শরিকরা চলে গেলে বিএনপি খুশি

শরিকরা চলে গেলে বিএনপি খুশি

২০ দলের বৈঠকে বিভিন্ন দলের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এরা তো (জোটের শরিক) সুযোগসন্ধানী। নিজেদের তেমন অস্তিত্ব নেই। বটগাছ খোঁজে। আবার স্বার্থ উদ্ধার না হওয়াতে ছেড়ে দেয়। আমাদের এসবে মাথাব্যথা নেই। জোটের কিছু শরিক দল নিয়ে এমনিতেও আমাদের অনীহা ছিল। নানা কারণে বিএনপি ছাড়তে পারেনি। তবে বিএনপি বারবার তাদের এটাই বুঝিয়েছে যে, জোটে তাদের গুরুত্ব নেই।’

প্রায় দুই যুগ পর জোট নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছে বিএনপি। পঞ্চম দল হিসেবে খেলাফত মজলিস জোট ছেড়ে দেয়ার পর এমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে বিএনপির পক্ষ থেকে।

এর আগে বিএনপির যে শরিকরাই জোট ছেড়েছেন, সেই দলের কোনো না কোনো নেতা তাৎক্ষণিক নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করে একই নামে দল করে ২০-দলীয় জোটে থেকে গেছেন। কিন্তু এবার খেলাফত মজলিস চলে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত কেউ এমন ঘোষণা দেননি। ফলে কার্যত এখন ১৯-দলীয় জোটে পরিণত হয়েছে।

দলটি জোট ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত ২০১৯ সালেই নিয়ে রেখেছিল। সেই সিদ্ধান্ত গত কয়েক দিন ধরেই গণমাধ্যমে আসছে যে, শুক্রবার মজলিসে শুরার বৈঠকে জোট ছাড়ার ঘোষণা আসবে।

কিন্তু বিএনপির কোনো পক্ষ থেকে দলটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।

এ বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের একজন নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপি তো এমনিতেও এই শরিক দলগুলোকে নিয়ে আর পথ চলতে চায় না। তবে সব কিছুর একটা বাইন্ডিংস আছে। তাই চুপ করে থাকা। তবে এরই মধ্যে আমরা বুঝলাম, আমাদের ভাবনা সঠিক ছিল। তারা চলে যাচ্ছেন যাক।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানের বক্তব্যেও দলের এই নীতির ইঙ্গিত পাওয়া গেল। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেখুন, জোট তো সমন্বয়। জোরজবরদস্তি না। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, এটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত। লাভ-লোকসানের একটা ব্যাপার আছে। সেটা তো আমাদের মাথায় রাখতে হবে। বিএনপি জানল তাদের সিদ্ধান্ত। বিএনপি তো নিজেই একটি বড় দল। এ রকম ঘটনায় তেমন প্রতিক্রিয়াও বিএনপির দেয়ার নেই। এটা বড় কোনো ঘটনা না।’

বিএনপির এই জোট নিয়ে যে আগ্রহ নেই, সেটি গত দুই বছরের তৎপরতাতেই স্পষ্ট। এই সময়ে জোটের বৈঠক হয়নি, শরিকরা বারবার এ নিয়ে অভিযোগ করে এলেও গা করেনি বিএনপি।

শরিকরা চলে গেলে বিএনপি খুশি
২০ দলীয় জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে খেলাফত মজলিসের সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসেন। পাশে দলের আমির মোহাম্মদ ইসহাক। ছবি: নিউজবাংলা

এই জোটে ২০টি দল থাকলেও বিএনপির পর জামায়াতেরই শুধু সারা দেশে কিছুটা শক্তি আছে। বিএনপি জোটের মধ্যে এই দলটিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছে। কিন্তু এবার সেই গুরুত্বও কমতে শুরু করেছে। এই দলটির সঙ্গেও কার্যত যোগাযোগ করছে না বিএনপি।

