মুহিবুল্লাহ হত্যা: আটক আরও ১

মুহিবুল্লাহ হত্যা: আটক আরও ১

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ মুহিবুল্লাহ। ছবি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

উখিয়া কুতুপালং ৫ নম্বর ক্যাম্প থেকে রোববার দুপুর ১২টার দিকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এপিবিএন অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় জড়িত সন্দেহে ইলিয়াস নামে আরও একজনকে আটক করেছে এপিবিএন। এর আগে এ হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উখিয়া কুতুপালং ৫ নম্বর ক্যাম্প থেকে রোববার দুপুর ১২টার দিকে তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এপিবিএন অধিনায়ক এসপি নাইমুল হক।

তিনি আরও জানান, আটক হওয়া ইলিয়াসকে উখিয়া থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে কক্সবাজার বিচারিক হাকিম আদালতে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রিমান্ড শুনানি হয়। দুই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন বিচারক তামান্না ফারাহ।

এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে কক্সবাজার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করে উখিয়া থানা পুলিশ।

পরে কক্সবাজার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত-৩-এর বিচারক দেলোয়ার হোসেন শামীম তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কীভাবে এ হত্যা

২৯ সেপ্টেম্বর এশার নামাজ শেষে রাত পৌনে ৯টার দিকে উখিয়া কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিহত হন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গারা জানান, লম্বাশিয়া ক্যাম্প ওয়ান ওয়েস্টে তার বাসার সামনে প্রতিদিনের অফিস করছিলেন। ওই সময় হঠাৎ একদল লোক এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই আসামির ৩ দিনের রিমান্ড
দেশে ফিরতে চাওয়ায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মুহিবুল্লাহ হত্যায় মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা, একজন আটক
মুহিবুল্লাহ হত্যা: অজ্ঞাতদের নামে মামলা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা

পীরগঞ্জে সহিংসতায় আরও এক মামলা

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩টি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ৫৩ জন।

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় আরও একটি মামলা করেছে পুলিশ।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা নতুন মামলায় আসামি করা হয়েছে দুইজনকে।

তারা হলেন আল আমিন ও উজ্জল হাসান। তাদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান।

তিনি বলেন, বুধবার রাতে পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক সুপথ হালদার এই মামলা করেছেন। আসামিদের বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পীরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩টি মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ৫৩ জন।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে দুটি মামলা করেন পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন। এর মধ্যে একটি মামলা হয়েছে হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায়। এতে ৪১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলা একজনকে আসামি করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার আসামি তার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই আসামির ৩ দিনের রিমান্ড
দেশে ফিরতে চাওয়ায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মুহিবুল্লাহ হত্যায় মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা, একজন আটক
মুহিবুল্লাহ হত্যা: অজ্ঞাতদের নামে মামলা

শেয়ার করুন

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেপ্তার ৮০

নোয়াখালীর একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঘটনায় একলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম বুধবার বেলা ৩টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের মো. ইলিয়াস, একলাশপুর ইউনিয়নের মিজানুর রহমান, গনিপুরের নুরনবীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নোয়াখালীর এসপি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের চিহ্নিত করে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করি। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪টি মামলায় ৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই আসামির ৩ দিনের রিমান্ড
দেশে ফিরতে চাওয়ায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মুহিবুল্লাহ হত্যায় মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা, একজন আটক
মুহিবুল্লাহ হত্যা: অজ্ঞাতদের নামে মামলা

শেয়ার করুন

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

ঠান্ডা মাথায় বাবাকে খুন করেছে ছেলে: র‍্যাব

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল।

ঢাকার সাভারে মধ্যরাতে বৃদ্ধ বাবাকে ঠান্ডা মাথায় ছেলে খুন করেছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব। যদিও হত্যার পর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছেলেটি মানসিক ভারসাম্যহীন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এসব জানায় র‍্যাব-৪।

এতে বলা হয়, আশুলিয়ার জিরানী কোণাপাড়ায় মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে ছেলে আফাজ উদ্দিনের বটির আঘাতে নিজ বাড়িতে নূর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি খুন হন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর তার স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানায় আফাজ মানসিক ভারসাম্যহীন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে আফাজকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। মামলাটির ছায়া তদন্তে নামে র‍্যাব।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, আসামির মোটিভ দেখে আমাদের তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়নি। বরং সে ঠান্ডা মাথায় এই হত্যা করেছে। ঘটনার পর সে পালিয়ে গিয়ে বারবার স্থান পরিবর্তন করছিল। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের মিসকিন শাহ রহমত উল্লাহ মাজার থেকে তাকে বুধবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা বটি, লুঙ্গি ও একটি বিছানার চাদর উদ্ধার করা হয়।

