মাদকের ১০ হাজার মামলা ৮ মাসে

মাদকের ১০ হাজার মামলা ৮ মাসে

রাজধানীতে উদ্ধার করা মাদকের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপির তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ডিএমপির অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ মাদক মামলায় মোট ১৩ হাজার ৯৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৯ হাজার ৮২১টি মামলা হয়েছে।

মাদকের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে রাজধানীতে। চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে ঢাকার বিভিন্ন থানায় মাদকের মামলা হয়েছে প্রায় ১০ হাজার। আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৪ হাজার।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার ফারুক হোসেন রোববার বিকেলে এ তথ্য জানান।

ডিএমপির তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ডিএমপির অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ মাদক মামলায় মোট ১৩ হাজার ৯৪২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৯ হাজার ৮২১টি মামলা হয়েছে।

ডিএমপির মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ নতুন ধরণের মাদক আইস (ক্রিস্টাল মেথ বা ডি মেথ) ও এলএসডি উদ্ধার হয়েছে। আইস জব্দ করা হয় ৭২৭ গ্রাম। এলএসডি পাওয়া গেছে ২ দশমিক ১২ গ্রাম ও ৪০ পিস।

এছাড়াও উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩১ লাখ ৬৭ হাজার ৭২৩ পিস ইয়াবা, পাঁচ হাজার ৮৯৮ কেজি ৬৩ গ্রাম গাঁজা, ৬১ কেজি ৬৬০ গ্রাম হেরোইন, ১০ কেজি আফিম, ৪৪ হাজার ৪২৬ ক্যান বিয়ার, ৪০ হাজার ৫৫৪ বোতল ফেনসিডিল, ১৩ হাজার ৭৪৬ এ্যাম্পুল নেশাজাতীয় ইনজেকশন, তিন হাজার ৭৪৬ বোতল ও ৫৯ দশমিক ৪০ লিটার বিদেশি মদ।

একই সময়ে ছয় হাজার ৭১৮ লিটার দেশি মদ, ১০ হাজার ৫২১ লিটার চোলাই মদ, আট হাজার ১৭১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, চার পাউন্ড সাপের বিষ, তিন হাজার ৩০০ পিস সিন্ডা ট্যাবলেট, ২৫ কৌটা ড্যান্ডি ও ২২ কেজি সিসা সহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
যুবকের ঘরে মিলল দুই কেজি আইস

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রেনু হত্যা মামলায় সাক্ষ্য শুরু

রেনু হত্যা মামলায় সাক্ষ্য শুরু

গৃহবধূ তাসলিমা বেগম রেনু। ফাইল ছবি

উত্তর বাড্ডায় ২০১৯ সালের ২০ জুলাই ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে আহত করে বিক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানের ভর্তির ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে মর্মান্তিক এ ঘটনার শিকার হন রেনু।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গৃহবধূ তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় সাক্ষ্য নেয়া শুরু হয়েছে।

ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফাতিমা ইমরোজ ক্ষনিকার আদালতে মামলার বিচার কাজ চলছে।

সেখানে রোববার সাক্ষ্য দেন নিহতের দুই ভাগ্নে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু ও অনিকুর রহমান। সুরতহাল প্রস্তুতকারী বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক গোলাম মোস্তফাও এদিন সাক্ষ্য দেন।

তাদের সাক্ষ্য নেয়া শেষে আদালত আগামি বছরের ১১ জানুয়ারী মামলার পরবর্তী তারিখ ঠিক করেন।

মামলার বাদী নাসির উদ্দিন টিটু বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

সাক্ষ্য নেয়ার সময় রোববার ১৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গত ১ এপ্রিল চার্জগঠন করেন একই আদালত।

আসামিরা হলেন- ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় মোল্লা, রিয়া বেগম ময়না, আবুল কালাম আজাদ, কামাল হোসেন, মো. শাহিন, বাচ্চু মিয়া, মো. বাপ্পি ওরফে শহিদুল ইসলাম, মুরাদ মিয়া, সোহেল রানা, আসাদুল ইসলাম, বেল্লাল মোল্লা, মো. রাজু ওরফে রুম্মান হোসেন ও মহিউদ্দিন।

