বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার সংকটের সুরাহা কী

বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার সংকটের সুরাহা কী

ভারতীয় একটি টিভি সিরিয়ালের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞাপনমুক্ত সম্প্রচার শর্তের কারণে দেশে-বিদেশি টিভি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেব্‌ল অপারেটররা বলছেন, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্লিন ফিড নিশ্চিত করার দায় ডিস্ট্রিবিউটরদের। সরকার আইনের বাইরে আর সুযোগ দিতে রাজি নয়। তাহলে সমাধান কী?

বিজ্ঞাপনমুক্ত (ক্লিন ফিড) সম্প্রচারের শর্তের কারণে তিন দিন ধরে কোনো বিদেশি চ্যানেল দেখতে পারছেন না দেশের টিভি দর্শকরা। এ সংক্রান্ত ১৫ বছর আগের আইন প্রয়োগে এবার অনড় সরকার।

কেব্‌ল টিভি অপারেটরা চান, এ সিদ্ধান্ত আরও কিছু সময়ের জন্য শিথিল করুক সরকার। এ নিয়ে আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছে তাদের একাংশ।

দর্শকরা বলছেন, তারা টাকা দেন, সব ধরনের চ্যানেল দেখার জন্য। তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সামাধান হোক।

বাংলাদেশে বিদেশি টিভি চ্যানেল সম্প্রচারসংক্রান্ত আইন করা হয় ২০০৬ সালে, যার নাম ‘কেব্‌ল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন’। এ আইনে বলা আছে, যেসব বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, সেসব চ্যানেল বাংলাদেশে প্রদর্শন করা যাবে না। প্রচার করতে গেলে বিজ্ঞাপন ছাড়া প্রচার করতে হবে। এতে বিবিসি-সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক খবরের চ্যানেল, খেলার চ্যানেল এবং ভারতীয় বিনোদন চ্যানেলগুলোসহ সব বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করে দেয় কেব্‌ল অপারেটররা।

কেব্‌ল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি মিলিয়ে বাংলাদেশে বর্তমানে ১০০টিরও বেশি চ্যানেল রয়েছে।

কী বলছেন কেব্‌ল অপারেটররা

দেশের গ্রাহকদের কাছে টিভি সংযোগ পৌঁছে দিচ্ছেন কেব্‌ল অপারেটররা। তারা বলছেন, বিজ্ঞাপন ছাড়া অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রে তাদের কোনো দায় নেই, তাদের সে সুযোগও নেই। কিন্তু ভুগতে হচ্ছে তাদেরকে। গ্রাহকদের কাছ থেকে তারা নানা কথা শুনছেন। অনেক গ্রাহক মাসিক টাকা না দেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। তাই আরও কিছু সময় চান অপারেটররা।

কেব্‌ল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (কোয়াব) সভাপতি আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘আমরা সরকারের আইন ও বিধিনিষেধ মেনেই ব্যবসা করব। কিন্তু আমাদের আরও কিছু সময় প্রয়োজন। এ খাত ডিজিটাইজড করার পর এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলে আমাদের ব্যবসা টিকে থাকবে। ডিজিটাল হলে আমাদের মার্কেটের পরিধিও বাড়বে।

‘যেমন আমি কোনো বাসায় একটি কানেকশন দিয়েছি, কিন্তু সেখানে হয়তো ১৫টা টিভি চলে। কিন্তু তা আমরা বুঝতে পারছি না। এখন এটা ডিজিটাইজড হলে, সেট-টপ বক্স বসলে বুঝতে পারব কত সংযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার যদি পুরো সহযোগিতা ও আর্থিক সুবিধা দেয়, তাহলে আগামী এক বছরে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’

এদিকে শনিবার কেব্‌ল অপারেটরস সমন্বয় কমিটি নামে কোয়াবের একটা অংশ চার দফা দাবি জানিয়েছে সরকারের কাছে।

৪ অক্টোবরের মধ্যে কেব্‌ল টিভি নিয়ে জটিলতার অবসান না হলে দেশের কেব্‌ল অপারেটরদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছে তারা।

