কারাগারে বসে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা

কারাগারে বসে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেন, ‘আমাদের ভর্তিচ্ছু একজন শিক্ষার্থী ঢাকার কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। সেই শিক্ষার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের রায় ছিল, তার ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না। তখন আমরা কারাগারেই সেই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করেছি।’

কেরাণীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দিলেন এক শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় বলে জানান প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী।

পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাসুম বাকি বিল্লাহ, সঙ্গীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক ও প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা কোমের আলী।

প্রক্টর বলেন, ‘আমাদের ভর্তিচ্ছু একজন শিক্ষার্থী ঢাকার কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। সেই শিক্ষার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের রায় ছিল, তার ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা যায় কি না। তখন আমরা কারাগারেই সেই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করেছি।’

এই শিক্ষার্থীর পরিচয় জানতে চাইলে এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘তার একটি ব্যক্তিগত জীবন আছে। এটি প্রকাশ না করা ভালো। সে কোন অভিযোগে অভিযুক্ত এটি আমাদের দেখার বিষয় না। আমাদের কাছে আদালতের রায় এসেছিল, আর আমরা দুজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তা পাঠিয়ে সেই শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি।’

এ বিষয়ে পরীক্ষার সময় পরিদর্শকের দায়িত্বে থাকা সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেকই এই শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।

‘যত মিনিট আগে খাতা দেওয়ার কথা বা যখন প্রশ্নপত্র দেয়ার কথা, সব নিয়মই ঠিকভাবে পালন করা হয়েছে। আর এটি আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।’

শুক্রবার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার হয় ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। এই ইউনিটে ২ হাজার ৩৭৮ আসনের বিপরীতে ৪৭ হাজার ৬৩২ জন আবেদন করেন। আসন প্রতি লড়বেন ২০ জন।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু হয়। শেষ হয় বেলা সাড়ে ১২টায়। একযুগে পরীক্ষা হয় দেশের সাতটি বিভাগের সাত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬টি কেন্দ্রে।

‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয় শুক্রবার। এই ইউনিটে ১ হাজার ৮১৫ আসনের বিপরীতে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৭ জন আবেদন করেন। আসনপ্রতি ভর্তিচ্ছু ৬৪ জন।

এদিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয় মেডিক্যাল সেন্টারে।

আরও পড়ুন:
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা
‌ঢাবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা করোনা আক্রান্ত ভর্তিচ্ছুর
অভিভাবকদের ভিড় না করার অনুরোধ ঢাবি উপাচার্যের
নতুন কাউকে উঠতে দেয়া হবে না এসএম হলে
ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন ‘সোহরাওয়ার্দীর রাজা’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দাঁত দেখে বয়স মাপে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি

দাঁত দেখে বয়স মাপে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি

প্রতীকী ছবি

এ বিষয়ে যুক্তি দেখিয়ে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হুসেন বলেন, ‘অনেক অসাধু অভিভাবক শিক্ষার্থীর বয়স লুকিয়ে ভর্তি করতে চান। তারা যেন এ রকম করতে না পারেন এ জন্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে দুধদাঁতের বিষয়টি উল্লেখ করেছি।’

স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে দাঁত দেখে শিশুদের বয়স নির্ধারণ করছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুদের বয়স নির্ধারণে যুগ যুগ ধরেই এমনটা করে আসছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ আলোচনা শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাসে প্লে গ্রুপে শিক্ষার্থীদের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর।

বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ‘শিক্ষার্থীর যোগ্যতা’ অংশে তিনটি শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো—বয়স, উচ্চতা ও ওজন।

বয়সের শর্তে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি ২০২২ সালে বয়স চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে হতে হবে।

উচ্চতার শর্তে বলা হয়েছে, তিন ফুট থেকে তিন ফুট আট ইঞ্চির মধ্যে হতে হবে।

ওজনের শর্তে লেখা আছে, ১৩ থেকে ২১ কেজির মধ্যে হতে হবে। এখানে আবার

তিনটি আলাদা শর্ত রয়েছে। এগুলো হলো—শিক্ষার্থীর সব দুধদাঁত (২০টি) অটুট থাকতে হবে, শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে এবং ছোঁয়াচে রোগ থাকলে ভর্তির জন্য বিবেচিত হবে না।

