‘দুশ্চরিত্রাহীন’ বলায় মামলা: নুরের অপরাধের প্রমাণ পায়নি পিবিআই

‘দুশ্চরিত্রাহীন’ বলায় মামলা: নুরের অপরাধের প্রমাণ পায়নি পিবিআই

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। ফাইল ছবি

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাদীকে উদ্দেশ করে নুরের করা মন্তব্য দুশ্চরিত্রাহীন শব্দের বিষয়ে বাংলা একাডেমির মতামত নেয়া হয়। বাংলা একাডেমির জানায়, দুশ্চরিত্রাহীন বলে কোনো শব্দ বাংলা ভাষায় নেই। এছাড়া দুশ্চরিত্রাহীন শব্দটির অর্থ করা হলে দাঁড়ায়, উন্নত চরিত্রের অধিকারী বা সদাচারী বা সৎ স্বভাব বিশিষ্ট।

ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে করা দুই মামলার পর এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নুরের বিরুদ্ধে ওই মামলাটি করেন।

রোববার আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক ফরিদা পারভীন। আগামী ১৩ অক্টোবর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে প্রতিবেদনের বিষয়ে শুনানি হবে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামীম আল মামুন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাদীকে উদ্দেশ করে নুরের করা মন্তব্য দুশ্চরিত্রাহীন শব্দের বিষয়ে বাংলা একাডেমির মতামত নেয়া হয়। বাংলা একাডেমির জানায়, দুশ্চরিত্রাহীন বলে কোনো শব্দ বাংলা ভাষায় নেই। এছাড়া দুশ্চরিত্রাহীন শব্দটির অর্থ করা হলে দাঁড়ায়, উন্নত চরিত্রের অধিকারী বা সদাচারী বা সৎ স্বভাব বিশিষ্ট।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভিপি নুরের ফেসবুক আইডি ডিজিটাল ফরেনসিক টিমের মাধ্যমে পরীক্ষা করে মতামত নেয়া হয়। এতে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর বাদীকে উদ্দেশ করে ‘ছি! আমরা ধিক্কার জানাই এত নাটক যে করছে সে দুশ্চরিত্রাহীন। ধর্ষণের নাটক করছে। স্বেচ্ছায় একটি ছেলের সাথে বিছানায় গিয়ে...’ এমন কোনো বক্তব্য তার ফেসবুকে পাওয়া যায়নি। তাই নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২০১৮ এর ২৫ (১)ক, ২৯(১) ৩১(২) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।’

২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর আদালতে নুরের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, নুরুল হক নুর ১২ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বাদীকে ‘দুশ্চরিত্রহীন’ বলেন। ভিডিওতে বাদীর জন্য অপমানজনক, মানহানিকর এবং আক্রমণাত্মক তথ্য প্রকাশ করেন নুর, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একই শিক্ষার্থী নুর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে রাজধানীর কোতোয়ালী ও লালবাগ থানায় ধর্ষণের মামলা দুটি করেছিলেন। ওই দুই মামলায়ও নুরের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ নিয়ে নুরের ‘ফতোয়া’: প্রতিবেদন ৬ জুন
আবার পেছাল নুরদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন
ক্ষমা না চাইলে গণমাধ্যম থেকে নুরকে বয়কটের আহ্বান
নুরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান বিজেসির
নুরের বিরুদ্ধে এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা

কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর চলে ভাঙচুর। ফাইল ছবি

নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে টানা অনুসন্ধান চালিয়েছে নিউজবাংলা। পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত বুধবার ভোরে কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে চলে ব্যাপক ভাঙচুর, আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশকিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।

যেখান থেকে সাম্প্রদায়িক এই সহিংসতার শুরু সেই নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে টানা অনুসন্ধান চালিয়েছে নিউজবাংলা। পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনায় সরাসরি যুক্ত অন্তত তিনজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মণ্ডপে যিনি ভোররাতের দিকে কোরআন শরিফ রেখেছেন, তাকেও চিহ্নিত করা গেছে। মণ্ডপটিতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকলেও আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে মূল অভিযুক্তের ছবি। যেকোনো সময়ে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আশাবাদী পুলিশ কর্মকর্তারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কুমিল্লায় সহিংসতার মূল অভিযুক্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা যে ঘটিয়েছে সে বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে, স্থান পরিবর্তন করছে। আমরা তাকে ধরব। কেন এই কাজ করেছে, তার জবাব দিতে হবে। আপনাদের জানাব।’

