কারা, কী কারণে, কোন সুখের স্বপ্নে বিএনপিকে ভোট দেবে

কারা, কী কারণে, কোন সুখের স্বপ্নে বিএনপিকে ভোট দেবে

জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিয়ে দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

‘ওদের কে ভোট দেবে? আমি সাংবাদিকদের কাছে জিজ্ঞেস করি- কারা, কী কারণে, কোন সুখের স্বপ্নে বিএনপি বা অন্যদের ভোট দেবে? আমরা কিছু করলাম কি না, সেটাও একটু তুলনা করেন।’

জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী জাতীয় নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন গঠনসহ কথা বললেন নানা বিষয়ে।

আওয়ামী লীগ প্রধান অনেকটাই নিশ্চিত, জনগণ আবার তাদেরই ভোট দেবে। অন্যদের কী কারণে ভোট দেবে- এমন প্রশ্ন তুলে তিনি পরে আবার বলেন, যদি আওয়ামী লীগকে ভোট না দেয়, তাহলে ক্ষমতায় থাকার কোনো আগ্রহ নেই।

রাজনীতিতে আপাতদৃষ্টিতে তেমন চ্যালেঞ্জের মুখে না থাকলেও আত্মতুষ্টিতে না ভোগার কথাও বলেছেন শেখ হাসিনা। বলেছেন, খরগোশ আর কচ্ছপের যে গল্প আছে, সেটি মাথায় আছে তারও। প্রতিপক্ষকে অবহেলা করে তিনি তাদের সুবিধা করে দিতে চান না।

নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়েও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। জানিয়েছেন, আগের দুইবারের মতো এবারও কমিশন গঠন করা হবে সার্চ কমিটির মাধ্যমেই।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশন ও সাইডলাইনে উচ্চপর্যায়ের অংশ নেয়া আলোচনার বিষয়ে অবহিত করতে সোমবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা প্রথমে রাখেন লিখিত বক্তব্য। এতে তার বক্তব্যে সফরের বিষয়ে বিবৃতি ছিল।

তবে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন রাখেন সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে।

মাথায় খরগোশ-কচ্ছপের গল্প

আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এত আগে কেন মাঠে নামল সরকারি দল- এ বিষয়টি নিয়ে শেখ হাসিনার মন্তব্য জানতে চান একজন সংবাদমাধ্যমকর্মী।

জবাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের প্রস্তুতি এ জন্য যে, আমি নির্বাচনে বিশ্বাস করি, জনগণের ভোটে বিশ্বাস করি। আমি কখনোই আত্মতুষ্টিতে ভোগি না যে, আমি এত কাজ করেছি যে আমার অপজিশন নাই। তাহলে ওই খরগোশ আর কচ্ছপের দৌড়ের মতো অবস্থা হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনটাকে আমরা নির্বাচন হিসেবেই দেখতে চাই। জনগণের ভোট যাতে পাই, এ জন্য জনগণের কাছে যেতে চাই। জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করে জনগণের ভোটেই ক্ষমতায় ফিরতে চাই। জনগণ ভোট না দিলে আসব না, পরিষ্কার কথা। আর প্রতিপক্ষ কে হতে পারল কে পারল না, এটা তাদের ব্যাপার।’

দলকে সুসংগঠিত করা আর ভোটের জন্য জনগণের কাছে যাওয়া সব রাজনৈতিক দলেরই উচিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘অপরপক্ষে কী আছে না আছে, সেটা করার আগে নিজেরটা করতে হবে। কাজেই বিরোধী দলে কেউ নেই, এ জন্য আত্মতুষ্টিতে বসে থাকব… সেটা কিন্তু থাকব না। আমার সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষের কাছে না গেলে তাদের কষ্ট কখনও জানা যায় না।’

রায় আ.লীগ পাবে নিশ্চিত শেখ হাসিনা

অপর এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী উল্টো জানতে চান, আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে জনগণ কেন ভোট দেবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাধারণত জনগণ কাকে ভোট দেয়... তারা দেখে ক্ষমতায় যাবে কে। তারা তো (বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান) ইলেকশনও করতে পারবে না। …তাদের ভেতর একটা বিশ্বাস যে, নির্বাচনে জিতবে বা ক্ষমতায় যাবে এই বিশ্বাসটা আর নাই। হারিয়ে গেছে।’

নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। বলেন, ‘তারা জানে তাদের কোনো সম্ভাবনা নাই। আর এ জন্যই এটাকে বিতর্কিত করা, এটাই চেষ্টা।

‘২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জনগণ কেন ভোট দিল? কারণ '৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত জনগণ অন্তত এটুকু পেয়েছিল যে, সরকার মানেই জনগণের সেবক। কিছু হলেও উন্নতি হয় দেশের।’

কেন মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবে

বিএনপি ও তার সমমনাদের জনগণ কেন ভোট দেবে, সেই প্রশ্নও রাখেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘কে আছে এর বাহিরে, কাকে দেবে? এর বাহিরে আর কে আছে?

‘এই যে প্রশ্ন যারা তোলে, এর বাহিরে আর কে আছে যে ভোট দেবে। কার কাছ থেকে মানুষ কী পেয়েছে?