জাফর হোসেন পাটোয়ারী ও ওয়াসিম আহমেদ নামে দুজন আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার শিশু আদালতে হচ্ছে।

২০১৯ সালের ২০ জুলাই রাজধানীর বাড্ডার একটি স্কুলে সন্তানের ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত হন তাসলিমা বেগম রেনু। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ৫০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন রেনুর ভাগ্নে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু।

গত বছর ১০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ইন্সপেক্টর আব্দুল হক ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক দুইজনের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দাখিল করেন।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
যুবকের ঘরে মিলল দুই কেজি আইস

শেয়ার করুন

সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পক্ষে ডিএমপি কমিশনার

সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর পক্ষে ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ফাইল ছবি

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ঢাকা মহানগর যেহেতু দেশের রাজধানী, তাই এখানে যেন এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমাদের আরও বেশি তৎপর থাকতে হবে। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।’

দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাম্প্রদায়িক হামলার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, ‘ঢাকা মহানগর যেহেতু দেশের রাজধানী, তাই এখানে যেন এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমাদের আরও বেশি তৎপর থাকতে হবে। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।’

রোববার ডিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রতিবাদে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বী নয়, সকল সম্প্রদায়ের লোকজন অংশগ্রহণ করছে। জোনাল ডিসিরাও সেই প্রতিবাদ সমাবেশে যোগদান করে একাত্মতা ঘোষণা করে বলবে ‘আমরাও আপনাদের পাশে আছি’।”

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ইতোমধ্যে ঢাকার বড় বড় পূজামণ্ডপ ও উপাসনালয়ে পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যেকোন প্রয়োজনে আমরা সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি।’

তিনি বলেন, ‘থানায় কেউ জিডি বা পুলিশি সহায়তা নিতে আসলে টাকা দাবি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডিএমপির কোনো সদস্য দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।

‘আমরা সকলে একটি টিম, একটি পরিবার। কেউ ভালো কাজ করলে সবাই প্রশংসিত হবে আর খারাপ কাজ করলে সকলে আমাদের ভৎর্সনা করবে। আমাদের জানমাল বাজি রেখে এ শহরের সম্মানিত নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

এর আগে সেপ্টেম্বরে অস্ত্র, মাদক, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় স্বীকৃতি হিসেবে ডিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।

যারা পুরস্কার পেলেন

সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপির আটটি ক্রাইম বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে মিরপুর বিভাগ ও শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে পল্লবী থানা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্রাইম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন লালবাগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইলিয়াছ হোসেন (চকবাজার জোন)।

পুলিশ পরিদর্শকদের প্রথম হয়েছেন বংশাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মীর রেজাউল ইসলাম এবং মুগদা থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) আশীষ কুমার দেব।

যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ এসআই যৌথভাবে নির্বাচিত হয়েছেন খিলক্ষেত থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ ও মিরপুর মডেল থানার এসআই সারোয়ার জাহান।

যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত হয়েছেন মতিঝিল থানার এএসআই হেলাল উদ্দিন ও চকবাজার মডেল থানার এএসআই রুহুল আমিন।

শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হয়েছেন খিলক্ষেত থানার এসআই আবুল কালাম আজাদ।

অস্ত্র উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) শিহাব উদ্দিন। বিস্ফোরক উদ্ধার করে প্রথম হয়েছেন লালবাগ বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার ইলিয়াছ হোসেন (চকবাজার জোন)।

মাদক উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন মুগদা থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) আশীষ কুমার দেব।

নয়টি গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন গুলশান জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মাহবুবুল হক সজীব।

চোরাই গাড়ি উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন মিরপুর জোনাল টিমের এডিসি সাইফুল ইসলাম। অস্ত্র উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার গুলশান জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মাহবুবুল হক সজীব। মাদকদ্র্রব্য উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার মিরপুর জোনাল টিমের এডিসি সাইফুল ইসলাম।

