অসংক্রামক রোগে ভুগছেন ৮০ শতাংশ প্রবীণ: গবেষণা

অসংক্রামক রোগে ভুগছেন ৮০ শতাংশ প্রবীণ: গবেষণা

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবীণ পুরুষদের তুলনায় নারীদের অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের হার বেশি। ফাইল ছবি

গবেষণা দলের প্রধান ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, প্রবীণদের প্রতি ২ জনের মধ্যে একজন যে কোন একটি অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া প্রবীণ পুরুষদের তুলনায় নারীদের অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের হার বেশি। পুরুষ প্রবীণদের ৩৭ শতাংশ এই রোগের শিকার হলেও নারীদের হার ৫৪ শতাংশ।

বয়স্কদের মধ্যে ভয়াবহ হারে বাড়ছে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ। দেশে ৮০ ভাগ প্রবীণই (৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব) উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) এবং বিষণ্নতার মত অসংক্রামক রোগে ভুগছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআরবি) সম্প্রতি করা এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে আসছে। যা খুবই উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে শুক্রবার আয়োজিত একটি অনলাইন সেমিনারে প্রবীণদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। সারা দেশের দুই হাজার ৭৯৫ জন প্রবীণের কাছ থেকে সংগৃহীত তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবীণদের প্রতি ২ জনের মধ্যে একজন যে কোন একটি অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া প্রবীণ পুরুষদের তুলনায় নারীদের অসংক্রামক রোগে আক্রান্তের হার বেশি। পুরুষ প্রবীণদের ৩৭ শতাংশ এই রোগের শিকার হলেও নারীদের হার ৫৪ শতাংশ।

গবেষণায় আরও দেখা যায়, গত ছয় মাসে প্রবীণ ব্যক্তিরা প্রতি তিনজনের ১ জন (৩৫ শতাংশ) নিকটস্থ ওষুধ বিক্রেতার কাছে গেছেন সেবার জন্য, ৩৬ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতালে আর ১৭ শতাংশ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে।

প্রবীণদের সবশেষ ৬ মাসের স্বাস্থ্যসেবার গড় খরচ ছিল ২ হাজার ৪২৯ টাকা। এই প্রবীণদের ৩০ শতাংশ এখনও নিজেরা আয় করেন যা থেকে তারা চিকিৎসার খরচ চালান। যারা নিজেরা আয় করেন না তাদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনের ৪ জন চিকিৎসা খরচের জন্য সন্তানদের আয় কিংবা নিজস্ব সঞ্চয়ের ওপর নির্ভরশীল।

এতে গবেষক ও জনস্বাস্থ্যবিদরা অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সেবাকে আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট গবেষণা জোরদার করার সুপারিশ করেছেন। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআরবির বিজ্ঞানী ও ইনিশিয়েটিভ ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেসের প্রধান ড. আলিয়া নাহিদ।

গবেষণা দলের প্রধান ড. আলিয়া নাহিদ বলেন, ‘সবশেষ আদমশুমারি ২০১১ অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ প্রবীণ ছিল যা ২০৪১ সালে দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে জন্য প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাকে তাদের দোরগোড়ায় নেওয়া উচিত এবং সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে।’

এ ছাড়া প্রবীণদের মধ্যে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে বলে মনে করেন আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ।

আরও পড়ুন:
দেশে অর্ধেকের বেশি প্রবীণ পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে, তবে ‘সৈকতে ঘোরার সময় আসেনি’

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে, তবে ‘সৈকতে ঘোরার সময় আসেনি’

দীর্ঘদিন পর কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলো খুলে দেয়ায় সৈকতে বাড়ছে পর্যটকদের ভিড়। ছবি: নিউজবাংলা

আইইডিসিআরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে যদি এখন থেকে পদক্ষেপ না নেই তাহলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আবার সংক্রমণ বাড়বে। এজন্য টিকা নিলেও আমাদের মাস্ক পরতে হবে। সেই সঙ্গে জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে না যাওয়ায় ভালো। আমরা লক্ষ্য করছি অনেক মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণ করছে। তবে সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।’

