স্বপ্নপূরণে আমরা আরও সাহসী

স্বপ্নপূরণে আমরা আরও সাহসী

গণতন্ত্রকে মজবুত এবং সমাজকে শক্তিশালী করে, এমন একটি পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে ধারণ করি আমরা। মুক্তিযুদ্ধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নারী স্বাধীনতা, মানবাধিকারের প্রতি সমর্থনের প্রশ্নে অটল থাকার নীতি আমাদের। সেই সঙ্গে দুর্নীতি ও উগ্রবাদ দূর করে একটি উদার সমাজের প্রশ্নে আমরা আপসহীন।

ঠিক এক বছর আগে এই দিনে যাত্রা শুরু করে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকম। বাংলাদেশের এবং বাংলাভাষী মানুষের জন্য বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও তথ্য প্রকাশের সর্বোচ্চ চেষ্টার অঙ্গীকার নিয়ে একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে শুরু হয় আমাদের যাত্রা।

এই এক বছরে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অগণিত পাঠক ও শুভানুধ্যায়ী। তাদের ভালোবাসা, পরামর্শ এবং সমর্থনই আমাদের চলার পাথেয়। আমরা মনে করি, একটি সংবাদমাধ্যমের চূড়ান্ত বিচারক আপনারাই। আমরা আপনাদের এখনও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী দিনগুলোতেও আমরা সাংবাদিকতার নৈতিকতা বজায় রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব। চটকদার, বিকৃত তথ্য দূরে সরিয়ে রেখে আমরা একটি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম হিসেবে নিজেদের ভিত আরও শক্ত করতে সচেষ্ট থাকব।

যে সময়ে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের যাত্রা শুরু করে, সেটি খুব সহজ ছিল না। বিশ্ব পরিমণ্ডল, জাতীয় পরিসর এমনকি পারিবারিক বলয়েও ছিল অস্থিরতা। করোনাভাইরাস মহামারির সেই ক্রান্তিকালে যাত্রা শুরু করে কঠিন সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দৃঢ় প্রত্যয় ছিল আমাদের।

নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাফল্যের মূল কারিগর এই প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। দেশের আর্থিক খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের আন্তরিকতা, অর্থায়ন আর সার্বিক সহযোগিতার কারণেই একটি যুগোপযোগী চ্যালেঞ্জিং ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের অগ্রযাত্রা ও সাফল্য অব্যাহত রয়েছে।

আমরা বিশ্বাস করি, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির যুগে ‘তথ্যই শক্তি’। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল, সমাজের সবচেয়ে অগ্রসর শ্রেণি থেকে শুরু করে সবচেয়ে প্রান্তিক অবস্থানে থাকা মানুষটির জন্য তথ্য, বিশেষত ‘সংবাদ’-এর অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা।

আমরা সংবাদ তৈরি করি না, সংবাদ প্রচার করি- এটাই নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের মূলমন্ত্র। সেই সঙ্গে একটি সংবাদের নানামুখী বিশ্লেষণও আমরা পাঠকের সামনে হাজির করতে চাই। এ কারণে আমরা বেছে নিয়েছি ‘খবরের সব দিক, সব দিকের খবর’ স্লোগান।

গণতন্ত্রকে মজবুত এবং সমাজকে শক্তিশালী করে, এমন একটি পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে ধারণ করি আমরা। মুক্তিযুদ্ধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নারী স্বাধীনতা, মানবাধিকারের প্রতি সমর্থনের প্রশ্নে অটল থাকার নীতি আমাদের। সেই সঙ্গে দুর্নীতি ও উগ্রবাদ দূর করে একটি উদার সমাজের প্রশ্নে আমরা আপসহীন ছিলাম, আছি এবং থাকব।

বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রেখে তথ্য, সত্য ও সংবাদ প্রচারে অবিচল থাকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম আমরা, সেটা বজায় রাখতে নিরলস প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের কর্মীদের। কোনো মানুষই ভুলের ঊর্ধ্বে নন, সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমাদেরও ভুল হতে পারে। আমাদের ভুলগুলো আমরা শুধরে নিতে চাই পাঠকের গঠনমূলক পরামর্শ থেকে। আমাদের কাছে সব পাঠকই মর্যাদাবান, সবাই গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের নিয়েই আমরা এগিয়ে নিতে চাই পেশাদার সাংবাদিকতাকে।

