কর্মের মাঝে বেঁচে থাকবেন প্রত্নতত্ত্ববিদ যাকারিয়া

কর্মের মাঝে বেঁচে থাকবেন প্রত্নতত্ত্ববিদ যাকারিয়া

প্রত্নতত্ত্ববিদ ও গবেষক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া। ছবি: সংগৃহীত

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আহসানুল হাদি বলেন, ‘স্যারের সঙ্গে কাজ করার সময় দেখেছি শেষ বয়সে লাঠি নিয়ে হাঁটলেও তিনি জ্ঞানচর্চায় ছিলেন নিরলস। একই সঙ্গে তিনি তরুণদের কথাও অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনতেন।’

প্রত্নতত্ত্ববিদ ও গবেষক আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া ছিলেন একজন পরিপূর্ণ মানুষ। তিনি তার কর্মের মাঝে বেঁচে থাকবেন মানুষের হৃদয়ে। তার মতো গুনী, মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান মানুষ এ সমাজে বিরল।

সোমবার আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার ১০৪তম জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

কমিটির চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অংশ নেন আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার সহকর্মী অনুবাদক, স্থপতি, গবেষক ও তার পরিবারের সদস্যরা।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া যেমন বহুমাত্রিক পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন, তেমনি তিনি ছিলেন একজন পরিপূর্ণ মানুষ এবং সবচেয়ে বড় কথা অত্যন্ত ভালো মানুষ। আমাদের সমাজে অনেক পণ্ডিত থাকলেও আজকের সময়ে ভালো মানুষের বড় অভাব।’

যাকারিয়া তার কর্মের মাঝে মানুষের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন উল্লেখ করে আরেফিন সিদ্দিক আরও বলেন, ‘তিনি বেঁচে থাকবেন মানুষের হদয়ে। তার কর্মের মাঝে তিনি মানুষের মনে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন। তার মতো প্রজ্ঞাবান মানুষ এ সমাজে বিরল।’

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আহসানুল হাদি বলেন, ‘স্যারের সঙ্গে কাজ করার সময় দেখেছি শেষ বয়সে লাঠি নিয়ে হাঁটলেও তিনি জ্ঞানচর্চায় ছিলেন নিরলস। একই সঙ্গে তিনি তরুণদের কথাও অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। এই গুণ আজ খুবই বিরল।’

যাকারিয়াপুত্র মারুফ শমসের যাকারিয়া বাবার স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘এশিয়াটিক সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম আব্বা সম্পর্কে বলেছিলেন, তিনি ছিলেন একটা জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া, যখনই তার সঙ্গে কোথাও যেতেন, বলতেন এখানে একটা নদী ছিল, এখানে এটা ছিল, ওটা ছিল।’

ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গ্রন্থ প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সম্পাদক এবং এশীয় দেশসমূহের স্থপতিদের সংগঠন আর্ক এশিয়ার সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ এম আহমেদ বলেন, ‘আমরা আজ এমন সময়ে আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়াকে স্মরণ করছি, যখন দেশের প্রত্নসম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে। দেশে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও প্রত্নসম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। তাই আমরা আশা করব বরেণ্য এই প্রত্নতত্ত্ববিদকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে যাতে আমরা তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের প্রত্নসম্পদ রক্ষায় কাজ করার শক্তি অর্জন করতে পারি।’

সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন শিল্পী ইশরাত জাহান কাঁকন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রণয় পলিকার্প রোজারিও ও আফসানা আশা। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়ার কন্যা জাকিয়া মাহফুজা যাকারিয়া ও সুফিয়া আতিয়া যাকারিয়া এবং ইশরাত জাহান কাঁকন ও অরুণা সরকার।

১৯১৮ সালের ১ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিকান্দি গ্রামের এক অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া।
ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শেষে বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি।

১৯৪৭ সালে তিনি ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের নানা প্রান্তে প্রত্নসম্পদের অনুসন্ধান এবং সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি দেশের প্রথম শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

১৬ জেলায় হবে শিল্পকলা একাডেমির আধুনিকায়ন: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

১৬ জেলায় হবে শিল্পকলা একাডেমির আধুনিকায়ন: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী এ কে এম খালিদ বলেন, ‘মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি আধুনিক শিল্পকলা একাডেমিতে রূপান্তর হবে। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে আধুনিক বিভিন্ন সুবিধাসমৃদ্ধ ভবন।’

