ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান

ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান

এক দিনে প্রায় তিনশ কোম্পানির দরপতন বিনিয়োগকারীদেরকে হতাশ করেছে। ছবি: নিউজবাংলা

গত জুলাই থেকে স্বল্প মূলধনি, লোকসানি ও দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে চলেছিল বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজার বিশ্লেষক এমনকি বিএসইসির সতর্কতাও কানে তোলেনি তারা। আর এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে তারাই।

কেবল ১০ কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচকে যোগ হয়েছে ১২৬ পয়েন্ট। এর মধ্যে ৫টি কোম্পানি বাড়িয়েছে ১০১ পয়েন্ট। অথচ দিন শেষে সূচক পড়েছে ২৮ পয়েন্ট।

টানা পাঁচ কর্মদিবস বেশির ভাগ কোম্পানির দরপতনের পরও সূচক বাড়ার পর সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবস দাম বৃদ্ধি পাওয়া ৪৮টি কোম্পানির সূচক ধরে রাখতে পারল না। এক দিনে প্রায় ৩০০ কোম্পানির দরপতনে সূচক পড়েছে এর চেয়ে বেশি।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আশা দেখানো পুঁজিবাজারে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যে সংশোধন শুরু হয়েছে, তা অবসানের ইঙ্গিত দিলেও যে শেষ হয়নি, তা বোঝা যাচ্ছে চলতি সপ্তাহে।

আগের দিন দর বৃদ্ধির তুলনায় দ্বিগুণসংখ্যক শেয়ারের দরপতনেও সূচকে যোগ হয়েছিল ২৭ পয়েন্ট। পরদিন প্রায় সমপরিমাণ পয়েন্ট সূচক থেকে হারিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি আরও বাড়িয়েছে।

গত জুলাই থেকে স্বল্প মূলধনি, লোকসানি ও দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে চলেছিল তারা। পুঁজিবাজার বিশ্লেষক এমনকি বিএসইসির সতর্কতাও কানে তোলেননি তারা। আর এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে তারাই।

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে সূচক বেড়েছে ৩৪.৯৪ পয়েন্ট। এ ছাড়া লাফার্জ হোলসিম ২৩.৪৮, আইসিবি ১৫.৯৭, বেক্সিমকো লিমিটেড ১৫.২৪, গ্রামীণফোন ১২.০১, বেক্সিমকো ফার্মা ৯.২, বিকন ফার্মা ৮.১৩, বার্জার পেইন্টস ২.৭৬, বিএসআরএম স্টিল ২.৭৪ ও রেনাটার দর বৃদ্ধিতে সূচক বাড়ল ২.১৭ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সূচক সবচেয়ে বেশি কমেছে যেসব কোম্পানির কারণে, তার মধ্যে ১০টি কমিয়েছে ৩৫.৮২ পয়েন্ট। কোম্পানিগুলো হলো রবি, পাওয়ার গ্রিড, মবিল যমুনা, শাহজিবাজার পাওয়ার, স্কয়ার ফার্মা, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, আইপিডিসি, আইডিএলসি ও তিতাস গ্যাস।

তবে এসব কোম্পানির শেয়ারের দরপতন সবচেয়ে বেশি হয়েছে, এমন নয়। সবচেয়ে বেশি দরপতন হওয়ার ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৯টিই স্বল্প মূলধনি বা দুর্বল কোম্পানি।

এমন কোনো খাত নেই, যে খাতে ঢালাও দরপতন হয়নি।

দর বদ্ধিতে এগিয়ে মৌলভিত্তির কোম্পানি

গত দুই তিন মাসে আগে পুঁজিবাজারে একক ধাপটে থাকা খারাপ শেয়ার বা ‘জেড‘ ক্যাটাগরির শেয়ারকে পেছনে ফেলে দর বৃদ্ধির তালিকায় উঠে এসেছে ‘এ‘ ক্যাটাগরির কোম্পানি।

সোমবার লেনদেনে দিনের সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০ কোম্পানির মধ্যে একটি ছিল জেড ক্যাটাগরির। বাকি নয়টি ছিল ‘এ‘ ও ‘বি‘ ক্যাটাগরির।

