মৎস্য ইনস্টিটিউটের দায়িত্বে পাঙাশ চাষের উদ্ভাবক খলিলুর রহমান

মৎস্য ইনস্টিটিউটের দায়িত্বে পাঙাশ চাষের উদ্ভাবক খলিলুর রহমান

দেশে পাঙ্গাস মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশলের উদ্ভাবক ড. মো. খলিলুর রহমান (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পাওয়া ড. খলিলুর রহমানের গবেষণার মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো পাঙাশ মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করেন। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রপতি পদক পান।

দেশে পাঙাশ মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশলের উদ্ভাবক মৎস্যবিজ্ঞানী ড. মো. খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)-এর মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এ পদে নিয়োগ দিয়ে বৃহস্পতিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের পর বিকেলে খলিলুর রহমান মহাপরিচালক পদে যোগদান করেন।

মহাপরিচালক পদে যোগদানের আগে তিনি বিএফআরআই-এর পরিচালক (গবেষণা ও পরিকল্পনা) পদে কর্মরত ছিলেন। তার আগে তিনি ময়মনসিংহের স্বাদুপানি কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং স্বাদুপানি উপকেন্দ্র যশোরের উপকেন্দ্র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া তিনি অ্যাকুয়া ড্রাগস ও হালদা নদী উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

খলিলুর রহমান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাৎস্যবিজ্ঞানে যথাক্রমে ১৯৮৪ সালে স্নাতক ও ১৯৮৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। ১৯৯৪ সালে এফএও ফেলোশিপ নিয়ে ইংল্যান্ডের হাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ও একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে বিশ্বব্যাংক স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

ড. খলিলুর রহমানের গবেষণার মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো পাঙাশ মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবন করেন। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৯৫ সালে রাষ্ট্রপতি পদক পান।

বর্তমানে পাঙাশ চাষ তৃণমূল মৎস্যচাষিদের কাছে খুব জনপ্রিয়, লাভজনক প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

তার দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত আর্টিকেলের সংখ্যা ৭৪টি। তিনি ‘ইকোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অফ ইনল্যান্ড ওয়াটার অ্যান্ড ফিশারি রিসোর্স অফ বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি বই লেখেন। যা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য ও রেফারেন্স বই হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

খলিলুর রহমান ১৯৬৩ সালের ২২ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার স্ত্রী ড. জুবাইদা নাসরীন আখতার বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

খলিলুর রহমান ১৯৮৭ সালে বিএফআরআই-এর চাঁদপুরের নদী কেন্দ্রে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বেডে বেডে ভাসছে সবজি

বেডে বেডে ভাসছে সবজি

ঝালকাঠিতে ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

উপকূলীয় হওয়ায় ঝালকাঠিতে কৃষকদের চাষাবাদ নিয়ে সমস্যা লেগেই থাকত। সেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ভাসমান বেডে নানান সবজি, মসলা রোপণ করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

ঝালকাঠিতে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলার চাষ। এতে ঘুচছে বেকারত্ব; কৃষকদের সংসারে ফিরছে সচ্ছলতা।

উপকূলীয় হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের চাষাবাদ নিয়ে সমস্যা লেগেই থাকত। সেই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ দিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ভাসমান বেডে নানান সবজি, মসলা রোপণ করছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

বেড পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা কৃষকরা বলছেন, এক-একটি বেডে বছরে ৭ থেকে ৮ বার সবজি চাষ করা যায়। সেই সঙ্গে বেডের জলে মাছ চাষও করা যায়।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি নিম্নাঞ্চল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যেত কৃষকের তৈরি বীজতলা। কৃষি বিভাগ নিজেদের উদ্যোগে কৃষকদের কলাগাছের ভেলা ও কচুরিপানা দিয়ে বেড তৈরি করে দিচ্ছে।

জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে ভাসমান বেড রয়েছে। ভাসমান এসব বেডে চাষ করা হচ্ছে লালশাক, মুলাশাক, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ঢ্যাঁড়শ, ধনিয়াসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি ও মসলা।

বেডে বেডে ভাসছে সবজি

বেড পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লাভবান কৃষক সালেহ আহম্মেদ জানান, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় গত দুই বছর ধরে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করছেন তিনি। লালশাক, মুলাশাক, ঢ্যাঁড়শসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মসলা চাষ করেছেন।

বেড পদ্ধতির চাষে তেমন কোনো খরচ না থাকায় লাভবান হয়েছেন বলেও জানান সালেহ।

বেড তৈরির কৌশল কী তা জানতে চাইলে কৃষক মোকসেদ আলী জানান, প্রথমে পানির ওপরে কলাগাছ অথবা বাঁশ বিছিয়ে বেড বা মাচা তৈরি করতে হয়। তার ওপর কচুরিপানা তুলে বেড প্রস্তুত করা হয়। আর কচুরিপানা পচিয়ে তার ওপরেই বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়।

তিনি বলেন, বর্ষা বা বন্যার পানি যতই হোক বেডের ওপরে রোপণ করা চারার কোনো ক্ষতি হয় না। বেড পদ্ধতির আরেকটি গুণ হচ্ছে এতে কোনো ধরনের সার-কীটনাশকও দিতে হয় না।

