খেলাপি ঋণ কমাতে এফবিসিসিআইকেও দায়িত্ব নিতে হবে: এহসান খসরু

খেলাপি ঋণ কমাতে এফবিসিসিআইকেও দায়িত্ব নিতে হবে: এহসান খসরু

পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহসান খসরু।

ঋণখেলাপিরা কোনো না কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য। অ্যাপেক্স বডি হিসেবে এফবিসিসিআইয়েরও সদস্য তারা। সে ক্ষেত্রে এফবিসিসিআইয়ের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। এফবিসিসিআইয়ের সদস্য যারা খেলাপি হবেন, তাদের অ্যাসোসিয়েশনে নাও রাখতে পারে। কারণ কোনো ব্যাংকে এলসি খুলতে বা ট্রানশিপমেন্ট করতে অ্যাসোসিয়েশনের সনদ লাগে। সে ক্ষেত্রে এসব অ্যাসোসিয়েশনের যেসব সদস্য খেলাপি, তাদের বিষয়ে এফবিসিসিআই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলাপি ঋণ আদায়ে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।

দেশের ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে বলে মনে করেন পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহসান খসরু।

তিনি বলেন, ‘ব্যাংক খাতে নিয়মিত খেলাপি ঋণই এখন এক লাখ কোটি টাকার বেশি। অবলোপন বা রাইট অফ ও আদালতে মামলার কারণে আটকে থাকা ঋণ যোগ করলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও অনেক বেশি। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে যে করেই হোক এই বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতেই হবে।

‘আর এ জন্য সরকার বা অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ দেশের সব ব্যবসায়ী সংগঠনকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

যুক্তি দেখিয়ে এহসান খসরু বলেন, ‘কেন না ঋণখেলাপিরা কোনো না কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য। অ্যাপেক্স বডি হিসেবে এফবিসিসিআইয়েরও সদস্য তারা। সে ক্ষেত্রে এফবিসিসিআইয়ের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি।’

মহামারি করোনাভাইরাসের ছোবলে বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও গভীর সংকটে পড়ে গত বছরের শুরুর দিকে। সেই ধাক্কা সামলে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করাতে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকার ২৫টির মতো প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার।

এই প্রণোদনা ঋণের পুরোটাই বিতরণ করছে ব্যাংকগুলো। যার বেশির ভাগ ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়ে গেছে। গত বছর প্রণোদনা ছাড়া অন্য ঋণ খুব একটা বিতরণ করেনি ব্যাংকগুলো। তবে এখন মহামারির ধকল কমতে শুরু করেছে। স্বাভাবিক হয়ে আসছে সবকিছু, ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে অর্থনীতি। আমদানি-রপ্তানি বাড়ছে, ঋণ বিতরণও বাড়ছে।

২০২২ সালে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল শুরু হবে; চলবে ট্রেনও। একই সময় রাজধানীর উত্তর থেকে দক্ষিণে ছুটবে মেট্রোরেল। দেশের দক্ষিণ-পূর্বের বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশের সুড়ঙ্গপথও চালু হয়ে যাবে তত দিনে।

এই টানেল কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের দূরত্ব ৪০ কিলোমিটার কমিয়ে দেবে। ফলে ২০২৩ সালে অবকাঠামো সামর্থ্যে ভিন্ন এক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে। সেই নতুন বাংলাদেশকে বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলোও তাদের বিনিয়োগের নতুন ছক কষছে।

এমন পরিস্থিতিতে ‘কেমন চলছে ব্যাংক খাত’ শিরোনামে নিউজবাংলা ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই প্রতিবেদনের চতুর্থ পর্বে দেশের ব্যাংকিং খাতের হালচাল নিয়ে কথা বলেছেন পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহসান খসরু।

করোনার সময়ে জরুরি সেবার আওতায় ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছিল। সেই ব্যাংক খাতের অবস্থা এখন কেমন? কেমন চলছে ব্যবসা? বর্তমানে এ খাতের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী দেখছেন?

