তত্ত্বাবধায়ক ফেরানো কীভাবে সম্ভব, প্রশ্ন কাদেরের

তত্ত্বাবধায়ক ফেরানো কীভাবে সম্ভব, প্রশ্ন কাদেরের

নিজ বাসভবনে ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

‘বিএনপির সবকিছুতেই শর্ত, মামার বাড়ির আবদার। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করলে নাকি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, আসলে বিএনপি ভালো করেই জানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি আদালতের মীমাংসিত বিষয়।’

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে জানিয়ে এটি ফেরানো সম্ভব নয় বলে বিএনপিকে জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অংশ নেয়া বিএনপি আবার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি তোলার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতা এ কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা’ এবং এটি উচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়েছে জানিয়ে কাদের বলেছেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে এটি দীর্ঘদিন চলতে পারে না।’

জাতীয় নির্বাচনে যেতে এসব মীমাংসিত বিষয় নিয়ে বিএনপির দেয়া শর্তগুলোকে ‘মামা বাড়ির আবদার’ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি।

শনিবার ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে এক ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

কাদের বলেন, ‘বিএনপির সবকিছুতেই শর্ত, মামার বাড়ির আবদার। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করলে নাকি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, আসলে বিএনপি ভালো করেই জানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি আদালতের মীমাংসিত বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘এ পদ্ধতি ছিল একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। দীর্ঘ মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চলতে পারে না। দেশে গণতন্ত্র যখন এগিয়ে যায়, তখন সরকার ও নির্বাচনব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরতে শুরু করে।’

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের আন্দোলনের মুখে বিএনপি সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংযোজন করলেও ২০০৭ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে জটিলতা তৈরি হয়।

বিএনপি শাসনামলে প্রধান বিচারপতির চাকরির মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোকে কেন্দ্র করে এই জটিলতা দেখা দেয়।

চাকরির মেয়াদ বাড়ানোয় সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়া নিশ্চিত হয়। কিন্তু তাকে মানতে রাজি ছিল না আওয়ামী লীগ।

কে এম হাসান বিচারপতি হওয়ার আগে বিএনপির কমিটির সদস্য ছিলেন। আর এ কারণে তাকে মেনে না নিয়ে আন্দোলনে নামে সে সময়ের বিরোধী দল।

বিএনপি একতরফা নির্বাচনের দিকে এগিয়ে গেলে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে জারি হয় জরুরি আইন। প্রায় দুই বছর পর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ভোটে বিএনপি জোটের ভরাডুবি হয়। এরপর উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে না হওয়ায় বিএনপি জোট ২০১৪ সালর ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে। পরে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই অংশ নেয়।

এই ভোটে বিএনপির ফলাফল ২০০৮ সালের নির্বাচনের চেয়ে বাজে হয়। কিন্তু বিএনপি এই ফলাফল কখনও মেনে নেয়নি। তাদের দাবি, ভোটে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে।

‘নির্বাচন কমিশনে সরকারের হস্তক্ষেপ নেই’

বিএনপি এবার ভোটে আসতে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানাচ্ছে। তুলে ধরছে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের দাবি।

ওবায়দুল কাদের দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে বহুদলীয় তামাশা ও সুবিধাবাদ চালু করেছিল, যাদের দলের অভ্যন্তরে নেই গণতন্ত্রের চর্চা, তার আজ গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলেন।’

নির্বাচিত হয়েও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদে না যাওয়ায় আবারও তার সমালোচনা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আপনি নির্বাচিত হয়েও কেন সংসদে গেলেন না? এটা কোন গণতন্ত্র? ভোটাধিকার নিয়ে তো আপনারাই ছিনিমিনি খেলছিলেন।’

পরাজয়ের ভয়ে ভীত বিএনপি

আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ভয় পাচ্ছে বলেও দাবি করেন কাদের। বলেন, ‘ভরাডুবির আশঙ্কা তাদের আগেই পেয়ে বসেছে। হেরে যাওয়ার ভয়ে তাদেরই হৃৎকম্পন শুরু হয়ে গেছে।’

উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেয়া নিয়েও কথা বলেন তিনি। বলেন, ‘এতই যখন জনসমর্থনের জোয়ার, স্থানীয় সরকার ও উপনির্বাচনে প্রমাণ করতে পারলেন না কেন? জনসমর্থনের জোয়ার তো গত ১৩ বছরে কোনো নির্বাচনেও দেখলাম না, আন্দোলনেও দেখলাম না।

‘তারা ভরাডুবির ভয়ে এখন নির্বাচনবিমুখ, তাদের কথিত জোয়ার প্রকৃতপক্ষে ভাটায় রূপান্তরিত হয়েছে। তাই রাজপথ আর ভোটের ময়দান ছেড়ে গণমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনীতিকে সীমাবদ্ধ করেছে।’

‘বিএনপি কী করতে পারে জনগণ দেখেছে’

বিএনপির আন্দোলনের হুমকিকে পাত্তা দিচ্ছেন না কাদের। বলেন, ‘জনগণ তাদের সক্ষমতা ইতিমধ্যে দেখেছে। আমরাও ভালো করে জানি বিএনপি কী করতে পারে, কতটা যেতে পারে। তাই বলব, এসব হুমকি-ধমকি শেখ হাসিনা সরকার আর আওয়ামী লীগকে দেবেন না।

‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টার যে ছক আঁকছেন, তা আমাদের অজানা নয়। অতীতের মতো আবারও আপনাদের ব্যর্থতা বরণ করতে হবে। জনগণ আপনাদের ওপর আস্থা হারিয়েছে। আন্দোলনে আপনাদের সফলতা আসবে না। নির্বাচনেও আপনারা সফল হতে পারবেন না।’

আরও পড়ুন:
পাগল আর শিশু দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাব পাঠান: কাদের     
কাদের মির্জাকে বাদ দিয়ে নোয়াখালী আ.লীগের কমিটি
আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ী হবে: কাদের
বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের
কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

লক্ষ্মীপুরের সেই তাহের বাদ, নৌকা পেলেন মাসুম

আবু তাহের (বাঁয়ে), মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আলোচনায় আসা লক্ষ্মীপুরের সেই আবু তাহেরকে এবার পৌরসভার মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। এ পদে দল এবার আস্থা রেখেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়ার ওপর।

শুক্রবার বিকেলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়।

আগামী ২৮ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ভোট।

দলের নেতা-কর্মীরা জানান, আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। দলীয় মনোনয়নে লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় টানা দুবার মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবু তাহের লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তিনি সারা দেশে আলোচনায় আসেন।

গত ১০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নের জন্য আবু তাহেরের নাম বাদ দিয়ে ১০ নেতার নাম কেন্দ্রে জমা দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। তাহেরকে পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন না দেয়ার অনুরোধ করে দলের সভাপতির কাছে চিঠি দেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

সাবেক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দীন চৌধুরীসহ চার নেতা চিঠিতে সই করেন।

এ বিষয়ে একাধিকবার আবু তাহেরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় মনোনয়ন চেয়ে তিনি পাননি। সেটা দলের সিদ্ধান্ত। এর বাইরে কোনাে কথা বলতে রাজি হননি কেউ।

মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া জানান, দল এবার তাকে মূল্যায়ন করেছে। দলের দুঃসময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন। এ ছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থেকে সব কর্মসূচি পালন করেছেন। যখন যেভাবে সুযোগ পেয়েছেন এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন তিনি।

মাসুম জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত আ ন ম ফজলুল করিমের ভাগনে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জানান, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মোজাম্মেল হায়দার মাসুম ভূঁইয়া। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করাই হলো এখন মূল কাজ। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন না দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
পাগল আর শিশু দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাব পাঠান: কাদের     
কাদের মির্জাকে বাদ দিয়ে নোয়াখালী আ.লীগের কমিটি
আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ী হবে: কাদের
বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের
কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

শেয়ার করুন

শনিবার উপজেলা দিবস পালন করবে জাতীয় পার্টি 

শনিবার উপজেলা দিবস পালন করবে জাতীয় পার্টি 

বরিশালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ। ফাইল ছবি

জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম জানান, এরশাদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন চাওয়া হবে তাদের নানা আয়োজনে।

দলীয় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে যে উপজেলা পরিষদের প্রতিষ্ঠা হয়, সেই দিনটি দিবস হিসেবে পালন করতে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি।

