× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Conducted learning exchange workshops on advanced weather and flood information systems for community based risk and resource management
hear-news
player
google_news print-icon

প্রকল্পে বাড়বে খাদ্য নিরাপত্তা: সচিব

প্রকল্পে-বাড়বে-খাদ্য-নিরাপত্তা-সচিব-
খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত সুদূরপ্রসারী কার্যক্রমকে সামনে রেখে ইউএসএইডের আর্থিক সহায়তা এবং বাংলাদেশ সরকারের সম্পূরক সহায়তায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

ঢাকার হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে কমিউনিটিভিত্তিক ঝুঁকি এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য উন্নত আবহাওয়া ও বন্যা সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থার ওপর শিক্ষণ বিনিময় কর্মশালা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, এই প্রকল্পটির মধ্য দিয়ে বন্যাপ্রবণ কমিউনিটির জীবিকার ক্ষয়-ক্ষতি হ্রাসের পাশাপাশি জীবনযাপন এবং খাদ্য নিরাপত্তার উন্নয়ন হবে।

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর তিনি জোর দেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আতিকুল হক বলেন, ২০২০ সালের ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সময় দুর্যোগের আগাম তথ্য ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকাগুলোতে সরকার ভয়েস মেসেজের মাধ্যমেই দ্রুত পৌঁছে দিয়েছিল। এ আগাম তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে রাইমেসের ভয়েজ মেসেজ ব্রডকাস্টিং সিস্টেম আবারও কার্যকর প্রমাণ হয়েছে।

তিনি বলেন, এ পাইলট প্রকল্প থেকে পাওয়া সফল পদক্ষেপগুলো বিশেষ করে দুর্যোগ মোকাবেলায় কীভাবে সরকারি নীতিমালায় রাইমসের ভয়েস মেসেজ ব্রডকাস্টিং সিস্টেম যোগ করা যায়, তা নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কাজ করবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা পূর্বাভাসের লিড টাইম বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং রাইমসের এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫ দিনের দীর্ঘমেয়াদি বন্যা পূর্বাভাস সংযোজন একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভবিষ্যতে রাইমস এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ সমন্বিত কার্যক্রম অব্যহত থাকবে।

খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত সুদূরপ্রসারী কার্যক্রমকে সামনে রেখে ইউএসএইডের আর্থিক সহায়তায় এবং বাংলাদেশ সরকারের সম্পূরক সহায়তায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এ প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ঝুঁকি হ্রাস এবং কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া ও বন্যার পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্যব্যবস্থা ও তার ভিত্তিতে পরামর্শ ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের চিরাচরিত ধারণা ‘আবহাওয়া কী হবে’ থেকে সরে এসে ‘আবহাওয়া কী করবে’ ধারণায় অগ্রসর হওয়ার জন্য কাজ করা হয়।

এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে বন্যা পূর্বাভাসের লিড টাইম উন্নীত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার জন্য ১৫ দিনের সম্ভাবনাভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি বন্যার পূর্বাভাস চালু করা হয় এবং ২০২০ সাল থেকে তা বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ ছাড়াও এই প্রকল্পের আওতায় রাইমস এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের যৌথ প্রচেষ্টায় উপজেলাভিত্তিক পূর্বাভাস চালু করা হয়েছে, যা পূর্বে জেলা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে এই উপজেলাভিত্তিক পূর্বাভাস বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।

বিভিন্ন সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মশালা এবং প্রশিক্ষণের মাধমে বাংলাদেশ বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র ও বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে নতুন উদ্ভাবিত এসব সিস্টেম হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় আবহাওয়া ও বন্যার পূর্বাভাস এবং তার ভিত্তিতে পরামর্শ সেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য ভয়েস মেসেজ সার্ভিস প্রদান করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে পূর্বাভাস বার্তা সরাসরি মাঠ পর্যায়ে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, স্থানীয় পর্যায়ের সেবা প্রদানকারী সংস্থা, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কাছে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।

ওয়েবভিত্তিক এই ভয়েস মেসেজ সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর স্বল্প ব্যয়ে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ বার্তা প্রেরণ করতে সক্ষম হবে।

ইতোমধ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর ভয়েস মেসেজ সিস্টেম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকার কর্মশালা
মোবাইলফোনে সাংবাদিকতার কর্মশালা
‘ভরত নাট্যশাস্ত্রের’ অভিনয় কর্মশালা সমাপ্ত

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Relief at Messis awakening in DU

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে মাঠে উদযাপনে টিম আর্জেন্টিনা। ছবি: এএফপি
আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।’

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে হেরে খাদের কিনারায় চলে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে উঠে আসতে বিকল্প ছিল না জয়ের।

কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে অধরা সেই জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিলেন মেসি, ফার্নান্দেসরা, কিন্তু বাংলাদেশ সময় শনিবার মধ্যরাতের ম্যাচের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বুক চিনচিন করছিল দর্শকদের। তীর্থের কাকের মতো গোলের অপেক্ষায় ছিলেন তারা।

সে অপেক্ষার অবসান হয় দ্বিতীয়ার্ধে। দলপতি লিওনেল মেসির নীরবতা ভাঙানো গোলে প্রাণ ফেরে দর্শকদের। এরপর এনজো ফার্নান্দেসের দ্বিতীয় গোলে আসে স্বস্তি, যা বহাল ছিল রেফারির শেষ বাঁশি পর্যন্ত।

মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ এ জয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকদের মতো প্রাণ ফেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি, মুহসীন হলের মাঠে বড় পর্দায় খেলা দেখা দর্শকদের। গভীর রাতে তাদের মুখ থেকে বের হয় চাপা অভিমান আর আনন্দের কথা।

বাঁশি বাজিয়ে, মোটরসাইকেলে শোডাউন করে, আর্জেন্টিনার পতাকা গায়ে প্যাঁচিয়ে, নেচে-গেয়ে মেসিদের জয় উদযাপন হয় ঢাবি ক্যাম্পাসে। অনেকে স্লোগান দিতে দিতে ফেরেন হল আর বাসায়।

মেসিদের জাগরণে স্বস্তি ঢাবিতে

এমন মুহূর্তে কথা হয় কিছু আর্জেন্টিনাপ্রেমীর সঙ্গে। তাদের একজন ঢাবি ছাত্র নাসিমুল হুদা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা আরেকটু বেশি ছিল। তারপরও জয় পেয়েছি দেখে ভালো লাগছে।