‘ওদের কে ভোট দেবে? আমি সাংবাদিকদের কাছে জিজ্ঞেস করি, কারা, কী কারণে, কোন সুখের স্বপ্নে বিএনপি বা অন্যদের ভোট দেবে? আমরা কিছু করলাম কি না, সেটাও একটু তুলনা করেন।’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা দল কীভাবে জিতবে? তাদের নেতৃত্ব কোথায়? একজন (বেগম খালেদা জিয়া) এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। আরেকজন (তারেক রহমান) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলাসহ নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে দেশান্তরি, সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাদেরই নেতৃত্বেই রেখেছে। তাহলে জনগণ কোন ভরসায় তাদের ভোট দেবে?’

ক্ষমতা তার কাছে কোনো ভোগের বস্তু না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘ও রকম আকাঙ্ক্ষা থাকলে তো আমার বাবাও যেমন অনেক আগে মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন, আমিও কিন্তু পারতাম। আমি কিন্তু তা হইনি।

‘আমার চিন্তা ছিল আমি যদি ক্ষমতায় যেতে পারি জনগণের জন্য যেন কাজ করতে পারি। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারি। আমরা তো এগিয়ে যাচ্ছিলাম, করোনা এসে না আমাদের একটু বাধা দিয়েছে। তারপরও তো আমরা বসে থাকিনি। এমন কাজ করেছি যাতে গ্রামে অর্থ সরবরাহ হয়।’

ভোট নিয়ে সমালোচনা প্রত্যাখ্যান

বিএনপি ভোট নিয়ে যেসব অভিযোগ তুলে থাকে, তার সবই প্রত্যাখ্যান করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘গত কয়েক দিন আগে যে নির্বাচন হলো আপনারা দেখেছেন ভোটাররা কিন্তু খুব স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেছে। তবে হ্যাঁ, বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলছেন, আপনারা একবার কি চিন্তা করে দেখেছেন অনেক চেষ্টা হয়েছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে? শুধু তা-ই না, নির্বাচন যাতে না হয়, মানুষ যাতে না যায়, অগ্নিসন্ত্রাস থেকে শুরু করে হেন কাজ নেই যা না করা হয়েছে।

‘তারপরও নির্বাচন হয়েছে এবং এর পরে স্থিতিশীল পরিবেশ ছিল বলেই কিন্তু আজকে যে উন্নয়নটা দেখতে পারছেন, সেটা করা সম্ভব হয়েছে।’

বিএনপির জন্মের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন যেসব রাজনৈতিক দল বিশেষ করে বিএনপিসহ যারা কথা বলে আসলে তারা নির্বাচন নিয়ে যে প্রশ্ন তোলে এই দলের জন্মটা কীভাবে? এটা কি কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত?’

শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের শেষ নির্বাচন প্রসঙ্গও তোলেন। বলেন, ‘আমি শুধু একটা কথা বলব বিএনপিকে, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে তো তাদের কোনো অভিযোগ নাই। তাহলে সেটাতে তারা জিততে পারেনি কেন? তখন প্রশ্ন তোলেনি কেন?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এরপর যতটা নির্বাচন হয়েছে তাতে মানুষ তো ভোট দিয়েছে। আমরা যখন আধুনিক প্রযুক্তিতে গেলাম মানে ইভিএমে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন। এখন এরা যেহেতু সব সময় ‘পরভাতে পালিত’। সেই জায়গাটা মনে হয় তাদের আর নেই।”

নির্বাচন কমিশন গঠন আগের নিয়মেই

সার্চ কমিটির মাধ্যমেই আগামী নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটি করবেন তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন হবে।’

কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ফ্রেব্রুয়ারিতে। আগামী নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কবে, কীভাবে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন তা নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে।

মেয়র জাহাঙ্গীর প্রসঙ্গ

ঘরোয়া আলোচনায় গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের ফাঁস হওয়া একটি ভিডিওতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর গাজীপুরে যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, সে বিষয়েও আওয়ামী লীগ প্রধানের বক্তব্য জানতে চান একজন গণমাধ্যমকর্মী।

এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দল জাহাঙ্গীরের কাছে বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছে আর গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, তার বক্তব্য কাটছাঁট করে ভিডিও ভাইরাল করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এখনও কোনো সিদ্ধান্তে আসতে চান না। বলেন, ‘ডিজিটাল যুগে কথা তো নানাভাবে ভেঙে ভেঙে কে কীভাবে প্রচার করেছে এটা জানান। এ জন্য তাকে (জাহাঙ্গীর) শোকজ করা হয়েছে। জবাব পেলে পার্টি বসবে, তখন সিদ্ধান্ত নেবে।’

বেশি কাজ বলে সমালোচনা

অন্য এক প্রশ্নে শেখ হাসিনা যা বলেন, তার অর্থ হচ্ছে, তিনি মনে করেন কাজ বেশি করেন বলেই সমালোচনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এত সুবিধা পেয়ে গালিটা আমার ওপর দিয়ে যাচ্ছে বা আওয়ামী লীগের ওপর দিয়ে যাচ্ছে, তাই তো? হবেই, কাজ বেশি, এটা তো আমাদের বাঙালিদের চরিত্রেই আছে। ভালো কাজ করলে মুখ ঘুরিয়ে বসে থাকা।’

