চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলল তদন্তে

চেয়ারম্যানের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলল তদন্তে

পাবনার সুজানগরের ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান। ছবি: নিউজবাংলা

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ‘চেয়ারম্যান ইউপি সচিবের সহায়তায় ভাতাভোগীদের ৫০০ টাকার বদলে ৪৫০ টাকা করে বিতরণ করেছেন বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। চেয়ারম্যান অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার বক্তব্যের সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।’

পাবনার সুজানগর উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহানের বিরুদ্ধে সরকারি সহায়তার অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে তদন্তে।

তদন্ত কমিটির জমা দেয়া প্রতিবেদনে এর সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) বিশ্বাস রাসেল হোসেন।

ডিসি মঙ্গলবার নিউজবাংলাকে জানান, চেয়ারম্যানের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদনটি পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান উপজেলার দুলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে করোনাকালে সরকারের দেয়া মানবিক সহায়তার অর্থ আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ ডিসির কাছে দেন উপকারভোগীরা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত রোজার ঈদের সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দরিদ্রদের জন্য জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ আসে। দুলাই ইউনিয়নে ১৫০ জন সেই সহায়তা পাওয়ার তালিকায় নাম লেখান।

চেয়ারম্যান শাহজাহান সেই বরাদ্দ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে কেটে রাখেন। আবার অনেকের টাকা না দিয়ে ভুয়া স্বাক্ষর ও টিপসই দিয়ে মাস্টাররোল পূরণ করেছেন।

অভিযোগ পেয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাফিউল ইসলামকে আহ্বায়ক, উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মনোয়ার হোসেন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদাকে সদস্য করে কমিটি করেন ডিসি।

সেই কমিটি গত ২৯ জুন সরেজমিনে ঘটনা তদন্ত করে। কমিটির জমা দেয়া প্রতিবেদনের একটি কপি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের হাতেও এসেছে।

তাতে দেখা গেছে, উপকারভোগী অন্তত ১৫ জনকে ৫০০ টাকার বদলে দেয়া হয়েছে ৪০০ ও ৪৫০ টাকা। আর তিনজনের নাম তালিকায় থাকলেও তারা কোনো টাকা পাননি। অথচ তাদের নামে টাকা তোলার সই আছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক রাফিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের বক্তব্য শুনেছি। চেয়ারম্যান ইউপি সচিবের সহায়তায় ভাতাভোগীদের ৫০০ টাকার বদলে ৪৫০ টাকা করে বিতরণ করেছেন বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।

‘আরেক ট্যাগ অফিসার উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম শাহজাহান অভিযোগ অস্বীকার করলেও তার বক্তব্যের সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। কাজেই তার বিরুদ্ধে মানবিক সহায়তার অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক চেয়ারম্যানের সশ্রম কারাদণ্ড
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রবিউল বিজয়নগর থেকে মোটরসাইকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছিলেন। হাইওয়ে থানার সামনে সিলেটগামী একটি কাভার্ডভ্যান তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রবিউলের মৃত্যু হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের এক আরোহী নিহত হয়েছেন।

সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার সামনে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ৩১ বছর বয়সী রবিউল ইসলামের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাজী পাম্প ও মোটরসের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ ছিলেন। শহরেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ জানায়, রবিউল বিজয়নগর থেকে মোটরসাইকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছিলেন। হাইওয়ে থানার সামনে সিলেটগামী একটি কাভার্ডভ্যান তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই রবিউলের মৃত্যু হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজালাল আলম নিউজবাংলাকে জানান, মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। কাভার্ডভ্যান নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় চালককে আটক করা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।’

আরও পড়ুন:
অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক চেয়ারম্যানের সশ্রম কারাদণ্ড
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’

শেয়ার করুন

ছেলেকে তুলে নিয়ে তরুণীর বিয়ে

ছেলেকে তুলে নিয়ে তরুণীর বিয়ে

নাজমুলের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, আসামি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাজমুলকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। নাজমুল রাজি না হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে ৭-৮ জন অপরিচিত লোক তাকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। সেখানে জোর করে তার কাছ থেকে একটি নীল কাগজে সই নেয়া হয়।