‘প্রথমার্ধের খেলায় আমরা মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারিনি। যখন খেলা দেখছিলাম, তখন প্রচণ্ড রাগ উঠছিল। কারণ আর্জেন্টিনা এত বাজে খেলবে, সেটা মানতে পারছিলাম না। তাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’

আরেক ছাত্র সিদ্দিক ফারুক বলেন, ‘প্রথমার্ধে মন খারাপ থাকলেও মেক্সিকোর এত ডিফেন্সের ভেতর মেসির গোল এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা অসাধারণ ছিল, তবে আমাদের খেলায় আরও অনেক উন্নতি করা দরকার। এই খেলা দিয়ে আমরা ফাইনালের স্বপ্ন দেখার সাহস করতে পারি না।’

আমজাদ হোসেন হৃদয় নামের এক ছাত্র বলেন, ‘আজকের খেলায় মেসির কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। নিজে গোল দেয়া এবং ফার্নান্দেসকে দিয়ে করানো গোলটা দেখে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি। মার্টিনেজের সেভটাও দেখার মতো ছিল।

‘আশা করছি পোল্যান্ডের ম্যাচে আমরা জিতব। আমি অনেক বেশি করে চাইছি, কাতার বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনার হোক।’

এসইএস শাহিনের কাছে মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ফাইনাল। এতে জয়ের পর তার ভাষ্য, ‘আর্জেন্টিনার সামনে দুইটা ফাইনাল ছিল। একটাতে আজ জিতেছে; আরেকটা আগামী বৃহস্পতিবার।

‘সেটাতেও জিতবে বলে আশা আছে, তবে দলের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, কেউই ফর্মে নাই। তারপরও আমি আশা ছাড়তে চাই না।’

আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত এ জয়ের উচ্ছ্বাসের ঢেউ দেখা গেছে ছাত্রীদের হলে। হল গেটের ভেতর থেকে ‘মেসি মেসি’ স্লোগান দিতে দেখা যায় ছাত্রীদের।

প্রিয় দলের খেলা বড় পর্দায় দেখবে বলে অনেক ছাত্রী নির্ধারিত সময় রাত ১০টার মধ্যে হলে ঢোকেননি। খেলা শেষে তারা বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে, আড্ডা দিয়ে রাত কাটিয়েছেন।

এমনই একজন তাসনুভা জাহান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রাত ১০টায় হল বন্ধ হয়ে যায়। সেখানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা নেই। সবার সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা দেখার মজাটাই অন্যরকম। আর সেটা যদি হয় প্রিয় দলের, তাহলে আনন্দটা দ্বিগুণ হয়।

‘তাই আজকে খেলা শেষে বান্ধবীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসেই গল্প, আড্ডা করতে করতে রাত কাটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে মেসি জিতেছে; অনেক খুশি। এবার অন্তত বিশ্বকাপটা মেসির হোক।’

আরও পড়ুন:
চাপ সামলে জয় অস্ট্রেলিয়ার
আর্জেন্টিনার সামনে যেসব সমীকরণ
সৌদি ফুটবলারদের রোলস রয়েস পাওয়ার খবরটি ভুয়া
মুহিন-ঝিলিকের ‘ছুটছে মেসি ছুটছে নেইমার’
সেই মাঠে আবার নামছে আর্জেন্টিনা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Special discount in Bangkok Hospital for Bangladeshis

বাংলাদেশিদের জন্য ব্যাংকক হসপিটালে বিশেষ ছাড়

বাংলাদেশিদের জন্য ব্যাংকক হসপিটালে বিশেষ ছাড় শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের মাহমুদ সেমিনার হলে আয়োজিত ‘মর্ডান মেডিক্যাল টেকনলোজি অফ ব্যাংকক হসপিটালবিষয়ক প্রেস ব্রিফিং। ছবি: নিউজবাংলা
ব্যাংকক হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শক্তিরঞ্জন পাল বলেন, ‘আমাদের হসপিটালে রেডিয়েশনের মাধ্যমে টিউমার ধ্বংস করা হয়, যেখানে অপারেশন লাগে না। তিন দিন পর রোগী বাড়ি যেতে পারেন। তাছাড়া উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে ডায়াগনোসিস করে যেকোনো রোগ চিহ্নিত করা হয়।’

থাইল্যান্ডের ব্যাংকক হসপিটালে বিশেষ ছাড়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের উন্নত চিকিৎসা দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অস্ত্রোপচার ছাড়াই টিউমারের চিকিৎসা, ক্যানসার ও হৃদরোগ সারানোর কথাও বলা হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ফার্মগেটে দ্য ডেইলি স্টার ভবনের মাহমুদ সেমিনার হলে আয়োজিত ‘মর্ডান মেডিক্যাল টেকনলোজি অফ ব্যাংকক হসপিটালবিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন ব্যাংকক হসপিটালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শক্তিরঞ্জন পাল।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হসপিটালে রেডিয়েশনের মাধ্যমে টিউমার ধ্বংস করা হয়, যেখানে অপারেশন লাগে না। তিন দিন পর রোগী বাড়ি যেতে পারেন। তাছাড়া উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে ডায়াগনোসিস করে যেকোনো রোগ চিহ্নিত করা হয়।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে থাই অ্যাম্বাসেডর মাখওয়াদি সুমিতমোর বলেন, ‘ব্যাংকক হসপিটাল কোভিড মহামারির মধ্যেও চিকিৎসা সেবা দিয়ে গেছে। বাংলাদেশসহ সব দেশের জন্য, যারা ব্যাংকক হসপিটালে চিকিৎসা নিতে আসবেন সবাইকে আমরা উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে তাদের সেবাদান করব। এর প্রসার আরও বাড়াতে চাই। মেডিক্যাল সার্ভিসসংক্রান্ত যেকোনো সহযোগিতা করতে ব্যাংকক হসপিটাল প্রস্তুত।’

বিশেষজ্ঞ শক্তিরঞ্জন পাল আরও বলেন, ‘ব্যাংকক হসপিটাল ৫০ বছর ধরে সেবাদান করে আসছে। থাইল্যান্ডের বাইরেও আমাদের হসপিটাল আছে। মেডিক্যাল সংক্রান্ত যেকোনো চেকআপ এবং চিকিৎসায় অত্যাধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করা হয় যেগুলো অনেক ব্যবয়বহুল। তবে ব্যাংকক হসপিটাল উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে এই সেবাগুলো কম খরচে দিচ্ছে।’