তবে র‍্যাবের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নিহত নূর মোহাম্মদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

নিউজবাংলাকে নূর মোহাম্মদের মেয়ে হোসনে আরা বলেন, ‘ জন্ম থেকেই আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ। বাবা ওর দেখভাল করতো, তার সঙ্গেই রাতে ঘুমাতো।’

আফাজের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম বলেন, ‘ আমার স্বামীর মানসিক সমস্যার কারণে আড়াই বছর ধরে সন্তানদের নিয়ে আলাদা ঘরে থাকি। মাঝেমধ্যে আমার শ্বশুর ওর সঙ্গে ঘুমাতো।’

স্বপন মিয়া নামের এক প্রতিবেশী বলেন, ‘আফাজ একেক সময় একেক রকম আচরণ করতো। কখনও ভালো আবার কখনও খারাপ।’

র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আফাজ হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তবে কী কারণে হত্যাকাণ্ড তা এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই আসামির ৩ দিনের রিমান্ড
দেশে ফিরতে চাওয়ায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মুহিবুল্লাহ হত্যায় মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা, একজন আটক
মুহিবুল্লাহ হত্যা: অজ্ঞাতদের নামে মামলা

শেয়ার করুন

পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল

পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল

প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রওনা হন মণ্ডপের দিকে। সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেয়া ছবি।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল গভীর রাতে শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফটি নেন। এই মাজার থেকে মণ্ডপে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। আরেকটি ফুটেজে ইকবালকে মণ্ডপে কোরআন রেখে ফিরে আসতে দেখা যায়।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখায় প্রধান সন্দেহভাজন ইকবাল হোসেন কোরআনটি নিয়েছিলেন মণ্ডপের পাশের এক মাজারের মসজিদ থেকে।

মণ্ডপে সহিংসতার আগের রাতে তিনি কোরআন শরিফটি হাতে নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। এরপর মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ফিরে আসেন ইকবাল। এসব দৃশ্য ধরা পড়েছে ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায়।

প্রধান অভিযুক্ত ইকবালের সহযোগী হিসেবে অন্তত চারজন এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, ইকবাল গ্রেপ্তার হলেই এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে গত ১৩ অক্টোবর কীভাবে উত্তেজনার শুরু এবং মূল মণ্ডপের বাইরে পূজার থিম হিসেবে রাখা হনুমানের মূর্তির ওপর পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে মঙ্গলবার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় মণ্ডপে কোরআন রাখল কারা

পূজার আয়োজক, এলাকাবাসী, তদন্তকারী কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার আগের রাত আড়াইটা পর্যন্ত মন্দিরে পূজাসংশ্লিষ্টদের উপস্থিতি ছিল। এরপর বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দুজন নারী ভক্ত মণ্ডপে এসে হনুমানের মূর্তিতে প্রথম কোরআন শরিফটি দেখতে পান।

নিউজবাংলার হাতে আসা কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল গভীর রাতে কাছের একটি মাজারের মসজিদ থেকে কোরআন শরিফটি নিয়ে মণ্ডপের দিকে রওনা হন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সময়টি তখন রাত ২টা ১০ মিনিট।

নানুয়ার দিঘির পাশেই শাহ আবদুল্লাহ গাজীপুরি (রা.)-এর মাজারটির অবস্থান। মণ্ডপ থেকে হেঁটে যেতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ মিনিট। দারোগাবাড়ী মাজার নামে কুমিল্লাবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে পরিচিতি রয়েছে মাজারটির। এর মসজিদের বারান্দায় তিলাওয়াতের জন্য রাখা থাকে বেশ কয়েকটি কোরআন শরিফ। রাত-দিন যেকোনো সময় যে কেউ এখানে এসে তিলাওয়াত করতে পারেন।

পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
মণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার পর হনুমানের গদা হাতে হেঁটে যাওয়া ইকবাল

আরেকটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, মণ্ডপে হনুমানের মূর্তির ওপর কোরআন রেখে ইকবাল ফিরে আসছেন। কোরআন রাখার সময় তিনি হনুমানের হাতের গদাটি সরিয়ে নেন। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সময়টি তখন রাত সোয়া ৩টার মতো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিউজবাংলাকে জানিয়েছে, দারোগাবাড়ী মাজারের মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করতে যাওয়া ইকবালসহ তিনজন ঘটনায় সরাসরি জড়িত।

তাদের মধ্যে হুমায়ুন কবীরসহ (২৫) দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর তাদের পেছনে আরও কেউ আছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে জানতে বুধবার রাতে দারোগাবাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম ইয়াছিন নূরীকে ফোন করা হলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি৷ তবে সিসিটিভি ফুটেজ দেখিনি।’

মসজিদের বারান্দায় পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই মাজারে এসে কোরআন শরিফ দিয়ে যান। এসব কোরআন শরিফে মসজিদের ভেতরের সেলফ পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই কিছু কোরআন শরিফ বারান্দায় রাখা হয়েছিল। তাছাড়া, বারান্দায় রাখলে যেকোনো সময় যে কারও জন্য তিলাওয়াতেরও সুবিধা হয়।

‘আমরা তো বুঝতে পারিনি কেউ এখান থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে গিয়ে এমন কাজ করবে। আগামীতে আমরা সতর্ক থাকব। মসজিদের বারান্দার আর কোরআন শরিফ রাখব না।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, মণ্ডপে কোরআন রাখা চক্রের আরেক সদস্য ৩০ বছরের ইকরাম হোসেন। তিনিই ১৩ অক্টোবর ভোরে ঘটনাস্থল থেকে ৯৯৯-এ কল করেন। তারপর ওসি আনওয়ারুল আজিম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি কোরআন শরিফটি উদ্ধারের পাশাপাশি ইকরামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যান।

পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
নানুয়ার দিঘির পাড়ের মণ্ডপে রাখা হনুমানের মূর্তির গদা সরিয়ে রাখা হয় পবিত্র কোরআন শরিফ। বাঁয়ের ছবিটি মঙ্গলবারের, ডানেরটি বুধবার সকালের

পুলিশের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইকবালের পাশাপাশি ইকরামও রাতে নেশা করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ওই রাতে ৩ পিস ইয়াবা সেবন করেন। পরে মণ্ডপের পাশে অবস্থান নেন। মণ্ডপে কোরআন রাখেন ইকবাল। আর ইকরামের দায়িত্ব ছিল ভোরে বিষয়টি পুলিশকে জানানোর। সে অনুযায়ী তিনি ৯৯৯-এ ফোন করেন।

ওসি আনওয়ারুল আজিম মণ্ডপ থেকে কোরআন উদ্ধারের সময় সেটি ফেসবুকে লাইভ করেন ফয়েজ নামের এক যুবক। সেই লাইভের পরেই উত্তেজিত মানুষ জড়ো হন ঘটনাস্থলে, শুরু হয় সহিংসতা। এই ফয়েজকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রধান অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী ইকবাল কুমিল্লা নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের দ্বিতীয় মুরাদপুর-লস্করপুকুর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। নূর আলম পেশায় মাছ ব্যবসায়ী।

ইকবালের মা আমেনা বেগম নিউজবাংলাকে জানান, তার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ইকবাল সবার বড়।

পাশের মসজিদ থেকে কোরআন এনে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল
প্রধান অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন

তিনি জানান, ইকবাল ১৫ বছর বয়স থেকেই নেশা করা শুরু করেন। ১০ বছর আগে তিনি জেলার বরুড়া উপজেলায় বিয়ে করেন। ওই ঘরে তার এক ছেলে রয়েছে। পাঁচ বছর আগে ইকবালের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তারপর ইকবাল চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়া বাজার এলাকার কাদৈর গ্রামে আরেকটি বিয়ে করেন। এই সংসারে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

আমেনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইকবাল নেশা করে পরিবারের সদস্যদের ওপর অত্যাচার করত। বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটেও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াত।’

ইকবাল মাজারে মাজারে থাকতে ভালোবাসতেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সে বিভিন্ন সময় আখাউড়া মাজারে যেত। কুমিল্লার বিভিন্ন মাজারেও তার যাতায়াত ছিল।’

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়ে বুধবার রাতে প্রশ্ন করা হলে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সব ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য অনুসন্ধান করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই আসামির ৩ দিনের রিমান্ড
দেশে ফিরতে চাওয়ায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মুহিবুল্লাহ হত্যায় মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা, একজন আটক
মুহিবুল্লাহ হত্যা: অজ্ঞাতদের নামে মামলা