এদিন সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধির তালিকায় ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের ওরিয়ন ফার্মা। কোম্পানির দিনের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ৯.৮১ শতাংশ। শেয়ার দর ৮৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯৮ টাকা ৪০ পয়সা।

ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান
কেবল পাঁচটি কোম্পানির দর বৃদ্ধিতে সূচকে যোগ হয়েছে একশ পয়েন্টের বেশি

তারপরই ছিল সিরামিক খাতের শাইনপুকুর সিরামিক, যার শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৫১ শতাংশ। এছাড়া ‘এ‘ ক্যাটাগরির লাফার্জহোলসিম, সোনালী পেপার, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেড, আইসিবি ছিল সেরা দশে।

এ তালিকায় ওষুধ ও রসায়ন খাতের বিকন ফার্মা আর এডভেন্ট ফার্মাও ছিল। যাদের শেয়ার দর বেড়েছে যথাক্রমে ৪.০৭ ও ৩.১০ শতাংশ।

উৎপাদন বন্ধ জেড ক্যাটাগরির একমাত্র কোম্পানি হিসেবে ৭.১৩ শতাংশ শেয়ার দর বেড়েছে সিএনএ টেক্সটাইলের। চার বছর ধরে বন্ধ কোম্পানিটিকে অধিগ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে একটি বড় কোম্পানি।

পতন বেশি দুর্বল কোম্পানির

স্বল্প মূলধনি মুনাফায় থাকা কোম্পানির শেয়ারদর বাড়লেও সূচকে প্রভাব থাকে কম। অন্যদিকে লোকসানি জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের দর বৃদ্ধি বা কমায় সূচকে কোনো প্রভাব একেবারেই পড়ে না।

ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান
সূচক কমায় সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে এই ১০টি কোম্পানি

এই ধরনের কোম্পানির মধ্যে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ ৯.৬৪ শতাংশ, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ৯.০৯ শতাংশ, ড্রাগন সোয়েটার ৭.০২ শতাংশ, অলটেক্স ৬.৭৪ শতাংশ, সানলাইফ ইন্ডাস্ট্রিজ ৬.৫১ শতাংশ, মেট্রো স্পিনিং ৬.৩১ শতাংশ, রিজেন্ট টেক্সচাইল ৬.২৮ শতাংশ, পদ্মা লাইফ ৬.০৮ শতাংশ দর হারিয়েছে।

এর প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারদরই গত কয়েক মাসে বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে।

লেনদেনে সেরা ওষুধ ও রসায়ন খাত

ঢালাও পতনের ভিড়েও এই খাতের কোম্পানিগুলোতে পতনের হার ছিল তুলনামূলক কম। ৩১টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে ২১টির দরপতনের বিপরীতে বেড়েছে ৯টির দর।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে সবচেয়ে বেশি। হাতবদল হয়েছে মোট ৪১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ৩২০ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি ৯.৮২ শতাংশ বেড়েছে ওরিয়ন ইনফিউশনের দাম। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা একটিভ ফাইন ক্যামিকেলের দর বেড়েছে ৪.৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া বিকন ফার্মার দর ৪.০৮ শতাংশ আর এভডেন্ট ফার্মার দর বেড়েছে ৩.১১ শতাংশ।

দর কমলেও এগিয়ে প্রকৌশল ও জ্বালানি খাত

প্রকৌশল খাতের লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৫টির, কমেছে ৩৭টির।

মোট লেনদেন হয়েছে ৩৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৫৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এ খাতের সবচেয়ে বেশি ২.৭৬ শতাংশ বেড়েছে কেডিএস লিমিটেডের দর। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিএসআরএম স্টিলের দর বেড়েছে ২.৪৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইফাদ অটোর দরে যোগ হয়েছে ২.৩৭ শতাংশ। চতুর্থ অবস্থানে থাকা বিএসআরএম লিমিটেডের শেয়ারদর বেড়েছে ১.৩৭ শতাংশ।

ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান
সোমবার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে এই ছয়টি খাতে

দিনের সবচেয়ে বেশি দর হারানো সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিস প্রকৌশল খাতের কোম্পানি। ২০১৯ সালে লভ্যাংশ ঘোষণা করে তা বিতরণ না করায় কোম্পানির পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরদিন শেয়ারের দর কমেছে ৯.৬৪ শতাংশ।