১৯৮৪ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি থাকাকালে এরশাদ উপজেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন।

দিবসটিকে কেন্দ্র করে আলোচনা সভাসহ সারা দেশে দলীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি।

জাতীয় পার্টির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম জানান, এরশাদ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন চাওয়া হবে তাদের নানা আয়োজনে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে বেলা সাড়ে ৩টায় ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আলোচনা সভা হবে। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। বক্তব্য রাখবেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুসহ দলের শীর্ষ নেতারা।

আরও পড়ুন:
পাগল আর শিশু দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাব পাঠান: কাদের     
কাদের মির্জাকে বাদ দিয়ে নোয়াখালী আ.লীগের কমিটি
আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ী হবে: কাদের
বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের
কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

শেয়ার করুন

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী

বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী

পত্নীতলার নজিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে বিএনপি। কোরআন অবমাননা ও মন্দিরে হামলা তারই অংশ।

আওয়ামী লীগের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

নওগাঁর পত্নীতলার নজিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, যারা নির্বাচনে অংশ নেয় না, তারাই গণতন্ত্রের হত্যাকারী। এ হত্যার দায়ে গণ-আদালতে তাদের বিচার হওয়া উচিত। নির্বাচনে না এসে প্রমাণ করেছে তারাই গণতন্ত্রের মূল হত্যাকারী।

বিএনপি-জামায়াতকে উদ্দেশ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন সহ্য করতে না পেরে সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে বিএনপি। কোরআন অবমাননা ও মন্দিরে হামলা তারই অংশ। কোনো অপশক্তি দেশ ও জাতির উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে দেশের কল্যাণে।

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সম্মেলনের সময় নেতা হতে সবাই ব্যস্ত হয়ে যান। সম্মেলন শেষ হলে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব করা যাবে না।

সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, সাংসদ শহিদুজ্জামান সরকার, ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন।

পরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক চৌধুরীকে সভাপতি ও আবুল গাফফারকে সাধারণ সম্পাদক করে পত্নীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন:
পাগল আর শিশু দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাব পাঠান: কাদের     
কাদের মির্জাকে বাদ দিয়ে নোয়াখালী আ.লীগের কমিটি
আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ী হবে: কাদের
বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের
কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

শেয়ার করুন

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আগুন উসকে দেয়ার মতো

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য আগুন উসকে দেয়ার মতো

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার সকালে সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় পার্টির ঢাকা দক্ষিণ শাখা। ছবি: নিউজবাংলা

জি এম কাদের বলেন, ‘আমার এত বয়স হয়েছে, আমি কখনো দুর্গাপূজায় কোনো রকম সমস্যা দেখি নাই। আমাদের দেশে একই সঙ্গে পূজাও হয়, আবার মসজিদে নামাজও হয়। সেখানে আমরা দেখলাম একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র।’

রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বক্তব্য এ সময়ে আগুনে উসকে দেয়ার মতো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার সকালে জাতীয় পার্টির ঢাকা দক্ষিণ শাখা আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সমাবেশে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ উপস্থিত ছিলেন আরও অনেকে।

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘কাকতালীয়ভাবে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী হঠাৎ করে কিছু বেফাঁস কথা বলে ফেললেন। এটা অনেকটা আগুন উসকে দেয়ার মতো। সরকারের উচিত জড়িতদের খুঁজে দেখা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতীকীভাবে সম্প্রীতি সভার আয়োজন করেছি। এই দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।

‘সব উৎসব আমরা একসঙ্গে পালন করেছি। মুক্তিযুদ্ধের সময় সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল।’

সম্প্রতি তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করার সমালোচনা করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ভাইরাল হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম আমাদের রাষ্ট্রীয় ধর্ম না। এটা বিশ্বাস করি না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সংবিধান লিখে গেছেন, সেই সংবিধানই থাকবে। এটার কোনো পরিবর্তন ওই এরশাদ, জিয়াউর রহমান, ওই সব মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর...এসব স্বৈরাচারের শাসনামল ইতিহাস থেকে মুছে দেয়া হয়েছে আদালতের রায়ে। ওগুলো চলবে না। এই বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। বাহাত্তরের সংবিধানেই আমরা ফিরে যাব।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘আমার এত বয়স হয়েছে, আমি কখনো দুর্গাপূজায় কোনো রকম সমস্যা দেখি নাই। আমাদের দেশে একই সঙ্গে পূজাও হয়, আবার মসজিদে নামাজও হয়। সেখানে আমরা দেখলাম একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র।