যে বিশাল স্বপ্ন নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু, এক বছরে সেই পথে আমরা মাত্র কিছুটা হাঁটতে পেরেছি। এ সময়ে আপনাদের কাছ থেকে যে বিপুল সাড়া পেয়েছি, তা আমাদের স্বপ্ন আরও বিস্তৃত করতে সাহসী করেছে। আপনাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।

শেয়ার করুন

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, লাগামহীন দাম বাড়ছে

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, লাগামহীন দাম বাড়ছে

প্রতীকী ছবি

বিশ্ববাজারে গত এক বছরে এলএনজি, গ্যাসোলিন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কয়লার দর। কেবল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এরই মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২১ কোটি টাকা।

গত ছয় মাস ধরে অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার। প্রায় প্রতি মাসে আমদানিনির্ভর এই পণ্যের দর বাড়ছে। এই অবস্থায় চাপে পড়েছে জ্বালানি বিভাগ। এমনিতেই বেশি দরে পণ্য এনে কম দামে বিক্রি করে লোকসানে ছিল সরকার। তার ওপর এই অতিরিক্ত লোকসান দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সরকারকে। জ্বালানি বিভাগে আলোচনা চলছে, জ্বালানি পণ্যের দর বাড়ানোর।

বিশ্ববাজারে গত এক বছরে লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি), গ্যাসোলিন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কয়লার দর।

কেবল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এরই মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২১ কোটি টাকা। করোনা কমায় জ্বালানির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সংকটে তৈরি হয়েছে এই অবস্থা। তবে এখনই দাম সমন্বয়ের পক্ষে নয় পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।

অন্যদিকে, বাড়তি দামের কারণে তেল ও আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভর্তুকির চাপ বাড়ছে পিডিবির ওপর।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে চাঙ্গা হতে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি। যার অন্যতম ইঙ্গিত জ্বালানি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি। উৎপাদন, সমুদ্র পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি, ভূ-রাজনীতিসহ নানা কারণে বাড়তে শুরু করেছে দাম।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দর বাড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হচ্ছে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মজুদ করার মানসিকতাকে। এ ব্যাপারে অভিযোগের আঙ্গুল মূলত চীন ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ছিল ৪৯ ডলার। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি তা বেড়ে হয়ে যায় ৬১ ডলার। চার মাস পর জুনের মাঝামাঝি আরও বেড়ে ৭১ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি হয় ৭৫ ডলার। এরপর ধীরে ধীরে বেড়ে এখন তা ৮০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

বাংলাদেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ৬৫ শতাংশই ডিজেল, যা সবশেষ বিপিসি কিনেছে পরিশোধিত আকারে প্রতি ব্যারেল সাড়ে ৯৭ ডলারে। সে হিসেবে এক লিটারের পেছনে সব মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকারও বেশি। কিন্তু বিপিসি তা বিক্রি করছে ৬৫ টাকায়। ফলে লোকসান দিতে হচ্ছে লিটারে ১৩ টাকা। সে হিসেবে প্রতিদিন দেশের সাড়ে ১২শ টন ডিজেল বিক্রি করেই বিপিসির লোকসান হচ্ছে ১৯ কোটি টাকা।

তবে আপাতত দর বাড়াতে চায় না বিপিসি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই থেকে ডিসেম্বরের যে ফেইজ, তাতে আমরা ডিজেল সরবরাহকারী বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যে মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম, সেই মূল্যেই এখনও আমরা তা পাচ্ছি। যে কারণে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্তের দিকে আমাদের এখনই যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। তবে বর্তমান বাজারমূল্যকে কতটুকু বিবেচনায় নেয়া হবে, সেটা সরকারের পলিসির ওপর নির্ভর করে।’

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পিডিবির হিসাবে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কেবল জুলাই মাসেই ব্যবহার করেছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টনে। ফলে, বাড়তি চাহিদার এই জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে চড়া দামের জালে আটকা পড়ে বিপিসি। অন্য দিকে, মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ডিজেলের চাহিদাও বেড়ে গেছে তিন গুণের মতো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলে বিপিসির লোকসান ৮ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকারও বেশি।

