সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে কেপিসিএলের আয় ১৫ কোটি টাকা

সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে কেপিসিএলের আয় ১৫ কোটি টাকা

পটুয়াখালীর ইউনাইটেড পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার ৩৫ শতাংশের মালিক কেপিসিএল। ছবি: নিউজবাংলা

১৫০ মেগাওয়াটের ইউনাইটেড পায়রায় কেপিসিএলের মালিকানা আছে ৩৫ শতাংশ। এই কোম্পানি গত ১৮ জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে এসেছে। ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব পর্যালোচনা করে তারা শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের খুলনা পাওয়ার কোম্পানি বা কেপিসিএল তার একটি বিনিয়োগ থেকে ১৫ কোটি টাকা লভ্যাংশ পেয়েছে।

সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পায়রার লভ্যাংশ থেকে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ১৫ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকা।

রোববার ঢাকা ও চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে কেপিসিএলের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

এতে জানানো হয়, ইউনাইটেড পায়রা গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ১০ পয়সা করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।

১৫০ মেগাওয়াটের ইউনাইটেড পায়রায় কেপিসিএলের মালিকানা আছে ৩৫ শতাংশ। এই হিসেবে তারা ১৫ কোটি টাকার বেশি আয় করেছে।

পটুয়াখালী জেলার খলিসাখালী এলাকায় এই কেন্দ্রটি গত ১৮ জানুয়ারি বাণিজ্যিক উৎপাদনে এসেছে। এখান থেকে সরকার আগামী ১৫ বছর বিদ্যুৎ কিনবে।

২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত কেপিসিএলের মোট তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। তিনটি কেন্দ্রেরই মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় ইউনাইটেড পায়রাই এখন কেপিসিএলের একমাত্র ভরসা।

আগের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে খুলনার খালিশপুরে ১১০ মেগাওয়াটের কেপিসিএল-১ বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৯ সালের ১২ অক্টোবর।

খুলনার খালিশপুরে ১১৫ মেগাওয়াটের কেপিসিএল-২ ও যশোরের নোয়াপাড়ায় ৪০ মেগাওয়াটের কেপিসিএল-৩ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মেয়াদ শেষ হয় গত মে মাসে।

এই দুটি কেন্দ্রসহ মোট পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর ফাইলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সই করেছেন। এখন চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। সরকার ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও পরে পিছিয়ে এসেছে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে।

তবে এই চুক্তি নিয়ে সরকার ও কোম্পানিগুলোর মধ্যে আলোচনা এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি। সরকার চাইছে ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে। অর্থাৎ যতটুকু বিদ্যুৎ কেনা হবে, ততটুকুর জন্য বিল পাবে তারা। কিন্তু কোম্পানি বলছে, কেন্দ্রের ভাড়া বা ন্যূনতম বিদ্যুৎ কেনার নিশ্চয়তা না পেলে কেন্দ্র চালানো কঠিন হবে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কেপিসিএলসহ চার কোম্পানির মধ্যে বৈঠকে বিষয়টির সুরাহা হয়নি। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর চার কোম্পানি দেখা করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে। তিনি কোম্পানিগুলোর বক্তব্য শুনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কাছে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

এই অবস্থায় কেপিসিএলের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের মধ্যে কেপিসিএল তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মুনাফার এই তথ্য জানাল। এই মুনাফার কারণে কেপিসিএলের বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবেন। কারণ, এতে মূল কোম্পানির আয় বাড়বে।

২০২০ সালে সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আয় ছাড়া কেপিসিএল শেয়ারপ্রতি ৩ টাকা ৪০ পয়সা আয় করে বিনিয়োগকারীদেরকে সম পরিমাণ লভ্যাংশ দিয়েছিল।

চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ২ টাকা ৬৫ পয়সা। এর সঙ্গে ইউনাইটেড পায়রার লভ্যাংশ যোগ হলে চূড়ান্ত আয় গত বছরকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কারণ, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে এপ্রিল ও মে মাসে কেপিসিএল সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করেছে। পাশাপাশি তারা কেন্দ্রের ভাড়াও পেয়েছে।

ইউনাইটের পায়রার এই আয় কেপিসিএলের আয়ে কত টাকা যোগ করবে, তার একটি ধারণাও পাওয়া গেল।

চলতি বছর সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি সাড়ে পাঁচ মাসের কিছুটা কম সময় চলেছে। এতে বিনিয়োগ করে কেপিসিএল তার প্রতিটি শেয়ারে আয় করেছে ৩৮ পয়সার মতো। এক বছর পরিচালনা করলে তা ৯০ পয়সার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তবে সাধারণত বড় বিনিয়োগের পর প্রথম বছর আয় তুলনামূলক কম হয়। বিনিয়োগ ধীরে ধীরে উঠে এলে পরে আয় বাড়তেও পারে।

কেপিসিএল তার বিনিয়োগকারীদের জন্য কবে লভ্যাংশ ঘোষণা করবে, সেটি অবশ্য জানানো হয়নি। ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর এবং তার আগের বছর ২৪ অক্টোবর তারা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

আরও পড়ুন:
মেয়াদ বৃদ্ধি নিশ্চিতের পর সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টায় কেপিসিএল
বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট
কেপিসিএল: মেয়াদ বৃদ্ধির শর্ত চূড়ান্তে আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়েনি, কোম্পানির সতর্কবার্তা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ব্যাপক উত্থানে সংশোধন শেষের আভাস মিলল কি

ব্যাপক উত্থানে সংশোধন শেষের আভাস মিলল কি

বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত সূচক ২৮ পয়েন্ট কমে লেনদেন হলেও সেখান থেকে ১৫২ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয় দিনের লেনদেন।

১০টি কোম্পানির দর বেড়েছে ১০ শতাংশ করে, ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে আরও ২৮টির দর, আরও ২২টির দর বেড়েছে ৮ শতাংশের বেশি, ২৫টির দর বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি, আরও ২০টির দর বেড়েছে ৬ শতাংশের বেশি, আরও ২৯টির দর বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি, আরও ৩৯টির দর বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি।

