বিদেশি চ্যানেল বন্ধে টিভি দর্শকের ‘পানসে’ জীবন

বিদেশি চ্যানেল বন্ধে টিভি দর্শকের ‘পানসে’ জীবন

বিদেশি চ্যানেল না চলায় অনেকের ঘরে বন্ধ পড়ে আছে টেলিভিশন। ছবি: নিউজবাংলা

টিভি দর্শকরা বলছেন, টেলিভিশন তাদের প্রধান বিনোদনমাধ্যম। সব চ্যানেল তারা দেখতে চান। টিভি দর্শক অঞ্জন বলেন, ‘সরকার ও কেব্‌ল অপারেটরদের দ্বন্দ্বে আমরা সাধারণ দর্শকরা কেন বঞ্চিত হব। আমাদের কেন জিম্মি করা হবে?’

প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিয়ম করে টিভির সামনে বসেন নাজমুন নাহার। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটল ছন্দপতন। টেলিভিশন খুলে দেখেন বিদেশি চ্যানেল বন্ধ। নাতি দৌড়ে এসে জানায়, তার রুমের টিভিতে কার্টুন নেটওয়ার্ক দেখা যাচ্ছে না। সেদিন থেকে নাতি টিভিতে ইউটিউব দেখে সময় কাটাচ্ছে, কিন্তু নাজমুনের সন্ধ্যা যেন আর কাটছে না।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘নতুন নতুন স্মার্টফোন চালাই। ছেলে দেখিয়ে দিলো, কীভাবে ইউটিউবে সিরিয়াল দেখা যায়। তবে এখনও ভালোমতো ইউটিউবটা বুঝি না। সব সিরিয়ালের নতুন পর্বগুলোও খুঁজে পাই না। খুব বিরক্ত লাগছে।’

ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে থাকেন সৌদিয়া আক্তার সুপ্তি। তার ঘরের টিভিতে সবসময়ই চলত স্টার জলসা।

তিনি বলেন, ‘আমি ঘর থেকে তেমন বের হই না। সারা দিন ঘরের কাজই করি। এইসব চ্যানেলই তো আমার বিনোদন। এখন স্মার্টফোনে ইউটিউব দেখি। তবে সিরিয়ালগুলো খুব মিস করছি।’

ক্লিনফিড (বিজ্ঞাপনমুক্ত) ছাড়া বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারের ওপর সরকার বিধিনিষেধ জারির পর গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে সব বিদেশি চ্যানেল প্রদর্শন বন্ধ করে দিয়েছে কেব্‌ল অপারেটররা। আর এতে হঠাৎ করেই পানসে জীবনের মুখে পড়েছেন দেশের কোটি কোটি টিভি দর্শক।

বিশেষ করে পরিবারের শিশু ও নারীরা মহাবিরক্ত। তারা বলছেন, তারা সব ধরনের টিভি চ্যানেল দেখারই সুযোগ চান। আইনের মধ্যে সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার ও সংশ্লিষ্টদের।

রাজধানীর উত্তরার নাজমুন নাহারের দিন কেটে যায় ঘরের কাজ আর নাতির দেখভালে। সন্ধ্যায় ছেলের বউ অফিস থেকে ফিরলে অবসর পান তিনি। এরপর ভারতীয় চ্যানেল স্টার জলসার সিরিয়াল দেখে তার সময় কাটে।

সিলেট নগরীর ব্লু বার্ড স্কুলের ক্লাস টুতে পড়ে সাদাত হোসেন মাহিন। টিভি দেখার জন্য বাবা-মা তাকে প্রতিদিন এক ঘণ্টা বেঁধে দিয়েছিলেন। চার দিন হলো টিভি দেখা হচ্ছে না বলে এতোটাই মন খারাপ যে, নাওয়া-খাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে সে।

দেশে বিদেশি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ হওয়ায় মাহিনের মতো অনেক শিশুরই মন খারাপ। মাহিনের মা শেগুফতা ইয়াসমিন একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘টিভিতে সে কার্টুন দেখে। অনেক সময় ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকও দেখে। কয়েকদিন ধরে এসব চ্যানেল বন্ধ বলে খুবই মন খারাপ তার। খাওয়া-দাওয়া করতেই চাচ্ছে না। প্রায় জোর করেই খাওয়াতে হচ্ছে।’

বিদেশি চ্যানেল বন্ধে টিভি দর্শকের ‘পানসে’ জীবন
টিভিতে কার্টুন চ্যানেল বন্ধ বলে শিশুরা স্মার্টফোন ইউটিউব দেখে সময় কাটাচ্ছে



ছেলের মন ভালো করতে তিনি হাতে তুলে দিয়েছেন স্মার্টফোন। তাতেও বিপত্তি হয়েছে। এখন তার হাত থেকে ফোন নিলেই খিটমিট করছে।

শেগুফতার ভয়, এখন না আবার স্মার্টফোন আসক্তি ধরে যায় মাহিনের।

ভারতীয় চ্যানেলে সিরিয়াল ও রিয়েলিটি শো দেখে অবসর কাটে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার গৃহবধূ শরিফা বেগমের।

তিনি বলেন, ‘সারা দিন ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকি। সন্ধ্যার পর গিয়ে টিভি দেখার একটু সুযোগ পাই। এটাই আমার একমাত্র বিনোদন। সে সুযোগও এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

‘প্রতিদিন একবার টেলিভিশন চালু করে দেখি চ্যানেলগুলো আসছে কি না। হতাশ হয়ে আবার বন্ধ করে দেই।’