তবে বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, ‘ফার্নেস অয়েলের দর বাড়লেও সুবিধা হচ্ছে, আমরা এর মূল্য সমন্বয় করছি। যে কারণে এ তেল আনতে খরচ পড়লেও সেই অর্থে আমরা চাপে নেই।’

অন্যদিকে পিডিবির চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের যেহেতু সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, সুতরাং জ্বালানি তেলের কোনো প্রভাব বা জ্বালানি তেলের দামের কোনো প্রভাব নিয়ে আমাদের চিন্তা করার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে যদি এটা এমন একটা অবস্থায় চলে যায়, সে ক্ষেত্রে হয়তো সরকার ভাবলেও ভাবতে পারে।’

মাসে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আর মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে বছরে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো লোকসান হতে পারে বলে ধারণা বিপিসির।

অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার

এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে দ্বিগুণের ওপরে। বিশ্বখ্যাত অর্থনৈতিক ওয়েবসা্ইট ‘ট্রেডিং ইকোনমিক্স’ এর হিসাব অনুযায়ী গত (২০ অক্টোবর) শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ক্রুড অয়েলের দর ছিল ব্যারেল প্রতি ৮৩ দশমিক ৭৬ ডলার, যা বৃহস্পতিবার থেকে ১ দশমিক ২৬ ডলার বা ১ দশমিক ৫৩ ভাগ বেশি। সাপ্তাহিক হিসেবে যা ১ দশমিক ৮০ ভাগ, আবার গত মাসের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৭ ভাগ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২ দশমিক ৬৩ ভাগ বেশি।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে বর্তমানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম। শুক্রবার প্রতি ইউনিট বা প্রতি ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ৫ দশমিক ৩০ ডলার, আগের দিনের চেয়ে যা প্রায় ২০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৭৭ ভাগ্য বেশি, যদিও আগের সপ্তাহের তুলনায় তা প্রায় ২ ভাগ কম। অন্যদিক সেপ্টেম্বরের তুলনায় তা ৬ দশমিক ৫৭ ভাগ ও গত বছরের একই সময়ের থেকে ১০৯ ভাগ বেশি।

বিশ্বে এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় খনিজ কয়লা। এই কয়লার দর এখন সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বমুখী। গত এক বছরে পণ্যটির দর বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। শুক্রবার প্রতি টন কয়লা বিশ্ব বাজারে বিক্রি হয়েছে ২৩০ ডলারে, যা আগের দিন থেকে দেড় ডলার বা দশমিক ৬৬ ভাগ বেশি, যদিও তা গত সপ্তাহের তুলনায় ৪ দশমিক ১৭ ভাগ কম আবার গত মাসের তুলনায় ২৩ দশমিক ৭২ ভাগ এবং গত বছরের থেকে ১৮৫ দশমিক ৭১ ভাগ বেশি।

তিন কারণে অস্থির বিশ্ববাজার

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একদিকে জোগানের সংকট, অন্যদিকে চাহিদা বৃদ্ধি – এ দুটো মিলেই এখন স্পট মার্কেটগুলোতে মূল্যের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওপেক দেশগুলোর জ্বালানি তেল উৎপাদন হ্রাস, মেক্সিকো উপসাগরে হারিকেনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যঘাত এবং বিশ্বব্যাপী চাহিদা বাড়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে শীতকালে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে তেলের চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে তেলের চাহিদা বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ চীন সরকারের নীতিগত অবস্থান। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে চীন। এই কারণে চীনে তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে তেলের বাজার আরও চড়ছে। বিশ্ববাজারে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল।

অন্যদিকে বহু বছর পর অস্ট্রেলিয়া চীনে জ্বালানি পণ্য রপ্তানির ওপর থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে সাধারণ অস্ট্রিলিয়ানদের মধ্যেও জ্বালানি মজুদের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

দেশে কি দর বাড়বে?

