পদ্মায় নৌকাডুবি: বস্তা ধরে শিশুসহ ভেসে ছিলেন সাবানা

পদ্মায় নৌকাডুবি: বস্তা ধরে শিশুসহ ভেসে ছিলেন সাবানা

বস্তা ধরে দুই ঘণ্টা সন্তানকে নিয়ে পদ্মায় ভেসে ছিলেন এই নারী। ছবি: নিউজবাংলা

সাবানা জানান, বোগলাউড়ি ঘাট থেকে বাবা ও মেয়েসহ নৌকায় ওঠেন। ঘাট ছাড়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই নৌকাটি ডুবে যায়। এরপর চিনাবাদামের একটি বস্তা ধরেই মেয়ে আশিফা ও বাবাকে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো ভেসে ছিলেন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে পদ্মায় ডুবে যাওয়া নৌকায় ছিলেন সাবানা খাতুন। সঙ্গে ছিল তার ৪ মাস বয়সী মেয়ে আশিফা ও বাবা মনিরুল ইসলাম। শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন তিনি।

পথে পাকা ইউনিয়নের বোগলাউড়ি ঘাটের কিছু দূরে নৌকাটি ডুবে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা শিশুসন্তানকে নিয়ে একটি বস্তা ধরে পদ্মায় ভেসে ছিলেন সাবানা। উদ্ধারকারী দল নৌকা নিয়ে গিয়ে তাদের জীবিত উদ্ধার করে।

শিশুসন্তানসহ বেঁচে ফিরে এসে পদ্মায় ভেসে থাকার অভিজ্ঞতা নিউজবাংলাকে জানান সাবানা।

সাবানার শ্বশুরবাড়ি জেলার ভোলাহাট উপজেলার ছোট জামবাড়িয়া গ্রামে ও বাবার বাড়ি শিবগঞ্জের পাকা ইউনিয়নের কটাপাড়া গ্রামে। বাবার বাড়ি যেতে বোগলাউড়ি ঘাট থেকে নৌকায় পদ্মা পাড়ি দিতে হয়।

বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গেই বাড়ি যেতে বুধবার মেয়েকে নিয়ে ভোলাহাট থেকে রওনা দেন তিনি।

সাবানা জানান, বোগলাউড়ি ঘাট থেকে বাবা ও মেয়েসহ নৌকায় ওঠেন। ঘাট ছাড়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই নৌকাটি ডুবে যায়। এরপর চিনাবাদামের একটি বস্তা ধরেই মেয়ে আশিফা ও বাবাকে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার মতো ভেসে ছিলেন তিনি।

সাবানা বলেন, ‘নৌকা ডুবে যাওয়ার পর, ডুব মেরে যেমন করে উঠে, তেমন করে ছাওয়ালেক (মেয়েকে) লিয়ে উঠে বস্তা ধরছেল্যাম। প্রায় দুই ঘণ্টা এক হাতে বস্তা আরেক হাতে ছাওয়ালেক ধরে রেখেল্যাম। এরপর একটা ডিঙি নৌকা আসল, হামরা সবাই উঠল্যাম।

‘ওই নৌকাও ডুবে যাচ্ছেল (যাচ্ছিল)। তখন নৌকার মাঝি বলেক নৌকাটা ধরে হেলে থাক, বড় নৌকা আসুক। এর খানিকপর বড় নৌকা আসলে নৌকাতে উঠে ঘাটে আসি।

‘এরপর হ্যামার (আমার) ছাওয়াল কেমন হয়্যা (হয়ে) গেছিল। তখন ঘাটে একটা লোক ত্যাল (তেল) দিয়্যা অনেক ল্যাড়া (নাড়াচাড়া) দেয়। একটু চ্যাঠা (চাঙা) হয়। তারপর বাড়ি চল্যা (চলে) আসি। এখন ভালো আছে... তবে হামার আব্বা অনেক পানি খ্যায়া লিয়্যাছে (খেয়ে নিয়েছে)।’

শিবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাকিব আল রাব্বি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নৌকাডুবিতে এখন পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। আরও দুইজনের নাম শোনা গেলেও, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা মরদেহ না দেখে তো বলতে পারি না মারা গেছে।’

পদ্মায় নৌকাডুবি: বস্তা ধরে শিশুসহ ভেসে ছিলেন সাবানা

ইউএনও জানান, মৃত দুইজনের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। এখনও নিখোঁজ আছেন নিলুফার, স্বামী খাইরুল ইসলাম ও আসমাউল। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক ছাবের আলী প্রামাণিক বলেন, ‘গতকাল রাতে যখন আমাদের উদ্ধার অভিযান শেষ হয়, তখন পর্যন্ত ২৬ জন উদ্ধার ও ২ মরদেহ পাওয়া যায়।

তবে সকালে আমরা আরও জীবিত উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়েছি। স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জীবিত উদ্ধার সব মিলিয়ে ৩৮ জন। মারা যাওয়ার আরও দুইজনের খবর লোকমুখে শোনা গেলেও তা নিশ্চিত নয়।’

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: স্বজনের দাফন শেষে ফিরছিলেন তারা
পদ্মায় নৌকাডুবি: ২ মরদেহ উদ্ধার
যমুনায় ঘূর্ণিপাকে ডুবল যাত্রীবোঝাই নৌকা
হাওরে ঝড়ে নৌকাডুবিতে ২ জেলের মৃত্যু
মৎস্য খামারে নৌকাডুবিতে যুবকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহবুবা রায়না। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, ১৮ অক্টোবর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য চিঠি পাঠান। তবে তার আবেদনপত্রে নানা ভুলত্রুটি ছিল বলে পুনরায় তাকে আবেদন করতে বলা হয়। পরদিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুনরায় আবেদন করেন রায়না।