দেশের চ্যানেল কেন দেখেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে শরিফা বলেন, ‘দেশের চ্যানেলগুলোতে দেখার মতো কিছু নেই। সব চ্যানেলে কেবল খবর আর টক শো। যেগুলোতে কিছু নাটক দেখায়, সেগুলোর মানও খুব বাজে। দেখার মতো না।’

তার সঙ্গে বসে নিয়মিত ভারতীয় চ্যানেল দেখেন গৃহকর্মীও। তিনি নাম জানাতে চাননি। তিনি বলেন, টিভি দেখতে পারছেন না বলে মন খারাপ; কোনো কাজেই মন বসছে না।

নগরীর শিবগঞ্জের অঞ্জন দাস টিভিতে মূলত খেলা দেখেন। এখন চ্যানেলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলা দেখতে পারছেন না বলে খুব বিরক্ত তিনি।

অঞ্জন বলেন, ‘সরকার ও কেব্‌ল অপারেটরদের দ্বন্দ্বে আমরা সাধারণ দর্শকরা কেন বঞ্চিত হব। আমাদের কেন জিম্মি করা হবে?’

সিলেট কেব্‌ল সিস্টেম লিমিডেটের (এসসিএস) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ফজলুল করিম মারজান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন ছাড়া বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারের কথা বলা হয়েছে। ১ তারিখের মধ্যে ক্লিনফিড দেখানোর সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় তো আমরা বিদেশি চ্যানেল দেখাতে পারি না। কারণ সব চ্যানেলেই কম বেশি বিজ্ঞাপন আছে।

‘১ অক্টোবরই আমাদের কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। আমরা যদি বিদেশি চ্যানেল চালানো অব্যাহত রাখতাম, তখন হয়ত জরিমানা গুণতে হত।’

তিনি জানান, ক্লিনফিড দেখানোর মতো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নেই। এটি ব্যয়বহুলও। ক্লিনফিড পরিবেশকদেরই নিয়ে আসতে হবে। সরকারকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।

বিদেশি চ্যানেল না চলায় গ্রাহকরা মাস শেষে বিল দিচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।

লকডাউনে ঘরে বসে টিভি দেখেই সময় কেটেছে বরিশাল নগরীর শিশু তাসফি রহমানের। ‘সনি আট’ চ্যানেলের গোপাল ভাঁড় কার্টুনের নিয়মিত দর্শক ছিল সে।

বিদেশি চ্যানেল বন্ধে টিভি দর্শকের ‘পানসে’ জীবন
টিভিতে প্রিয় চ্যানেল নেই, করোনার কারণে বাইরেও যাওয়া হয় না; তাই কম্পিউটারে সময় কাটায় এই শিশু

নিউজবাংলাকে সে বলে, ‘গোপাল ভাঁড় দেখতে পারছি না কতদিন ধরে। ভালো লাগছে না। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক আর ডিসকভারিও দেখতে পাচ্ছি না। কত সময় পড়ালেখা ভালো লাগে? বাইরেও ঘুরতে যেতে দেয় না।’

ভারতীয় সিরিয়ালের জন্য জনপ্রিয় চ্যানেল স্টার জলসা ও জি বাংলা নিয়মিত দর্শক নগরীর বেশিরভাগ গৃহবধূ।

নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইরা বানু বলেন, ‘কাজ না থাকলে নাটক দেখে একটু সময় কাটাতাম। ঘরের পুরুষরা তো সারা দিন বাইরে থাকে। তাদের সময় কেটে যায়। আমরা নারীরা বাইরে বেশি ঘুরতে পারি না, ঘরে কাজ থাকে। কাজ শেষে যে একটু বসে টিভি দেখব, সেই লাইনও রাখে নাই। সব খালি নো সিগন্যাল দেখায়।’

কবে নাগাদ চ্যানেলগুলো স্বাভাবিক হবে, তা জানতে চাইলে বরিশালের স্কাই ভিশন কেব্‌ল নেটওয়ার্কের পরিচালক শিবু দাস বলেন, ‘সরকার ক্লিনফিড ছাড়া চ্যানেল চালাতে বলায় সব বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। এখন যে চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপন নেই, সেই চ্যানেলগুলো ধীরে ধীরে আবার দর্শকদের সামনে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করব।’

ইউরোটেল ডিজিটাল কেব্‌ল টিভির পরিচালক এস এম জাকির হোসেন বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে সব বিদেশি চ্যানেলই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এখন আমরা যাচাই-বাছাই করে যে চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপন নেই, সেগুলো চালু করব। তবে তাতে কিছুটা সময় লাগবে।’

কুমিল্লা নগরীর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক রুমি আক্তার তো ভেবেছিলেন টিভি সেটেই হয়ত সমস্যা, তাই বিদেশি চ্যানেল আসছে না। স্বামী আজহার উদ্দিন স্টেডিয়াম এলাকার মেকানিকের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, টিভি ঠিকই আছে। ক্যাবেল অপারেটররাই চ্যানেলগুলো বন্ধ করেছে।

নগরীর ঝাউতলা এলাকার গৃহবধূ শিরিন সুলতানা বলেন, ‘আমার ছেলেটা টিভিতে মোটু-পাতলু দেখত। চ্যানেল বন্ধ হওয়ায় এখন মোবাইলে ডাটা অন করে ইউটিউব থেকে দেখে। ফোনে কল আসলে কেটে দেয়। অনেক জরুরি কল ধরতে পারি না। চ্যানেলগুলো বন্ধ হওয়ায় যন্ত্রণায় আছি।’