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সারা বছরের জন্য দেশের জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। অথচ গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। আর গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে।

জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানিতে লোকসান যা হয়েছে, তার সিংহ ভাগই এলএনজি কিনতে গিয়ে। এখন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই লোকসানের পরিমাণ বাড়বে।

বাড়তি দামে এলএনজি কেনায় সরকারের কত টাকা লোকসান হচ্ছে তার হিসাব করছে সরকারের গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো।

তিতাস গ্যাস, কর্ণফুলী ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড কোম্পানি তাদের আর্থিক বিশ্লেষণের কাজ শেষে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেবে মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)।

একই সঙ্গে পাইকারি গ্যাস সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গ্যাসের সঞ্চালন বা হুইলিং সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডও (জিটিসিএল) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে।

শেয়ার করুন

২০২২-এ বাংলাদেশ-ইইউ রাজনৈতিক সংলাপ

২০২২-এ বাংলাদেশ-ইইউ রাজনৈতিক সংলাপ

ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এনরিক মোরার সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এনরিক মোরার সঙ্গে করা বৈঠকে সংলাপের সিদ্ধান্ত হয়।

২০২২ সালে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রথম রাজনৈতিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। ৫০ বছরের কূটনৈতিক সম্পর্ককে অংশীদারিত্বে উন্নীত করার উদ্দেশে এই সংলাপে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ।

ইইউ এবং বাংলাদেশের মধ্যে কৌশলগত দিকনির্দেশনা বিনিয়ম এবং বৈদেশিক ও নিরাপত্তা নীতির সহযোগিতা জোরদার করাই এই সংলাপের প্রধান উদ্দেশ্য।

বুধবার ব্রাসেলস দূতাবাসকে উদ্ধৃত করে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল এনরিক মোরার সঙ্গে করা বৈঠকে সংলাপের সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে, পররাষ্ট্র সচিব চতুর্থ বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক পরামর্শে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুরো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গানার উইগ্যান্ডের সঙ্গে। উভয় পক্ষ সম্পর্ককে ঐতিহ্যগত উন্নয়ন ও বাণিজ্য সহযোগিতার বাইরে নিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। এনরিক মোরা বলেন, ‘ইইউ একটি জাতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির গতি ও নতুন আত্মবিশ্বাসকে স্বীকার করেছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিকের উপর ফোকাস সহ যৌথ স্বার্থের ইস্যুতে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও যুক্ত হওয়ার জন্য উন্মুখ।’

এর আগে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে তার আলোচনা হয় মূলত কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া, রোহিঙ্গা সংকট, মিয়ানমার ও আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে।

এ সময় পররাষ্ট্র সচিব একটি দ্বিপাক্ষিক সবুজ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে গভীর সংলাপের জন্য আগামী বছরের শুরুতে ইইউ-এর জলবায়ু বিষয়ক রাষ্ট্রদূত মার্ক ভ্যানহেউকেলেনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ইইউ-এর সঙ্গে চতুর্থ কূটনৈতিক পরামর্শে বাংলাদেশের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র সচিব। প্রতিনিধি দলে শ্রম ও কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

এ ছাড়া বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ ও ইইউতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরাও উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার ব্রাসেলস সফরের প্রথম দিনে পররাষ্ট্র সচিব বেলজিয়ামের ইউরোপীয় পার্লামেন্টের তিন সদস্যের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

শেয়ার করুন

সংসদ অধিবেশন বসছে ১৪ নভেম্বর

সংসদ অধিবেশন বসছে ১৪ নভেম্বর

জাতীয় সংসদে অধিবেশনে সদস্যরা। ফাইল ছবি

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ এবং চলতি বছরের পঞ্চম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় দেয়া ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন শুরু হচ্ছে ১৪ নভেম্বর। সেদিন বিকেল ৪টায় সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু কথা রয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ কথা জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।

এতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চদশ এবং চলতি বছরের পঞ্চম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় দেয়া ক্ষমতা বলে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করেন।

সংসদের একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এবারও অধিবেশনে কিছু বিল পাস হতে পারে।

৩ জুলাই বাজেট অধিবেশন শেষের পর, ১ সেপ্টেম্বর থেকে চতুর্দশ অধিবেশন আহ্বান করেন রাষ্ট্রপতি। যা শেষ হয় ১৬ সেপ্টেম্বর।

