আমদানির পালে হাওয়া

আমদানির পালে হাওয়া

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির প্রধান বাজার ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মানুষ আগের মতো পোশাক কিনছে। এ কারণে প্রচুর চাহিদা পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের এখানেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে রপ্তানিসহ অন্য খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিসহ পণ্যের আমদানি বাড়ছে।’

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওয়া লেগেছে আমদানির পালে। এতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে পড়েছে টান।

আমদানি বাড়াকে দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গল বলছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার বিদেশি লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত আগস্টে ৬০৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। জুলাইয়ে এ খাতে খরচ হয়েছিল ৪৭৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) এক হাজার ৮৪ কোটি ৪০ লাখ (১০.৮৫ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ শতাংশ বেশি।

২০২০-২১ অর্থবছরের ওই দুই মাসে ৭৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে বিভিন্ন ধরণের পণ্য রপ্তানি করে ৬৭৩ কোটি ২০ লাখ (৬.৭৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে চেয়ে দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কম।

এ হিসাবে ওই দুই মাসে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১১ কোটি ৬০ লাখ (৪.১৫ বিলিয়ন) ডলার; যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ গুণ বেশি।

তবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সোমবার রপ্তানি আয়ের হালনাগাদের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮ শতাংশ।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে গত অর্থবছরের মত এবারও বড় বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে অর্থবছর শেষ হবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএসস) গবেষক ও রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমদানি বাড়া মানে বিনিয়োগ বাড়া। বিনিয়োগ বাড়া মানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার হওয়া।’

করোনা মহামারির কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় গত অর্থবছরের প্রথমার্ধে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি সহনীয় পর্যায়ে ছিল। কিন্তু রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান বাজার ইউরোপ-আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় দ্বিতীয়ার্ধে এসে আমদানি বাড়তে শুরু করে।

শেষ পর্যন্ত অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে পণ্য বাণিজ্যে প্রায় ২৩ বিলিয়ন (২ হাজার ৩০০ কোটি) ডলারের ঘাটতি নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছর শেষ হয়। ওই অর্থবছরের শেষের কয়েক মাসে আমদানিতে উল্লম্ফনের কারণে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান দুই সূচক আমদানি-রপ্তানির ব্যবধান চূড়ায় ওঠে।

জায়েদ বখত বলেন, ‘গত দেড় বছর কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। প্রথমদিকে আমদানি কমলেও পরে বেড়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তাই আমদানি বাড়ছে। এটা অর্থনীতির জন্য ভালো।

‘পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পের কাজ মহামারির মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে। এ সব প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়েছে।’

এসব কারণেই গত অর্থবছরে আমদানি খাতে খরচ প্রথমবারের মতো ৬৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে মনে করছেন জায়েদ বখত।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি যেটা বাড়ছে, তা যদি বিনিয়োগে না আসে তবে তা চিন্তার বিষয়।

‘আশার কথা হচ্ছে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে আগামী বছর থেকেই যান চলাচল করবে। মেট্টোরেলও পুরোদমে চালু হবে। কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণ কাজও শেষ হবে। এই তিনটি বড় প্রকল্প বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ভিন্নমাত্রা যোগ করবে।

‘সে পরিস্থিতিতে ২০২৩ সাল থেকে অন্য বাংলাদেশ পাবে দেশবাসী। আর এসব উন্নয়ন যজ্ঞকে কেন্দ্র করেই বিনিয়োগের ছক কষছেন উদ্যোক্তারা। সে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পণ্য সরঞ্জাম আমদানি করছেন তারা। এতেই বাড়ছে আমদানি।’

তিনি বলেন, ‘স্বস্তির জায়গা হচ্ছে আমাদের রিজার্ভ যথেষ্ট আছে। আমদানি বাড়লেও সমস্যা নেই। রিজার্ভ থেকে বিদেশি মুদ্রা খরচ করতে সমস্যা হচ্ছে না।’

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির প্রধান বাজার ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মানুষ আগের মতো পোশাক কিনছে। সে কারণে প্রচুর চাহিদা পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের এখানেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে রপ্তানিসহ অন্যান্য খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানি বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক আমদানিতে।’

সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি বাড়ছে

জুলাই-আগস্ট সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।

লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি

আমদানি বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। জুলাই-আগস্ট সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ হয়েছে ১২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অথচ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত নিয়ে অর্থবছর শুরু হয়েছিল।

গত বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ৩২২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বড় ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২০-২১ অর্থবছর। নয় মাস পর্যন্ত (জুলাই-মার্চ) এই সূচক উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু এপ্রিল থেকে ঘাটতি (ঋণাত্মক) দেখা দেয়।

নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে রাষ্ট্রকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না।

কমেছে রেমিট্যান্স

মহামারির মধ্যেও গত ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৮০ লাখ (২৪.৭৮ বিলিয়ন) ডলারের রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের বছর পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৬ দশমিক ১১ শতাংশ। অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় ছিল এই সূচক।

কিন্তু ২০২১-২২ অর্থবছরে জোয়ারে ভাটা পড়েছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৩৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের এই দুই মাসে এসেছিল ৪৫৬ কোটি ২০ লাখ ডলার।

এ হিসাবে এই দুই মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে ১৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার সেপ্টেম্বর মাসের রেমিট্যান্সের তথ্যও প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের সেপ্টেম্বরে যা ছিল ২১৫ কোটি ১০ লাখ ডলার।

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্য

জুলাই-আগস্ট সময়ে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্ত ছিল অনেক বেশি; ২৪৭ কোটি ডলার।

২০২০-২১ অর্থবছর শেষে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৯২৭ কোটি ৪০ লাখ (৯.২৭ বিলিয়ন) ডলার। তার আগের বছরে (২০১৯-২০) ছিল ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

আর্থিক হিসাবে ঘাটতি

গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে আর্থিক হিসাবে ৩২২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত নিয়ে অর্থবছর শুরু হয়েছিল। শেষ হয়েছিল ১ হাজার ৩০৮ কোটি ডলারের বিশাল উদ্বৃত্ত নিয়ে।

এবার অবশ্য সেই ইতিবাচক ধারা নেই। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) আর্থিক হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

রিজার্ভ ৪৬.২ বিলিয়ন ডলার

সোমবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৬.২ বিলিয়ন ডলার। গত ২৪ আগস্ট অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল।

আমদানি বাড়ায় সে রিজার্ভ কমে ৪৬.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ

দক্ষতা উন্নয়ন-কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ

চাকরির পরীক্ষা দিচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি

ইআরডি বলছে, দেশের শিল্পকারখানাগুলো তুলনায় বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। দেশে দেশে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও চাকরির ক্ষেত্রে এখনও তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন খাতে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের লক্ষ্যে উচ্চ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

দক্ষ শ্রমশক্তি তৈরি ও নতুন করে কর্মসংস্থান বাড়াতে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার বা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে উন্নয়ন সংস্থা বিশ্বব্যাংক। এ অর্থে দেশের কারিগরি খাতের দক্ষতা উন্নয়ন করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর কথা জানিয়েছে সরকার।

সোমবার এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ-ইআরডি।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন এবং ইআরডি সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

ইআরডি বলছে, দেশের শিল্পকারখানাগুলো তুলনায় বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। দেশে দেশে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়ছে। শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও চাকরির ক্ষেত্রে এখনও তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়ন খাতে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের লক্ষ্যে উচ্চ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শ্রম উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জেন্ডার আয়ের সমতা বিধান এবং কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ করে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হাতকে আরও দক্ষ করে তুলতে হবে। এসব বিবেচনায় সরকার ‘এক্সিলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেনদেনিং স্কিলস ফর ইকনোমিক ট্রান্সফরমেশন (এসেট)’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (আইডএ) এ ঋণ অ্যাসেট প্রকল্পে ব্যয় হবে।

আইডিএ অর্থায়নের এই ঋণ পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ (এ সময়ের মধ্যে কোনো ঋণ পরিশোধ করতে হবে না) ৩০ বছরে শোধ দিতে হবে। ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর বাৎসরিক দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ ও ১ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করতে হবে।