এ অংশের নেতা সৈয়দ মোশারফ আলী বলেন, ‘ক্লিন ফিড করার দায়িত্ব আমাদের না। এ জন্য ব্রডকাস্টার ও ডিস্ট্রিবিউটর রয়েছে। কিন্তু ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা। তাই আমরা এর সমাধান চাই।’

তথ্যমন্ত্রী যা বললেন

রোববার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সব দেশে আইন মেনে চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করে থাকে। শুধু আমাদের দেশে আইনকে বছরের পর বছর ধরে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হচ্ছিল। আমরা আইন বাস্তবায়নের কথা দুই বছর আগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলেছিলাম। বেশ কয়েকবার তাগাদা দেয়া হয়েছে, নোটিশ করা হয়েছে। গত মাসের শুরুতে তাদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বসে সিদ্ধান্ত হয়, ১ অক্টোবর থেকে আইন কার্যকর করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বিবিসি, সিএনএন, আল-জাজিরা, ফ্রান্স টিভি, রাশান টিভি, ইউরো টিভি, অ্যানিমেল প্ল্যানেটসহ ১৭টি টিভি বাংলাদেশে ক্লিন ফিডে আসে। এই চ্যানেলগুলো সম্প্রচারে কোনো আইনগত বাধা নেই। কিন্তু কেব্‌ল অপারেটররা লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করে এগুলোরও সম্প্রচার বন্ধ করেছেন।

‘কেউ কেউ বলছে ডিজিটাইজড না হওয়া পর্যন্ত আইন শিথিল রাখতে। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কায় পুরোটা ডিজিটাইজড হয়নি। সেখানে আইন কার্যকর আছে। আগেও ২ বছর সময় দেয়া হয়েছে। আমি ২ বছর আগ থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি। এর আগেও এই আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলাম।’

অপারেটরদের আন্দোলন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘যেসব চ্যানেল দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে, সংস্কৃতিকে চোখ রাঙাচ্ছে, সেগুলোর পক্ষে ওকালতি করা দেশের স্বার্থ ও আইনবিরোধী। আমি আশা করব, দেশের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত হবেন না। সরকার কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। সরকার দেশের স্বার্থ ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য, আইন বাস্তবায়ন করার জন্য বদ্ধপরিকর।’

সিএনএন-ডিসকভারিও বন্ধ কেন

শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ সম্পর্কে কোয়াব প্রেসিডেন্ট আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘সিএনএন, ডিসকভারির মতো সব চ্যানেলই বিজ্ঞাপন প্রচার করে। ট্রাভেলসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার হয় এসব চ্যানেলে। বিজ্ঞাপন প্রচারের সময় যদি ভ্রাম্যমাণ আদালত আসে, তাহলে তো আমরাই বিপদে পড়ব। এখন এ বিষয়ে কোনো আলাদা নির্দেশনা আমাদের দেয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে মোশাররফ আলী বলেন, ‘আমরা এমন কোনো চ্যানেল পাই না, যেখানে বিজ্ঞাপন নেই। সরকার তো বলেছে, বিজ্ঞাপন থাকলে চালানো যাবে না। কম আর বেশির কথা তো বলা হয়নি। যদি বলত সীমিত বিজ্ঞাপনের চ্যানেল চলবে, তাহলেও তো হতো। কিন্তু আমাদের কিছুই বলা হয়নি। আমাদের কাছে তো কোনো প্রপার গাইডলাইনও নেই।

‘ব্রডকাস্টার ও লোকাল ডিস্ট্রিবিউটরদের সঙ্গে কথা বলে সমন্বয় করে সরকার এটার সমাধান করুক, এটা চাচ্ছি। সরকারের এ নির্দেশনার সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। বরং এটা হলে তো আমাদের জন্য ভালো। দর্শকরাও বিজ্ঞাপন ছাড়া অনুষ্ঠান পাবে।’