করোনা পরিস্থিতির কারণে গেল অধিবেশনে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে পরিচালিত হয়। অধিবেশনে যোগদানে সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লাগবে করোনা নেগেটিভ সনদ।

তবে আগামী অধিবেশনে করোনা মহামারিকে সামনে রেখে বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কিছু উল্লেখ করেনি সংসদ সচিবালয়।

শেয়ার করুন

হেলিকপ্টার পাচ্ছে পুলিশ

হেলিকপ্টার পাচ্ছে পুলিশ

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশ পুলিশের জন্য দুটি হেলিকপ্টার কিনতে ৪২৮ কোটি টাকার একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

স্থল ও জলের পর এবার আকাশপথেও নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনায় এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ পুলিশ। নিজেদের ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত করতে আগেই একটি রুশ হেলিকপ্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছিল পুলিশ। এবার সেই চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া থেকে দুটি হেলিকপ্টার কেনার জন্য একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।

বুধবার সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রীসভা কমিটির বৈঠকে তিনটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে পুলিশের জন্য দুটি হেলিকপ্টার কিনতে ৪২৮ কোটি টাকার একটি প্রস্তাব দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ।

মন্ত্রীপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. কামরুজ্জামান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই অনুমোদনের মাধ্যমে পুলিশ ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। দুটি হেলিকপ্টার যুক্ত হলে আমাদের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। আমাদের শক্তি বাড়বে।’

এর আগে গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জি টু জি) পদ্ধতিতে রাশিয়া থেকে দুটি হেলিকপ্টার কিনতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সদরদপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশ এবং হেলিকপ্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেএসসি রাশিয়ান হেলিকপ্টার্সের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

হেলিকপ্টার দুটি সংযোজন হলে দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দমনসহ দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা এবং নজরদারিতে পুলিশ আরও তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।

শেয়ার করুন

ফেরি দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে কমিটি

ফেরি দুর্ঘটনার কারণ খুঁজতে কমিটি

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যায় এই রো রো ফেরিটি। ছবি: নিউজবাংলা

ফেরি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনারোধে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নৌপরিবহন সচিবের কাছে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে রো রো ফেরি শাহ আমানত একদিকে কাত হয়ে অর্ধেক ডুবে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে নৌ পরিবহন সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দেয়ার এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘রো রো ফেরি শাহ আমানত বুধবার সকালে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়াঘাটে ভেড়ার পর কাত হয়ে অর্ধনিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এতে ফেরিতে থাকা কয়েকটি যানবাহন নদীতে পড়ে যায়।

ফেরি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনারোধে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে নৌপরিবহন সচিবের কাছে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সুলতান আব্দুল হামিদকে। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক মো. রাশেদুল ইসলাম।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নটিক্যাল সার্ভেয়ার অ্যান্ড এক্সামিনার ক্যাপ্টেন সাঈদ আহমেদ, মানিকগঞ্জ জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক, বুয়েটের নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. জুবায়ের ইবনে আউয়াল এবং নৌপুলিশের ফরিদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন।

শেয়ার করুন

কোন পথে মাদক আসে ভারতকে জানাল বাংলাদেশ

কোন পথে মাদক আসে ভারতকে জানাল বাংলাদেশ

আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে মাদক পাচারের নতুন নতুন রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছে।  আমরা তাদের কিছু তথ্য দিয়েছি। তারাও কিছু তথ্য দিয়েছে। দুই দেশের সীমান্ত থাকায় উভয়দেশের আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব বহন করে।  আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য দুই দেশকেই ভূমিকা রাখবে হবে।’

বাংলাদেশে যেসব পথে ভারত থেকে মাদক প্রবেশ করছে সেসব রুট সম্পর্কে দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোকে জানিয়েছে বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

রুটগুলো বন্ধ করতে দুই দেশের মধ্যে ‘রিয়েল টাইম’ তথ্য আদান-প্রদানের জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপাক্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনার কারণে এবারের সভা অনলাইন প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে সেগুনবাগিচায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মন্ডল।

তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে মাদক পাচারের নতুন নতুন রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের কিছু তথ্য দিয়েছি। তারাও কিছু তথ্য দিয়েছে।

‘দুই দেশের সীমান্ত থাকায় উভয়দেশের আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব বহন করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য দুই দেশকেই ভূমিকা রাখবে হবে।’