‘এখন খাবারের অনিয়ম, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের জন্য হার্টের রোগ, ক্যানসার এই রোগগুলো বাড়ছে। টেকনোলজি ব্যবহার করে আমরা খুব সহজেই এগুলো চিহ্নিত করতে পারি। ডাক্তার এবং স্পেশালিষ্ট অ্যাডভান্স হচ্ছে। একটা সময় বলা হতো ‘ক্যানসার হ্যাজ নো অ্যান্সার। কিন্তু এখন আমরা বলি, ক্যানসার হ্যাজ সাম অ্যান্সার।

তিনি বলেন, ‘আমরা হার্ট ডিজিস এবং ক্যানসারের জন্য উন্নত টেকনলোজি ব্যবহার করছি।

‘করোনারি হার্ট ডিজিজ যেটা পুরুষদের বেশি হলেও এখন নারীদেরও হচ্ছে। এর সঙ্গে ব্রেন স্ট্রোকও সম্পর্কিত বিষয়ে উন্নত চিকিৎসা দেয়া। ডায়াবেটিস, হাই ব্লাড প্রেসার এগুলোর কারণে হার্ট ডিজিজ বাড়ে। আমরা এগুলোর জন্য তিনটি মাধ্যমে – টেকনলোজি, দক্ষ টেকনেশিয়ান ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিমওয়ার্ক- কাজ করছি।

প্রতিটি রোগের জন্যই এই তিনটার প্রয়োগ সঠিকভাবে করে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। এছাড়া থাইল্যান্ডে নার্সিং কেয়ার খুবই উন্নত এবং আন্তরিক। তারা তাদের টিমওয়ার্কের মাধ্যমে উন্নত সেবা দিয়ে আসছে।

গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে শক্তিরঞ্জন বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য স্পেশাল ডিসকাউন্ট রয়েছে। সেটা কোন ধরনের কেস সেটার ওপর ভিত্তি করে ছাড় দেয়া হয়। আমাদের স্পেশাল এক্সরে রয়েছে। এবং সব কিছুই উন্নত টেকনলোজির মাধ্যমে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. নীলাঞ্জন সেন, ব্যাংকক হার্ট হসপিটালের ক্রিয়াংকাই হেংগুসামি, ডিরেক্টর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর রাফ ক্রিউয়ার এবং আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
বিনা মূল্যে ২২ কোটি টাকার চিকিৎসা পেল রাইয়ান
‘নার্সের ভুলে’ রোগীর মৃত্যু
ভুল অপারেশনে বিউটির দুঃসহ এক বছর
ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর-সংঘর্ষ

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rabindra Sangeet Utsav returned to the stage after three years

তিন বছর পর মঞ্চে ফিরল রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব

তিন বছর পর মঞ্চে ফিরল রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শুক্রবার তেত্রিশতম জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব শুরু হয়েছে (বাঁয়ে), উৎসবে সম্মাননা দেয়া হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম ও সঙ্গীতশিল্পী রফিকুল আলমকে। ছবি কোলাজ: নিউজবাংলা
সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম বলেন, ‘জগতের বিপুল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। আমি আজ তার নামাঙ্কিত সম্মাননা পেলাম জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা থেকে৷ এ সম্মাননাটি আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের৷’ রফিকুল আলম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত এ সম্মাননা আমার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো৷’

করোনাকাল পেরিয়ে প্রায় তিন বছর পর মঞ্চে ফিরল বাংলাদেশ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা।

শুক্রবার সকাল ১০টায় ‘এই জীবনের ব্যথা যত এইখানে সব হবে গত’- স্লোগান নিয়ে শুরু হলো দুই দিনের রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব।

কবিগুরুর গানের সুরে সুরে সংস্কৃতির লড়াইকে বেগবান করার প্রত্যয়ের কথা জানায় সংস্থাটি।

রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দুই দিনের উৎসব ভাগ করা হয়েছে তিন অধিবেশনে।

সকাল ১০টায় প্রথম অধিবেশনে ছিল দুই পর্ব। প্রথমেই দেয়া হয় গুণীজন সম্মাননা।

তেত্রিশতম জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসবে সম্মাননা দেয়া হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম ও সঙ্গীতশিল্পী রফিকুল আলমকে। তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও অর্থ মূল্য তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

সম্মাননা প্রাপ্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম বলেন, ‘জগতের বিপুল কর্মযজ্ঞের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম। আমি আজ তার নামাঙ্কিত সম্মাননা পেলাম জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সংস্থা থেকে৷ এ সম্মাননাটি আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানের৷’

রফিকুল আলম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত এ সম্মাননা আমার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো৷’

সংস্থার সভাপতি তপন মাহমুদ বলেন, ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুই শব্দসৈনিককে সম্মাননা দিতে পেরে আমরা গর্বিত।’ এর আগে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পীযুষ বড়ুয়া।

উদ্বোধনী অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে ছিল আমন্ত্রিত পাঁচটি দলের সমবেত পরিবেশনা। এতে অংশ নেয় সঙ্গীতভবন, উত্তরায়ণ, সুরতীর্থ, বুলবুল ললিতকলা একাডেমী (বাফা) ও বিশ্ববীণা।

রবীন্দ্রনাথের পূজা-প্রেম পর্যায়ের গানের পাশাপাশি বৈচিত্র্য পর্যায়ের গান দিয়ে সাজানো এই পর্বটি দর্শক শ্রোতাদের বিমোহিত করে। এই পর্বের শুরুতেই মঞ্চে আসেন সঙ্গীতভবনের শিল্পীরা। তারা পর পর গেয়ে শোনান ‘লহো লহো তুলে লহো নীরব বীণাখানি’ ও ‘হেমন্তে কোন বসন্তেরই বাণী/ পূর্ণশশী ওই-যে দিল আনি’।

তাদের পরিবেশনার পর মঞ্চে আসেন উত্তরায়ণের শিল্পীরা। তারাও গেয়ে শোনান দুইটি গান- ‘সত্য মঙ্গল প্রেমময় তুমি, ধ্রুবজ্যোতি তুমি অন্ধকারে’ও ‘প্রাণে খুশির তুফান উঠেছে/ভয়-ভাবনার বাধা টুটেছে’। সুরতীর্থের শিল্পীর গান ‘কবে আমি বাহির হলেম তোমারি গান গেয়ে’ ও ‘কান্নাহাসির-দোল-দোলানো পৌষ-ফাগুনের পালা’।