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের দুই বছর আগে জোটবদ্ধ রাজনীতি শুরু করা বিএনপির নেতা-কর্মীরা গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে শরিকদের প্রতি বীতশ্রদ্ধ।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ভোটে বিএনপির ভরাডুবির পেছনে যে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত সংশ্রব দায়ী, সেটি দলের পক্ষ থেকে গঠন করা ১০টি কমিটির ৯টি প্রতিবেদন দিয়েছিল।

এরপর ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলনের সময় যে নজিরবিহীন সহিংসতা হয়েছিল, তার দায়ও জামায়াতকেই দিয়ে থাকে বিএনপি।

জামায়াতকে জোট থেকে বের করে দেয়ার বিষয়ে চলতি বছরের শুরুতে বিএনপি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছিয়ে এসেছে। তবে সম্প্রতি দলটি আবারও বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।

বিএনপির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হচ্ছে, তারা জোট না রেখে এককভাবে চলবে। তবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মতের অপেক্ষায় তারা।

দশম সংসদ নির্বাচন জোটের শরিকদের নিয়ে বর্জন করা বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসে আরও নতুন জোট নিয়ে। একই সঙ্গে আগের ২০-দলীয় জোটের পাশাপাশি নতুন করে গঠন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এই জোট ছিল বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য বিব্রতকর। ছোট ছোট দলের নেতারা বিএনপির নেতাদের ছাড়িয়ে ঐক্যফ্রন্টে সামনে চলে আসেন। কখনও কোনো আসনে জিততে না পারা গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন হয়ে যান জোটের শীর্ষ নেতা।

আওয়ামী লীগ ছেড়ে নাগরিক ঐক্য গঠন করা মাহমুদুর রহমান মান্না, বিগত যৌবনা রাজনীতিক আ স ম আবদুর রব, ভোটের রাজনীতিতে কখনও অংশ না নেয়া জাফরুল্লাহ চৌধুরীও সে সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চেয়ে জোটে কার্যত বেশি গুরুত্ব পেয়েছেন।

২০ দলের পাশাপাশি এই জোট নিয়ে বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা যে নাখোশ ছিলেন, সেটি স্পষ্ট হয়েছে দলের সাম্প্রতিক বৈঠকে।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে জোট থেকে বের করে দিতে যেমন জোর দাবি তুলেছেন বিএনপির নেতারা, তেমনি ঐক্যফ্রন্টকে আর এগিয়ে না নেয়ার কথা বলেছেন তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এরা তো (জোটের শরিক) সুযোগসন্ধানী। নিজেদের তেমন অস্তিত্ব নেই। বটগাছ খোঁজে। আবার স্বার্থ উদ্ধার না হওয়াতে ছেড়ে দেয়। আমাদের এসবে মাথাব্যথা নেই। জোটের কিছু শরিক দল নিয়ে এমনিতেও আমাদের অনীহা ছিল। নানা কারণে বিএনপি ছাড়তে পারেনি। তবে বিএনপি বারবার তাদের এটাই বুঝিয়েছে যে, জোটে তাদের গুরুত্ব নেই।’

কল্যাণ পার্টির জোট ছাড়ার হুমকিকে পাত্তাই দেয়নি বিএনপি

গত ১০ সেপ্টেম্বর দলটির প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘প্রধান শরিক বিএনপি যদি জোটকে সক্রিয় করতে চায়, যদি অতীতের ভুলগুলো আত্মসমালোচনা করে পরিবেশ ভিন্ন করতে পারে, তাহলে আমরা একসঙ্গে পথ চলব। না হলে যদি প্রয়োজন পরে আমরা নিশ্চিতভাবে গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের আন্দোলনে আলাদা ভূমিকা রাখব।’

এই বক্তব্যের পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। ইবরাহিমের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ ঘোচাতে বিএনপির দৃশ্যত কোনো উদ্যোগ নেই।

বরং কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান এই বক্তব্য রাখার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম ছোটোখাটো দল আসবে-যাবে, এগুলোকে এমন পাত্তা দেয়ার কিছু নেই।’

ইবরাহিম ছাড়াও অলি আহমদের এলডিপিও জোটে থাকতে চায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা আছে প্রায় দুই বছর ধরেই।

২০১৯ সালের জুনের শেষে অলি আহমদের নেতৃত্বে ২০ দলের কয়েকটি শরিক দল মিলে গঠন করা হয় ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামের একটি মোর্চা। এতে কল্যাণ পার্টি ছাড়াও ২০ দলের আরেক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপাও ছিল।

এই মঞ্চ গঠন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে এসব দলের নেতাদের দূরত্বের সংবাদ আসে গণমাধ্যমে। তবে পরে বিষয়টি আর খুব একটা আগায়নি।

বিএনপির একাধিক নেতা নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, অলি আহমদের সঙ্গে কোনো রকম সম্পর্ক না রাখতে নেতা-কর্মীদের বলা হয়েছে। সে নির্দেশনা অনুযায়ীই এখন পর্যন্ত চলছে সবাই।

এর আগে যেসব দল জোট ছেড়েছে

এর আগে বিএনপির জোট ছেড়ে দেয় চারটি দল।

২০১৬ সালের ৭ জুন ২০-দলীয় জোট ছেড়ে যায় মুফতি ফজলুল হক আমিনীর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী ঐক্যজোট।

২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর ২০-দলীয় জোট ছেড়ে যায় লেবার পার্টি।

২০১৯ সালের ৬ মে ২০ দল ছাড়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ।

সবশেষ গত ১৪ জুলাই জোট ছেড়ে যায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।

বিএনপির শরিকরা জোট ছেড়ে গেলেও তাতে জোটে দলের সংখ্যায় কোনো হেরফের হয়নি। কারণ যখনই কোনো দল জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে, তখনই দলের অন্য একজন নেতার নেতৃত্বে একাংশ একই নামে আলাদা দলের ঘোষণা দিয়ে ২০ দলে থেকে গেছে।

আরও পড়ুন:
পঞ্চম দল হিসেবে বিএনপির জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস
বিএনপির জোট ছাড়ছে আরও এক শরিক
বিএনপির জোট ছেড়ে যাওয়ার হুমকি কল্যাণ পার্টিরও
কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিরোধী দল চাই, তবে রাষ্ট্রবিরোধী নয়: তাজুল ইসলাম

বিরোধী দল চাই, তবে রাষ্ট্রবিরোধী নয়: তাজুল ইসলাম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল অবশ্যই থাকবে। না থাকার কোনো সুযোগ নেই। আমরা শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দল চাই। তবে রাষ্ট্রবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী দল চাই না।'

দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল চাইলেও রাষ্ট্রবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী দল চান না স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সোমবার তিনি এ কথা বলেন।

রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সভায় তাজুল ইসলাম বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল অবশ্যই থাকবে। না থাকার কোনো সুযোগ নেই। আমরা শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দল চাই। তবে রাষ্ট্রবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী দল চাই না।

‘যারা মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনে তারা নয়, যে দল মানুষের কল্যাণে কাজ করবে তাদের চাই। বিরোধী দল সৃজনশীল হবে, সরকারের দোষ-ত্রুটি, ভুল-ভ্রান্তি জনগণের সামনে তুলে ধরে সরকারকে জবাবদিহির ব্যবস্থা করবে। এমন বিরোধী দল দেশে দরকার।’

তিনি বলেন, ‘এটা হলে সরকার তাদের দায়িত্ব পালনে আরও বেশি সতর্ক হবে। কিন্তু দেশকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য, উন্নয়নকে ব্যাহত করার জন্য এবং বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য চেষ্টায় থাকা বিরোধী দল না থাকা ভালো।

‘রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে দেশকে পরিচর্যা করা, মানুষের সেবা করা। ইচ্ছাকৃতভাবে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা না। আর এটা করার অধিকার কারও নেই। যত ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাব।’

বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণা করে মন্ত্রী বলেন, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব এবং ছোট্ট শিশু রাসেলকে ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করে। রাসেল হত্যার নিষ্ঠুরতা যদি নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করা যায় তাহলে তারা সেদিনের নির্মমতা অনুধাবন করতে পারবে। শেখ রাসেল ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। তাঁর সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মকে জানতে হবে। শেখ রাসেলের জীবনী পড়লে বর্তমান প্রজন্মের সৃজনশীলতা আরও বাড়বে।

‘শেখ রাসেলকে কেন হত্যা করা হয়েছে? তার কী দোষ ছিল? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করেছেন, মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিয়েছেন। তিনি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার জন্য কি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে? এসব প্রশ্ন আমাদের খুব ব্যথিত করে।’

আরও পড়ুন:
পঞ্চম দল হিসেবে বিএনপির জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস
বিএনপির জোট ছাড়ছে আরও এক শরিক
বিএনপির জোট ছেড়ে যাওয়ার হুমকি কল্যাণ পার্টিরও
কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

‘সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি’

‘সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে বিএনপি’

বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

বরিশালে সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতা আফজাল বলেন, তারেক জিয়ার নেতৃত্বে নানা অপকর্ম হয়েছে। মানুষটির মগজ থেকে ২১ আগস্টের মত ঘটনা তৈরি হয়েছে। তার দল বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখছে।

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

সোমবার বিকালে বরিশাল নগরীর একটি হোটেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সংঘাত নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি একটি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। তারা মুখে মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেও ধর্মান্ধ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দেয়। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন ঠেকানোর নামে দলটি সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়েছিল।

ফেসবুকে যারা গুজব ছড়াবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

সংবাদ সম্মেলনে আফজাল আরও বলেন, তারেক জিয়ার নেতৃত্বে নানা অপকর্ম হয়েছে। মানুষটির মগজ থেকে ২১ আগস্টের মত ঘটনা তৈরি হয়েছে। তার দল বিএনপি সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার দিবা স্বপ্ন দেখছে।

তিনি বলেন, যেসব স্থানে হামলা, ভাংচুর হয়েছে সেখানে স্থানীয়ভাবে সংকট থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তি সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে আফজাল বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য আওয়ামী লীগ একাট্টা। সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টি করে যারা হত্যা, সন্ত্রাস করে তাদের বিচার হবে না, তা হতে পারে না।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলা ঠেকাতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

দক্ষিণাঞ্চলের দলীয় সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো: ইউনুস, ঝালকাঠী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনিরসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
পঞ্চম দল হিসেবে বিএনপির জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস
বিএনপির জোট ছাড়ছে আরও এক শরিক
বিএনপির জোট ছেড়ে যাওয়ার হুমকি কল্যাণ পার্টিরও
কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

সম্প্রীতি শোভাযাত্রার ডাক যুবলীগের

সম্প্রীতি শোভাযাত্রার ডাক যুবলীগের

গত কিছু দিনে বিভিন্ন মন্দির-মণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফাইল ছবি

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক কর্মসূচি পালিত হবে। সারা দেশে যুবলীগের প্রতিটি ইউনিটকেও একই কর্মসূচি পালন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি শোভাযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে যুবলীগ।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় রাজধানীর গুলিস্তানের ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কর্মসূচি পালিত হবে। সারা দেশে যুবলীগের প্রতিটি ইউনিটকেও একই কর্মসূচি পালন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত শোভাযাত্রায় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল উপস্থিত থাকবেন।

দুর্গাপূজা চলাকালে কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির, পূজামণ্ডপ ও ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয় হিন্দুদের অন্তত ২০টি ঘর।

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা হামলার প্রতিবাদে বেশ সরব হয়েছেন। তবে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে সরকার।

আওয়ামী লীগ দাবি করছে, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এ হামলাগুলোতে ইন্ধন দিয়েছে বিএনপি। আর বিএনপি দায়ী করছে সরকারকে।

এ ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ফেইসবুকে সাম্প্রদায়িক স্ট্যাটাস দেয়ায় পদ হারিয়েছেন ছাত্রলীগের অন্তত ১২ জন নেতা।

আরও পড়ুন:
পঞ্চম দল হিসেবে বিএনপির জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস
বিএনপির জোট ছাড়ছে আরও এক শরিক
বিএনপির জোট ছেড়ে যাওয়ার হুমকি কল্যাণ পার্টিরও
কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

আঘাত দিয়ে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না: খালিদ

আঘাত দিয়ে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না: খালিদ

দুর্গাপূজায় কুমিল্লায় মণ্ডপে চালানো হয় প্রথম হামলা। ফাইল ছবি

‘তারা মাথা নিচু করে, কুকুরের মতো লেজ গুটিয়ে আজকে চোরাগোপ্তা হামলা করছে। এই চোরাগোপ্তা হামলাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’

সাম্প্রদায়িক আঘাত করে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

রাজধানীর বিআইডব্লিউটিসিতে সোমবার শেখ রাসেল দিবসের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক আঘাত দিয়ে বাংলাদেশকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আবার নতুনভাবে আঘাত হানছে।

‘তারা মাথা নিচু করে, কুকুরের মতো লেজ গুটিয়ে আজকে চোরাগোপ্তা হামলা করছে। এই চোরাগোপ্তা হামলাও বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, বাংলাদেশের জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।’

খালিদ বলেন, ‘পঁচাত্তর থেকে আজকে ২০২১ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৬ বছর যাবত বাংলাদেশে একই গল্প শোনানো হয়েছে, সাম্প্রদায়িকতার গল্প। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক বীজ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। পারে নাই।

‘আমরা যখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। দারিদ্র্যকে দূর করে যখন একটা উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যখন এ বাংলাদেশ রাসেলের মতো শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ দেশে পরিণত হচ্ছে, তখন সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে এই বাংলাদেশকে আবার পেছনে টেনে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

সব ধর্মের মানুষই এ দেশের নাগরিক উল্লেখ করে খালিদ বলেন, ‘সম্মিলিতভাবে এখানে এই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। এই যে, সম্মিলিত রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে সংবিধান রচিত হয়েছিল।’

আরও পড়ুন:
পঞ্চম দল হিসেবে বিএনপির জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস
বিএনপির জোট ছাড়ছে আরও এক শরিক
বিএনপির জোট ছেড়ে যাওয়ার হুমকি কল্যাণ পার্টিরও
কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: বিএনপির দুই কমিটি

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: বিএনপির দুই কমিটি

ফাইল ছবি

প্রথম কমিটি উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করবে। দ্বিতীয় কমিটি ঘটনাগুলোর তদন্ত করে বিএনপির কেন্দ্রে প্রতিবেদন দেবে।

দেশের নানা প্রান্তে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্য সরকার সমর্থকদেরকে দায়ী করার পর ঘটনা তদন্ত করতে দুইটি কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।

সোমবার দুপুরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দুটি কমিটির একটির নেতৃত্বে আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং একটির নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল।

প্রথম কমিটি উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সহমর্মিতা প্রকাশ করবে। দ্বিতীয় কমিটি ঘটনাগুলোর তদন্ত করে বিএনপির কেন্দ্রে প্রতিবেদন দেবে।

আগের রাতে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় এই কমিটি গঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা তাদের অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘ স্থায়ী করার লক্ষ্যে বিভাজনের রাজনীতি করছে। রাজনৈতিক দূরভিসন্ধির কারণেই এই রক্তপাত, লুটতরাজ চলছে।’