মোশররফ বলেন, ‘সরকার নিশ্চিত করুক কাল থেকে বিজ্ঞাপন ছাড়া সব চ্যানেল পাওয়া যাচ্ছে, অথবা লোকাল ডিস্ট্রিবিউটরদের বলে দিক এত দিনের মধ্যে ক্লিন ফিড করতে হবে। কিন্তু যতদিন না বিজ্ঞাপন ছাড়া চ্যানেল পাওয়া না যায়, ততদিন চ্যানেলগুলো চলতে দেয়ার দাবি করছি আমরা। দর্শকরা যেন বঞ্চিত না হয়। এখন মাসের শুরু, আমরা টাকাও তুলতে পারছি না।’

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘চ্যানেলগুলো তো অনুমোদন ছাড়া এ দেশে চলে না। তাহলে অনুমোদনের সময় কেন বিজ্ঞাপনসহ এগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়েছিল?’

ক্লিন ফিড করবে কে?

টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচারে তিনটি পক্ষ জড়িত: ব্রডকাস্ট কোম্পানি, ডিস্ট্রিবিউটর ও স্থানীয় কেব্‌ল অপারেটর। সরকার এখানে থাকে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়। তবে স্থানীয় কেব্‌ল অপারেটররা যেহেতু সংখ্যায় অনেক এবং তাদের গ্রাহকসংখ্যাও সীমিত, তাই তারা ক্লিন ফিড চাইলেও করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে দায় ব্রডকাস্ট কোম্পানি ও স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটরের।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব চ্যানেল ক্লিন ফিড পাঠায় না, এ দেশে তাদের এজেন্ট আছে। এই দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট চ্যানেল ও এজেন্টের। এটি কেব্‌ল অপারেটরদের দায়িত্ব নয়। কিন্তু কোনো কোনো কেব্‌ল অপারেটর এজেন্টদের পাশ কাটিয়ে সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে পাইরেসি করে ডাউনলোড করে। সেটি কিন্তু তারা করতে পারেন না। এটি আইনবহির্ভূত।’

সমাধান কোথায়

অ্যাটকো বলছে, কেব্‌ল অপারেটররা এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ঘরে ঘরে চ্যানেলগুলো পৌঁছে দিচ্ছে তারাই। কিন্তু এ অবস্থায় তাদেরই বেশি ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। ক্লিন ফিড ব্যবস্থা করা ডিস্ট্রিবিউটরদের কাজ। তাই তাদের বাধ্য করতে হবে।

অ্যাটকোর সহসভাপতি মোজাম্মেল বাবু বলেন, ‘ডিস্ট্রিবিউটরদের এটা বাধ্য করতে হবে যে তারা ক্লিন ফিড ব্যবস্থা করবে। আমরা কেব্‌ল অপারেটরদের সঙ্গে একমত। তাদের ক্ষতি আমরাও চাই না। কেব্‌ল অপারেটররা যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন, ডিস্ট্রিবিউটররাও হচ্ছে।’

কোয়াব সভাপতি আনোয়ার পারভেজও বলেন, ‘এখন অ্যানালগ সংযোগের কারণে ব্রডকাস্টার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের আয় অনেক কম। ডিজিটাল হলেই প্রকৃত কেব্‌ল সংযোগসংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে। তখন চ্যানেলগুলোর আয়ও বেড়ে যাবে। তারা যখন দেখবে দেশের কোটি গ্রাহক থেকে তারা বড় অঙ্কের আয় করছে, তখন তারা বিনিয়োগ করে এ দেশে ক্লিন ফিড পাঠাতে বাধ্য হবে।’

মোশাররফ আলীও বলেন, ‘দেশে চারটি ডিস্ট্রিবিউটর প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের মাধ্যমেই চ্যানেলগুলো প্রচারিত হয়। তাই তাদের বাধ্য করা গেলে সমস্যার সমাধান হবে। আমরা আন্দোলন চাই না, সমস্যার সমাধান চাই। মানুষ টাকা না দিলে আমাদের ব্যবসা টিকবে কীভাবে। অথচ আমাদের কোনো দায় নেই।’