প্লে গ্রুপে শিশুশিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ২২ অক্টোবর লটারি করা হয়। এখন চলছে ভর্তির অন্যান্য প্রক্রিয়া। জানা যায়, এবার প্লে গ্রুপে বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণে মোট ৫৮০ শিশুকে ভর্তি করা হবে।

শিক্ষার্থীদের বয়স লুকানো ঠেকাতেই বিজ্ঞপ্তিতে দুধদাঁত এবং অন্যান্য শর্ত দেয়া হয়েছে বলে যুক্তি দেখালেন মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. বেলায়েত হুসেন।

তিনি বলেন, ‘অনেক অসাধু অভিভাবক শিক্ষার্থীর বয়স লুকিয়ে ভর্তি করতে চান। তারা যেন এ রকম করতে না পারেন এ জন্য ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে দুধদাঁতের বিষয়টি উল্লেখ করেছি।’

অদ্ভুত এই যুক্তির সাফাই গেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এটি করার ফলে কেউ বয়স লুকাতে পারে না। আর এ পদ্ধতি আমরা ১৯৭৬ সালে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই করে আসছি। আর ছোঁয়াচে অসুখের কথা বলেছি যেন অন্য শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত না হয়।’

ইতোমধ্যে প্লে গ্রুপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে জানিয়ে বেলাল হুসেন বলেন, ‘অলরেডি আমরা প্লে গ্রুপের লটারির ফল প্রকাশ করে ফেলেছি। এখন এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই।’

বিষয়টি নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জানান, স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারের একটি নীতিমালা রয়েছে, যা সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুসরণ করে।

তিনি বলেন, ‘যারা এমপিভুক্ত নয় অথবা সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে পরিচালিত তারা শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে নিজস্ব কিছু কিছু শর্ত আরোপ করে। মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন কিছু করে থাকতে পারে। বিষয়টি আমি খোঁজ নেব।’

আরও পড়ুন:
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা
‌ঢাবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা করোনা আক্রান্ত ভর্তিচ্ছুর
অভিভাবকদের ভিড় না করার অনুরোধ ঢাবি উপাচার্যের
নতুন কাউকে উঠতে দেয়া হবে না এসএম হলে
ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন ‘সোহরাওয়ার্দীর রাজা’

শেয়ার করুন

স্কুলশিক্ষার্থীদের ১ নভেম্বর থেকে টিকার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্কুলশিক্ষার্থীদের ১ নভেম্বর থেকে টিকার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনা প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাতে টিকার যথেষ্ট মজুত আছে। এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের তালিকা আমাদের দিয়েছে। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করি, ১ নভেম্বর থেকেই টিকা কর্মসূচি শুরু করা যাবে। আমরা প্রতিদিন ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দিতে পারব বলে আশা করছি।’

স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে ১ নভেম্বর থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু করার আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে টিকার যথেষ্ট মজুত আছে। এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের তালিকা আমাদের দিয়েছেন। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

‘আশা করি, ১ নভেম্বর থেকেই টিকা কর্মসূচি শুরু করা যাবে। আমরা প্রতিদিন ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দিতে পারব বলে আশা করছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল রাতেই সিনোফার্মের ৫৫ লাখ টিকা আমাদের কাছে এসেছে। এ নিয়ে আমাদের হাতে প্রায় ২ কোটিরও বেশি টিকার ডোজ রয়েছে। আজকে থেকে নিয়ে আগামীকাল পরশুর মধ্যে প্রায় ৮০ লাখ টিকা আমরা দিয়ে দেব। সেই কর্মসূচি শুরু হয়ে গেছে।

‘ঢাকায় ১২টি কেন্দ্র আমরা স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ঠিক করেছি। সব ঠিক আছে। অন্য টিকা কার্যক্রমও একই সঙ্গে চলমান থাকবে।’

এর আগে বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গবেষণা দিবসে বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দিতে রেজিস্ট্রেশন চলছে। আশা করছি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে।’

পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষার্থীকে গণটিকা দেয়া শুরুর কথা ছিল ৩০ অক্টোবর।

স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জে ১০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়।