দেশের সংস্কৃতি রক্ষার্থে মাগুরাসহ ১৬ জেলায় শিল্পকলা একাডেমির আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ কে এম খালিদ।

মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে রোববার দুপুরে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের মাঝ থেকে গ্রামীণ জারি-সারি গান, যাত্রাপালা, পালাগান হারিয়ে যেতে বসেছে। এগুলো আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ, তাই এগুলোকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এ জন্য মাগুরাসহ দেশের ১৬টি জেলায় আধুনিক সাংস্কৃতিক একাডেমি গড়ে তোলার কাজ হাতে নিয়েছে সরকার। অচিরেই আধুনিক মানের ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সংস্কৃতির মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাগুরা জেলা শিল্পকলা একাডেমি আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি আধুনকি শিল্পকলা একাডেমিতে রূপান্তর হবে। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে আধুনিক বিভিন্ন সুবিধাসমৃদ্ধ ভবন।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরার জেলা প্রশাসক আশরাফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুণ্ডু, জেলার সিভিল সার্জন শহিদুল্লাহ দেওয়ান, পৌর মেয়র খুরশিদ হায়দার টুটুল এবং জেলা তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী শহরের সৈয়দ আতর আলী গণগ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন। পরে শহরের সার্কিট হাউসে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তি, সুধীজন ও শিল্পী-কলাকুশলীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

শেয়ার করুন

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আড়ম্বরহীন কুষ্টিয়ার আখড়াবাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় বাউল মেলা হবে ধরে নিয়েই সাধু-ফকির, বাউল ভক্তরা আখড়ায় জড়ো হয়েছেন। লালন ধামে আখড়াবাড়ির ভেতরে এবং বাইরের মাঠের গাছতলায় অবস্থান নিয়েছেন তারা।

মরমী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩১তম তিরোধান দিবস রোববার। করোনার কারণে এবারও বাউল মেলার আয়োজন বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। তবে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়ি খোলা থাকায় জড়ো হয়েছেন সাধু-বাউল-ফকিররা। প্রথা অনুযায়ী তারা ভক্তি-শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সাইঁজির চরণে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে ১৩০ বছরের রেওয়াজ ভেঙে গত বছরই প্রথম বাতিল করা হয় লালনের এই স্মরণোৎসব। সে সময় করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ পর্যায়ে থাকায় আখড়াবাড়ির গেটও বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এবার করোনার প্রকোপ কম থাকায় বাউল মেলা হবে ধরে নিয়েই সাধু-ফকির, বাউল ভক্তরা আখড়ায় জড়ো হয়েছেন। লালন ধামে আখড়াবাড়ির ভেতরে এবং বাইরের মাঠের গাছতলায় অবস্থান নিয়েছেন তারা।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন অ্যাকাডেমির আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম গত ১২ অক্টোবার ঘোষণা দিয়েছেন, এবারও তিরোধান দিবস পালন হবে না। করোনার কারণে গণজমায়েত এড়িয়ে চলতে এ ঘোষণা দিতে হয়েছে বলে তিনি জানান।

আখড়াবাড়ির বাইরে লালন অ্যাকাডেমির মাঠে নিজস্ব রেওয়াজে ভক্তি-শ্রদ্ধা দিতে দেখা গেছে লালন অনুসারীদের।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ফকির বাবু বলেন, ‘এতো দূর থেকে আসলাম। টাকায় মায়া করি নাই, ত্যাগ করেছি আরাম। এসে মনটাই ভেঙে গেল। এখন সাঁইজিকে ভক্তি জানিয়ে চলে যাব। মেলা না হওয়ায় আমরা পাগলরা না খেয়ে থাকার মতো অবস্থা।’

সাধু সঙ্গ ও বাউল মেলা না হওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে অনেক বাউল, ফকির এবং লালন ভক্ত।

তারপরও আখড়াবাড়ির ভেতরে ও বাইরে চলছে জাতপাতহীন-মানবতার লালন দর্শনের প্রচার। বরাবরের মতো দর্শন প্রচার হচ্ছে তারই গানের মাধ্যমে। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া এখন লালনের গানের সুরে প্রকম্পিত।