‘একটি দেবতার মূর্তির পায়ের নিচে কোরআন শরিফ রাখা হয়েছে। এটা কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী করতে পারে না। তারা তাদের এই উৎসবকে নষ্ট করবে নিজের হাতে, এটা বিশ্বাস করা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো মুসলমান যদি সত্যিকারের মুসলমান হয়, তাহলে সে কোরআন শরিফের অবমাননা করতে পারে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল থেকে নিন্দা জানানো হচ্ছে। আমাদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ছিল। তা নেতিবাচক ভাবমূর্তিতে পরিণত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
পাগল আর শিশু দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাব পাঠান: কাদের     
কাদের মির্জাকে বাদ দিয়ে নোয়াখালী আ.লীগের কমিটি
আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ী হবে: কাদের
বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের
কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

শেয়ার করুন

সবকিছু বেরিয়ে এলে ফখরুলের মুখ চুপসে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

সবকিছু বেরিয়ে এলে ফখরুলের মুখ চুপসে যাবে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো তারা পাশের দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছিল। কোরআন শরিফ যে একজন মুসলমান যুবক রেখেছিল, সেটি তো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সে ধরা পড়লে বোঝা যাবে কার ইন্ধনে এটি করেছে। এটিই তো ঘটনার সূত্রপাত। যখন সবকিছু বেরিয়ে আসবে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখটা চুপসে যাবে।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক যে হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখ চুপসে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, ‘এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো তারা পাশের দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়েছিল। কোরআন শরিফ যে একজন মুসলমান যুবক রেখেছিল, সেটি তো তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সে ধরা পড়লে বোঝা যাবে কার ইন্ধনে এটি করেছে। এটিই তো ঘটনার সূত্রপাত। যখন সবকিছু বেরিয়ে আসবে, তখন মির্জা ফখরুল ইসলামের মুখটা চুপসে যাবে।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার জন্য আবারও বিএনপি-জামায়াতকেই দায়ী করেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এই হামলা আসলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নয়, এটি বাংলাদেশের চেতনার মূল বেদিমূলের ওপর হামলা। এটি সরকারের ওপরও হামলা। কারণ এটি করে তারা সরকারকে দোষারোপ করতে চেয়েছিল। পাশাপাশি একটি সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমাদের যে ভালো সম্পর্ক, সেটি নষ্ট করতে চেয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ যখন স্থিতিশীল, তখন আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক, সেটির ওপর কালিমা লেপনের হীন উদ্দেশ্যেই আজকের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের সরকার দৃঢ়ভাবে সেটি দমন করেছে।

‘সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য আমাদের দল অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করছে। তাদের উদ্দেশ্য হীন। তারা আরও এ ধরনের গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করবে। আমি নেতা-কর্মীদের অনুরোধ জানাব, আপাতত এই দুষ্কৃতকারীরা নিবৃত্ত হয়েছে মনে হলেও আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।’

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, তারা দেশে হানাহানি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে। কিছুটা সফল হয়েছে, আরও চেষ্টা চালাবে। দলের নেতা-কর্মীদের হিন্দু সম্প্রদায় ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পাশে থাকার অনুরোধ জানাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে আমরা মনে করি কেউ সংখ্যালঘু নয়। সবার রক্তস্রোতের বিনিময়ে এ দেশ অর্জিত হয়েছে। এ দেশ সবার। ধর্ম যার যার দেশ সবার। সেই চেতনায় আমরা বিশ্বাস করি।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জোট থেকে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দল থেকেও অনেকে বের হয়ে গেছে। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও স্থিতি অবশ্যই সরকার চায়। যেকোনো সরকারের সেটিই কামনা। এ দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে বিএনপি-জামায়াত।’