দেশে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দেশে সংক্রমণের হার টানা ২৬ দিন ৫ শতাংশে নিচে। চলতি বছরের জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু দেখছে দেশ। আগস্টের শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে সংক্রমণ ও মৃত্যু কমছে। সেপ্টেম্বরেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল। চলতি মাসেও কমতির দিকে।

সর্বোপরি করোনা পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক। তবে সতর্ক থাকার বিকল্প নেই বলে মনে করেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর।

সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতি ও টিকাদান কর্মসূচির সার্বিক বিষয়ে নিউজবাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

দেশে সংক্রমণ তো কমে এসেছে। মানুষ তো অনেকটাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেছে। করোনার স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহাও দেখা যাচ্ছে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এটা নিয়ন্ত্রণে রাখা। এজন্য সব ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি চলমান রাখতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি মানতে সারা দেশে যে ক্যাম্পেইন চলমান রয়েছে, এটি বাড়াতে হবে। সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকবে।

ইতোমধ্যে ৫ কোটি মানুষকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সংক্রমণ কমানোর জন্য এটি একটি বড় ভূমিকা পালন করবে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে যদি এখন থেকে পদক্ষেপ না নেই তাহলে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও আবার সংক্রমণ বাড়বে। এজন্য টিকা নিলেও আমাদের মাস্ক পরতে হবে। সেই সঙ্গে জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে না যাওয়া ভালো।

আমরা লক্ষ্য করছি অনেক মানুষ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণ করছে। তবে সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে ব্যক্তিগত সচেতনতা বেশি ভূমিকা পালন করে। আমি যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি আমার পরিবার সুস্থ থাকবে। আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছি। এখন সব বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এখানে যেন আমরা অসর্তক না হই।

যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলি, তাহলে বাচ্চারা করোনা আক্রান্ত হবে। তাদের মাধ্যমে বয়স্করা করোনা আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হবে।

এখন যেভাবে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষার্থীদের বসানো হচ্ছে আগামীতেও এটি অব্যাহত রাখতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পর কোথাও কোথাও সংক্রমণ অনেক গুণ বেড়েছে। সেখানে হয়ত স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি বা শিক্ষা কর্মকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্টরা টিকা নেননি। এই কারণে বাচ্চাদের টিকা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বুস্টার ডোজ নিয়ে কী পরিকল্পনা?

এ বিষয়ে এখনও বিশ্বের কোনো দেশের পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। এ বিষয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। যদি কোম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় গবেষণা হয়, সেখানে দেখা গেছে টিকা বাণিজ্যের কারণে বুস্টার ডোজ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে স্বাধীনভাবে যে গবেষণা হয়েছে, তার কোথাও বুস্টার ডোজ দেয়ার সুপারিশ করা হয়নি।

যদি সারা পৃথিবীর মানুষের দুই টিকা দেয়া সম্ভব না হয়, তাহলে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সংক্রমণ ছড়াতে থাকবে। সো বুস্টার ডোজের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ডোজ সবাইকে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া উচিত।

অনেক দেশ শুধুমাত্র একটি ডোজ দিয়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। দুই-তিনটা দেশে বুস্টার ডোজ দেয়া হচ্ছে। তবে এটি বাণিজ্যিক স্বার্থে করা হয়েছে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে, তবে ‘সৈকতে ঘোরার সময় আসেনি’
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর

মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ ভ্যাসসিনেশনের, অর্থাৎ প্রথম ডোজ এক কোম্পানির এবং দ্বিতীয় ডোজ অন্য কোম্পানির দেয়ার বিষয়ে কী ভাবছে সরকার?

কোনো প্রতিষ্ঠানের তৈরি টিকার প্রথম ডোজ নেয়ার পর যদি একই কোম্পানির দ্বিতীয় ডোজের টিকা না পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে আরেকটি কোম্পানির টিকা বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। আমরা বড় পরিসরে একটি গবেষণার প্রস্তুতি নিচ্ছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে গবেষণার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

করোনার নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট আসার শঙ্কা করছেন কি?