টানা দরপতনের মধ্যে থাকা পুঁজিবাজার সংশোধন শেষের আভাস দিল। আগের দিন সূচকের যতটা পতন হয়েছিল, তার সমান উত্থান, এক দিনে প্রায় সাড়ে তিন শ কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের মনের দুশ্চিন্তা অনেকটাই লাঘব করেছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া দর সংশোধন পঞ্চম সপ্তাহে এসে টানা পতনে রূপ নেয়। ষষ্ঠ সপ্তাহে গত রবি ও সোম- দুই দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করে। এই দুই দিনে সূচক কমে ১৯০ পয়েন্ট।

উৎকণ্ঠা নিয়েই মঙ্গলবার শুরু হয় লেনদেন। গত ছয় সপ্তাহের প্রায় নিয়মিত দৃশ্য দেখা দেয় বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত। শুরুর ১০ মিনিটেই ৬৭ পয়েন্ট সূচক বেড়ে গেলেও বেলা পৌনে ১২টায় আগের দিনের চেয়ে সূচক কমে যায় ২৮ পয়েন্ট। অর্থাৎ দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে সে সময় ৯৫ পয়েন্ট হারিয়ে চলছিল লেনদেন।

প্রায় দেড় মাস ধরে এই অবস্থান থেকেই সূচক বড়েছে আরও বেশি। তবে এদিন এখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ায় পুঁজিবাজার। শেষ পর্যন্ত আগের দিনের চেয়ে ১২০ পয়েন্ট বেড়ে শেষ হয় লেনদেন। বেলা পৌনে ১২টা থেকে সূচক বাড়ে ১৪৮ পয়েন্ট।

আগের দিন ধসের আশঙ্কায় থাকা পুঁজিবাজারে এক দিনে ৪১টি কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ল এক দিনে যতটা বাড়া সম্ভব, ততটাই। অর্থাৎ হল্টেড প্রাইসে লেনদেন হয়েছে এসব কোম্পানির শেয়ার দর।

এ ছাড়া হল্ডেট প্রাইসের আশপাশে লেনদেন হয়েছে আরও অন্তত ২০টি কোম্পানির শেয়ার।

সব মিলিয়ে ১০টি কোম্পানির দর বেড়েছে ১০ শতাংশ করে, ৯ শতাংশের বেশি বেড়েছে আরও ২৮টির দর, আরও ২২টির দর বেড়েছে ৮ শতাংশের বেশি, ২৫টির দর বেড়েছে ৭ শতাংশের বেশি, আরও ২০টির দর বেড়েছে ৬ শতাংশের বেশি, আরও ২৯টির দর বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি, আরও ৩৯টির দর বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি।

বিপরীতে যে ২২টি কোম্পানি দর হারিয়েছে, তার মধ্যে কেবল একটি কোম্পানিই ৫ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর হারানো কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ১.৬৫ শতাংশ।

ব্যাপক উত্থানে সংশোধন শেষের আভাস মিলল কি
সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট যোগ করা এই ১০টি কোম্পানির কারণে সূচক বেড়েছে ৩৭.৯১ পয়েন্ট

এতদিন সূচকের উত্থান ও পতনে কয়েকটি কোম্পানির অবদান বেশি থাকলেও ব্যতিক্রম চিত্র দেখা গেছে। সূচক বাড়তে ভূমিকা রাখা ১০টি কোম্পানি সম্মিলিতভাবে বাড়িয়েছে ৩৭.৯১ পয়েন্ট। এর মধ্যে কেবল ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, রবি ও আইসিবি- এই তিনটি কোম্পানিই সূচকে যোগ করেছে ২২.২৩ পয়েন্ট।

বাকি সাত কোম্পানি হলো বেক্সিমকো লিমিটেড, তিতাস গ্যাস, জিপিএইচ ইস্পাত, সাইফপাওয়ারটেক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনিক হোটেল ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

অন্যদিকে গ্রামীণফোনের শেয়ার দর ১.৬৫ শতাংশ কমার কারণেই সূচক থেকে হারিয়ে গেছে ১৩.৭১ পয়েন্ট।

স্কয়ার ফার্মা, ইউনাইটেড পাওয়ার, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, বার্জার পেইন্টস, ইবিএল, ম্যারিকো, বিএসআরএম লিমিটেড ও উত্তরা ব্যাংক মিলিয়ে কমিয়েছে আরও ৬.৮৯ পয়েন্ট। সব মিলিয়ে ১০ কোম্পানির অবদান ২০.৬ পয়েন্ট।

ব্যাপক উত্থানে সংশোধন শেষের আভাস মিলল কি
মঙ্গলবার যে ২২টি কোম্পানি দর হারিয়েছে, তার মধ্যে এই ১০টি কারণে সূচক পড়েছে ২০.৬০ পয়েন্ট

সূচকে উত্থান হলেও কমেছে লেনদেন। দিন শেষে হাতবদল হয়েছে ১ হাজার ৩৮৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার, যা আগের কর্মদিবসে ছিল ১ হাজার ৪৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

১০ খাতের সবাই খুশি

পতনের ভারে যখন বিনিয়োগকারীরা ক্লান্ত তখন একদিনেই হাসির ঝলক দেখালো পুঁজিবাজার। তালিকাভুক্ত ১০ খাতের সব কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে মঙ্গলবার।

এর তলানিতে থাকা নন ব্যাংক আর্থিক খাতের উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। বেশিরভাগ সময় দর পতনে থাকা এই খাতের ২২টি কোম্পানির সবগুলোর দর বেড়েছে।

কোনো কোম্পানির শেয়ার বিক্রিতে যখন বিনিয়োগকারীদের অনাগ্রহ থাকে তখন সেই কোম্পানির শেয়ার হয় বিক্রেতা শূন্য। তখন তার দর বাড়ে সার্কিট ব্রেকার স্পর্শ করে ১০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি। মঙ্গলবার আর্থিক খাতের এমন কোম্পানি ছিল ছয়টি।

সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পেয়েছে বিডি ফিন্যান্সের ৯.৮৪ শতাংশ। তারপরই আছে ইসলামী ফিন্যান্স, যার শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৫৩ শতাংশ। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সের শেয়ার দর বেড়েছে ৯.২২ শতাংশ।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে ৯২ কোটি টাকা, যা আগের দিন ছিল ৮৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

বিমা খাতের ৫১ কোম্পানির সবকটি শেয়ারদর বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের, ৯.৯৮ শতাংশ। এছাড়া ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর ৭.৫৮ শতাংশ, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের দর ৫.৮৪ শতাংশ, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর বেড়েছে ৫.৭৩ শতাংশ বেড়েছে।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ১৫৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