প্রশ্ন রাজস্ব হারানোর

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞাপনসহ বিদেশি চ্যানেল প্রচারে সরকার কয়েক শ কোটি টাকার রাজস্ব হারায়। এই বিনিয়োগ বঞ্চিত হওয়ার কারণে মিডিয়া থেকে অনেকে ছাঁটাই হচ্ছেন। যখন এই বিনিয়োগটা দেশি মিডিয়ার হবে, তখন মিডিয়া থেকে ছাঁটাই হওয়াটা বন্ধ হয়ে যাবে বা সেই অজুহাতে ছাঁটাই করা যাবে না। এভাবে পুরো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।’

অ্যাটকো বলছে, বিজ্ঞাপন পাচার বা অ্যাড ওভারফ্লোর মাধ্যমে দেশের টেলিভিশন শিল্প ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা হারাচ্ছে। এটা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সরকারও অন্তত ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এটা কিছুতেই যেন ব্ল্যাক আউটের পর্যায়ে না যায়। গ্লোবাল ভিলেজে কোনো চ্যানেলের ওপর বাধা থাকুক সেটা অ্যাটকো চায় না। অ্যাটকো সরকারের এ অবস্থানকে সমর্থন করছে। এর সমাধানও চায়।

আরও পড়ুন:
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিশু হত্যার আসামি জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ডের রিভিউ খারিজ

শিশু হত্যার আসামি জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ডের রিভিউ খারিজ

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নির্দোষ একটা শিশুকে হত্যা করা হলো। যার কোনো অপরাধ নাই, কিচ্ছু নাই। একটা বাচ্চাকে মেরে ফেললেন। মামলার মেরিটে আমরা সন্তোষ নয়। তা ছাড়া, মামলায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে। শিশুটির বয়স মাত্র ৯ বছর। এই বাচ্চাতো অপরাধ করার গণ্ডির মধ্যেই যায়নি।’

শিশু হত্যার দায়ে আসামি মো. জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ড সাজার রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতিসহ চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

রায়ের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নির্দোষ একটা শিশুকে হত্যা করা হলো। যার কোনো অপরাধ নাই, কিচ্ছু নাই। একটা বাচ্চাকে মেরে ফেললেন। মামলার মেরিটে আমরা সন্তোষ নয়। তা ছাড়া, মামলায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে। শিশুটির বয়স মাত্র ৯ বছর। এই বাচ্চাতো অপরাধ করার গণ্ডির মধ্যেই যায়নি।’

পরে আদালত রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আদেশ দেয়।

আদালতে আসামি জাহাঙ্গীরের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তার সঙ্গে ছিলেন এবিএম বায়েজীদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

আইনজীবী এবিএম বায়েজীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালত শুনানি নিয়ে রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। তবে আমাদের যথেষ্ট গ্রাউন্ড আছে। মক্কেলের সঙ্গে কথা বলে তারা চাইলে দ্বিতীয়বার রিভিউ দায়ের করব।’

এর আগে গত ৮ জুলাই সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শিশু আরাফাত হোসেনকে হত্যার অভিযোগে আসামি মো. জাহাঙ্গীরের আপিল ডিসমিস করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে।

পরে গত ১০ অক্টোবর রিভিউ আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী সুধারাম উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর ৯ বছর বয়সী শিশু আরাফাত হোসেনকে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ তার বাড়ি থেকে খেলনা পিস্তল দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ২০০৮ সালের আসামি জাহাঙ্গীরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয়। এরপর হাইকোর্টও সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। আপিল বিভাগেও মৃত্যুদন্ডের রায় বহাল থাকে।

আরও পড়ুন:
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন

বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন

ঢাকার পূর্বাচলে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৩০৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের অনুদান ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

দেশের পণ্য প্রদর্শনী ও বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১ টার দিকে ভার্চুয়ালি সেন্টারটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে যোগ দেন তিনি।

নির্মাণ কাজ শেষে এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শনী কেন্দ্রটি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে চীন।