আরও পড়ুন: কুমিল্লার মূল অভিযুক্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপটিতে বুধবার ভোরে কোরআন শরিফ পাওয়ার আগের কয়েক ঘণ্টায় কী ঘটেছিল, তার একটি সময়ক্রম (টাইমলাইন) তৈরি করেছে নিউজবাংলা। মন্দিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা
নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে রাখা হনুমানের মূর্তির গদা সরিয়ে রাখা হয় পবিত্র কোরআন শরিফ। বাঁয়ের ছবিটি মঙ্গলবারের, ডানেরটি বুধবার সকালের

রাত আড়াইটা থেকে ভোর সাড়ে ৬টার মধ্যে স্থানীয় এক ব্যক্তি কোরআন শরিফটি রেখে যান মণ্ডপে। এ সময় হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন তিনি। গদা হাতে তার চলে যাওয়ার দৃশ্যও ধরা পড়েছে ওই এলাকারই কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার ঘটনায় কয়েকজন চিহ্নিত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আগের রাতে কখন কী হয়েছিল মণ্ডপে

বেশ কয়েক বছর ধরে নানুয়ার দিঘির পাড়ের এই অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন শিমুল গোস্বামী ও তার ভগ্নিপতি রাজিব চক্রবর্তী। রাত ১০টায় পূজা শেষে বাসায় ফেরেন শিমুল ও রাজিব। তখনও ভক্ত-দর্শনার্থীর ভিড় ছিল। শিমুল গোস্বামী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাসায় ফিরে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে যাই। কারণ সকালেই আবার পূজা শুরু করতে হয়।’

পরদিন কখন মণ্ডপে গিয়েছিলেন, জানতে চাইলে শিমুল নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘তিথি অনুসারে বুধবার সকাল ৮টায় পূজা শুরু হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী আমি ও আমার ভগ্নিপতি রাজিব চক্রবর্তী সকালে ঘুম থেকে উঠে মণ্ডপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখনই জানতে পারি মণ্ডপে গন্ডগোল চলছে। তাই আর বাসা থেকে আর বের হইনি।’

আরও পড়ুন: কুমিল্লার ঘটনায় অপশক্তি, কাউকে ছাড় নয়: কাদের

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, মণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার সময় সেখানে পুরোহিত উপস্থিত ছিলেন। তারা কোরআন সরাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে এ অভিযোগ নাকচ করে শিমুল গোস্বামী বলেন, তারা হাঙ্গামার খবর পেয়ে সেদিন সকালে মণ্ডপেই যাননি। এলাকাবাসী ও মণ্ডপসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেও এর সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে নিউজবাংলা।

নানুয়া দিঘির পাড়ে এই পূজা উদযাপন হয় দর্পণ সংঘের ব্যানারে। পূজা কমিটির সভাপতি সুবোধ রায় কর্মকার নিউজবাংলাকে জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় তিনি নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মণ্ডপে আসেন। কিছুক্ষণ সেখানে অবস্থান করে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে নগরীর কান্দিরপাড়ে যান। রাত সাড়ে ১২টায় আড্ডা শেষে বাসায় ফেরার পথে সুবোধ আবার মণ্ডপের পাশে দাঁড়ান। তখন ভক্ত-দর্শনার্থী বেশ কম ছিল। এরপর বাসায় এসে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে যান। সকালে মানুষজনের চিৎকার শুনে উঠে গিয়ে দেখেন মণ্ডপজুড়ে মানুষের ভিড়।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার ঘটনার তদন্ত হচ্ছে, বিশৃঙ্খলা না করার আহ্বান

পূজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন দিঘির পাড়ের বাসিন্দা তরুণ কান্তি মোদক। স্থানীয়রা তাকে মিথুন নামে চেনেন। মিথুন নিউজবাংলাকে জানান, রাত আড়াইটা পর্যন্ত তিনি মণ্ডপে ছিলেন। তখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। এরপর তিনি নৈশপ্রহরী শাহিনের কাছে মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বাসায় ফেরেন।

মিথুন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত আড়াইটা থেকে ভোর পর্যন্ত কী হইছে, তা ভালো বলতে পারবে নৈশপ্রহরী শাহিন। সে এখন পুলিশের হেফাজতে আছে।’

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মঙ্গলবার রাত আড়াইটা থেকে পরের চার ঘণ্টায় মণ্ডপ ছিল জনশূন্য। সে সময় এর পাহারায় ছিলেন মো. শাহিন মিয়া।

