৭৭ সালে অভ্যুত্থানের নামে জিয়ার নির্মমতার বিচার দাবি

৭৭ সালে অভ্যুত্থানের নামে জিয়ার নির্মমতার বিচার দাবি

স্বজন হারানো কষ্টের স্মৃতি বর্ণনার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেনের ছেলে নূরে আলম। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

‘আমি শুনেছি আমার স্বামীকে ফাঁসি দেয়া হয়। কিন্তু আমার স্বামীর লাশ এখনও পাইনি। ৪৪ বছর আমি স্বামীহীন সংসার করছি। দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রেখে স্বামী চলে যান। সংশ্লিষ্ট বাহিনী থেকে একবার চিঠি দিয়ে জানানো হয় আমার স্বামীকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।’

অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগ এনে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সামরিক বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্মকর্তাদের হত্যার দায়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কেন্দ্রীয় কমান্ড’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই দাবি জানানো হয়।

ফাঁসির নামে হত্যার শিকার সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা ১২০টি পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। একে একে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে স্বজন হারানোর কষ্টের স্মৃতি বর্ণনা করেন।

বক্তব্য দেয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। উপস্থিত শ্রোতারাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেনের ছেলে নূরে আলম বলেন, ‘আমি জানতে চাই। আমার বাবা যদি অপরাধী হয়ে থাকে, তাহলে তার প্রমাণ দেন। আমার বাবার কবর কোথায় হয়েছে সেটা জানান। দেশবাসী জানুক আমার বাবাকে কেন অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সেই সময় কী ঘটেছিল, সেটা জানার অধিকার আমার ও দেশবাসীর রয়েছে। আমার বাবাসহ প্রায় তিন হাজারের বেশি অফিসারকে বিভিন্নভাবে হত্যা করে হয়েছে। কথিত অভ্যুত্থানের অভিযোগে অন্যায়ভাবে সেনা ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা হত্যা করতে জিয়াউর রহমানের নীলনকশা ছিল। এ জন্য জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার করতে হবে।’

৭৭ সালে অভ্যুত্থানের নামে জিয়ার নির্মমতার বিচার দাবি
অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগ এনে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সামরিক বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত সার্জেন্ট দেলোয়ার হোসেনের ছেলে নূরে আলম। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আমার বাবার মৃত্যুর পর আমার মায়ের বাড়ি থেকে তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। আমার বাবার বাড়ি থেকেও তাকে বের করে দেয়া হয়। আমাকে নিয়ে একটি ছোট চাকরি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করেছেন। এটা কত কষ্টের বোঝানো যাবে না।’

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আরেক সার্জেন্টের স্ত্রী লাইলা বেগম বলেন, ‘আমি শুনেছি আমার স্বামীকে ফাঁসি দেয়া হয়। কিন্তু আমার স্বামীর লাশ এখনও পাইনি। ৪৪ বছর আমি স্বামীহীন সংসার করছি। দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রেখে স্বামী চলে যান। সংশ্লিষ্ট বাহিনী থেকে একবার চিঠি দিয়ে জানানো হয় আমার স্বামীকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে।

৭৭ সালে অভ্যুত্থানের নামে জিয়ার নির্মমতার বিচার দাবি
ফাঁসির শিকার সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা ১২০টি পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। একে একে মঞ্চে উপস্থিত হয়ে স্বজন হারানোর কষ্টের স্মৃতি বর্ণনা করেন।ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

‘আমার জীবনে একটাই ইচ্ছা ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সাক্ষাৎ করে আমার স্বামী হত্যার জন্য সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার চাইব। স্বামী ছাড়া ৪৪ বছর কাটানো কত কষ্টের এটি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় বুঝবেন স্বজন হারানোর কষ্ট কী। কারণ, তিনিও স্বজন হারিয়েছেন।’

সার্জেন্ট মকবুল হোসেনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম বলেন, ‘একজন বিধবার কী কষ্টে জীবন পার করতে হয় তা তো আপনারা জানেন। আমরা তো অনেক কষ্টে জীবন পার করেছি। এখন আমাদের সন্তানেরা যদি কিছু পায় তাহলেই অনেক কিছু হবে। আমাদের জানাতে হবে কী কারণে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমার স্বামীকে কেন জেলে নেয়া হয়েছে। তার কোনো অপরাধ ছিল না। শহিদদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা ঘোষণা করা হোক। সেটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া হবে।’