ঢাকার পূর্বাচলে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৩০৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের অনুদান ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এটি নির্মাণ করেছে চীনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। এই প্রদর্শনী কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কাছে।

সভার সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী ‍টিপু মুনশী বলেন, ‘এই এক্সিবিশন সেন্টারটিকে বিজনেস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

একটা স্থায়ী কাঠামো না থাকার কারণে পণ্য প্রদর্শনীতে যেমন জটিলতা হচ্ছিল তেমনি উন্মুক্তস্থানে মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছিল বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সরকারের ভূমিকায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। আগামীতেও এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং দুই দেশ বাণিজ্য খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করব।’

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘এখন থেকে প্রতিবছরের পয়লা জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করতে পারবেন।’

চীনের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মালিকানায় পূর্বাচলে ২০ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারটি।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে টানতে তৈরি এই কেন্দ্রটির নাম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তাতে সম্মতি দিয়েছে চীন।

এটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবরে। আর শেষ হয় গেল গত বছরের নভেম্বরে।

নির্মাণের কারণ ব্যাখ্যায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বলছে, বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশি-বিদেশি পণ্য উৎপাদনকারী ও ক্রেতাদের বাংলাদেশে আর্ন্তজাতিক মানের একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ও সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করা।

যা থাকছে এক্সিবিশন সেন্টারে

এক্সিবিশন সেন্টারের মোট ফ্লোরের আয়তন ৩৩ হাজার বর্গমিটার। ভবনের ফ্লোরের আয়তন ২৪ হাজার ৩৭০ বর্গমিটার। এক্সিবিশন হলের আয়তন ১৫ হাজার ৪১৮ বর্গমিটার।

এক্সিবিশন হলে ৮০০টি বুথ রয়েছে। প্রতিটি বুথের আয়তন ৯ দশমিক ৬৭ বর্গমিটার।

দোতলা পার্কিং বিল্ডিংয়ের মোট পার্কিং স্পেস ৭ হাজার ৯১২ বর্গমিটার যেখানে ৫০০টি গাড়ি রাখা যাবে। আর এক্সিবিশন বিল্ডিংয়ের সামনের খোলা জায়গায় আরও ১ হাজার গাড়ি পার্কিং করার সুযোগ আছে।

এতে রয়েছে ৪৭৩ আসনের একটি মাল্টি ফাংশনাল হল, ৫০ আসনের একটি কনফারেন্স রুম, ছয়টি নেগোসিয়েশন/মিটিং রুম, ৫০০ আসনের ক্যাফেটরিয়া/রেস্টুরেন্ট, শিশুদের খেলার স্পেস, নামাজের কক্ষ, অফিস রুম দুইটি, মেডিক্যাল রুম, ডরমিটরি-গেস্ট রুম, ১৩৯টি টয়লেট, বিল্ট ইন পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম।

এ ছাড়াও রয়েছে নিজস্ব ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, স্টোর রুম, সিএটিভি কন্ট্রোল রুম, অটোমেটেড সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম, ইনবিল্ট ইন্টারনেট/ওয়াইফাই, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, আলাদা রেজিস্ট্রেশন হল, আধুনিক ফোয়ারা, ইন বিল্ট পতাকা স্ট্যান্ড, রিমোট কন্ট্রোলড-ইলেকট্রনিক প্রবেশ গেইট।

আরও পড়ুন:
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায় ফের পেছাল

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায় ফের পেছাল

রায়ের নতুন তারিখের বিষয়টি আদালতের বিচারক নাজমুল আলম এজলাসে বসে জানিয়ে দেন। আর দুদকের আইনজীবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আজ রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয় নাই।’

চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আবার পিছিয়েছে। পরবর্তী তারিখ রাখা হয়েছে ৯ নভেম্বর।

আদালত থেকে বলা হয়েছে, রায় প্রস্তুত না হওয়ায় নতুন তারিখ রাখা হয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে বৃহস্পতিবার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ থাকলেও সেদিন বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পিছিয়ে ২১ অক্টোবর দিন রাখা হয়।