এ ছাড়া অনুত্তোলিত অর্থের উপর দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কমিটমেন্ট ফি দিতে হবে।

এ প্রকল্পে প্রায় ১ লাখ যুবক ভবিষ্যৎ চাহিদা উপযোগী কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ পাবে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে এ প্রকল্পে প্রধান বাস্তবায়নকারী থাকবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। সহবাস্তবায়ন সংস্থা হিসেবে থাকবে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের জুলাই থেকে শুরু হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে।

শেয়ার করুন

ঢাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলন ২৬ অক্টোবর থেকে

ঢাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলন ২৬ অক্টোবর থেকে

বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের আরও বেশি অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। এ সম্মেলনের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরা হবে, যার মাধ্যমে আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সপ্তাহব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্মেলন।

মুজিব শতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে। এটি শুরু হবে ২৬ অক্টোবর থেকে। চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত।

ঢাকা চেম্বার বলেছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের আরও বেশি অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। এ সম্মেলনের মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের সক্ষমতা তুলে ধরা হবে, যার মাধ্যমে আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব হবে।

‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২১’ শীর্ষক এ ভার্চুয়াল আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের ৫৫২টি কোম্পানি সপ্তাহব্যাপী এতে অংশগ্রহণ করবে।

সোমবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, এ মেলার মাধ্যমে বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

তিনি জানান, ভার্চুয়াল এ বাণিজ্য সম্মেলনের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের কাছে করোনা মহামারির সময়েও ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বাংলাদেশের প্রস্তুতি তুলে ধরা হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এ বাণিজ্য সম্মেলন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হবে, যা আমাদের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।’

রিজওয়ান রহমান আরও বলেন, ‘আমাদের রপ্তানিখাত বেশি মাত্রায় তৈরি পোশাকনির্ভর। এখন সময় এসেছে অন্যান্য খাতগুলোকে নিয়ে কাজ করা এবং বাণিজ্য সম্মেলনে সম্ভাবনাময় খাতের উপর আলোকপাত করা।’

ঢাকা চেম্বার বলেছে, সম্মেলনে ছয়টি ওয়েবিনারের আয়োজন করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট খাতের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন।

এ ছাড়া বাণিজ্য সম্মেলনে জ্বালানি, তথ্য প্রযুক্তি, চামড়াজাত পণ্য, ফার্মাসিউটিক্যালস, অটোমোটিভ অ্যান্ড লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, পাট ও বস্ত্র, খুচরা ব্যবসা প্রভৃতি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করা হবে।

শেয়ার করুন

মীরসরাইয়ে হচ্ছে শেখ রাসেলের নামে ইনস্টিটিউট

মীরসরাইয়ে হচ্ছে শেখ রাসেলের নামে ইনস্টিটিউট

শেখ রাসেল দিবসে আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। ছবি: নিউজবাংলা

টিপু মুনশি বলেন, ‘একজন শিশু কখনোই কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির প্রতিপক্ষ হতে পারে না। শিশু হত্যা একটি জঘন্য ও ঘৃণীত কাজ; ঘাতকরা তা করেছে। ইতিহাসের পাতার খুনিরা ঘৃণীত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। রাসেল হত্যার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান চিরদিন থাকবে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিশুকে হত্যা করা না হয়। শেখ রাসেল হত্যার বিচার হয়েছে। কোনো বাধাই এ বিচার ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি।’

দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে রপ্তানি আয় বাড়াতে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে শেখ রাসেল ইনস্টিটিউট অফ জেনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি গড়ে তুলছে সরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এটি নির্মাণ হচ্ছে।

সচিবালয়ে সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘শেখ রাসেল দিবস-২০২১’ আলোচনা সভায় এ তথ্য জানায় মন্ত্রণালয়।

এবারের শেখ রাসেল দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস।’

শুরুতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে ফুলের মালা দেয়া হয়।