বিদেশি চ্যানেল বন্ধে টিভি দর্শকের ‘পানসে’ জীবন
টিভিতে খেলার চ্যানেল চলে না বলে পাড়ার দোকানেও ক্রেতা কমেছে

জেলার সদর উপজেলার জগন্নাথপুরে হোসেন মিয়াও বিপদে পড়েছেন। এলাকায় ছোট্ট খাবার হোটেল আছে তার। জানান, দোকানে টিভিতে খেলার চ্যানেল চালিয়ে রাখলে তা দেখার জন্য গ্রাহক বসতেন, চা-নাস্তা খেতেন।

তিনি বলেন, ‘আমার দোকানে মানুষ আসে, চা-টা খায়, খেলা দেখে। আজ কয়েকদিন মানুষ খুব বিরক্ত। কোনো চ্যানেল আসে না। বাংলা চ্যানেলে সিনেমা চলে। আর এসব দেখে কাস্টমার চলে যায়।’‌

জেলার চান্দিনা উপজেলার কেব্‌ল ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘গ্রাহকরা দিনরাত ফোন দিয়ে যাচ্ছে। যতই বলি ততই অবুঝের মতো প্রশ্ন করে মানুষ। আশা করি চ্যানেলগুলো আবার খুলে দেয়া যাবে শিগগিরি।’

বিদেশি চ্যানেল বন্ধে খুশিও অনেকে

রাজধানীর মিরপুরের মৌসুমী ইসলাম মনে করেন, বিদেশি কিছু চ্যানেল বন্ধ করা প্রয়োজন ছিল।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেলের সিরিয়াল না থাকায় ভালোই হয়েছে। জি-বাংলা, স্টার জলসা, এসব চ্যানেলের তেমন প্রয়োজন নেই বললেই চলে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত খুবই ইতিবাচক। তবে এখন সব ধরনের চ্যানেল বন্ধ রয়েছে, এটা ঠিক নয়। বিভিন্ন নিউজ চ্যানেল, খেলা ও নেচার বিষয়ক চ্যানেলগুলো সম্প্রচারে থাকা উচিত।’

কিছু চ্যানেল চালু রাখার পক্ষে কথা বললেন লক্ষ্মীপুরের রামগতির আরিফ হোসেনও।

তিনি বলেন, ‘অফিস শেষে বাসায় ফিরে কিছু সময়ের জন্য টিভি দেখে একটু রিফ্রেশ হওয়া যায়। দেশি-বিদেশি টিভিগুলোতে এখন মানসম্মত তেমন অনুষ্ঠান থাকে না বললেই চলে। তাই বন্ধ থাকাই ভালো। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নিউজ চ্যানেল খুলে দেয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ট্রাভেল ও ডিসকভারির মতো চ্যালেনগুলো দেখেও মানুষ নতুন কিছু শিখতে পারে।’

ঢাকার আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকার নেছার উদ্দিন ও খাদিজা আক্তার দম্পতির দুই সন্তানের টিভিতে কার্টুনের আসক্তি বেশ বেড়ে গিয়েছিল। কার্টুন দেখতে না দিলে খেতেই চাইত না তিন বছরের তাসফিয়া আক্তার নাফিজা ও সাত বছরের নাঈম খান। আবার রিমোট নিয়ে দুইজনের মধ্যে মারামারিও লেগে থাকত।

এখন বিদেশি চ্যানেল বন্ধ হওয়ায় তারা মিলেমিশে খেলাধুলা করছে বলে জানান তাদের বাবা-মা।

নাফিজা-নাঈমের মা খাদিজা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি জি-বাংলা, স্টার জলসা ও জলসা মুভিস দেখি। আমার বাচ্চা দুইটা সব সময় কার্টুন চ্যানেল দেখত। সারা দিন রিমোট নিয়ে মারামারি করত। ছেলে মোটুপাতলু দেখতে চায়, আরেকজন গোপী।

‘আমি যখন দেখতাম, তখন একটা নেশা ছিল। এ জন্য স্বামীর সঙ্গে ঝগড়াও হতো। এখন ইন্ডিয়ান চ্যানেল বন্ধ হওয়ার পরে কোনো ঝামেলাই নাই। ছেলে-মেয়ে দুই দিন কান্নাকাটি করলেও এখন ওরা বুঝতে পারছে যে চ্যানেল নাই। আজকে কিছু বলেও নাই। দুই ভাই-বোন নিজেরা খেলা করছে সারা দিন।’

দেশীয় টিভি চ্যালেনগুলোর মানহীন অনুষ্ঠানের কারণেই দর্শক বিদেশি চ্যানেলমুখী হয়েছে বলে মনে করেন রাজধানীর ফার্মগেটের মো. হোসেন। তিনি বলেন, ‘দেশি চ্যানেলগুলোতে একঘেয়েমি সংবাদ আর নাটক দেখে আমরা বিরক্ত। নাটকে ঘুরে ফিরে প্রায় একই মুখ। দেশি চ্যানেল দেখার জন্য টাকা খরচ করে ডিস লাইন নেব কেন?’