নৈশপ্রহরী শাহিনকে নিয়োগ দেয়া হয় আগের বৃহস্পতিবার থেকে। মণ্ডপে তখন থেকেই প্রতিমা ছিল।

শাহিন অ্যালার্ট সিকিউরিটিজ অ্যান্ড অ্যাটেনডেন্ট সার্ভিসেস নামের নিরাপত্তাসেবা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ৪৫ বছর বয়স্ক শাহিনের বাসা নগরীর সংরাইশ এলাকায়।

অ্যালার্ট সিকিউরিটিজ অ্যান্ড অ্যাটেনডেন্ট সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপক শাহাজাদা ইকরাম রিপন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বছর দুয়েক আগে শাহিন আমাদের কোম্পানিতে চাকরি নেয়। পরে আবার চাকরি ছেড়ে দেয়। তবে মাস দেড়েক আগে সে আবার আমাদের কোম্পানিতে যোগ দেয়। মাঝে সে কোথায় ছিল আমরা জানি না।’

শাহিন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির মিছিল মিটিংয়ে দেখা যেত তাকে। এর বেশি কিছু আমি জানি না।’

কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা
কুমিল্লা নগরীর সেই মণ্ডপ পরিদর্শনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

পূজামণ্ডপের পাশেই পরিবার নিয়ে থাকেন মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, রাত প্রায় ৩টার দিকে হঠাৎ দমকা বাতাস বইতে থাকে। এ সময় বিদ্যুৎ চলে যায়। এর পরেই নানুয়ার দিঘির পাড় এলাকা নিস্তব্ধ হয়ে যায়। পরে সকালে তিনি মানুষের শোরগোল শুনতে পান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরপরই সেখানে একটি পুলিশের গাড়ি গিয়েছিল। পুলিশ কয়েক যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়। গাড়িটি এর পরপরই ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম নিউজবাংলাকে জানান, তাদের একটি টহল দল মণ্ডপ এলাকায় গিয়েছিল, তবে সেটি রাত ২টার দিকে। নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবেই দলটি সেখানে যায়। তবে তখন সন্দেহজনক কিছু দেখা যায়নি।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নানুয়ার দিঘির পাড়ে পূজা দিতে আসা দুজন নারী ভক্ত প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান। এ নিয়ে তারা বিস্ময় প্রকাশের সময় ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ইকরাম হোসেন (৩০) নামে একজন।

ইকরাম নগরীর কাশারিপট্টির রিকশাচালক বিল্লাল হোসেনের ছেলে। ইকরাম বিবাহিত হলেও স্ত্রীর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। মাদকাসক্ত হওয়ায় তিনি পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন। ইকরাম পাইপ মিস্ত্রির কাজ করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মণ্ডপে কোরআন রাখায় যে চক্রটি জড়িত, ইকরাম তাদের একজন। তিনিই বুধবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে ৯৯৯-এ কল করেন। তারপর ওসি আনওয়ারুল আজিম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি কোরআন শরিফটি উদ্ধারের পাশাপাশি ইকরামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যান।

নগরীর বজ্রপুরে পরিবার নিয়ে থাকেন চিনু রানী দাশ। নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূর্ব পাড়ের একটি বাসায় তিনি গৃহকর্মীর কাজ করেন। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মণ্ডপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখতে পান দুই নারী মণ্ডপে কোরআন শরিফ দেখে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন।

চিনু রানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ সময় এক ছেলে ছুটে এসে চিৎকার করে বলে, হনুমানের পায়ের কাছে কোরআন, কেউ এখানে থাকবেন না। আর যে কোরআন এখান থেকে সরিয়ে নেবে তার হাত কেটে ফেলা হবে।’

এ কথা শুনে ভয় পেয়ে যান চিনু। তিনি বলেন, ‘আমি একটু সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে ঘটনা দেখছিলাম। ছেলেটা কাকে যেন ফোন দিয়ে কোরআনের বিষয়টা জানায়। এর কিছুক্ষণ পর সিএনজি দিয়ে একজন লোক আসে। সে এসে কোরআন শরিফটিকে বুকের মধ্যে নেয়।’

সিএনজি অটোরিকশায় আসা ওই ব্যক্তিই হলেন ওসি আনওয়ারুল আজিম। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনওয়ারুল আজিম। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে একটা সিএনজিতে করে দ্রুত মণ্ডপে আসি।’