ব্যাপক উত্থানে সংশোধন শেষের আভাস মিলল কি

সব কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ার তালিকায় আছে সিমেন্ট খাত। এ খাতের লেনদেন হওয়া সাত কোম্পানির সবগুলোর দর বেড়েছে। এছাড়া সার্ভিস ও আবাসন খাতের চারটি কোম্পানির সবগুলোর দর বেড়েছে।

এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ৪১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, সিরামিক খাতের পাঁচটি, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের তিনটি, পাট খাতের তিনটির সবগুলোর শেয়ার দর বেড়েছে।

এছাড়া বস্ত্র খাতের ৫৮টির মধ্যে ৫৭টি, প্রকৌশল খাতের ৪২টির মধ্যে ৪১টি, বিদ্যুৎ-জ্বালানির ২৩টির মধ্যে ২২টি, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২০টির মধ্যে ১৮টির শেয়ারদর বেড়েছে।

লেনদেনে এগিয়েছে ব্যাংক

উত্থানে বাজার ব্যাংকের লেনদেন আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। এ খাতের ২২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে। কমেছে সাতটির।

লেনদেন হয়েছে মোট ১৬১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১৪০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

লেনদেন ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে দুর্বল বা জেড ক্যাটাগরির আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ৮.৩২ শতাংশ। শেয়ার দর ৪ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ২০ পয়সা।

এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ার দরও ১ টাকা ২০ পয়সা বা ৩.৪২ শতাংশ বেড়েছে। এবি ব্যাংকের শেয়ার দর ৪০ পয়সা বা ২.৮৩ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ার শেয়ার দর ২.৫৫ শতাংশ, ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ২.০৭ শতাংশ।

ব্যাংক খাতের দর পতন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক, যার শেয়ার দর কমেছে ৪০ পয়সা বা ১.৪৪ শতাংশ। তারপর আছে ডাচ্-বাংলা, যার শেয়ার দর কমেছে ১ টাকা ১০ পয়সা বা ১.৩৮ শতাংশ।

বিবিধ খাতের বেক্সিমকোতে আগ্রহ কমেছে

শেয়ারে সাড়ে তিন টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার পর রোববার বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারে যে হুলুস্থল দেখা যায়, তা গত দুই দিনে অনেকটাই কমে এসেছে। রোববার প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা থেকে মঙ্গলবার লেনদেন কমে এসেছে ৮৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকায়।

ব্যাপক উত্থানে সংশোধন শেষের আভাস মিলল কি

বেক্সিমকোতে লেনদেন কমায় বিবিধ খাতে লেনদেন কমেছে। এ খাতের লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩টির, কমেছে একটির। দর পতন হওয়া একমাত্র কোম্পানি ছিল বার্জার পেইন্ট বাংলাদেশ, যার শেয়ার দর কমেছে ৬ টাকা ৫০ পয়সা বা দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এ খাতের সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানি ছিল উসমানিয়া গ্লাস, যার শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৭৭ শতাংশ।

সব মিলিয়ে এই খাতে লেনদেন হয়েছে মোট ১০১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ১২১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২০ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ১৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮২ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১৭ দশমিক ১০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬১ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
মেয়াদ বৃদ্ধি নিশ্চিতের পর সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টায় কেপিসিএল
বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট
কেপিসিএল: মেয়াদ বৃদ্ধির শর্ত চূড়ান্তে আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়েনি, কোম্পানির সতর্কবার্তা

শেয়ার করুন

লোকসান করেও ইউনিক হোটেলের শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ

লোকসান করেও ইউনিক হোটেলের শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ

ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

২৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিতে রিজার্ভ আছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এ থেকে ২৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা যাবে লভ্যাংশ হিসেবে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভ্রমণ ও অবসর খাতের কোম্পানি ইউনিক হোটেল এবার বিনিয়োগকারীদেরকে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ নগদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি এক টাকা করে পাবেন।

সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৩৩ পয়সা। তবে লোকসান হলেও তারা বিনিয়োগকারীদেরকে রিজার্ভ থেকে লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিতে রিজার্ভ আছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এ থেকে ২৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা যাবে লভ্যাংশ হিসেবে।

বরাবরই ভালো লভ্যাংশ দিয়ে আসা হোটেলটি সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে করোনার কারণে বিপাকে পড়েছে। বিদেশিদের আগমন কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ভাটা দেয়। জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা তিনটি প্রান্তিকেই লোকসান দেয় কোম্পানিটি।

এর মধ্যে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি ৩ পয়সা, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ পয়সা এবং জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ার প্রতি লোকসান হয় ১১ পয়সা। চতুর্থ প্রান্তিকে লোকসান হয় আরও ১৪ পয়সা।

অবশ্য কোম্পানিটির নিজের ব্যবসায় শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৪১ পয়সা আয় করেছিল। কিন্তু সহযোগী কোম্পানির লোকসানের কারণে শেষ পর্যন্ত ঋণাত্মক আয় হয়েছে।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর শেষ প্রান্তিকের লোকসানের কারণে কোম্পানিটির আয় কমে গিয়েছিল। ওই বছর শেয়ার প্রতি ৯৫ পয়সা আয় করে এক টাকা লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এর আগে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দুই বছর শেয়ার প্রতি ২ টাকা ২০ পয়সা করে আর দুই বছর ২ টাকা করে লভ্যাংশ দিয়েছিল ইউনিক হোটেল।

২০১২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির সম্পদমূল্য বেশ আকর্ষণীয়। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের একেকটি শেয়ারের বিপরীতে সম্পদ আছে ৮১ টাকা ৪৩ পয়সা। ২০২০ সালের ৩০ জুন শেয়ারপ্রতি সম্পদ ছিল ৭৯ টাকা ৬৮ পয়সা।

যারা এই লভ্যাংশ দিতে চান তাদেরকে আগামী ১৮ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট হবে সেদিনই। এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ২৭ ডিসেম্বর।

একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ পাওয়াকে কেন্দ্র করে কোম্পানিটির শেয়ারদরে উল্লম্ফন হয়েছে গত কয়েক মাসে।