বেডে বেডে ভাসছে সবজি

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফজলুল হক নিউজবাংলাকে জানান, ঝালকাঠি জেলায় চাষাবাদের জমি অন্য জমির তুলনায় বেশ নিচু হওয়ায় বর্ষার পানিতে ডুবে যায়। তাই বেড পদ্ধতির চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।

তিনি বলেন, ‘এতে কৃষিকাজে লাভের মুখ দেখবেন চাষিরা। জলাবদ্ধ ও বন্যাদুর্গত এলাকার কৃষকরা এ ধরনের ভাসমান বেডে সারা বছরই সবজি চাষ করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। বর্তমানে অনেকেই বেড পদ্ধতিতে চাষ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।’

শেয়ার করুন

খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। ফাইল ছবি/এএফপি

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয় এদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। আমরা যেন আর কখনও খাদ্যের অভাবে না ভুগি। বাংলাদেশে আর যেন কখনও দুর্ভিক্ষ না হতে পারে। কেউ যেন চক্রান্ত করেও দুর্ভিক্ষ না করতে পারে সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

বাংলাদেশে আর কখনই খাবারের অভাব হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে কৃষি গবেষণা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শনিবার সকালে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘খাবারে বাংলাদেশে আর কোনোদিন অভাব থাকবে না। তবে গবেষণাটা অব্যাহত রাখতে হবে। এ বিষয়ে সকলেকে নজর দিতে হবে।

‘জাতির পিতার ভাষায় বলতে হয় এদেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। আমরা যেন আর কখনও খাদ্যের অভাবে না ভুগি। বাংলাদেশে আর যেন কখনও দুর্ভিক্ষ না হতে পারে। কেউ যেন চক্রান্ত করেও দুর্ভিক্ষ না করতে পারে সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

খাদ্য অপচয় যাতে না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করার তাগিদও দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আরেকটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে, খাদ্যের অপচয় কমাতে হবে। সারা বিশ্বেই কিন্তু একদিকে খাদ্যের অভাব অন্যদিকে প্রচুর খাদ্য অপচয় হয়। এই অপচয় যেন না হয়।

‘যে খাদ্যগুলো অতিরিক্ত থাকে সেটিকে পুনর্ব্যবহার করা যায় কীভাবে সে বিষয়টি আমাদের চিন্তা করতে হবে। সে ধরনের ব্যবস্থা আমাদের দিতে হবে। খেতে বসেও যে খাদ্যটা উদ্বৃত্ত থাকবে সেটা দিয়ে অন্যকোনো চাহিদা পূরণ করা যায় কি না সেটিও গবেষণায় রাখা দরকার।’

খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জোর

খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর এবার খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় জোর দেয়া কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ও কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি স্থাপনের জন্য পূর্বাচলে ৫ একর জমি দেয়া হয়েছে। দুই একর, তিন একর না পাঁচ একর বরাদ্দ দেয়া আছে। এছাড়া আটটি বিভাগে আটটি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘খাবারের সঙ্গে সঙ্গে পুষ্টিও দরকার। সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমিষজাতীয় খাবার যাতে উৎপাদন হয় অর্থাৎ গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি এমনকি কোয়েল থেকে শুরু করে সব কিছুই, এমনকি টার্কিও এখন বাংলাদেশে হচ্ছে।

‘আমরা এই আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের যা চাহিদা সেগুলো পূরণ করে উদ্বৃত্ত যাতে প্রক্রিয়াজাত করা যায়। আমরা সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি সেখানে যাতে এই প্রক্রিয়াজাত করা যায় সেদিকে আমরা বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিতে গবেষণার ফলে দেশি-বিদেশি অনেক ফল, তরি-তরকারি সবকিছু এখন উৎপাদন হচ্ছে। ফুলকপি-পাতাকপি বা গাজরজাতীয় সবজি ১২ মাস পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অনেক বিদেশি ফল আমাদের দেশেই উৎপাদন হচ্ছে। এটা তো আমাদের কৃষিবিদদেরই অবদান। এ ক্ষেত্রে যতদূর সম্ভব সহযোগিতা দেয়ার আমরা দিচ্ছি।’

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার ও বিদ্যুতে ভর্তুকির বিষয়টি তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সারের দাম কমিয়ে একেবারে নূন্যতম পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। কোথায় ৮০-৯০ টাকা দাম ছিল, সেটা ১৬-২২ টাকা এ হারে আমরা কমিয়েছি।

‘তারপর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে তাদের ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছি, তারপর রিবেট দিচ্ছি। পাশাপাশি সোলার সিস্টেমে যাতে সেচ চালাতে পারে সে ব্যবস্থাও আমরা করে দিচ্ছি।’

খাবারের অভাব আর হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে সোনারগাঁও হোটেলে আলোচনা অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

‘আগে চাহিদা পূরণ, পরে রপ্তানি’

দেশের আভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমাদের অর্থনৈতিক যে কার্যক্রম আমরা সেটা সেভাবেই পরিচালনা করব। প্রথমে আমাদের দেশ, আগে নিজের খাদ্য চাহিদা পূরণ করব, সেই সঙ্গে যেটা অতিরিক্ত হবে সেটা প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

‘আমাদের লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এরই মধ্যে আমরা ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করেছি। খাদ্য শুধু উৎপাদন নয় এর মানও যেন ঠিক থাকে। এটা দেশে যারা ব্যবহার করবে তাদের জন্য যেমন প্রযোজ্য। আমরা যখন রপ্তানি করব প্রক্রিয়াজাত করে তার জন্যও প্রযোজ্য।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয়বার যখন সরকারে আসি, আমাদের গবেষণা যেগুলো আমরা শুরু করেছিলাম সেগুলো চলতে থাকে। আমি গবেষকদের ধন্যবাদ জানাই, তাদের গবেষণার ফলেই আমরা আজকে অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছি। দ্বিতীয় দফায় সরকারে এসেও আমরা কৃষিখাতে আবার নানা পদক্ষেপ নিই, যেন খাদ্য চাহিদা আমরা পূরণ করতে পারি।

‘আমরা বিনা পয়সায় খাদ্য বিতরণ করি, যারা একেবারে দুস্থ-দরিদ্র সেসব মানুষগুলোকে, বিশেষ করে বয়স্ক-বিধবা নারীদের। তাদের জন্য আমরা ভাতার ব্যবস্থা করে দেই। পরবর্তীতে ১০ টাকায় যেন চাল কিনতে পারে সে ব্যবস্থা করে দেই। আবার ওএমএস চালু রাখি। মানে খাদ্যটা যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়। খাদ্যের অভাব যেন মানুষের না হয়।’

কৃষিখাতে সরকারের দেয়া ভর্তুকির নানা দিক তুলে ধরেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষিতে যে ভর্তুকি দেই এটা দেয়ার বিষয়েও কিন্তু অনেক বাঁধা ছিল। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বাধা দিত ভর্তুকি দেয়া যাবে না। আমরা তাদের কথা শুনিনি।

‘৯৬ সালে সরকারে আসার আগে থেকেই অনেকের সঙ্গেই কথা হতো। যেমন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকই বলেছিল যে এখানে ভর্তুকি দেয়া যাবে না। আমি বললাম পৃথিবীর সব দেশ দেয় তো আমরা দেব না কেন। আমার দেশের মানুষের খাদ্যটা আগে। প্রথম চাহিদাটা হচ্ছে খাদ্য, আগে তো আমাকে খাদ্য দিতে হবে। তার জন্য আমার উৎপাদন বাড়াতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঠিক আছে আমাকে যদি এ ব্যাপারে কেউ ঋণ না দেয় তো আমরা নিজের পয়সায় দেব। তখনও কিন্তু সরকারে আমরা আসি নাই। তার আগে থেকেই এসব আলোচনা আমার সঙ্গে করত। আমার যেটা নীতি ছিল, আমি তাদের স্পষ্ট জানিয়েছে এবং আমরা সেটাই করেছি।

‘আমরা কৃষি উপকরণ কার্ড করে দিয়েছি এবং সরাসরি কৃষকদের হাতে যেন ভর্তুকি পোঁছায় সে ব্যবস্থা করেছি। প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে আমরা এ কার্ড দিয়েছি।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘বেসরকারি খাতে ব্যাপকভাবে আমরা ব্যাংক করতে দিয়েছি। সেখানে একটা নির্দেশনা আছে যে, এর শাখা সারা দেশে হতে হবে। কৃষকেরা যেন মাত্র ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে সে ব্যবস্থা করে দিই।

‘কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বর্গা চাষিদের বিনা জামানতে ঋণ দেয়া শুরু করি। কারণ বর্গা চাষিদের জমি নাই, তারা জামানত রাখতে পারত না। এ কারণে তারা ঋণ পেত না। আমার কথাই ছিল, ব্যাংক কৃষকের কাছে পৌঁছে যাবে। নগদ টাকা না থাকলে তারা উৎপাদন বাড়াবে কীভাবে? আমরা সেটা ৯৬ থেকে শুরু করি।’

প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৭০ হাজার ১৪৩ জন কৃষক ১০ টাকার অ্যাকাউন্ট খুলে সুবিধা পাচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভ্যালু চেইন ব্যবস্থাপনায় গুরত্বারোপ করছি।

‘২০০৯ সাল থেকে ৬৫৫টি উন্নত ফলনশীল ফসলের জাত এবং ৫৯১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে। জলবায়ু ও মৃত্তিকা অনুযায়ী শস্য বিন্যাস করেছি। কৃষি শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছি।’

শেয়ার করুন

‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

পাহাড়ে চলছে পাকা ধান কাটার ধুম। ছবি: নিউজবাংলা

পৌষ ও মাঘ মাস এলেই পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল সাফ করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন জুম চাষিরা। শুরু হয় জুম চাষের প্রস্তুতি। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের তীব্র রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করা হয় জুমক্ষেত।

পাহাড়ে এখন ধান তোলার সময়। পাকা ধান কাটার ধুম পড়েছে রাঙ্গামাটির পাহাড়ি জনপদে। জুমঘরের চারদিকে যেন ধান নয়, সোনা ছড়িয়ে আছে।

রাঙ্গামাটির মগবান ইউনিয়নের বড়াদাম, মগবান, বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়ন ও কুতুকছড়ির কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘ নয় মাসের পরিশ্রমের ফসল কেটে ঘরে তুলছেন চাষিরা। কর্মব্যস্ততায় মুখর পাহাড়। দেখে মনে হয় যেন পাহাড় খুঁড়ে ঘরে তোলা হচ্ছে মূল্যবান সোনা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে জুম চাষ করা হয়।

পৌষ ও মাঘ মাস এলেই পাহাড়ের ঢালে জঙ্গল সাফ করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন জুম চাষিরা। শুরু হয় জুম চাষের প্রস্তুতি। ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের তীব্র রোদে শুকিয়ে আগুনে পুড়িয়ে তৈরি করা হয় জুমক্ষেত।

‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠে জুম চাষিদের ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়। হিড়িক পড়ে আগুনে পোড়ানো জুমের মাটিতে বিভিন্ন বীজ বপনের। দা ও কোদাল দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে বপন করা হয় ধান, হলুদ, তুলা, শিম, মারফা, আঁখ, তিল, ভুট্টা ইত্যাদি।

জুমচাষ পাহাড়িদের আদি পেশা। পাহাড়ের অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস জুমচাষ।

প্রতি বছরের তুলনায় করোনার কারণে এ বছর চাষ হয়েছে কম। তবে ফলন হয়েছে অনেক বেশি।

রাঙ্গামাটি সদরের বন্দুকভাঙ্গার জুম চাষি ত্রিদেবী চাকমা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মোটামুটি এ বছর জুম থেকে অনেকগুলো ধান তুলতে পেরেছি। যদি সঠিক সময়ে বৃষ্টি হতো তাহলে আরও বেশি ধান পাওয়া যেত।’

‘যেন পাহাড় খুঁড়ে তোলা হচ্ছে সোনা’

কুতুকছড়ি এলাকার জুম চাষি সুখময় চাকমা বলেন, ‘ফলন আরও বেশি পেতাম যদি কৃষি বিভাগ থেকে সাহায্য করা হতো। তবে এ বছরে ছোট জুমে অনেক ফলন পেয়েছি। বিশেষ করে মারফা ও ভুট্টা ভালো হয়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছর ধানের পাশাপাশি সবজির ভালো ফলন হয়েছে। ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলার ৫ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ১ দশমিক ৩০ টন।’

শেয়ার করুন

বন্যার পর ছত্রাকে দিশেহারা চিলমারীর কৃষক

বন্যার পর ছত্রাকে দিশেহারা চিলমারীর কৃষক

ছত্রাকের আক্রমণের ক্ষেতের ফসল লালচে হয়ে যাচ্ছে। ছবি: নাজমুল হোসেন/কুড়িগ্রাম

কৃষক জয়দুল মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ এমন পোকার আক্রমণে আমনের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেনা করে আবাদ করছি। ফলন আসার আগেই ক্ষেত মরি গেলে দেনা শোধ করমো নাকি সংসার চালাব, জানি না।’

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে আমন ক্ষেতে ছত্রাকের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক।

তাদের ভাষ্য, ছত্রাকের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। ওষুধ দিয়েও কাজ হচ্ছে না।

কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছে সংক্রমিত চারা তুলে ফেলার।

কৃষকরা বলছেন, চলতি বছরের বন্যায় উপজেলায় আমন ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এরপর বন্যা কেটে গেলে তারা ধার-দেনা করে আমন চারা সংগ্রহ করে আবারও রোপণ করেন।

তারা আরও জানান, ছত্রাকের আক্রমণে ক্ষেতের ধানগাছ লালচে বর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে।

উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের গাবেরতল এলাকার কৃষক গোলজার হোসেনের জমির আমন ক্ষেত ছত্রাকের আক্রমণে পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে আনছার আলী, মমিন মিয়া, জয়দুল হক, বেলাল হক, আশরাফুল হক, ধলা মিয়া ও আমিন উদ্দিনের ক্ষেতে।

বন্যার পর ছত্রাকে দিশেহারা চিলমারীর কৃষক

গোলজার হোসেন জানান, প্রথম দফা বন্যার পরে আমন ক্ষেত রোপণ করেন তিনি। দ্বিতীয় দফার বন্যায় আমনের সেই ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। পরে সুদের ওপর টাকা নিয়ে আমন চারা কিনে আবার রোপণ করেন তিনি।

পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষি অফিসের পরামর্শে ওষুধ দিয়েও লাভ হয়নি।পরে অন্য ওষুধ দিয়েও সুফল মেলেনি।