পুলিশের গাড়ির পরিবর্তে অটোরিকশা বেছে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছি। তখন থানার গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন না। তাই দেরি না করেই সিএনজি নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পবিত্র কোরআন শরিফটি আমার হেফাজতে নেই।’

পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ করার শর্তে জানান, ইকরাম রাতে নেশা করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন ওই রাতে ৩ পিস ইয়াবা সেবন করেন। পরে মণ্ডপের পাশে অবস্থান নেন। মণ্ডপে কোরআন রাখেন একজন। আর ইকরামের দায়িত্ব ছিল, ভোরে বিষয়টি পুলিশকে জানানোর। সে অনুযায়ী তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন।

ওসি আনওয়ারুল আজিম মণ্ডপ থেকে কোরআন উদ্ধারের সময় সেটি ফেসবুকে লাইভ করেন ফয়েজ নামের এক যুবক। সেই লাইভের পরেই উত্তেজিত মানুষ জড়ো হন ঘটনাস্থলে, শুরু হয় সহিংসতা। এই ফয়েজকেও আটক করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ফেসবুক লাইভে উত্তেজনা ছড়ানো ফয়েজ আটক

স্পর্শকাতর ইস্যুতে ফয়েজ ফেসবুক লাইভের সুযোগ কীভাবে পেলেন, জানতে চাইলে ওসি আনওয়ারুল আজিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি তখন মোবাইল ফোনে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাতে ব্যস্ত ছিলাম। এ সময় ৩০-৪০ জন ঘটনাস্থলে ছিল, তাই কে লাইভ করছে খেয়াল করতে পারিনি।’

কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা
কুমিল্লার সেই আলোচিত ফেসবুক লাইভ। ডানে লাইভ করা ব্যক্তি ফয়েজ আহমেদ। ছবি: নিউজবাংলা

লাইভে আপনি নিজেকে কোতোয়ালির ওসি হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন- এমন তথ্য তুলে ধরলে তিনি বলেন, ‘তখন আমি বুঝতে পারিনি লাইভ হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: ফেসবুকে লাইভ করা সেই ফয়েজ কে?

মাজারের কোরআন শরিফ মণ্ডপে?

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে জানান, তাদের ধারণা দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপ থেকে যে কোরআন শরিফটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি আনা হয় পাশের একটি মাজার থেকে।

নানুয়া দিঘির পাশেই শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারটির অবস্থান, মণ্ডপ থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। দারোগাবাড়ী মাজার নামে কুমিল্লাবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি রয়েছে মাজারটির। এর বারান্দায় দর্শনার্থীদের তিলওয়াতের জন্য রাখা থাকে বেশ কয়েকটি কোরআন শরিফ। রাত-দিন যেকোনো সময় যে কেউ এখানে এসে তিলওয়াত করতে পারেন।

আরও পড়ুন:‘সরকারকে বিপদগ্রস্ত করতে পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা হয়েছে’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওই কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, মণ্ডপে রাখার জন্য এই মাজার থেকেই নিয়ে যাওয়া হয় একটি কোরআন শরিফ।

মাজারের পাশে পূজায় আপত্তি?

দারোগাবাড়ী মাজারের মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন এমন তিনজনকে ঘটনার পর থেকে দেখা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একজনের নাম হুমায়ুন কবীর (২৫), আরেকজনের বিষয়ে নিউজবাংলা তথ্য পেলেও তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দারোগাবাড়ী মাজারের খাদেম আহামুদ্দুন্নাবী মাসুক নিউজবাংলাকে জানান, হুমায়ুন মাজারে এসে নামাজ আদায় করতেন। তার বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার দেওরা এলাকায়। ঘটনার পরদিনই তাকে পুলিশ নিয়ে যায়। এ ছাড়া মাজারে আরও দুই-একজন নামাজ আদায় করতেন। তাদের এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাজারে নিয়মিত যাওয়া ওই তিন যুবকই মণ্ডপে কোরআন রাখার পরিকল্পনায় জড়িত। তাদের মধ্যে দুজনকে আমরা আটক করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনেক তথ্য দিয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজেও ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছি।

‘তবে তৃতীয় যুবককে আটক করতে পারলে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। কারণ তিনিই সরাসরি মণ্ডপে কোরআন রেখেছিলেন। তাকে ধরতে আমাদের অভিযান চলছে।’

কেন এমন পরিকল্পনা, জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, মাজারের কাছে পূজার বিষয়টি ওই চক্রটি পছন্দ করছিল না। সে জন্যই পরিকল্পনাটি করা হয়। তবে এর পেছনে আরও বড় কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটি তদন্ত শেষে বলা যাবে।’