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ রাসেলের জন্মদিনে আমরা শেখ রাসেল দিবস উদযাপন করছি। তবে আমাদের সামনে বার বার ভেসে উঠছে তার মৃত্যুর স্মৃতি। শেখ রাসেল ছিল বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সবচেয়ে আদরের শিশু, সবার প্রিয়। তাকেও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘একজন শিশু কখনোই কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির প্রতিপক্ষ হতে পারে না। শিশু হত্যা একটি জঘন্য ও ঘৃণীত কাজ; ঘাতকরা তা করেছে। ইতিহাসের পাতার খুনিরা ঘৃণীত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

‘রাসেল হত্যার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান চিরদিন থাকবে। আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিশুকে হত্যা করা না হয়। শেখ রাসেল হত্যার বিচার হয়েছে। কোনো বাধাই এ বিচার ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি।’

আলোচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অধিভুক্ত বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মফিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. জাফর উদ্দীন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান এএইচএম আহসান, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের প্রধান নিয়ন্ত্রক শেখ রফিকুল ইসলাম, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের রেজিস্ট্রার শেখ শোয়েবুল আলম, ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফুল হাসান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মালেকা খায়রুন্নেসা অংশ নেন।

শেয়ার করুন

ই-কমার্স পরিচালনায় এক মাসের মধ্যে কর্মকৌশল

ই-কমার্স পরিচালনায় এক মাসের মধ্যে কর্মকৌশল

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক ই-কমার্সসংক্রান্ত কমিটির আহ্বায়ক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আগামী এক মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আমরা একটা প্রতিবেদন দেব। ওই প্রতিবেদনে থাকবে দেশের যেসব ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম রয়েছে তাদের সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনায় কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করা হবে এবং লাইসেন্স প্রদানের যোগ্যতা ও প্রাপ্তির সক্ষমতা কী হবে সে বিষয়টিও। এ নিয়ে ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

ই-কমার্স খাতসংশ্লিষ্টদের কীভাবে নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনা করা যায়, নিবন্ধন গ্রহণের প্রক্রিয়া কেমন হবে এবং তাদের লাইসেন্স প্রাপ্তির পদ্ধতি বা যোগ্যতা কী হবে তার কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হবে আগামী এক মাসের মধ্যে। এই সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ-সম্পদ উদ্ধার করে গ্রাহকদের ফেরত দেয়ার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেয়া হবে।

এসব বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপন করা হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক এসংক্রান্ত কমিটির প্রথম বৈঠকে জানানো হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সোমবার এ বৈঠকে এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইসিটি ডিভিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, ই-ক্যাব সদস্যসহ ১৫টি মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, বিভাগ, সংস্থার ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন কমিটির আহ্বায়ক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘আগামী এক মাসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আমরা একটা প্রতিবেদন দেব। ওই প্রতিবেদনে থাকবে দেশের যেসব ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম রয়েছে তাদের সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক পরিচালনায় কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করা হবে এবং লাইসেন্স প্রদানের যোগ্যতা ও প্রাপ্তির সক্ষমতা কী হবে, সে বিষয়টিও। এ নিয়ে ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটিকেও বিষয়টি নিয়ে কাজ করার ম্যান্ডেট দেয়া হয়েছে।’

অতিরিক্ত সচিব সফিকুজ্জামান জানান, ই-কমার্সে আর্থিক লেনদেনের তথ্যাদি বিশেষ করে অভিযুক্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক লেনদেন অর্থাৎ গ্রাহকরা অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যে পরিমাণ টাকা পায় তা কীভাবে উদ্ধার করা যায়, তারও একটি সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

ই-কমার্স লেনদেনে যেসব গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের পাওনা প্রাপ্তির পাশাপাশি লেনদেনে কীভাবে স্বার্থ সুরক্ষা দেয়া যায় তারও একটি করণীয় নির্ধারণ করে দেয়া হবে প্রতিবেদনে।

ভবিষ্যতে দেশে ই-কমার্স খাত কীভাবে পরিচালিত হবে তার একটি রূপরেখা ঠিক করবে মন্ত্রিপরিষদের গঠিত কমিটি। এর মাধ্যমে সব ই-কমার্সের আর্থিক লেনদেন একটি পদ্ধতিতে বা একটি গেটওয়ের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।

সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট-ট্যাক্সের আওতায় আনা হবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা যায় তার একটি সুপারিশ থাকবে প্রতিবেদনে।