রায়ের নতুন তারিখের বিষয়টি আদালতের বিচারক নাজমুল আলম এজলাসে বসে জানিয়ে দেন।

দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আজ রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয় নাই।’

রায় উপলক্ষে এদিন আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতীকে (বাবুল চিশতী) আদালতে উপস্থিত করা হয়েছিল।

গত ২৪ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলার অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত বছরের ১৩ আগস্ট একই আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলায় আসামিরা খালাশ পাবেন বলে দাবি তাদের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম অনির। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, মামলার শুনানিতে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে মামলার ঘটনা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া, জেরার সময় সাক্ষীরা তাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের দাবি, আসামিদের অপরাধ প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তাই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলা তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ।

আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগারে, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এবং একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জামিনে আছেন।

এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায়ের অপেক্ষা

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায়ের অপেক্ষা

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। ফাইল ছবি

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আলোচিত এই মামলার রায় পড়ে শোনাবেন। এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পেছানো হয়।

চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় হবে আজ।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আলোচিত এই মামলার রায় পড়ে শোনাবেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পেছানো হয়।

মামলায় আসামিরা খালাশ পাবেন বলে দাবি তাদের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম অনির। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, মামলার শুনানিতে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে মামলার ঘটনা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া, জেরার সময় সাক্ষীরা তাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের দাবি, আসামিদের অপরাধ প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তাই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ৫ অক্টোবর এ রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেছিলেন আদালত। বিচারক ছুটিতে থাকার কারণে সেদিন আর রায় হয়নি।

গত ২৪ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলার অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত বছরের ১৩ আগস্ট একই আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলা তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ।

আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগারে, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এবং একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জামিনে আছেন।

এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

‘চক্রান্ত সফল হবে না’

‘চক্রান্ত সফল হবে না’

রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য একটি মহল চক্রান্ত করছে এমন মন্তব্য করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করেছে কিছু উগ্রবাদীরা। কখনও কখনও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে একটি রাজনৈতিক মহল। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ এবং উন্নয়নের বাংলাদেশকে ব্যাহত করার একটি চক্রান্ত।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে রাজনীতির ফায়দা হাসিলের চক্রান্ত সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করেছে কিছু উগ্রবাদীরা। কখনও কখনও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে একটি রাজনৈতিক মহল। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ এবং উন্নয়নের বাংলাদেশকে ব্যাহত করার একটি চক্রান্ত।’

‘রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য একটি মহল এ চক্রান্ত করছে। অতীতে যেমন এ জাতীয় কোন অপচেষ্টা সফল হয়নি, এখনও হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কঠোর হাতে তাদের দমন করা হবে। বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের সম্প্রীতির রাষ্ট্র। এই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় মন্ত্রণালয়ের নবীন কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পদ হোন, বোঝা নয়। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, ঐকান্তিক ইচ্ছা ও গভীর মনোনিবেশের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলে সাফল্য আসবে।

‘আর অলসতা ও দায়িত্বহীনতার বল্গাহীন স্রোতে নিজেকে নিমজ্জিত করলে প্রতিষ্ঠানের বোঝায় পরিণত হতে হবে। দায়িত্ব পালনে আত্মোপলব্ধি ও আত্মসমালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

মন্ত্রী করেন, ‘সকল সৃষ্টির স্রষ্টা একজন। সে ধারাবাহিকতায় আমরা একে অপরের সঙ্গে আত্মিকভাবে সম্পৃক্ত। আমাদের ভেতরে যেন কোনভাবে ধর্ম, বর্ণ, জেন্ডার নিয়ে হানাহানি কখনও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। কেউ যেন কারো জন্য ক্ষতিকর ভূমিকায় অবতীর্ণ না হই।

‘আর অপ্রয়োজনীয় মিথ্যাচার পরিহার করতে হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রতি যত্নশীল হতে হবে’, যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