২০০ বছর আগে কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় বাউল-ফকিরদের দল গঠন করেছিলেন ফকির লালন সাঁই। অহিংস, জাতপাতহীন ও মানবতাবাদী গান বেঁধে প্রচার করতেন তারা। দিনে দিনে তার দল বড় হতে থাকে। বাড়তে থাকে অনুসারী ও ভক্তের সংখ্যা। আজ বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে লালনের গান, তার বাণী।

১২৯৭ বঙ্গাব্দের পয়লা কার্তিক দেহত্যাগ করেন ফকির লালন। এই ১৩১ বছর ধরে আখড়া বাড়িতে চলা রেওয়াজ হলো, পহেলা কার্তিক লালনের তিরোধান দিবসে তার মাজার ধুয়ে মুছে পরিস্কার করে বাউল-ফকিরদের জন্য অধিবাস, বাল্যসেবা এবং পূর্ণসেবার (খাবার) আয়োজন।

লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবসে আখড়াবাড়ি নিষ্প্রাণ

তিন দিন ধরে চলে মেলাসহ সরকারি অনুষ্ঠানমালা। দিন-রাত ধরে চলত গানে গানে লালন দর্শনের প্রচার। দেশ বিদেশের লাখ লাখ মানুষ এতে অংশ নিতেন।

করোনার বাস্তবতায় দুই বছর বন্ধ এসব আয়োজন। ফকির-বাউলরা নিজেদের মতো করে সাঁইজিকে স্মরণ করতে পারছেন, তাতেই অনেকে খুশি।

আখড়ায় এসে ফকির আলম বলেন, ‘ধরা আজ জরাক্রান্ত। এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। সাঁইজির কৃপায় এসব কেটে যাবে। আবার সব স্বাভাবিক হবে।’

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কবি-সাহিত্যিকদের উদ্বেগ ও প্রস্তাব

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কবি-সাহিত্যিকদের উদ্বেগ ও প্রস্তাব

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় কবি-সাহিত্যিকদের উদ্বেগ ও প্রস্তাব। ছবি: নিউজবাংলা

‘এবারের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতায় আমরা উদ্বিগ্ন। এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ করা আবশ্যক। এ ব্যাপারে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন ও নিন্দনীয় বলে মনে করেন দেশের কাব-সাহিত্যিক-সাংবাদিকরা।

এই ভয়াবহ অমানবিক ঘটনায় তারা ভীষণ ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। শনিবার সন্ধ্যায় দেয়া এক বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে ‘কোরআন রাখার’ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ঘটার পর প্রশাসন আরও সতর্ক হলে হাজীগঞ্জসহ অন্যত্র এর পুনরাবৃত্তি ঘটত না।

“‘কোরআন অবমাননার’ ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত বলে আমাদের সন্দেহ। কোনো সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের জন্য এই ঘটনা সাজিয়ে থাকতে পারে। ঘটনা সাজিয়ে তারা সহিংসতার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। কিছু মানুষ ষড়যন্ত্রীদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছে। জনগণ সচেতন হলে ষড়যন্ত্রীরা কোনোভাবেই তাদের ষড়যন্ত্র সফল করতে পারত না।”

জনগণকে সচেতন করা, তাদের মননকে অসাম্প্রদায়িক হিসেবে গড়ে তোলার দায় রাষ্ট্রের বলে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কুমিল্লার ঘটনায় আমরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

‘এবারের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতায় আমরা উদ্বিগ্ন। এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধ করা আবশ্যক। এ ব্যাপারে আমরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।’