পটুয়াখালীতে কলেজছাত্রকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগে এক তরুণীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পটুয়াখালী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে ৩ অক্টোবর অভিযোগ দেন ওই যুবক। আদালতের নির্দেশে রোববার রাতে মামলাটি নেয় পটুয়াখালী সদর থানা।

মামলার বাদী মো. নাজমুল আকন পটুয়াখালী সরকারি কলেজের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা সদরে। আসামি তরুণীর বাড়িও একই উপজেলায়।

নাজমুলের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, আসামি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাজমুলকে প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।

নাজমুল রাজি না হওয়ায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকা থেকে ৭-৮ জন অপরিচিত লোক তাকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান। সেখানে জোর করে তার কাছ থেকে একটি নীল কাগজে সই নেয়া হয়। পরে ওই দিনই তাকে শহরে ছেড়ে দেয়া হয়।

নোমানের ধারণা, ওই কাগজ দিয়ে তারা একটি কাবিননামা তৈরি করবেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর নাজমুল গত ৩ অক্টোবর পটুয়াখালী জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে মামলার আবেদন করেন। পরে বিচারক মামলাটি নথিভুক্ত করতে পটুয়াখালী সদর থানাকে নির্দেশ দেন।

মামলার কাগজপত্রের সঙ্গে বিয়ের একটি ভিডিও ক্লিপও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে জানিয়েছেন নাজমুলের আইনজীবী।

ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, নাজমুল ও ওই তরুণী পাশাপাশি দুটি চেয়ারে বসে আছেন। নাজমুলের পেছনে দাঁড়ানো একজন তার ঘাড়ের দুই পাশ ধরে আছেন। অন্য পাশ থেকে একজন তরুণী ও নাজমুলের মুখে মিষ্টিজাতীয় কিছু তুলে দিচ্ছেন। সেখানে নাজমুলকে চুপচাপ দেখা গেলেও তরুণী ছিলেন চঞ্চল।

এ বিষয়ে তরুণী বা তার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, রোববার আদালতের নির্দেশের কপি পাওয়ার পরই মামলা নেয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি কাজও শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন:
অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক চেয়ারম্যানের সশ্রম কারাদণ্ড
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’

শেয়ার করুন

কৃষক হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

কৃষক হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জে কৃষক হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্থানীয় বাজারে ধান বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন কৃষক বাচ্চু মিয়া। এ সময় রাস্তায় তার গতিরোধ করে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন জসিম উদ্দিন ও তার ভাইয়েরা। ওই দিন রাতেই বাচ্চুর বড় ভাই হারুনুর রশীদ ছয়জনকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

কিশোরগঞ্জে কৃষক হত্যা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

আসামিদের উপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের হাকিম নার্গিস ইসলাম ১৮ অক্টোবর সোমবার সকালে এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জসিম উদ্দিন সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের মনাকর্ষা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, পুকুরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে জসিম উদ্দিনের লোকজনের সঙ্গে বিরোধ ছিল একই এলাকার বাচ্চু মিয়ার লোকজনের। আর এ ঘটনার জেরেই হত্যাকাণ্ড।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্থানীয় বাজারে ধান বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন কৃষক বাচ্চু মিয়া। এ সময় রাস্তায় তার গতিরোধ করে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন জসিম উদ্দিন ও তার ভাইয়েরা।

ওই দিন রাতেই বাচ্চুর বড় ভাই হারুনুর রশীদ ছয়জনকে আসামি করে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দেয় পুলিশ। দীর্ঘ ১৩ বছর পর সোমবার এ রায় দেন বিচারক।

রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন রাখাল চন্দ দেবনাথ ও আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান।

বাদীপক্ষের রাখাল চন্দ্র দেবনাথ জানান, এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। এতে বাদীপক্ষ অত্যন্ত খুশি। তবে এই রায়ের দ্রুত বাস্তবায়ন চান তারা।

আসামি উচ্চ আদালতে গেলে ন্যায়বিচার পাবেন বলে মনে করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন:
অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক চেয়ারম্যানের সশ্রম কারাদণ্ড
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’