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে। প্রথমে করোনাভাইরাস উহান শহরে যে ভ্যারিয়েন্ট ধরা পরে সেটি ইতালিতে এসে রূপ পরিবর্তন করে। এই ভ্যারিয়েন্ট পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়েছে।

এ কারণে ভারত কিংবা ইউকে ভ্যারিয়েন্ট আসতে হবে না। দেশীয় ভ্যারিয়েন্টে রূপ পরিবর্তন করে নতুন নতুন ভ্যারিয়েন্ট তৈরি করতে পারে। যে দেশ অনেক বেশি জিনোম সিকোয়েন্সিং করবে তারা হয়ত বেশি নতুন ভ্যারিয়েন্ট আবিষ্কার করবে। তখন হয়ত তাদের দেশের নামে এটির নামকরণ করা হবে।

এখন আমরা অনেক বেশি জিনোম সিকোয়েন্সিং করছি। ভাইরাসের রূপ পরিবর্তন হলে আমরা জানতে পারব।

আরও পড়ুন:
দেশে অর্ধেকের বেশি প্রবীণ পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে

শেয়ার করুন

সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি

সারা দেশের স্কুলশিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাউশি

দেশে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা করোনা টিকার আওতায় আসবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জানা যায়, ঢাকা মহানগরীর ৭৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ১৫ হাজার। আর সারা দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী আছে ১ কোটি ২৫ লাখ ২ হাজার ১২৬ জন।

করোনার টিকা দিতে ঢাকা মহানগর ব্যতীত সারা দেশের মাধ্যমিক স্কুলে অধ্যয়নরত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তথ্য চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

টিকা নিতে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য মাউশির ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

রোববার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, টিকা দেয়ার জন্য মাউশির আওতাধীন ঢাকা মহানগর ব্যতীত সব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের তথ্য ছক আকারে আগামী ২৩ অক্টোবরের মধ্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ই-মেইলে পাঠাতে হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ২৫ অক্টোবরের মধ্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ই-মেইল পাঠাবেন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আগামী ২৭ অক্টোবরের মধ্যে মাউশির ই-মেইলে [email protected] পাঠাবেন।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর এক নির্দেশনায় ঢাকা মহানগরের শিক্ষার্থীদের তথ্য চায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। ১৯ অক্টোবরের মধ্যে তাদের তথ্য মাউশির ই-মেইলে [email protected] পাঠাতে বলা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নম্বর, নাম, লৈঙ্গিক পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন, প্রতিষ্ঠানের নাম, জন্মতারিখ এবং অভিভাবকের ফোন নম্বর দিয়ে ইংরেজিতে এক্সেল শিট পূরণ করে ই-মেইলে তথ্য পাঠাতে হবে।

গত ১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জ কর্নেল মালেক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১০০ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষামূলকভাবে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের দেশে ১ কোটির বেশি ছেলেমেয়ে আছে, যাদের আমরা টিকা দেব। প্রথম পর্যায়ে ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেব এবং পর্যায়ক্রমে বাকিদের দেয়া হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফাইজারের টিকা ভালো ও নিরাপদ। এই টিকা আমেরিকা, ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে দেয়া হচ্ছে। এ কারণে এই টিকা আমরা ছাত্রছাত্রীদের দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের শিশুরা নিরাপদে থাকুক।’

১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জানা যায়, ঢাকা মহানগরীর ৭৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ লাখ ১৫ হাজার। আর সারা দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী আছে ১ কোটি ২৫ লাখ ২ হাজার ১২৬ জন।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল-কলেজে ক্লাস শুরু হয়। তবে প্রতিদিন সব শ্রেণিতে ক্লাস হচ্ছে না।

শুধু চলতি বছর ও আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ক্লাস নেয়া হচ্ছে। বাকি শ্রেণিগুলোর মধ্যে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুই দিন এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এক দিন ক্লাসে আসতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে অর্ধেকের বেশি প্রবীণ পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে

শেয়ার করুন

পোলিও নির্মূলের সূচনা পাকিস্তানে

পোলিও নির্মূলের সূচনা পাকিস্তানে

ফাইল ছবি।

পাকিস্তানে অনেক পরিবারেই টিকার কার্যকারিতা ও টিকাদানের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ বিদ্যমান। অনেক পাকিস্তানি বিশ্বাস করেন যে ‘টিকা কর্মসূচির আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে বহিঃশত্রুরা।’ বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানে নিহত হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

পোলিও নির্মূলের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। চলতি বছর সংক্রামক এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে মাত্র একজন, দেশটির ইতিহাসে যা নজিরবিহীন।

টার্কিশ রেডিও অ্যান্ড টেলিভিশনের (টিআরটি) প্রতিবেদনে বলা হয়, পোলিওভাইরাসের বিস্তার রোধে ২৬ বছর আগে বিশাল পরিসরে কর্মসূচি শুরু করে পাকিস্তান সরকার।

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চেষ্টার পর দেশটিতে এ রোগের প্রকোপ এতটাই দুর্বল হয়েছে যে নতুন রোগীর সংখ্যা একজনে এসে ঠেকেছে।

বৈশ্বিকভাবে পোলিও নির্মূলের পথে বাধা হয়ে আছে কেবল পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। দক্ষিণ এশিয়ার এ দুটি দেশেই পোলিওর সংক্রমণ মহামারি পর্যায়ে।

পাকিস্তানের পোলিও প্রতিরোধ কর্মসূচির প্রধান ড. শাহজাদ বাইগ বলেন, ‘এর আগে ২০১৭ সালে পোলিও নির্মূলের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছেছিলাম আমরা। ওই বছর পাকিস্তানে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল আটজন। এ সংখ্যা একজনে পৌঁছেছে এবারই প্রথম।’

পোলিওমুক্ত হিসেবে ঘোষিত শেষ দেশ নাইজেরিয়া। সারা জীবনের জন্য শরীরকে অবশ করে ফেলতে সক্ষম এ রোগের শেষ সংক্রমণের খবর ২০১৬ সালে জানিয়েছিল আবুজা। এরপর আর দেশটিতে পোলিও সংক্রমণের খবর শোনা যায়নি।

চলতি বছরের আগে পাকিস্তান ২০১৭ সালে রেকর্ড নিম্ন পোলিও রোগী পেলেও ২০১৯ ও ২০২০ সালে সংখ্যাটি লাফিয়ে ১৪৭ ও ৮৪ জনে পৌঁছেছিল।

চলতি বছর দেশটিতে যে একজন পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে, তা প্রত্যন্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে। সংঘাতপ্রবণ ও সহজ সড়ক যোগাযোগবিহীন দুর্গম অঞ্চলটিতে টিকা কর্মসূচি পরিচালনা ছিল অত্যন্ত কঠিন। চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি শেষ পোলিও সংক্রমণের খবর মেলে অঞ্চলটিতে।

পোলিও সংক্রমণের সংখ্যা তাৎপর্যপূর্ণরকম কমে আসায় স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে স্বস্তির সুবাতাস বইছে।

কিন্তু গোটা পাকিস্তানকে পোলিওমুক্ত ঘোষণায় ইসলামাবাদকে অপেক্ষা করতে হবে কমপক্ষে আরও তিন বছর এবং এই সময় যেন একটি শিশুও নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত না হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

সন্ত্রাসী হামলার কারণেও পাকিস্তানের পোলিওবিরোধী কর্মসূচি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। দুই মাস আগে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পখতুনখোয়া প্রদেশে টিকাকর্মীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ড. শাহজাদ বাইগ বলেন, ‘দেশের কিছু অঞ্চলের মানুষ নারীদের কাজ করতে দেখতে চায় না। ওইসব অঞ্চলে আমাদের নারী কর্মীরা গোপনে এবং ওড়নার নিচে লুকিয়ে টিকা সরবরাহ করেন।’

