স্ত্রী হত্যায় রিকশাচালকের যাবজ্জীবন

স্ত্রী হত্যায় রিকশাচালকের যাবজ্জীবন

প্রতীকী ছবি

রিকশাচালক রাসেল মাহমুদ সবুজ ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সকালে নিজ বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। এর পর তার স্ত্রী শোভাকেও দেখা যায়নি। পাশের বাসার ভাড়াটিয়া রিনা চার দিন পর ঘটনাটি বাড়ির মালিককে জানালে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে বাসা থেকে শোভার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় রাসেল মাহমুদ সবুজ নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জেসমিন আরা বেগম সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন।

আসামি সবুজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মামলার একমাত্র আসামি সবুজ পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করা হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি ও সাজা পরোয়ানা ইস্যু করার আদেশ দেয় আদালত।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পেশকার মো. মিজান বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামি রাসেল মাহমুদ সবুজ পেশায় রিকশাচালক। প্রেমের সম্পর্ক থেকে ২০১৪ সালের মার্চে তিনি বিয়ে করেন শোভা বেগম নামের তরুণীকে। বিয়ের পর বিভিন্ন কারণে শোভাকে মারধর করতেন সবুজ। তারা কদমতলী হাজী খোরশেদ আলী রোডের একটি বাসায় ভাড়া ছিলেন।

নিজ বাসা থেকে সবুজ ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর সকালে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। এর পর শোভাকেও আর দেখা যায়নি। পাশের বাসার ভাড়াটিয়া রিনা চার দিন পর ঘটনাটি বাড়ির মালিককে জানালে পুলিশে খবর দেয়া হয়। পরে বাসা থেকে শোভার মরদেহ উদ্ধার হয়।

এ ঘটনায় শোভার বোন রিভা বেগম কদমতলী থানায় মামলা করেন। আসামি করা হয় সবুজকে।

মামলাটি তদন্ত করে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ও কদমতলী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

পরের বছর ২৭ আগস্ট সবুজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তার বিচার শুরু হয়। অভিযোগপত্রভুক্ত ২২ সাক্ষীর মধ্যে ৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য বিবেচনায় আদালত সোমবার মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন
অটোরিকশাচালককে হত্যায় ২ আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কাজের খোঁজে ঢাকায় এসে খোয়ালেন সব

কাজের খোঁজে ঢাকায় এসে খোয়ালেন সব

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়া তিনজনকে শনিবার ভোররাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ব্রিজের ঢালে ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা তিন কাজপ্রত্যাশী। ধারালো অস্ত্র, স্ক্রু দিয়ে তাদের আঘাত করে দুই ছিনতাইকারী। শেষে তাদের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল, তিন হাজারের মতো টাকাও নিয়ে যায় দুই দুর্বৃত্ত।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা মোহাম্মদ গুলজার, জিলানী ও মুজিবুর রহমান। কাজের খোঁজে তারা ঢাকায় আসেন শুক্রবার মধ্যরাতে।

রাত তিনটার দিকে গন্তব্যে যেতে বাবুবাজার ব্রিজ এলাকা থেকে গাড়ি ঠিক করছিলেন, কিন্তু ভাড়া সাধ্যের বাইরে হওয়ায় হেঁটেই রওনা হন। তাতেও দেখা দেয় বিপত্তি।

ব্রিজের ঢালে ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা তিন কাজপ্রত্যাশী। ধারালো অস্ত্র, স্ক্রু দিয়ে তাদের আঘাত করে দুই ছিনতাইকারী। শেষে তাদের কাছে থাকা তিনটি মোবাইল, তিন হাজারের মতো টাকাও নিয়ে যায় দুই দুর্বৃত্ত।

কোতোয়ালি থানা পুলিশ ভোররাতে ওই তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সকালে হাসপাতাল ছাড়েন তারা।

কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ বলেন, ‘বাবুবাজার বুড়িগঙ্গা ব্রিজের ঢালে ওরা চিৎকার করছিল। তখন আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল, পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসি।’

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন
অটোরিকশাচালককে হত্যায় ২ আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

কুমিল্লার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় ইসলামী আন্দোলন

কুমিল্লার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত চায় ইসলামী আন্দোলন

কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার অভিযোগে ভেঙে ফেলা হয় দুর্গাপূজার প্রতিমা। ফাইল ছবি

চরমোনাই পীর বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা ও তার পরের ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি করতে হবে। এখানে কুমিল্লায় কোরআন অবমাননা, বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙা, রংপুরে বাড়িঘরে আগুন দেয়া এবং চাঁদপুরে বিক্ষোভে গুলি করা, সব ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে। সে কমিটির তদন্ত রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনসন্মুখে প্রকাশ করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।’

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখা, তা নিয়ে হামলা ও সহিংসতার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

দলীয় কার্যালয়ে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন তিনি। কুমিল্লার ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইসলামী আন্দোলন।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা ও তার পরের ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি করতে হবে। এখানে কুমিল্লায় কোরআন অবমাননা, বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙা, রংপুরে বাড়িঘরে আগুন দেয়া এবং চাঁদপুরে বিক্ষোভে গুলি করা, সব ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে। সে কমিটির তদন্ত রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনসন্মুখে প্রকাশ করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।’

তিনি দাবি করেন, তার দল জনসম্পৃক্ত শান্তিকামী সংগঠন। তারা আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান করতে চান। পেশীশক্তি নির্ভর হঠকারী রাজনীতি তারা করেন না। তারা জনগণের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি যেসব দাবি করেন সেগুলো হলো, ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন করতে হবে। সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে কোনো ধরনের ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটলে জনতা আর সহিংস হয়ে উঠবে না।

রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের অতি বাচাল প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। মানুষের আবেগ-অনুভূতির জায়গায় আঘাত করে মন্তব্য করার প্রবণতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। তারই প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অতি বাচাল তথ্য প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

দেশের স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ ফেরাতে বিরোধী দলগুলোর ওপরে দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে। আটক রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

শাসন ব্যবস্থায় জনতার মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে এবং সহনশীল, বহুদলীয়, মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ করে এবং তাদের নিয়োগে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে।

গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে গুলি করার মতো চরমপন্থা অবলম্বন করার প্রবণতা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি সরকারিভাবে নির্মাণ করে দিতে হবে। চাঁদপুরে পুলিশের গুলিতে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত সকল ব্যক্তি ও পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

দেশের একশ্রেণির মিডিয়া, রাজনৈতিক সংগঠন ও তথাকথিত সুশীল সমাজ এই ধরনেরর ঘটনায় যেভাবে ধর্মকে কেন্দ্র করে একচোখা বয়ান দাঁড় করায়, তা বন্ধ করতে হবে। বাঙালি জাতির ইতিহাস ও মনস্তত্ত্ব বিরোধী তাদের এই ধরনের বয়ান নির্মাণের পেছনে কোনো দুরভিসন্ধি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।

প্রতিবেশী দেশকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলাতে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘একদিকে করোনার কারণে মানুষের আয় কমে যাওয়া, অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের এই সীমাহীন বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।

‘নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের প্রধান কাজগুলোর একটি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলে, সরকার এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি পণ্য উৎপাদন ও ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত সময়ে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম সরাতে সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

আরও কর্মসূচি

আগামী ২৭ অক্টোবর দেশের চলমান সংকট ও তা থেকে উত্তরণের লক্ষে দেশের পীর-মাশায়েখ, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী ও সমাজকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে বলে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন
অটোরিকশাচালককে হত্যায় ২ আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান

অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান

র‍্যাব কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘শাহীরুল নিজেকে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনও নিজেকে সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিতেন। এসব পরিচয়ে আড়ালে প্রতারণা করতেন। বিশেষ করে রামপুরা এলাকায়। তাকে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

কথিত একটি মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে শাহীরুল ইসলাম সিকদার নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এসময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে বাহিনীটি।

শনিবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৪ এর অপারেশন অফিসার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল।

তিনি বলেন, ‘শাহীরুল নিজেকে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দিতেন। কখনও নিজেকে সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিচয় দিতেন।

‘এসব পরিচয়ে আড়ালে প্রতারণা করতেন। বিশেষ করে রামপুরা এলাকায়। তাকে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