বড় পরিসরে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা
‌ঢাবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা করোনা আক্রান্ত ভর্তিচ্ছুর
অভিভাবকদের ভিড় না করার অনুরোধ ঢাবি উপাচার্যের
নতুন কাউকে উঠতে দেয়া হবে না এসএম হলে
ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন ‘সোহরাওয়ার্দীর রাজা’

শেয়ার করুন

ব্লেন্ডেড এডুকেশন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ

ব্লেন্ডেড এডুকেশন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ

সবাইকে শিক্ষার আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ছবি: প্রতীকী

একই সঙ্গে সশরীরে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এবং অনলাইন বা অনসাইটের শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের মাঝে বোঝানো এবং প্রদর্শন করার মাধ্যমে পাঠদান করার পদ্ধতিকে ব্লেন্ডেড এডুকেশন বলা হয়।

করোনার কারণে প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার পর সশরীরে ক্লাস শুরু হলেও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির সংখ্যা বেশ কম। প্রথম দিকে উপস্থিতির হার ছিল ৬০ শতাংশের বেশি, কিন্তু ধীরে ধীরে কমছে এ হার।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর পর ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ছিল ৬০ দশমিক ২৭ শতাংশ। ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই হার ছিল ৫৫ শতাংশ। সর্বশেষ ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুলে উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। এরপর থেকে গত কিছুদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির গড় হার নির্ণয় করেনি মাউশি।

স্কুলে উপস্থিতির হার প্রতিনিয়ত কমার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে শিক্ষা প্রশাসনকে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ‘ব্লেন্ডেড এডুকেশন সিস্টেম’ বা মিশ্র শিক্ষাব্যবস্থার আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ব্লেন্ডেড এডুকেশন সিস্টেমের একটি রূপরেখা (ফ্রেমওয়ার্ক) তৈরির জন্য জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে সশরীরে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি এবং অনলাইন বা অনসাইটের শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের মাঝে বোঝানো ও প্রদর্শন করার মাধ্যমে পাঠদান করার পদ্ধতিকে ব্লেন্ডেড এডুকেশন বলা হয়।

জানতে চাইলে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা অ্যাকাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নিজামুল করিম বলেন, ‘ব্লেন্ডেড এডুকেশন সিস্টেম নিয়ে একটি ন্যাশনাল টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ টাস্কফোর্সের অধীনে ছয়টি উপকমিটি হয়েছে। এই উপকমিটিগুলো কাজ করছে। এর মধ্যে গবেষণা উপকমিটি একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’

স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কমছে কেন, এমন প্রশ্নে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. এ কিউ এম শফিউল আজম বলেন, ‘স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমার বিষয় অবশ্যই উদ্বেগের। এ বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। এর মধ্যে ব্লেন্ডেড এডুকেশন সিস্টেম চালুও একটি।’

ব্লেন্ডেড এডুকেশন সিস্টেম কেমন হতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মূলত সবাইকে শিক্ষার আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ। ধরেন নদীপাড়ে একটি গ্রামে কিছু শিক্ষার্থী রয়েছে কিন্তু স্কুল নেই তারাও এ সিস্টেমে পড়াশোনা করতে পারবে প্রযুক্তির সাহায্যে।’

যাদের পক্ষে স্কুলে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তারাও এ সিস্টেমের মধ্যে পড়াশোনায় অংশ নিতে পারবে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘ব্লেন্ডেড এডুকেশন সিস্টেমে সবাই শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। কেউ নির্ধারিত সময়ে অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়া বা জমা দিতে না পারলে সুবিধাজনক সময়ে অনলাইনেই তা দেখতে পারবে, জমা দিতে পারবে। এক্ষেত্রে সরকার প্রযুক্তিগত সহায়তা করবে।’

গত ৯ এপ্রিল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমার্বতনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, শিক্ষার আধুনিকায়নে সরকার ব্লেন্ডেড এডুকেশন সিস্টেম চালুর কথা ভাবছে।

তিনি বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষা শেষ করে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করার পরও নতুন কোনো ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জন করা তার জন্য জরুরি হয়ে যেতে পারে। তখন ওই কর্মজীবীর পক্ষে আবার বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সরাসরি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ব্লেন্ডেড এডুকেশন ও মডিউলার এডুকেশনের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ সারা দেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