টিউলিপের ওপর হামলা দুঃখজনক

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের গাড়িতে হামলার ঘটনায় কাউকে দোষারোপ করতে চান না শেখ হাসিনা। তবে ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি, সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের বহুজনের আবাস ইংল্যান্ডে। সেখানে একজন ব্রিটিশ এমপির গাড়িতে হামলা। সে শুধু বঙ্গবন্ধুর নাতনিই নয়, একজন এমপিও।

‘এরা কী জাতীয় লোক? ইংল্যান্ডের মতো জায়গায়, একটি সভ্য জায়গায় এ ধরনের অসভ্য ঘটনা ঘটে। সেখানে তো কিছু লোক আছেই। এটা দুঃখজনক। আমি কাউকে দোষারোপ করতে চাই না, এটা ব্রিটিশ সরকার খুঁজে দেখবে।’

গত বুধবার স্থানীয় সময় রাতে ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। তার বাড়ির বাইরে পার্ক করা গাড়িটির ছাদে রাজনৈতিক বার্তাও লিখে যায় দুর্বৃত্তরা। পাশাপাশি ভেঙে ফেলা হয় জানালার কাচ।

তালেবানে ভয় নেই বাংলাদেশের

আফগানিস্তানে উগ্রবাদী ধর্মীয় গোষ্ঠী তালেবানের উত্থানে বাংলাদেশের ভয়ের কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সার্কভুক্ত দেশটির ক্ষমতা কাঠামোতে এই পরিবর্তনের প্রভাব যেন বাংলাদেশে না পড়ে, সে জন্য সরকার সতর্ক বলেও জানিয়েছেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ বিষয়ে সোমবার ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নে সরকারপ্রধান এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘তালেবানকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভয় পেলেই ভয়, না পেলে কিছু নয়। একসময় যখন তালেবানের উত্থান হলো, তখন অনেকে আফগানিস্তান থেকে ট্রেনিং নিয়ে আসে। এ জন্য দেশে জঙ্গিবাদ তৈরি হয়। এর জন্য মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

‘এটা যে মানুষের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না, মানুষ যে কষ্ট পায়, এ জন্য মানুষকে সচেতন হতে হবে। আমরা সতর্ক আছি এবং ব্যবস্থা নিচ্ছি যেন এ ঘটনার কোনো বাতাস আমাদের এখানে না আসে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি ধরে রেখেই আমাদের এখানে যেন ওই ঘটনা না ঘটে, এ জন্য সচেতনতা বাড়াতে চেষ্টা করছি। জনগণই মূল শক্তি। জনগণ শান্তি চায়। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায় থাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া এসেছে। এখন আর হাহাকার নেই। ভবিষ্যতে আরও উন্নত জীবন তারা পাবে।’

টিকা তৈরিতে প্রস্তুত দেশ

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে সরকার প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘টিকা তৈরি করতে আমরা প্রস্তুত। এর জন্য ১০ একর জায়গা আমরা নিয়ে রেখেছি। এখানেই যাতে টিকা উৎপাদন করা যায়, সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

‘আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করছেন। আমরা ফর্মুলা চাই। এটা এখানেই আমরা প্রস্তুত করতে পারব। তৈরি টিকা পরীক্ষা করতে মলিকিউলার ল্যাবরেটরি দরকার। আমাদের ল্যাব তৈরি প্রায় শেষ পর্যায়ে।’

তিনি বলেন, ‘যখনই সুযোগ পাব নিজেরা যাতে তৈরি করতে পারি। আমাদের ফার্মাসিউটিক্যালস (পণ্য) ১০০টিরও বেশি দেশে যায়। আমরা পারব বলে আশা করি। চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে ভ্যাকসিন নিজেরাই তৈরি করতে পারি।

‘আমাদের দেশেও অনেকে টিকা নিয়ে গবেষণা করছেন। এটা ভালো লক্ষণ।’

‘জিয়ার নির্বিচার হত্যার স্বরূপ উন্মোচন চান প্রধানমন্ত্রী’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিমান ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের ‘নির্বিচারে হত্যার’ স্বরূপ উন্মোচন হওয়া উচিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘সেই সময় বারবার ক্যু হয়েছে। ক্যুর নামে শুধু এয়ারফোর্সই না, সেনাবাহিনীরও বহু সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। এদের পরিবার লাশ তো পায়নি। বরং এরা যে গুম হয়ে গেল এটা নিয়ে কেউ কোনো কথাও বলেনি। এত বছর পর চেতনা এসেছে। এতকাল কেন সবাই এটা ভুলে ছিল?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জিয়া ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই এটা করেছিলেন। সে সময় অনেক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকেও হত্যা করা হয়। তাকে (জিয়াউর রহমান) এমন ফেরেশতা বানানো হলো শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার ঘোষক হয়ে গেল।

‘মিউটিনি বিচারের নামে ১১ অফিসারকে যে ফাঁসি দিল। জিয়া ক্ষমতায় থাকার সময় ক্যু এবং বিভিন্ন কারাগারে ফাঁসির হিসাব কেউ নেয়নি। আরও তথ্য বের হওয়া দরকার। এই পরিবারগুলো তো কিছু পায়নি। তাদের কথা কেউ জানতেও চায়নি।’