দেশি টেলিভিশনগুলোর মালিকদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো) বলছে, আলোচনার মাধ্যমেই চলমান সমস্যায় একটা পথ বের হবে।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শনিবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির সিনিয়র সহসভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশে এ আইন মানা হচ্ছে। আমাদের কোনো চ্যানেল বিদেশে সম্প্রচারে গেলেও তাদের এটা মানতে হয়। ডিস্ট্রিবিউটরদের ডাউনলিংকের অনুমোদনের ক্ষেত্রেও এটি শর্ত হিসেবে উল্লেখ আছে।

‘তবে এটা আন্দোলনের কোনো বিষয় না। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের একটি পথ বের হয়ে আসবে।’

বিদেশি চ্যানেল বন্ধে টিভি দর্শকের ‘পানসে’ জীবন


বন্ধ হওয়া বিদেশি চ্যানেলগুলো খুলতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার রোববার তথ্য সচিব ও কোয়াব সমন্বয় কমিটির আহ্বায়কের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

একই সঙ্গে ক্লিন ফিডে কোনো বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার করা হলে বাংলাদেশের সব টিভি চ্যানেলেও ক্লিন ফিড (বিজ্ঞাপনবিহীন) সম্প্রচারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, ‘বিদেশি চ্যানেলগুলোর সঙ্গে ক্লিন ফিড ছাড়া কীভাবে বাংলাদেশে সম্প্রচার অব্যাহত রাখা যায়, সে ব্যাপারে কোনো আলোচনা না করে চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করা হঠকারী সিদ্ধান্ত।

‘এমন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ বিদেশি চ্যানেল দেখার প্রয়োজনীয় ফি দিয়েও চ্যানেল দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে বিনোদনের অভাব দেখা দিয়েছে, যা সুস্পষ্টভাবে বাংলাদেশের সংবিধান ও মানবাধিকার লঙ্ঘন।’

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর অনুষ্ঠানের মান অত্যন্ত নিম্ন। ফলে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ বিদেশি চ্যানেল দেখেন। সেগুলো বন্ধের ফলে দেশের মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা কার্টুন, নারীরা রান্না ও সিরিয়াল এবং পুরুষরা সংবাদ, খেলা ও রিয়্যালিটি শো দেখতে পারছেন না। এটি প্রচলিত আইনের পরিপন্থি।

নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার চালু না করে দিলে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সিলেটের দেবাশীষ দেবু, বরিশালের তন্ময় তপু, কুমিল্লার মাহফুজ নান্টু ও সাভারের ইমতিয়াজ উল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার সংকটের সুরাহা কী
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি

সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি

দেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা করোনা টিকার আওতায় আসবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জানা যায়, ঢাকা মহানগরীর ৭৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ১৫ হাজার। আর সারা দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী আছে ১ কোটি ২৫ লাখ ২ হাজার ১২৬ জন।

করোনার টিকা দিতে ঢাকা মহানগর ব্যতীত সারা দেশের মাধ্যমিক স্কুলে অধ্যয়নরত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

টিকা নিতে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য মাউশির ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, টিকা দেয়ার জন্য মাউশির আওতাধীন ঢাকা মহানগর ব্যতীত সব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তথ্য ছক আকারে আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ই-মেইলে পাঠাতে হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ২৫ অক্টোবরের মধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ই-মেইল পাঠাবেন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে মাউশির ই-মেইলে [email protected] পাঠাবেন।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর এক নির্দেশনায় ঢাকা মহানগরের শিক্ষার্থীদের তথ্য চায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। ১৯ অক্টোবরের মধ্যে তাদের তথ্য মাউশির ই-মেইলে [email protected] পাঠাতে বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নম্বর, নাম, লৈঙ্গিক পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন, প্রতিষ্ঠানের নাম, জন্মতারিখ এবং অভিভাবকের ফোন নম্বর দিয়ে ইংরেজিতে এক্সেল শিট পূরণ করে ই-মেইলে তথ্য পাঠাতে হবে।

গত ১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১০০ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষামূলকভাবে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের দেশে ১ কোটির বেশি ছেলেমেয়ে আছে, যাদের আমরা টিকা দেব। প্রথম পর্যায়ে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেব এবং পর্যায়ক্রমে বাকিদের দেয়া হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফাইজারের টিকা ভালো ও নিরাপদ। এই টিকা আমেরিকা, ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে দেয়া হচ্ছে। এ কারণে এই টিকা আমরা ছাত্রছাত্রীদের দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের শিশুরা নিরাপদে থাকুক।’

১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, ঢাকা মহানগরীর ৭৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ১৫ হাজার। আর সারা দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী আছে ১ কোটি ২৫ লাখ ২ হাজার ১২৬ জন।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

শুধু চলতি বছর ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। বাকি শ্রেণিগুলোর মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার সংকটের সুরাহা কী
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট

শেয়ার করুন

শেখ রাসেল দিবসে মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে দুটি বইয়ের

শেখ রাসেল দিবসে মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে দুটি বইয়ের

‘শেখ রাসেল: দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’ বইটির সম্পাদনা করেছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়ে দ আহমেদ পলক। বইটির উপদেষ্টা সম্পাদক কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ‘শেখ রাসেল: শৈশবে ঝরে যাওয়া ফুল’ বইটির প্রধান উপদেষ্টা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল। বইটি সম্পাদনা করেছেন ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। বইটির উপদেষ্টা সম্পাদক বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

প্রথম শেখ রাসেল দিবসে তাকে নিয়ে সংকলিত দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সোমবার শেখ রাসেল দিবস ২০২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘শেখ রাসেল: দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’ এবং ‘শেখ রাসেল: শৈশবে ঝরে যাওয়া ফুল’ নামের বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ এবং শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের যৌথ এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করবেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বিশেষ অতিথি থাকবেন শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান মো. রকিবুর রহমান, সংগঠনের উপদেষ্টা ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, তরফদার মো. রুহুল আমিন এবং মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা।

‘শেখ রাসেল: দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’ বইটির সম্পাদনা করেছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বইটির উপদেষ্টা সম্পাদক কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