গত বুধবার দুর্গাপূজা চলাকালে কুমিল্লার একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন পাওয়াকে কেন্দ্র করে সেই মণ্ডপটি ভাঙচুর করা হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির, মণ্ডপে চলে হামলা। এর মধ্যে রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুনও দেয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক এসব হামলার প্রতিবাদও করছেন বহুজন। এমনকি ধর্মীয় অনেক নেতাও সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলছেন, যে মুসলমানরা এ ধরনের হামলা করছেন তারাই ইসলামের অবমাননা করছেন।

সরকারও এসব ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কয়েক হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে দুই শতাধিক। তবে এর মধ্যেই গতরাতে রংপুরের পীরগঞ্জের ঘটনাটি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ফখরুল জানান, তার দলের স্থায়ী কমিটি মনে করে এসব হামলায় সরকার সমর্থকরা জড়িত। দেশে রাজনৈতিক সংকট আছে দাবি করে তিনি এও বলেন যে, তার দল মনে করে এই সংকট থেকে দৃষ্টি সরাতে সাম্প্রদায়িক সংকট তৈরি করছে।

ফখরুল বলেন, তাদের দলের স্থায়ী কমিটি সনাতন ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় এবং সকল ধর্মে মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করনে সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করা হয়।

অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবিও জানানো হয়।

কোনো তদন্ত ছাড়াই বিএনপি এর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদেরকে বাড়ি-ঘরে পুলিশি তল্লাশি চালানো হচ্ছে অভিযোগ করে এরও তীব্র নিন্দা জানান ফখরুল।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখতে সব নাগরিককে সচেতন হওয়ার অনুরোধও করেছে বিএনপি।

আরও পড়ুন:
পঞ্চম দল হিসেবে বিএনপির জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস
বিএনপির জোট ছাড়ছে আরও এক শরিক
বিএনপির জোট ছেড়ে যাওয়ার হুমকি কল্যাণ পার্টিরও
কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

রাজনৈতিক সংকট লুকাতে সাম্প্রদায়িক হামলা: বিএনপি

রাজনৈতিক সংকট লুকাতে সাম্প্রদায়িক হামলা: বিএনপি

জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে মিছিল এনে সিলেট নগরের আখালিয়ার হালদার পাড়ায় একটি পূজামণ্ডপে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

‘সভা (বিএনপির স্থায়ী কমিটি) মনে করে, বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার নিজেরাই এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সংকট সৃষ্টি করছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে পরিস্থিতি জটিলতর হয়েছে।’

দেশে রাজনৈতিক সংকট রয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি দাবি করেছে, এ সংকট লুকাতে সরকার এখন ইচ্ছা করে সাম্প্রদায়িক সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পূজামণ্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এর অংশ বলেই দাবি করেছে দলটি। তাদের অভিযোগ, এসবের পেছনে সরকার সমর্থকরা জড়িত।

সোমবার দুপুরে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ করা হয়।

রোববার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিটি পাঠানো হয়।

গত বুধবার দুর্গাপূজা চলাকালে কুমিল্লার একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন পাওয়াকে কেন্দ্র করে মণ্ডপটি ভাঙচুর করা হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মন্দির, মণ্ডপে চলে হামলা। এর মধ্যে রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আগুনও দেয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক এসব হামলার প্রতিবাদও করছেন বহুজন। এমনকি ধর্মীয় অনেক নেতাও সোচ্চার হয়েছেন। তারা বলছেন, যে মুসলমানরা এ ধরনের হামলা করছেন তারাই ইসলামের অবমাননা করছেন।

সরকারও এসব ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কয়েক হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছে দুই শতাধিক। তবে এর মধ্যেই গতরাতে রংপুরের পীরগঞ্জের ঘটনাটি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা ফখরুল দাবি করেন, কুমিল্লাসহ দেশের নানা প্রান্তে হিন্দুদের ওপর হামলায় জড়িত সরকার সমর্থকরা। তিনি বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সভায় সনাতন ধর্মের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সময়ে কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন শরিফের অবমাননা এবং পরবর্তীতে শাসকশ্রেণির মদদপুষ্ট দুষ্কৃতকারীদের পূজামণ্ডপে আক্রমণ, ভাঙচুর এবং তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর, গাজীপুর, নোয়াখালীর চৌমুহনী, চট্টগ্রাম, ঢাকায় পুলিশের নির্বিচারে গুলিবর্ষণ এবং নিরীহ পথচারী, শিশুসহ কয়েকজনের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।’

যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা বিএনপি কীভাবে দেখে, তা জানিয়ে দলের মহাসচিব বলেন, ‘সভা (স্থায়ী কমিটি) মনে করে, বিরাজমান রাজনৈতিক সংকট থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার নিজেরাই এ ধরনের সাম্প্রদায়িক সংকট সৃষ্টি করছে। প্রত্যেকটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে পরিস্থিতি জটিলতর হয়েছে।’

বিএনপির অভিযোগ ইন্টারনেটসহ ডিজিটাল সকল মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকার ক্ষমতার অপপ্রয়োগ চালাচ্ছে।

জনগণের মৌলিক অধিকার, স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বানও জানিয়েছে দলটি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান ফখরুল।

আরও পড়ুন:
পঞ্চম দল হিসেবে বিএনপির জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস
বিএনপির জোট ছাড়ছে আরও এক শরিক
বিএনপির জোট ছেড়ে যাওয়ার হুমকি কল্যাণ পার্টিরও
কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে ২ ভাইয়ের লড়াই

ইউপি নির্বাচন: চেয়ারম্যান পদে ২ ভাইয়ের লড়াই

সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামু (বাঁয়ে) এবারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার ছোট ভাই শেখ কামাল আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে করছেন। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থক কামরুজ্জামান কামু এবারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার ছোট ভাই শেখ কামাল আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থক কামরুজ্জামান কামু এবারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার ছোট ভাই শেখ কামাল আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আপন দুই ভাইয়ের ভোটযুদ্ধ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক বিবাদ চলছে। ফলে কেউই কাউকে ছাড় দেয়নি। একই পরিবার থেকে দুই ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিপাকে পড়েছেন পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশীরা।

কামরুজ্জামান কামু জানান, ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। গতবারও তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি মাত্র ৬৩ ভোটে পরাজিত হন।

তিনি বলেন, ‘আমি এলাকার মানুষের সুখে দুঃখে পাশে ছিলাম। দীর্ঘ দিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। এলাকাবাসীর চাপে এবারও নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এবারও আমিও জিতবো। ছোট ভাই প্রার্থী হবে বিষয়টি পরিবারের কারো সঙ্গে আলোচনা করেনি।’

অপরদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনিত প্রার্থী শেখ কামাল বলেন, ‘দলীয়ভাবে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। দলীয় প্রতীক পাবো ও নির্বাচনে প্রার্থী হবো এ বিষয়টি আমি তার (কামু) কর্মী সমর্থকদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও তিনি প্রার্থী হয়েছেন।’

আগামী ১১ নভেম্বর তেঁতুলিয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন হবে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আলী হোসেন জানান, এ ইউনিয়নে দুই ভাই ছাড়াও ৮ প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে ভোটার রয়েছে ৯ হাজার ১২৬ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৬০০; নারী ভোটার ৪ হাজার ৫২৬ জন।

আরও পড়ুন:
পঞ্চম দল হিসেবে বিএনপির জোট ছাড়ল খেলাফত মজলিস
বিএনপির জোট ছাড়ছে আরও এক শরিক
বিএনপির জোট ছেড়ে যাওয়ার হুমকি কল্যাণ পার্টিরও
কারও নির্দেশে জোট ছাড়িনি, এই হেডলাইনে নিউজ করেন
আরেক শরিক ছেড়ে গেল বিএনপির জোট

শেয়ার করুন