সরকারপ্রধান বলেন, এখন কমিশন গঠনের যে দাবি উঠেছে, আমি মনে করি এ জন্য ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় অনীহা

বিলাসিতায় নজর না দিয়ে গবেষণায় নজর দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সব সময় গবেষণায় বিশ্বাস করি। দুর্ভাগ্যজনক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় কেন যেন অনীহা। আমি যখনই দেশে ফিরেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলেই বলি গবেষণা করতে হবে। এটা ছাড়া উন্নতি সম্ভব নয়।

‘প্রাইম মিনিস্টার এডুকেশন ফান্ড করেছি। বিজ্ঞান প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ ব্যবস্থা করেছি। সেখানেও গবেষণার টাকা দিই।’

তিনি বলেন, ‘মেডিক্যাল সায়েন্সে আমাদের কোনো গবেষণাই হয় না। দু-একজন করেন। আমি বুঝি না কেন এই অনীহা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি গবেষণা থাকত… একসময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ছিল। সেটি ধীরে ধীরে কেন যেন কমে গেল। সব জায়গায় আলাদা ব্যবস্থা আমরা করছি গবেষণার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানের ওপর গবেষণা বন্ধই ছিল। এবার আলাদা বাজেট দিয়েছি। মেগাপ্রকল্প স্যাটেলাইটের কারণে অনেকের অভিজ্ঞতা হয়েছে। যা যা সুবিধা দেয়া আছে। তারা কেন করেন না এটার জবাব আমি দিতে পারব না। কেন যেন অনীহা।

‘মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছে, চিকিৎসা করে প্রাইভেটে যায় টাকা কামাতে। শুধু টাকা কামানোই চিন্তা হলে গবেষণা করবে কীভাবে? টাকার অভাব হবে না। আমি তো ফান্ড করে দিয়েছি। উদ্যোগের অভাব। সবার নজর বিলাসিতার দিকে।’

প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের দেশে একসময় আদর্শ নিয়ে সবাই চলত, এখন বিলাসিতায় নজর চলে গেছে। এখন সবাই মডেল হতে চায়, সমস্যা এখানে। বিলাসিতায় এত বেশি নজর, অন্য জায়গায় সময় দিতে পারে না।

‘তবে পরিবর্তন আসবে। আমি তো লেগে আছি। গবেষণা কিছু হচ্ছে বলে আজকে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। একেবারে হচ্ছে না, তা নয়। এখন স্বাস্থ্য আর বিজ্ঞানে গবেষণায় নজর দিচ্ছি বেশি।’

শরণার্থী পালা ব্যবসা

নিজেদের স্বার্থের জন্য কেউ কেউ রোহিঙ্গাদের শরণার্থী করে রাখতেই বেশি আগ্রহী হিসেবে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার তাগিদ দেয়ার পরও তারা সেটি করতে চায় না। কারণ কারও কারও কাছে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী করে রাখা একটা ব্যবসা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রিফিউজি থাকলে কিছু লোকের বোধ হয় একটু লাভই হয়। … অনেক প্রস্তাব আমরা পাই, যে রোহিঙ্গারা এখানে আছে, তাদের জন্য এটা করা হোক, ওটা করা হোক। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বলি যে, ঠিক আছে, কাজগুলো আপনারা করেন, মিয়ানমারে করেন। করে এদের নিয়ে যান। আমার এখানে করার তো দরকার নেই। আমার এখানে যেটুক করার আমরা করেছি।’

বাংলাদেশে ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঢল নামার পর সরকারই তাদের আশ্রয় দেয়। সে কথা সংবাদ সম্মেলনে মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

‘এখন তাদের ফেরাতে কিছু সংস্থা চেষ্টা অব্যাহত রাখলেও অনেক সংস্থা চায় তারা বাংলাদেশে থেকে যাক। এতে তাদের লাভ হয়, সে জন্য তারা প্রত্যাবাসনকে বাধা দেয়’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
তালেবানকে ভয়ের কিছু নেই, বাংলাদেশ প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির কোনো আশা নেই: প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি বাস্তবায়নে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল বাংলাদেশ
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
বিকেলে সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

সদ্য বহিস্কার হওয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাসেল মূলত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি মুজিব আদর্শের সৈনিক নন। তিনি বিভিন্ন অপরাধ থেকে বাঁচতে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে ঢুকে পড়েন।’

ছাত্রদল থেকে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগে অনুপ্রবেশ করায় আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেলকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্রে ২০ অক্টোবর রাতে এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

রাসেল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

ওই চিঠিতে বলা হয়, রাসেলের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

চলতি মাসে সংগঠনটির জেলা সভাপতি ও সম্পাদকের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুল হক আজিজ মুঠোফোনে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাসেল মূলত জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তিনি মুজিব আদর্শের সৈনিক নন। তিনি বিভিন্ন অপরাধ থেকে বাঁচতে ছাত্রদল থেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগে ঢুকে পড়েন।’

এসব কারণে রাসেলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে বহিষ্কার

রাসেল ২০০১ সালে বামনডাঙ্গা আঞ্চলিক ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০০৩ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

২০১০ সালে স্থানীয় আজেপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়।

আরও পড়ুন:
তালেবানকে ভয়ের কিছু নেই, বাংলাদেশ প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির কোনো আশা নেই: প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি বাস্তবায়নে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল বাংলাদেশ
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
বিকেলে সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান: তথ্যমন্ত্রী

ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান: তথ্যমন্ত্রী

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সাংবাদিকদের সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে শান্তি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সম্প্রীতি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সৌহার্দ্য। সেই মূল মর্মবাণী ধারণ করে যারা এই হানাহানি সৃষ্টি করতে চায়, যারা ফেতনা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’  

ধর্মের নামে ফেতনা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীর রমনায় বুধবার সকালে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়ার উদ্যোগে জশনে জুলুসে ইসলাম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপমহাদেশে ইসলামের প্রসার নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই ভারতীয় উপমহাদেশে কোনো যুদ্ধবিগ্রহের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় নাই। এই উপমহাদেশে আমাদের দেশে অলি-আউলিয়াদের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে, মানুষকে বুঝিয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে এনেছে এই জনপদে। তাদের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

‘যারা তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে, তারা ফেতনা সৃষ্টিকারী। যারা ইসলামের কথা বলে হানাহানিতে লিপ্ত হয়, তারা ফেতনা সৃষ্টিকারী। যারা ইসলামের কথা বলে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ করে, তারাও ফেতনা সৃষ্টিকারী।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আপনাদের মাধ্যমে আহ্বান জানাব নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ না রেখে, নিজেদের মধ্যে ফেতনা সৃষ্টি না করে ইসলামের কথা বলে দেশে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করার উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করার অনুরোধ করছি।’

পৃথিবীতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নিজেদের ঐক্য-সংহতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অধিকার যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়, নিজেদের মধ্যে ঐক্য-সংহতির মাধ্যমে মিয়ানমারের মুসলমানরা আজকে যারা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে এসেছে, তারা যেন পূর্ণ অধিকার নিয়ে আবার মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে, সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করা দরকার। পৃথিবীর অন্য জায়গায় যেখানে মুসলমাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে, সেগুলো বন্ধ করার জন্য আল্লাহর কাছে আজকে ফরিয়াদ করব।’

তিনি বলেন, ‘ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে শান্তি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সম্প্রীতি। ইসলামের মূল মর্মবাণী হচ্ছে সৌহার্দ্য।

‘সেই মূল মর্মবাণী ধারণ করে যারা এই হানাহানি সৃষ্টি করতে চায়, যারা ফেতনা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম সমস্ত ব্যাপারে কত উদার, কত মানবিক এবং কত বাস্তবসম্মত, সেগুলো আমাদের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমরা যেন পৃথিবীবাসীর কাছে তুলে ধরতে পারি। ইসলামের নাম নিয়ে যারা ইসলামকে ধ্বংস করতে চায় তারা প্রতিহত হবে।’

আরও পড়ুন:
তালেবানকে ভয়ের কিছু নেই, বাংলাদেশ প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির কোনো আশা নেই: প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি বাস্তবায়নে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল বাংলাদেশ
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
বিকেলে সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনায় রিজভী

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনায় রিজভী

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দোয়া মাহফিলে রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা চালের দাম, লবনের দাম, পেঁয়াজের দাম, ডালের দাম বাড়াবেন আর তার সিন্ডিকেটদের পকেট ফুলবে। এর মধ্য দিয়ে তার ময়ুরসিংহাসন টিকে থাকবে এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার অভিপ্রায়। তার সিন্ডিকেটকে সুযোগ দিতে জনগণের দৃষ্টি চৌমুহনীতে, হাজীগঞ্জে, চট্টগ্রাম ও পীরগঞ্জে নিয়ে যাচ্ছেন মন্ত্রীরা।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে বিএনপির আয়োজনে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সয়াবিন তেল এক লাফে লিটারে ৭ টাকা বেড়ে ১৬০ টাকা হয়েছে। ওবাদুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বাজার মনিটরিং করছেন।

‘এই মনিটরিং করতে গিয়েই চালের দাম, ডালের দাম হু হু করে বাড়ছে। এটিই হচ্ছে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অপকৌশল। রংপুর পুড়ছে চৌমহন ও হাজীগঞ্জ পুড়ছে। এর মধ্য দিয়েই তিনি তার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।’

রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা মনে করেন আমি চালের দাম, লবনের দাম, পেয়াজের দাম, ডালের দাম বাড়াবো, আর আমার সিন্ডিকেটরা পকেট ফোলাবে। এর মধ্য দিয়ে সরকারের ময়ুরের সিংহাসন টিকে থাকবে এটাই হচ্ছে শেখ হাসিনার অভিপ্রায়।

‘তার সিন্ডিকেটকে সুযোগ করে দিতে তিনি জনগণের দৃষ্টি চৌমুহনীতে, হাজীগঞ্জে, চট্টগ্রাম ও পীরগঞ্জে নিয়ে গেছেন। আর ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য মন্ত্রীদের উনি বলে রেখেছেন, তোমরা জনগণকে এগুলো নিয়ে ব্যস্ত রাখো। সেই কাজটা তারা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছেন।’

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লাবাসী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনও বলছে তারা নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। বলেছিলাম। কিন্তু যথাসময়ে সাড়া না দিয়ে তারা অনেক দেরিতে এসেছে। এ নিয়ে পত্রপত্রিকায়ও লেখালেখি হচ্ছে। অন্যদিকে একের পর এক বিএনপি’র নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন। সাড়া দেশ পুড়ছে আর তিনি ভানুর মতো শুধু দেখছেন।িউনি ভাবছেন, আমার বাড়ি আমি দেখবো না। বাংলাদেশকে নিজের জমিদারিতে পরিণত করেছেন তিনি। আবার বলছেন, তিনি না দেখলে কে দেখবেন। একটা ভয়ঙ্কর মিথ্যার ওপর দিয়ে তারা বসবাস করছেন। অন্যকে বলেছেন মিথ্যেবাদী।

‘উনি যদি আসলেই নামাজ পড়তেন, রাসুল (সা.) এর কয়েকটি বাণী যদি আয়ত্ত্ব করতেন হৃদয় দিয়ে তাহলে তিনি আজকে নিষ্ঠুর ফ্যাসিস্ট এর মত হতেন না। তিনি জালেম সরকারের প্রধান শাসক হতেন না। এটাতো উনি ধারণ করেননি। উনি ধারণ করেছেন, নির্বাচন আগে বোরকা পড়া, হাতে তজবি নেয়া, যার সবটাই ভণ্ডামি।’

রিজভী বলেন, ‘গুম-খুনের রাজনীতিতে, আজকে মিথ্যাচারের রাজনীতিতে আমরা প্রত্যেকে প্রশিক্ষিত হলে এ সরকার বেশি দিন টিকতে পারবে না। আদর্শের কাছে, ন্যায়ের কাছে, ইনসাফের কাছে, সুশাসনের কাছে, নীতির কাছে কখনোই জুলুমকারীরা টিকে থাকতে পারে না। টিকে থাকতে সরকার একটি গভীর নীলনকশা বাস্তবায়ন করছে।’

ওলামা দলের আহ্বায়ক হাফেজ মাওলানা শাহ মোহাম্মাদ নেছারুল হকের সঞ্চালনায় দোয়া মাহফিলে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু ও চিকিৎসক রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

আরও পড়ুন:
তালেবানকে ভয়ের কিছু নেই, বাংলাদেশ প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির কোনো আশা নেই: প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি বাস্তবায়নে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল বাংলাদেশ
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
বিকেলে সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দায় বিএনপির: কাদের

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার দায় বিএনপির: কাদের

বিএনপিকে ‘রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িক’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘তারা সংখ্যালঘুদের শত্রু মনে করে। তারা ভেবেছে, পূজামণ্ডপে হামলা করলে সরকারের ওপর হিন্দু সম্প্রদায়ের অনাস্থা বাড়বে। আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরাজমান বন্ধুত্ব নষ্ট হবে।’

শারদীয়া দুর্গাপূজায় দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ও পূজার পর বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য বিএনপি ও তার মিত্রদের দায়ী করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার নিজ বাসভবনে বুধবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্মকে যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করে, তারাই পরিকল্পিতভাবে বিভাজন তৈরি করতে চায়।’

বিএনপি নেতারা ‘মিথ্যাচারকে শিল্পে রূপ দিয়েছেন’ বলে মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক।

কাদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলায় নাকি সরকার জড়িত! আসলে ভিডিও ফুটেজে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসছে দেখে, তারা একচোখা দৈত্যের আচরণ শুরু করেছে।

বিএনপিকে ‘রাজনৈতিকভাবে সাম্প্রদায়িক’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘তারা সংখ্যালঘুদের শত্রু মনে করে। তারা ভেবেছে, পূজামণ্ডপে হামলা করলে সরকারের ওপর হিন্দু সম্প্রদায়ের অনাস্থা বাড়বে। আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরাজমান বন্ধুত্ব নষ্ট হবে।

‘যারা নিজেরা এদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, মেনে নিতে পারেনা উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি, তারাই জাতিকে বিভাজন করে দুর্বল করতে চায় এবং দেশের ইমেজ নষ্ট করতে চায়। আর এ বিভাজন রেখা তৈরি করতে চায় বিএনপি ও তার দোসররা।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘বিএনপির চরিত্র হচ্ছে, মুখে শেখ ফরিদ, বগলে ইট। তাদের কথায় পুষ্পবৃষ্টি হলেও অন্তর কদর্যে ভরা।

‘মসজিদগুলো মন্দির হয়ে যাবে, মসজিদে উলুধ্বনি হবে, এসব অপপ্রচার বিএনপি অতীতেও চালিয়েছে’ বলে জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ‘এসব অপকর্ম ও নির্জলা মিথ্যার পেটেন্ট একমাত্র বিএনপির।’

২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর সংখ্যালঘুদের ওপর বিএনপির নির্মমতা একাত্তরকেও হার মানিয়েছিল বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘এখনও তারা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।’

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। দিনটি মুসলিম উম্মার জন্য পবিত্র এবং মহিমান্বিত জানিয়ে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার মহানবীর যে অমর বাণী সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

সেই সঙ্গে শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবাইকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান ওবায়দুল কাদের।

আরও পড়ুন:
তালেবানকে ভয়ের কিছু নেই, বাংলাদেশ প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির কোনো আশা নেই: প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি বাস্তবায়নে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল বাংলাদেশ
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
বিকেলে সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলা কালীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি সদস্যের তালিকায় আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম। ছবি: নিউজবাংলা

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলায় তৃতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির এক সদস্য।

এটি বাতিলের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর আবেদন করেছেন তালিকায় থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা।

নেতা-কর্মী জানান, গত ১৭ অক্টোবর উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে সভা হয়।

এতে তৃণমূলের রায়ে ১৪ ভোট পেয়ে আফতারুজ্জামান বাবুল প্রথম হন। ১২ ভোট পেয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু দ্বিতীয় ও ৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন নুর ইসলাম মিয়া।

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ‘এর জন্য দায়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব। এটি কোনোভাবে মেনে নেয়ার মতো না।

‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরোক্ষ ইশারায় বিএনপির সক্রিয় সদস্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নে স্থান পেয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আমরা ওই তালিকা থেকে আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম বাদ দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু বলেন, ‘বাবুল কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ১৪ নম্বর সদস্য। বিষয়টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে। তারা সেদিন বর্ধিত সভায় চুপ থেকে তাকে প্রার্থী বাছাইয়ে অংশ নায়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

‘সেদিন হাউসের অনেককে ম্যানেজ করে বিতর্কিত ওই ব্যক্তি তৃণমূলর রায় তার পক্ষ নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর প্রতিবাদে আমি ওই তালিকা থেকে বাবুলর নাম কেটে পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নাম দেয়ার জন্য ১৮ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আফজালুল হক খোকা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাবুল বিএনপির সদস্য হয়ে থাকলে তার নাম আওয়ামী লীগে কীভাবে এসেছে, সেটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আগের সভাপতি ও সম্পাদক ভালো জানেন।

‘আমরা এর জন্য দায়ী নই। বর্তমানে তার নাম ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে আছে। আর এ কারণেই তিনি দলীয় প্রার্থী হতে চেষ্টা চালিয়েছেন।’

আফতারুজ্জামান বাবুল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি জীবনে কোনো দিন বিএনপি করিনি। বিএনপির তালিকায় কীভাবে নাম গেল, সেটা আমার জানা নেই। ছাত্রলীগের মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ২০১৭ সালে আমি আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির সদস্য হই। ২০১৮ সালে আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত হই।’

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর বলেন, ‘আফতারুজ্জামান বাবুলকে আমি আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবেই চিনি। তিনি ছাত্রলীগ করেছে। ২০০২ সালে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ছিল।’

আরও পড়ুন:
তালেবানকে ভয়ের কিছু নেই, বাংলাদেশ প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির কোনো আশা নেই: প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি বাস্তবায়নে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল বাংলাদেশ
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
বিকেলে সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির শোভাযাত্রায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অশান্তি ঘটালেন আপনারা, আগুন দিলেন আপনারা, মারলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা করে আজকে শান্তি মিছিল বের করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এই আওয়ামী লীগ এটাই। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে।’

হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী শান্তি মিছিলকে ক্ষমতাসীন দলের ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার’ উপায় হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এ দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছে এবং বিভাজন সৃষ্টি করে তারা এটাকে পুঁজি করে সেটাকে আবার তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চাচ্ছে।

‘অশান্তি ঘটালেন আপনারা, আগুন দিলেন আপনারা, মারলেন আপনারা, গুলি করলেন আপনারা এবং নিরীহ মানুষদের হত্যা করে আজকে শান্তি মিছিল বের করছেন। এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কিছু হতে পারে না। এই আওয়ামী লীগ এটাই। এটাই আওয়ামী লীগের খাঁটি চরিত্র। এটাই তারা করে এসেছে জন্মের পর থেকে।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

আ.লীগের শান্তি মিছিল লজ্জার: ফখরুল

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

এবারের পূজামণ্ডপে মানুষজনের কম উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘এই সাম্প্রদায়িক সমস্যা-সংকট সরকার তৈরি করেছে। এখানে দাদা (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়) আছেন, দাদার বাড়িতে পূজা হয়েছে, সেই বাড়িতে আমরা গিয়েছিলাম। এর আগের বছর যখন গিয়েছি, তখন দেখেছি কী উৎসব কী আনন্দ! সেখানে কাছাকাছি আরো কয়েকটা পূজামণ্ডপে পূজা হচ্ছে, লোকজন রাস্তায় বোঝাই হয়ে ছিল।

‘এবার গিয়ে দেখলাম দাদার বাড়িতে ওইভাবে লোক নেই। কারণ, মানুষ ভয় পেয়ে গেছে, সেভাবে লোক আসছে না। পূজা সেভাবে হচ্ছে না।

‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরেও আমি দেখেছি অনেক কম মানুষ। বনানীতে পূজামণ্ডপে গেছি। সেখানেও অনেক কম মানুষ। কেন? আমাদের অন্যতম ভাই, আমাদের পাড়া-প্রতিবেশী, আমাদের দেশের স্বাধীন নাগরিক তারা কোনো তাদের ধর্মের উৎসব পালন করতে পারবে না?’