‘শেখ রাসেল: শৈশবে ঝরে যাওয়া ফুল’ বইটির প্রধান উপদেষ্টা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল। বইটি সম্পাদনা করেছেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। আর বইটির উপদেষ্টা সম্পাদক বাংলাদেশ রোলার স্কেটিং ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।

জয়ীতা প্রকাশনী থেকে বের হওয়া বই দুটির প্রকাশক ইয়াসিন কবীর জয়। প্রচ্ছদ ও গ্রন্থ পরিকল্পনা করেছেন শাহরিয়ার খান বর্ণ।

‘শেখ রাসেল: শৈশবে ঝরে যাওয়া ফুল’ বইয়ের সম্পাদক ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত লিখেছেন, ‘খুবই সংক্ষিপ্ত জীবন ছিল শেখ রাসেলের। তাকে নিয়ে তেমন কোনো লেখা বা তার জীবনযাপনের বিষয় নিয়ে কোনো তথ্যভিত্তিক বিশদ বর্ণনা পাওয়া যায় না। ছোট ভাই রাসেলকে নিয়ে সবচেয়ে তথ্যবহুল লেখাটি লিখেছেন তার বড় বোন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাসেলকে নিয়ে সেই স্মৃতিমেদুর লেখায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হৃদয় খুঁড়ে খুঁটিনাটি বহু প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।’

চৌধুরী নাফিজ সরাফাত আরও লিখেছেন, ‘শেখ রাসেলকে নিয়ে আরও একটি নিবিড় মমতামাখা রচনা থাকছে বোন শেখ রেহানার। শেখ রেহানা সে সময় বড় বোনের সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন। রাসেলেরও জার্মানিতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে সময় তার অসুখ করায় মা যেতে দিতে রাজি হননি। আহা, সে যদি সেদিন চলে যেত বোনদের সঙ্গে।’

বইটিতে শেখ রাসেলকে নিয়ে বিশিষ্ট কথাশিল্পী, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের কয়েকটি লেখাও সংকলিত হয়েছে বলে সম্পাদকীয়তে লিখেছেন ড. নাফিজ সরাফাত। তিনি লিখেছেন, ‘এই লেখাগুলোতে শিশু হত্যার বেদনা ও ঘাতকদের প্রতি ঘৃণাই প্রকাশিত হয়েছে। আর আছে সেই আক্ষেপ, আজ বেঁচে থাকলে হয়তো দেশ, জাতি ও সমগ্র মানবসমাজের জন্যই অনেক তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারত।’

১৯৬৪ সালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে জন্ম নেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেল। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ছোট শিশুটিকেও। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রাসেলের বয়স তখন ছিল মাত্র ১০ বছর।

নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের ৪৬ বছর পর চলতি বছরের ২৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ রাসেলের জন্মদিনকে জাতীয় দিবসের স্বীকৃতি দেয়া হয়। মন্ত্রিসভা বৈঠকে ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মদিনটি ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে পালনের অনুমোদন পায়।

দিনটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করে জাতীয়ভাবে পালন করার নির্দেশ দেয়া হয় মন্ত্রিসভা থেকে। দিবসটি জাতীয়ভাবে পালনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সে হিসেবে এবারই প্রথম দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার সংকটের সুরাহা কী
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট

শেয়ার করুন

সব শিশুর মাঝে রাসেলকে খুঁজে ফেরেন শেখ হাসিনা

সব শিশুর মাঝে রাসেলকে খুঁজে ফেরেন শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনার কোলে ছোটভাই শেখ রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

‘শেখ রাসেল আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আছে তার পবিত্র স্মৃতি। বাংলাদেশের সকল শিশুর মধ্যে আজও আমি রাসেলকে খুঁজে ফিরি। এই শিশুদের রাসেলের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে। এমন এক উজ্জ্বল শিশুর সত্তা বুকে ধারণ করে বাংলাদেশের শিশুরা বড় হোক। খুনিদের বিরুদ্ধে তারা তীব্র ঘৃণা বর্ষণ করুক। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে তারা এগিয়ে আসুক- আজ এ প্রত্যাশাই করি।’

দেশের সকল শিশুর মাঝে স্নেহের ছোট ভাই শেখ রাসেলকে খুঁজে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথম শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে এ কথা বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

জাতির পিতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে শেখ রাসেল ছিলেন সবার ছোট। বড় বোন হিসেবে শেখ হাসিনার কাছে থাকত নানা আবদার।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে খুনিরা বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি ১১ বছর বয়সী রাসেলকেও হত্যা করে।

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে জন্ম নেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেল। গত ২৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা দিনটিকে ‘শেখ রাসেল দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

দিনটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত করে জাতীয়ভাবে পালন করার নির্দেশ দেয়া হয় মন্ত্রিসভা থেকে। সে হিসেবে এ বছরই প্রথম দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হচ্ছে।

প্রথমবারের মতো পালিত ‘শেখ রাসেল দিবস ২০২১’ এর প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস, অদম্য আত্মবিশ্বাস’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শেখ রাসেল আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু আছে তার পবিত্র স্মৃতি। বাংলাদেশের সকল শিশুর মধ্যে আজও আমি রাসেলকে খুঁজে ফিরি।

‘এই শিশুদের রাসেলের চেতনায় গড়ে তুলতে হবে। এমন এক উজ্জ্বল শিশুর সত্তা বুকে ধারণ করে বাংলাদেশের শিশুরা বড় হোক। খুনিদের বিরুদ্ধে তারা তীব্র ঘৃণা বর্ষণ করুক। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে তারা এগিয়ে আসুক- আজ এ প্রত্যাশাই করি।’