স্ট্র্যাটেজিক ফাইনান্স এবং জিই ক্যাপিটাল গ্লোবাল এনার্জি ইনভেস্টমেন্টের যৌথ উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে ৫৮৪ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করছে কোম্পানিটি।

এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য ৩১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সেপ্টেম্বরের শেষে ৬৩ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে। তবে এরপর দর সংশোধনে শেয়ারদর কিছুটা কমেছে। লভ্যাংশ ঘোষণার দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারমূল্য ছিল ৪৯ টাকা।

আরও পড়ুন:
মেয়াদ বৃদ্ধি নিশ্চিতের পর সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টায় কেপিসিএল
বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট
কেপিসিএল: মেয়াদ বৃদ্ধির শর্ত চূড়ান্তে আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়েনি, কোম্পানির সতর্কবার্তা

শেয়ার করুন

লভ্যাংশের ধারাবাহিকতা ধরে রাখল কেডিএস

লভ্যাংশের ধারাবাহিকতা ধরে রাখল কেডিএস

পুঁজিবাজারে তালিকাভু্ক্ত কোম্পানি কেডিএস। ছবি: সংগৃহীত

কোম্পানিটি ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এরপর প্রতি বছরই ১৫ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিয়েছে। তবে পুরোটা নগদ হিসেবে এবারই প্রথম। ২০১৬ সালে ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস দিয়েছে কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি কেডিএস এক্সসোসরিজ লিমিটেড তার লভ্যাংশের ধারাবাহিকতা ধরে রাখল।

সবশেষ গত ৩০ জুন সময়ে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বা শেয়ার প্রতি দেড় টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কোম্পানিটি ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এরপর প্রতি বছরই ১৫ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিয়েছে। তবে পুরোটা নগদ হিসেবে এবারই প্রথম। ২০১৬ সালে ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস দিয়েছে কোম্পানিটি।

সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

২০১৭ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ২ টাকা ২০ পয়সা। সে বছর ৫ শতাংশ বোনাস ও ১০ শতাংশ নগদ দিয়েছিল। ২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি ২ টাকা ২১ পয়সা আয়ের বিপরীতে ৫ শতাংশ বোনাস ও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়।

২০১৯ সালে আয় অতি সামান্য কমে ২ টাকা ২০ পয়সা হলেও লভ্যাংশ ১৫ শতাংশে স্থির ছিল। সে বছর কোম্পানিটি ৫ শতাংশ বোনাস ও ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়।

২০২০ সালে সাড়ে ৭ শতাংশ করে নগদ ও বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। সে বছর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় করেছিল ২ টাকা ১৮ পয়সা।

কোম্পানিটির অর্থবছরের নয় মাসে শেয়ার প্রতি আয় করেছে ১ টাকা ৭১ পয়সা। শেষ প্রান্তিকে আয় বেড়েছে ৪৯ পয়সা। ফলে পুরো অর্থবেছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ২০ পয়সা।

আগামী ৯ ডিসেম্বর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ নভেম্বর।

আরও পড়ুন:
মেয়াদ বৃদ্ধি নিশ্চিতের পর সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টায় কেপিসিএল
বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট
কেপিসিএল: মেয়াদ বৃদ্ধির শর্ত চূড়ান্তে আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়েনি, কোম্পানির সতর্কবার্তা

শেয়ার করুন

শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ দেবে পেনিনসুলা

শেয়ারে এক টাকা লভ্যাংশ দেবে পেনিনসুলা

করোনার মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি হোটেলের আয় কমে গেলেও পেনিনসুলা ব্যতিক্রম। ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৫ পয়সা আয় করা কোম্পানিটি করোনার বছরে তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ৪৬ পয়সা আয় করে। এরপর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত শেষ প্রান্তিকে আয় কিছুটা কমেছে। এই সমেয় শেয়ার প্রতি ৫ পয়সা লোকসান দিয়েছে কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজারে ভ্রমণ ও অবসর খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি পেনিসসুলা চিটাগং গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা শেয়ার প্রতি ১ টাকা পাবেন।

সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ মাস চারেক আগে সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা এই সিদ্ধান্ত নেয়।

কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত পেনিনসুলার শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৪১ টাকা।

করোনার মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি হোটেলের আয় কমে গেলেও পেনিনসুলা ব্যতিক্রম। ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি ৫ পয়সা আয় করা কোম্পানিটি করোনার বছরে তিন প্রান্তিক মিলিয়ে ৪৬ পয়সা আয় করে। এরপর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত শেষ প্রান্তিকে আয় কিছুটা কমেছে। এই সমেয় শেয়ার প্রতি ৫ পয়সা লোকসান দিয়েছে কোম্পানিটি।

২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির লভ্যাংশের ইতিহাস খুব একটা ভালো নয়। প্রথম তিন বছর ১০ শতাংশ করে, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি এক টাকা করে লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। এর মধ্যে ২০১৫ সালে সঙ্গে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ারও দেয়া হয়।

তবে ২০১৮ সালে শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা, ২০১৯ সালে ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ বিতরণ করে কোম্পানিটি। গত বছর আয় ব্যাপকভাবে কমে গেলেও রিজার্ভ থেকে শেয়ার প্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

২০১৬ সাল থেকে কখনও শেয়ার প্রতি এক টাকা আয় করতে পারেনি কোম্পানিটি। তবে তাদের শেয়ার প্রতি সম্পদ বেশ ভালো। ২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারে সম্পদ ছিল ৩০ টাকা ৮৭ পয়সা।

এই লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৫ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ১৩ ডিসেম্বর।

কোম্পানিটির শেয়ারদর গত এক বছরে ১৭ টাাক ২০ পয়সা থেকে ৩৫ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা কমেছে। লভ্যাংশ ঘোষণার দিন দাম ছিল ২৭ টাকা ২০ পয়সা।

এর আগে একই খাতের কোম্পানি সি পার্ল গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১ শতাংশ অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ১০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই বছরে শেয়ার প্রতি কোম্পানিটি আয় করেছে ৬১ পয়সা। শাটডাউনের প্রভাবে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ৪৯ পয়সা লোকসান দিয়েছে।

আরও পড়ুন:
মেয়াদ বৃদ্ধি নিশ্চিতের পর সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টায় কেপিসিএল
বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট
কেপিসিএল: মেয়াদ বৃদ্ধির শর্ত চূড়ান্তে আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়েনি, কোম্পানির সতর্কবার্তা

শেয়ার করুন

পুঁজিবাজার পড়ছেই, বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভে

পুঁজিবাজার পড়ছেই, বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভে

পতন দিয়েই শুরু হয় সোমবারের লেনদেন। একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সূচক ১৬৪ পয়েন্ট হারিয়ে ফেলে। সে সময় কেবল ১৭টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল, পড়ে যায় প্রায় সাড়ে তিনশ কোম্পানির দর। তবে এরপর শেয়ারগুলো হারিয়ে ফেলা দর কিছুটা ফিরে পেতে শুরু করে। বেলা ২টা নাগাদ হারিয়ে ফেলা সূচক থেকে ৮০ পয়েন্ট ফিরে পায় পুঁজিবাজার। কিন্তু এরপর আবার পড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ১২০ পয়েন্ট সূচকের পতনে শেষ হয় লেনদেন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নজরদারি, সতর্কতা, বাজারে তারল্য বাড়ানো উদ্যোগ বা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ- কাজে আসছে না কিছুই। পুঁজিবাজারে টানা দরপতন থামছে না। বরং দুই দিনে প্রায় ২০০ পয়েন্ট সূচকের পতনে বিনিয়োগকারীদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।

১০ কর্মদিবসের মধ্যে ৯ দিনের পতনে সূচক প্রায় ৫০০ পয়েন্ট কমে যাওয়ার পর মতিঝিলে বিক্ষোভে নামে বিনিয়োগকারীরা।

দরপতনে এখন কোম্পানির শেয়ারদর কমছে যাচাইবাছাই ছাড়াই। ভালো কোম্পানি, দুর্বল কোম্পানি, নির্বিশেষে পতন হচ্ছে। দরপতনের শতকরা হার ভাবিয়ে তুলছে বিনিয়োগকারীদের।

গত ১১ থেকে ১৯ অক্টোবর টানা সাত কর্মদিবস দরপতনের পর বিএসইসির কার্যালয়ে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে নানা বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজবের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়া হয়।

সে সময় পুঁজিবাজারে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে বিএসইসি চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। আরও জানানো হয়, একটি ব্রোকারেজ হাউসের সেল প্রেসারের কারণে বাজারে সেদিন বড় দরপতন হয়েছিল। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, এখন নজরদারি অনেক শক্তিশালী। বাজারে কারসাজি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এই বক্তব্যের পর তিন কর্মদিবসে পুঁজিবাজারের আচরণে স্পষ্ট হয় যে, সেদিনের বৈঠক শেষে যা বলা হয়, পুঁজিবাজারে পতনে আরও কারণ আছে আর তার সমাধান হয়নি।

এই বৈঠক ও বক্তব্যের পর দিন বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে সূচকের উত্থান হলেও সেদিনও বেশির ভাগ শেয়ারের দরপতনের কারণে উৎকণ্ঠা রয়েই গিয়েছিল। রোববার সপ্তাহের প্রথম দিনের লেনদেনের চিত্র ভয় ছড়ায় বিনিয়োগকারীদের মনে।

৭০ পয়েন্ট সূচকের পতনে ১০ শতাংশের বেশি ২টির, ৯ শতাংশের বেশি ৭টির, ৮ শতাংশের বেশি ৫টির, ৭ শতাংশের বেশি ৯টির, ৬ শতাংশের বেশি ২০টির, ৫ শতাংশের বেশি ২৪টির, ৪ শতাংশের বেশি ২৯টির, ৩ শতাংশের বেশি দর হারায় ৪২টি কোম্পানি।

সোমবারের চিত্রটা একপর্যায়ে ছিল আরও বেশি ভীতি জাগানিয়া। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দর সংশোধন শুরু হওয়ার পর থেকে যেদিন যেদিন সূচক কমেছে, তার প্রায় সব দিন লেনদেনের শুরুটা উত্থান নিয়ে শুরু হয়ে শেষ হয় পতন দিয়ে।

কিন্তু এদিন পতন দিয়েই শুরু হয় লেনদেন। আর একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সূচক ১৬৪ পয়েন্ট হারিয়ে ফেলে। সে সময় কেবল ১৭টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল, পড়ে যায় প্রায় সাড়ে তিনশ কোম্পানির দর।

তবে এরপর শেয়ারগুলো হারিয়ে ফেলা দর কিছুটা ফিরে পেতে শুরু করে। বেলা ২টা নাগাদ হারিয়ে ফেলা সূচক থেকে ৮০ পয়েন্ট ফিরে পায় পুঁজিবাজার, কিন্তু এরপর আবার পড়তে থাকে।

পুঁজিবাজার পড়ছেই, বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভে
সোমবার লেনদেন শুরুই হয় সূচক পতনের মধ্য দিয়ে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে পতনের হার।

শেষ পর্যন্ত ১২০ পয়েন্ট সূচকের পতনে শেষ হয় লেনদেন। আর এর মধ্য দিয়ে দুই দিনেই পড়ল ১৯০ পয়েন্ট। আর গত ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া টানা পতনের পর সূচক পড়ল ৪৮২ পয়েন্ট।

কেবল সূচক পতন দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি বোঝানো যাবে না। স্বল্প মূলধনি ও লোকসানি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারগুলো এই সোয়া এক মাসে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

শেষ পর্যন্ত দুটি কোম্পানির শেয়ারদর ৯ শতাংশের বেশি, ৬টির দর ৮ শতাংশের বেশি, ৭টির দর ৭ শতাংশের বেশি, ১৬টির দর ৬ শতাংশের বেশি, ২৭টির দর ৫ শতাংশের বেশি, ৩৬টি কোম্পানির শেয়ারদর কমে ৪ শতাংশের বেশি।

দিন শেষে শেয়ারদর বাড়ে ৪৭টি কোম্পানির। বিপরীতে দর হারায় ৩০৭টি। আর দর ধরে রাখতে পারে ২২টি কোম্পানি। বড় পতনেও লেনদেনে খুব একটা প্রভাব দেখা যায়নি। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১ হাজার ৪৭১ কোটি ৪ লাখ টাকা। সেখান থেকে সামান্য কমে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সূচকের পতন বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলে। ভালো একটি বাজার যে এভাবে পতনের মুখে পড়বে এটা হয়ত অনেক বিনিয়োকারী আন্দাজ করতে পারেনি।’