জঙ্গি গ্রেপ্তারে শ্রেষ্ঠ টিমের সম্মান অর্জন করেছেন অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের এডিসি আব্দুল্লাহ আল মামুন। অজ্ঞান ও মলম পার্টি গ্রেপ্তারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার ধানমন্ডি জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফজলে এলাহী।

আটটি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে ট্রাফিক লালবাগ বিভাগ। শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার হয়েছেন কোতোয়ালী ট্রাফিক জোনের বিমান কুমার দাস। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হয়েছেন ওয়ারী ট্রাফিক জোনের টিআই গোলাম মাওলা কবির।

যৌথভাবে শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট হয়েছেন রামপুরা ট্রাফিক জোনের মুহিবুল্লাহ এবং মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট আব্দুল কাদের।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
যুবকের ঘরে মিলল দুই কেজি আইস

শেয়ার করুন

ডিসেম্বরের মধ্যে ড্যাপ গেজেট: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ডিসেম্বরের মধ্যে ড্যাপ গেজেট: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে ড্যাপ চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আশাবাদী, কারণ এর মধ্যে আমরা অনেক কাজ করে ফেলেছি। দাপ্তরিক অনেক কাজও শেষ হয়েছে। খসড়াও করা হয়েছে। জেনেশুনেই এই সময় দেয়া হয়েছে।’

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রাজধানী ঢাকার ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেছেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে ড্যাপ চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আশাবাদী, কারণ এর মধ্যে আমরা অনেক কাজ করে ফেলেছি। দাপ্তরিক অনেক কাজও শেষ হয়েছে। খসড়াও করা হয়েছে। জেনেশুনেই এই সময় দেয়া হয়েছে।’

রোববার সচিবালয়ে ড্যাপ প্রণয়ন বিষয়ক এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী ১৩ নভেম্বর একটি জাতীয় কর্মশালা হবে। এরপর দাপ্তরিক কাজ শেষ করে ড্যাপের গেজেট প্রকাশ করব। ইন্ডাস্ট্রি করার জন্য অনেকে সমস্যা মোকাবিলা করছে। কোনটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা আর কোনটা আবাসিক এলাকা সেটি সার্টিফাইড না হওয়ায় কিছু কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি। গেজেট হওয়ার পর এসব চ্যালেঞ্জ আর থাকবে না।’

ড্যাপ প্রণয়নের জন্য ঢাকার সীমানা বাড়ানোরও কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

রাজধানীকে বাসযোগ্য করতে ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) প্রণয়ন করছে সরকার। এরই মধ্যে এর একটি খসড়াও করা হয়েছে। খসড়ায় রাজধানীর প্রায় ৯৪ হাজার ৫৮ দশমিক ৪২ হেক্টর জমি নগর এলাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর মধ্যে আবাসিক এলাকা হিসেবে ১৯ হাজার ৪৫৭ দশমিক ৬৭ একর, আবাসিক প্রধান মিশ্র ব্যবহার এলাকা এক লাখ ২৩ হাজার ৯৩১ দশমিক নয় একর আর আবাসিক-বাণিজ্যিক মিশ্র ব্যবহার এলাকা হিসেবে এক হাজার ৭৭৮ দশমিক ৯৩ একরকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডিসেম্বরের মধ্যে ড্যাপ গেজেট: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
রোববার সচিবালয়ে ড্যাপ প্রণয়ন বিষয়ক এক সভায় বক্তব্য রাখছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

খসড়া ড্যাপে ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আটটি নিয়ামককে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

এগুলো হলো, বন্যা ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, মুখ্য জনস্রোত এলাকা, সাধারণ জনস্রোত এলাকা, সাধারণ বন্যা অববাহিকা, দুর্যোগ, ভূ-তাত্ত্বিক ও ভূ-কম্পন সংক্রান্ত, বিশেষ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই।