ভাই হারানোর কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘এই কোমলমতি শিশু রাসেলকে আমরা হারিয়েছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ইতিহাসের এক নির্মম, জঘন্য ও বিভীষিকাময় রাতে। স্বাধীনতাবিরোধী, ষড়যন্ত্রকারী ও বিশ্বাসঘাতকদের হাতে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তার পরিবারের ১৮ জন সদস্য শহিদ হন ঐ কালরাতে।

‘সেদিন ছোট্ট শিশু রাসেলও খুনিদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। রাসেল তো বাঁচতে চেয়েছিল। বাঁচার জন্য ঘাতকদের কাছে আকুতি জানিয়েছিল, মায়ের কাছে যাবার কথা বলেছিল। মায়ের কাছে নিয়ে যাওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ঘাতকরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’

কালরাতের স্মৃতিচারণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘বিভীষিকাময় সেই রাতের প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি মুহূর্ত এখনও গভীর শোকের সঙ্গে স্মরণ করি। এখনও ভাবি, কারও বিরুদ্ধে শত্রুতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই ক্ষোভ একজন কোমলমতি শিশুকে কেন কেড়ে নেবে? এই শিশু কী দোষ করেছিল? সে তো কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। সে কেন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের অংশ হবে?’

দুঃখের এই স্মৃতি স্মরণ করতে কষ্ট হয় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বুকে পাথর বেঁধে সেইসব স্মৃতির সাগরে ডুব দেই। কারণ সেদিন ঘাতকের বুলেট যে কোমলমতি শিশুটির প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, সে ছিল নির্দোষ-নিস্পাপ।’

আদরের ছোট ভাইকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সে আজ বেঁচে থাকলে কী করত- এই ভাবনাটা আমাকে প্রায়ই ভাবায়।

‘রাসেল যদি বেঁচে থাকত, তাহলে হয়ত একজন মহানুভব, দূরদর্শী ও আদর্শ নেতা আজ আমরা পেতাম, যাকে নিয়ে দেশ ও জাতি গর্ব করতে পারত।’

ছোট ভাইয়ের নামকরণের ইতিহাসও জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অত্যন্ত প্রিয় লেখক ছিলেন খ্যাতনামা দার্শনিক ও নোবেলজয়ী লেখক বাট্রার্ন্ড রাসেল। জাতির পিতা বার্ট্রান্ড রাসেলের বই পড়ে বঙ্গমাতাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। তাই বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গমাতা দুজনে মিলে শখ করে তাদের আদরের ছোট ছেলের নাম রেখেছিলেন রাসেল।’

তিনি বলেন, ‘রাসেল নামটি শুনলেই প্রথমে যে ছবিটি সামনে আসে তা হলো- হাস্যোজ্জ্বল, প্রাণচঞ্চল এক ছোট্ট শিশুর দুরন্ত শৈশব; যে শিশুর চোখগুলো হাসি-আনন্দে ভরপুর। মাথা ভর্তি অগোছালো চুলের সুন্দর একটি মুখাবয়ব- যে মুখাবয়ব ভালোবাসা ও মায়ায় মাখা।’

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার সংকটের সুরাহা কী
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট

শেয়ার করুন

ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় আরও ৫ বছর, কমবে দাম

ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় আরও ৫ বছর, কমবে দাম

ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মেয়াদ বাড়ল আরও ৫ বছর। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ আমদানিতে সরকারের সাশ্রয় হবে ৭০৬ কোটি টাকা। প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ৭ দশমিক ১৪ টাকা। ৫ বছরে বিদ্যুতের মূল্য হিসেবে প্রায় ৪ হাজার ১৮৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।’

ভারতের ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মেয়াদ আরও ৫ বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। নতুন যে বিদ্যুৎ আসবে, তার দাম কমবে বলে জানানো হয়েছে।

রোববার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ আমদানিতে সরকারের সাশ্রয় হবে ৭০৬ কোটি টাকা। প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম পড়বে ৭ দশমিক ১৪ টাকা।

‘৫ বছরে বিদ্যুতের মূল্য হিসেবে প্রায় ৪ হাজার ১৮৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে।’

২০১৬ সালের ১৭ মার্চ ত্রিপুরা থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। প্রথমে চুক্তি হয় ১০০ মেগাওয়াট আমদানির। পরে আরও ৬০ মেগাওয়াট আমদানির লক্ষ্যে ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ চুক্তি হয়।

পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তিটি গত ১৬ মার্চ শেষ হলেও আগের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে। এরপর ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দেয় ভারতীয় কোম্পানিটি।

এই প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দেয়ার পর বিষয়টি ওঠে ক্রয় কমিটির সভায়।

কমিটির সদস্যরা জানান, নতুন চুক্তি করলে সঞ্চালন লাইন নির্মাণসহ অন্যান্য খচর লাগবে না বলে বিদ্যুতের দাম কমানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। ভারতীয় পক্ষও সে প্রস্তাবে রাজি হয়।

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার সংকটের সুরাহা কী
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট

শেয়ার করুন

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় হল পরিদর্শন করেন উপাচার্য অধ্যাপক এম কামরুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা

এক ঘণ্টার এই ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১টায়। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারে দেখা যায় বৈচিত্র্য।

কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই একসঙ্গে ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রথম দিন আজ।

রোববার দেশজুড়ে ২৬টি কেন্দ্রে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। এই ইউনিটে আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ শিক্ষার্থী।

এক ঘণ্টার এই ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে শেষ হয় ১টায়। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারে দেখা যায় বৈচিত্র্য।