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ নিয়ে নুরের ‘ফতোয়া’: প্রতিবেদন ৬ জুন
আবার পেছাল নুরদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন
ক্ষমা না চাইলে গণমাধ্যম থেকে নুরকে বয়কটের আহ্বান
নুরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান বিজেসির
নুরের বিরুদ্ধে এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

শেয়ার করুন

২৬ জেলায় বাড়তি সতর্কতা জারি

২৬ জেলায় বাড়তি সতর্কতা জারি

কুমিল্লার ঘটনার পর সড়কে টহল দিতে দেখা যায় বিজিবি সদস্যদের। ছবি: নিউজবাংলা

উত্তরাঞ্চলের একটি জেলার পুলিশ সুপার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সামনে ঈদে মিল্লাদুন্নবী, লক্ষ্মীপূজা, বৌদ্ধদের আরেকটা উৎসব রয়েছে। সেগুলোতে যেন এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

দেশের ২৬ জেলার পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। কুমিল্লার ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় যে সহিংসতা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য নানা ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং ঈদে মিল্লাদুন্নবী, সনাতন ধর্মাবলম্বীদে লক্ষ্মী পূজা ও বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমাকে সামনে রেখে এই বাড়তি সতর্কতার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের কর্মকর্তারা।

আগামী ১০ দিন এ বাড়তি সতর্কতা থাকবে। এ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে ধাপে ধাপে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি কমিয়ে আনা হবে। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে না হলে সতর্কতার মেয়াদ আরও বাড়বে।

থানা এলাকায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রামে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে কথা বলা হয়েছে। এই কাজে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

যেসব জেলাতে সতর্ক করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রংপুর বিভাগের সাতটি জেলা রয়েছে। এগুলো হলো পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী। রাজশাহী বিভাগের রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা। খুলনা বিভাগের জেলা রয়েছে পাঁচটি। এগুলো হলো: বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুরা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ।

যে জেলা থেকে ঝামেলার শুরু, সেই কুমিল্লা ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী ও কক্সবাজার। ঢাকা বিভাগে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের একটি জেলার পুলিশ সুপার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সামনে ঈদে মিল্লাদুন্নবী, লক্ষ্মীপূজা, বৌদ্ধদের আরেকটা উৎসব রয়েছে। সেগুলোতে যেন এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

কুমিল্লার ঘটনার পর থেকেই সব ইউনিটকে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে নানা নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে বলে জানান, ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে শুরু থেকেই আমাদের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সভা করার জন্য, নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়, এমন কিছু যেন না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। অনলাইনে মনিটরিং বাড়াতে বলা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রত্যেক থানায় টহল বাড়ানো হয়েছে। বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কথা বলব।

‘এর আগে আমরা বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতন বন্ধে কথা বলতাম। এখন এই বিষয়টা সামনে রাখা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে জেলা প্রশাসন মিলে ধর্মীয় নেতা, ইমামদের ডেকেছিলাম। বলেছি, তারা যেন প্রতি ওয়াক্ত নামজের পরে বা আগে, জুমার নামাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলে।

‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ হচ্ছে ইসলাম। এ বিষয়ে হাদিসগুলো মানুষকে বলার অনুরোধ করা হয়েছে।’

নতুন কোনো নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনার পরপরই আমরা অনেকগুলো নির্দেশনা পেয়েছি। সে অনুযায়ী আমাদের কাজ চলছে। সেজন্য আমাদের থানার পেট্রোল সজাগ আছে, গোয়েন্দারা কাজ করছে।’

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ কেন্দ্রিক অপ্রীতিকর ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭১টি মামলা হয়েছে। আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সারা দেশে ইতোমধ্যে ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্দির ও বাড়িঘর ভাঙচুর এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৭১টি মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।

মঙ্গলবার র‍্যাব সদরদপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আজ পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপে কোনো কিছু ঘটেনি। কিন্তু এবার দেখছি অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। আসলে ঘটানো হয়েছে। কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে কিছু উগ্র মানুষ হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করেছে। সেখানে পুলিশকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হয়েছে। সেখানে চার জন মারা গেছেন। আজ আরেকজন মেডিক্যালে মারা গেছেন।