শেয়ার করুন

‘টোয়েন্টিফোর টিকিট নিয়ে অন্ধকারে ছিলেন পরিচালক সোহেল’

‘টোয়েন্টিফোর টিকিট নিয়ে অন্ধকারে ছিলেন পরিচালক সোহেল’

টোয়েন্টিফোর টিকিট ডটকমের পরিচালক মিজানুর রহমান সোহেল।

সোহেলের স্ত্রী সুমাইয়া শিমু নিউজবাংলার কাছে দাবি করেন, গ্রাহকদের সঙ্গে কোম্পানিটির কোটি কোটি টাকা লেনদেন হলেও এর কোনো হিসাব পাচ্ছিলেন না তার স্বামী। এ বিষয়ে দফায় দফায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ফাইন্যান্স ডিরেক্টরের কাছে তথ্য চেয়েও কাজ হয়নি।

বিমানের টিকিট বিক্রির নামে প্রতারণা করে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে অনলাইন এজেন্সি টোয়েন্টিফোর টিকিট ডটকমের বিরুদ্ধে দুটি মামলার পর গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের দুই পরিচালক মিজানুর রহমান সোহেল এবং রাকিবুল হাসান।

সিআইডির রিমান্ড শেষে দুজনই এখন কারাগারে। তবে সোহেলের পরিবারের দাবি, তিনি কোনো অনিয়মে জড়িত নন, বরং কয়েক মাস আগে তিনি প্রতিষ্ঠানের বাকি চার পরিচালকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেছিলেন।

পাঁচজনের মালিকানায় ২০১৯ সালের জুলাইয়ে অনলাইনে বিমানের টিকিট বিক্রির প্রতিষ্ঠান টোয়েন্টিফোর টিকিট লিমিটেডের যাত্রা শুরু হয়। ২০ ভাগ শেয়ার নিয়ে পাঁচজনের মধ্যে এক পরিচালক হিসেবে ছিলেন মিজানুর রহমান সোহেল।

সোহেলের স্ত্রী সুমাইয়া শিমু নিউজবাংলার কাছে দাবি করেন, গ্রাহকদের সঙ্গে কোম্পানিটির কোটি কোটি টাকা লেনদেন হলেও এর কোনো হিসাব পাচ্ছিলেন না তার স্বামী। এ বিষয়ে দফায় দফায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ফাইন্যান্স ডিরেক্টরের কাছে তথ্য চেয়েও কাজ হয়নি।

এরপর গত ১০ মে মহাখালী নিউ ডিওএইচএসে টোয়েন্টিফোর টিকিট লিমিটেডের অফিসে যান সোহেল। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা, ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুর রাজ্জাক ও রাজ্জাকের বন্ধু ফাইন্যান্স ডিরেক্টর আসাদুল ইসলাম হিসাব না দিয়ে সোহেলকে উল্টো ভয়ভীতি দেখান।

এই প্রতিষ্ঠানে সিইও হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন পাঁচ পরিচালকের আরেকজন প্রদ্যোত বরণ চৌধুরী। তিনি গত বছরের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন।

শিমু জানান, হিসাব চাইতে গিয়ে হুমকি পাওয়া সোহেল ১৯ মে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর গত ১ জুন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ১৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তিনি চার পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটির তদন্ত করছে পিবিআই।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সংকট শুরু হয়, বাড়তে থাকে গ্রাহকের দেনার পরিমাণ। এ অবস্থায় গত ৩ অক্টোবর টোয়েন্টিফোর টিকিট ডটকমের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন একজন গ্রাহক।

এ মামলায় ৫ সেপ্টেম্বর টোয়েন্টিফোর টিকিটের পরিচালক রাকিবুল হাসানকে চুয়াডাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। মামলা তদন্ত করতে গিয়ে অর্থ পাচারের তথ্য পায় তারা। কাফরুল থানায় পরে অর্থ পাচারের অভিযোগে আরেকটি মামলা করে সিআইডি। এ মামলায় প্রতিষ্ঠানের মালিকদের একজন হিসেবে ১০ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয় মিজানুর রহমান সোহেলকে।