বুলবুল ললিতকলা একাডেমি (বাফা)-এর শিল্পীরা শোনান ‘এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে’ ও ‘এখন আর দেরি নয়, ধর্ গো তোরা হাতে হাতে ধর গো’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি হয় বিশ্ববীণা শিল্পীদের কণ্ঠে সমবেত গানের মধ্য দিয়ে। তারা শোনান ‘হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমার নয়ন কেন ঢাকা-’ও ‘একি মায়া, /লুকাও কায়া/জীর্ণ শীতের সাজে’।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম পর পর গেয়ে শোনান ‘উত্তর বায় জানায় শাসন/পাতলো তপের শুষ্ক আসন’ ও ‘ওই জানালার কাছে বসে আছে /করতলে রাখি মাথা—’ শিরোনামে দুইটি গান। তার আগে সংবর্ধিত বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’- এর কয়েকটি চরণ আবৃত্তি করেন।

অগ্রহায়ণের মিষ্টি সকালে মঞ্চে প্রদীপ জ্বালিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। উৎসবের সূচনা হয় সংগঠনের রীতি অনুযায়ী জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে। এর পর সংস্থা শিল্পীরা দুইটি কোরাস পরিবেশন করেন। গান দুইটি ছিল ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা’ ও ‘তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায় তারি পারে’।

মাঝখানে বিরতি দিয়ে বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন। এতে অংশ নেন প্রায় অর্ধশতাধিক শিল্পী। প্রথম দিনের শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন- খন্দকার খায়রুজ্জামান কাইয়ুম, বুলা মাহমুদ, তানজিমা তমা, অনিকেত আচার্য, সাগরিকা জামালী, বিষ্ণু মণ্ডল, কনক খান, সীমা সরকার আবদুর রশীদ, রিফাত জামাল মিতু, খোকন দাস, আজিজুর রহমান তুহিন, শর্মিলা চক্রবর্তী আহমেদ শাকিল হাশমী, সাজ্জাদ হোসেন, জাফর আহমেদ, রাবিতা সাবাহ, ছন্দা রায়, নির্ঝর চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবার একই মঞ্চে বিকেল ৫টা থেকে হবে আবৃত্তি ও সঙ্গীতানুষ্ঠান।

উৎসবের সারা দেশ থেকে প্রায় ২০০ শিল্পী একক ও দলীয় পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন।

তাদের মধ্যে রয়েছেন বুলবুল ইসলাম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, রোকাইয়া হাসিনা, অদিতি মহসিন, ড. অরূপ রতন চৌধুরী, চঞ্চল খান, লিলি ইসলামসহ বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী।

দুই দিনের অনুষ্ঠানে গানের পাশাপাশি আবৃত্তি পরিবেশনায় অংশ নিচ্ছেন বাকশিল্পী আশরাফুল আলম, জয়ন্ত রায়, বেলায়েত হেসেন. মাহমুদা আখতার ও রেজিওয়ালী লীনা।

৩৩তম উৎসবটি উৎসর্গ করা হয়েছে করোনাকালে যে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, কবি ও সংস্কৃতজন মারা গেছেন তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত।

আরও পড়ুন:
রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব শুরু শুক্রবার
১০ ভাষায় গাওয়া হবে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সুজন হাজংয়ের গান
কারামুক্তির পর ‘দুঃখিত’ রাজীব গান্ধীর হত্যাকারী

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Men should be asked to build a safe world for women

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে নারীর প্রতি সহিংস আচরণ দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিয়েছেন অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা। ফাইল ছবি
প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে। এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তিন্নি (ছদ্মনাম)। স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ভালোবাসার বিয়ের দুই-তিন বছর পরই বদলে যায় স্বামীর আচরণ।

ছোটোখাটো বিষয়ে অকথ্য গালাগালি দিয়ে শুরু, দিনে দিনে তা গড়ায় মারধরে। ততদিনে তিন্নি দুই কন্যাসন্তানের জননী।

একপর্যায়ে তিন্নিকে চাকরি ছেড়ে দিতে চাপ দেন স্বামী। বলা হয় শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে ‘ভালো গৃহিণী’ হিসেবে সংসার করতে হবে। তবে ঘুরে দাঁড়ান তিন্নি। দুই সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন সংসার ছেড়ে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুই মেয়েকে একসঙ্গে ভালো স্কুলে পড়ানোর সামর্থ্য না থাকায় বড় মেয়েকে বাবার কাছে রেখেছি। সে ভিকারুননেসা নূন স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ে। সুযোগ পেলেই সে আমার কাছে আসে।’

আর ছোট মেয়ে তিন্নির স্কুলেই তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে।

তিন্নি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষতান্ত্রিকতার কাছে একটা জায়গায় হার মেনেছি। তবে সংসার ছাড়লেও নিজের পরিচয় ছাড়িনি।’

মিরপুরের একটি এলাকায় সাবলেট বাসায় থাকেন রোজিনা আক্তার (ছদ্মনাম)। স্বামীর আগে বিয়ের কথা না জেনেই ভালোবেসে তাকে বিয়ে করেন। এরপর স্বামীর আগের স্ত্রীর সঙ্গে একই বাসায় থাকতে হচ্ছে রোজিনাকে।

স্বল্পশিক্ষিত এই নারী হাসপাতালে আয়ার চাকরি করেন। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হয় স্বামীর মারধর। আগের স্ত্রীও নিয়মিত স্বামীর মারধরের শিকার। এসব মেনে নিয়েই সংসার করছেন রোজিনা।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুরুষ মানুষ, রাগ উঠলে একটু আকটু গায়ে হাত তুলবোই। খাওন পড়োন তো দিতাছে।’

সোহানা আর মিথুনের (ছদ্মনাম) তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক। প্রায় এক বছর আগে মিথুন দেশের বাইরে চলে যান। সোহানার সঙ্গে কাটানো কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি এবং ভিডিও রয়েছে তার কাছে।

সোহানা এই সম্পর্ক থেকে বের হতে চাইলে মিথুন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। এই নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে সোহানার।