সভায় ভারত থেকে বাংলাদেশে যেসব পথে ইয়াবা পাচার হয় সেসব রুট সম্পর্কেও জানিয়েছে বাংলাদেশ।

সাম্প্রতিক মাদক পাচারে সমুদ্রপথ ব্যবহার করা হচ্ছে, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সমুদ্রপথে ইয়াবা পাচার বেড়েছে। কারণ স্থলপথগুলোতে কড়াকড়িতে সমুদ্রপথে আসছে।’

ইয়াবার তুলনায় আইস আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছে জানিয়ে সে বিষয়য়েও দুই দেশ তৎপর থাকবে বলে জানান ডিজি।

গত কয়েকটি সম্মেলনে ভারতে তাদের সীমান্তে থাকা ফেনসিডিল কারখানার তালিকা দিয়েছিল বাংলাদেশ। তালিকা অনুযায়ী যেসব কারখানা পাওয়া গেছে, ভারত সরকার সেগুলো ধ্বংস করেছে বলে বাংলাদেশকে জানানো হয়।

মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, ‘আমাদেরর সমস্যাগুলো ভারতকে বলেছি। তারা সীমান্তের অনেকগুলো ফেনসিডিল কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।’

মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে মাদক সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হতে হবে বলে জানান মহাপরিচালক।

ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ মিলে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। ভারতও এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

সবুর মন্ডল অভিযোগ করেন, মিয়ানমার মাদ নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা নেয় না। নিলে এই অঞ্চলে মাদকের ভয়াবহতা কমে যেত।

মহাপরিচালক বলেন, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। উভয় দেশই বেশ কিছু আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক সংস্থার (বিমসটেক, সার্ক, কমনওয়েলথ ইত্যাদি) সদস্য। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ এবং ভারত মাদকদ্রব্য চোরাচালান এবং মাদক সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করছে, যার অংশ হিসেবে ইতোপূর্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ও নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো।

শেয়ার করুন

ফরম পূরণের টাকা ফেরত পাবেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

ফরম পূরণের টাকা ফেরত পাবেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

ফাইল ছবি।

এ বছর মোট ২৯ হাজার ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী তিন হাজার ৬৭৯টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরমপূরনের বেঁচে যাওয়া টাকা ফেরত দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সকল বিষয়ে পরীক্ষা না হওয়ার কারণে পরীক্ষার ব্যায় কমে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে আদায়কৃত অর্থের অব্যায়িত অংশ ফেরত দেয়া হবে।’

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে চলতি শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এ বছর শুধুমাত্র ঐচ্ছিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন শিক্ষার্থীরা। বাকি বিষয়গুলোর ফল নির্ধারণ হবে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে।

পরীক্ষার পদ্ধতি সম্পর্কে দীপু মনি বলেন, ‘পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে এসএমএস-এর মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে প্রশ্নপত্রের সেট কোড জানিয়ে দেয়া হবে। কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।’

ছবি তোলা যায় না এমন একটি ফোন কেন্দ্র সচিবের কাছে থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ বছর মোট ২৯ হাজার ৩৫টি প্রতিষ্ঠানের ২২ লাখ ২৭ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষার্থী তিন হাজার ৬৭৯টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবেন। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৯৯৮ জন। এ ছাড়াও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ৩ লাখ ১ হাজার ৮৮৭ এবং এসএসসি (ভকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ২২৮ জন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২০ সালের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ৭৯ হাজার ৩৩৪ জন। শিক্ষার্থী বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭৬ ভাগ। মোট প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৫১টি আর কেন্দ্র বেড়েছে ১৬৭টি।

শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা শেষের ৩০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত হবে। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে এ বছর বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থীদের একই সময়ের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। পরীক্ষার সময় ও নম্বরও কমিয়ে আনা হয়েছে।’

এ বছর অনলাইনের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস গুজব ঠেকাতেও নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের বিভ্রান্তি ছড়ালে অপচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এ জন্য এখন থেকেই গোয়েন্দা বাহিনী নজর রাখছে। অপচেষ্টা করে কেউ পার পাবে না।’

শেয়ার করুন