বছরের একই মাসের তুলনায় বেড়েছে ৬২.৫০ শতাংশ। আমদানি বাড়াকে দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক বলছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তবে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়ানোর দিকে জোর দিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

রপ্তানি আয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আমদানি ব্যয়। রেকর্ডের পর রেকর্ড হচ্ছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। এতে অর্থনীতিতে গতি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

গত অক্টোবরে ৭১১ কোটি (৭.১১ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ, যা গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে টাকার অঙ্কে (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৭০ পয়সা) এই অর্থের পরিমাণ ৬১ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক মাসে পণ্য আমদানিতে এতো বেশি অর্থ ব্যয় হয়নি। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওয়া লেগেছে আমদানির পালে। বাড়ছে ডলারের চাহিদা। এতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে পড়েছে টান। বেড়ে যাচ্ছে ডলারের দাম; কমছে টাকার মান।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ৬৯৯ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল, যা ছিল এক মাসের হিসাবে এতোদিন সর্বোচ্চ। তার আগের মাস আগস্টে আমদানি হয়েছিল ৬৫৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের পণ্য।

আমদানি বাড়াকে দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক বলছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। তবে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়ানোর দিকে জোর দিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার আমদানি সংক্রান্ত হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই-অক্টোবর সময়ে ২ হাজার ৫৮৩ কোটি ১২ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৫১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি।

২০২০-২১ অর্থবছরের এই চার মাসে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ২৩ লাখ (১৭.০৬ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের (২০১৯-২০) জুলাই-অক্টোবর চেয়ে ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ কম।

করোনা মহামারির কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় গত অর্থবছরের প্রথমার্ধে আমদানি বেশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় দ্বিতীয়ার্ধে এসে আমদানি বাড়তে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ৬৫ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড আমদানি খরচ নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছর শেষ হয়।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকে বাংলাদেশেও করোনার প্রকোপ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোদমে চালু হয়। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে আমদানি। এখন প্রতি মাসেই রেকর্ড হচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমদানি বাড়াকে দেশের অর্থনীতির জন্য ‘মঙ্গল’ হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছর করোনা মহামারির মধ্যেই দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে। প্রথম দিকে আমদানি কমলেও পরে বেড়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। তাই আমদানি বাড়ছে। এটা অর্থনীতির জন্য ভালো।

‘পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। এ সব প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়েছে।

‘এসব কারণেই গত অর্থবছরে আমদানি খাতে খরচ প্রথমবারের মতো ৬৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এবার আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।

‘এতে উদ্বেগের কিছু নেই। করোনার পর বিশ্ববাজারে অনেক পণ্যের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। সে কারণে রপ্তানিতেও রেকর্ড হচ্ছে। দেশের ভেতরেও চাহিদা বেড়েছে। সব মিলিয়ে সব খাতে উৎপাদন কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কাঁচামালসহ সব পণ্যের প্রয়োজন হচ্ছে। সে কারণেই আমদানিতে জোয়ার এসেছে।

‘এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আমদানি বাড়া মানে বিনিয়োগ বাড়া। বিনিয়োগ বাড়া মানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হওয়া।
‘তবে, আমদানির আড়ালে যাতে এক পণ্যের জায়গায় অন্য পণ্য না আসে, বিদেশে টাকা পাচার না হয়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।’

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আশার কথা হচ্ছে, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে আগামী বছর থেকেই যান চলাচল হবে। মেট্টোরেলও পুরোদমে চালু হবে। কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণকাজও শেষ হবে। এই তিনটি বড় প্রকল্প বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভিন্নমাত্রা যোগ করবে। আরও কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ চলছে। কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শেষ হয়েছে। আরও কয়েকটির কাজ চলছে।

‘সে পরিস্থিতিতে ২০২৩ সাল থেকে অন্য বাংলাদেশ পাবে দেশবাসী। আর এসব উন্নয়নযজ্ঞকে কেন্দ্র করেই বিনিয়োগের ছক কষছেন উদ্যোক্তারা। সে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পণ্য সরঞ্জাম আমদানি করছেন তারা। এতেই বাড়ছে আমদানি।’

তিনি বলেন, ‘স্বস্তির জায়গা হচ্ছে আমাদের রিজার্ভ এখনও সন্তোষজনক অবস্থায় আছে। রপ্তানিও আয় ভালো আসছে। তবে, রেমিট্যান্স কিন্তু অনেক কমে গেছে। যে কারণে যদি রপ্তানিও কমে যায়, তাহলে কিন্তু রিজার্ভও কমে যাবে। ফলে সরকারের এখন রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দেওয়া উচিৎ।’

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির প্রধান বাজার ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মানুষ আগের মতো পোশাক কিনছে। সে কারণে প্রচুর অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের এখানেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে রপ্তানিসহ অন্যান্য খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানি বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক আমদানিতে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ২১ শতাংশ। আর রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, এই পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।

রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার
রেমিট্যান্স কমায় ও আমদানির উল্লম্ফনে বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভেও প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভ ছিল ৪৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।
গত ৪ নভেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে, যা ছিল গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর পর থেকে তা ৪৫ বিলিয়ন ডলারের নিচেই অবস্থান করছে।

বেশ কয়েক বছর ধরে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। একের পর এক রেকর্ড হয়। করোনাকালে আমদানিতে ধীরগতি আর রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের অর্থনীতির এই সূচক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, যা ছিল অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

আরও পড়ুন:
কিউকমের সিইও রিপন মিয়া ২ দিনের রিমান্ডে
স্ত্রীসহ কারাগারে এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইও আল আমিন
টাকা ফেরত পেতে পারেন কিউকমের গ্রাহকরা: ডিবি
কিউকমের মালিক গ্রেপ্তার
এসপিসি ওয়ার্ল্ডের সিইওসহ গ্রেপ্তার ৩

শেয়ার করুন