‘কেন এই হত্যাকাণ্ড, কেন এই মৃত্যু? কার উদ্দেশ্য সফল হওয়ার জন্য এই মৃত্যু? আমরা দেখলাম এক অল্প বয়সী ছেলে ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়েছে। সেটা কেন্দ্র করে সহিংসতা। আমাদের পুলিশবাহিনী তার বাড়ি ঘর রক্ষায় সর্বত চেষ্টা করেছে। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ইতোমধ্যে তার পাশের গ্রামে অগ্নিসংযোগ লুটপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। এটার আমরা নিন্দা জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ নিয়ে নুরের ‘ফতোয়া’: প্রতিবেদন ৬ জুন
আবার পেছাল নুরদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন
ক্ষমা না চাইলে গণমাধ্যম থেকে নুরকে বয়কটের আহ্বান
নুরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান বিজেসির
নুরের বিরুদ্ধে এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

শেয়ার করুন

শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

শোবার ঘরে আগুন: ভাইয়ের পর বোনের মৃত্যু

অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত দুই ভাইবোন। ছবি: নিউজবাংলা

শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল ইসলাম জানান, খাদিজা ও আয়েশাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানেই মঙ্গলবার রাতে চার বছর বয়সী আয়েশার মৃত্যু হয়। তার মা এখনও সেখানে চিকিৎসাধীন।

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে তিনতলা একটি ভবনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ভাইয়ের পর বোনেরও মৃত্যু হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে মারা যায় আয়েশা।

শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শ্রীনগর উপজেলার কুকুটিয়া ইউনিয়নের পূর্ব মুন্সীয়া গ্রামে সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনতলা একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় শোবার ঘরে আগুন লাগে। ধোঁয়া দেখে ও চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা ভেঙে খাদিজা আক্তার মিম ও তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। চিকিৎসক এক বছর বয়সী আয়াতকে মৃত ঘোষণা করেন।

খাদিজা ও আয়েশাকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানেই মঙ্গলবার রাতে চার বছর বয়সী আয়েশার মৃত্যু হয়। তার মা এখনও সেখানে চিকিৎসাধীন।

পরিদর্শক কামরুল ইসলাম জানান, মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ নিয়ে নুরের ‘ফতোয়া’: প্রতিবেদন ৬ জুন
আবার পেছাল নুরদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন
ক্ষমা না চাইলে গণমাধ্যম থেকে নুরকে বয়কটের আহ্বান
নুরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান বিজেসির
নুরের বিরুদ্ধে এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

শেয়ার করুন

গাঁজা-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ‘কারবারি’ কারাগারে

গাঁজা-হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ‘কারবারি’ কারাগারে

গাঁজা ও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার রতন মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

কোতোয়ালি থানাধীন ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব রহমান জানান, রতন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত। নিজে সেবনের পাশাপাশি তিনি গাঁজা ও হেরোইন বিক্রি করেন।

ময়মনসিংহ সদরে মাদকসহ গ্রেপ্তার এক কারবারিকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

ময়মনসিংহ মূখ্য বিচারিক হাকিমের ১ নম্বর আমলি আদালতে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তোলা হলে বিচারক আব্দুল হাই তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

যাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তার নাম রতন মিয়া। ৫০ বছর বয়সী রতনের বাড়ি মালগুদাম রেলওয়ে কলোনি এলাকায়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক প্রসূন কান্তি দাস।

তিনি জানান, আদালতে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড চাইলে, বিচারক আগামী বৃহস্পতিবার শুনানির দিন নির্ধারণ করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কোতোয়ালি থানাধীন ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব রহমান জানান, রতন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত। নিজে সেবনের পাশাপাশি তিনি গাঁজা ও হেরোইন বিক্রি করেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১টার দিকে রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে জব্দ হয় ১৪ কেজি গাঁজা ও ২০ গ্রাম হেরোইন। পরে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে, বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ নিয়ে নুরের ‘ফতোয়া’: প্রতিবেদন ৬ জুন
আবার পেছাল নুরদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন
ক্ষমা না চাইলে গণমাধ্যম থেকে নুরকে বয়কটের আহ্বান
নুরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান বিজেসির
নুরের বিরুদ্ধে এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

শেয়ার করুন

ভুয়া তথ্য: বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের টুইটার বন্ধ

ভুয়া তথ্য: বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের টুইটার বন্ধ

নিজেদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মুখপাত্র দাবি করা বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের টুইটার অ্যাকাউন্ট চালু করা হয় চলতি বছর জানুয়ারিতে। টুইটার অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি আর কোনো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ‘বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিল’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ।