পাকিস্তানে পোলিও নির্মূল কর্মসূচির অধীনে দুই লাখ ৮০ হাজারের বেশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী কর্মরত। তাদের দুই-তৃতীয়াংশই নারী।

রক্ষণশীল দেশটিতে শিশুদের পোলিও টিকা খাওয়াতে বাড়িতে বাড়িতে গিয়েও তাদের মাদের রাজি করাতে হয়, যে কারণে টিকা কর্মসূচিতে নারীদের এ আধিক্য।

পাকিস্তানে অনেক পরিবারেই টিকার কার্যকারিতা ও টিকাদানের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ বিদ্যমান। অনেক পাকিস্তানি বিশ্বাস করেন যে ‘টিকা কর্মসূচির আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে বহিঃশত্রুরা।’

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন অভিযানে নিহত হওয়ার পর বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

আত্মগোপনে থাকা লাদেনের সন্ধান পেতে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ভুয়া টিকা কর্মসূচি চালাতে পাকিস্তানি চিকিৎসক শাকিল আফ্রিদিকে কাজে লাগিয়েছিল বলে খবর প্রকাশ হলে টিকাবিরোধী মনোভাব জোরদার হয় দেশটিতে।

এ ছাড়া টিকা ইসলাম ধর্মসম্মত বা হালাল কি না, মেয়াদোত্তীর্ণ কি না, শিশুদের নপুংসক করে দেবে কি না, টিকার গুণগত মান কেমন- এমন নানা প্রশ্ন রয়েছে সাধারণ পাকিস্তানিদের মনে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণেও গত দেড় বছরে স্বাস্থ্যকর্মীদের সংস্পর্শ এড়াতে টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানায় অনেকে।

এ অবস্থায় পোলিও টিকা নিয়ে পাকিস্তানিদের অস্বস্তি দূর করতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংগঠন।

আরও পড়ুন:
দেশে অর্ধেকের বেশি প্রবীণ পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে

শেয়ার করুন

১৭ দিনে ডেঙ্গুতে ১৪ মৃত্যু

১৭ দিনে ডেঙ্গুতে ১৪ মৃত্যু

হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছেলের সেবায় ব্যস্ত মা। ছবি: সাইফুল ইসলাম

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২০১ জন। এ নিয়ে চলতি মাসের ১৭ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ২০৫ জন।

চলতি অক্টোবরের ১৭ দিনে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৪ জন। এ নিয়ে ডেঙ্গুতে দেশে চলতি বছর ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে রোববার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২০১ জন। এ নিয়ে চলতি মাসের ১৭ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩ হাজার ২০৫ জন।

মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৪০২ জনে।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪০ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬১ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২১ হাজার ৮৪৪ জন। এর মধ্যে শুরুর ছয় মাস ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন।

এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৬ জন। এ মাসে মারা যায় ১২ জন। আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন। এ মাসে মারা যায় ৩৪ জন। সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন, আর মৃত্যু হয় ২৩ জনের।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১ হাজার ৮৪৪ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ২০ হাজার ৪৭৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৮৪৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৫১ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
দেশে অর্ধেকের বেশি প্রবীণ পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে

শেয়ার করুন

চীনের কোম্পানির ৯ কোটি সিরিঞ্জ কিনছে বাংলাদেশ

চীনের কোম্পানির ৯ কোটি সিরিঞ্জ কিনছে বাংলাদেশ

প্রতীকী ছবি

ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘খুব দ্রুত টিকা চলে আসবে। সে জন্য সময় বাঁচাতে সরাসরি পদ্ধতিতে সিরিঞ্জ কেনা হচ্ছে। চীন ছাড়া অন্য কোনো সোর্সের এত বিপুল পরিমাণ সিরিঞ্জ দেয়ার সক্ষমতা নেই।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দিতে চীনের একটি কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি পদ্ধতিতে ৯ কোটি ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ কিনছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির রোববারের সভায় এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