শুধু চলতি বছরের ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। আর অন্যান্য শ্রেণির মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, নবম শ্রেণিতে দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা
‌ঢাবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা করোনা আক্রান্ত ভর্তিচ্ছুর
অভিভাবকদের ভিড় না করার অনুরোধ ঢাবি উপাচার্যের
নতুন কাউকে উঠতে দেয়া হবে না এসএম হলে
ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন ‘সোহরাওয়ার্দীর রাজা’

শেয়ার করুন

ফরম পূরণের টাকা ফেরত পাবেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

ফরম পূরণের টাকা ফেরত পাবেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

ফাইল ছবি।

এ বছর মোট ২৯ হাজার ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী তিন হাজার ৬৭৯টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরমপূরনের বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সকল বিষয়ে পরীক্ষা না হওয়ার কারণে পরীক্ষার ব্যায় কমে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে আদায়কৃত অর্থের অব্যায়িত অংশ ফেরত দেয়া হবে।’

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে চলতি শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এ বছর শুধুমাত্র ঐচ্ছিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন শিক্ষার্থীরা। বাকি বিষয়গুলোর ফল নির্ধারণ হবে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে।

পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে দীপু মনি বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএস-এর মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানিয়ে দেয়া হবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।’

ছবি তোলা যায় না এমন একটি ফোন কেন্দ্র সচিবের কাছে থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ বছর মোট ২৯ হাজার ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী তিন হাজার ৬৭৯টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৯৯৮ জন। এ ছাড়াও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ৩ লাখ ১ হাজার ৮৮৭ এবং এসএসসি (ভকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ২২৮ জন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২০ সালের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ জন। শিক্ষার্থী বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭৬ ভাগ। মোট প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৫১টি আর কেন্দ্র বেড়েছে ১৬৭টি।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শেষের ৩০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত হবে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে এ বছর বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীদের একই সময়ের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষার সময় ও নম্বরও কমিয়ে আনা হয়েছে।’

এ বছর অনলাইনের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস গুজব ঠেকাতেও নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের বিভ্রান্তি ছড়ালে অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এ জন্য এখন থেকেই গোয়েন্দা বাহিনী নজর রাখছে। অপচেষ্টা করে কেউ পার পাবে না।’

আরও পড়ুন:
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা
‌ঢাবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা করোনা আক্রান্ত ভর্তিচ্ছুর
অভিভাবকদের ভিড় না করার অনুরোধ ঢাবি উপাচার্যের
নতুন কাউকে উঠতে দেয়া হবে না এসএম হলে
ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন ‘সোহরাওয়ার্দীর রাজা’

শেয়ার করুন

পরীক্ষা শুরুর আগে দেয়াললিখন, বহিষ্কার পরীক্ষার্থী

পরীক্ষা শুরুর আগে দেয়াললিখন, বহিষ্কার পরীক্ষার্থী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ছেলেটি পরীক্ষার নির্দেশনা সম্পর্কে জানে না। ওই হলের পরীক্ষক দেয়ালে লেখার বিষয়টি জানালে ওই পরীক্ষার্থীকে প্রক্টোরিয়াল বডির কাছে আনা হয়। তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরুর আগে হলের দেয়ালে লেখায় এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার সকালে ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ৫৩৪ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম মেহেদি হাসান। তার বাড়ি ঢাকার সাভারে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ‘বি’ ইউনিটের প্রথম শিফটের পরীক্ষা শুরু হয় বেলা ১১টায়। মেহেদি পরীক্ষা হলে প্রবেশ করেন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে। তাকে ১ ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। উত্তরপত্র পাওয়ার পর মেহেদি হলের দেয়ালে ‘পরীক্ষা কমিটির বহিষ্কার চাই’ লেখেন।

এমন অশোভন আচরণ করায় তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ছেলেটি পরীক্ষার নির্দেশনা সম্পর্কে জানে না। ওই হলের পরীক্ষক দেয়ালে লেখার বিষয়টি জানালে ওই পরীক্ষার্থীকে প্রক্টোরিয়াল বডির কাছে আনা হয়। তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই পরীক্ষার্থীর বিষয়ে ইনভেস্টিগেশন (তদন্ত) হচ্ছে। অন্য কোনো ইউনিটে সে পরীক্ষা দিতে পারবে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা
‌ঢাবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা করোনা আক্রান্ত ভর্তিচ্ছুর
অভিভাবকদের ভিড় না করার অনুরোধ ঢাবি উপাচার্যের
নতুন কাউকে উঠতে দেয়া হবে না এসএম হলে
ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন ‘সোহরাওয়ার্দীর রাজা’