কোভিড-১৯ একটি বৈশ্বিক অতিমারি, যা বিশ্বের অন্যান্য অর্থনীতির মতো বাংলাদেশেও আঘাত হেনেছে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং এর প্রবৃদ্ধিকে ধীরগতির চক্রে আবদ্ধ করে ফেলেছে। বাংলাদেশের জিডিপির মূল স্তম্ভ ব্যাংক খাত। এ খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি জিডিপিতে বড় অবদান রাখে। ব্যাংক খাত সাধারণ মানুষ নিয়ে কাজ করে।

করোনা মহামারির ধকল সামলে অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকারঘোষিত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজের আওতায় প্রণোদনার অর্থ ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে বিতরণ করার চেষ্টা করেছে। প্রান্তিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী যাতে সরকারের ঋণের সুবিধা পায়, সেটা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে ব্যাংকগুলো। অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থের জোগানের ভারসাম্য রক্ষা করতেও ব্যাংক খাত কাজ করেছে।

সমাজের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাংকগুলো সরকারের পদক্ষেপ বা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। করোনাকালীন অতিমারির ধকল কাটিয়ে উঠে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণগ্রহীতাদের পক্ষে স্থগিত কিস্তি ফেরত প্রদান যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত কিস্তি পরিশোধের সময় প্রদান করেছে।

সরকারঘোষিত সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো কাজ করছে। এ ছাড়া প্রান্তিক ঋণগ্রহীতাকে নতুন ধরনের ঋণসুবিধা প্রদান করছে। বিশেষ করে এসএমই খাতের ঋণের ক্ষেত্রে সরকার সুদ ভর্তুকি প্রদান করছে, যা দ্বারা তারা করোনা মহামারিতে সৃষ্ট ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে।

চতুর্থ প্রজন্মের অনেক ব্যাংকে মূলধন ঘাটতি আছে। এ ঘাটতি পূরণে ব্যাংকগুলো বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে। মার্জার ও অ্যাকুইজেশন তার মধ্যে একটি। দুটি বা তিনটি ব্যাংক একত্রিত হয়ে আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হতে পারে। দেশের অর্থনীতিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারে।

কারণ মার্জার ও অ্যাকুইজেশন (একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ) পৃথিবীব্যাপী ব্যাংককে শক্তিশালী করার একটি অস্ত্র, কিন্তু গ্রাহকরা তো এগুলো বুঝবে না। কারণ এ বিষয়টি নেতিবাচকভাবে প্রচার করলে গ্রাহকদের মনে আতঙ্কের জন্ম নেবে। গ্রাহক বোঝে শক্তিশালী ব্যাংক।

খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সম্প্রতি এফবিসিসিআইয়ের একটি অনুষ্ঠানে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ব্যবসা করতে তারা সব ধরনের সেবা দিতে প্রস্তুত, কিন্তু খেলাপি ঋণ আদায়ে এফবিসিসিআই যেন তাদের সহিযোগিতা করে। এফবিসিসিআই কীভাবে ঋণ আদায়ে সহযোগিতা করতে পারে?

আমি মনে করি, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা হচ্ছে বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ। এই বোঝা ঘাড়ে নিয়ে ব্যাংকিং খাত কখনোই শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না। তাই যে করেই হোক, খেলাপি ঋণ কমাতেই হবে; এই সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে আসতেই হবে।

ব্যাংক খাতে নিয়মিত খেলাপি ঋণই এখন এক লাখ কোটি টাকার বেশি। অবলোপন বা রাইট অফ ও আদালতে মামলার কারণে আটকে থাকা ঋণ যোগ করলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও অনেক বেশি। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে যে করেই হোক এই বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতেই হবে।

আর এ জন্য সরকার বা অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইসহ দেশের সব ব্যবসায়ী সংগঠনকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কেননা ঋণখেলাপিরা কোনো না কোনো ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য। অ্যাপেক্স বডি হিসেবে এফবিসিসিআইয়েরও সদস্য তারা। সে ক্ষেত্রে এফবিসিসিআইয়ের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি।