শেয়ার করুন

মেঘনা নদী থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ২

মেঘনা নদী থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ২

ভোলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড

কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট এস এম তাহসিন রহমান বলেন, ‘গতকাল (রোববার) লঞ্চঘাট এলাকায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী সাতটি বালুবাহী বাল্কহেডকে একদল চাঁদাবাজ মেঘনা নদীর ইলিশা ও ভাংতির খাল এলাকায় নোঙর করতে বলেছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জামান এবং কামরুলকে ৭ হাজার ৯০০ টাকা ও ২টি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়।’

ভোলা সদরের মেঘনা নদী থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাটের ভাংতির খাল এলাকা থেকে কোস্ট গার্ডের দক্ষিণ জোন রোববার রাতে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে। পরে তাদের ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আটক দুজন হলেন মো. জামান ও মো. কামরুল। তাদের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা জংশন এলাকায়।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট এস এম তাহসিন রহমান।

তিনি বলেন, ‘ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকায় কিছু চাঁদাবাজ সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী বাল্কহেডগুলো থেকে বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজির জন্য আটক করছে এমন খবর পাই।

‘এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল (রোববার) লঞ্চঘাট এলাকায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী সাতটি বালুবাহী বাল্কহেডকে একদল চাঁদাবাজ মেঘনা নদীর ইলিশা ও ভাংতির খাল এলাকায় নোঙর করতে বলেছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় জামান এবং কামরুলকে ৭ হাজার ৯০০ টাকা ও ২টি মোবাইল ফোনসহ আটক করা হয়।’

কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা জানান, আটকদের ভোলা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এখনও মামলা হয়নি।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এখতিয়ারভুক্ত এলাকাগুলোতে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:
অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক চেয়ারম্যানের সশ্রম কারাদণ্ড
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’

শেয়ার করুন

হোম ডেলিভারি হচ্ছে মা ইলিশ

হোম ডেলিভারি হচ্ছে মা ইলিশ

ফাইল ছবি

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিনে তিনটি দলে ভাগ হয়ে মেঘনায় মা ইলিশ শিকার করছেন প্রভাবশালী জেলেরা। একদল নদীর পাড়ে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেয়। আরেক দল জাল ও নৌকা নিয়ে ইলিশ শিকার করে। শেষ দলের কাজ সেই ইলিশ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া।

ভোলার মনপুরার মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ নিধন করছেন কিছু অসাধু জেলে। আর সেই ইলিশ আবার হোম ডেলিভারির মাধ্যমে গ্রাহকের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।

নিষেধাজ্ঞার সময় মা ইলিশ নিধন করায় প্রকৃত ইলিশ জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিনে তিনটি দলে ভাগ হয়ে মেঘনায় মা ইলিশ শিকার করছেন প্রভাবশালী জেলেরা। একদল নদীর পাড়ে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেয়। আরেক দল জাল ও নৌকা নিয়ে ইলিশ শিকার করে। শেষ দলের কাজ সেই ইলিশ বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া।

মৎস্যজীবী নেতা জাহাঙ্গীর মাঝি ও সাইফুল মাঝির নেতৃত্বে সোমবার সকালে একদল মাঝি মনপুরা প্রেস ক্লাবে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোম ডেলিভারি দেয়া এক জেলে জানান, গ্রাহকের সঙ্গে ফোনে দাম ও কত হালি ইলিশ লাগবে তা নির্ধারণ করা হয়। পরে ভোররাতে গ্রাহকের চাহিদামতো ইলিশ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।

এখন ইলিশের দাম কত এমন প্রশ্নে ওই ডেলিভারি সদস্য জানান, প্রতি হালি ইলিশ দেড় হাজার টাকা থেকে ২ হাজার টাকা। প্রতিটি ইলিশের ওজন ১ কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি ওজনের।

এই ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল গাফফার জানান, মেঘনায় অভিযান চলছে। অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা বলেন, ‘মনপুরার চারপাশে মেঘনা। তাই মেঘনায় অভিযান চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তবে ৩টি টিম অভিযান করছে। অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন:
অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক চেয়ারম্যানের সশ্রম কারাদণ্ড
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’