সোহেলের স্ত্রী শিমুর অভিযোগ, তার স্বামী প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কোনো হিসাব পাচ্ছিলেন না। এমডি রাজ্জাক, তার বোন চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা, রাজ্জাকের বন্ধু ফাইন্যান্স ডিরেক্টর আসাদুল ইসলামই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও লেনদেন করেছেন। সোহেল এসব বিষয়ে কিছুই জানতেন না। যখন তিনি বুঝতে পারেন, গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা হচ্ছে তখনই তিনি জিডি ও মামলা করেন।

সুমাইয়া শিমু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার স্বামী নির্দোষ। তার মালিকানা ছিল কিন্তু তাকে কোনো হিসাব না দিয়ে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। আমি নিজেই ভুক্তভোগী। যারা মূল প্রতারক তারা আত্মগোপনে রয়েছে, আর আমার স্বামী কারাগারে। আমি ন্যায়বিচার চাই।’

টোয়েন্টিফোর টিকিটের কাণ্ডে মিজানুর রহমান সোহেলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু জানাতে পারেনি সিআইডি। অর্থপাচারের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাগর আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তিনি (সোহেল) কোম্পানির মালিকদের একজন। যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটি তদন্তাধীন। তার সংশ্লিষ্টতা কতটা, সেটি এখনই বলা সম্ভব না, তদন্ত শেষ হলে বলা যাবে। মামলার তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।’

এদিকে মিজানুর রহমান সোহেলের করা মামলাটিও তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। তিনি বলেন, ‘মামলার অভিযোগের বিষয়ে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে কী হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই আসামির ৩ দিনের রিমান্ড
দেশে ফিরতে চাওয়ায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মুহিবুল্লাহ হত্যায় মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা, একজন আটক
মুহিবুল্লাহ হত্যা: অজ্ঞাতদের নামে মামলা

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে সহিংসতা: গ্রেপ্তার আরও ১১

পীরগঞ্জে সহিংসতা: গ্রেপ্তার আরও ১১

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হলো ৫৩ জনকে।

মঙ্গলবার রাতে পীরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেশ চন্দ্র।

তিনি বলেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা এজাহারভুক্ত আসামি। তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তোলা হবে।

এর আগে পীরগঞ্জের ঘটনায় ৪২ জনকে আটক করা হয়। পরে দুটি আলাদা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে দুটি মামলা করেন পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন। এর মধ্যে একটি মামলা হয়েছে হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায়। এতে ৪১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলা একজনকে আসামি করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই আসামির ৩ দিনের রিমান্ড
দেশে ফিরতে চাওয়ায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মুহিবুল্লাহ হত্যায় মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা, একজন আটক
মুহিবুল্লাহ হত্যা: অজ্ঞাতদের নামে মামলা

শেয়ার করুন

ছাতক থানার সেই ওসি বদলি

ছাতক থানার সেই ওসি বদলি

সদ্য বদলি হওয়া সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওসি নাজিম উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামক ফেসবুকভিত্তিক একটি পেজে লাইভে আসেন। সেই ভিডিও ছড়ালে ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

সুনামগঞ্জের ছাতক থানার সেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফেসবুক লাইভে আসার অভিযোগ উঠেছিল।

ছাতক থানার ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম শেখ নাজিম উদ্দিন। তাকে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, ওসি নাজিমের আসামিকে ফেসবুক লাইভে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি দায়িত্বে অবহেলার সমান। তাই তাকে ছাতক থানা থেকে বদলি করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনসে আনা হয়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওসি নাজিম উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামক ফেসবুকভিত্তিক একটি পেজে লাইভে আসেন। সেই ভিডিও ছড়ালে ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আসামি আবু সুফিয়ান সোহাগকে গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান ও থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ওসি নাজিম। ভিডিওটি ভাইরাল হলে ১ ঘণ্টা পর সেটি পেজ থেকে ডিলেট করা হয়।

ওই সময় ওসি নাজিম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এগুলো করিনি। আসামি যখন আমাদের বিবরণ বলেছিল প্রমাণের জন্য তা ভিডিও করা হয়। কিন্তু এ ভিডিও লাইভে কীভাবে গেল সেটা আমি জানি না। আমি এসব কিছু করিনি।’

এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন:
মুহিবুল্লাহ হত্যা: দুই আসামির ৩ দিনের রিমান্ড
দেশে ফিরতে চাওয়ায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মুহিবুল্লাহ হত্যায় মর্মাহত যুক্তরাষ্ট্র
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা, একজন আটক
মুহিবুল্লাহ হত্যা: অজ্ঞাতদের নামে মামলা

শেয়ার করুন