আয়োজনে ভুক্তভোগীরা কিছু লিখিত দাবি তুলে ধরেন।

এগুলোর মধ্যে আছে, ১৯৭৭ সালে বিচারের নামে ফাঁসি, কারাদণ্ড ও চাকরিচ্যুত সেনা ও বিমান কর্মকর্তাদের নির্দোষ ঘোষণা করা; তাদের স্ব-স্ব পথে সর্বোচ্চ র‌্যাংকে পদোন্নতি দেখিয়ে বর্তমানে স্কেলে বেতন-ভাতা ও পেনশনসহ সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান; যাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শহিদ ঘোষণা ও কবরস্থান চিহ্নিত করে স্মৃতি স্তম্ভ তৈরি; যারা নির্যাতিত ও চাকরিচ্যুত হয়েছে, তাদের সঠিক তালিকা প্রকাশ।

কী ঘটেছিল সে সময়

আয়োজনে জানানো হয়, ১৯৭৭ সালে জাপানের উগ্রপন্থি গোষ্ঠী ‘রেড আর্মির’ সদস্যরা জাপান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান ছিনতাই করে ঢাকা বিমানবন্দরে (বর্তমান পুরাতন বিমানবন্দর) অবতরণ করিয়েছিল। ওই ঘটনার অবসানের ব্যবস্থা নিতে তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধানসহ বিমান বাহিনীর বিরাট একটা অংশ সার্বক্ষণিকভাবে কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

১ অক্টোবর যখন বিমান ছিনতাই ঘটনার অবসান ঘটে, সেই রাতে জিয়াউর রহমানের অনুগত বাহিনী ঢাকা সেনা ও বিমান বাহিনীর ছাউনিতে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। তারা শত শত ঘুমন্ত সৈনিককে ব্যারাক থেকে অস্ত্রের মুখে বের করে নিয়ে আসে এবং পরে তাদেরকেই অভুত্থানের অভিযাগে ক্যান্টনমেন্টের বিভিন্ন স্থানে গুলি করে হত্যা করে।

লিফলেটে বলা হয়, ষড়যন্ত্রকারীরা জিজ্ঞাসাবাদের নামে বিভিন্ন নির্যাতন কক্ষে নিমর্মভাবে পিটিয়ে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে শত শত সৈনিককে হত্যা করে। বিভিন্ন ট্রাইবুনালে বিচারের নামে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অন্যায়ভাবে ফঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হয়। কত সৈনিককে এই শাস্তি পেতে হয়েছিল, তার খবর দেশবাসী আজও সঠিকভাবে জানে না।

এতে বলা হয়, ফায়ারিং স্কোয়াড ও ফাঁসিতে ঝুলিয়ে প্রায় এক হাজার চারশ সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যকে হত্যা করা হয়। ওইদিন তেজগাঁও বিমানবন্দরে ও সেনানিবাসের বিভিন্ন স্থানে যাদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং ফায়ারিং স্কোয়াড যাদেরকে মারা হয়েছে তাদের হিসাব জানা নাই।

জিজ্ঞাসাবাদের নামে সৈনিকদেরকে হাত, পা ও চোখ বেঁধে দিনের পর দিন ফেলে রাখার অভিযোগও করা হয় লিফলেটে। বলা হয়, চোখ বাঁধা অবস্থাতেই সৈনিকদের অনেকের সই নেয়া হয় কোনো অজানা কারণে।

প্রচলিত নিয়ম অনুসারে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসি দেয়া হয় না। কিন্তু সে সময় নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষতবিক্ষত অর্ধমৃত সৈনিকদেরকেও ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

আগে ফাঁসি পরে বিচারের রায়

আয়োজকরা জানান, ফাঁসি দেয়া শুরু হয় ১৯৭৭ সালের ৮ অক্টোবর থেকে। কিন্তু আদেশ জারি হয় তার ৬ দিন পর ১৪ অক্টোবর থেকে।