সফিকুজ্জামান বলেন, প্রতিবেদন দেয়ার পর সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ডিজিটাল ই-কমার্স নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে একটি দিকনির্দেশনা দেয়া হবে।

শেয়ার করুন

ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা

ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। ছবি: সংগৃহীত

ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণসংক্রান্ত কমিটির প্রধান আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমার সঙ্গে আরও চারজন সদস্য আছেন। সবার সঙ্গে আলাপ করে ইভ্যালিকে ভায়াবেল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। যারা এখানে পয়সা ঢেলেছেন তাদের পয়সা ফেরত দেয়ার চেষ্টা করা হবে।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে হাইকোর্টের গঠন করে দেয়া বিশেষ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পাওয়া আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ভায়াবেল’ তথা কার্যকর করার চেষ্টা করবেন।

বিচারপতি খুরশীদ আলম হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার ইভ্যালিবিষয়ক পাঁচ সদস্যের একটি গঠন করে দেয়। এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সাবেক সচিব মো. রেজাউল আহসান, মাহবুবুল করিম, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফখরুদ্দিন আহমেদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শামীম আজিজ।

ইভ্যালি নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয় শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের কাছে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি তো মাত্র দেখলাম খবরটা। এই মুহূর্তে পুরোপুরি মন্তব্য তো দেয়া সম্ভব হবে না। কাগজপত্র দেখতে হবে। তবে এ মুহূর্তে যেটা বলতে পারি তা হলো ইভ্যালিকে ভায়াবেল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা…।

‘আমার সঙ্গে আরও চারজন সদস্য আছেন। সবার সঙ্গে আলাপ করে ইভ্যালিকে ভায়াবেল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। যারা এখানে পয়সা ঢেলেছেন তাদের পয়সা ফেরত দেয়ার চেষ্টা করা হবে।’

শেয়ার করুন

ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি

ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি

ইভ্যালির অবসায়ন সংক্রান্ত বিশেষ একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট। ছবি: নিউজবাংলা

আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর কোম্পানি আদালতে আবেদন করেছিলাম। সেখানে একটি আবেদন ছিল ইভ্যালি অবসায়নে যাতে একটি কমিটি গঠন করে দেয়। আজকে ওই আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি নিয়ে আদালত একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। ইভ্যালি এখন এই কমিটি দ্বারা পরিচালিত হবে।’

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে।

বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।

আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর কোম্পানি আদালতে আবেদন করেছিলাম। সেখানে একটি আবেদন ছিল ইভ্যালি অবসায়নে যাতে একটি কমিটি গঠন করে দেয়। আজকে ওই আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি নিয়ে আদালত একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। ইভ্যালি এখন এই কমিটি দ্বারা পরিচালিত হবে।’

তিনি জানান, এই কমিটির সদস্য থাকবে পাঁচ জন। যার মধ্যে প্রধান করা হয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে। বাকি চার সদস্য হলেন সাবেক সচিব মো. রেজাউল আহসান, মাহবুবুল করিম, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফখরুদ্দিন আহমেদ ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শামীম আজিজ।

শেয়ার করুন

হিন্দু ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে হামলার নিন্দা এফবিসিসিআই-এর

হিন্দু ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে হামলার নিন্দা এফবিসিসিআই-এর

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআই সাম্প্রদায়িক হামলার নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সহ প্রশাসন ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিন্দু ব্যবসায়ীদের জানমাল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

হিন্দু ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

রোববার এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লায় গত বুধবার সকালে পবিত্র কোরআন অবমাননার খবরের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ও সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকটি জেলার হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার তথ্য জানিয়েছে এফবিসিসিআইকে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআই এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সহ প্রশাসন ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিন্দু ব্যবসায়ীদের জানমাল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জন্মলগ্ন থেকেই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ। এ দেশে সব সময়ই মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান ও সুসম্পর্ক বিদ্যমান। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মহাসড়কে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। এফবিসিসিআই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ভর করেই সব ধর্মের মানুষের যৌথ অবদানে অর্থনৈতিকভাবে আরও সুদৃঢ় অবস্থানে যাবে বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন