বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল

বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান, বন্ধ সব বিদেশি চ্যানেল

ছবি: সংগৃহীত

ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব নিজাম উদ্দিন মাসুদ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘১ অক্টোবর থেকেই আমরা সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। কোনো চ্যানেলেরই ক্লিন ফিড পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে আমরা এমন সব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ রেখেছি।’

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান প্রচার করে এমন বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার দেশে বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ রেখেছেন ক্যাবল অপারেটররা।

নিউজবাংলাকে ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) সাবেক মহাসচিব নিজাম উদ্দিন মাসুদ বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘১ অক্টোবর থেকেই আমরা সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। কোনো চ্যানেলেরই ক্লিন ফিড পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে আমরা এমন সব চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ রেখেছি।

‘ডিস্ট্রিবিউটররা হয়তো বিষয়টি তথ্য মন্ত্রণালয়ে জানিয়ে কিছু সময়ও চেয়েছেন। ক্লিন ফিড যেহেতু পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এটি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার করব না।’

সারাদেশে ক্লিন ফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল প্রচার না করতে সরকারের নির্দেশনার পর বন্ধ রয়েছে সব বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার। শুক্রবার মধ্যরাত থেকেই রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশি চ্যানেলগুলো দেখা যাচ্ছে না।

ক্যাবল অপারেটররা জানিয়েছেন, বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান প্রচার করে—এমন বিদেশি চ্যানেলগুলো থেকে বিজ্ঞাপন কেটে বাদ দিয়ে সম্প্রচার করা সম্ভব নয়। এ কারণে তারা চ্যানেলগুলো দেখানোই বাদ দিয়ে দিয়েছেন। সরকারের নতুন কোনো নির্দেশনা না আশা পর্যন্ত সেগুলো বন্ধই থাকবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়, সেগুলো বাংলাদেশে দেখানো যাবে না।

এর আগে গত মাসের শুরুতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অফ টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স (অ্যাটকো), টিভি চ্যানেল ডিস্ট্রিবিউটর ও ক্যাবল অপারেটর প্রতিনিধিদের বৈঠকে ক্লিনফিড (বিজ্ঞাপন ছাড়া) ছাড়া বিদেশি চ্যানেল ১ অক্টোবর থেকে না চালানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এক্ষেত্রে আইন প্রয়োগ করার কথাও বলে মন্ত্রণালয়।

সম্প্রচার বন্ধ বিদেশি চ্যানেলগুলো দেখতে গেলে টেলিভিশনের পর্দায় দর্শকদের একটি বার্তা দেখানো হচ্ছে। তাতে লেখা রয়েছে- গ্রাহকদের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ১ অক্টোবর থেকে বিজ্ঞাপনবিহীন ক্লিন ফিড ছাড়া কোনো বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচার করা যাবে না। তাই সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ক্যাবল অপারেটররা বিজ্ঞাপন থাকা বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়। এর ফলে সৃষ্ট অসুবিধার জন্য তারা দুঃখিত।

শুক্রবার থেকে বিদেশি চ্যানেলগুলো বন্ধের বিষয়ে বৃহস্পতিবারই আভাস দিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তথ্য মন্ত্রী জানান, ১ অক্টোবর থেকে আমরা সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব। কোনো বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড দেখানো না হলে এবং মন্ত্রণালয়, টেলিভিশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ক্যাবল অপারেটর ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে ক্যাবল লাইনে সম্প্রচারের জন্য টেলিভিশনগুলোর নির্ধারিত ক্রমের ব্যত্যয় হলে বা কোনো ক্যাবল অপারেটর আইন ভঙ্গ করে নিজেরা বিজ্ঞাপন, অনুষ্ঠান দেখালে বা আইনের অন্য কোনো ব্যত্যয় ঘটালে সংশ্লিষ্ট চ্যানেল ডাউনলিংকের অনুমতিপ্রাপ্ত ডিস্ট্রিবিউটরদের এবং ক্যাবল অপারেটরদের ওপরই আইন ভঙ্গের দায় বর্তাবে। শুক্রবার থেকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বিদেশি চ্যানেল ডাউনলিংকের অনুমতি পেয়েছে ক্লিনফিডের ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আগস্ট মাসে বৈঠক করে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে ১ অক্টোবর থেকে আমরা আইন প্রয়োগ করব। দিনের পর দিন তারা সময় নেবে, কালক্ষেপণ করবে, এটি হয় না। ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, নেপালসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে ক্লিনফিড ছাড়া বিদেশি চ্যানেল কেউ দেখাতে পারে না। আর আমাদের দেশে বিদেশি চ্যানেলগুলো ক্লিন ফিড পাঠাচ্ছে না, এই অজুহাতে এখানে ক্লিন ফিড চালাবে না এটা হয় না।’

১ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে ক্লিন ফিড সম্প্রচার কার্যকর করার বিষয়টি সম্প্রতি দিল্লী সফরকালে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন উল্লেখ করেন ড. হাছান মাহমুদ।

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বালিশকাণ্ডে ৮ আসামির জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট

বালিশকাণ্ডে ৮ আসামির জামিন কেন বাতিল নয়: হাইকোর্ট

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্প। ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের বালিশকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর দুদক চারটি মামলা করে। এ মামলায় নিম্ন আদালত আসামিদের জামিন দিয়েছিল। ওই জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক।

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের বালিশকাণ্ডের মামলায় পাবনা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমসহ আট আসামির জামিন কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

জামিন বাতিল চেয়ে দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি জাহিদ সরওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে দুদকের পক্ষে ছিলেন একেএম ফজলুল হক, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমি।

রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পের বালিশকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর দুদক চারটি মামলা করে। দুদকের উপপরিচালক নাসিরউদ্দিন ও উপসহকারী পরিচালক শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে পাবনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো করেন।

এজাহারে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করতে চেয়েছিলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের কতিপয় প্রকৌশলী। রূপপুর গ্রিন সিটির ২০ তলা ফাউন্ডেশনের ৬ ইউনিটবিশিষ্ট এক নম্বর ভবনের কিছু সিভিল এবং ই/এম ওয়ার্কসহ আইটেম কেনাকাটার ক্ষেত্রে বাজারমূল্য থেকে অনেক বেশি মূল্য দেখান তারা। অতিরিক্ত পরিবহন খরচ, তলাভিত্তিক উত্তোলন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি যোগ করে প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়।

মামলায় আট আসামি হলেন পাবনা গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আহমেদ সাজ্জাদ খান, মোস্তফা কামাল, উপসহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল কবীর, সুমন কুমার নন্দী, শফিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. তারেক ও আমিনুল ইসলাম।

এ মামলায় নিম্ন আদালত আসামিদের জামিন দিয়েছিল। ওই জামিন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে দুদক।

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

মণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে শাহবাগে অবরোধ

মণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে শাহবাগে অবরোধ

বিভিন্ন জেলার পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে শাহবাগ মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবরোধ। ছবি: নিউজবাংলা

অবরোধে যোগ দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল শাহ বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা নই, আমরা বাংলাদেশি। আমরা আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রাখি। আমাদের এই অধিকারে যারা হাত দিয়েছে, তাদের হাত আমরা ভেঙে দেব। আমরা এভাবে রাস্তা অবরোধ করতে চাইনি, কিন্তু আমাদের বাধ্য করা হয়েছে। যারা আমাদের কারণে যানজটে পড়ে আছে, তাদের কাছে আমরা ক্ষমা চাই।’

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পূজামণ্ডপে হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবিসহ ৭ দফা দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে শাহবাগ থেকে পল্টন, সায়েন্স ল্যাব, বাংলামোটর ও টিএসসি অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা টিএসসি এলাকায় জড়ো হন। সেখান থেকে তারা মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে আসেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গতকাল রাতে রংপুরের ঘটনার প্রতিবাদে শাহবাগ মোড়ে জগন্নাথ হলের ছাত্ররা অবস্থান নিয়েছে। যান চলাচল বেশ কিছুক্ষণ ধরে বন্ধ আছে। হলের প্রভোস্ট স্যারও আছেন।’

অবরোধে যোগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিহির লাল শাহ বলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। সকলের শরীরে একই রক্ত প্রবাহিত হয়। তাহলে এ ধর্মীয় উন্মাদনা কেন? সরকারের প্রতি আমাদের দাবি, এই সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ করতে হবে। দ্রুত হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

‘আমরা রোহিঙ্গা নই, আমরা বাংলাদেশি। আমরা আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রাখি। আমাদের এই অধিকারে যারা হাত দিয়েছে, তাদের হাত আমরা ভেঙে দেব। আমরা এভাবে রাস্তা অবরোধ করতে চাইনি, কিন্তু আমাদের বাধ্য করা হয়েছে। যারা আমাদের কারণে যানজটে পড়ে আছে, তাদের কাছে আমরা ক্ষমা চাই।’

মোড়ে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীরা ‘সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় করতে হবে’, ‘মন্দিরে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’সহ নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

তাদের ৭ দফা হলো:

০১. হামলার শিকার মন্দিরগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার করা।

০২. বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের ক্ষতিপূরণ।

০৩. ধর্ষণ ও হত্যার শিকার পরিবারগুলোকে স্থায়ী ক্ষতিপূরণ।

০৪. দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা।

০৫. জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মন্দির ও সংখ্যালঘুদের বসতবাড়িতে সাম্প্রদায়িক হামলার দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।

০৬. সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের আধুনিকায়ন করে ফাউন্ডেশনে উন্নীত করা।

০৭. জাতীয় বাজেটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য জিডিপির ১৫% বরাদ্দ রাখা।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের এসব দাবি মানার আশ্বাস না আসা পর্যন্ত তারা অবরোধ চালিয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

শেখ রাসেল একটি ভালোবাসার নাম: অর্থমন্ত্রী

শেখ রাসেল একটি ভালোবাসার নাম: অর্থমন্ত্রী

শেখ রাসেল। ছবি: সংগৃহীত

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভবোধসম্পন্ন মানুষের কাছে একটি আদর্শ ও ভালোবাসার নাম। শেখ রাসেল অবহেলিত, পশ্চাৎপদ, অধিকার বঞ্চিত শিশু-কিশোরদের আলোকিত জীবন গড়ার প্রতীক হয়ে গ্রাম থেকে শহর তথা বাংলাদেশের প্রতিটি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তান শহিদ শেখ রাসেল বাংলাদেশের প্রতিটি শুভবোধসম্পন্ন মানুষের কাছে একটি আদর্শ ও ভালোবাসার নামে পরিণত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ রাসেল আজ বাংলাদেশের প্রতিটি শিশু-কিশোর, তরুণ, শুভবোধসম্পন্ন মানুষের কাছে একটি আদর্শ ও ভালোবাসার নাম। শেখ রাসেল অবহেলিত, পশ্চাৎপদ, অধিকার বঞ্চিত শিশু-কিশোরদের আলোকিত জীবন গড়ার প্রতীক হয়ে গ্রাম থেকে শহর তথা বাংলাদেশের প্রতিটি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

সভায় মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা রহমাতুল মুনিম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যের নাম দিয়েছিলেন বৃটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের নামে। এই নামটিকে ঘিরে নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধুর মহৎ কোনো স্বপ্ন বা আকাঙ্ক্ষা ছিল। বঙ্গবন্ধু নিজেও ছিলেন বিশ্ব মানবতার উজ্জ্বল দ্যুতি, নিপীড়িত মানুষের বন্ধু, বাঙালি জাতির পিতা, মুক্তিকামী মানুষের মহান নেতা এবং গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও শান্তি আন্দোলনের পুরোধা।

‘সেই ছোট্ট বয়সে শেখ রাসেল যখন টুঙ্গিপাড়ায় বেড়াতে যেতেন, সেখানে বাচ্চাদের জড়ো করতেন, খেলনা বন্দুক তৈরি করে তাদেরকে প্যারেড করাতেন। পরিবারের সহায়তায় তিনি খুদে ওই বাহিনীর জন্য জামা-কাপড় ঢাকা থেকেই কিনে নিতেন, খাবারের ব্যবস্থাও করতেন। শেখ রাসেলের স্বভাব ও আচরণ ছিল অন্য আট দশজন থেকে ব্যতিক্রম, অনায়াসেই যে কেউ তার একনিষ্ঠ ভক্ত এবং বন্ধু হয়ে যেত।’

৭৫ এর পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের নিষ্ঠুরতা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র ১১ বছর বয়সে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শেখ রাসেল, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ঘাতকদের হাতে হত্যার নির্মম শিকার হন। পৃথিবীতে যুগে যুগে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কিন্তু এমন নির্মম, নিষ্ঠুর এবং পৈশাচিক হত্যাকাণ্ড কোথাও ঘটেনি। মা, বাবা, দুই ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, চাচা সবার লাশের পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়ে সবার শেষে নিষ্ঠুরভাবে ঘাতকেরা হত্যা করে শেখ রাসেলকে।

‘যাদের সান্নিধ্যে স্নেহ-আদরে হেসে খেলে বড় হয়েছেন তাদের নিথর দেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে তার মনের কী অবস্থা হয়েছিল! কী কষ্টই না তিনি পেয়েছিলেন! ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের বুলেটের আঘাতে একবারই হত্যা করেছে, কিন্তু শিশু রাসেলকে বুলেটের আঘাতে হত্যা করার আগেই কয়েকবার হত্যা করেছে।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বেঁচে থাকলে আজ শেখ রাসেলের বয়স হত ৫৭ বছর, সামিল হতেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে। ভিশন ২০২১, ২০৩০, ২০৪১, ডেল্টা প্ল্যান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নিয়ে তার হাসু আপা বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় এখন যেমন দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন, তিনিও নিঃসন্দেহে নিজেকে দেশের জন্য নিয়োজিত রাখতেন। তিনি হয়তো বিজ্ঞানী অথবা জাতির পিতার মতো বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার কাণ্ডারি হতেন। কিংবা হতে পারতেন বার্ট্রান্ড রাসেলের মতোই স্বমহিমায় উজ্জ্বল বিশ্বমানবতার প্রতীক।’

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

উপকূলে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

উপকূলে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আবহাওয়া অফিস বলছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

গরমের পর সারা দেশে বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। আবহাওয়া অফিস বলছে, থেমে থেমে বৃষ্টি হবে আরও কয়েকদিন। সেই সঙ্গে উপকূলে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে আবহাওয়া সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, লঘুচাপটি বর্তমানে তেলেঙ্গনা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিরাজমান। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে বিদায় নিয়েছে। অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫

পীরগঞ্জের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হামলা চালিয়ে বেশ কিছু বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। হামলার শিকার এক পরিবার। ছবি: নিউজবাংলা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রংপুরের ঘটনায় এলাকাবাসীর সহায়তায় এরই মধ্যে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করছি।’

রংপুরের পীরগঞ্জে এক হিন্দুপাড়ায় ঘরবাড়িতে আগুনের ঘটনায় এরই মধ্যে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

সম্প্রতি সারা দেশের মণ্ডপসহ সাম্প্রদায়িক হামলায় মুষ্টিমেয় কয়েকজন জড়িত এবং তাদের কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘একটা বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্যই এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। কুমিল্লার ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য, একটা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য, আমাদের সম্প্রীতির ভেতর ফাটল সৃষ্টির কৌশল ছিল।

‘কিন্তু অনেকেই এখানে না বুঝে অনেক কিছু করে ফেলেছেন। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে পুলিশ বাধ্য হয়ে ফায়ার ওপেন করেছে, সেখানে চারজন নিরীহ ব্যক্তির প্রাণ গেছে। নোয়াখালীতে নামাজ হয়ে গিয়েছিল, মুসল্লিরা চলে গিয়েছিল, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা খাবার খাচ্ছিল, এমন সময় কিছু টিনএজ বয়সের ছেলে এসে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘রংপুরের ঘটনায় এলাকাবাসীর সহায়তায় এরই মধ্যে ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে ধরার চেষ্টা করছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তার যত ধরনের ব্যবস্থা সেটি আমরা নিয়েছি। ঘটনাটি আকস্মিকভাবেই ঘটেছে। দুষ্কৃতকারীরা ৯০-এর বেশি বাড়িঘর লুটপাট ও ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনাগুলো পুলিশ যাওয়ার আগেই ঘটিয়েছে। রাতেই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ, এপিবিএন, র‍্যাব, বিজিবি গেছে। সেখানে কোনো জীবনহানি হয়নি। তবে সম্পদহানি হয়েছে, বাড়িঘর পুড়িয়েছে।’

সারা দেশের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘নোয়াখালীতে যা ঘটেছে, কুমিল্লায় যা ঘটেছে, হাজীগঞ্জে যা ঘটেছে, এগুলোকে আমরা এক সূত্র হিসেবে ধরে নিয়েছি। এগুলোর পেছনে কিছু ব্যক্তি রয়েছে। এরই মধ্যে আমরা সন্দেহজনক লোকদের চিহ্নিত করেছি, সম্পূর্ণ কনফার্ম হয়ে সবাইকে জানাব। এর জন্য কিছু সময় লাগবে। আমরা অনুমান করছি, আমাদের অনুমান সত্যি হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনাটি একটি সাজানো ঘটনা। এটা উদ্দেশ্যমূলকভাবেই করা হয়েছে। কোনো সম্প্রদায়ের লোক অন্য একটা সম্প্রদায়ের ধর্মগ্রন্থকে অপমান করবে, এই ধরনের মনমানসিকতার লোক বাংলাদেশে নেই। সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য, সরকারকে অস্থিতিশীল অবস্থায় ফেলার জন্য এটা করা হয়েছে।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে। জেলা প্রশাসন তাদের তাৎক্ষণিক অর্থ, শাড়ি-কাপড় বিতরণ করেছে। সেখানকার এমপি-স্পিকার, তিনিও উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। খুব শিগগিরই আমরা তাদের বাড়িঘর তৈরি করে দেব।’

হামলার পরের দিনই নোয়াখালী ও রংপুরে এসপিকে বদলির ঘটনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নোয়াখালীর এসপিকে বদলি করা হয়েছে আরও দুই মাস আগে। আর রংপুরের এসপিকেও বদলি করা হয়েছে। তিনি অসুস্থ ছিলেন, এ জন্য তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একটু দেরি করা হয়েছে। দুই বছর পরপর পুলিশের বদলি হবে এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

পদোন্নতি পেলেন র‌্যাব মহাপরিচালক-ডিএমপি কমিশনার

পদোন্নতি পেলেন র‌্যাব মহাপরিচালক-ডিএমপি কমিশনার

র‌্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন (বাঁয়ে) ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পুলিশ-১ অধিশাখার উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

পদোন্নতি পেয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এর মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামকে। গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তাদের।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পুলিশ-১ অধিশাখার উপসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সোমবার এ তথ্য জানানো হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক গ্রেড-২ পদের বিপরীতে গ্রেড-১ এর দুইটি সুপারনিউমারারি পদে (অবসর, অপসারণ কিংবা অন্যকোনো কারণে পদ শূন্য হলে বিলুপ্তির শর্তে) তাদের উন্নীত করা হলো।

২০২০ সালের ৮ এপ্রিল র‌্যাবের প্রধান হিসেবে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে নিয়োগ দেয় সরকার। এর আগে সিআইডির প্রধান ছিলেন তিনি।

আর ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান শফিকুল ইসলাম। এর আগে বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রীর আসন বেছেই পীরগঞ্জে হামলা: তথ্যমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর আসন বেছেই পীরগঞ্জে হামলা: তথ্যমন্ত্রী

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুনের ঘটনায় এক নারীর আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘পীরগঞ্জকে বেছে নেয়া খুবই স্বাভাবিক। তারা এমন একটি জায়গা বেছে নিয়েছে যাতে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। সে উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর আসন বেছে নেয়া। বাড়িঘরে আগুন দেয়া।’

রংপুরের পীরগঞ্জ প্রধানমন্ত্রীর আসন, তাই সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই সেখানে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘পীরগঞ্জকে বেছে নেয়া খুবই স্বাভাবিক। তারা এমন একটি জায়গা বেছে নিয়েছে যাতে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। সে উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর আসন বেছে নেয়া। বাড়িঘরে আগুন দেয়া।’

সোমবার শেখ রাসেল দিবসে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘চিরঞ্জীব মুজিব’ চলচ্চিত্রের টিজার প্রকাশের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

এসব ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতসহ অন্য ধর্মান্ধ গোষ্ঠী জড়িত বলেও মন্তব্য করেন হাছান মাহমুদ।

এসব হামলা ও বিশৃঙ্খলা রুখতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। কুমিল্লার ঘটনাটি ঘটিয়ে সেটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। তার ডালপালা ছড়ানো হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে, দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য এমনটা করা হয়েছে। অন্য কোনো উপায়ে তারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারছিল না বলেই দুর্গাপূজার সময়টাকে বেছে নিয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এ গোষ্ঠী সব সময় দেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সময় বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিশৃঙ্খলা করেছে, সব শেষে দুর্গাপূজায় তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এগুলো হয়েছে। সরকারও বসে নেই, কঠোর হস্তে দমন করছে ৷’

সরকারের নেয়া পদক্ষেপের উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চট্টগ্রামে শুধু ঢিল ছুড়েছে, একটি ব্যানার ছিঁড়েছে সে জন্য এক শ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কয়েক শ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালীতেও অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদের সারা দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।’

চাঁদপুরের ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধেই পুলিশ গুলি চালিয়েছে। সরকার নিজ অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব করছে। তাই দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তি ও অসম্প্রদায়িক শক্তির প্রতি অনুরোধ করে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দলের সকল নেতা-কর্মীকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে থাকার জন্য তারা দাঁড়িয়েছে। আরও বহু জায়গায় এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। দলের নেতা-কর্মীরা পাশে থাকার কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।’

আরও পড়ুন:
বিদেশি চ্যানেলে ক্লিনফিড নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট
অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলে বাইরের বিজ্ঞাপন নয়

শেয়ার করুন