শেয়ার করুন

৮ থেকে ২৫ নভেম্বর বন্ধ কোচিং সেন্টার

৮ থেকে ২৫ নভেম্বর বন্ধ কোচিং সেন্টার

এসএসসি পরীক্ষা উপলক্ষে কোচিং সেন্টারগুলো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফাইল ছবি

এসএসসি পরীক্ষা সামনে রেখে ৮ থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

সচিবালয়ে বুধবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ নভেম্বর; চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এ পরীক্ষা হবে শুধু নৈর্বাচনিক বিষয়ে। অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়ে আগের পাবলিক পরীক্ষার সাবজেক্ট ম্যাপিং করে মূল্যায়নের মাধ্যমে নম্বর দেয়া হবে।

এ ছাড়া চতুর্থ বিষয়েরও পরীক্ষা নেয়া হবে না। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট এবং ২টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা হবে।

২৭ সেপ্টেম্বর আন্তশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, ‘১৪ নভেম্বর থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে; চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। করোনার এ সময়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেয়া হবে।’

সাধারণত প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষা শুরু হলেও এ বছর করোনার কারণে এ পাবলিক পরীক্ষা নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে নেয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষা রুটিন প্রকাশ করে। এ পরীক্ষাও শুরু হবে ১৪ নভেম্বর থেকে, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা
‌ঢাবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা করোনা আক্রান্ত ভর্তিচ্ছুর
অভিভাবকদের ভিড় না করার অনুরোধ ঢাবি উপাচার্যের
নতুন কাউকে উঠতে দেয়া হবে না এসএম হলে
ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন ‘সোহরাওয়ার্দীর রাজা’

শেয়ার করুন

উন্নত জাতি গঠনে গবেষণার সংস্কৃতি চান শিক্ষামন্ত্রী

উন্নত জাতি গঠনে গবেষণার সংস্কৃতি চান শিক্ষামন্ত্রী

বিএসএমএমইউর তৃতীয় গবেষণা দিবস উপলক্ষে বুধবার বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ছবি: নিউজবাংলা

গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত জাতি গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন গবেষকরা। তাই আমাদের দেশে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

উন্নত জাতি গঠনে গবেষকদের বিকল্প নেই জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, দেশে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) তৃতীয় গবেষণা দিবস উপলক্ষে বুধবার বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত জাতি গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেন গবেষকরা। তাই আমাদের দেশে গবেষণার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।’

অনেক সময় গবেষণার বরাদ্দ ফিরে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা গবেষণা করেন, তারা হয়তো সঠিক নিয়মকানুন মেনে আবেদন করেন না। কোথাও একটা সমস্যা আছে।

‘এ বিষয়ে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। নইলে যারা ভালো গবেষক আছেন, তারা হতাশ হবেন।’

ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘সবাই গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা বলেন, কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় বরাদ্দকৃত টাকার যথাযথ ব্যবহারও হয় না। তাই বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত যায়।’

দেশের গবেষণা খাতকে এগিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নতির জন্য আমি ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করব, আপনারা গবেষণা খাতে কিছু ব্যয় করুন। এতে দেশ লাভবান হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে আমরা গবেষণায় গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি, যেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় বিশ্বের বুকে রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।’

করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণার ফল প্রকাশ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, মোট ১৮ শতাংশ হচ্ছে ইন্ডিয়ান বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট।’

তিনি জানান, করোনার টিকাগ্রহীতাদের ওপর গবেষণার ফলে দেখা গেছে, তাদের ৯৮ শতাংশের দেহে অ্যান্টিবডি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

আরও পড়ুন:
জোর করে ঢাবির অমর একুশে হলে ছাত্ররা
‌ঢাবির মেডিক্যাল সেন্টারে পরীক্ষা করোনা আক্রান্ত ভর্তিচ্ছুর
অভিভাবকদের ভিড় না করার অনুরোধ ঢাবি উপাচার্যের
নতুন কাউকে উঠতে দেয়া হবে না এসএম হলে
ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন ‘সোহরাওয়ার্দীর রাজা’

শেয়ার করুন