ওই টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন ধরনের ভুয়া তথ্য, ছবি ও ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ পায় টুইটার।

নিজেদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মুখপাত্র দাবি করা বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের টুইটার অ্যাকাউন্ট চালু করা হয় চলতি বছর জানুয়ারিতে।

টুইটার অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি আর কোনো প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

ওই অ্যাকাউন্ট থেকে গত কিছু দিন ধরে ক্রমাগত বিভিন্ন মন্দিরে হামলা চালানোর ছবি ও তথ্য শেয়ার করা হচ্ছিল।

সংগঠনটির টুইটারে চলতি বছরে সব মিলিয়ে ৩৮৬টি টুইট করা হয়েছে।

অ্যাকাউন্টটির ফেরিফায়েড টুইটারে ২৭ হাজার ফলোয়ার ছিল।

বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্য সংঘ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় কাজ করে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।

কুমিল্লায় দুর্গাপূজার সময় এক মণ্ডপে কোরআন রাখার অভিযোগে হামলা চালিয়ে মণ্ডপ ও প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়। এরপর দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনাতে বাংলাদেশ হিন্দু কাউন্সিল অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া তথ্য ও ছবি ছড়ানোর অভিযোগ পায় টুইটার।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ নিয়ে নুরের ‘ফতোয়া’: প্রতিবেদন ৬ জুন
আবার পেছাল নুরদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন
ক্ষমা না চাইলে গণমাধ্যম থেকে নুরকে বয়কটের আহ্বান
নুরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান বিজেসির
নুরের বিরুদ্ধে এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

শেয়ার করুন

‘পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে সরকার বদ্ধপরিকর’

‘পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে সরকার বদ্ধপরিকর’

পীরগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহনশীলতা, শান্তি ও বহুত্ববাদের মনোভাব সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কিত করা এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার আরও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে হামলাসহ অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে সরকার বদ্ধপরিকর। সব ধরনের ‘মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে’ দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে এ নিয়ে নতুন করে জটিলতা বা ভুল-বোঝাবুঝি এড়ানো যেতে পারে বলে সরকার মনে করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে এখনেও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। মানুষ যখন আনন্দের মেজাজে দুর্গাপূজা উদযাপন করছিল, তখন দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মীয় স্থান এবং মূর্তিগুলোয় হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সেসব ঘটনার নিন্দা জানায় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ভেতরে ও বাইরে থেকে প্রতিক্রিয়াগুলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখে।

ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে, বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) দেশের ২২টি জেলায় মোতায়েন করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নিজেই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে আইন প্রয়োগকারী এবং তদন্তকারী সংস্থার কাছে উপলব্ধ প্রযুক্তিগত উপায় অবলম্বন করা। তিনি সব ধরনের উসকানিতে সংযম বজায় রাখতে এবং ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি সবাইকে যে কোন মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারের জ্যেষ্ঠ নেতারা বেশ কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা এবং ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এসব ঘটনায় ৭১টি মামলা হয়েছে। কুমিল্লায় হামলার পেছনের কথিত মাস্টারমাইন্ডকে এরই মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, কিছু নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল কিছু সন্দেহজনক রাজনৈতিক মাইলেজ অর্জনের জন্য এই ধরনের হামলা চালাচ্ছে। এটা দুঃখজনক যে, ৫০ বছর পরও বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী স্থানীয় উপাদানগুলো এখনও সহিংসতা, বিদ্বেষ ও গোঁড়ামিকে উসকে দিতে তাদের বিষাক্ত বর্ণনা প্রচার করছে।

তারা দেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসবকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক এবং বহুত্ববাদী প্রশংসাপত্রকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রশংসা করে যথাযথ চিত্তে উৎসব শেষ করার জন্য এবং সাধারণ জনগণের একাত্মতা প্রদর্শনকে স্বাগত জানায়।

এই প্রেক্ষাপটে সরকার পুনর্ব্যক্ত করতে চায় যে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভিত্তি। বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন ধর্ম, জাতি এবং ধর্মের মানুষ এই ভূখণ্ডে শান্তি ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সহনশীলতা এবং অন্তর্ভুক্তির প্রতি আমাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার সাংবিধানিক বিধান দ্বারা সুরক্ষিত। যদিও দেশের সর্বোচ্চ আইন তার সব নাগরিককে যে কোন প্রকার বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়, দেশের গণতান্ত্রিক শাসন নাগরিকদের ধর্ম, বিশ্বাস ও জাতিসত্তা নির্বিশেষে তাদের মৌলিক অধিকার ভোগ নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে যে, প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে।