এই খাতের বিডি অটোকারের দর কমেছে ৫.৮৩।

লেনদেনের তৃতীয় অবস্থানে থাকা জ্বালানি খাতে তিনটি কোম্পানির শেয়ারের শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ১৯টির দর। একটির দাম ছিল অপরিবর্তিত।

জ্বালানি খাতের যে তিনটি কোম্পানির দর বেড়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ডরিন পাওয়ারের। দাম বেড়েছে ১.৬০ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশ দর হারানো জিবিবি পাওয়ারের দর কমেছে ৭.৬৭ শতাংশ।

ব্যাংক-বিমায় পতনের শেষ নেই

আগের দিনের তুলনায় তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোতে লেনদেন বেড়েছে। হাতবদল হয়েছে মোট হয়েছে ১২১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আগের দিন যা ছিল ৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা।

লেনদেন বাড়লেও পতন হয়েছে ঢালাও। একমাত্র মার্কেন্টাইল ব্যাংকের দর ১০ শতাংশ বেড়েছে। দর ধরে রাখতে পেরেছে ৭টি। আর পতন হয়েছে বাকি ২৪টির দর।

সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের দর। গত এক বছর ধরে এই ব্যাংকের শেয়ারদর দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল। একদিনই কমে গেছে ৯.০৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এবি ব্যাংক দর হারিয়েছে ৩.২৬ শতাংশ। এছাড়া সাউথবাংলা ব্যাংকের দর ৩.০৩ শতাংশ ও যমুনা ব্যাংকের দর কমেছে ২.৪২ শতাংশ।

বিমা খাতের অবস্থা আরও খারাপ। সেখানে দরপতনের হার আরও বেশি। মোট লেনদেন হয়েছে ১৪৪ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২০৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

বিমা খাতের চারটি কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের ২.১১ শতাংশ। এছাড়া প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, প্রিমিয়ার ইন্স্যুরেন্স ও সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে সামান্য।

অন্যদিকে পতনের শীর্ষে ছিল জীবন বিমা খাতের দুই দুর্বল কোম্পানি সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এর মধ্যে সানলাইফের দর কমেছে ৬.৫১ শতাংশ আর পদ্মা লাইফের ৬.০৯ শতাংশ।

উদ্যোক্তা পরিচালকরা ২৮ লাখ ২৫ হাজার শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেয়ার পর থেকে ক্রমাগতভাবে দর হারানো ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর কমেছে আরও ৫.৭২ শতাংশ।

আর্থিক খাতের ২৩টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন দীর্ঘদিন ধরেই স্থগিত। বাকিগুলোতে হাতবদল হয়েছে মোট ২৭৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে একটির, কমেছে ২০টির আর দর ধরে রাখতে পেরেছে একটি।

আগের দিন এই খাতে লেনদেন হয়েছিল ৩০৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

বিবিধ খাতের ১৪টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে মোট ২৪৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৭৭ কোটি ২০ লাখ। চারটি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে বাকি ১০টির দরও।

সাম্প্রতিক সময়ে আগ্রহের কেন্দ্রে আসা সিমেন্ট খাতের ৭টি কোম্পানির মধ্যে দুটির দর বেড়েছে, কমেছে বাকি ৫টির। লেনদেন হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ১৬২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

ঢালাও পতনে বড় মূলধনি কিছু কোম্পানির উত্থান
এমনিতেই দর সংশোধনে থাকা বিমাখাতে দরপতন বেড়েছে উদ্যোক্তা-পরিচালকরা শেয়ার বিক্রির ঘোষণায়

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে লেনদেন বেড়েছে মূলত ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকোতে লেনদেন বাড়ায়। এই খাতের ২০টি কোম্পানিতে লেনদেন হওয়া ১০৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার মধ্যে একটি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ৭১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ৫৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

