গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার মূল্যায়ন যেভাবে

গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষার মূল্যায়ন যেভাবে

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মুনাজ আহমেদ নূর বলেন, ‘ক ইউনিটের পরীক্ষা ১৭ অক্টোবর, খ ইউনিটের ২৪ অক্টোবর এবং গ ইউনিটের পরীক্ষা ১ নভেম্বর হবে। এরই মধ্যে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা হবে।’

দেশের গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে ১৭ অক্টোবর। পরীক্ষা শেষ হবে ১ নভেম্বর।

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটি এরই মধ্যে মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করেছে। রোববার ভর্তি পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করার বিষয়টি জানান টেকনিক্যাল কমিটির আহ্বায়ক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুনাজ আহমেদ নূর।

তিনি বলেন, ‘ক ইউনিটের পরীক্ষা ১৭ অক্টোবর, খ ইউনিটের ২৪ অক্টোবর এবং গ ইউনিটের পরীক্ষা ১ নভেম্বর হবে। এরই মধ্যে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা হবে।’

মানবণ্টন যেভাবে

গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষার টেকনিক্যাল কমিটি জানিয়েছে, সব বিভাগেই ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা নেয়া হবে। মানবিক বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে বাংলায় ১০, ইংরেজিতে ১০, রসায়নে ২০ ও পদার্থবিজ্ঞানে থাকবে ২০ নম্বর। বাকি ৪০ নম্বর আইসিটিতে।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞানে ২৫, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনায় ২৫, বাংলায় ১৩, ইংরেজিতে ১২ ও আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে।

বিভাগ পরিবর্তন হবে যেভাবে

বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আলাদাভাবে কোনো পরীক্ষা নেয়া হবে না। একজন শিক্ষার্থী কেবল একটি পরীক্ষায়ই অংশ নেবেন। বিভাগ পরিবর্তন করতে চাইলে সেই পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুসারে মাইগ্রেশন করে ভর্তি হতে পারবে।

এসএসসি ও এইচএসসির ফল

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পাওয়া নম্বরের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলও হিসাবে আনা হয়। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এসএসসি, এইচএসসিতে পাওয়া জিপিএর ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব শর্তে ভর্তির সুযোগ দেবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শর্ত ভিন্ন ভিন্নও হতে পারে।

২০১৯ ও ২০২০ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ফার্স্ট টাইম ও সেকেন্ড টাইম নির্ধারণ করে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত নেবে স্ব-স্ব বিশ্ববিদ্যালয়।

ভুল উত্তরে কাটা হবে নম্বর

গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় নেগেটিভ মার্কিং থাকবে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ কাটা যাবে।

এর আগে ২৫ আগস্ট গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদনের ফল প্রকাশ করা হয়।

এ পরীক্ষার আওতাভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয় হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

এ ছাড়া রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ফরম পূরণের টাকা ফেরত পাবেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

ফরম পূরণের টাকা ফেরত পাবেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

ফাইল ছবি।

এ বছর মোট ২৯ হাজার ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী তিন হাজার ৬৭৯টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরমপূরনের বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সকল বিষয়ে পরীক্ষা না হওয়ার কারণে পরীক্ষার ব্যায় কমে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে আদায়কৃত অর্থের অব্যায়িত অংশ ফেরত দেয়া হবে।’

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে চলতি শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এ বছর শুধুমাত্র ঐচ্ছিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন শিক্ষার্থীরা। বাকি বিষয়গুলোর ফল নির্ধারণ হবে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে।

পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে দীপু মনি বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএস-এর মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানিয়ে দেয়া হবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।’

ছবি তোলা যায় না এমন একটি ফোন কেন্দ্র সচিবের কাছে থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ বছর মোট ২৯ হাজার ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী তিন হাজার ৬৭৯টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৯৯৮ জন। এ ছাড়াও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ৩ লাখ ১ হাজার ৮৮৭ এবং এসএসসি (ভকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ২২৮ জন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২০ সালের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ জন। শিক্ষার্থী বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭৬ ভাগ। মোট প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৫১টি আর কেন্দ্র বেড়েছে ১৬৭টি।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শেষের ৩০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত হবে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে এ বছর বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীদের একই সময়ের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষার সময় ও নম্বরও কমিয়ে আনা হয়েছে।’