এফবিসিসিআইয়ের সদস্য যারা খেলাপি হবেন, তাদের অ্যাসোসিয়েশনে নাও রাখতে পারে। কারণ কোনো ব্যাংকে এলসি খুলতে বা ট্রানশিপমেন্ট করতে অ্যাসোসিয়েশনের সনদ লাগে। সে ক্ষেত্রে এসব অ্যাসোসিয়েশনের যেসব সদস্য খেলাপি, তাদের বিষয়ে এফবিসিসিআই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে খেলাপি ঋণ আদায়ে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে।

আমরা ঋণের ৯ শতাংশ ‍সুদ চালু করেছি গ্রাহকদের জন্য। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সবাই ৯ শতাংশের এ সুবিধা ভোগ করেছে। তাহলে সংগঠনের যারা ব্যাংকের ঋণখেলাপি হচ্ছেন তাদের ঋণ নিয়মিত করার জন্য এফবিসিসিআইসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোরও ব্যাপক চেষ্টা থাকা দরকার। এটা একটি সময়ের দাবি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা তিন মাস গড় মূল্যস্ফীতির কম সুদ আমানতে দেয়া যাবে না, এটা প্রতিপালন করতে কোনো চ্যালেঞ্জ বা নতুন আমানত সংগ্রহে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন?

কিছু কিছু ব্যাংক তাদের অ্যাফিশিয়েন্সির কারণে আমানতে সুদহার ২-৩ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। নন-আর্নিং অ্যাসেটের কারণে আমাদের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। আর্নিং অ্যাসেট থাকলে ব্যয় কমে। সাধারণ গ্রাহকদের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত খুবই ভালো। কারণ মূল্যস্ফীতি যেখানে সাড়ে ৫ শতাংশের ‍ওপরে, সেখানে ২ বা ৩ শতাংশ আমানতে ‍সুদ দেয়া ঠিক না। গ্রাহকের কিছুই থাকে না। কিন্তু ঋণের ৯ শতাংশ সুদ দিয়ে আমানতে ৫ শতাংশের ওপরে সুদ দেয়ার বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে। ব্যাংকের ৯০ শতাংশ অ্যাসেট গ্রাহকের, মালিকের ১০ শতাংশ। উভয়ে যেন প্রাপ্য সুবিধা পায়, সেটার ভারসাম্য করতে হবে।

সুদহারের বিষয়টি সাময়িক সময়ের জন্য করা হয়েছে। পরে সুদহার ব্যাংকের ওপর ছেড়ে দেয়া হবে বলে আমার মনে হয়। সাধারণ গ্রাহক পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ কিংবা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে এবং ব্যাংকগুলো সব সময়ের মতো এখনও আস্থার জায়গা ধরে রেখেছে। তা ছাড়া সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ঋণসুবিধা না থাকায় গ্রাহক ব্যাংকগুলোতেই আমানত রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

করোনাকালে প্রণোনার ঋণ ছাড়া নতুন ঋণ বিতরণ ছিল কম। প্রণোদনার ঋণ ছোট উদ্যোক্তারা পাচ্ছেন না বলেও সমালোচনা আছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ব্যাংক কি একটু বেশি সতর্কভাবে ঋণ দিচ্ছে?

করোনার কারণে ব্যাংকের ঋণ প্রবাহ কমে গেছে। ব্যাংকের গ্রাহক একের পর এক অসুস্থ হয়েছে। ফলে তাদের প্রতিষ্ঠানও দুর্বল হয়ে গেছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প একটা বড় খাত। সরকারি ব্যাংকের মতো বেসরকারি ব্যাংকগুলোর এত বড় ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল নেই। সব জায়গায় ঋণ পৌঁছানোর মতো এত সামর্থ্য সব ব্যাংকের নেই। ঋণ শুধু বিতরণ করলে হবে না, আদায়ের প্রশ্নও আছে। সে কারণে বেসরকারি ব্যাংকগুলো একটু বিমুখ। সার্বিক ঋণ বিতরণও কমে গেছে। ঋণ প্রবৃদ্ধি আগে ১৪ ছিল, সেটা কমে ৭ বা সাড়ে ৭ শতাংশে নেমে গেছে।