তথ্য প্রযুক্তি খাতের ১১টি কোম্পানির মধ্যে একটি কেবল দর ধরে রাখতে পেরেছে। দর কমেছে ১০টির। লেনদেন হয়েছে ৭২ কোটি ৬ লাখ টাকা। আগের দিন এই খাতে লেনদেন ছিল ৬৭ কোটি ৬০ লাখ টাতা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত আবার হতাশ করলেও লেনদেন বেড়েছে। ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে কেবল চারটির, কমেছে ১৯টির, অপরিবর্তিত ছিল বাকি ১৩টির দর। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৩২৭ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস দশমিক ২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯৩ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ২৩ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ দশমিক ২৬ পয়েন্ট।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা । আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
ফ্যামিলিটেক্সে উৎপাদন চলছে
দুটি কোম্পানির শেয়ার পাবেন কর্মীরাও
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তৃতীয় প্রান্তিকে ‘হোঁচটেও’ সিটি ব্যাংকের আয়ে প্রবৃদ্ধি

তৃতীয় প্রান্তিকে ‘হোঁচটেও’ সিটি ব্যাংকের আয়ে প্রবৃদ্ধি

রাজধানীতে সিটি ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৬ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ছিল। অর্থাৎ আয় বাড়ে ১০৬ শতাংশ। তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১ টাকা ৮৯ পয়সা।

প্রথম দুই প্রান্তিকের চমক তৃতীয় প্রান্তিকে ধরে রাখতে না পারলেও তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখল সিটি ব্যাংক।

গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৯৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ৮৯ পয়সা।

অর্থাৎ আয় বেড়েছে ২.৯৭ শতাংশ।

নিঃসন্দেহে ভালো। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিক জুন পর্যন্ত হিসাব বিবেচনায় নিলে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা হতাশ হতে পারেন।

অর্ধবার্ষিকে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৬ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ছিল। অর্থাৎ আয় বাড়ে ১০৬ শতাংশ।

তৃতীয় প্রান্তিকে আয় খুব খারাপ, এমনটা বলার সুযোগ নেই। এই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৯০ পয়সা। তবে আগের বছরের একই সময়ের হিসাব বিবেচনায় নিলে হতাশ হতেও পারে।

গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় করেছিল ১ টাকা ৮৯ পয়সা। অর্থাৎ জুন পর্যন্ত শতভাগ আয় বাড়ানো ব্যাংকটি তৃতীয় প্রান্তিকে এসে আয় করেছে আগের বছরের ৫০ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকটির সম্পদমূল্যও বেড়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ার প্রতি সম্পদ ছিল ৩০ টাকা ১১ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর এই সম্পদ ছিল ২৭ টাকা ৬৫ পয়সা।

সম্পদমূল্যের চেয়ে কম দামে লেনদেন হওয়া ব্যাংকটি ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ২৯ পয়সা আয় করে ১ টাকা ৭৫ পয়সা নগদ ও ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২০টি শেয়ারে একটি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল।

প্রান্তিক প্রকাশের দিন সিটি ব্যাংকের শেয়ারদর ছিল ২৮ টাকা ২০ পয়সা।

গত এক বছরে ব্যাংকটির শেয়ারদর ২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৩৩ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

করোনার মধ্যেও গত বছর ব্যাংক খাত অভাবনীয় আয় করে আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। চলতি বছর অর্ধবার্ষিকে বেশিরভাগ বাংকই আয় আগের বছরের চেয়ে বাড়াতে পেরেছে। তৃতীয় প্রান্তিকেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট চারটি ব্যাংকের তৃতীয় প্রান্তিকের আয় প্রকাশ পেল। এর মধ্যে শুরু থেকেই লোকসানে থাকা আইসিবি ইসলামী ব্যাংক এবারও লোকসানের বৃ্ত্তেই আছে। শেয়ারদরে গত এক বছরে উল্লম্ফন হলেও কোম্পানিটি লোকসান কমাতে পারেনি, উল্টো বেড়েছে।

অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে এসসিসি ব্যাংক ২৩ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংক ১৬ শতাংশ আয় বাড়াতে পেরেছে।

আরও পড়ুন:
ফ্যামিলিটেক্সে উৎপাদন চলছে
দুটি কোম্পানির শেয়ার পাবেন কর্মীরাও
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক

শেয়ার করুন

আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও

আয় বাড়াল ইসলামী ব্যাংকও

গত করোনার বছরে আগের বছরের চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এবারও জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আয়ে চমক দেখায়। দ্বিগুণ, তিন গুণ এমনকি তার চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এখন তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব প্রকাশ করছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংকও আগের বছরের চেয়ে চলতি বছর বেশি আয় করতে পারছে।

গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি আয় করতে পেরেছে ২ টাকা ৬৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল (ইপিএস) ২ টাকা ৩০পয়সা। আয় বেড়েছে ৩৭ পয়সা বা ১৬ শতাংশ।

এর আগে এনসিসি ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনেও আয় বাড়ার বিষয়টি উঠে আসে। এই ব্যাংকটি চলতি বছর তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি আয় করেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে নানা রকম আলোচনা থাকলেও বেশির ভাগ কোম্পানির আয় এবং লভ্যাংশ প্রতিবছরই চমকপ্রদ।

গত করোনার বছরে আগের বছরের চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এবারও জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত আয়ে চমক দেখায়। দ্বিগুণ, তিন গুণ এমনকি তার চেয়ে বেশি আয় করা ব্যাংকগুলো এখন তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব প্রকাশ করছে।

ইসলামী ব্যাংক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে শেয়ারপ্রতি আয় করেছে ৫৯ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩৬ পয়সা।

আয়ের পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যও বাড়ছে। ৩০ সেপ্টেম্বর শেয়ারপ্রতি সম্পদ হয়েছে ৪০ টাকা ৫৯ পয়সা। গত ৩০ ডিসেম্বরে এই সম্পদ ছিল ৩৮ টাকা ৮৯ পয়সা।

কোম্পানিটির শেয়ারদর বর্তমানে তার সম্পদের চেয়ে কম। আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩০ টাকায়।

বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমানত ও ঋণদানকারী এই ব্যাংকটির শেয়ারমূল্য গত এক বছর ধরেই স্থিতিশীল। এই সময়ে শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ২৫ টাকা ৪০ পয়সা, আর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৩২ টাকা।

কোম্পানিটি প্রতিবছরই বেশ ভালো আয় করলেও লভ্যাংশের ইতিহাস খুব একটি ভালো নয়। ২০১৬ সাল থেকে টানা ৫ বছর শেয়ারপ্রতি ১ টাকা করে লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

আরও পড়ুন:
ফ্যামিলিটেক্সে উৎপাদন চলছে
দুটি কোম্পানির শেয়ার পাবেন কর্মীরাও
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক

শেয়ার করুন

সাবমেরিন ক্যাবলে আয়ে চমকের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ

সাবমেরিন ক্যাবলে আয়ে চমকের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ

২০১২ সালে তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি ২ টাকা লভ্যাংশই এর আগে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ছিল। গত বছরও সম পরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। সে বছর শেয়ারে আয় ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা। এবার শেয়ার প্রতি ১১ টাকা ৫৭ পয়সা আয় করে ৩৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা এসেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আয় করে নিজেদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে টেলিকম খাতের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি।

গত ৩০ জুন, ২০২১ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারধারীদেরকে ৩ টাকা ৭০ পয়সা করে, অর্থাৎ ৩৭ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

বৃহস্পতিবার পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

২০১২ সালে তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি ২ টাকা লভ্যাংশই এর আগে কোম্পানিটির সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ছিল। গত বছরও সম পরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ১১ টাকা ৫৭ পয়সা। এটিও তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ। আগের বছর এই আয় ছিল ৫ টাকা ৪৯ পয়সা।

কোম্পানিটির আয় বেড়েছে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার কারণে। এরপর আয় কীভাবে বেড়েছে, তা ২০১৬ সালের পর থেকে আর্থিক হিসাবে স্পষ্ট হবে।

২০১৬ সালে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল এক টাকা। পরের বছর তা কিছুটা বেড়ে হয় ১ টাকা ৯৩ পয়সা। ২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি আয় কমে যায়। ওই বছর এই আয় হয় ৪৪ পয়সা।

তবে এরপর থেকে আয় বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালে শেয়ারে ৩ টাকা ৫৫ পয়সা আর ২০২০ সালে আয় দাঁড়ায় ৫ টাকা ৮০ পয়সা।

২০২১ সালে কোম্পানির আয় প্রতি প্রান্তিকেই বেড়েছে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ২ টাকা ১ পয়সা, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২ টাকা ৩৬ পয়সা, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে ৩ টাকা ২০ পয়সা এবং এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রান্তিকে আয় হয় ৪ টাকা।

কোম্পানিটি তৃতীয় সাবমেরিক ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

কোম্পানিটির আয়ের মতো সম্পদমূল্যেও উল্লম্ফন হয়েছে। গত ৩০ জুন শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য ছিল ৫২ টাকা ৪৯ পয়সা। আগের বছর এই সম্পদমূল্য ছিল ৪০ টাকা ৯৩ পয়সা।

প্রতি প্রান্তিকেই আয় বাড়তে থাকার পর কোম্পানিটির শেয়ার মূল্যও বাড়তে থাকে। গত এক বছরে ১২৫ টাকা ১০ পয়সা থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৩৬ টাকা পর্যন্ত উঠে। তবে লভ্যাংশ ঘোষণার দিন দাম ছিল ২১২ টাকা ৫০ পয়সা।

কোম্পানিটির লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ঠিক করা হয়েছে আগামী ১১ নভেম্বর। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে শেয়ার থাকবে, তারাই পাবেন লভ্যাংশ। আগামী ৭ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে।

আরও পড়ুন:
ফ্যামিলিটেক্সে উৎপাদন চলছে
দুটি কোম্পানির শেয়ার পাবেন কর্মীরাও
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক

শেয়ার করুন

১০ টাকার শেয়ারে ১৪ টাকা লোকসান

১০ টাকার শেয়ারে ১৪ টাকা লোকসান

তিন মাস আগে থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদরে উত্থান ঘটে। গত ২৬ জুন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৫ টাকা ৫০ পয়সা। সেখান থেকে টানা বাড়তে বাড়তে গত ৭ সেপ্টেম্বর গিয়ে দাঁড়ায় ১১ টাকা ৭০ পয়সা। পরদিন থেকে শুরু হয় দরপতন। ৫ সপ্তাহের ব্যবধানে সর্বোচ্চ দর থেকে শেয়ারদর কমেছে ৪ টাকা ২০ পয়সা।  

পর্ষদ পুনর্গঠনের খবরে শেয়ারদরে লাফ দিয়ে হাজারো বিনিয়োগকারীর টাকা আটকে যাওয়া ফাস ফাইন্যান্সের ২০২০ সালের আর্থিক হিসাব চরমভাবে হতাশা করেছে বিনিয়োগকারীদেরকে।

অর্থবছর শেষ হওয়ার ১০ মাস পর ডাকা পর্ষদ সভা শেষে জানানো হয়েছে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ১৪ টাকা ৬১ পয়সা লোকসান হয়েছে কোম্পানিটির। বৃহস্পতিবার পর্ষদ সভা শেষে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশও ঘোষণা করা হয়নি।

আলোচিত ব্যাংকার পি কে হালদার কেলেঙ্কারিতে ডুবে যাওয়া কোম্পানিটিকে টেনে তুলতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে দিয়েছে। এরই মধ্যে একটি বড় কোম্পানিকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এর দায়িত্ব নিতে। তবে সেই কোম্পানিটি কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

তবে এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তিন মাস আগে থেকে কোম্পানিটির শেয়ারদরে উত্থান ঘটে। গত ২৬ জুন কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৫ টাকা ৫০ পয়সা। সেখান থেকে টানা বাড়তে বাড়তে গত ৭ সেপ্টেম্বর গিয়ে দাঁড়ায় ১১ টাকা ৭০ পয়সা।

পরদিন থেকে শুরু হয় দরপতন। ৫ সপ্তাহের ব্যবধানে সর্বোচ্চ দর থেকে শেয়ারদর কমেছে ৪ টাকা ২০ পয়সা।

যখন শেয়ারদর বাড়ছিল, তখন তাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছিলেন বিনিয়োগকারীরা। বিপুল সংখ্যক শেয়ার কেনাবেচা হতে থাকে। আর বেশি দামে শেয়ার কিনে আটকা পড়েছেন হাজার হাজার বিনিয়োগকারী।

যখন দাম বাড়ছিল, তখন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, কোম্পানির লোকসান কমে আসবে। কিন্তু দেখা গেছে উল্টো চিত্র। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৮ টাকা ৫৪ পয়সা। পরের তিন মাসে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি লোকসান হয় ৬ টাকা ৭ পয়সা।

২০১৯ সালে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১০ টাকা ১২ পয়সা লোকসান দিয়েছিল পি কে হালদার কেলেঙ্কারির কারণে।

পরপর দুই বছর বড় লোকসান দেয়ার কারণে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য শূন্য হয়ে উল্টো ঋণাত্মক হয়ে গেছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর শেয়ার প্রতি দায় দাঁড়ায় ১৯৯ টাকা ৭০ পয়সা। আগের বছর শেয়ার প্রতি সম্পদ ছিল ১৬৯ টাকা ৪০ পয়সা।

কোম্পানিটির লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ নভেম্বর। আগামী ৩০ নভেম্বর কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ফ্যামিলিটেক্সে উৎপাদন চলছে
দুটি কোম্পানির শেয়ার পাবেন কর্মীরাও
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক

শেয়ার করুন

লোকসান আরও বেড়েছে আইসিবি ব্যাংকের

লোকসান আরও বেড়েছে আইসিবি ব্যাংকের

গত বছর তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হয়ে এসেছিল। সে বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথমবারের মতো শেয়ার প্রতি ১৭ পয়সা আয় করে চমক দেখায়। তবে অর্থবছর শেষে সেই লোকসানের বৃত্তেই থাকে।

শেয়ারদর বাড়তে থাকলেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যের কোনো উন্নতি হয়নি।

টানা তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটি লোকসান দিল আর এর মধ্য দিয়ে গত জানুয়ার থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৭ পয়সা। আগের বছর এই সময়ে লোকসান ছিল ১৫ পয়সা।

এর মধ্যে ৩২ পয়সা লোকসান ছিল জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত। আর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থেকে তিন মাসে লোকসান হয়েছে ১৫ পয়সা।

বৃহস্পতিবার কোস্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে এই অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

গত বছর তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হয়ে এসেছিল। সে বছর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথমবারের মতো শেয়ার প্রতি ১৭ পয়সা আয় করে চমক দেখায়। তবে অর্থবছর শেষে সেই লোকসানের বৃত্তেই থাকে।

লোকসানের কারণে লভ্যাংশ দিতে না পারলেও গত এক বছরে ব্যাংকটির শেয়ার মূল্যে উল্লম্ফন হয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ ব্যাংক গত বছর আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণা করলেও সেগুলোর শেয়ার মূল্য বেড়েছে কমই।

বিপরীতে লভ্যাংশ দিতে না পারা আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর এই সময়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়।

গত বছরের জুলাইয়ে শেয়ারদর ২ টাকা ৮০ পয়সা থাকলেও বর্তমান দর ৫ টাকা ৫০ পয়সা।

তবে মাঝে একবার শেয়ারদর বেড়ে ৭ টাকা ৪০ পয়সা হয়ে যায়। ব্যাংকটি মুনাফায় ফিরছে, এমন গুঞ্জনের পাশাপাশি মালিকানা বদলের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর শেয়ারমূল্য বাড়তে থাকে। পাশাপাশি বাড়ে লেনদেন।

তবে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধনে দুর্বল নানা কোম্পানির পাশাপাশি আইসিবি ইসলামীও ব্যাপক দর হারিয়েছে। মাঝে দাম এক পর্যায়ে ৪ টাকা ৭০ পয়সাতেও নেমে গিয়েছিল। পরে কিছুটা বাড়ে।

কোম্পানিটির লোকসানের পাশাপাশি শেয়ার প্রতি দায়ও বাড়ছে। এই কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি কোনো সম্পদ নেই। উল্টো দায় আছে ১৮ টাকা ১ পয়সা। এটি গত সেপ্টেম্বরের হিসাব। গত বছরের ডিসেম্বরে এই দায় ছিল ১৭ টাকা ৫৪ পয়সা।

আরও পড়ুন:
ফ্যামিলিটেক্সে উৎপাদন চলছে
দুটি কোম্পানির শেয়ার পাবেন কর্মীরাও
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক

শেয়ার করুন

ন্যাশনাল পলিমারে লভ্যাংশ কমল

ন্যাশনাল পলিমারে লভ্যাংশ কমল

২০১১ সাল থেকে টানা বোনাস শেয়ার দিয়ে আসা কোম্পানিটি গত বছরই কেবল ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। এবার তা ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

আগের বছরের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় বাড়ার পর লভ্যাংশ কমিয়েছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ন্যাশনাল পলিমার।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৮২ পয়সা আয় করে ১ টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কোম্পানির ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ নগদ লভ্যাংশ। ২০১১ সাল থেকে টানা বোনাস শেয়ার দিয়ে আসা কোম্পানিটি গত বছরই কেবল ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

ওই বছর কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ৫০ পয়সা আয় করে ১ টাকা ৫০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল।

ওই বছর শেষে কোম্পানিটির মোট আয় শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ১২ পয়সা হয়েছিল। তবে পরে একটি শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার যুক্ত হওয়ার পর আয় সমন্বিত হয়ে কমে যায়। আবার প্রতি শেয়ারে ৫ টাকা প্রিমিয়াম যুক্ত হয়।

১০০ শতাংশ রাইট শেয়ার যুক্ত হওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কিছুটা কমেছে। গত ৩০ জুন এই সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকা ৪৯ পয়সা। আগের বছর তা ছিল ৩৫ টাকা ৮৭ পয়সা।

এই লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৪ নভেম্বর। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে শেয়ার থাকবে, তারাই পাবে এই লভ্যাংশ।

এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ২২ ডিসেম্বর।

কোম্পানিটির শেয়ার দর গত এক বছরে ৫২ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৭৭ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত ওঠানামা করেছে। তবে তৃতীয় প্রান্তিকের আয় সংশোধনকে কেন্দ্র করে শেয়ারমূল্য পরে কমে যায়।

লভ্যাংশ ঘোষণার দিন শেয়ার দর ছিল ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
ফ্যামিলিটেক্সে উৎপাদন চলছে
দুটি কোম্পানির শেয়ার পাবেন কর্মীরাও
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক

শেয়ার করুন

তালিকাভুক্তির পর সর্বনিম্ন লভ্যাংশ বিবিএস ক্যাবলস

তালিকাভুক্তির পর সর্বনিম্ন লভ্যাংশ বিবিএস ক্যাবলস

কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৬৬ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ বোনাস ও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১৯ সালেও লভ্যাংশ ছিল সম পরিমাণ, ওই বছর শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৮ টাকা ১৭ পয়সা। ২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি ৮ টাকা ৮ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৭ সালে তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪ টাকা ১২ পয়সা। প্রথম বছরে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা নগদের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ বোনাস পেয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি বিবিএস ক্যাবলস আগের বছরের চেয়ে কম আয় করে লভ্যাংশ কমিয়েছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থ বছরে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ৮৪ পয়সা আয় করে এক টাকা নগদ ও প্রতি ২০টি শেয়ারে একটি বোনাস শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ।

অর্থাৎ এবার ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস মিলিয়ে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ পাবে বিবিএস ক্যাবলসের বিনিয়োগকারীরা, যা ২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর সবচেয়ে কম লভ্যাংশ।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

কোম্পানিটি ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৬ টাকা ৬৬ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ বোনাস ও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ২০১৯ সালেও লভ্যাংশ ছিল সম পরিমাণ, ওই বছর শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৮ টাকা ১৭ পয়সা।

২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি ৮ টাকা ৮ পয়সা আয় করে ১০ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৭ সালে তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪ টাকা ১২ পয়সা। প্রথম বছরে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা নগদের পাশাপাশি ১৫ শতাংশ বোনাস পেয়েছিলেন বিনিয়োগকারীরা।

কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য কিছুটা বেড়েছে। গত ৩০ জুন এই সম্পদমূল্য ছিল ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা। আগের বছর তা ছিল ৩২ টাকা ৫২ পয়স।

লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ নভেম্বর। অর্থাৎ সেদিন যাদের হাতে শেয়ার থাকবে, তারাই এই লভ্যাংশ পাবে। আগামী ২০ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভায় লভ্যাংশ চূড়ান্ত হবে।

আরও পড়ুন:
ফ্যামিলিটেক্সে উৎপাদন চলছে
দুটি কোম্পানির শেয়ার পাবেন কর্মীরাও
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক

শেয়ার করুন