বাংলাদেশ সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে সব ধর্মের প্রধান ধর্মীয় উৎসব সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালন করা হয়। সরকার বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে তাদের কল্যাণের জন্য বিশেষ ট্রাস্ট ফান্ড স্থাপন করেও সহায়তা করছে। এই বছর দুর্গাপূজায় প্রধানমন্ত্রী হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টকে তিন কোটি ৩০ লাখ টাকা দিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহনশীলতা, শান্তি ও বহুত্ববাদের মনোভাব সমুন্নত রাখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কিত করা এবং দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার আরও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ নিয়ে নুরের ‘ফতোয়া’: প্রতিবেদন ৬ জুন
আবার পেছাল নুরদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন
ক্ষমা না চাইলে গণমাধ্যম থেকে নুরকে বয়কটের আহ্বান
নুরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান বিজেসির
নুরের বিরুদ্ধে এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় ‘বিএনপি নেতা’

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলা কালীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি সদস্যের তালিকায় আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম। ছবি: নিউজবাংলা

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

কুড়িগ্রামর নাগেশ্বরী উপজেলায় তৃতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির এক সদস্য।

এটি বাতিলের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর আবেদন করেছেন তালিকায় থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তি।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, আফতারুজ্জামান বাবুল ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় সদস্য। তবে বাবুলের দাবি, সব অভিযোগ মিথ্যা।

নেতা-কর্মী জানান, গত ১৭ অক্টোবর উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে সভা হয়।

এতে তৃণমূলের রায়ে ১৪ ভোট পেয়ে আফতারুজ্জামান বাবুল প্রথম হন। ১২ ভোট পেয়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু দ্বিতীয় ও ৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন নুর ইসলাম মিয়া।

এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ‘এর জন্য দায়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব। এটি কোনোভাবে মেনে নেয়ার মতো না।

‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরোক্ষ ইশারায় বিএনপির সক্রিয় সদস্য আওয়ামী লীগের মনোনয়নে স্থান পেয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। আমরা ওই তালিকা থেকে আফতারুজ্জামান বাবুলের নাম বাদ দেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহসভাপতি জুলফিকার আলী সর্দার বাবু বলেন, ‘বাবুল কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ১৪ নম্বর সদস্য। বিষয়টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ভালো করেই জানে। তারা সেদিন বর্ধিত সভায় চুপ থেকে তাকে প্রার্থী বাছাইয়ে অংশ নায়ের সুযোগ করে দিয়েছে।

‘সেদিন হাউসের অনেককে ম্যানেজ করে বিতর্কিত ওই ব্যক্তি তৃণমূলর রায় তার পক্ষ নেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর প্রতিবাদে আমি ওই তালিকা থেকে বাবুলর নাম কেটে পরীক্ষিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নাম দেয়ার জন্য ১৮ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগ বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।’

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আফজালুল হক খোকা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বাবুল বিএনপির সদস্য হয়ে থাকলে তার নাম আওয়ামী লীগে কীভাবে এসেছে, সেটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আগের সভাপতি ও সম্পাদক ভালো জানেন।

‘আমরা এর জন্য দায়ী নই। বর্তমানে তার নাম ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে আছে। আর এ কারণেই তিনি দলীয় প্রার্থী হতে চেষ্টা চালিয়েছেন।’

আফতারুজ্জামান বাবুল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি জীবনে কোনো দিন বিএনপি করিনি। বিএনপির তালিকায় কীভাবে নাম গেল, সেটা আমার জানা নেই। ছাত্রলীগের মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ২০১৭ সালে আমি আওয়ামী লীগের গ্রাম কমিটির সদস্য হই। ২০১৮ সালে আমি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত হই।’

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আছলাম হোসেন সওদাগর বলেন, ‘আফতারুজ্জামান বাবুলকে আমি আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবেই চিনি। তিনি ছাত্রলীগ করেছে। ২০০২ সালে তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর ছিল।’

আরও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ নিয়ে নুরের ‘ফতোয়া’: প্রতিবেদন ৬ জুন
আবার পেছাল নুরদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার প্রতিবেদন
ক্ষমা না চাইলে গণমাধ্যম থেকে নুরকে বয়কটের আহ্বান
নুরকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান বিজেসির
নুরের বিরুদ্ধে এবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

শেয়ার করুন