প্রস্তাব জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রদায়িকতা একটি জাতীয় সমস্যা। এই সমস্যা নিরসনে ধারাবাহিক জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা যেতে পারে। দেশের শিক্ষাবিদ, লেখক, কবি, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, আলেম, পুরোহিতসহ সব ধর্মের নেতাদের নিয়ে, সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে, আলোচনা করে এই সাম্প্রদায়িক সহিংসতার মূল চিহ্নিত করা যেতে পারে। আমরা এমন একটি জাতীয় সংলাপ কামনা করি, যার মধ্য দিয়ে যে সিদ্ধান্ত আসবে সে অনুযায়ী রাষ্ট্র ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিবৃতিদাতা লেখকরা হচ্ছেন ইমতিয়ার শামীম, শাহনাজ মুন্নী, আহমাদ মোস্তফা কামাল, কবির হুমায়ূন, শামীম রেজা, আলফ্রেড খোকন, চঞ্চল আশরাফ, টোকন ঠাকুর, রাজীব নূর, শাহেদ কায়েস, শোয়াইব জিবরান, ওবায়েদ আকাশ, জোবায়দা নাসরিন, রুমা মোদক, পাপড়ি রহমান, লোপা মমতাজ, ভাগ্যধন বড়ুয়া, হেনরী স্বপন, সাইমন জাকারিয়া, আফরোজা সোমা, রেজা ঘটক, মতিন রায়হান, বিধান রিবেরু, মোজাফফর হোসেন, পিয়াস মজিদ, মামুন খান, মনিরুজ্জামান মিন্টু, অঞ্জন আচার্য, অরবিন্দ চক্রবর্তী, সরকার আমিন, স্বকৃত নোমান।

বিবৃতির শেষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলা আছে, ‘আপনি কবি-সাহিত্যিক হলে এই বিবৃতিতে আপনার নামটি যুক্ত করে ফেসবুকে পোস্ট করতে পারেন। এই বিবৃতি যে কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে।’

শেয়ার করুন

মৌলবাদবিরোধী সুর বজায় রাখুন: পরমব্রত

মৌলবাদবিরোধী সুর বজায় রাখুন: পরমব্রত

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

দীর্ঘ স্ট্যাটাসে পরমব্রত লেখেন, ‘গোঁড়ামি, মৌলবাদ, ইংরিজিতে যাকে বলে ফানাটিসিজম, সেটা সব ধর্মেই থাকে, থেকে এসেছে হাজার বছর ধরে। যখন যে ধর্মের মৌলবাদী জিগির সামনে আসে, তখন সেগুলোর থেকে বেরোনোর, সেগুলির সমালোচনা করার বা সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী শক্তি গুলিকে পরাস্ত করার দায়িত্ব কিন্তু সেই ধর্মের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকেই আরও বেশি করে নিতে হবে! 

কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। অভিনয় গুণে তিনি বাংলাদেশেও জনপ্রিয়। এদেশের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন।

এবার কলকাতায় দুর্গা পূজা বেশ ভালোই কাটিয়েছেন এ অভিনেতা। অন্তত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে সেই ধারণাই পাওয়া যায়। তবে বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সময় পূজা মণ্ডপে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় ব্যথিত হয়েছেন তিনি।

ফেসবুকে লেখা দীর্ঘ স্ট্যাটাসে সে কথাই জানিয়েছেন পরমব্রত। তিনি লেখেন, ‘বাংলাদেশে আমার সমস্ত বন্ধুদের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ, কুমিল্লা বা নোয়াখালীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা করুণ কোনো দ্বিধা না রেখে। দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করুন।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে সুবার্তা বলে উল্লেখ করে পরমব্রত লেখেন, ‘আপনাদের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে তার বক্তব্যের মাধ্যমে সুবার্তা দিয়েছেন, আপনারাও সেই মৌলবাদ বিরোধী সুর বজায় রাখুন। প্রতি বছরই প্রায় এরকম কিছু না কিছু ঘটে, সত্যি বলছি ভালো লাগে না।’

এসব ঘটনা উদারহণ হিসেবে থেকে যায় এবং রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার পথ মসৃণ হয় বলে মনে করেন এ অভিনেতা।

তিনি লেখেন, ‘প্রাণের উৎসবের উপর আক্রমণ বলে ভালো লাগে না তো বটেই, তা ছাড়াও আরও বড়ো একটা কারণ হলো, এই ঘটনাগুলি সীমানার এই পারে গোঁড়া হিন্দুত্ববাদীদের বড়ো সুবিধে করে দেয়। তাদের আস্ফালন বাড়ে, ধর্মের জিগির তুলে, এই উদাহরণ টেনে, মানুষের মনে অন্য সম্প্রদায় সম্বন্ধে ঘেন্না জন্মিয়ে রাজনৈতিক মুনাফা তোলার পথ মসৃণ হয়।’

দীর্ঘ স্ট্যাটাসে পরমব্রত লেখেন, ‘গোঁড়ামি, মৌলবাদ, ইংরিজিতে যাকে বলে ফানাটিসিজম, সেটা সব ধর্মেই থাকে, থেকে এসেছে হাজার বছর ধরে। যখন যে ধর্মের মৌলবাদী জিগির সামনে আসে, তখন সেগুলোর থেকে বেরোনোর, সেগুলির সমালোচনা করার বা সেই বিস্বাসে বিশ্বাসী শক্তিগুলিকে পরাস্ত করার দায়িত্ব কিন্তু সেই ধর্মের শুভ বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকেই আরও বেশি করে নিতে হবে!