ফলে ব্যাংকে তারল্য বা অতিরিক্ত টাকা বেড়েছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বন্ড ও ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা তুলে নিচ্ছে। একদিকে সাধারণ গ্রাহকদের ঋণ প্রদান কমে গেছে। ফলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে তারল্য ২ লাখ কোটি টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বাজার-তারল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ এখন কোনো বড় বিনিয়োগ হচ্ছে না। অন্যদিকে সরকার প্রদত্ত পুনঃ অর্থায়নের তারল্য ব্যাংকিং খাতে প্রবেশ করছে। এমতাবস্থায় কোনো প্রকৃত ও ভালো ব্যবসায়ী নতুন ব্যবসা শুরুর জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে আগ্রহী নন।

এ জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ঋণ বাড়ানোর জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রতিটি ব্যাংকের আলাদা ধারণা নিয়ে এগোতে হবে। যে ব্যাংকের যে এলাকায় সুবিধা সেভাবে এগোতে পারে। সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করে ঋণ বিতরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিঙ্গেল ব্যাংক কনসেপ্ট নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হতে পারে।

আমরা জেনেছি যে সামনে পদ্মা ব্যাংকে বড় অঙ্কের একটা বিদেশি বিনিয়োগ আসছে। সে বিষয়ে কিছু বলুন। আর সার্বিকভাবে আপনাদের ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি এখন কেমন? সামনে গ্রাহকদের জন্য কী কী সেবা চালুর পরিকল্পনা আছে?

পদ্মা ব্যাংক ২০১৯ সালে যে অবস্থান থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, বিগত দুই বছরে তা অপেক্ষা সব আর্থিক সূচকে উন্নতি লাভ করেছে। বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে আর্থিক ভিত্তি উন্নয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি আমেরিকাতে আমরা একটি মিটিং করেছি। আমার মনে হয়েছে, নর্থ আমেরিকা, মিডলইস্ট বা চায়না বাংলাদেশে একটা পজিশন নেয়ার সুযোগ খুঁজছে। তারা এ দেশের এসডিজির সূচকগুলো দেখেছে। তারা এখন বিশ্বাস করে, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে উন্নীত হবে। এ জন্য তারা ব্যাংকিং খাতে একটি পজিশন নিতে পারে।

আমাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক ডেলমর্গান অ্যান্ড কোম্পানির ৭০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ফরমাল অ্যাগ্রিমেন্ট হয়েছে। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এতে পদ্মা ব্যাংকের মূলধন ভিত্তি আরও মজবুত হবে। প্রতিটি সূচক উন্নতি হবে। পদ্মা ব্যাংকের আগের ম্যানেজমেন্টের কারণে যে সমস্যা হয়েছিল, সেটা কাটিয়ে উঠবে।

২০১৮ সালে পদ্মা ব্যাংকের ৮০ শতাংশ ঋণ ছিল অনাদায়ী। তিন বছরে সেটা কমে ৬০ শতাংশে নেমেছে। এ বছর ৫০ শতাংশে নামবে। এই খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বেড়ে যায়।

আমাদের ব্যাংক কমপ্লিট ডিজিটাল হবে। এখন গ্রাহকরা ঘরে বসে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হিসাব খুলতে পারছেন। ব্যাংকের কর্মকর্তারা ঘরে থেকে তাদের ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছেন। এ ছাড়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় লেনদেন করতে পারছেন। গ্রাহকদের ঘরে বসে হিসাব খোলার সুবিধা প্রদান করেছি।

এমনকি ঘরে বসেও ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট করার সুবিধা বাস্তবায়ন করেছি আই ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। নারীদের জন্য বিভিন্ন আর্থিক স্কিম রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে এবং সরকারঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পদ্মা ব্যাংক তার শাখাসমূহ থেকে গ্রাহকসেবা অব্যাহত রেখেছে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