তিনি বলেন, ‘ভোট এলে ভারতবিরোধী স্লোগান কারা দেয়? বিএনপি। হিন্দু সম্প্রদায়কে ভোটকেন্দ্রে যেতে বারণ কারা করে? এই বিএনপি-জামায়াতই করে।’

আরও পড়ুন:
পাগল আর শিশু দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাব পাঠান: কাদের     
কাদের মির্জাকে বাদ দিয়ে নোয়াখালী আ.লীগের কমিটি
আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ী হবে: কাদের
বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের
কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

শেয়ার করুন

খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ নভেম্বর

খালেদার ১১ মামলার শুনানি ২২ নভেম্বর

ফাইল ছবি

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা। যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নেয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা হত্যা ও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাসহ মোট ১১ মামলার শুনানির তারিখ একসঙ্গে ঠিক করেছে আদালত।

আগামী ২২ নভেম্বর এই ১১ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে মামলাগুলো শুনানির জন্য তারিখ ঠিক ছিল। তবে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার পক্ষে অধিকাংশ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে জানিয়ে সময় আবেদন করেন তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার।

আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে পরের শুনানির জন্য আগামী ২২ নভেম্বর তারিখ ঠিক করেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার মধ্যে রয়েছে রাজধানীর দারুস সালাম থানায় করা নাশকতার আটটি মামলা, যাত্রাবাড়ী থানার দুটি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা।

যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র নেয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য রয়েছে। অপর ১০ মামলা ছিল অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে ২০১৬ সালের ২৫ জানুয়ারি আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি করা হয়।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থানার মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলা হয়। এতে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নূর আলম নামে এক যাত্রী।

ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন থানার উপপরিদর্শক এসআই কে এম নুরুজ্জামান।

একই বছরের ৬ মে খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক বশির আহমেদ।

অন্যদিকে ২০১৫ সালে দারুস সালাম থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে আটটি মামলা করা হয়। এই আট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আসামি করা হয়।

২০১৭ সালের বিভিন্ন সময়ে মামলাগুলোয় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সব মামলায় খালেদা জিয়াকে পলাতক দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে খালেদা জিয়া মামলাগুলোয় আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

আরও পড়ুন:
পাগল আর শিশু দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাব পাঠান: কাদের     
কাদের মির্জাকে বাদ দিয়ে নোয়াখালী আ.লীগের কমিটি
আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ী হবে: কাদের
বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের
কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

শেয়ার করুন

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দুর্গাপূজায় হামলা: তথ্যমন্ত্রী

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দুর্গাপূজায় হামলা: তথ্যমন্ত্রী

১৩ অক্টোবর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় হাজারখানেক মানুষের মিছিল থেকে হামলা হয় স্থানীয় একটি মন্দিরে। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট করার জন্য দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিভিন্ন স্থানে দুর্গাপূজায় হামলা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক নষ্ট করার জন্য দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগ অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের প্রাণ তৃণমূল। কেউ যখন খোঁচা দেয় তখন আওয়ামী লীগ জ্বলে ওঠে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকাসহ সারা দেশে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ। কর্মসূচি আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে। সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা শান্তি সমাবেশ করেছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দল পরপর তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে। তাই সবাই এখন আওয়ামী লীগ হতে চায়। যেসব মানুষ অতীতে আমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছেন এবং সমাজে যারা দুষ্কৃতকারী হিসেবে পরিচিত তারা পিঠ বাঁচানো, সম্পদ রক্ষা ও সম্পদ অর্জনের উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ করতে চায়।

‘তাদের আওয়ামী লীগের নৌকায় ওঠার প্রয়োজন নেই। যারা দলের দুঃসময়ে কাজ করছেন এবং বিপদ-আপদে দলের সঙ্গেই ছিলেন তাদেরকে আমরা মূল্যায়ন করব।’

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক, সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার, ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন ও আনোয়ার হোসেন হেলালসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

আরও পড়ুন:
পাগল আর শিশু দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের প্রস্তাব পাঠান: কাদের     
কাদের মির্জাকে বাদ দিয়ে নোয়াখালী আ.লীগের কমিটি
আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জয়ী হবে: কাদের
বিএনপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে, প্রশ্ন কাদেরের
কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

শেয়ার করুন