ড্যাপ প্রণয়নের পর কোনো জটিলতা দেখা দিলে কী হবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে এরিয়া নির্ধারণ করা হবে। যদি কোথাও পরিবর্তন বা সামঞ্জস্য করার প্রয়োজন হয় নীতিমালার ভিত্তিতে ধারাবাহিকভাবে সেটি করা হবে।’

এসময় রাজধানীর সব জায়গায় হোল্ডিং ট্যাক্স ও অন্যান্য বিল সমান হওয়া উচিত নয় বলেও মত দেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘হোল্ডিং ট্যাক্স সব জায়গায় সমান হবে কেন? গুলশানে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের দাম বেশি হবে। কারণ সেখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বেশি। যেসব এলাকায় নাগরিক সুবিধা বেশি সেখানে বাড়তি কর নিয়ে অন্য জায়গার উন্নয়ন করা যাবে।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং নারায়ণঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
যুবকের ঘরে মিলল দুই কেজি আইস

শেয়ার করুন

জামিন নাকচ, রুমা সরকার কারাগারে

জামিন নাকচ, রুমা সরকার কারাগারে

বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের ফটক। ছবি: সংগৃহীত

রুমা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোয়াখালীর যতন সাহার হত্যা শিরোনামে একটি অন্য ঘটনার ভিডিও আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপপ্রয়াস চালান; যা বিভ্রান্তিমূলক। প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি গত ১৬ মে ঢাকার পল্লবী থানার ডি-ব্লকের শাহিন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভুয়া’ ভিডিও ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুমা সরকারের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরী এ আদেশ দেন।

রুমা সরকারের পক্ষে আইনজীবী লিটন কুমার সাহা ও সুব্রত বিশ্বাস এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে আইনজীবী আব্দুর রশীদ জামিন আবেদন করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, ‘আসামি রুমা ছাত্রলীগের রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন। তার বাবা ও দাদা বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি কোনো মন্দির, মসজিদ বা কোথাও হামলা করেন নাই, তাই তাকে জামিন দেয়া হোক, তিনি একজন সরকারি চাকরিজীবী তাকে জামিন দিলে তিনি পলাতক হবেন না।’

গত ২১ অক্টোবর রুমা সরকারকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

এর আগে ১৯ অক্টোবর রাজধানীর বেইলি রোডের বাসা থেকে রুমা সরকারকে আটক করে র‌্যাব-৩।

জামিন নাকচ, রুমা সরকার কারাগারে

দেবীগঞ্জে হিন্দুবাড়িতে আগুন (বাঁয়ে) ও বেগমগঞ্জে যতন সাহার ওপর হামলার ভিডিও দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয় ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাব তার বিরুদ্ধে রমনা থানায় মামলা করে।

রুমা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোয়াখালীর যতন সাহার হত্যা শিরোনামে একটি অন্য ঘটনার ভিডিও আপলোড করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের হয়ে গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপপ্রয়াস চালান; যা বিভ্রান্তিমূলক। প্রকৃতপক্ষে ভিডিওটি গত ১৬ মে ঢাকার পল্লবী থানার ডি-ব্লকের শাহিন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার।

এ সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২১-কেন্দ্রিক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা ঘটানো হচ্ছিল। দেশের এই সময়ে এ ধরনের স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে রুমা সরকার গত ১৯ অক্টোবর বেলা ২টা ৩৫ মিনিট থেকে ২টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত ফেসবুক লাইভে আসেন।

সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি ভুল করে যতন সাহার মৃত্যুর দৃশ্য দেখে ফেলেছিলাম। গরুর মাংস যেভাবে কুপিয়ে বানায়, আহা হিন্দুদের প্রতি তোর এত ক্ষোভ। তোরা অমানুষ, হত্যার পর এই ভাবে কুপালী ক্যান?’