করোনা: আরও আড়াই কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

করোনা: আরও আড়াই কোটি ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ভেন্টিলেটরসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি এখন পর্যন্ত ১২ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ যেন জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে এবং টিকা নিরাপদে সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় কোল্ড চেইন সরঞ্জাম কিনতে পারে, সে জন্য নতুন করে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশকে আরও ২৫ মিলিয়ন বা আড়াই কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির মাধ্যমে এ সহায়তা দেয়া হবে।

বাংলাদেশ যেন জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে এবং টিকা নিরাপদে সংরক্ষণ, পরিবহন ও ব্যবস্থাপনায় কোল্ড চেইন সরঞ্জাম কিনতে পারে, সে জন্য এ অর্থ দেয়া হচ্ছে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বুধবারের বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বাংলাদেশকে টিকা কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়তা করার পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ রোগীদের আরও কার্যকরভাবে চিকিৎসা দেয়ায় স্বাস্থ্যসেবা দানকারীদের সক্ষম করে তুলবে। একই সঙ্গে এ অর্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে সেবার মান বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, মহামারির শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১২ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, নতুন আর্থিক সহায়তা বাংলাদেশকে এ বছরের শেষ নাগাদ ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকাদানের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

ইভ্যালির মামলা তদন্ত করবে না দুদক

ইভ্যালির মামলা তদন্ত করবে না দুদক

দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ই-কমার্স বা ইভ্যালির দুর্নীতি দুদকের শিডিউলভুক্ত অপরাধ নয়। শুধু মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি দেখে আমরা এটি আমলে নিয়েছিলাম।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে সরে আসছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ মঙ্গলবার অফিস ছাড়ার সময় সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স বা ইভ্যালির দুর্নীতি দুদকের শিডিউলভুক্ত অপরাধ নয়। শুধু মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি দেখে আমরা এটি আমলে নিয়েছিলাম।’

গত জুলাইতে ইভ্যালির অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল সংস্থাটি।

ইভ্যালির বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ ছিল অনেক দিন ধরে। এসবের মধ্যেই গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এরপর গুলশান থানায় করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। এই মামলায় রিমান্ড শেষে ধানমন্ডি থানায় করা অর্থ আত্মসাতের অপর এক মামলায় রাসেলকে ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আসামি দুজনই বর্তমানে কারাগারে।

এ ছাড়া গত ১৬ অক্টোবর ইভ্যালির ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধ করে দেয়া হয়। গঠন করা হয় একটি পরিচালনা পরিষদ। সরকারের সাবেক সচিব ও বর্তমানসহ চার কর্মকর্তাকে পরিষদে রাখা হয়েছে।

হাইকোর্টের গঠন করে দেয়া বিশেষ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

লিটারে ৭ টাকা বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম

লিটারে ৭ টাকা বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম

নতুন দাম অনুযায়ী, এক লিটার খোলা সয়াবিন বাজারে বিক্রি হবে ১৩৬ টাকা। অনুরূপভাবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হবে ১৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম পড়বে ৭৬০ টাকা।  এ ছাড়া প্রতি লিটার পামওয়েল বিক্রি হবে ১১৮ টাকায়। 

খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের সয়াবিনের দাম লিটারে ৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিজ্ঞপ্তিতে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, এক লিটার খোলা সয়াবিন বাজারে বিক্রি হবে ১৩৬ টাকা। অনুরূপভাবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হবে ১৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম পড়বে ৭৬০ টাকা।

এ ছাড়া প্রতি লিটার পামওয়েল বিক্রি হবে ১১৮ টাকায়।

এর আগে রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ও চিনি ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে প্রাথমিকভাবে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়। তবে গত ১৪ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ১০ শতাংশ শুল্ক কমানোর ঘোষণায় চিনির দাম বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

গত ৬ সেপ্টেম্বর লিটারে তেলের দাম বাড়ানো হয় ৪ টাকা। ওই দাম বাজারে কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিনের দাম নির্ধারিত ছিল লিটারপ্রতি ১৫৩ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম ৭২৮ টাকা। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছিল ১২৯ টাকায়।

বৈঠকের পর দাম বাড়ানোর সুপারিশে সম্মতি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ

ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ

নোটিশে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে মার্কিন ডলারের দাম অনৈতিক ও অন্যায়মূলকভাবে বাড়ানো হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মান অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রার অবমূল্যায়নের দরুণ বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিতে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে এবং আমদানিকৃত খাদ্য দ্রব্য ও জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং অনলাইনে ডলার কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর মঙ্গলবার নোটিশটি পাঠান সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য মূলত মার্কিন মুদ্রা ডলার ব্যবস্থায় করা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ডলারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ২০০৬ সালে ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৭০ টাকা। অপরদিকে ২০২১ সালের অক্টোবরে ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৫.৬০ টাকা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৮৮ টাকা দরে ডলার বিক্রি হচ্ছে।

নোটিশে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে মার্কিন ডলারের দাম অনৈতিক ও অন্যায়মূলকভাবে বাড়ানো হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মান অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রার অবমূল্যায়নের দরুণ বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিতে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে এবং আমদানিকৃত খাদ্য দ্রব্য ও জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ব্যাপক সমস্যায় পড়েছে; দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ তাদের প্রযোজনীয় খাদ্য দ্রব্য কিনতে পারছে না।

আইনি নোটিশে বলা হয়, মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়ন রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতার জন্য দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে বাংলাদেশ ফরেন একচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ব্যাতীত বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপরও বাংলাদেশে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অধিক মূল্যে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে।

নোটিশে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং অনলাইনে ডলার কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

নজরদারিতে আসছে ই-কমার্স

নজরদারিতে আসছে ই-কমার্স

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ফাইল ছবি

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ই-কমার্স তো বন্ধ করা যাবে না। সুতরাং তাদের সবাইকে রেজিস্ট্রেশন ও মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। কীভাবে মনিটর করা যাবে, সে ব্যবস্থা আমরা করে ফেলেছি। আশা করি, দেড় বা দুয়েকের মধ্যে একটা ভালো কিছু হবে।’

সরকার ই-কমার্স বন্ধ করতে চায় না। তবে এ পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

পাশাপাশি ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নজরদারির আওতায় আনার বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক পরবর্তী এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘ই-কমার্স তো বন্ধ করা যাবে না। সুতরাং তাদের সবাইকে রেজিস্ট্রেশন ও মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। কীভাবে মনিটর করা যাবে, সে ব্যবস্থা আমরা করে ফেলেছি। আশা করি, দেড় বা দুয়েকের মধ্যে একটা ভালো কিছু হবে।’

ই-কমার্স নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানান সচিব। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে গত কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক সভায় পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দেয়া হয়েছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সচিব বলেন, ‘এক মাস সময় দেয়া হয়েছিল। আমার মনে হয় আগামী ২০ দিনের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন। বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিব দুজনই বলেছেন তারা অনেকদূর এগিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। গত দু্ই থেকে আড়াইমাস ধরে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ই-কমার্সের প্রলোভনে না পড়তে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও মন্ত্রিসভায় জোর দেয়া হয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘জনগনকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যে, তিনি কী জাতীয় প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ লাখ টাকার মোটরবাইক আড়াই লাখ টাকায় দেয়া হবে বলছে। সেটি শুনেই ঝাঁপিয়ে না পড়ে নিজেরও বিচার বিবেচনা থাকা দরকার।’

আরও পড়ুন:
ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

কার্ডে আন্তব্যাংক লেনদেনে চার্জ নির্ধারণ

কার্ডে আন্তব্যাংক লেনদেনে চার্জ নির্ধারণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের আওতায় একটি ব্যাংকের গ্রাহক ভিন্ন ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করলে বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা নেয়া যাবে। আর ৫ টাকা দেবে ব্যাংক কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক। এ ছাড়া, স্থিতি অনুসন্ধান ও খুদে বিবরণীর জন্য বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে ৫ টাকা ফি নেয়া যাবে।

ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের (এনপিএসবি) আওতায় এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করলে দিতে হবে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ। এর মধ্যে গ্রাহক দেবেন ১৫ টাকা। বাকি ৫ টাকা কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক দেবে।