‘আমরা প্রত্যেকে নিজের নিজের ধর্মের অতিরিক্ততার বিরুদ্ধে কথা বলা আরম্ভ করি। ধর্ম মানে বিশ্বাস, কিছু মানুষের এক সঙ্গে হওয়া, অনেক বছর ধরে চলে আসা কিছু আচার, কিংবা সমাজকে এক রকমভাবে সংঘবদ্ধ রাখার জন্যে তৈরি করা কিছু নিয়ম বা হয়তো নানান উৎসব! যেটাই হোক, বিশ্বাস আর অতি বা অন্ধ বিশ্বাস (যা অন্য মানুষকে জোর করে, বা ক্ষতি করে) এর মধ্যে সূক্ষ্ম লাইনটা কোথায় সেটা আমাদেরই বুঝে নিতে হবে!

‘আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাস খুব জটিল। তাই আমাদের, মানে এই ভূমির বাসিন্দাদের দায়িত্বও অনেক বেশি। নিঃশ্বাস নেয়া যেমন দরকার, ঠিক তেমন দরকার এই বোধগুলো নিজেদের মধ্যে মোমবাতির মতো জ্বালিয়ে রাখা।’

পরমব্রত তার লেখা শুরু করেন এভাবে- ‘ফেসবুকে বড়ো একটা আসা হয় না, কিন্তু একটি বিশেষ কারণে এলাম। বাংলাদেশে কয়েক জায়গায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে ইসলামি মৌলবাদীদের তাণ্ডব নিয়ে কিছু পোস্ট নবমীর দিন সকাল থেকে চোখ পড়লো।’

পরমব্রত দুজনের কথা উল্লেখ করে লেখেন, ‘আমাকে যে ছেলেটি শ্যুটে অ্যাটেন্ড করে, আমার স্পট বয়, তার নাম নাসির গাজী। পূজার পাঁচটা দিন নিয়ম করে আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গেছে। শুভ ষষ্ঠী থেকে বিজয়া! প্রতিবারই জানায়। সরস্বতী পূজার দিন-ক্ষণ আমার না থাকলেও ওর মনে থাকে এবং মনে করিয়েও দেয়। বাইরে শ্যুট করতে গিয়ে কোনো দর্শনীয় মন্দিরের সন্ধান পেলে সেটাও নাসিরই আমাকে এনে দেয়।

“নবমীর দিনই সকালে আমার কাঠের মিস্তিরি সানোয়ার আলী ফোন করেছিলেন একটা কাজের কথা বলতে। ফোনালাপ শুরুই করলেন ‘শুভ নবমী, দাদা’ বলে।”

শেয়ার করুন

রুদ্রর জন্মদিনে মোংলায় নানা আয়োজন

রুদ্রর জন্মদিনে মোংলায় নানা আয়োজন

কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর জন্মদিন আজ। ছবি সংগৃহীত

কবির জন্মদিন উপলক্ষে তার পৈতৃক বাড়ি মোংলার মিঠেখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের স্রষ্টা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ৬৫তম জন্মদিন আজ।

তারুণ্য ও সংগ্রামের প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে রেড ক্রস হাসপাতালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

কবির জন্মদিন উপলক্ষে তার পৈতৃক বাড়ি মোংলার মিঠেখালীতে রুদ্র স্মৃতি সংসদ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এদিন সকালে মোংলার মিঠাখালিতে শোভাযাত্রা এবং কবির সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে মিঠেখালি ফুটবল মাঠে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া সন্ধ্যায় মোংলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রুদ্র স্মৃতি সংসদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মোংলা শাখা স্মরণ সভার আয়োজন করেছে।

স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও গানের আয়োজন করা হবে।

১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ।

স্বল্প আয়ুর জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও গল্প, কাব্যনাট্যসহ অর্ধ শতাধিক গান লিখেছেন ও সুর করেছেন।