নারী সহিংসতা প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়ে প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর পালন করা হয় নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল দিবস। দেশের অধিকারকর্মী ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বাড়লেও নারীর প্রতি সহিংস আচরণ উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়ে গেছে।

এ অবস্থা দূর করতে পুরুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে নারীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের তাগিদও দেয়া হয়েছে।

'আমরাই পারি' জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে- এটা বলা যাবে না। সহিংসতার ধরনে হয়তো কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এখন ফেসবুকের মতো বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এসেছে এবং এগুলোভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে এক ধরনের সহিংসতা ছিল যে মেয়েদের লেখাপড়া করতে দেয়া হতো না, বাইরে যেতে দেয়া হতো না অথবা অনেক ছোট বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়া হতো। ওই জায়গাগুলোতে পরিবর্তন হয়েছে। তবে মেয়েদের ওপর নির্দেশনা চাপিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি রয়েই গেছে। একেক সময় একেক ধরনের নির্দেশনা সমাজ বা পরিবার মেয়েদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সিস্টেমের তো চেঞ্জ হয়নি।’

জিনাত আরা বলেন, ‘আমাদের শিকড়েই সমস্যা রেখে দেয়া হলে ডাল কেটে বা ডাল ছেঁটে কোনো লাভ নেই। কারণ শিকড় থেকে আবার সেই জিনিসটাই বের হচ্ছে। এ কারণে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি কমছে না। এখন যখন মেয়েদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, তারা বাইরে যাচ্ছে, চাকরি করছে। এত চাপের পরও মেয়েরা প্রতিবাদ করছে। তখন আরও বেশি শারীরিকভাবে তাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি করেও যখন দেখছে কিছু হচ্ছে না, তখন তাদের মানসিক, সামাজিকভাবে বয়কটের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের কোণঠাসা করে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

নারীর জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে বদলাতে হবে পুরুষকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা ভবনের সামনের রাস্তায় এক তরুণীকে হেনস্তার ঘটনায় গত ১২ জুন প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে রোববার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়। ফাইল ছবি

তিনি বলেন, ‘আগের দিনে মেয়েদের রান্নার জন্য মসলা বাটতে হতো। আধুনিকায়নের কারণে এখন গুঁড়া মসলা পাওয়া যাচ্ছে। সেটা সময় বাঁচিয়েছে, কিন্তু সেই মসলার নাম দেয়া হয়েছে রাঁধুনী। অর্থাৎ মেয়েরাই রান্না করবে- এটাই যেন নির্ধারিত। আধুনিকায়নের সঙ্গে মানসিকতার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।’

পুরুষ ও নারীর মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটানোর ওপর জোর দিয়ে জিনাত আরা বলেন, ‘ছেলেরা ঘরের কাজ করলে মেয়েরা সারপ্রাইজড হয়ে যায়। মেয়েরা কিন্তু বাইরে ঠিকই যাচ্ছে, আবার সমানভাবে ঘর সামলাচ্ছে। বাচ্চা থেকে শুরু করে বয়স্কদের খেয়াল রাখছে।

‘তবে পুরুষ ঘরে আসেনি। তারা শুধু বাইরেই রয়ে গেছে। ঘরের কাজ যে শুধু মেয়েদের নয়- এই মানসিকতা পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই মেয়েদের ঘরের কাজের মূল্যায়ন হয়নি। অন্যদিকে নারীকে এখনও নারী হিসেবেই দেখতে চায় পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। মেয়েরা অফিসে কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং কাজ তাদের দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের অবস্থার পরিবর্তনে অনেক কাজ করছি, কিন্তু পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনে খুবই কম কাজ করেছি। পুরুষের পরিবর্তন হওয়াটা খুব জরুরি। দক্ষতা ও যোগ্যতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করতে পারে- এমন মানসিকতা পুরুষের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে আনা গেলেই নারীর প্রতি সহিংসতা কমানো যাবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার শুভ্রা চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতার মূলে রয়েছে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।’

তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের অনেক উদ্যোগ ও আইন রয়েছে; কিন্তু সেগুলো প্রয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। জামিন অযোগ্য মামলার আসামি কোনো না কোনো প্রভাব খাটিয়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন। এ ছাড়া তদন্তে গাফিলতি, উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে ব্যর্থতা, সাক্ষীর অপর্যাপ্ততা, পারিপার্শ্বিক চাপ ইত্যাদি কারণে মামলাগুলো গতি হারাচ্ছে।’

নারীর প্রতি সহিংসতা দূর করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর জোর দিয়ে ব্যারিস্টার শুভ্রা বলেন, ‘এ জন্য সবার নজরদারি বাড়াতে হবে। শিক্ষাঙ্গন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ঠেকাতে হাইকোর্টের রায়ের আলোকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানির অভিযোগ গ্রহণ সংক্রান্ত কমিটি করতে হবে। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে কিছুদিন প্রতিবাদ, শোভাযাত্রা করে সাময়িকভাবে থামানো গেলেও এটি তো শেষ হয়ে যায় না। কারণ সহিংসতার প্যাটার্নে পরিবর্তন এসেছে, মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। আমরা মানসিকভাবে মানবিক পরিবর্তন ঘটাতে না পারলে এসব ঘটতেই থাকবে।

‘শুধু পুরুষতান্ত্রিক সমাজের দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন বা লিঙ্গবৈষম্যের মানসিকতা পরিবার থেকেই শিখে বড় হয় অনেক শিশু। ভালোবাসা, বন্ধন, সমতা- এই শিক্ষাগুলো পরিবার থেকেই আসতে হবে।’

সহিংসতার পেছনে আধুনিক সময়ের প্রযুক্তিও কিছুটা দায় রয়েছে বলে মনে করেন ড. তানিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির অপব্যবহার মানুষকে পরিবার থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে। সবাই ভার্চুয়ালি যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। এতে তো বন্ধন তৈরি হয় না। পরিবার থেকেই মানুষ সামাজিকতা শেখে। আর সঠিক সামাজিকতা নিয়ে বড় হলে সহিংস মনোভাব অনেক কমে আসবে।’

পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে করণীয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমত কোনো একটি সহিংস ঘটনা কেন হলো সেটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। একটা মানুষ এ রকম ঘটনা কেন ঘটাল, তার গোড়া পর্যন্ত যেতে হবে। প্রতিবাদ করেই থেমে যাওয়া যাবে না।