বাজার আবার ঠিক হয়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনি। বলেন, ‘লেনদেন যদিও বলা হচ্ছে কমে যাচ্ছে, তারপরও কিন্ত হাজার কোটি টাকা হাতবদল হয়েছে। এটিকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ফলে বিনিয়োগকারীরা ধৈর্য ধরতে পারে, আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি না করে অপেক্ষা করতে পারে।’

এই দরপতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো, বেক্সিমকো লিমিটেড, ওয়ালটন, সামিট পাওয়ার, বেক্সিমকো ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, গ্রামীণ ফোন, ইউনাইটেড পাওয়ার ও রবি।

পুঁজিবাজার পড়ছেই, বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভে
সূচক টেনে নামানোয় প্রধান ভূমিকায় ছিল এই ১০টি কোম্পানি

এই ১০টি কোম্পানিই কেবল সূচক ফেলেছে ৬৮ পয়েন্ট।

বিপরীতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ফরচুন সুজ, ডেল্টা লাইফ, রেনাটা, সোনালী পেপার, বিবিএস ক্যাবলস, ওরিয়ন ফার্মা, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, শেফার্ড ও ম্যাকসন্স স্পিনিং মিলস সূচকে যোগ করেছে ১০.৭৮ পয়েন্ট।

হতাশা থেকে বিক্ষোভে বিনিয়োগকারীরা

সোমবার সূচকের শতক পতনে আতঙ্কে রাস্তায় নেমেছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। সঙ্গে ছিল বাংলাদেশ বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

সকালের সূচকের পতনের থাক্কা যখন দেড়শ পয়েন্টের কাছাকাছি তখন মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল ফটকের সামনে মানববন্ধনে দাঁড়ান বিনিয়োগকারীরা।

এ সময় প্রায় অর্ধশতাধিক বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারের এমন পতনকে অস্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের বক্তব্য, পুঁজিবাজার ভালো ছিল। একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে পুঁজিবাজার থেকে মুনাফা উত্তলনের নামে সূচকের পতন ত্বরান্বিত করছে।

বর্তমান কমিশনের আন্তরিকতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা বলেন, বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজারের প্রতি আন্তরিক ছিল বলেই ৪ হাজার সূচক ৭ হাজারে উঠেছে। কমিশন নানা উদ্যোগে এখনও লেনদেন হাজার কোটি টাকায় বিদ্যমান আছে। তারপরও একটি মহল পুঁজিবাজারকে খারাপ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কমিশনের উচিত হবে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে শান্তির আওতায় আনা।

এর আগে গত সপ্তাহের মঙ্গলবার যখন পুঁজিবাজারে সূচকের বড় পতন হয়েছিল তখন ডিএসইর স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করে বিএসইসি। যেখানে একটি ব্রোকারেজ হাউজকে চিহিৃত করা হয়, যারা এককভাবে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সূচকের পতনে ভূমিকা রেখেছিল।

বৈঠক শেষে এও জানানো হয়েছিল, পরবর্তী কার্যদিবসে পুঁজিবাজার আবারও গতি পাবে। পেয়েও ছিল। টানা ছয় দিন সূচক পতনের পর বৃহস্পতিবার উত্থানে ফেরে পুঁজিবাজার।

তারপর চলতি সপ্তাহের শুরুতে আবার সেই পতন। রোববার ৭০ পয়েন্ট আর সোমবার ১২০ পয়েন্ট পতনে সূচকে এসে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৮৫ পয়েন্টে।

আন্দোলন সম্পর্কে ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক নিউজবাংলাকে বলেন, ভালো একটি পুঁজিবাজার ছিল। সূচক ও লেনদেনের বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকারীরাও এতদিন যে হতাশার মধ্যে ছিল সেখান থেকে বের হয়ে আসছিল। কিন্তু আমাদের মনে হচ্ছে বর্তমান বাজার ইনসাইডার ট্রেডিং হচ্ছে। পুঁজিবাজারে আরও পতন হবে এমন গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগাকারীদের শেয়ার বিক্রিতে উৎসাহী করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কমিশন যেভাবে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল তাতে আতঙ্কের কিছু ছিল না। কিন্তু এখন যে অবস্থার মধ্যে আছে সেখান থেকে দ্রুত উত্তরণ হওয়া উচিত। তা না হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিনিয়োগ হারানোর আতঙ্ক আরও প্রকট হবে।

দর পতন ছুঁয়েছে সব খাতে

রোববারের যেন পুরাবৃত্তি হয়েছে সোমবার। সূচকের পতনের হার কম থাকলেও সোমবার আরও বেশি কমেছে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স। এমন অবস্থায় রেহায় পায়নি কোনো খাত।

বস্ত্র খাতে ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ৪৯টির, বেড়েছে কেবল নয়টির। লেনদেন হয়েছে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৮৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে আর্থিক খাতে দর বেড়েছে একটির, কমেছে ২১টির দর। লেনদেন হয়েছে ৬৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪৯ কোটি ১১ লাখ টাকা।

বস্ত্র খাতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজের। শেয়ার দর ২৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা ৬০ পয়সা। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর ২ টাকা ৭০ পয়সা বা ৯.৬৭ শতাংশ বেড়েছে।

এ খাতের দর বৃদ্ধিতে দ্বিতীয় স্থানে আছে মালেক স্পিনিং, যার শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৪.৮৬ শতাংশ। মতিন স্পিনিং মিলসের শেয়ার দর বেড়েছে ৪.০৬ শতাংশ।

অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে ড্রাগন সোয়েটার লিমিটেডের ৮.৯০ শতাংশ।

তুং হাইয়ের দর কমেছে ৮.১৯ শতাংশ। এ ছাড়া, এ খাতের তাল্লু স্পিনিংয়ের ৭.৪০, জাহিন স্পিনিংয়ের ৭.২২ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।

আর্থিক খাতে একমাত্র কোম্পানি হিসেবে ন্যাশনাল হাইজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স লিমিটেডের শেয়ার দর বেড়েছে দশমকি ৪৫ শতাংশ। আগের দিন রোববারও এ খাতের মাত্র একটি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছিল, সেটি ছিল আইডিএলসি।

প্রকৌশল খাতে ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ৩৮টি। বেড়েছে ৩টির দর আর দর ধরে রাখতে পেরেছে একটি। লেনদেন হয়েছে ৮৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৭১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এই খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে অলিম্পিক এক্সসোসরিজ লিমিটেড ৯.৯১ শতাংশ। শেয়ার দর ১১ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ১০ টাকা। এস আলম কোল্ড স্টোরিজ লিমিটেডের শেয়ার দর কমেছে ৭.২৬ শতাংশ। গোল্ডেন সনের শেয়ার দর ১৮ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৬.৫৮ শতাংশ কমে হয়েছে ১৭ টাকা।

এ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল বিবিএস ক্যাবলের শেয়ারে। কোম্পানিটির দর বেড়েছে ৪.৭১ শতাংশ। এ ছাড়া, ইস্টার্ন ক্যাবলের দর বেড়েছে ১ টাকা ৫১ পয়সা বা দশমিক ৬৫ শতাংশ।

লেনদেন কমার পাশাপাশি শেয়ার প্রতি দরও কমেছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের। এই খাতের ৩১টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে কেবল ৭টির, কমেছে ২৩টির দর। লেনদেন হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৩১ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

এ খাতের সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে ওরিয়ান ফার্মার ১.৮৯ শতাংশ। আগের দিন রোববারও এই কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছিল ৪.৪৩ শতাংশ। লেনদেনে ওরিয়ান ফার্মার শেয়ার দর ১১০ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১১২ টাকা ৭০ পয়সা।

তারপরই ছিল বিকনফার্মা, যার শেয়ার প্রতি দর ১ টাকা ৫০ পয়সা বা দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ার দর ২০৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১১ টাকা। ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার দর বেড়েছে দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এই খাতের সবচেয়ে বেশি ৬.৬০ শতাংশ দর হারিয়েছে গ্লোবাল হ্যাভি কেমিক্যাল। এ ছাড়া এম্বিফার্মার শেয়ার দর কমেছে ৫.৬৩ শতাংশ। কেয়া কসমেটিক্সের শেয়ার দর কমেছে ৫.৫৫ শতাংশ।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১টি কোম্পানির দর বৃ্দ্ধির বিপরীতে কমেছে ১০টির দর। লেনদেন হয়েছে ৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৬৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ৩৬টির মধ্যে ৩টির দাম বেড়েছে। কমেছে ২৩টি ফান্ডের। এই খাতে হাতবদল হয়েছে কেবল ১৮ কোটি টাকা। আগের দিন হাতবদল হয়েছিল ১০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। আর আগের দিন বৃহস্পতিবার হাতবদল হয়েছিল ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ২০টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৯টির, কমেছে ১১টির। এই খাতে লেনদেন হয়েছে ৭৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।

সূচক ও লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২০ দশমিক ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৮৫ দশমিক ২৯ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ২২ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬৫ দশমিক ৬০ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ৫৩ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৪৪ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৬৮ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
মেয়াদ বৃদ্ধি নিশ্চিতের পর সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টায় কেপিসিএল
বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট
কেপিসিএল: মেয়াদ বৃদ্ধির শর্ত চূড়ান্তে আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়েনি, কোম্পানির সতর্কবার্তা

শেয়ার করুন

শর্তে তালা খোলা হলো ইউনাইটেড এয়ার কার্যালয়ের

শর্তে তালা খোলা হলো ইউনাইটেড এয়ার কার্যালয়ের

ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজ। ফাইল ছবি

বেবিচকের হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারের কাছে তাদের পাওনা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৩ টাকা। এ টাকা আদায়ে চলতি বছরের শুরুতে এয়ারলাইনসটির পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো নিলামের উদ্যোগ নেয় বেবিচক। অবশ্য পরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচালনা পর্ষদের অনুরোধে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সংস্থাটি।

পরিত্যক্ত উড়োজাহাজ পরিদর্শনের পর এবার শর্তসাপেক্ষে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কার্যালয়গুলোতে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ।

এয়ারলাইনসটি বলছে, এখন কার্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে তারা। ২০১৬ সাল থেকে এগুলো বন্ধ ছিল।

ইউনাইটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এটিএম নজরুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার অফিসগুলো খোলা হয়েছে। এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে। কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারাটা বড় অগ্রগতি।’

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত ৯টি উড়োজাহাজ পরিদর্শন করে এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ। সে সময় এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ বলেছিল, উড়োজাহাজগুলোর অবস্থা যতটা খারাপ ভাবা হচ্ছিল, তার চেয়েও ভালো অবস্থায় আছে, তবে এগুলো ওড়ার উপযোগী করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে ইঞ্জিনিয়ারিং অডিটের পর।

কার্যালয়ে প্রবেশাধিকার মিললেও এয়ারলাইনসটি আবারও পাখা মেলতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। অবশ্য প্রবেশাধিকার পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে কার্যালয়ে থাকা এয়ারলাইনসটির গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং উড়োজাহাজের টেকনিক্যাল লগ বুকগুলো পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবে কর্তৃপক্ষ।

শর্তে তালা খোলা হলো ইউনাইটেড এয়ার কার্যালয়ের

এয়ারলাইনসটিকে পুনরায় সচল করা যাবে কি না, তাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা এতে সহজ হবে। পাশাপাশি উড়োজাহাজগুলো কী অবস্থায় আছে এবং এগুলো পুনরায় সচল করা যাবে কি না, তা সম্বন্ধেও ধারণা পাওয়া যাবে নথি বিশ্লেষণে।

এটিএম নজরুল বলেন, ‘আমরা একটি টিম করেছি ইঞ্জিনিয়ার এবং পাইলটদের নিয়ে। তারা ফিজিক্যালি উড়োজাহাজগুলো পরিদর্শন করবে। আমাদের যে ডকুমেন্টগুলো এখানে আছে, সেগুলো তারা অডিট করবে। হয়তো এটা ৪০ ভাগ কাজে লাগবে। এটা না হলে বোঝা যাবে না উড়োজাহাজগুলো কী অবস্থায় আছে। লগ বইগুলো স্টাডি করে তারা একটি রিপোর্ট করবে। সেটা হয়ে গেলে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব।