‘ভালো আছি, ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো’ গানের জন্য তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি থেকে ১৯৯৭ সালের শ্রেষ্ঠ গীতিকারের (মরণোত্তর) সম্মাননা লাভ করেন।

‘উপদ্রুত উপকুল’ ও ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থ দুটির জন্য সাংস্কৃতিক সংসদ থেকে পরপর দুই বছর মুনীর চৌধুরী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন রুদ্র।

এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

শেয়ার করুন

লালনের তিরোধান দিবসে সম্মাননা পাচ্ছেন ৭ গবেষক-সাধক

লালনের তিরোধান দিবসে সম্মাননা পাচ্ছেন ৭ গবেষক-সাধক

লালন সাঁইয়ের ১৩১তম তিরোধন দিবসে ৭ গবেষক ও সাধককে সম্মাননা দেবে শিল্পকলা একাডেমি। ছবি: সংগৃহীত

শিল্পকলা একাডেমি প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্মাননা দিচ্ছে লালন গবেষক ও সাধকদের।

লালন সাঁইয়ের ১৩১তম তিরোধন দিবস শনিবার। ওই দিন সম্মাননা পাচ্ছেন ৭ লালন গবেষক ও সাধক।

শিল্পকলা একাডেমি প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্মাননা দিচ্ছে লালন গবেষক ও সাধকদের।

২০১৯ সাল থেকে প্রতি মাসের পূর্ণিমা তিথিতে ‘সাধুমেলা’র আয়োজন করে আসছে শিল্পকলা একাডেমি।

প্রতিষ্ঠানটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার বিকেল ৫টায় একাডেমির বাউলকুঞ্জে লালন সাঁইজির ১৩১তম তিরোধন দিবস উপলক্ষে ‘লালন স্মরণোৎসব’ ও ৩১তম সাধুমেলার আসর আয়োজন করা হয়েছে। সে অনুষ্ঠান থেকেই দেয়া হবে সম্মাননা স্মারক।

লালন গবেষণায় সম্মাননা স্মারক পাচ্ছেন অধ্যাপক ড. আবুল আহসান চৌধুরী এবং অধ্যাপক ড. শক্তিনাথ ঝা (ভারত)।

লালন সাধনায় সম্মাননা পাচ্ছেন পার্বতী দাস বাউল (ভারত), ফকির মোহাম্মদ আলী শাহ (কুষ্টিয়া), ফকির আজমল শাহ্ (ফরিদপুর), নিজাম উদ্দিন লালনী (মাগুরা) ও শুরু বালা রায় (ঠাকুরগাঁও)।

সম্মাননা স্মারক হিসেবে প্রত্যেকে পাচ্ছেন একটি করে ক্রেস্ট, স্মারকপত্র ও ২৫ হাজার টাকা।

একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল মনসুর।

লালন সাঁইজিকে নিয়ে আলোচনা করবেন ফকির নহীর শাহ্ ও দেবোরাহ জান্নাত।

শেয়ার করুন

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল

ছোট ও বড় পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সবশেষ প্রায় ২৪ বছর আগে ‘কেরামত মঙ্গল’ নামে একটি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। ওই নাটকের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন বাচ্চু। এরপর পেশাগত ব্যস্ততা ও ভালো গল্পের অভাবে আর মঞ্চ নাটকে অভিনয় করা হয়ে উঠেনি।

নির্মাতা, ছোট ও বড় পর্দার তুমুল জনপ্রিয় মুখ আফজাল হোসেন। প্রায় দুই যুগ পর তিনি ফিরছেন মঞ্চে। পেন্ডুলাম নামের নতুন এক নাটক দিয়ে মঞ্চে ফেরা হচ্ছে তার।

নাটকটির রচয়িতা নাট্যকার মাসুম রেজা। নির্দেশনা দিচ্ছেন খ্যাতিমান নাট্যব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু।

৪৭ বছর আগে ঢাকা থিয়েটারের নাটক ‘বিদায় মোনালিসা’ দিয়ে মঞ্চে যাত্রা শুরু আফজাল হোসেনের। এরপর টানা অভিনয় করেছেন মঞ্চে।