‘একেকটি ঘটনা একেকভাবে ঘটে। সেগুলো বিশ্লেষণ করে মূল জায়গাটিতে পৌঁছাতে হবে। তারপর একেকটি কারণ ধরে সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে হবে। আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, আন্তরিকতা বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
প্রতি তিনজন নারীর একজন সহিংসতার শিকার: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Garo hills in Wangala

ওয়ানগালায় মুখরিত গারো পাহাড়

ওয়ানগালায় মুখরিত গারো পাহাড়
গারোদের বিশ্বাস, প্রভু আশির্বাদ করলে পরের বছরও ভাল ফলন হবে। এর মাধ্যমে প্রভু তাদের পরিবারের জন্য দয়া করে থাকেন। এ দিনটি উদযাপনে তারা নতুন পোশাক পরেন, আত্মীয়-স্বজন-বন্ধুরা এক হন, বাড়ি-বাড়ি চলে অতিথি আপ্যায়ন। 

নাচ-গান ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে নতুন ফসল ঘরে তুলেছে শেরপুরের গারো পাহাড়ের বাসিন্দারা। মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর গির্জা চত্বরে রোববার দিনভর এই সম্প্রদায় মেতে ছিল এই ওয়ানগালা উৎসবে।

গির্জা চত্বরে সকাল ৯টায় থক্কা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ওয়ানগালা উৎসব শুরু হয়। দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন গারো সম্প্রদায়ের কয়েকশ মানুষ। প্রার্থনা পরিচালনা করেন মরিয়মনগর ধর্মপল্লীর সহকারী পালপুরোহিত ও খামাল ফাদার রবার্ট দিলীপ গোমেজ।

ওয়ানগালায় মুখরিত গারো পাহাড়

প্রার্থনা শেষে গারোদের ভাষায় গান ও নাচ পরিবেশিত হয়। এরপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে হই-হুল্লোড়ে এলাকা জমিয়ে তোলেন গারো শিশু-কিশোররা।

এই সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, তাদের শস্য দেবতা এক সময় পাহাড়ি এলাকার গারোদের হাতে কিছু শস্য দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমরা এটা রোপন কর, তাতে তোমাদের আহারের সংস্থান হবে এবং তোমরা যে শস্য পাবে তা থেকে সামান্য কিছু শস্য আমার নামে উৎসর্গ করবে।’ এরপর থেকেই তারা ঘটা করে নতুন ফসল তাদের শস্য দেবতা ‘মিসি সালজংকে’ উৎসর্গ করে আসছিল।

ওয়ানগালায় মুখরিত গারো পাহাড়

এ কারণে এই উৎসবের নাম গারো ভাষায় ওয়ানগালা; ওয়ানা অর্থ দেব-দেবীকে দানের সামগ্রী ও গালা অর্থ উৎসর্গ। এখন অবশ্য এই সম্প্রদায়ের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা যিশু খ্রিস্টকে নতুন ফসল উৎসর্গ করে।

সাধারণত বর্ষার শেষে ও শীতের আগে, নতুন ফসল তোলার পর এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

ওয়ানগালায় অংশ নেয়া প্লাবন চিসিং বলেন, ‘নতুন ফসল হওয়ার পর আমরা প্রভুকে আগে উৎসর্গ করে থাকি। তারপর আমরা খাই। এইটা নবান্ন উৎসবের মতোই। কিন্তু আমরা এইটাকে ওয়ানগালা হিসেবে পালন করি।’

ওয়ানগালায় মুখরিত গারো পাহাড়

গারো শিক্ষার্থী রাইয়ুম, থানকা মিম ম্র‍ং ও সানাতিনিং মিংজা জানান, তাদের বিশ্বাস প্রভু আশির্বাদ করলে পরের বছরও ভাল ফলন হবে। এর মাধ্যমে প্রভু তাদের পরিবারের জন্য দয়া করে থাকেন। এদিনটি উদযাপনে তারা নতুন পোশাক পরেন, আত্মীয়-স্বজন-বন্ধুরা এক হন, বাড়ি-বাড়ি চলে অতিথি আপ্যায়ন।

উৎসব ঘিরে ধর্মপল্লীর পাশে গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও শিশুদের নানা খেলনা নিয়ে বসেছে মেলাও।

আরও পড়ুন:
নবান্নের আয়োজনে মেতেছে নওগাঁ
নাচে-গানে ওয়ানগালায় মেতেছেন গারোরা
‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করছে সরকার’ 
শিল্পকলায় নাচে গানে নবান্ন উৎসব

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cut back on the resentment and be a little man loving today

বিরাগ কমিয়ে খানিকটা পুরুষ-অনুরাগী হোন আজ

বিরাগ কমিয়ে খানিকটা পুরুষ-অনুরাগী হোন আজ
‘আগ্রাসী’ হিসেবে বছরজুড়ে সমালোচিত পুরুষের চাপা পড়ে থাকা অতি সাধারণ মানবীয় বৈশিষ্ট্যগুলোকে আজ অন্তত ভালোবাসতে পারেন, মন খুলে জানাতে পারেন সম্মান। কারণ আজকের দিনটি আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস।

সমাজে পুরুষের আধিপত্য নিয়ে অভিযোগ বিস্তর। নারীর ওপর পুরুষের খবরদারি নিয়ে সমালোচনার শেষ নেই।

পুরুষের এই প্রচলিত ‘আগ্রাসী’ রূপের আড়ালে অনেক সময়েই ঢাকা পড়ে যায় তাদের সাধারণ মানবীয় বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্য কখনও নিবিষ্ট প্রেমিকের, কখনও সন্তানের প্রতি স্নেহময় পিতৃত্বের, কখনও বন্ধুত্বের অথবা কখনও সংসারের জোয়াল কাঁধে বয়ে বেড়ানো একজন ক্লান্ত মানুষের।

আগ্রাসী হিসেবে বছরজুড়ে সমালোচিত পুরুষের চাপা পড়ে থাকা অতি সাধারণ মানবীয় বৈশিষ্ট্যগুলোকে আজ অন্তত ভালোবাসতে পারেন, মন খুলে জানাতে পারেন সম্মান।

কারণ আজকের দিনটি আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস।

দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য পুরুষের সামাজিক মর্যাদার উন্নয়ন, লিঙ্গভিত্তিক সমতা বজায়, তাদের মানসিক-শারীরিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং সমাজে পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা।