পুরো জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান এ কৃষক।

একই এলাকার কৃষক জয়দুল মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ এমন পোকার আক্রমণে আমনের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেনা করে আবাদ করছি। ফলন আসার আগেই ক্ষেত মরি গেলে দেনা শোধ করমো নাকি সংসার চালাব, জানি না।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কুমার প্রণয় বিষাণ দাস বলেন, ‘আক্রান্ত জমিতে কৃষকদের সপসিন, মিপসিন, ইমিটাফ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। তা না করে অন্য ওষুধ দেয়ায় ফল পাওয়া যায়নি। কৃষকদের সংক্রমিত চারা তুলে ফেলার জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।’

কৃষকদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আমরা এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা করব।’

শেয়ার করুন

ভারতনির্ভরতা কমাবে পেঁয়াজের নতুন দুই জাত

ভারতনির্ভরতা কমাবে পেঁয়াজের নতুন দুই জাত

দেশে দুটি জাতের পেঁয়াজের উদ্ভাবন হয়েছে, যা একটি মৌসুমনির্ভরতা আর থাকবে না। ছবি: নিউজবাংলা

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৮ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি অংশ সংরক্ষণের সময় নষ্ট হয়। ফলে ৮ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, যার বেশির ভাগই আসে ভারত থেকে। নতুন জাত দিয়ে গ্রীষ্মকালীন উৎপাদন শুরু হলে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে এই ব্যবধান কমে আসবে।

দেশে পেঁয়াজের যে উৎপাদন, তার সঙ্গে চাহিদার ব্যবধান ১০ শতাংশ। তবে শীতে উৎপাদনের পর সারা বছর সংরক্ষণজনিত জটিলতায় তা ২৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকে।

আশার কথা হচ্ছে, দেশে এমন দুটি জাতের পেঁয়াজের উদ্ভাবন হয়েছে, যা একটি মৌসুমনির্ভরতা আর থাকবে না।

যে সময় দেশে মজুত কমে যাওয়ার পর ভারতের মজুত পরিস্থিতির কারণে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে, সে সময়ই উৎপাদনে চলে আসবে নতুন এই জাত।

জাত দুটি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, যা সংক্ষেপে বিনা নামে পরিচিত। জাত দুটি কৃষকদের মধ্যে পৌঁছাতে জোরেশোরে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, কৃষকরা সঠিক পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের বিপ্লব ঘটবে।

নতুন দুই জাত বিনাপেঁয়াজ-১ ও বিনাপেঁয়াজ-২ এ বছর থেকেই চাষের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ভারতনির্ভরতা কমাবে পেঁয়াজের নতুন দুই জাত

নতুন উদ্ভাবিত গ্রীষ্মকালীন এই দুই জাতের পেঁয়াজ হেক্টরপ্রতি ৮ থেকে ১০ টন উৎপাদন হবে। অন্য জাতের পেঁয়াজ শীতকালে ও এটি গ্রীষ্মকালে উৎপাদন হওয়ায় বাংলাদেশের উৎপাদিত সব পেঁয়াজ মিলিয়ে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা মিটবে বলে জানাচ্ছেন বিনার বিজ্ঞানীরা।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ২৮ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি অংশ সংরক্ষণকালে নষ্ট হয়। ফলে ৮ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়, যার বেশির ভাগই আসে ভারত থেকে।

গত দুই বছর ভারতে বন্যা ও উৎপাদন সমস্যার কারণে রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় দেশে পণ্যটির দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গিয়েছিল। অন্য দেশ থেকে আমদানি করেও পরিস্থিতি সামলানো যায়নি।

মিসরসহ নানা দেশ থেকে আমদানি করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরাও পড়েন ক্ষতির মুখে। দাম ছিল উচ্চ, পণ্য দেশে আসতে আসতে নতুন পেঁয়াজ চলে আসে, ফলে দাম কমে যায়।

এবারও ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিতে পারে, এমন গুঞ্জনে গত দুই সপ্তাহেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আগামী এক মাসেও পরিস্থিতি পাল্টাবে না।

এ অবস্থায় গ্রীষ্মকালীন জাত চাষ হলে আমদানি আর করতে হবে না।

এবার চারা উৎপাদনে গুরুত্ব

বিনার বিজ্ঞানীরা বলছেন, উদ্ভাবিত জাতের পেঁয়াজ বিপুল পরিমাণে জমিতে চাষের জন্য প্রথমে বীজ উৎপাদনকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

এ জন্য রবি মৌসুমে অক্টোবর থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহকে নির্ধারণ করে জমিতে বীজ বপন করতে হবে।

ভারতনির্ভরতা কমাবে পেঁয়াজের নতুন দুই জাত

খরিপ-১ মৌসুমে (গ্রীষ্মকালীন ফসল) কন্দ (পেঁয়াজের চারা) উৎপাদনের জন্য মধ্য জানুয়ারিতে বীজ বপন করতে হবে।

এ ছাড়া রবি মৌসুমে বীজের জন্য চারা রোপণ করলে অবশ্যই ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে মধ্য ডিসেম্বরেই (অগ্রহায়ণের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে চতুর্থ সপ্তাহ) করতে হবে।

চারা থেকে চারার দূরত্ব হবে ১৫ সেমি এবং সারি থেকে সারি ২০ সেমি দূরে থাকতে হবে।

খরিফ-১ মৌসুমে কন্দ উৎপাদনের জন্য চারা রোপণ করতে হবে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ (ফাল্গুনের প্রথম থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহ) পর্যন্ত।

চারা থেকে চারার দূরত্ব ১০ সেমি ও সারি থেকে সারি ১০ সেমি দূরে থাকবে।

উদ্ভাবকরা যা বলছেন

বিনাপেঁয়াজ-১ ও বিনাপেঁয়াজ-২ জাতের উদ্ভাবক বিনার প্রশাসন ও সাপোর্ট সার্ভিসের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। সহযোগী গবেষক হিসেবে ছিলেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কামরুজ্জামান ও ফাহমিনা ইয়াসমিন।

ফাহমিনা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভালো ফলন পেতে হলে সতেজ ও পুষ্ট বীজ বাছাই করতে হবে। এ ছাড়া ভিটাভেক্স-টু হান্ড্রেড ছত্রাকনাশক দিয়ে কেজিপ্রতি ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধন করতে হবে।

প্রতি হেক্টরে ৬ থেকে ৭ কেজি বীজ বপন করলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, এ জাতের পেঁয়াজের গাছ পরিপক্ব হলে পাতা ক্রমশ হলুদ বর্ণ ধারণ করে এবং গলার দিকের টিস্যু নরম হয়ে যায়। শতকরা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ গাছে পরিপক্বতা এলে ফলন উত্তোলন করে পাতা ও শিকড় কেটে ছায়াময় ও শীতল স্থানে ৫ থেকে ৭ দিন রেখে কিউরিং করতে হবে৷

এরপর ভালো পেঁয়াজগুলোকে বাছাই করে ঘরের মেঝে বা একটু উচ্চতায় বাঁশ বা প্লাস্টিকের মাচায় রেখে সংরক্ষণ করতে হবে।

নতুন দুই জাতের উদ্ভাবক আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বীজ পরিপক্ব হওয়ার সময় কদমের মুখ ফেটে যায় এবং কালো বীজ দেখা যায়। শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ গাছে পরিপক্বতা আসলে ফসল উত্তোলন শুরু করতে হবে। একই সময়ে সব পুষ্পদণ্ডের বীজ পরিপক্ব হয় না। এ জন্য ২ থেকে ৩ বার বীজ তুলতে হবে।’

ভারতনির্ভরতা কমাবে পেঁয়াজের নতুন দুই জাত

তিনি বলেন, ‘পুষ্পদণ্ডের নিচ থেকে কদমের ৫ থেকে ৭ সেমি অংশসহ পরিপক্ব কদমগুলো তুলতে হবে৷ তোলার পর কয়েক দিন রোদে শুকিয়ে প্রথমে বীজ থেকে খোসা আলাদা করতে হবে। এরপর বীজ পরিষ্কার করে পুনরায় রোদে শুকিয়ে আর্দ্রতা ৫ থেকে ৭ শতাংশে কমিয়ে আনতে হবে।

‘তারপর শুষ্ক ও ছায়াযুক্ত স্থানে বীজ ঠান্ডা করে বায়ুরোধক পলিথিন ব্যাগ, টিন অথবা প্লাস্টিকের পাত্রে ভরে শুকনো জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে।’

বাংলাদেশে পেঁয়াজ চাষে বিপুল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই জাতের পেঁয়াজ চাষের জন্য হালকা বুনটের মাটি বেশি উপযোগী। পলি, পিলি দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও দো-আঁশ মাটিবিশিষ্ট উঁচু জমি, যেখানে পানি জমে না বা নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা আছে, এমন জমিতে ফলন ভালো হয়।

‘আমাদের এসব দিকনির্দেশনা মেনে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হলে বাংলাদেশের উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে দেশের চাহিদা মিটবে৷ এর ফলে পেঁয়াজের দাম কমার পাশাপাশি বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে’-বলেন নতুন দুই জাতের উদ্ভাবক।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, ‘ডাল ও তেলজাতীয় শস্য যেমন সয়াবিন, সরিষা, মসুর, সূর্যমুখী ছাড়াও আলু, টম্যাটো, ব্রোকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ শাকসবজি চাষের জমিগুলো এই নতুন জাতের পেঁয়াজ চাষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপযোগী।

১৫ বছরের গবেষণা

গ্রীষ্মকালে পেঁয়াজ উৎপাদন করতে ২০০৬ সাল থেকে গবেষণা শুরু হয়। প্রথমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ জাত বারি পেঁয়াজ-২-এর বীজে গামা রশ্মি প্রয়োগ করা হয়।

এরপর পেঁয়াজের বংশগতিতে স্থায়ী পরিবর্তনের মাধ্যমে বিপি২/৭৫/২ ও বিপি২/১০০/২ নামক দুটি মিউট্যান্ট পাওয়া যায়। পরে কৃষক ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা করে দেখা যায়, মিউট্যান্ট দুটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাতৃজাত বারি পেঁয়াজ-২ ও চেকজাত বারি পেঁয়াজ-৩-এর চেয়ে বেশি কন্দ ও বীজ উৎপাদনে সক্ষম।

এগুলোর কন্দের সংরক্ষণকাল স্বাভাবিক অবস্থায় দুই মাস বা তার চেয়ে বেশি এবং একই বছর বীজ থেকে বীজ উৎপাদন করা হয়, যা দেশে প্রচলিত জাতে এমনটি দেখা যায় না।

ফলে মিউট্যান্ট দুটিকে জাতীয় বীজ বোর্ড ২০১৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে খরিফ-১ মৌসুমে চাষাবাদের জন্য বিনাপেঁয়াজ -১ ও বিনাপেঁয়াজ-২ নামে অনুমোদন দেয়।

শেয়ার করুন

দেশে মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন

দেশে মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন

সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মাছই ক্ষত রোগে আক্রান্ত হয়। একে মাছের ক্যান্সারও বলা হয়। প্রতি বছর অনেক মাছ ক্ষত রোগে মারা যায়। বাইরের অনেক দেশে মাছের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হলেও আমাদের দেশে এখনও শুরু হয়নি।’

বাংলাদেশে মাছের জন্য প্রথম ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) এক শিক্ষক।

এই ভ্যাকসিন মাছের ব্যাকটেরিয়াজনিত একাধিক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে ও মৃত্যুহার কমিয়ে উৎপাদন বাড়াবে বলে আশা এর উদ্ভাবক সিকৃবির মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের।

২০১৬ সাল থেকে মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা করা এই অধ্যাপক নিউজবাংলাকে জানান, এরোমোনাস হাইড্রোফিলা নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাছের ক্ষত রোগ, পাখনা পচাসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। এতে প্রতি বছর প্রচুর মাছ মারা যায়। তবে এই উপমহাদেশে মাছের ভ্যাকসিন নিয়ে তেমন কাজ হয়নি।

আব্দুল্লাহ আল মামুন উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের নাম দেয়া হয়েছে বায়োফ্লিম।

উদ্ভাবক বলেন, ‘আমরা সিকৃবির গবেষণাগারে কিছু পাঙ্গাশ মাছের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রবেশ করিয়ে ৮৪ শতাংশ সফলতা পেয়েছি। এরপর মাঠ পর্যায়ে এটি প্রয়োগ করা হবে।

‘আগামী মার্চ থেকে সিলেটের বিভিন্ন পুকুরের মাছের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। এর মধ্যে কয়েকটি পুকুরও নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগে সফলতা মিললেই বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হবে।’

উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে মাছকে খাওয়ানো হবে জানিয়ে মামুন বলেন, ‘এই ভ্যাকসিন ব্যাপক আকারে উৎপাদনের সক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের যে সক্ষমতা আছে তাতে প্রতি মাসে ১০০ মিলিলিটার উৎপাদন করতে পারব। এই পরিমাণ ভ্যাকসিন ১ কেজি মাছের খাবারের সঙ্গে মেশানো যাবে।

‘এই গবেষণা কাজে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মাছই ক্ষত রোগে আক্রান্ত হয়। একে মাছের ক্যান্সারও বলা হয়। প্রতি বছর অনেক মাছ ক্ষত রোগে মারা যায়।

‘বাইরের অনেক দেশে মাছের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হলেও আমাদের দেশে এখনও শুরু হয়নি। ক্ষত রোগ থেকে মুক্ত রাখতে আমরা সাধারণনত জলাশয়ে চুন ও লবণ ব্যবহার করে থাকি।’

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের বিষয়টি তিনি এখনও না জানলেও বলেন, ‘মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা গেলে উৎপাদন অনেক বাড়বে।’

সিকৃবির মৎস্য অনুষদ সূত্রে জানা যায়, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, চিলিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছের জন্য ২৮ ধরনের ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন হয়েছে। স্বাদুপানিতে চাষযোগ্য মাছে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান হাওলাদার জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৪০ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। তবে মাছের বিভিন্ন রোগের কারণে মড়ক দেখা দেয়। এতে প্রচুর পরিমাণ মাছ মারা যাওয়ায় চাষি ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই টাকায় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। আমার আশা, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপাদিত ভ্যাকসিন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে অবদান রাখবে।’

শেয়ার করুন

আইপিআরএসে মাছের উৎপাদন বাড়বে ১২ গুণ

আইপিআরএসে মাছের উৎপাদন বাড়বে ১২ গুণ

নাটরে আইপিআরএস পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় আগ্রহী হচ্ছেন অন্য চাষিরা। ছবি: নিউজবাংলা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের প্রফেসর মাহফুজুল হক জানান, একই পরিসরে অন্যান্য পদ্ধতির চেয়ে আইপিআরএস পদ্ধতিতে ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি মাছ উৎপাদন হয়। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। আর একেকটি চেম্বারে ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে ২২ থেকে ৩২ টন পর্যন্ত মাছ উৎপাদিত হয়।

নাটোরের হোসেন অ্যান্ড অ্যাগ্রো খামারের স্বত্বাধিকারী সারোয়ার হোসেন ইমন। শহরতলির জাঠিয়ান ভবানীপুর এলাকায় নিজের ১৪ বিঘা জমিতে বিদেশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছেন মাছের খামার। করোনাভাইরাস মহামারিতে সবাই যখন ধরাশায়ী, তখন তিনি দেখছেন নতুন সম্ভাবনা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইপিআরএস (ইনপন্ড রেসওয়ে সিস্টেম) পদ্ধতিতে সব ধরনের মাছ চাষ করা গেলেও ইমন আপাতত রুই ও গ্লাসকার্প মাছ চাষ করছেন। যন্ত্রপাতি বসানোসহ খামারে এ পর্যন্ত তার বিনিয়োগ ৭০ লাখ টাকা। এক বছরের মধ্যেই এই টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশার কথা জানান তিনি।

ইমন জানান, কয়েক দফা চীনে গিয়ে আইপিআরএস প্রযুক্তি দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। এরপর গত বছরের শেষের দিকে চীন থেকে আইপিআরএস প্রযুক্তি আমদানি করে মৎস্য খামার গড়ে তোলেন। চীনা প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলী এসে সব যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম স্থাপন করে দিয়ে যান। আমেরিকার সোয়াবিন কোম্পানির সহযোগিতায় তিনি আইপিআরএস পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন।

ইমন আরও জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে একটি পুকুরে একাধিক চেম্বার করে মাছ চাষ করা যায়। এতে উৎপাদন খরচ কমসহ অল্প জায়গার পুকুর থেকে অধিক মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। এ ছাড়া প্রযুক্তির সাহায্যে খাবার সরবরাহ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচর্যা হওয়ায় এ পদ্ধতিতে মাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে। আর তেমন কোনো রোগবালাই হয় না।

আইপিআরএসে মাছের উৎপাদন বাড়বে ১২ গুণ

আইপিআরএস পদ্ধতিতে কম জায়গাতেই বেশি মাছ পাওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার একর ফসলি জমি নষ্ট করে পুকুর তৈরির দরকার পড়ে না। এ প্রযুক্তিতে উৎপাদিত মাছের স্বাদ নদীর মাছের মতোই। তাই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করে মাছ চাষে বিপ্লব ঘটাতে চান ইমন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পর দ্বিতীয় প্রকল্প হিসেবে নাটোরে তিনিই আইপিআরএস পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেয়ায় আগ্রহী হচ্ছেন অন্য চাষিরা। এ খামারে উৎপাদিত মাছ বিদেশেও রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ইমন।

খামারের মার্কেটিং কর্মকর্তা আবু সাদাত সালাউদ্দিন জানান, খামার এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন করায় বাড়িতে বসে মাছ চাষ পর্যবেক্ষণ করা যায়। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাষিরা এই খামার দেখতে আসছেন। অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের প্রফেসর মাহফুজুল হক জানান, আইপিআরএস বা ইনপন্ড রেসওয়ে সিস্টেম পদ্ধতিতে একটি পুকুরে একাধিক চেম্বার তৈরি করে নদীর মতো কৃত্রিম স্রোত সৃষ্টি করা হয়। প্রতিটি চেম্বারে মাছের ঘনত্ব বেশি থাকে এবং স্রোতের কারণে মাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে।

আইপিআরএসে মাছের উৎপাদন বাড়বে ১২ গুণ

এ ছাড়া পাম্পের মাধ্যমে বর্জ্য উঠিয়ে ফেলার কারণে অন্য পদ্ধতির চেয়ে এ পদ্ধতিতে ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি মাছ উৎপাদন করা যায়। আর উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে একেকটি চেম্বারে ২২ থেকে ৩২ টন পর্যন্ত মাছ উৎপাদিত হয়।

ওয়ার্ল্ড ফিসের গবেষক কানিজ ফাতেমা জানান, খাদ্য গ্রহণের পর নির্গত মাছের বিষ্টা ফুল ও ফলগাছে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। পাঁচ বছরেও মাছ চাষ করা পুকুরের পানি পরিবর্তন করতে হয় না।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় প্রতিদিনই নতুন আইপিআরএস প্রযুক্তি মাছ চাষের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা নিতে দূর-দূরান্ত থেকে নাটোরে আসছেন চাষিরা।

ময়মনসিংহ থেকে আসা মাছচাষি মাহবুব পলাশ জানান, আইপিআরএস মাছ চাষ দেখে খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছেন। এভাবে মাছ চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, ‘এ পদ্ধতিতে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প খরচে গুণ-মানসম্পন্ন অধিক পরিমাণ মাছ উৎপাদন সম্ভব। এর মাধ্যমে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও মাছ রপ্তানি করা যাবে মাছ।’

রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা প্রকল্পটি দেখতে এসে বলেন, ‘আইপিআরএস পদ্ধতিতে মাছ চাষ দেখে আমি আপ্লুত হয়েছি। তবে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ থাকতে হয়। তাই কৃষি খাতের মতো এই খাতেও বিদ্যুতের খরচ কমানো দরকার। বিষয়টি আমি সংসদে উপস্থাপন করব।’

শেয়ার করুন