সামাজিক মাধ্যমে উসকানি, গুজবের তথ্য চাইল পুলিশ

সামাজিক মাধ্যমে উসকানি, গুজবের তথ্য চাইল পুলিশ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের তিন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ গুজব বলে দাবি করেছেন প্রশাসন, পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য অথবা গুজব কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত বা উত্তেজিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দেশের সব নাগরিকের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ গুজব ছড়ালে বা উসকানিমূলক আধেয় প্রচার করলে তা জানাতে বলেছে পুলিশ। বাহিনীটি নিজেও এগুলো চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার ঘটনাটি বিকৃত করে প্রকাশের পাশাপাশি উসকানি দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ এও বলছে, তারা সর্বোচ্চ সতর্ক আছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (ইন্সপেকশন) মোহাম্মদ শাহ জালাল স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটা অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য তুলে ধরা হয় এতে।

বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানি রোধকল্পে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি রোধকল্পে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের সব গোয়েন্দা সংস্থা সার্বক্ষণিকভাবে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

এতে বলা হয়, ‘যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য অথবা গুজব কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত বা উত্তেজিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দেশের সব নাগরিকের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।’

সামাজিক মাধ্যমে উসকানি, গুজবের তথ্য চাইল পুলিশ
পুলিশ সদর দপ্তর। ফাইল ছবি

পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নানা সহিংসতায় দেশে সাতজন প্রাণ হারায়। তাদের দুজন হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং পাঁচজন মুসলমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দায়িত্ব পালনকালে ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

সংঘটিত এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭২টি মামলা করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

ঘটনা ও অপরাধের রহস্য উদঘাটনের জন্য থানার পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, দ্রুততার সঙ্গে ঘটনা-অপরাধের রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কুমিল্লার ঘটনায় বক্তব্য

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে সাতটায় কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে মূর্তির পায়ের ওপর কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে চলে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় স্বার্থান্বেষী দুষ্কৃতকারী উসকানিমূলক ও বিকৃত প্রচারণা চালায় এবং পরবর্তী সময়ে আরও উচ্ছৃঙ্খল দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধ হয়ে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের চেষ্টা ও পূজামণ্ডপে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

দুষ্কৃতকারীরা শহরের কাপড়িয়া পট্টি কলোনির চানমনি পূজামণ্ডপ, শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দির, কালীতলাসহ আরও কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় এবং প্রতিমায় অগ্নিসংযোগ করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য সারা দেশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয় এতে।

চাঁদপুরের ঘটনায় যে বক্তব্য

কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার শ্রী ত্রিনয়নী সংঘ রাজলক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া, মোকিমাবাদ পূজামণ্ডপে ৫০০-৬০০ দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

বাহিনীটি বলছে, ঠেকানোর চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে এবং ৫-৬টি পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করে। দুষ্কৃতকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে ১৫ জন পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হযন। জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারান।

নোয়াখালীর ঘটনা নিয়ে বক্তব্য

কুমিল্লার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গত ১৪ অক্টোবর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ছয়ানী ইউনিয়নের সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরের কাছে আট শ থেকে এক হাজার উচ্ছৃঙ্খল লোক জড়ো হয়ে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা অসংখ্য ইট, লাঠিসোঁটা নিয়ে মন্দিরের সামনে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিজিবির টহল দলের ওপর হামলা চালায়, মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর করে এবং মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় একজন প্রাণ হারাযন এবং পরে পুকুর থেকে অপর একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পীরগঞ্জের ঘটনার বর্ণনা

পুলিশ বলে, গত ১৭ অক্টোবর রংপুর পীরগঞ্জের বড় করিমপুর মাঝিপাড়া গ্রামের একজন তার ফেসবুক আইডিতে কাবা শরিফের অবমাননাকর ছবি আপলোড করে। পরবর্তী সময়ে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে রাত প্রায় ৮টার দিকে এলাকার কিছু দুষ্কৃতকারী ওই গ্রামের একটি মন্দিরসহ ১৮টি পরিবারের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