র‍্যাব কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘শাহীরুলের প্রতারণার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে। বিকেল ৪টায় কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে।’

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন
অটোরিকশাচালককে হত্যায় ২ আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের পাশে গাড়ির ধাক্কায় যুবক নিহত

যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের পাশে গাড়ির ধাক্কায় যুবক নিহত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শনিবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত যুবকের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। ছবি: বুলবুল চৌধুরী/নিউজবাংলা

পুলিশের ভাষ্য, গুরুতর আহত অবস্থায় শফিকুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ফুট ওভারব্রিজের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় শফিকুল ইসলাম (২৬) নামের যুবক নিহত হয়েছেন।

শনিবার সকালের দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

শফিকুলের গ্রামের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলায়। তাকে কোন গাড়ি ধাক্কা দিয়েছে, তা জানা যায়নি।

পুলিশের ভাষ্য, গুরুতর আহত অবস্থায় শফিকুলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ী ফুট ওভারব্রিজের সামনে থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

এসআই জানান, ওই যুবক রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। পরে রাস্তার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, গাড়িটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। যুবকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন
অটোরিকশাচালককে হত্যায় ২ আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

রায়েরবাগ থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

রায়েরবাগ থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

নিহতের স্বামী বলেন, ‘আমার একটি মোবাইলের দোকান রয়েছে। আমি দোকান থেকে এসে দেখি বাসার রুমের দরজা বন্ধ। পরে দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করলে দরজা না খোলায় দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখতে পাই ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে ঝুলে রয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে চিকিৎসক জানান আমার স্ত্রী আর নেই।’

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ গোবিন্দপুর এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরহেদ উদ্ধার করা হয়েছে।

খাদিজা আক্তার নামের ২১ বছর বয়সী ওই নারীর দুই মাসের একটি শিশুসন্তান রয়েছে।

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে খাদিজার স্বামী মাসুক মিয়া জানান, বাসায় এসে দরজা বন্ধ দেখতে পান তিনি। পরে দরজা ভেঙে অচেতন অবস্থায় খাদিজাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে খাদিজার।

স্বামী মাসুক বলেন, ‘আমার একটি মোবাইলের দোকান রয়েছে। আমি দোকান থেকে এসে দেখি বাসার রুমের দরজা বন্ধ। পরে দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করলে দরজা না খোলায় দরজা ভেঙে ভেতরে গিয়ে দেখতে পাই ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে ঝুলে রয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে চিকিৎসক জানান আমার স্ত্রী আর নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার দুই মাসের একটি সন্তান রয়েছে, কী কারণে সে গলায় ফাঁস দিল আমি বলতে পারছি না।’

মাসুক জানান, তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীগঞ্জে। আর তার স্ত্রীর বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগরে। পরিবার নিয়ে থাকতেন যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগের গোবিন্দপুরে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন
অটোরিকশাচালককে হত্যায় ২ আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক

ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক

বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। ছবি: সিমু নাসের

ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী তুহিন কান্তি দাস বলেন, ‘এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো। মিছিল, বক্তৃতা, সভা ও সেমিনারের চেয়ে শিল্প অনেক শক্তিশালী প্রতিবাদের মাধ্যম৷ তাই আমরা এই মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছি।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কনসার্টের আয়োজন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিমনা একদল শিক্ষার্থী।

বেলা ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে কনসার্ট শুরু হয়। রাত ১০টায় শেষ হয় এ কনসার্ট। ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

কনসার্টে শিরোনামহীন, মেঘদল, সহজিয়াসহ ১২টি ব্যান্ড দল গান পরিবেশন করে। গানের পাশাপাশি হয়েছে মূকাভিনয়, একক গান, নৃত্য ও থিমেটিক পারফরম্যান্স।

গানের দলগুলোর মধ্যে রয়েছে শিরোনামহীন, মেঘদল, সহজিয়া, শহরতলী, বাংলা ফাইভ, গানপোকা, কৃষ্ণপক্ষ, কাল, অবলিক, অসৃক, গানকবি ও বুনোফুল৷

এ ছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করেছেন জয় শাহরিয়ার, তুহিন কান্তি দাস, সাহস মোস্তাফিজ, লালন মাহমুদ, নাঈম মাহমুদ, প্রিয়াংকা পাণ্ডে, যশ নমুদার, তাবিব মাহমুদ, রানা, উদয়, অপু, উপায় ও অনিন্দ্য৷

উম্মে হাবিবা ও আবু ইবনে রাফি নৃত্য পরিবেশন করেছেন। মূকাভিনয় পরিবেশন করেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। এ ছাড়া কনসার্টে একটি সমবেত ‘থিমেটিক পারফরম্যান্স’ পরিবেশন করা হয়।

বিকেলের দিকে কনসার্ট শুরু হলেও সন্ধ্যার দিকে কনসার্ট জমজমাট হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এই কনসার্ট উপভোগ করেন।

ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী তুহিন কান্তি দাস বলেন, ‘এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো। মিছিল, বক্তৃতা, সভা ও সেমিনারের চেয়ে শিল্প অনেক শক্তিশালী প্রতিবাদের মাধ্যম৷ তাই আমরা এই মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবাদের ভাষা গান, নৃত্য ও কবিতা। আমরা এই কনসার্টের মাধ্যমে দেশবাসীকে সহিংসতা প্রতিহতের বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা চাই এ দেশের মানুষ হিন্দু-মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে পরিচিত হোক। এটাই আজকের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।’

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন
অটোরিকশাচালককে হত্যায় ২ আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আইন ও কমিশন গঠনের দাবি

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আইন ও কমিশন গঠনের দাবি

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় রাজধানীর শাহবাগে ২০টি সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র বলেন, ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও কমিশন গঠন করতে হবে। এজন্য সরকারকে ২ সপ্তাহের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে সংখ্যালঘু আইন প্রণয়নের তৎপরতা না দেখলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাবর পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন, কমিশন গঠন এবং সাম্প্রতিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূণের দাবি করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার বিকেল শাহবাগে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা এসব দাবি জানায়।

একই সঙ্গে দাবি পূরণে সরকারকে ২ সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এর মধ্যে দাবি পূরণ না করলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা জানান।

বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের নেতৃত্বে সমমনা প্রায় ২০টি সংগঠন কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

পরে সন্ধ্যায় শাহবাগ থেকে মশাল মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে গিয়ে তাদের কর্মসূচি শেষ হয়।

এদিন বিকেল ৪টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা।

বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজন কুমার মিশ্র বলেন, ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও কমিশন গঠন করতে হবে। এজন্য সরকারকে ২ সপ্তাহের সময় দিচ্ছি। এর মধ্যে সংখ্যালঘু আইন প্রণয়নের তৎপরতা না দেখলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় বরাবর পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

আইন ও কমিশন গঠন ছাড়াও অবরোধ কর্মসূচি থেকে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতি পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়।

‘দেশব্যপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নারী নির্যাতন ও পূঁজারি হত্যার প্রতিবাদে’ বিক্ষোভ সমাবেশে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবারসহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় অংশগ্রহণকারীরা।

বাংলাদেশ হিন্দু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় বলেন, ‘রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িতরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। এর আগেও হামলায় সংখ্যালঘুরা বিচার পায়নি। হামলার নেপথ্যে যারা জড়িত, তাদেরও যেন বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন), বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, শারদাঞ্জালি ফোরাম, বাংলাদেশ হিন্দু লয়ার্স অর্গানাইজেশন (বিএইচএলও), আর্য প্রতিনিধি সভা বাংলাদেশ, জাগো হিন্দু পরিষদ, ঢাকা ওয়ারী রবিদাস হিন্দু কল্যাণ সংঘ, ভক্ত সংঘ, হিন্দু সংরক্ষণ ও বাস্তবায়ন পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ফোরাম ও হিন্দু ছাত্র ফোরাম, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংরক্ষণ সমিতি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

১৩ অক্টোবর কুমিল্লায় একটি মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপূজার মণ্ডপে ও হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজনের প্রণহানিও ঘটে।

সবশেষ রংপুরের পীরগঞ্জে একটি হিন্দু গ্রামে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
হত্যা মামলায় দুই ভাইয়ের যাবজ্জীবন
অটোরিকশাচালককে হত্যায় ২ আসামির যাবজ্জীবন

শেয়ার করুন