‘এটা ডিপেন্ড করছে সিভিল সিভিল এভিয়েশেনের অনুমতির ওপর। তারা আমাদের এই টিমকে বিমানবন্দরে প্রবেশের অনুমতি দিলে আমরা কাজ শুরু করতে পারব। আমরা আশা করি, এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে অনুমতি পাব।’

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ার ২০১৬ সালে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কোম্পানির শেয়ার দর নামতে নামতে দুই টাকার নিচে নেমে আসে। বিএসইসি মূল মার্কেট থেকে কোম্পানিটিকে স্থানান্তর করে ওভার দ্য কাউন্টার বা ওটিসি মার্কেটে। সেখানে শেয়ার লেনদেন জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে লেনদেনও হচ্ছে না। এতে ৭২ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ারের মালিকদের টাকা কার্যত শূন্য হয়ে গেছে।

এর প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারের বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে দেয় বিএসইসি। পরিচালনা পর্ষদের প্রধান তাসবিরুল আলম চৌধুরীকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয় এভিয়েশন খাতের পরিচিত মুখ কাজী ওয়াহিদুল আলমকে। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আসেন এটিএম নজরুল ইসলাম, যিনি এর আগে ইউনাইটেড এবং জিএমজি এয়ারলাইনসের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত ইউনাইটেড এয়ারের কাছে তাদের পাওনা টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৪৯৩ টাকা। এ টাকা আদায়ে চলতি বছরের শুরুতে এয়ারলাইনসটির পরিত্যক্ত উড়োজাহাজগুলো নিলামের উদ্যোগ নেয় বেবিচক। অবশ্য পরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচালনা পর্ষদের অনুরোধে সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সংস্থাটি।

দেনা-পাওনার বিষয়ে ইউনাইটেডের এমডি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সিভিল এভিয়েশনের যে শর্ত ছিল যে দেনা পাওনার বিষয়ে, তারা সেটি সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে যে কী হবে। মিনিস্ট্রি সিভিল এভিয়েশনকে একটি চিঠি দিয়েছে তাদের মতামত চেয়ে।

‘তারা মিনিস্ট্রিতে চিঠি পাঠাবে। সেটা না আসা পর্যন্ত আমাদের প্রোগ্রেস আটকে থাকবে। এটা হলে ফরমালি আমাদের সম্পদে অ্যাকসেস পাব। এখন যেটা পাচ্ছি, তাতে যদি কিছু করতে চাই, সেটা পারছি না।’

আরও পড়ুন:
মেয়াদ বৃদ্ধি নিশ্চিতের পর সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টায় কেপিসিএল
বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট
কেপিসিএল: মেয়াদ বৃদ্ধির শর্ত চূড়ান্তে আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়েনি, কোম্পানির সতর্কবার্তা

শেয়ার করুন

ড্রাগন সোয়েটারের আবার বোনাস লভ্যাংশ

ড্রাগন সোয়েটারের আবার বোনাস লভ্যাংশ

ড্রাগন সোয়েটারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা। ছবি: কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে নেয়া

তালিকাভুক্তির বছর ২০১৬ ও তার পরের বছর ১৫ শতাংশ করে, ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালে দেয়া হয় ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার। মাঝে ২০১৮ সালে ২০ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি দেয়া হয় ৫ শতাংশ নগদ। অর্থাৎ সে বছর শেয়ারপ্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ পান বিনিয়োগকারীরা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি ড্রাগন সোয়েটার লভ্যাংশ হিসেবে আবার বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে।

গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ শেয়ারধারীরা প্রতি ১০টি শেয়ারের বিপরীতে একটি পাবেন লভ্যাংশ হিসেবে।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে কেবল এক বছর বোনাসের সঙ্গে কিছু নগদ লভ্যাংশ দেয়া হয়েছিল। বাকি প্রতিবছরই লভ্যাংশ হিসেবে দেয়া হয় বোনাস শেয়ার।

এর মধ্যে তালিকাভুক্তি ও তার পরের বছর ১৫ শতাংশ করে, ২০১৯ সালে ১০ শতাংশ এবং ২০২০ সালে দেয়া হয় ২০ শতাংশ বোনাস শেয়ার। মাঝে ২০১৮ সালে ২০ শতাংশ বোনাসের পাশাপাশি দেয়া হয় ৫ শতাংশ নগদ। অর্থাৎ সে বছর শেয়ারপ্রতি ৫০ পয়সা লভ্যাংশ পান বিনিয়োগকারীরা।

করোনার বছরে কোম্পানিটির আয় আগের বছরের আয়ের প্রায় সমান। তবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কমেছে।

২০২০ সালের জুলাই থেকে গত জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২২ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা।

গত মার্চ পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ৯২ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৭১ পয়সা।

তবে শেষ প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির আয় গত বছরের চেয়ে কম হয়েছে। এবার এই আয় হয়েছে ৩০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ৫২ পয়সা।

আগের বছর কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেয়ার কারণে সম্পদমূল্য কমে গেছে। গত বছর শেয়ারপ্রতি সম্পদ ছিল ১৮ টাকা ৯৮ পয়সা। সেটি কমে এবার দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৭২ পয়সা।

কোম্পানিটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৪ নভেম্বর। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদের সেদিন শেয়ার ধরে রাখতে হবে। এই লভ্যাংশ অনুমোদনের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে আগামী ৫ ডিসেম্বর।

প্রতিবছরই দেখা গেছে লভ্যাংশ ঘোষণার পর ড্রাগনের শেয়ার দর পড়ে যায়, পরে লভ্যাংশ ঘোষণার আগে আগে আবার বাড়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

গত এপ্রিলেও কোম্পানিটির শেয়ার ১০ টাকার নিচে লেনদেন হয়েছে। সেখান থেকে উত্থান হয়ে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ওঠে ২৪ টাকা ৮০ পয়সায়। তবে গত দুই সপ্তাহে কিছুটা সংশোধন হয়ে দাম দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ১০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
মেয়াদ বৃদ্ধি নিশ্চিতের পর সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টায় কেপিসিএল
বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বৃদ্ধির অগ্রগতি জানাল সামিট
কেপিসিএল: মেয়াদ বৃদ্ধির শর্ত চূড়ান্তে আবার বৈঠকের সিদ্ধান্ত
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়ছে তিন বছর
কেপিসিএলের মেয়াদ বাড়েনি, কোম্পানির সতর্কবার্তা

শেয়ার করুন