পাশাপাশি পরিবারে পুরুষের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও জানানো হয় এদিন।

সভ্যতার শুরুর দিকে সমাজ নারীনিয়ন্ত্রিত থাকলেও ধীরে ধীরে জায়গাটি চলে গেছে পুরুষের দখলে। এতে নারী নিগ্রহ বাড়লেও ‘শাসক’ পুরুষকেও দিতে হচ্ছে মূল্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, বেহিসাবি জীবনযাপনে অভ্যস্ত পুরুষের অকালমৃত্যুর হার নারীর তুলনায় অনেক বেশি।

বিষয়টিকে এখন অতি স্বাভাবিক ‘প্রাকৃতিক ঘটনা’ হিসেবে বিচার করেন অনেকে। তবে একেও একধরনের ‘লিঙ্গ অসমতা’ হিসেবে মনে করছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি বলছে, ক্রমবর্ধমান প্রমাণগুলো দেখাচ্ছে পুরুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত লিঙ্গ সমতা নীতির ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। পুরুষ ও নারী সবার স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্যই লিঙ্গ সমতা নীতি বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ মৃত্যুর ৮৬ শতাংশ ক্ষেত্রে অসংক্রামক রোগ অথবা আঘাতজনিত কারণ দায়ী। হৃদরোগ, ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও শ্বাসযন্ত্রের রোগের বেশি শিকার হন পুরুষ। নারীদের তুলনায় পুরুষ কম চিকিৎসকের কাছে যান এবং স্বাস্থ্যের দিকে তাদের নজরও অনেক কম।

ডব্লিউএইচও বলছে, ‘পুরুষত্বের ইমেজ’ ধরে রাখার আর্থসামাজিক চাপ পুরুষের জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। আমরা সবাই জানি, সমাজে এখনও ব্যথিত পুরুষের চোখের জল ফেলতে মানা, কিংবা কর্মজীবন শেষে বেশি নিঃসঙ্গতার শিকার হন পুরুষ।

আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস পালনের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। ইউনিভার্সিটি অব মিসৌরি-কানসাস সিটির মিসৌরি সেন্টার ফর মেস’স স্টাডিজের পরিচালক টমাস অস্টার ১৯৯২ সালে দিনটি পালন করেন। তিনি পুরুষকে ভালোবাসা জানানোর তারিখ ঠিক করেন ৭ ফেব্রুয়ারি। ১৯৯৪ সালে মাল্টা ও ১৯৯৯ সালে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতে অনুষ্ঠানিকভাবে এই দিন উদ্‌যাপন শুরু হয়।

ইন্টারন্যাশনাল মেন’স ডে ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতে ১৯৯৯ সালে পুরুষ দিবস উদ্‌যাপনের সূচনা করেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসের শিক্ষক ড. জেরম তেলুকসিং। তবে ২০০৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস প্রতিবছরের ১৯ নভেম্বর উদ্‌যাপন করা হচ্ছে।

বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে বর্তমানে পালন করা হয় আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কানাডা, ভারত, পাকিস্তান, ক্রোয়েশিয়া, জ্যামাইকা, কিউবা, স্কটল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মাল্টা, কানাডা, ডেনমার্ক, নরওয়ে, অস্ট্রিয়া, ইউক্রেন।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘পুরুষ ও ছেলে শিশুদের সাহায্য করুন’।

আরও পড়ুন:
‘নারীবেশী যুবক’ খুন, ৬ ট্রান্সজেন্ডার গ্রেপ্তার
বেতন আছে নারী ফুটবলারদের, পুরুষ এখনও ‘অবৈতনিক’  
ট্রান্সজেন্ডার সেজে গণপরিবহনে চাঁদাবাজি
পুরুষের যত বেশি আত্মপ্রেম, তত দ্রুত স্খলন
দেশের উন্নয়নে ট্রান্সজেন্ডারদের কাজে লাগানোর আহ্বান

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The people of the country are leaning from the pan to the high commode

প্যান থেকে হাই কমোডে ঝুঁকছে দেশের মানুষ

প্যান থেকে হাই কমোডে ঝুঁকছে দেশের মানুষ প্রতীকী ছবি
এখন মানুষ বাড়ি তৈরিতে সবচেয়ে বেশি খরচ করে টয়লেটে। আগে যেখানে কয়েকটি পরিবারের জন্য একটি টয়লেট ছিল, এখন সেখানে প্রতিটা ফ্ল্যাটেই ২-৩টা টয়লেট থাকে। এর বেশিও থাকে।

দেশে লো কমোড বা প্যান কমোডকে সরিয়ে দিন দিন বাড়ছে হাই কমোডের ব্যবহার। মানুষের আর্থিক সামর্থ্য এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে উঁচু কমোড। তবে গ্রামে এখনও লো কমোডের প্রচলন বেশি।

টয়লেট এবং টাইলস সামগ্রী বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা বলছেন, লোকে এখন বাড়ি তৈরি করলে বাজেটের একটা বড় অংশ টয়লেটের পেছনে ব্যয় করে। আর প্রতিটি ফ্ল্যাটবাড়িতে একটির জায়গায় এখন দুই থেকে তিনটি টয়লেট থাকে, যেগুলোর বেশির ভাগে হাই কমোড যুক্ত করা হয়।

হাই ও লো কমোডের মধ্যে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যসম্মত– এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার তাহমিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, টয়লেটের প্যান অথবা কমোড দুটোই স্বাস্থ্যসম্মত। আসলে টয়লেটের যেটাতে পানি আটকে থাকে, সেটাই স্বাস্থ্যসম্মত। কারণ পোকামাকড়, মাছি এই পানিতে থাকা টয়লেট বর্জ্যের ওপর বসতে পারে না।

আজ ‘বিশ্ব টয়লেট দিবস’। ২০০১ সালে বিশ্বে টয়লেট ব্যবহার ও স্যানিটাইজেশন সম্পর্কে ক্যাম্পেইন শুরু করে ওয়ার্ল্ড টয়লেট অরগানাইজেশন (ডব্লিউটিও)। এরপর থেকে প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব টয়লেট দিবস। ২০১৩ সাল থেকে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে এই দিবসের স্বীকৃতি দেয়। দিনটির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য শৌচাগারের সুবিধা নিশ্চিত করা।

শতভাগ টয়লেট সুবিধা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দিবসটি পালন করে থাকে। বাংলাদেশেও আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে।

টয়লেট বা স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে বেশি। ভারতে যেখানে প্রায় অর্ধশত কোটি মানুষের টয়লেট নেই, সেখানে বাংলাদেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ বাড়িতেই টয়লেট রয়েছে।

টয়লেট এখন দ্রুত বিকাশমান শিল্প

একসময় দেশে আধুনিক টয়লেট তো দূরের কথা, সাধারণ মানের টয়লেটও মানুষ ব্যবহার করত না। সেই দিন এখন পাল্টেছে। দেশে এখন ৭০ শতাংশ মানুষ মোটামুটি ভালো মানের টয়লেট ব্যবহার করে।

দেশে টয়লেট সামগ্রীর শিল্প এখন ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে। আগে এটি আমদানিনির্ভর থাকলেও এখন পুরোপুরি স্বনির্ভর। বাংলাদেশ এখন টয়লেট সামগ্রী রপ্তানিও করছে।

রাজধানীর বাংলামোটরে অবস্থিত টয়লেট সামগ্রীর দোকান কেলিফ সিরামিক। এর ম্যানেজার ওয়াদুদ বিশ্বাস নিউজবাংলাকে বলেন, দেশে এই ব্যবসা দিন দিন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশির ভাগ পণ্য এখন দেশেই উৎপাদন হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশে লো কমোডের দাম দুই-তিন হাজার থেকে শুরু হয়। আর হাই কমোডের দাম ছয়-সাত হাজার থেকে শুরু করে এক-দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে ১৫-২০ হাজারের মধ্যেই মানুষ বেশি কেনে।

বাংলাদেশ টাইলস ডিলারস অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম ইউ গোলাম রাসুল বেলাল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে দেশের বেশির ভাগ মানুষ কোনো টয়লেটই ব্যবহার করত না। আর যারা ব্যবহার করত, তারা সিমেন্টের তৈরি লো কমোড ব্যবহার করত। কবে থেকে সিরামিকের কমোড দেশে ব্যবহার শুরু হয়, সেটা আমি বলতে পারব না। তবে আমার ধারণা ৯০ দশকের পর থেকে দেশে হাই কমোড ব্যবহার শুরু হয়। সে সময় দেশের ধনীরা বিদেশ থেকে এই কমোড আমদানি করে ব্যবহার করত। কিন্তু তখন এর চাহিদা ছিল খুবই কম।

‘সেই দিন আর নেই। এখন মানুষ বাড়ি তৈরিতে সবচেয়ে বেশি খরচ করে টয়লেটে। আগে যেখানে কয়েকটি পরিবারের জন্য একটি টয়লেট ছিল, এখন সেখানে প্রতিটা ফ্ল্যাটেই ২-৩টা টয়লেট থাকে। এর বেশিও থাকে।’

তিনি আরো জানান, শহরগুলোতে এখন লো-কমোডের ব্যবহার কমছে। হাই কমোডের ব্যবহার বেশি। শহরের একটা ফ্ল্যাটে তিনটা টয়লেট থাকলে দুটা থাকে হাই কমোড। আর একটা হয় লো কমোড। অনেক সময় তিনটাই হাই কমোড হয়। গ্রামে লো কমোডের ব্যবহার বেশি।

তিনি আরও জানান, টয়লেট পণ্যের বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে। মানুষের রুচিও বাড়ছে। এখন মানুষ দোকানে এসে ভালো মানের কমোড কিনতে চায়। আগে যেখানে কোনো রকম একটা কমোড হলেই হতো, সেখানে এখন মানুষ দৃষ্টিনন্দন পণ্য খোঁজে। আগে যেখানে জেলা শহরে এক-দুইটা টয়লেট পণ্যের দোকান ছিল, এখন সেখানে শতাধিক দোকান।

স্যানিটেশনে বিপ্লব

খোলা জায়গায় মলত্যাগের হার দুই দশক ধরে বাংলাদেশে কমেছে। ২০২২ সালে প্রকাশিত জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের ১ দশমিক ২৩ শতাংশ মানুষ এখনও খোলা জায়গায় মলত্যাগ করে। দেশের আট বিভাগের মধ্যে রংপুর বিভাগে খোলা জায়গায় মলত্যাগের হার সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। সবচেয়ে কম ঢাকা বিভাগে, শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ।

আগের তুলনায় উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ বন্ধ হলেও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন স্যানিটেশনের নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার তাহমিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, দেশে শতভাগ স্যানিটেশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো যাদের যথাযথ টয়লেট নাই, তাদের টয়লেটের ব্যবস্থা করা। এরপর আসবে গ্রাম আর শহরে টয়লেট বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা। টয়লেট ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো। কিন্তু টয়লেট ব্যবহার করেও যদি সেই বর্জ্য খাল, নদী ও পরিবেশে মিশে গিয়ে দূষণ সৃষ্টি করে, তাহলে সেই টয়লেট ব্যবহার সুফল বয়ে আনে না। তাই নিরাপদ স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা আরেকটি চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, ‘এটা করতে গেলে শহরাঞ্চলে দুটো জিনিস লাগবে। একটা হলো নিরাপদ স্যানিটেশনের জন্য মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা। যেখানে একটি টয়লেটের সাথে যথোপযুক্ত একটা কনটেইনমেন্ট ব্যবস্থা থাকবে। অর্থ্যাৎ সেফটিক ট্যাংক বা পিট থাকবে। আর দ্বিতীয় হলো শহরে একটা বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টসহ সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকবে। বর্তমানে বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি শহরে এ ধরনের ব্যবস্থা আছে। সরকারি পরিকল্পনায় এক শর ওপরে শহরে শিগগিরই বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু হবে। সে ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনগুলোয় কনটেইনমেন্ট থেকে প্ল্যান্টে আসা পর্যন্ত সঠিক ব্যবস্থাপনা আছে।

‘এখনও অসংখ্য শহর এই ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের বাইরেই রয়ে গেছে। এইগুলো যতক্ষণ আমরা করতে পারব না, ততক্ষণ আমাদের চ্যালেঞ্জটা রয়েই যায়। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব আমাদের ৩৩৭টি শহরেই এ ব্যবস্থাপনা করা দরকার।’

মন্তব্য

p
উপরে