শেয়ার করুন

‘দেশের পরিবেশ নষ্টের জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে’

‘দেশের পরিবেশ নষ্টের জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে’

বিক্রমী রাম দাস বলেন, ‘দেশের পরিবেশ কেন নষ্ট হয়েছে তার জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। যদি কেউ কোনো ধর্মকে অবমাননা করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে, সে যে ধর্মেরই হোক না কেন।’

দেশের পরিবেশ কেন নষ্ট হয়েছে প্রশাসনের কাছে সেই জবাব দাবি করেছেন দিনাজপুরের শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির ইসকনের অধ্যক্ষ বিক্রমী রাম দাস।

দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে মানববন্ধনে তিনি এ দাবি জানান।

নোয়াখালীর ইসকন মন্দিরসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন পাঁচ শতাধিক মানুষ।

‘দেশের পরিবেশ নষ্টের জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে’

এ সময় বিক্রমী রাম দাস বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িকতাকে বিশ্বাস করে। এ দেশের মানুষ কখনোই একে অপরের ধর্মকে অবমাননা করতে পারে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে, পূজামণ্ডপে ও বাড়িতে ভাঙচুরের যে ঘটনা ঘটেছে তার দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে। সরকারকে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

‘দেশের পরিবেশ কেন নষ্ট হয়েছে তার জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে। সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। যদি কেউ কোনো ধর্মকে অবমাননা করে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে, সে যে ধর্মেরই হোক না কেন।’

মানববন্ধন শেষে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এর আগে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) জেলা শাখা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন করে। এতে বক্তব্য দেন জেলা জাসদের সভাপতি লিয়াকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক চেয়ারম্যানের সশ্রম কারাদণ্ড
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’

শেয়ার করুন

কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি

কুমিল্লায় ক্ষতিগ্রস্ত মণ্ডপ পরিদর্শনে ঢাবি শিক্ষক সমিতি

সাধারণ সম্পাদক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ধর্ম যার যায় উৎসব সবার। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য যারা ভাঙতে চায় তারা দেশ ও জাতির শত্রু।’

কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক সমিতির নেতারা।

তারা সোমবার দুপুর ১২টার দিকে মণ্ডপ পরিদর্শনে যান।

পরিদর্শন শেষে শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘কেউ যদি আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনায় আঘাত করতে চায়, তাহলে আমরা তাদের কখনোই সহ্য করব না। আমরা রাষ্ট্রের কাছে জোর দাবি জানাই, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদেরকে চিহ্নিত করে অতি দ্রুতই শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

সাধারণ সম্পাদক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘ধর্ম যার যায় উৎসব সবার। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য যারা ভাঙতে চায় তারা দেশ ও জাতির শত্রু।’

আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী, টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক শফিউল আলম ভূঁইয়া, সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. আবদুর রহিম, সদস্য ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট লতিফা জামাল, ড. জিয়া রহমান ও গবেষক আহসানুল কবির।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রক্টর নাজিব হোসেন খান, অধ্যাপক সৌরভ শিকদার, অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর আহাম্মদ, ড. রোবায়েত ফেরদৌস, ড. শামীম রেজা, ড. মো. মিজানুর রহমান, ড. কে এম সালাউদ্দীন, ড. মো. আকরাম হোসেন, এ বি এম আশরাফুজ্জামান, ড. মো. আবুল মুহিত, ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, ড. নাজমুন নাহার, ড. ইশতিয়াক এম সৈয়দ ও ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী।

শিক্ষক সমিতির নেতাদের পক্ষ থেকে ২৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দোষীদের শাস্তি দাবি করে স্মারকলিপি দেয়ার কথা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক চেয়ারম্যানের সশ্রম কারাদণ্ড
ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা
এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার ৩ ভাই ৭ দিনের রিমান্ডে
এহসান গ্রুপ যশোরে হাতিয়েছে ‘৩২২ কোটি টাকা’
শরিয়তসম্মত বিনিয়োগের প্রলোভনে পকেটে ‘১৭ হাজার কোটি’

শেয়ার করুন