তবে এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহার করে টাকা জমা দিলে ২০ টাকা খরচ হবে, যার পুরোটাই কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংককে দিতে হবে।

এটিএম, পয়েন্ট অফ সেল বা পস এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ফান্ড ট্রান্সফারের জন্য ফি ও চার্জ নতুন করে নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ বাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে।

দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের নতুন নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ ও ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিমের আওতায় লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের আওতায় একটি ব্যাংকের গ্রাহক ভিন্ন ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনে বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা নেয়া যাবে। আর ৫ টাকা দেবে ব্যাংক কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক। এ ছাড়া, স্থিতি অনুসন্ধান ও খুদে বিবরণীর জন্য বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে ৫ টাকা ফি নেয়া যাবে।

পাশপাশি এটিএম থেকে তহবিল স্থানান্তরে কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা এবং অন্য ব্যাংকের এটিএমে জমার জন্য ২০ টাকা ফি নেয়া যাবে।

দেশের ভেতরে পস ব্যবহার করে নগদ অর্থ উত্তোলনে প্রতি লেনদেনে গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা চার্জ নেয়া যাবে।

এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের পস ব্যবহার করে মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট থেকে মোট লেনদেনের ন্যূনতম ১ দশমিক ৬০ শতাংশ ডিসকাউন্ট বাবদ আদায় করবে। এর ১ দশমিক ১ শতাংশ বিনিময় ফি হিসেবে কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক দেবে।

এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং তহবিল স্থানান্তরে লেনদেন প্রতি গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা এবং বাংলা কিউআরে মার্চেন্ট থেকে মোট লেনদেনের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ চার্জ কাটা যাবে। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বিনিময় চার্জ বাবদ কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংককে দিতে হবে।

কার্ডের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবার মূল্য পরিশোধের কর পরিশোধে বাংলাদেশে ইস্যুকৃত কার্ডের জন্য ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধে গ্রাহক থেকে লেনদেন প্রতি সর্বোচ্চ ২০ টাকা আদায় করবে। এর মধ্যে ২৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রচলিত ফি দেবে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন

আইএফসির কাছে সহজ শর্তে ঋণ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

আইএফসির কাছে সহজ শর্তে ঋণ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

আইএফসির এমডিকে উদ্দেশ্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। এ জন্য অনেক বেশি বিনিয়োগ দরকার। তাই পিপিপির মাধ্যমে বেসরকারি খাতে অধিক বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।’  

বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আইএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম্যাকথার ডিউপের সঙ্গে সোমবার এক বৈঠকে তিনি এ অনুরোধ করেন।

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বার্ষিক সভার সাইড লাইনে বাংলাদেশ ও আইএফসির মধ্যে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী। আইএফসির পক্ষে ছিলেন সংস্থার এমডি ম্যাকথার ডিউপ।

বাংলাদেশের পক্ষে সভায় বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রী ২০১৯ সালে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ ‘বাংলা বন্ড’ ইস্যু করার জন্য আইএফসির প্রশংসা করেন এবং করোনা মহামারির সময় বেসরকারি খাতে বিশেষ করে ব্যাংক, বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান ও নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সহযোগিতা অব্যাহত রাখায় আইএফসিকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ‘টাকা বন্ড’ ইস্যুসহ সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কার, আইএফসির কান্ট্রি স্ট্র্যাটেজি এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর মাধ্যেমে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের উন্নয়নে পিপিপিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য আইএফসিকে অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রী।

আইএফসির এমডিকে উদ্দেশ্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। এ জন্য অনেক বেশি বিনিয়োগ দরকার।

তাই পিপিপির মাধ্যমে বেসরকারি খাতে অধিক বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।

এ ছাড়া আইএফসির সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পার্টনারশিপ আরও সংহত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুস্তফা কামাল।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক খাতে হস্তক্ষেপ একটা সমস্যা: তারিক আফজাল
ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপিই বেশি: আরফান আলী

শেয়ার করুন