সরকার হটানোর আহ্বান

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এ দেশের মানুষ অনেক বেশি কষ্ট পাবে। আমাদের অর্জনগুলো সব হারিয়ে যাবে। আমরা আরও বেশি নিচের দিকে নামতে থাকব। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সব সচেতন মানুষ যারা আছি তাদের এই দানবীয় সরকারকে সরাতে হবে।’

সরকার পতনের দাবিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, সাদা-কালো, বাম-ডান সবাইকে এক হয়ে এদের সরাতে হবে।

‘এদের সরিয়ে এখানে জনগণের একটা রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে, জনগণের একটা সরকার তৈরি করতে হবে, জনগণের একটা বাসভূমি তৈরি করতে হবে। তাহলেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবকে সবচেয়ে বেশি সম্মান প্রদর্শন করা হবে।’

দেশে গণতন্ত্র নেই অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘গণতন্ত্র তারা নিজের হাতে শেষ করেছে ১৯৭৫ সালে এবং এবার ২০০৮ সাল থেকে শুরু করেছে।

‘বাংলাদেশের আত্মা হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, গণতান্ত্রিক সমাজ, মুক্ত সমাজ। সেই আত্মাকে তারা ধ্বংস করছে পরিকল্পিতভাবে। তারা কথা বলতে দেয় না, লিখতে দেয় না।’

বিএনপির এই আয়োজন টেলিভিশনে বড়জোর দুই সেকেন্ড/তিন সেকেন্ড বা ১/২ মিনিট দেখানো যাবে, পত্রিকায় এক কলাম সংবাদ হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘আমি বলি দোষ তাদের না। তাদের ম্যানজেমেন্ট, মালিক… যারা সবাই কোনো না কোনোভাবে সরকারের সঙ্গে জড়িত আছে। হয় ব্যবসা-বাণিজ্য বা অন্য কোনোভাবে অথবা সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। যদি কিছু লিখতে যায় সাংবাদিকের চাকরি চলে যায়, পত্রিকা বন্ধ হয়ে যায়।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও শামীমুর রহমান শামীমের পরিচালনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, পেশাজীবী নেতা গাজী আব্দুল হক, প্রকৌশলী মিয়া মুহাম্মদ কাইয়ুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামও রাখেন।

আরও পড়ুন:
তালেবানকে ভয়ের কিছু নেই, বাংলাদেশ প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির কোনো আশা নেই: প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি বাস্তবায়নে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল বাংলাদেশ
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
বিকেলে সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন

পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি: রিজভী

পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি: রিজভী

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মিসভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আপনারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাজি নন। ফায়দা লুটতে আপনারা খাল কেটে কুমির আনছেন, একসময় সেই কুমির সবকিছু গ্রাস করবে, এটা টের পাচ্ছেন না। এই কুমির সরকারকে খেয়ে ফেলতে পারে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে, নানাভাবে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। যে আগুন নিয়ে খেলছেন, সেই আগুনে সরকার ছারখার হয়ে যাবে।’

পুলিশ সঠিক সময়ে না আসায় কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও রংপুরে সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সাম্প্রদায়িক সংঘাতের জন্য সরকার ও প্রশাসনকে দায়ী করে রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লার জনগণ ঘটনার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে বলেছিল, কিন্তু প্রশাসন সেটা করেনি। পুলিশ সঠিক সময়ে আসেনি বলেই সহিংস ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা, ফেনী, চাঁদপুর ও রংপুরে।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মঙ্গলবার মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল।

মিলাদ শেষে কর্মিসভায় রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের কথা আওয়ামী লীগের সহ্য হয় না। তার প্রমাণ ২০১৮ সালে দিনের বেলা ভোট করতে তারা সাহস পায়নি। রাতের নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা ১০ মাস আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি করে। যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তিনি তাতে জড়িত ছিলেন না।

‘তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে শেষ করতে সরকার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। তাদের সেই নীলনকশা আমরা কেন বাস্তবায়ন করতে দেব? জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ধ্বংস করতে পারবে না কেউ। সুতরাং আমরা একীভূত হতে পারলে স্বৈরশাসককে সরাতে পারব। শেখ হাসিনার ময়ূর সিংহাসন স্থির রাখা যাবে না, এটা আমাদের উল্টাতে হবে।’

সরকারের সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘আপনারা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে রাজি নন। ফায়দা লুটতে আপনারা খাল কেটে কুমির আনছেন, একসময় সেই কুমির সবকিছু গ্রাস করবে, এটা টের পাচ্ছেন না। এই কুমির সরকারকে খেয়ে ফেলতে পারে।

‘সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে, নানাভাবে উসকানি দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বিনষ্ট করছেন। যে আগুন নিয়ে খেলছেন, সেই আগুনে সরকার ছারখার হয়ে যাবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোর্তাজুল করিম বাদরু, মহানগর উত্তরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
তালেবানকে ভয়ের কিছু নেই, বাংলাদেশ প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
বিএনপির কোনো আশা নেই: প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি বাস্তবায়নে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিল বাংলাদেশ
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী
বিকেলে সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

শেয়ার করুন