ব‌রিশালে অনুপ‌স্থিত ২২৪ পরীক্ষার্থী

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হলেও এদিন অনুপস্থিত ছিলেন ২২৪ পরীক্ষার্থী।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটে ৩ হাজার ৪৫৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ২৩৪ জন। উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি গুচ্ছে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একটি পরীক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবেন। এতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক কষ্ট লাঘব হবে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি।’

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ‘এ’ ইউনিটে উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশ

সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীতে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো একটি গুচ্ছে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘব আরও ত্বরান্বিত হবে।’

দিনাজপুরে উপস্থিতির হার ৯৮ শতাংশ

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল ৯৮ শতাংশ।

হাবিপ্রবি কেন্দ্রের পরীক্ষায় অংশ নেন ৭ হাজার ২৫ শিক্ষার্থী।

পরীক্ষা শুরুর পর বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম কামরুজ্জামান।

পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আজ একটি ইতিহাস রচিত হলো। গুচ্ছ পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের পরীক্ষায় উপস্থিতির হার অনেক বেশি, ৯৮ শতাংশের মতো। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা দিয়েছেন।

এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর, প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

কুবিতে অনুপস্থিত ১১১ জন

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) কেন্দ্রে প্রথম দিন স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের গুচ্ছ পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও অনুপস্থিত ছিলেন ১১১ পরীক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৫০৫ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের কথা থাকলেও পরীক্ষা দিয়েছেন ২ হাজার ৩৯৪ জন। উপস্থিতির হার প্রায় ৯৬ শতাংশ।

পরীক্ষা শেষে সাকিব আল হাসান নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষা আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে। হলে কোনো সমস্যা হয়নি। স্যাররা যথেষ্ট আন্তরিক ছিলেন।’

ফারহানা হোসেন সাথী নামের আরেক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্ন কিছুটা কঠিন হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হয় নাই। মূল গেট থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন, রোভার, বিএনসিসি, ছাত্রলীগের কাছ থেকে কক্ষ খুঁজে পেতে সহযোগিতা পেয়েছি।’

আব্দুস সাত্তার নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয়ে ভালোই হয়েছে। বাড়ির কাছেই পরীক্ষা দিতে পেরেছে ছেলেমেয়েরা। আমাদের ভোগান্তি অনেকখানি কমেছে, পাশাপাশি আর্থিক দিকটাও সাশ্রয় হয়েছে। আমরা চাই সামনেও যেন এ ধারা অব্যাহত থাকে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র নন্দী বলেন, “সবার সার্বিক সহযোগিতায় আমরা ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে পেরেছি। সামনেও এ রকম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছি।”

গুচ্ছ পদ্ধতিতে বি ও সি ইউনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দেবে ৪ হাজার ৫২১ পরীক্ষার্থী।

কুষ্টিয়ায় পরীক্ষার্থী উপস্থিত ৯৮ শতাংশ

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শেষ হয়েছে ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ অফিসের উপরেজিস্ট্রার সাহেদ হাসান নিউজবাংলাকে জানান, পরীক্ষা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি ভবনের ১১৪টি কক্ষে। ৭ হাজার ৮৫ পরীক্ষার্থীর ৯৮ ভাগই উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রে।

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯৮ শতাংশ পরীক্ষার্থীই উপস্থিত ছিলেন

তিনি আরও জানান, কোনো পরীক্ষার্থীকেই মাস্ক ছাড়া কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরীক্ষা উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ক্যাম্পাসে টহল দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শিক্ষার্থীদের নির্দেশনা দিতে ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ফটকে হেল্প ডেস্ক বসানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ নভেম্বর ‘ডি’ ইউনিটে ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামী শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষা হবে। দেশের অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ অনুষদ না থাকায় স্বতন্ত্রভাবে পরীক্ষা হবে।”

ময়মনসিংহে পরীক্ষা দিয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা

ময়মনসিংহে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)। এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায় খুশি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

পরীক্ষার সময় বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান।

পরীক্ষা দিতে আসা নেত্রকোণা সদরের জান্নাতুল ফেরদৌস নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি নেত্রকোণা সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেছি। ভর্তিযুদ্ধে টিকে থাকতে গত কয়েক মাস ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করেছি। এই কেন্দ্রে (বাকৃবি) পরীক্ষা হওয়ায় বাসা থেকে ভোরে রওনা হয়েছি। টাকা ও পরিশ্রম দুটোই কম লেগেছে এ পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ায়।’

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার এক অভিভাবক নূর জাহিদ বলেন, ‘কেন্দ্র পর্যন্ত আসতে যানজটসহ কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। বিভাগীয় শহরের এই কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় নিশ্চিন্তে আসতে পেরেছি। প্রশাসনের কঠোর মনিটরিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অপেক্ষায় থাকা সব অভিভাবকই স্বাস্থ্যবিধি মেনেছেন।’

শেষ হলো ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান

নূর জাহিদের মেয়ে সালমা আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষা খুব কঠিন কিংবা খুব সহজও হয়নি। তবে আমার পরীক্ষা ভালো হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হলে পরীক্ষা দিতে পেরেছি।’