অন্যান্য হামলা

কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়া, সিলেটের জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজার কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কাশিমপুরসহ দেশের আরও কয়েকটি স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

ভুয়া ভিডিও ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: র‍্যাব

ভুয়া ভিডিও ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: র‍্যাব

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হিন্দু বাড়িতে আগুন (বাঁয়ে) ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যতন সাহার ওপর হামলার ভিডিও দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে এবং বিদেশে বসে আমাদের দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দেয়ার মাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে।’

যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ও ভুল কনটেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

বুধবার র‍্যাব সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য বা ভুল কনটেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার চেষ্টা করছে, তাদের র‍্যাবের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, যারা এমন অপতৎপরতায় লিপ্ত আছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তাদের আমরা গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় সোপর্দ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে এবং বিদেশে বসে আমাদের দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দেয়ার মাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে।

‘পাশাপাশি অতীতের বিভিন্ন সময়ের ভিডিও কনটেন্টগুলো সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও হিসেবে তারা প্রচার করার চেষ্টা করছে।’

ভুয়া ভিডিও ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: র‍্যাব

বুধবার র‍্যাব সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন। ছবি: নিউজবাংলা

ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক, মিথ্যা ও গুজব ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুমা সরকারকে আটক করে র‍্যাব। রাজধানীর বেইলি রোডের বাসা থেকে বুধবার সকালে তাকে আটক করা হয়।

দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, রাজধানী পল্লবীর সাহিনুদ্দীন হত্যাকাণ্ডের ভিডিও নোয়াখালীর ‌যতন সাহা হত্যাকাণ্ডের বলে অপপ্রচারের অভিযোগে রুমা সরকারকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব সদর দপ্তরে নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশে একটি আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার ভিডিও সম্প্রতি দেশের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত জায়গায় আগুন দেয়া হয়েছিল, তার ভিডিও হিসেবে প্রচারের অপচেষ্টা করেছে। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও এ ধরনের অপপ্রচার যারা চালাচ্ছে, এদের ব্যাপারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব সোচ্চার রয়েছে।’

এ-সংক্রান্ত অভিযোগে যারা সরাসরি জড়িত, যারা বিভিন্ন মন্দিরে হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, যারা এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া ভিডিও কন্টেন্ট আপলোড করেছে, শেয়ার করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের অযাচিত মন্তব্য করেছে, যারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যত্যয় করেছে, ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছি।

‘এ-সংক্রান্ত যারা হোতা, পাশাপাশি পেছন থেকে ইন্ধন দিয়েছে এ রকম প্রায় ২২ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।’

অসৎ উদ্দেশে যারা এসব কন্টেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের সতর্ক করে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি চক্র জেনেশুনে এসব সম্প্রচার করছে। আরেকটি চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব পেজের বেশ কিছু অ্যাডমিনকে আমরা ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছি। যারা এ-সংক্রান্ত লাইক শেয়ার করছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, তাদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছি। তাদের ব্যাপারে আমাদের অভিযান চলছে।’

র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘গতকাল মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, আমরা কুমিল্লার ঘটনার যে হোতা তার অনেক কাছাকাছি আছি। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমরা এ ব্যাপারেও কাজ করছি। এই ধরনের গুজব ছড়ানোর সঙ্গে যারাই জড়িত হচ্ছে সে যেই হোক , যে শ্রেণির লোক হোক তার বিরুদ্ধে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।’

গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে অনুরোধ করে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আপনারা অবশ্যই যা করবেন জেনে শুনে করবেন। না জেনে না বুঝে আপনারা কোন ধরনের কমেন্ট ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করবেন না। কারণ আপনার একটি শেয়ার থেকে হয়তো অনেক মানুষ বিভ্রান্ত হবে এবং অনেক ভুল তথ্য অনেক জায়গায় ছড়িয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
বন্ধ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার চেয়ে আইনি নোটিশ
আইন মেনে বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারে বাধা নেই: তথ্যমন্ত্রী
বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন