দুটি কোম্পানির শেয়ার পাবেন কর্মীরাও

দুটি কোম্পানির শেয়ার পাবেন কর্মীরাও

নতুন শর্ত দেয়া হয়েছে, আইপিও আবেদনের ১৫ শতাংশ শেয়ার ইউনিয়ন ব্যাংক ও ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের কর্মীদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। এই পরিমাণ শেয়ার দুই বছর লক-ইন বা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।  

পুঁজিবাজারে দুটি কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আবেদনের ১৫ শতাংশ শেয়ার কর্মীদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

রোববার সংস্থাটির নিয়মিত সভায় ইউনিয়ন ব্যাংক ও ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রে এমন শর্ত দেয়া হয়েছে।

৫ সেপ্টেম্বর আইপিওর মাধ্যমে ৪২৮ কোটি টাকার তোলার অনুমোদন দেয়া হয় ইউনিয়ন ব্যাংককে। সেখানেও দুটি শর্ত দেয়া হয় ব্যাংকটিকে।

এতে বলা হয়, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির আগে ব্যাংকটি কোনো প্রকার লভ্যাংশ ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না। এছাড়া ব্যাংকটিকে ২০২১ সালের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে।

এবার নতুন শর্ত দেয়া হয়েছে, আইপিও আবেদনের ১৫ শতাংশ শেয়ার ব্যাংকটির কর্মীদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। এই পরিমাণ শেয়ার দুই বছর লক-ইন বা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

এছাড়া এর আগে ব্যাংকটির তৈরি করা প্রসপেকটাস বা কোম্পানির বিবরণীতে শেয়ার বণ্টনের যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, সেটি বদলে করে নতুন বণ্টন নির্দেশনা উল্লেখ করে আবারও কমিশনে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

একইভাবে ২৩ জুন আইপিও আবেদনের অনুমোদন পাওয়া ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের ক্ষেত্রেও একইভাবে শেয়ার বণ্টনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেখানে আইপিও আবেদনের ১৫ শতাংশ কর্মীদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যা দুই বছর লক-ইন থাকবে।

কোম্পানিটিকে ইতোমধ্যে সম্মতিপত্রও দেয়া হয়েছে। রোববার কমিশন সভায় ওই সম্মতিপত্র বাতিল করে নতুন সম্মতিপত্র দেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সকেও তার জমা দেয়া প্রসপেকটাস পরিবর্তন করে শেয়ার বণ্টনের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আবারও সেটি জমার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬০ হাজার ৯০৪টি শেয়ার ছেড়ে মোট ১৯ কোটি ৩৬ লাখ ৯ হাজার ৪০ টাকা তুলবে।

পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা টাকায় ফিক্সড ডিপোজিট, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, ফ্লোর কিনবে কোম্পানিটি। এ টাকা থেকেই মেটানো হবে আইপিওর ব্যয়ও।

২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত আর্থিক বছরের নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দেখানো হয়েছে ৯৩ পয়সা। আর শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভি) ১৬ টাকা ০২ পয়সা।

২০০০ সালের ২৪ আগস্ট থেকে দেশে বিমা ব্যবসার শুরু করে ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স। নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে বিমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আসতে হয়, না আসলে প্রতিদিনের দেরির জন্য গুনতে হয় জরিমানা।

তবে এতে ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের সময় লেগেছে ২০ বছর। বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (ইডরা) কাছে সময় চেয়ে সময়ক্ষেপণ করেছে কোম্পানিটি।

২০১৯ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স এই সময়ে মোট প্রিমিয়াম আয় করেছে ৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে যেটি ৩৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ছিল।

কর দেয়ার পর ২০১৯ সালে আয় হয় ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে যেটি ছিল ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

এর আগে ২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর অনুমোদন দেয়া হয় দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সকে, যা ২৯ মার্চ থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন হচ্ছে।

একই বছরের ৯ ডিসেম্বর অনুমোদন পাওয়া সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পুঁজিবাজারে লেনদেন হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর আহমেদ পল্টু ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন।

ইউনিয়ন ব্যাংক

ইউনিয়ন ব্যাংক প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে শেয়ার ছেড়ে ৪২৮ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালু হবে ১০ টাকা। উত্তোলন করা টাকা দিয়ে ব্যাংকটি এসএমই ও প্রজেক্ট অর্থায়ন, সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও আইপিওর করতে খরচ করবে।

২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া নেট অ্যাসেট ভ্যালু ১৬ টাকা ৩৮ পয়সা। শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৭৭ পয়সা। গত পাঁচ বছরের ভারিত গড় হারে শেয়ারপ্রতি আয় ১ টাকা ৮২ পয়সা।

ব্যাংকটিকে পুঁজিবাজারে আনতে ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

আরও পড়ুন:
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক
এক বছরে দ্বিগুণ বেড়ে পুঁজিবাজার এখন জিডিপির ২০ শতাংশ
শেয়ার কেনায় তুমুল আগ্রহ, সংশোধন শেষের আভাস

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডাচ্-বাংলার দারুণ আয়

ডাচ্-বাংলার দারুণ আয়

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ২৫ পয়সা। আগের বছর এই সময়ে আয় ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। আয় বেড়েছে ৭৮ পয়সা বা ১৪.২৫ শতাংশ।  

করোনার বছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক ডাচ্-বাংলার অগ্রগতি অব্যাহত আছে। তিন প্রান্তিকের মধ্যে দুই প্রান্তিকেই আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেশি আয় করতে পেরেছে কোম্পানিটি।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৬৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ৫ পয়সা। আয় বেড়েছে ৬৩ পয়সা বা ৩০.৭৩ শতাংশ।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে এই হিসাব প্রকাশ করা হয়।

এই তিন মাসের হিসাবসহ জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ২৫ পয়সা। আগের বছর এই সময়ে আয় ছিল ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। আয় বেড়েছে ৭৮ পয়সা বা ১৪.২৫ শতাংশ।

এর আগের প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির আয় কমে গিয়েছিল। ওই তিন মাসে শেয়ারপ্রতি ২ টাকা ১৪ পয়সা আয় হয়েছিল ব্যাংকটির। আগের বছর এই সময়ে আয় হয়েছিল ২ টাকা ২৩ পয়সা।

তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে হোঁচট খেলেও প্রথম প্রান্তিকে বেশি আয়ের সুবাদে অর্ধবার্ষিকেও আয় বেশি ছিল। ৬ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৩ টাকা ৫৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ৩ টাকা ৪২ পয়সা।

জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৬৫ পয়সা। ২০২০ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৩৭ পয়সা।

২০২০ সালে শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা আয় করে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ দেয়া হয় বোনাস, আর শেয়ারপ্রতি দেড় টাকা দেয়া হয় নগদ।

কোম্পানিটি লভ্যাংশ ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী এর চেয়ে বেশি লভ্যাংশ ঘোষণায় আইনি বাধা ছিল। পরে অবশ্য লভ্যাংশের সীমা বাড়িয়ে ৩৭.৫ শতাংশ করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত এক বছরে পুঁজিবাজারে উত্থানের মধ্যেও ব্যাংক খাতের ঘুমিয়ে থাকার মধ্যেও এই ব্যাংকটির শেয়ার দর বেশ বেড়েছিল।

এই সময়ে কোম্পানিটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৫৬ টাকা ৯০ পয়সা। ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার যুক্ত হওয়ার পরেও শেয়ার দর পরে বেড়ে ৯৭ টাকা ৭০ পয়সা হয়ে যায়।

তবে গত ২৭ জুন থেকে শেয়ার দর সংশোধনে আছে। সর্বোচ্চ দর থেকে ২০ টাকা কমে প্রান্তিক প্রকাশের দিন শেয়ার দর ছিল ৭৭ টাকা।

কেবল এই ব্যাংকটিই নয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যতগুলো ব্যাংক এখন পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ করেছে, তার মধ্যে কেবল লোকসানি আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের লোকসান বেড়েছে। অন্যদিকে আয় বাড়াতে পেরেছে এনসিসি, ওয়ান, ইসলামী, সিটি ও প্রিমিয়ার ব্যাংক।

আরও পড়ুন:
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক
এক বছরে দ্বিগুণ বেড়ে পুঁজিবাজার এখন জিডিপির ২০ শতাংশ
শেয়ার কেনায় তুমুল আগ্রহ, সংশোধন শেষের আভাস

শেয়ার করুন

আয় কমে গেল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের

আয় কমে গেল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের

কেবল সবশেষ প্রান্তিকে নয়, কোম্পানিটির আয় কমেছে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসেও। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৮৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ২২ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরের বছরেই আয় কমে গেল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সেরও।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৭৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ৯৬ পয়সা।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হয়।

কেবল সবশেষ প্রান্তিকে নয়, কোম্পানিটির আয় কমেছে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসেও। এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৮৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ২ টাকা ২২ পয়সা।

তবে গত বছর কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছিল না। সে সময় ২৪ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটিতে শেয়ার সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪০ লাখ। আইপিওতে ১৬ কোটি টাকা তুলে এক কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ইস্যুর পর শেয়ার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ।

তালিকাভুক্তির বছরে শেয়ার প্রতি ৪ টাকা ৫৮ পয়সা আয় করে শেয়ারধারীদেরকে এক টাকা করে লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।

তবে চলতি বছরের শুরু থেকেই কোম্পানির আয়ে ভাটা পড়তে থাকে। প্রথম প্রান্তিকে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শেয়ার প্রতি ৬৩ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আরও ৪৬ পয়সা আয় হয়েছিল কোম্পানিটির।

অর্ধবার্ষিকে ক্রিস্টালের শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ৯ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৫ পয়সা।

১০ টাকা অভিহিত মূল্যে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানিটির শেয়ারদর গত জুন থেকে ক্রমাগত কমছে। সে সময় শেয়ারের সর্বোচ্চ দর ছিল ৭৪ টাকা ৩০ পয়সা।

প্রান্তিক প্রকাশের দিন শেয়ার মূল্য ছিল ৫৪ টাকা ৮০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক
এক বছরে দ্বিগুণ বেড়ে পুঁজিবাজার এখন জিডিপির ২০ শতাংশ
শেয়ার কেনায় তুমুল আগ্রহ, সংশোধন শেষের আভাস

শেয়ার করুন

আয় কমে গেল ইসলামিক ফাইন্যান্সের

আয় কমে গেল ইসলামিক ফাইন্যান্সের

কেবল সবশেষ প্রান্তিক নয়, গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ৯ মাসেও কোম্পানিটির আয় কমেছে। এই তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৮৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৯ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি ইসলামিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের আয় কমে গেছে।

গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২৯ পয়সা।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদন করা হয়।

কেবল সবশেষ প্রান্তিক নয়, গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ৯ মাসেও কোম্পানিটির আয় কমেছে। এই তিন প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৮৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৯৯ পয়সা।

আয় কমলেও কোম্পানিটির শেয়ারদরে উল্লম্ফন হয়েছে। এপ্রিলের শেষেও কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ১৮ টাকার কম। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তা ৩৫ টাকা ৪০ পয়সা হয়ে যায়।

শেয়ারদর দ্বিগুণ হওয়ার পরে অবশ্য ৩০ নভেম্বর থেকে তা পতনমুখী। সেদিন শেয়ারদর ছিল ৩৪ টাকা। এরপর ১৫ কার্যদিবসে শেয়ারদর কমেছে ৭ টাকা ৭০ পয়সা বা ২২.৬৪ শতাংশ।

২ বছর ধরে শেয়ার প্রতি এক টাকা করে লভ্যাংশ দেয়া কোম্পানিটির শেয়ারদর এক বছরে ১৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে প্রায় আড়াই গুণ বেড়ে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা ৪০ পয়সা হয়েছিল।

গত বছর শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৫৪ পয়সা আয় করা কোম্পানিটির সম্পদমূল্যও কমেছে। গত ৩১ ডিসেম্বর শেয়ার প্রতি সম্পদ ছিল ১৪ টাকা ৯৯ পয়সার। সেটি কমে ৩০ সেপ্টেম্বর দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৮৮ পয়সা।

আরও পড়ুন:
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক
এক বছরে দ্বিগুণ বেড়ে পুঁজিবাজার এখন জিডিপির ২০ শতাংশ
শেয়ার কেনায় তুমুল আগ্রহ, সংশোধন শেষের আভাস

শেয়ার করুন

প্রিমিয়ারে গত বছরের চেয়ে বেশি আয় ৯ মাসেই

প্রিমিয়ারে গত বছরের চেয়ে বেশি আয় ৯ মাসেই

রাজধানীতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের একটি শাখা। ফাইল ছবি

২০২০ সালে ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি ২ টাকা ১৩ পয়সা আয় করতে পেরেছিল। এবার টানা তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের চেয় বেশি আয় করা ব্যাংকটির ৯ মাসের আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা।

আগের দুই প্রান্তিকের ধারাবাহিকতায় জুলাই থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকেও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি আয় করে চমক অব্যাহত রেখেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রিমিয়ার ব্যাংক।

এই পান্তিকে ব্যাংকটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৬৫ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ছিল ৫১ পয়সা। আয় বেড়েছে ১৭ পয়সা বা ৩৩ শতাংশ।

এই আয় মিলিয়ে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১ টাকা ৪০ পয়সা। আয় বেড়েছে ৮৩ পয়সা বা ৫৯.২৮ শতাংশ।

এই আয় ২০২০ সালের আয়ের চেয়ে বেশি। ওই বছর শেয়ার প্রতি ২ টাকা ১৩ পয়সা আয় করতে পেরেছিল প্রিমিয়ার ব্যাংক।

ব্যাংকটি গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৫৮ পয়সা আয় করেছিল। গত বছর এই সময়ে আয় ছিল ৯০ পয়সা। অর্ধবার্ষিকে আয় বাড়ে ৬৮ পয়সা বা ৭৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

গত বছর করোনার মধ্যেও ব্যাংকগুলোর আয় ও লভ্যাংশ ছিল চমক জাগানিয়া। চলতি বছর অর্ধবার্ষিকে আয় আরও বেশে বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে আরও আশাবাদী করে তুলেছিল ব্যাংকগুলো।

তৃতীয় প্রান্তিক শেষেও এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারছে ব্যাংকগুলো। এখন পর্যন্ত যেসব ব্যাংক প্রান্তিক ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে কেবল আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের লোকসান বেড়েছে।

অন্যদিকে এনসিসি, ইসলামী, সিটি, ওয়ান ব্যাংকের আয় বেড়েছে। এর মধ্যে ইসলামী, সিটি ও ওয়ান ব্যাংক তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা করলেও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম আয় করেছে। তবে প্রিমিয়ার তার অবস্থান ধরে রেখেছে।

একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ অবশ্য কিছুটা কমেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে এই সম্পদ হয়েছে ২০ টাকা ৫৮ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে এই সম্পদ ছিল ২১ টাকা ২ পয়সার।

গত বছর শেয়ার প্রতি ১ টাকা ২৫ পয়সা ও সাড়ে ৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারে ১৫টি বোনাস দেয়া ব্যাংকটির শেয়ারদর তার সম্পদমূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে।

প্রান্তিক প্রকাশের দিন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের দর ছিল ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ার দর ১০ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

আরও পড়ুন:
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক
এক বছরে দ্বিগুণ বেড়ে পুঁজিবাজার এখন জিডিপির ২০ শতাংশ
শেয়ার কেনায় তুমুল আগ্রহ, সংশোধন শেষের আভাস

শেয়ার করুন

আয় বাড়লেও তৃতীয় প্রান্তিকে ওয়ান ব্যাংকেরও ‘হোঁচট’

আয় বাড়লেও তৃতীয় প্রান্তিকে ওয়ান ব্যাংকেরও ‘হোঁচট’

ব্যাংকটি তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ব্যাংকটির আয় গত বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৫৬ শতাংশ। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ারে মুনাফা হয়েছে ১৮ পয়সা, যা আগের বছর ছিল ২২ পয়সা।

জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে আগের বছরের তুলনায় দেড় গুণ আয় করা ওয়ান ব্যাংক জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে এসে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারেনি।

এই তিন মাসে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ১৮ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ২২ পয়সা।

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৬৪ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ১ টাকা ১৫ পয়সা।

অর্থাৎ ব্যাংকটি তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ব্যাংকটির আয় গত বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৫৬ শতাংশ।

গত বছর করোনার মধ্যেও ব্যাংকগুলোর আয় ও লভ্যাংশ ছিল চমক জাগানিয়া। চলতি বছর অর্ধবার্ষিকে আয় আরও বেশে বাড়িয়ে বিনিয়োগকারীদেরকে আরও আশাবাদী করে তুলেছিল ব্যাংকগুলো।

তৃতীয় প্রান্তিক শেষেও এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারছে ব্যাংকগুলো, তবে এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা করা এনসিসি, সিটি ও এবার ওয়ান ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তৃতীয় প্রান্তিকে এসে প্রবৃদ্ধি কমেছে। এর মধ্যে মুনাফায় থাকলেও দুটির আয় তৃতীয় প্রান্তিকে কমে গেছ।

ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্যও বেড়েছে। সেপ্টেম্বর শেষে এই সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৩৮ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর অর্থবছর শেষে এই সম্পদ ছিল ১৯ টাকা ৩১ পয়সা।

গত বছর শেয়ার প্রতি ৬০ পয়সা ও সাড়ে ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারে ১১টি বোনাস দেয়া ব্যাংকটির শেয়ারদর তার সম্পদমূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে।

প্রান্তিক প্রকাশের দিন ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের দর ছিল ১২ টাকা ৭০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ার দর ৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১৫ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

আরও পড়ুন:
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক
এক বছরে দ্বিগুণ বেড়ে পুঁজিবাজার এখন জিডিপির ২০ শতাংশ
শেয়ার কেনায় তুমুল আগ্রহ, সংশোধন শেষের আভাস

শেয়ার করুন

লভ্যাংশ ঘোষণায় বেক্সিমকোর শেয়ারে হুলুস্থুল

লভ্যাংশ ঘোষণায় বেক্সিমকোর শেয়ারে হুলুস্থুল

পিপিই পার্ক করার পর থেকে বেক্সিমকোর শেয়ারে তুমুল আগ্রহ তৈরি হয়। পরে এই আগ্রহ বাড়ায় সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যাদেশ। ফাইল ছবি

গত দেড় বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৩ টাকা থেকে বেড়ে দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ১৬৭ টাকা ৭০ পয়সা। শেয়ার প্রতি সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার জেরে এক পর্যায়ে দাম ১৮০ টাকা উঠে গিয়েছিল। উল্লেখযোগ্য আরও একটি বিষয় হলো মোট লেনদেনের প্রায় ২৪ শতাংশ হয়েছে একটি কোম্পানিতেই।

লেনদেনের প্রায় চার ভাগের একভাগ একটি কোম্পানিতেই। এমন অবিশ্বাস্য চিত্র দেখা গেল দেশের পুঁজিবাজারে।

রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৭১ কোটি ৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডেরই ৩৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকা হাতবদল হয়েছে। অর্থাৎ মোট লেনদেনের ২৩.২৬ শতাংশ।

এই হুলুস্থুল হলো কোম্পানিটির লভ্যাংশ ঘোষণার পর।

২০১০ সালের মহাধসের পর কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করল এবার। শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৭ টাকা ৫৩ পয়সা। আগের বছর আয় ছিল ৫১ পয়সা।

গত দেড় বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১৩ টাকা থেকে বেড়ে দিন শেষে দাঁড়িয়েছে ১৬৭ টাকা ৭০ পয়সা। তবে এক পর্যায়ে দাম ১৮০ টাকা উঠে গিয়েছিল। এত বেশি হারে কোনো শেয়ারের দাম বাড়েনি দেশের পুঁজিবাজারে।

মূল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেক্সিমকোর শেয়ারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও বাড়ছে। গত জুলাইয়ে কোম্পানিটির চার কোটির বেশি আর আগস্টে সাত কোটি শেয়ার কিনেছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

এই এক বছরে বেশিরভাগ দিনই লেনদেনের শীর্ষে ছিল এই কোম্পানিটি। মাঝে কেবল দুই একদিন ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, গত মাসে লাফার্ম হোলমিস, ওরিয়ন ফার্মা বেক্সিমকোকে ঠেলে নিচে নামিয়েছে। তবে শেয়ারদর বৃদ্ধি থামেনি।

তবে এক এক বছরে কোনো কোম্পানির তিনশ কোটি টাকার বেশি লেনদেনর চিত্র দেখা যায়নি। আজ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হওয়া ওরিয়ন ফার্মাও হাতবদল হয়েছে বেক্সিমকো ফার্মার চার ভাগের এক ভাগের কম। এই কোম্পানিতে হাতবদল হয়েছে ৭৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

পিপিই পার্ক ছাড়াও আরও একটি কারণে বেক্সিমকোর শেয়ারদর ক্রমেই বাড়ছে। কোম্পানিটির সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কাজ পেয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নে একটি ২৮০ মেগাওয়াট ও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নির্মিত হচ্ছে ৫৫ মেগাওয়াটের আরও একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এর মধ্যে গাইবান্ধার কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে তিস্তা সোলার লিমিটেড আর পঞ্চগড়েরটি নির্মাণ করছে করতোয়া সোলার লিমিটেড নামে কোম্পানি। এই দুটি কোম্পানির ৭৫ শতাংশের মালিক বেক্সিমকোর সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সি পাওয়ার। বেক্সি পাওয়ারের ৭৫ শতাংশের মালিক আবার বেক্সিমকো লিমিটেড।

এই দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে উৎপাদনে আসবে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্থায়নের জন্য বেক্মিমকো তিন হাজার কোটি টাকার সুকুক বন্ড ছেড়েছে।

লভ্যাংশ ঘোষণা হওয়া অন্য কোম্পানির চিত্র কী

রোববার লভ্যাংশ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ১৪টি কোম্পানির কোনো মূল্যসীমা ছিল না। এর মধ্যে বেক্সিমকোর মতো চিত্র অন্য কোনো কোম্পানিতে দেখা যায়নি।

বেক্সিমকোর প্রায় দ্বিগুণ লভ্যাংশ ঘোষণা করা স্কয়ার ফার্মার শেয়ারদর কমেছে। কোম্পানিটি এবার শেয়ার প্রতি ৬ টাকা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই ঘোষণায় শেয়ারদর ২৩৩ টাকা ৮০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২২৬ টাকা ২০ পয়সা।

শেয়ার প্রতি দুই টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করা একই গ্রুপের স্কয়ার টেক্সটাইলের শেয়ারদর ২ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে ৪৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে হয়েছে ৫১ টাকা ৯০ পয়সা।

বেক্সিমকো লিমিটেডের সমান লভ্যাংশ ঘোষণা করা একই গ্রুপের বেক্সিমকো ফার্মার শেয়ারদরও কমেছে। সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার প্রভাবে শেয়ারদর ২২৯ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ৩ টাকা ৪০ পয়সা কমে হয়েছে ২২৬ টাকা ২০ পয়সা।

একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি শাইনপুকুর সিরামিক শেয়ার প্রতি ২৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ার দর কমেছে ১ টাকা ৬০ পয়সা। ৩৬ টাকা ৯০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৫ টাকা ৩০ পয়সা।

শেয়ারে ১৪ টাকা ৫০ পয়সা ও ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার ঘোষণায়রেনাটার কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা। দাম এক হাজার ৪৪০ টাকা ১০ পয়সা থেকে হয়েছে ১ হাজার ৪৪১ টাকা ৩০ পয়সা।

শেয়ার প্রতি ২০ পয়সা অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করা মেরিকোর শেয়ারদর বেড়েছে ৭ টাকা ২০ পয়সা। শেয়ারদর দুই হাজার ৩০৮ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩১৫ টাকা ৫০ পয়সা।

শেয়ার প্রতি ৫ টাকা (এর মধ্যে ১ টাকা এসেছিল অন্তর্বর্তী, চূড়ান্ত লভ্যাংশ ৪ টাকা) লভ্যাংশ ঘোষণা করা বিএসআরএম লিমিটেডের দর ১১৩ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১৯ টাকা।

একই গ্রুপের আরেক কোম্পানি বিএসআরএম স্টিল শেয়ার প্রতি ৪ টাকা (এর মধ্যে ১ টাকা এসেছিল অন্তর্বর্তী, চূড়ান্ত লভ্যাংশ ৩ টাকা) লভ্যাংশ ঘোষণার পর শেয়ারদর ২ টাকা ১০ পয়সা বেড়ে ৬৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে হয়েছে ৭২ টাকা।

শেয়ার প্রতি ১ টাকা ও ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করা প্রকৌশল খাতের বিসিএস ক্যাবলস দর হারিয়েছে ৪ টাকা ৭০ পয়সা। ৬৬ টাকা ২০ পয়সা থেকে শেয়ারদর নেমে এসেছে ৬১ টাকা ৫০ পয়সা।

লোকসান দেয়ার পরও রিজার্ভ থেকে শেয়ার প্রতি ২০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা বিবিএস দর হারিয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ। শেয়ারদর ১৮ টাকা ৪০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১৬ টাকা ৫০ পয়সা। দাম কমেছে ১০.৩২ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতেরই আরেক কোম্পানি ন্যাশনাল পলিমার শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার পর দর হারিয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা। শেয়ারদর ৫৬ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৫২ টাকা ৯০ পয়সা।

দ্বিগুণ আয় করার পর শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৭০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানি লিমিটেড দর হারিয়েছে ১ টাকা ৯০ পয়সা। শেয়ারদর ২১২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ২১০ টাকা ৬০ পয়সা।

শেয়ার প্রতি ২০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা বস্ত্র খাতের আনলিমা ইয়ার্ন দর হারিয়েছে ৩ টাকা ১০ পয়সা। শেয়ারদর ৩৮ টাকা ৭০ পয়সা থেকে নেমে এসেছে ৩৫ টাকা ৬০ পয়সায়।

দিনের সবচেয়ে বেশি পতন হওয়া কোম্পানিটির নাম ফাস ফাইন্যান্স। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে ১০ টাকার শেয়ারে ১৪ টাকার বেশি লোকসান করার কারণে লভ্যাংশ না দেয়া কোম্পানিটি দর হারিয়েছে ১০.৬৬ শতাংশ। শেয়ারদর ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক
এক বছরে দ্বিগুণ বেড়ে পুঁজিবাজার এখন জিডিপির ২০ শতাংশ
শেয়ার কেনায় তুমুল আগ্রহ, সংশোধন শেষের আভাস

শেয়ার করুন

দরপতনের হারে পুঁজিবাজারে ভীতি

দরপতনের হারে পুঁজিবাজারে ভীতি

৯ কর্মদিবসের মধ্যে ৮ দিন পতন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা এখন পরিণত হচ্ছে ভয়ে।

১০ শতাংশের বেশি ২টির, ৯ শতাংশের বেশি ৭টির, ৮ শতাংশের বেশি ৫টির, ৭ শতাংশের বেশি ৯টির, ৬ শতাংশের বেশি ২০টির, ৫ শতাংশের বেশি ২৪টির, ৪ শতাংশের বেশি ২৯টির, ৩ শতাংশের বেশি দর কমেছে ৪২টি কোম্পানির।

সাত কর্মদিবস টানা পতনের পর এক দিন বিরতি শেষে আবার বড় পতন। এর মধ্যে লোকসানি, স্বল্প মূলধনি, লভ্যাংশ বা প্রান্তিক খারাপ এসেছে, এমন কোম্পানির পতনের হার বিনিয়োগকারীদের ভেতরে ভয় জাগিয়েছে।

লোকসানের কারণে লভ্যাংশ আসেনি, এমন দুটি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। লভ্যাংশ আশানুরূপ হয়নি, লোকসানি বা দুর্বল আর্থিক ভিত্তির ৭টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ৯ শতাংশের বেশি। ৮ শতাংশের বেশি কমেছে আরও ৫টি কোম্পানির শেয়ার দর।

৯টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে ৭ শতাংশের বেশি, ২০টির শেয়ার দর কমেছে ৬ শতাংশের বেশি, ২৪টি কোম্পানির কমেছে ৫ শতাংশের বেশি, ২৯টির দর কমেছে ৪ শতাংশের বেশি, ৪২টির দর কমেছে ৩ শতাংশের বেশি।

সব মিলিয়ে দর হারিয়েছে ২৯২টি কোম্পানি, বেড়েছে কেবল ৫৭টি কোম্পানির দর। ২৬টির দর ছিল অপরিবর্তিত।

টানা সাত কর্মদিবসে সূচক ৩৪৭ পয়েন্ট কমার পর বৃহস্পতিবার ৫৫ পয়েন্টের উত্থানেও পুঁজিবাজারে যে অস্বস্তি রয়ে গিয়েছিল, তার প্রমাণ দেখা গেল পরের দিনেই।

রোববার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের লেনদেনের শুরুটা গত ১২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বরাবরের মতোই উত্থান দিয়েই হয়েছিল। বেলা ১১টা ৪ মিনিট পর্যন্ত সূচক বাড়ে ৬২ পয়েন্ট। কিন্তু এরপর থেকে শুরু হয় টানা পতন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭০ পয়েন্ট পতন দিয়ে শেষ হয় লেনদেন। দিনের সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ১৩২ পয়েন্ট।

দরপতনের হারে পুঁজিবাজারে ভীতি
রোববার ডিএসইতে দিনের সর্বোচ্চ থেকে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ছিল ১৩২ পয়েন্ট

লেনদেন শেষ হওয়ার একেবারে আগমুহূর্তে তা ৭ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে গেলেও সমন্বয়ে শেষ হয় ৭ হাজার ৫ পয়েন্টে। গত ৫ সেপ্টেম্বর সূচক এক দশকের মধ্যে প্রথমারের মতো ৭ হাজার পয়েন্ট ছাড়ানোর পর এটিই সর্বনিম্ন অবস্থান।

জুনে অর্থবছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ খুব খারাপ আসছে এমন নয়। বরং এখন পর্যন্ত যেসব লভ্যাংশ এসেছে, তার মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানির লভ্যাংশ এসেছে অভাবনীয়, হতাশ করেছে এমন কোম্পানির সংখ্যা খুব বেশি এমন নয়।

তার পরেও এভাবে টানা পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়েছে। টানা পতনের পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্টদের বৈঠকে নেয়া বেশ কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্তও বাজার টেনে তুলতে না পারার কারণ কী, তা নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ।

৭০ পয়েন্ট পতনের দিন কেবল বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইউনাইটেড পাওয়ারের শেয়ার দর বাড়ার কারণে সূচক বেড়েছে ২৭.৬৯ পয়েন্ট।

দরপতনের হারে পুঁজিবাজারে ভীতি
এই ১০টি কোম্পানির দর বৃদ্ধির কারণে সূচকে যোগ হয়েছে ২৯ পয়েন্টেরও বেশি

বিএসআরএম লিমিটেড, ওরিয়ন ফার্মা, এনআরবিসি, রেনাটা, বিএসআরএম স্টিল, আরএকে সিরামিক, স্কয়ার টেক্সটাইল ও ম্যারিকো মিলিয়ে সূচক বাড়িয়েছে আরও ১১.৬৬ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচকে যোগ করেছে ২৯.৩৫ পয়েন্ট।

অন্যদিকে ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচক কমেছে মোট ৫৩.২ পয়েন্ট। কোম্পানিগুলো হলো গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, রবি, ওয়ালটন, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, আইসিবি, বিকন ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা ও হাইডেলবার্গ সিমেন্ট।

দরপতনের হারে পুঁজিবাজারে ভীতি
সূচক যত পড়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই হারিয়েছে এই ১০টি কোম্পানির দরপতনের কারণে

নিস্তার নেই কোনো খাতেই

এমন কোনো খাত নেই, যে খাতের শেয়ারদর ঢালাও কমেনি। এর ভিড়েও সবচেয়ে বাজে দিন গেছে বস্ত্র ও আর্থিক খাত।

এর মধ্যে বস্ত্র খাতে ৪৮টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ৫৩টির, বেড়েছে কেবল তিনটির, আর দর ধরে রাখতে পেরেছে দুইটি। লেনদেন হয়েছে ৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ৮০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

অন্যদিকে আর্থিক খাতে দর বেড়েছে একটির, কমেছে ২১টির দর। লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

বস্ত্র খাতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শেয়ারে ২ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করা স্কয়ার টেক্সটাইল। শেয়ার দর ৪৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫১ টাকা ৯০ পয়সা। বেড়েছে ৪.২১ শতাংশ।

মিথুন নিটিং কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ১.৪০ শতাংশ। এছাড়া তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল মিলসের শেয়ার দর বেড়েছে ১.৩৬ শতাংশ।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে রিংসাইন টেক্সটাইলের, ৯.০৮ শতাংশ।

দেশ গার্মেন্টর্সের শেয়ার দর কমেছে ৮.২১ শতাংশ। শেয়ারে ২০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণার পর অনালিমা ইয়ার্নের শেয়ার দর কমেছে ৮.০১ শতাংশ।

এই খাতে ৫ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার দর পতন হয়েছে ২০টি কোম্পানির।

আর্থিক খাতে একমাত্র কোম্পানি হিসেবে আইডিএলসির শেয়ারদর বেড়েছে। শেয়ার দর ৬৩ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৪ টাকা ১০ পয়সা।

সবচেয়ে বেশি দর হারানো ফাস ফাইন্যান্স এই খাতের কোম্পানি। গত বৃহস্পতিবার তার শেয়ারদারীদের জন্য ২০২০ সালের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ওই বছরে ১০ টাকার শেয়ারে কোম্পানিটি লোকসান দিয়েছে ১৪ টাকা।

মূল্যসীমা না থাকার দিন শেয়ারদর কমেছে ১০.৬৬ শতাংশ। ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

দরপতনের হারে পুঁজিবাজারে ভীতি
রোববার শত কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে কেবল ৫টি খাতে

প্রিমিয়ার লিজিংয়ের শেয়ার দর ৭.২০ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দর কমেছে ৬.৭৫ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতে ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৩৬টি। বেড়েছে ৫টির দর আর দর ধরে রাখতে পেরেছে একটি। লেনদেন হয়েছে ৭১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা।

এই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল ইউনাইটেড পাওয়ারের, যার দর বেড়েছে ৪.০০৩ শতাংশ।

এ ছাড়া সিভিও পেট্রাক্যামিকেলের দর ১.৫৪ শতাংশ, বিডিওয়েল্ডিংয়ের দর ০.৫৩ শতাংশ বেড়েছে।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি ৬.৫৯ শতাংশ দর হারিয়েছে লুব রেফ। অ্যাসোসিয়েট অক্সিজেনের দর কমেছে ৬.৪০ শতাংশ। ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টের দর কমেছে ৪.৯৫ শতাংশ।

লেনদেন বাড়লেও দরপতন হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতেও। এই খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে একটির লেনদেন স্থগিত। বাকিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে কেবল ৬টির, কমেছে ২৪টির দর। লেনদেন হয়েছে ২৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ১৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এই খাতে সবচেয়ে বেশি ৪.৪৩ শতাংশ বেড়েছে ওরিয়ন ফার্মার দর। এছাড়া ইন্দোফার্মার দর ৩.৬৮ শতাংশ, জেএমআই সিরিঞ্জের দর ২.০৫ শতাংশ, মেরিকোর দর ০.৩১ শতাংশ বেড়েছে।

অন্যদিকে এই খাতের সবচেয়ে বেশি ৯.৯৬ শতাংশ দর হারিয়েছে অ্যাকটিভ ফাইন কেমিক্যালসের শেয়ারদর।

এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেকের দর ৮.৮৯ শতাংশ, ফার কেমিক্যালের দর ৬.৯২ শতাংশ কমেছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১টি কোম্পানির দর বৃ্দ্ধির বিপরীতে কমেছে ১০টির দর। লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ৪২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ৩৬টির মধ্যে ২টির দাম বেড়েছে ১০ পয়সা করে। ২৪টির কম কমেছে ১০ থেকে ২০ পয়সা করে আর বাকি ১০টি দর ধরে রাখতে পেরেছে।

এই খাতে হাতবদল হয়েছে কেবল ১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা, আগের দিন যা ছিল ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ২০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে তিনটির, কমেছে ১৬টির, আর দর ধরে রাখতে পেরেছে একটি। এই খাতে লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ৫৮ কোটি ১০ লাখ টাকা।

গত মাসের শেষ হঠাৎ তুমুল আগ্রহ তৈরি হওয়া সিমেন্ট খাতে লেনদেন আরও কমেছে। এই খাতের ৭টি কোম্পানির মধ্যে ২টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৫টির দর। লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। আগের কর্মদিবসে লেনদেন ছিল ৫৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।

গতি মন্থর ব্যাংক বিমায়ও

ব্যাংকে খাতের শেয়ারের দর উত্থান পতনে এখন খুব বেশি আকর্ষণ নেই। যে পরিমাণ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ে তার চেয়ে দিগুণ শেয়ারের দর কমে। বিশেষ আলোচনায় থাকা বিমা খাতের শেয়ারেও একই অবস্থা।

ফলে মৌল ভিত্তিক খ্যাত ব্যাংকের শেয়ারে নতুন করে বিনিয়োগ আগ্রহ না থাকায় দর বৃদ্ধিতেও নজরে আসছে না বিনিয়োগকারীদের।

রোববার ব্যাংক খাতের মাত্র সাতটি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ২০টি কোম্পানির।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিটি ছিল এনআরবিসি ব্যাংকের ৪.০৪ শতাংশ। পূবালী ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ১.১৮ শতাংশ। উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে দশমিক ৭৯ পয়সা।

দর পতন হওয়া কোম্পানির তালিকায় ছিল আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, যার শেয়ার দর ৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৭.২৭ শতাংশ কমে হয়েছে ৫ টাকা ১০ পয়সা।

দরপতনের হারে পুঁজিবাজারে ভীতি
প্রধান সব খাতেই দরপতনে লেনদেনও নেমেছে তলানিতে

এছাড়া ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারদর ৩.৪২, সিটি ব্যাংকের ৩.১৮, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংকের ৩.১৪ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে ১৬৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ১৭৫ কোটি টাকা।

ব্যাংকের মতো একই অবস্থা বিমা শেয়ারের। রোববার লেনদেনে মাত্র ১৪টি বিমা কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে ৩৪টি কোম্পানির শেয়ার দর।

সবচেয়ে বেশি ৩.২২ শতাংশ বেড়েছে প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর। ৩.১৩ শতাংশ বেড়েছে ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর। ক্রিস্টাল ও জনতা ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ২.৪১ শতাংশ।

দর পতনের শীর্ষে ছিল প্রাইম লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এছাড়া ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর কমেছে ৩.৫২ শতাংশ।

বিবিধি খাত উঠালো বেক্সিমকো

শেয়ারধারীদের ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার কার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে নতুন আকৃর্ষণ তৈরি করেছে বিবিধ খাতের কোম্পানির বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোট কোম্পানির (বেক্সিমকো)। রোববার বেক্সিমকো একক কোম্পানি হিসেবে বিবিধ খাতকে সামনের সারিতে নিয়ে এসেছে।

এখাতের মোট লেনদেনে হয়েছে ৩৫৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। এককভাবে বেক্সিমকোর লেনদেন হয়েছে ৩৪২ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এদিন কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে ৭.৪৯ শতাংশ।

আগের কর্মদিবসে এই খাতে লেনদেন ছিল ২৮৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা

বিবিধ খাতের দর বৃদ্ধি ছিল চারটি কোম্পানি। বেক্সিমকো ছাড়া বাকিগুলো হলো বার্জার বাংলাদেশ, সাভার রিফেক্টরিস ও ন্যাশনাল ফিড মিলস।

দর পতনের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিল এ খাতের এরামিট, জিকিউ বলপেন।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭০ দশমিক ৫২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫ দশমিক ৭০ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ৩০ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৭৮ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১ দশমিক ০১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৯৮ দশমিক ৩১ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৩১০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
বিডি ফুড: ইপিএস না বাড়লে লভ্যাংশ পাবেন না উদ্যোক্তারা
লভ্যাংশের নামে প্রতারণা, মামলা হচ্ছে সুহৃদ পরিচালকদের নামে
দ্বিগুণ কোম্পানির দরপতনেও বাড়ল সূচক
এক বছরে দ্বিগুণ বেড়ে পুঁজিবাজার এখন জিডিপির ২০ শতাংশ
শেয়ার কেনায় তুমুল আগ্রহ, সংশোধন শেষের আভাস

শেয়ার করুন