কিশোরগঞ্জ থেকে আসা তৌফিকুর রহমান ও মজিবুর রহমান নামে দুই শিক্ষার্থী পরীক্ষা শেষে নিউজবাংলাকে জানান, অন্য বিষয়ের চেয়ে গণিত প্রশ্ন কঠিন হয়েছে। কিছু উত্তর ভুল হলেও ভর্তিযুদ্ধে টিকবেন বলে আশাবাদী তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ হাজার ৫৩৯ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও পরীক্ষা দেন ১০ হাজার ৮০১ জন। উপস্থিতির হার ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কখনও প্রশ্ন ফাঁসের নজির নেই। আজকেও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রের সব কক্ষে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা দিয়েছে।’

বশেমুরবিপ্রবিতে উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ‘এ’ ইউনিটের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ৬ হাজার ৯১২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ৮৯২ জন। উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ২৪ অক্টোবর ‘বি’ ইউনিট এবং ১ নভেম্বর ‘সি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবারই প্রথম গুচ্ছভুক্ত হয়ে ভর্তি পরীক্ষা নিচ্ছে। এতে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ মিলিয়ে আসন রয়েছে ২২ হাজার ১৩টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছেন ২ লাখ ৩২ হাজার ৪৫৫ শিক্ষার্থী।

এর মধ্যে ‘এ’ ইউনিটে ১ লাখ ৩১ হাজার ৯০১ জন, ‘বি’ ইউনিটে ৬৭ হাজার ১১৭ জন এবং ‘সি’ ইউনিটে ৩৩ হাজার ৪৩৭ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন বরিশালের তন্ময় তপু, দিনাজপুরের কুরবান আলী, কুষ্টিয়ার জাহিদুজ্জামান, ময়মনসিংহের কামরুজ্জামান মিন্টু এবং গোপালগঞ্জের মোজাম্মেল হোসেন মুন্না

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার সংকটের সুরাহা কী
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গারা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে: প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গারা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে: প্রধানমন্ত্রী

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর এরই মধ্যে তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং তারা আমাদের জন্য একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের পরিবেশ ও বনসম্পদ ধ্বংস করছে। তারা বনজসম্পদ নষ্ট করছে।’

জাতিগত সংঘাতের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য একটি বোঝা হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।’

বাংলাদেশে নবনিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত অ্যান জিরার্ডভ্যান লিউয়েন রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে রাষ্ট্রদূত লিউয়েনকে এ কথা বলেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম।

তিনি বৈঠকের বিষয়বস্ত সংবাদমাধ্যমকে জানান।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসার পর এরই মধ্যে তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে এবং তারা আমাদের জন্য একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গারা কক্সবাজারের পরিবেশ ও বনসম্পদ ধ্বংস করছে। তারা বনজসম্পদ নষ্ট করছে।’

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আটকে পড়া পাকিস্তানিদের নিয়েও কথা বলেন। তিনি আটকে পড়া পাকিস্তানিদেরও বোঝা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানান।

বৈঠকে নেদারল্যান্ডের দূত রোহিঙ্গা ইস্যু সম্পর্কে বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে তিনি উদ্বাস্তু ও এনজিওকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার কাছে মনে হয়েছে, রোহিঙ্গাদের তাদের নিজস্ব মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেয়ায় এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।’

রোহিঙ্গারা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতে ডাচ রাষ্ট্রদূত অ্যান জিরার্ডভ্যান লিউয়েন। ছবি: পিআইডি

দীর্ঘদিন থেকেই বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী এসে আশ্রয় নিতে শুরু করে। তবে দেশটিতে ২০১৭ সালের আগস্টে সেনারা রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধন চালায়। সে সময় দলে দলে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে থাকে।

মানবিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিলে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় কক্সবাজারে। এ ছাড়া আগেরসহ ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কাজ করলেও বাংলাদেশ সরকারের একটা বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে তাদের পেছনে। যা দিন দিন অর্থনীতিকে আরও চেপে ধরছে।

সাক্ষাতে ডাচ রাষ্ট্রদূতকে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা।

নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ব-দ্বীপ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার দেশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারে বলে মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নে নেদারল্যান্ডসের অবদান ও ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়নে দেশটির সহাযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

নেদারল্যান্ডসে কৃষির সংরক্ষণে গ্রিন হাউস প্রকল্প দেখে অভিভূত হওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দেশটির মতো বাংলাদেশও একটি কৃষিভিত্তিক দেশ এবং তার সরকার কৃষির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার সংকটের সুরাহা কী
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট

শেয়ার করুন

সম্রাট-খালেদের অর্থ পাচারের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি

সম্রাট-খালেদের অর্থ পাচারের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি

যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট (বাঁয়ে) ও খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা

প্রতিবেদনের বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে অর্থ পাচারের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়েছে। এখন কোর্ট খুললে প্রতিবেদনটি দাখিল করব।

যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ও বহিষ্কৃত কমিশনার মোমিনুল হক সাঈদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের প্রমাণ পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

প্রতিবেদনটি কয়েকদিন আগে হাইকোর্টে এসে পৌঁছেছে বলে রোববার নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে এ আইন কর্মকর্তা বলেন, সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে অর্থ পাচারের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়েছে। এখন কোর্ট খুললে প্রতিবেদনটি দাখিল করব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের কাজ করছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

প্রতিবেদনে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালিদ মাহমুদ ভুইয়া, এনামুল হক আরমান, রাজীব হোসেন রানা, জামাল ভাটারা, মোমিনুল হক সাঈদ, শাজাহান বাবলুর নাম রয়েছে।

বিদেশে অর্থপাচারে জড়িতদের খুঁজে বের করতে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশ দিয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশের আলোকে এ প্রতিবেদন জমা দেয় সিআইডি।

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার সংকটের সুরাহা কী
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট

শেয়ার করুন