সবশেষ প্রায় ২৪ বছর আগে ‘কেরামত মঙ্গল’ নামে একটি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। ওই নাটকের নির্দেশনাও দিয়েছিলেন বাচ্চু। এরপর পেশাগত ব্যস্ততা ও ভালো গল্পের অভাবে আর মঞ্চ নাটকে অভিনয় করা হয়ে উঠেনি।

দীর্ঘ প্রায় ২৪ পর মঞ্চে ফেরা নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন আফজাল।

তিনি বলেন, ‘একটা সময় নিয়মিত মঞ্চে অভিনয় করতাম। এরপর পেশাগত কারণে আর ওইভাবে সময় দেয়া হতো না; যেতেও না। কারণ মঞ্চে অভিনয়ের জন্য তো প্রচুর সময় লাগে।

‌‘আমার প্রধান দুর্বলতম বিষয় ছিল অভিনয় এবং মঞ্চের জন্য আলাদা একটা টান তো ছিলই। কারণ মঞ্চই তো আমার আলাদা একটা পরিচয় তৈরি করে দিয়েছিল।’

অনেক বছর ধরেই মঞ্চে অভিনয়ের পরিকল্পনা ছিল জানিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই পরিকল্পনা ছিল আবার মঞ্চে অভিনয় করব, কিন্তু প্রোপার ক্রিপ্ট ও সে রকম কোনো কিছু হয়তো মেলে নাই। অনেক দিন পর একটা ভালো স্ক্রিপ্ট ও স্পেশাল কিছুর জন্য নাটকটি করা।

‘স্পেশাল বলতে ঢাকা থিয়েটার এবং দেশ নাটক দুটি দল একসঙ্গে নাটকটি প্রযোজনা করছে। সব মিলিয়ে ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়। সেই কারণেই আবার মঞ্চে অভিনয় করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাকে আমরা নাট্যগুরু ভাবি, নাসির উদ্দিন ইউসুফ, তিনি এই নাটকের ডিরেকশন দিচ্ছেন। সব মিলিয়ে আমার জন্য আনন্দের বিষয়; ভালো লাগার বিষয়।’

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল
‘পেন্ডুলাম’ নাটকের মহড়ায় বাঁ থেকে নাজনীন চুমকি, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু (মাঝে) ও আফজাল হোসেন (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

পেন্ডুলাম নাটকটির গল্প নিয়ে আফজাল হোসেন বলেন, ‘এটা মূলত আমাদের যে শহরে সোসাইটি...আমরা তো প্রত্যেকেই মফস্বল থেকে আসি। এরপর জীবনে প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা তো বহু কিছু করি। তারপর কী হয়? একটা সময় বহু কিছুতে আমাদের সব পাওয়া পূর্ণ হয় বলে মনে করি। আমরা যখন একদম একটা মানুষ পরিচয়হীন অবস্থায় পরিচয়ের সন্ধানে শহরে আসি, তারপর নানা কিছু করি, একটা পরিচয় তৈরি করার চেষ্টা করি।

‌‘অনেক কিছু করি; এটায় আমার সাফল্য আসবে, ওইটায় আমার সাফল্য আসবে। সব পাওয়া হয়, তারপর শেষমেশ কি মনে হয় সব পাওয়া হলো? এটা এমন কোনো অসাধারণ বিষয় না; যেকোনো মানুষের গল্প। গল্পটা হচ্ছে এই, আমরা যে জীবনটা যাপন করি স্বার্থসিদ্ধির জন্য, ভালোর জন্য, জীবন উপভোগের জন্য, এগুলো একটা সময় যে কী হয়ে ফেরত আসে, সেই চিত্রটা দেখানো হবে।’

মঞ্চে ফেরা আনন্দের: আফজাল
‘পেন্ডুলাম’ নাটকের মহড়ায় আফজাল হোসেন ও নাজনীন চুমকি। ছবি: সংগৃহীত

নাটকটি ডিসেম্বরের শেষে মঞ্চে আসবে বলে জানালেন নাট্যকার মাসুম রেজা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত শিল্পকলা একাডেমিতে নাটকটির মহড়া করছি। আগামী ডিসেম্বরে নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। তবে হল বুকিংয়ের আগে তারিখ ঘোষণা করতে পারছি এখন।’

নাটকে আরও অভিনয় করছেন নাজনীন চুমকি, কামাল আহমেদসহ অনেকে।

শেয়ার করুন