দেশের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে নাজুক পরিস্থিতিতে তার লাইভ ভিডিওটি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভয়ভীতি ছড়াতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
যুবকের ঘরে মিলল দুই কেজি আইস

শেয়ার করুন

বিজয় সরণিতে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর

বিজয় সরণিতে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারীর

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ। ফাইল ছবি

নিহতের চাচা মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, ‘বশির একটি কাজে তেজগাঁও এলাকায় যায়। বিজয় সরণি এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় ওই বাস তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন প্রথমে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান, পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যালে নিলে মৃত ঘোষণা করা হয়।’

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিজয় সরণি এলাকায় বিকাশ পরিবহন নামের বাসের ধাক্কায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম বশির আহম্মেদ। বাসের ধাক্কায় আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক বেলা পৌনে ২টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা মোহাম্মদ আবু জাফর বলেন, ‘বশির একটি কাজে তেজগাঁও এলাকায় যায়। বিজয় সরণি এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় ওই বাস তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন প্রথমে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যান, পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যালে নিলে মৃত ঘোষণা করা হয়।’

বশির আহম্মেদ হাসেম পারটেক্স গ্রুপে চাকরি করতেন। তার বাড়ি মাগুরা সদর পাথরা গ্রামে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বরের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

দুর্ঘটনার পর বাসটি জব্দ করেছে পুলিশ।

ঢাকা মেডিক্যাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘বশির আহম্মেদের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তেজগাঁও থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
যুবকের ঘরে মিলল দুই কেজি আইস

শেয়ার করুন

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিতে পিয়ন, অটোচালক

শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিতে পিয়ন, অটোচালক

ডাকাতি, চাঁদাবাজির ঘটনায় র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার কয়েকজন।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘১২ অক্টোবর শ্যামলীতে একটি মোটরসাইকেলের শো-রুমে ঢুকে ম্যানেজার ওয়াদুদ সজীব এবং টেকনিশিয়ান নুরনবী হাসানকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় ডাকাত দলের কিছু সদস্য শো-রুমের দোতলায় উঠে গ্লাস, কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং ক্যাশ ড্রয়ার ভেঙে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও একটি কম্পিউটার মনিটর নিয়ে যায়। সে ঘটনায় মামলা হয়।’

মোহাম্মদপুর ও মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান, সাহাদতসহ কয়েকজনের নাম ব্যবহার করে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে দোকানি, ব্যবসায়ী, নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে চাঁদা দাবি করে একটি চক্র। চাঁদার টাকা না পেলে ডাকাতি করে তারা।

চক্রের সদস্যরা কেউ পিয়ন, কেউ পরিচ্ছন্নতা কর্মী, কেউ অটোরিকশার চালক। এ পেশার আড়ালে তারা রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি করে আসছিল।

এর মধ্যে ১২ অক্টোবর রাজধানীর শ্যামলীতে ইডেন অটোস মোটরসাইকেল শো-রুমে ডাকাতি হয়। সে ঘটনার হোতা জহিরুল ইসলাম জহিরসহ ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে শনিবার রাতে কেরানীগঞ্জ ও ধামরাই থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার বক্তিরা হলেন- জহিরুল ইসলাম ওরফে জহির, জসিম উদ্দিন, জাহিদুল ইসলাম শিকদার, খায়রুল ভূঁইয়া, রাকিব হাসান ও মো. নয়ন।

রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, ‘১২ অক্টোবর শ্যামলীতে একটি মোটরসাইকেলের শো-রুমে ঢুকে ম্যানেজার ওয়াদুদ সজীব এবং টেকনিশিয়ান নুরনবী হাসানকে কুপিয়ে আহত করে। এ সময় ডাকাত দলের কিছু সদস্য শো-রুমের দোতলায় উঠে গ্লাস, কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং ক্যাশ ড্রয়ার ভেঙে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও একটি কম্পিউটার মনিটর নিয়ে যায়। সে ঘটনায় মামলা হয়।’

তিনি আরও বলেন, গোয়েন্দা সংবাদে সদর দপ্তর গোয়ন্দা শাখা ও র‌্যাব-২ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এবং ধামরাই এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ওই চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি চাপাতি, শো-রুম থেকে লুট করা ১ লাখ ৯৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যাক্তিরা তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলেও জানায় র‍্যাবের কর্মকর্তা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র‍্যাবের কর্মকর্তা জানান, চক্রটি মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীক। তাদের সদস্য সংখ্যা ৮ থেকে ১০ জন। মোহাম্মদপুর, বসিলা, শ্যামলীসহ আশপাশের এলাকার পুলিশের তালিকায় থাকা সন্ত্রাসীদের নাম করে চাঁদাবাজি করে আসছিল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নামে একাধিক চুরি, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে।

এ ছাড়া তারা এলাকায় মাদক ও চোরাই অটোরিকশার ব্যাবসা, চুরি ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বলে জানায় র‍্যাব।

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
যুবকের ঘরে মিলল দুই কেজি আইস

শেয়ার করুন

জলবায়ু তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ দাবি দেশি গবেষকদের

জলবায়ু তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ দাবি দেশি গবেষকদের

‘কপ-২৬’ উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবনা’ শীর্ষক সভায় দেশি জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

করোনার কারণে ২০২০ সালে কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়ার এবারের সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে রাষ্ট্রগুলোকে একটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিবে হবে বলেও মনে করেন সিপিআরডি-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা।

জলবায়ুজনিত ক্ষতির প্রভাব কমিয়ে আনতে প্রতিশ্রুত অর্থ দিচ্ছে না শিল্পোন্নত দেশগুলো। এ জন্য আসন্ন কপ-২৬ সম্মেলনে জলবায়ু তহবিল বা গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার ডেইলি স্টার সেন্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে ‘সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপম্যান্ট’ (সিপিআরডি) আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এই দাবি করেন।

ইউএনসিসিসি’র ২৬তম জলবায়ু সম্মেলন অর্থাৎ ‘কপ-২৬’ উপলক্ষ্যে ‘বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবনা’ শীর্ষক ওই সভায় কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংগঠন অংশ নেয়।

সভায় অংশ নেয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে সিপিআরডি-এর প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, ‘জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবের জন্য শিল্পোন্নত দেশগুলো দায়ী হলেও এর ক্ষতির শিকার হচ্ছে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো। এ ক্ষতি কমাতে শিল্পোন্নত দেশগুলো গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে প্রতিবছর ১০০ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখছে না। আগামী কপ-২৬ সম্মেলনে এই তহবিলে ১০০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাহ অব্যাহত প্রতিশ্রুতির বাস্তয়নে জোর দিতে হবে।’

ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিল্পোন্নত দেশগুলোতে ২০৩০ সালের মধ্যে এবং উন্নয়নশীল বিশ্বকে ২০৪০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমণ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। কপ-২৬ সম্মেলনেই এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি নিতে হবে।’

শামসুদ্দোহা জানান, করোনার কারণে ২০২০ সালে কপ সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়ার এবারের সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে রাষ্ট্রগুলোকে একটি লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিবে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন ও বন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ধরিত্রী সরকার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় সরকার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা থাকলেও উন্নত বিশ্ব তা প্রাক-শিল্প বিপ্লব সময়ের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে যথাযথ সঠিক এনডিসি ডকুমেন্টই পারে এই বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে।’

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে সরকার, গবেষক, নীতি-নির্ধারক এবং নাগরিক সমাজকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হক বলেন, ‘অসছে সম্মেলনে শিল্পোন্নত দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্তদের পাশ কাটিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে পারে। এ জন্য ক্ষতিগ্রস্থ দেশের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে এই অপচেষ্টাকে মোকাবিলা করতে হবে।’

সিডিপির নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গির হাসান মাসুম বলেন, ‘উন্নত বিশ্ব কার্বন নির্গমণ কমানোর বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন ইস্যুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সামনে নিয়ে আসে। ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলো যদি কার্বন নির্গমন কমানোর উপরই মূল চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতো তাহলে এখন পরিস্থিতি ভিন্ন রকম থাকত।’

আরও পড়ুন:
মাদক মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
যুবকের ঘরে মিলল দুই কেজি আইস

শেয়ার করুন