এ বছর অনলাইনের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস গুজব ঠেকাতেও নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের বিভ্রান্তি ছড়ালে অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এ জন্য এখন থেকেই গোয়েন্দা বাহিনী নজর রাখছে। অপচেষ্টা করে কেউ পার পাবে না।’

শেয়ার করুন

পরীক্ষা শুরুর আগে দেয়াললিখন, বহিষ্কার পরীক্ষার্থী

পরীক্ষা শুরুর আগে দেয়াললিখন, বহিষ্কার পরীক্ষার্থী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ছেলেটি পরীক্ষার নির্দেশনা সম্পর্কে জানে না। ওই হলের পরীক্ষক দেয়ালে লেখার বিষয়টি জানালে ওই পরীক্ষার্থীকে প্রক্টোরিয়াল বডির কাছে আনা হয়। তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরুর আগে হলের দেয়ালে লেখায় এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার সকালে ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ৫৩৪ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম মেহেদি হাসান। তার বাড়ি ঢাকার সাভারে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘বি’ ইউনিটের প্রথম শিফটের পরীক্ষা শুরু হয় বেলা ১১টায়। মেহেদি পরীক্ষা হলে প্রবেশ করেন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে। তাকে ১ ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। উত্তরপত্র পাওয়ার পর মেহেদি হলের দেয়ালে ‘পরীক্ষা কমিটির বহিষ্কার চাই’ লেখেন।

এমন অশোভন আচরণ করায় তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ছেলেটি পরীক্ষার নির্দেশনা সম্পর্কে জানে না। ওই হলের পরীক্ষক দেয়ালে লেখার বিষয়টি জানালে ওই পরীক্ষার্থীকে প্রক্টোরিয়াল বডির কাছে আনা হয়। তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই পরীক্ষার্থীর বিষয়ে ইনভেস্টিগেশন (তদন্ত) হচ্ছে। অন্য কোনো ইউনিটে সে পরীক্ষা দিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

শেয়ার করুন

৮ থেকে ২৫ নভেম্বর বন্ধ কোচিং সেন্টার

৮ থেকে ২৫ নভেম্বর বন্ধ কোচিং সেন্টার

এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে কোচিং সেন্টারগুলো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফাইল ছবি

এসএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে ৮ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সচিবালয়ে বুধবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর; চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা হবে শুধু নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে।

এ ছাড়া চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা হবে।

২৭ সেপ্টেম্বর আন্তশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, ‘১৪ নভেম্বর থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে; চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। করোনার এ সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া হবে।’

সাধারণত প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনার কারণে এ পাবলিক পরীক্ষা নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষা রুটিন প্রকাশ করে। এ পরীক্ষাও শুরু হবে ১৪ নভেম্বর থেকে, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

শেয়ার করুন

উন্নত জাতি গঠনে গবেষণার সংস্কৃতি চান শিক্ষামন্ত্রী

উন্নত জাতি গঠনে গবেষণার সংস্কৃতি চান শিক্ষামন্ত্রী

বিএসএমএমইউর তৃতীয় গবেষণা দিবস উপলক্ষে বুধবার বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা

গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত জাতি গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন গবেষকরা। তাই আমাদের দেশে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

উন্নত জাতি গঠনে গবেষকদের বিকল্প নেই জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, দেশে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) তৃতীয় গবেষণা দিবস উপলক্ষে বুধবার বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত জাতি গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন গবেষকরা। তাই আমাদের দেশে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

অনেক সময় গবেষণার বরাদ্দ ফিরে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা গবেষণা করেন, তারা হয়তো সঠিক নিয়মকানুন মেনে আবেদন করেন না। কোথাও একটা সমস্যা আছে।

‘এ বিষয়ে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। নইলে যারা ভালো গবেষক আছেন, তারা হতাশ হবেন।’

ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘সবাই গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা বলেন, কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বরাদ্দকৃত টাকার যথাযথ ব্যবহারও হয় না। তাই বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত যায়।’

দেশের গবেষণা খাতকে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নতির জন্য আমি ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করব, আপনারা গবেষণা খাতে কিছু ব্যয় করুন। এতে দেশ লাভবান হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে আমরা গবেষণায় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি, যেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় বিশ্বের বুকে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।’

করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণার ফল প্রকাশ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, মোট ১৮ শতাংশ হচ্ছে ইন্ডিয়ান বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।’

তিনি জানান, করোনার টিকাগ্রহীতাদের ওপর গবেষণার ফলে দেখা গেছে, তাদের ৯৮ শতাংশের দেহে অ্যান্টিবডি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

শেয়ার করুন

বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় ‘পাস না করায় আত্মহত্যা’

বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় ‘পাস না করায় আত্মহত্যা’

ময়মনসিংহ নগরীর এই বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তরুণীর মরদেহ। ছবি: নিউজবাংলা

রিয়ার পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বুয়েটে ভর্তির জন্য প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ফল বের হলে রিয়া দেখেন তিনি পাস করেননি। এরপর কাউকে কিছু না বলে নিজ কক্ষে চলে যান।

ময়মনসিংহ নগরীতে একটি বাড়ি থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার জানায়, বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় ওই তরুণী আত্মহত্যা করেছেন।

নগরীর বাঘমারা এলাকার ভাড়া বাসায় মঙ্গলবার রাত ৭টার দিকে পাওয়া যায় রিয়া কর নামে ওই তরুণীর মরদেহ।

রিয়া কর নেত্রকোণার মদন থানার চিত্ত করের মেয়ে। তবে বাঘমারা এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছে রিয়ার পরিবার।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুক হোসেন।

রিয়ার পরিবারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘বুয়েটে ভর্তির জন্য প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেন রিয়া কর। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ফল বের হলে রিয়া দেখেন তিনি পাস করেননি। এরপর কাউকে কিছু না বলে নিজ কক্ষে চলে যান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের লোকজন ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া পাননি।

পরে ঘরের দরজা ভেঙে দেখতে পান ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছেন রিয়া। তাকে দ্রুত নামিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

রিয়ার স্বজন ঐশী জানান, ‘রিয়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। বুয়েটে ভর্তির জন্য কয়েক মাস ধরে কোচিংয়ে লেখাপড়া করে আসছিল। ভর্তির জন্য প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়।’

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবুও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাতেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

শেয়ার করুন

পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের হাতাহাতি

পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুপক্ষের হাতাহাতি

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে একপক্ষের কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। ছবি: নিউজবাংলা

লিখিত অভিযোগে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধু হলের ১২৯ নম্বর কক্ষের বৈধ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দুপুরে সেখানে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় ছাত্রলীগকর্মী মিনহাজ প্রান্ত, শেখ রাসেল, তৌসিকুর রাভা, সৌরভসহ ২০-২৫ জনের একটি দল জিআই পাইপসহ তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। দলটি তাদের মারধর করে আহত করে।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। একটি কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক নুরুল্লাহ।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হলের ১২৯ নম্বর কক্ষের বৈধ শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দুপুরে সেখানে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় ছাত্রলীগকর্মী মিনহাজ প্রান্ত, শেখ রাসেল, তৌসিকুর রাভা, সৌরভসহ ২০-২৫ জনের একটি দল জিআই পাইপসহ তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। দলটি তাদের মারধর করে আহত করে।

নুরুল্লাহর আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার হল খুলে দিলে বৈধ শিক্ষার্থীরা হলে আসতে শুরু করেন। হামলাকারীরা ওই সময় বহিরাগত নিয়ে হলে ঢুকলে তারা প্রতিবাদ জানান। এ ছাড়া দলটি বিভিন্ন সময় হলে মাদক বিক্রিও করে আসছে।

তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ নুরুল্লাহর।

তবে প্রতিপক্ষ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাইদুজ্জামান সৌরভ বলেন, ‘তেমন কিছু হয়নি, রুম ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেনি। সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল মাত্র। নিজেরাই রুম ভাঙচুর করে আমাদের উপর দোষারোপ করা হচ্ছে।

মাদক সেবন বা বিক্রি নিয়ে তিনি বলেন, ‘নুরুল্লাহ গ্রুপের লোকজন আমাদের হেয় করতেই এ ধরনের অভিযোগ করছেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে সামান্য একটু ঝামেলা হয়েছিল। উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একটি দল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। মিছিলটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে এসে সমাবেশ করে।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

এ সময় বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মাহমুদ কামাল তুহিন, লিংকন হোসেন, মাহমুদুল হাসান, তৌহিদুল ইসলাম রানা, দপ্তর সম্পাদক সেহজাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক অনুপপ চক্রবর্তী।

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক হামলার শাস্তির দাবিতে ঢাবি শিক্ষক সমিতির স্মারকলিপি

সাম্প্রদায়িক হামলার শাস্তির দাবিতে ঢাবি শিক্ষক সমিতির স্মারকলিপি

সাম্প্রদায়িক হামলার শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। ছবি: নিউজবাংলা

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, আক্রমণ শুরুর পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সক্রিয় হলে ক্ষতির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত বলে এলাকাবাসী মনে করেন। স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অনৈক্যের সুযোগে ষড়যন্ত্রকারীরা নির্বিঘ্নে এ হীন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপ ‍ও বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ সাত দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেয়া হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রহমতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম গোলাম রাব্বানীসহ কয়েকজন শিক্ষক।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সম্প্রতি কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার কথিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রংপুরসহ দেশের ১৫টি জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সহিংসতার কারণ ও আক্রমণের তীব্রতা উপলব্ধির উদ্দেশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ১৮ অক্টোবর কুমিল্লা ও চৌমুহনীতে হামলার শিকার পূজামণ্ডপ, মন্দির, আশ্রম, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে।

এছাড়া ওই সময় আক্রান্ত পরিবার, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছে ঢাবি শিক্ষক সমিতি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, চৌমুহনীতে বিজয়া দশমীর দিন এ ধরনের ঘটনার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যেই প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়। এরপরেও জুমার নামাজের পর বিভিন্ন মন্দির, আশ্রম ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে হয়তো এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো যেত।

এতে বলা হয়েছে, আক্রমণ শুরুর পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সক্রিয় হলে ক্ষতির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত বলে এলাকাবাসী মনে করেন। স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অনৈক্যের সুযোগে ষড়যন্ত্রকারীরা নির্বিঘ্নে এ হীন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, যে মুহূর্তে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে, সে মুহূর্তে ষড়যন্ত্রকারীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে তৎপর রয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এই একই অপশক্তি এর আগে কক্সবাজারের রামু, সুনামগঞ্জের শাল্লা ও বগুড়ায় গুজব সৃষ্টি করে এবং বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রয়াসকে বাধাগ্রস্ত করাই এই অপশক্তির উদ্দেশ্য।

সাম্প্রদায়িক হামলার মতো অপরাধমূলক কার্মকাণ্ড ও অস্থিতিশীলতার পুনরাবৃত্তি রোধে ঢাবি শিক্ষক সমিতি স্মারকলিপিতে চারটি বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছে।

এগুলো হলো-

# আশঙ্কা থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট স্থানে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নেয়ার এবং হামলার সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার যে অভিযোগ উঠেছে সেটি তদন্ত করা। এক্ষেত্রে কারও কোনো অবহেলা বা শিথিলতা থাকলে সেটি চিহ্নিত করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

# হামলার ঘটনায় নিহতদের পরিবার, ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ, আশ্রম, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া।

# এ ধরনের ঘটনা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল তাই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা করা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ধরনের আক্রমণের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

# ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের নামে যেকোন সহিংসতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী যেকোনো অপতৎপরতা বন্ধে সর্বাত্মক সতর্কতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিতের উদ্যোগ নেয়া।

শেয়ার করুন