সভা শেষে ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘খুব দ্রুত টিকা চলে আসবে। সে জন্য সময় বাঁচাতে সরাসরি পদ্ধতিতে সিরিঞ্জ কেনা হচ্ছে। চীন ছাড়া অন্য কোনো সোর্সের এত বিপুল পরিমাণ সিরিঞ্জ দেয়ার সক্ষমতা নেই।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে বলা হয়, ‘১৩ কোটি ৮২ লাখ মানুষকে টিকাদানের জন্য ২৭ কোটি ৬৪ লাখ সিরিঞ্জ প্রয়োজন। প্রতি মাসে ২ কোটি মানুষকে টিকা প্রদানের জন্য ৯ কোটি ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ জরুরি ভিত্তিতে কিনতে হবে।

‘এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে পিপিএ ২০০৬ এর ধারা ৬৮(১) এবং পিপিআর, ২০০৮ এর বিধি ৭৬(২) অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) প্রস্তাবিত ৯ কোটি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ চায়না ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যালস ফরেন ট্রেড করপোরেশনের কাছ থেকে কেনার নীতিগত অনুমোদন দেয়া প্রয়োজন।’

পরে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়।

২০ লাখ কিট কেনা হবে

এদিকে করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য একই বৈঠকে তিন লটে ২০ লাখ কিট কেনার অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় হবে ১১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে এসব কিট কেনা হবে।

এগুলো হলো ঢাকা স্টারলিং মাল্টি টেকনোলজি লিমিটেড, ওএমসি প্রাইভেট লিমিটেড এবং নারায়ণগঞ্জের জিএস বায়োটেক।

আরও পড়ুন:
দেশে অর্ধেকের বেশি প্রবীণ পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে

শেয়ার করুন

মৃত্যু বেড়ে ১৬, শনাক্তের হার কমে ১.৭৪

মৃত্যু বেড়ে ১৬, শনাক্তের হার কমে ১.৭৪

দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৮৮ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৬৮ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত কয়েক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩১৪ জনের দেহে। আর শনাক্তের হার কমেছে আরও, ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে রোববার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫৮৮ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৭৬৮ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩১টি ল্যাবে করোনার ১৮ হাজার ৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

এই নিয়ে টানা দুই দিন নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার নেমে এসেছে ২ শতাংশের নিচে। আর টানা ২৬ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

দেশে গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনাভাইরাস বছরের শেষদিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর চলতি বছরের এপ্রিলের আগে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় দরকার।

দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয় সরকার। ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় স্কুল-কলেজ। সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় রোববার দেশের গুচ্ছভুক্ত ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১০ জন, নারী ৬ জন। এদের মধ্যে, ৮০ বছরের ওপরে ২ জন, সত্তরোর্ধ্ব ১ জন, ষাটোর্ধ্ব ৫ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৪ জন ও চল্লিশোর্ধ্ব ৪ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, ৩ জন। এ ছাড়া ২ জন করে মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহে।

গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫২৯ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৬২ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
দেশে অর্ধেকের বেশি প্রবীণ পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে

শেয়ার করুন

শনাক্তের হার ২ এর নিচে নামল

শনাক্তের হার ২ এর নিচে নামল

দেশে টানা ২৫ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮২১টি ল্যাবে করোনার ১৫ হাজার ৫৮৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ২৯৩ জনের শরীরে। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক ৮২ শতাংশ।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার নেমে এসেছে ২ শতাংশের নিচে। এ নিয়ে টানা ২৫ দিন সারা দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

শনিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮২১টি ল্যাবে করোনার ১৫ হাজার ৫৮৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ২৯৩ জনের শরীরে। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ১ দশমিক ৮২ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ২৫ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

গত এক দিনে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২৯৩ জনের শরীরে। যা গত পাঁচ মাসে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ১৫ মে এর চেয়ে কম রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল। সেদিন ২৪ ঘণ্টায় ২৬১ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ার খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২৪-ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৪৮২ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৩ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

গত এক দিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৪ জন, নারী ২ জন। এর মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ২ ষাটোর্ধ্ব ২ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এর পরই চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেটে মৃত্যু হয়েছে একজন করে।

আরও পড়ুন:
দেশে অর্ধেকের বেশি প্রবীণ পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে

শেয়ার করুন