জিয়াউর রহমানের গঠন করা ‘মার্শাল ল ট্রাইব্যুনাল’ একেকজন সৈনিকের জীবণের সিদ্ধান্ত নিতে গড়ে ১ মিনিটেরও কম সময় নিয়েছিল।

যারা ট্রাইব্যুনালের বিচারক হয়েছিলেন, ‘বাংলাদেশ আর্মি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী অনেকেরই বিচারক হওয়ার যোগ্যতাই ছিল না।

মার্শাল-ল ট্রাইবুনালের নিয়ম অনুযায়ী বিচারক হয় পাঁচ জনকে নিয়ে। এদের একজন হবেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল, বাকি চার জন ক্যাপ্টেন।

কিন্তু জিয়াউর রহমান নিজের মতো করে বিচারক সাজিয়েছিলেন। একজন কমিশনড অফিসার আর বাকি চার জন ছিলেন হাবিলদার ও সিপাহি।

তারা নিজের খেয়াল খুশিমতো রায় দিয়েছে। কোনো রায় সৈনিকদেরকে শোনানো হয়নি।

আরও পড়ুন:
জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে কতজনকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল?

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘চক্রান্ত সফল হবে না’

‘চক্রান্ত সফল হবে না’

রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য একটি মহল চক্রান্ত করছে এমন মন্তব্য করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। ছবি: নিউজবাংলা

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করেছে কিছু উগ্রবাদীরা। কখনও কখনও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে একটি রাজনৈতিক মহল। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ এবং উন্নয়নের বাংলাদেশকে ব্যাহত করার একটি চক্রান্ত।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে রাজনীতির ফায়দা হাসিলের চক্রান্ত সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কেন্দ্রে বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রীতির বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করেছে কিছু উগ্রবাদীরা। কখনও কখনও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে একটি রাজনৈতিক মহল। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ এবং উন্নয়নের বাংলাদেশকে ব্যাহত করার একটি চক্রান্ত।’

‘রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য একটি মহল এ চক্রান্ত করছে। অতীতে যেমন এ জাতীয় কোন অপচেষ্টা সফল হয়নি, এখনও হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। কঠোর হাতে তাদের দমন করা হবে। বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানের সম্প্রীতির রাষ্ট্র। এই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।’

এ সময় মন্ত্রণালয়ের নবীন কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পদ হোন, বোঝা নয়। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, ঐকান্তিক ইচ্ছা ও গভীর মনোনিবেশের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলে সাফল্য আসবে।

‘আর অলসতা ও দায়িত্বহীনতার বল্গাহীন স্রোতে নিজেকে নিমজ্জিত করলে প্রতিষ্ঠানের বোঝায় পরিণত হতে হবে। দায়িত্ব পালনে আত্মোপলব্ধি ও আত্মসমালোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

মন্ত্রী করেন, ‘সকল সৃষ্টির স্রষ্টা একজন। সে ধারাবাহিকতায় আমরা একে অপরের সঙ্গে আত্মিকভাবে সম্পৃক্ত। আমাদের ভেতরে যেন কোনভাবে ধর্ম, বর্ণ, জেন্ডার নিয়ে হানাহানি কখনও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। কেউ যেন কারো জন্য ক্ষতিকর ভূমিকায় অবতীর্ণ না হই।

‘আর অপ্রয়োজনীয় মিথ্যাচার পরিহার করতে হবে। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের প্রতি যত্নশীল হতে হবে’, যোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে কতজনকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল?

শেয়ার করুন

সামাজিক মাধ্যমে উসকানি, গুজবের তথ্য চাইল পুলিশ

সামাজিক মাধ্যমে উসকানি, গুজবের তথ্য চাইল পুলিশ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সনাতন ধর্মাবলম্বী একই পরিবারের তিন নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ গুজব বলে দাবি করেছেন প্রশাসন, পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।

বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য অথবা গুজব কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত বা উত্তেজিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দেশের সব নাগরিকের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ গুজব ছড়ালে বা উসকানিমূলক আধেয় প্রচার করলে তা জানাতে বলেছে পুলিশ। বাহিনীটি নিজেও এগুলো চিহ্নিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার ঘটনাটি বিকৃত করে প্রকাশের পাশাপাশি উসকানি দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ এও বলছে, তারা সর্বোচ্চ সতর্ক আছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

বুধবার পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (ইন্সপেকশন) মোহাম্মদ শাহ জালাল স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘটা অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য তুলে ধরা হয় এতে।

বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানি রোধকল্পে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি রোধকল্পে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের সব গোয়েন্দা সংস্থা সার্বক্ষণিকভাবে কড়া নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

এতে বলা হয়, ‘যেকোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য অথবা গুজব কিংবা উসকানিতে বিভ্রান্ত বা উত্তেজিত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো এবং পরিস্থিতির উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য দেশের সব নাগরিকের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ।’

সামাজিক মাধ্যমে উসকানি, গুজবের তথ্য চাইল পুলিশ
পুলিশ সদর দপ্তর। ফাইল ছবি

পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক নানা সহিংসতায় দেশে সাতজন প্রাণ হারায়। তাদের দুজন হিন্দু সম্প্রদায়ের এবং পাঁচজন মুসলমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দায়িত্ব পালনকালে ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

সংঘটিত এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭২টি মামলা করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

ঘটনা ও অপরাধের রহস্য উদঘাটনের জন্য থানার পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, দ্রুততার সঙ্গে ঘটনা-অপরাধের রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

কুমিল্লার ঘটনায় বক্তব্য

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে সাতটায় কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে মূর্তির পায়ের ওপর কে বা কারা পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে চলে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় স্বার্থান্বেষী দুষ্কৃতকারী উসকানিমূলক ও বিকৃত প্রচারণা চালায় এবং পরবর্তী সময়ে আরও উচ্ছৃঙ্খল দুষ্কৃতকারী সংঘবদ্ধ হয়ে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের চেষ্টা ও পূজামণ্ডপে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

দুষ্কৃতকারীরা শহরের কাপড়িয়া পট্টি কলোনির চানমনি পূজামণ্ডপ, শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দির, কালীতলাসহ আরও কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় এবং প্রতিমায় অগ্নিসংযোগ করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য সারা দেশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কতা এবং প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয় এতে।

চাঁদপুরের ঘটনায় যে বক্তব্য

কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে আটটায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার শ্রী ত্রিনয়নী সংঘ রাজলক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া, মোকিমাবাদ পূজামণ্ডপে ৫০০-৬০০ দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

বাহিনীটি বলছে, ঠেকানোর চেষ্টা করলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে এবং ৫-৬টি পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করে। দুষ্কৃতকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে ১৫ জন পুলিশ সদস্য মারাত্মক আহত হযন। জনগণের জানমাল রক্ষায় এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এ ঘটনায় পাঁচজন প্রাণ হারান।

নোয়াখালীর ঘটনা নিয়ে বক্তব্য

কুমিল্লার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় গত ১৪ অক্টোবর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের ছয়ানী ইউনিয়নের সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরের কাছে আট শ থেকে এক হাজার উচ্ছৃঙ্খল লোক জড়ো হয়ে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা অসংখ্য ইট, লাঠিসোঁটা নিয়ে মন্দিরের সামনে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিজিবির টহল দলের ওপর হামলা চালায়, মন্দিরের মূর্তি ভাঙচুর করে এবং মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় একজন প্রাণ হারাযন এবং পরে পুকুর থেকে অপর একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পীরগঞ্জের ঘটনার বর্ণনা

পুলিশ বলে, গত ১৭ অক্টোবর রংপুর পীরগঞ্জের বড় করিমপুর মাঝিপাড়া গ্রামের একজন তার ফেসবুক আইডিতে কাবা শরিফের অবমাননাকর ছবি আপলোড করে। পরবর্তী সময়ে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে রাত প্রায় ৮টার দিকে এলাকার কিছু দুষ্কৃতকারী ওই গ্রামের একটি মন্দিরসহ ১৮টি পরিবারের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

অন্যান্য হামলা

কক্সবাজারের পেকুয়া ও চকরিয়া, সিলেটের জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজার কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কাশিমপুরসহ দেশের আরও কয়েকটি স্থানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন:
জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে কতজনকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল?

শেয়ার করুন

ভুয়া ভিডিও ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: র‍্যাব

ভুয়া ভিডিও ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: র‍্যাব

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হিন্দু বাড়িতে আগুন (বাঁয়ে) ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যতন সাহার ওপর হামলার ভিডিও দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে ফেসবুকে। ছবি: সংগৃহীত

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে এবং বিদেশে বসে আমাদের দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দেয়ার মাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে।’

যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ও ভুল কনটেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

বুধবার র‍্যাব সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য বা ভুল কনটেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার চেষ্টা করছে, তাদের র‍্যাবের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, যারা এমন অপতৎপরতায় লিপ্ত আছেন, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং তাদের আমরা গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় সোপর্দ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশে এবং বিদেশে বসে আমাদের দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য দেয়ার মাধ্যমে ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করছে।

‘পাশাপাশি অতীতের বিভিন্ন সময়ের ভিডিও কনটেন্টগুলো সাম্প্রতিক বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ভিডিও হিসেবে তারা প্রচার করার চেষ্টা করছে।’

ভুয়া ভিডিও ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: র‍্যাব

বুধবার র‍্যাব সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন। ছবি: নিউজবাংলা

ফেসবুকে ধর্মীয় উসকানিমূলক, মিথ্যা ও গুজব ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে রাজধানীর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক রুমা সরকারকে আটক করে র‍্যাব। রাজধানীর বেইলি রোডের বাসা থেকে বুধবার সকালে তাকে আটক করা হয়।

দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, রাজধানী পল্লবীর সাহিনুদ্দীন হত্যাকাণ্ডের ভিডিও নোয়াখালীর ‌যতন সাহা হত্যাকাণ্ডের বলে অপপ্রচারের অভিযোগে রুমা সরকারকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‍্যাব সদর দপ্তরে নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশে একটি আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার ভিডিও সম্প্রতি দেশের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত জায়গায় আগুন দেয়া হয়েছিল, তার ভিডিও হিসেবে প্রচারের অপচেষ্টা করেছে। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও এ ধরনের অপপ্রচার যারা চালাচ্ছে, এদের ব্যাপারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব সোচ্চার রয়েছে।’

এ-সংক্রান্ত অভিযোগে যারা সরাসরি জড়িত, যারা বিভিন্ন মন্দিরে হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, যারা এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুয়া ভিডিও কন্টেন্ট আপলোড করেছে, শেয়ার করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের অযাচিত মন্তব্য করেছে, যারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যত্যয় করেছে, ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছি।

‘এ-সংক্রান্ত যারা হোতা, পাশাপাশি পেছন থেকে ইন্ধন দিয়েছে এ রকম প্রায় ২২ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।’

অসৎ উদ্দেশে যারা এসব কন্টেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের সতর্ক করে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি চক্র জেনেশুনে এসব সম্প্রচার করছে। আরেকটি চক্র নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের ভিডিও কনটেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব পেজের বেশ কিছু অ্যাডমিনকে আমরা ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছি। যারা এ-সংক্রান্ত লাইক শেয়ার করছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, তাদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করেছি। তাদের ব্যাপারে আমাদের অভিযান চলছে।’

র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘গতকাল মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, আমরা কুমিল্লার ঘটনার যে হোতা তার অনেক কাছাকাছি আছি। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমরা এ ব্যাপারেও কাজ করছি। এই ধরনের গুজব ছড়ানোর সঙ্গে যারাই জড়িত হচ্ছে সে যেই হোক , যে শ্রেণির লোক হোক তার বিরুদ্ধে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি।’

গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীকে অনুরোধ করে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আপনারা অবশ্যই যা করবেন জেনে শুনে করবেন। না জেনে না বুঝে আপনারা কোন ধরনের কমেন্ট ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করবেন না। কারণ আপনার একটি শেয়ার থেকে হয়তো অনেক মানুষ বিভ্রান্ত হবে এবং অনেক ভুল তথ্য অনেক জায়গায় ছড়িয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে কতজনকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল?

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১১২ রোগী

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১১২ রোগী

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ফাইল ছবি

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১ হাজার ৮৩৭ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ২০ হাজার ৯৪৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৭৬৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১২ জন। তবে এ সময়ের মধ্যে কোনো ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়নি।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৯ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৮৩৭ জন। এর মধ্যে শুরুর ছয় মাস ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন। এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৬ জন এবং মারা যায় ১২ জন।

আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন। আর মারা যায় ৩৪ জন। সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন, মৃত্যু হয় ২৩ জনের। চলতি মাসে ৩ হাজার ৬৪০ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৪ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১ হাজার ৮৩৭ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ২০ হাজার ৯৪৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৭৬৮ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৬৩ রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে কতজনকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল?

শেয়ার করুন

করোনায় ৬ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৬৮

করোনায় ৬ মৃত্যু, শনাক্ত ৩৬৮

দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৯১ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ৩৬৮ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বুধবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৬৪ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৯১ জনের।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ২৯ দিন সারা দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ২০ হাজার ৩৯১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় দরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হতে থাকে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ৪, নারী ২ জন। এর মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১ ষাটোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া রাজশাহীতে ২ জন ও খুলনাতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৪৮১ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ২৯ হাজার ৫৪৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে কতজনকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল?

শেয়ার করুন

এস কে সিনহার কী সাজা, জানা যাবে বৃহস্পতিবার

এস কে সিনহার কী সাজা, জানা যাবে বৃহস্পতিবার

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলা তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ।

চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এস কে সিনহা) ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম আলোচিত এই মামলার রায় পড়ে শোনাবেন।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ থাকলেও বিচারক ছুটিতে থাকায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম অনি নিউজবাংলার কাছে দাবি করেন, মামলার শুনানিতে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে মামলার ঘটনা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া জেরার সময় সাক্ষীরা তাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

তাই বিবাদীপক্ষ আশা করছে, এই মামলায় আসামিরা ন্যায়বিচার ও খালাস পাবেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল দাবি করেন, আসামিদের অপরাধ প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তাই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ৫ অক্টোবর এ রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেছিলেন আদালত।

গত ২৪ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলার অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত বছরের ১৩ আগস্ট একই আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলা তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ।

আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগারে, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এবং একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জামিনে আছেন।

এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে কতজনকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল?

শেয়ার করুন

কলিন পাওয়েল মহান নেতা ছিলেন: মোমেন

কলিন পাওয়েল মহান নেতা ছিলেন: মোমেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল। ছবি: এএফপি

অ্যান্টনি জে. ব্লিনকেনের কাছে পাঠানো শোকপত্রে মোমেন বলেন, ‘কলিন পাওয়েল ছিলেন একজন মহান নেতা ও যোদ্ধা, যিনি তার পুরো জীবন নিজ দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বুধবারের বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে. ব্লিনকেনের কাছে পাঠানো শোকপত্রে মোমেন বলেন, ‘কলিন পাওয়েল ছিলেন একজন মহান নেতা ও যোদ্ধা, যিনি তার পুরো জীবন নিজ দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সমকালীন বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে তার অগ্রণী ভূমিকাসহ অনেক অবদানের জন্য কলিন পাওয়েল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

‘পাওয়েল তার কাজ এবং কূটনৈতিক দক্ষতার জন্য দেশে বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছেন। ইরাকের কাছে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্রসম্ভার থাকার ভুল তথ্যের বিষয়টি স্বীকার করে নেয়ার মতো নৈতিক সাহসও তিনি দেখিয়েছেন।’

শোকপত্রে পাওয়েলের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান মোমেন।

করোনাভাইরাস সংক্রান্ত জটিলতায় স্থানীয় সময় সোমবার মৃত্যু হয় কলিন পাওয়েলের। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

আরও পড়ুন:
জিয়ার আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে কতজনকে ‘হত্যা’ করা হয়েছিল?

শেয়ার করুন