কিশোরগঞ্জে পাঁচ বছর ধরে স্কুলে না পড়িয়েও বেতনভাতা তোলা সেই শিক্ষিক মেহবুবা রায়নার অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করেছে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক সোমবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া মেহবুবা রায়না করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

সুব্রত কুমার বণিক নিউজবাংলাকে জানান, স্কুলে না গিয়ে মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে গত ১৭ অক্টোবর রায়নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত তার অধীনেই শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ১৮ অক্টোবর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি চিঠি দেন। তবে তার আবেদনপত্রে নানা ভুলত্রুটি ছিল বলে পুনরায় তাকে আবেদন করতে বলা হয়। পরদিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুনরায় আবেদন করেন রায়না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার জানান, পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে চাকরি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন রায়না। সরকারি বিধি অনুযায়ী ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর মাসের মূল বেতনের অর্ধেক টাকা জমা দিয়েছেন তিনি।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর করিমগঞ্জ উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি আমলে নেন।

রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ডাকযোগে মেহবুবা রায়নার চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র হাতে পান তিনি। আবেদনপত্রে তার চাকরিতে যোগদানসহ কোনো তারিখের উল্লেখ ছিল না। চাকরি থেকে কবে তিনি অব্যাহতি নিতে চান সে বিষয়টিও উল্লেখ করেননি তিনি।

এ কর্মকর্তা আরও জানান, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে হাজির হয়ে সই করে আবেদন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও ওই শিক্ষক ডাকযোগে আবেদন করেছেন।

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ
Caption

তা ছাড়া অব্যাহতির বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা সহকারী কর্মকর্তাকেও অবগত করেননি তিনি। পরে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি আমলে নিয়ে সোমবার রায়নার অব্যাহতিপত্রে সই করেন রফিকুল ইসলাম তালুকদার।

অব্যাহতি দেয়ার তারিখ ১৮ অক্টোবর ধরে ওই দিন থেকেই পদটি শূন্য ধরা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

এরপরপই ফেসবুকে কিশোরগঞ্জ জেলাভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় সমালোচনা। এই অনিয়মের জন্য জেলা এবং উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়ী করে মন্তব্য করেন অনেকে।

রায়না ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যে স্নাতক শেষ করে এখন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। তিনি ২০১৬ সালে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০১৪-২০১৫ সেশনে।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ২০১৬ সালে রায়না স্কুলে যোগ দিয়ে তিন মাস নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন। এরপর স্কুলে যাননি টানা তিন বছর। ২০২০ সালের মার্চে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে ছয় মাস মাঝেমধ্যে আসতেন। করোনা শুরু হলে অন্য শিক্ষকরা স্কুলে এলেও তিনি আসেননি এক দিনের জন্যও।

স্কুলটির একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সারা বছর পরিশ্রম করে যে বেতন পাই, রায়না তার কিছুই না করেও একই বেতন পাচ্ছেন।

‘রায়না সরকারি চাকরি করে কর্মস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বিষয়টি গোপন করেছেন, আবার অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকরির ব্যাপারটা গোপন করেছেন। তিনি একসঙ্গে দুটি অপরাধ করেছেন।’

রায়নার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার তথ্য সেখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি ময়মনসিংহে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত আপডেটও করেন।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রায়নার নামও বলতে পারেনি। কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘হেই ম্যাডাম পহেলা কয়েক দিন ইস্কুলে আইছে, পরে আর আইছে না। হের লাইগ্যে হেই ম্যাডামের নামটা মনে নাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মেহবুবা রায়না বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়।’

তিনি জানান, রায়না চাকরিতে যোগ দেয়ার পর তিনি বিভিন্ন মেয়াদে শুধু মেডিক্যাল ছুটি কাটিয়েছেন ২১৩ দিন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তার কৈফিয়ত তলব করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়।

এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করেন৷ তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি জানান, রায়না ওয়ার্কশিট বিতরণ ও মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগসংক্রান্ত কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করেননি৷ তাকে প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জানালেও তিনি গুরুত্ব দেননি।

পরে রায়নার বেতন বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন মফিজুল ইসলাম। আর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেহবুবা রায়নাকে শোকজ করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এর জবাব দেন রায়না। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় রায়নার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফাইলটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে রায়নার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। পরে মেসেজ দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার হোয়াটস অ্যাপ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার বার্তা পাঠানোর পর তিনি নিউজবাংলার প্রতিবেদককে ব্লক করে দেন।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: স্বজনের দাফন শেষে ফিরছিলেন তারা
পদ্মায় নৌকাডুবি: ২ মরদেহ উদ্ধার
যমুনায় ঘূর্ণিপাকে ডুবল যাত্রীবোঝাই নৌকা
হাওরে ঝড়ে নৌকাডুবিতে ২ জেলের মৃত্যু
মৎস্য খামারে নৌকাডুবিতে যুবকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

জেএমসেন হলে হামলা মামলা: ১৬ জন রিমান্ডে

জেএমসেন হলে হামলা মামলা: ১৬ জন রিমান্ডে

আন্দরকিল্লা এলাকায় জেএমসেন হলে মণ্ডপে হামলার পর মোতায়েন করা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘১৫ অক্টোবর জুমার নামাজের পর কুমিল্লার ঘটনায় প্রতিবাদী মিছিল থেকে জেএমসেন হলে হামলা করা হয়। এই ঘটনায় পরদিন বিকেল পর্যন্ত ৮৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের নামে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে ১৬ অক্টোবর মামলা করা হয় কোতোয়ালি থানায়।’

চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা এলাকায় জেএমসেন হলের পূজা মণ্ডপে হামলা মামলায় ১৬ জনকে একদিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক হোসেন মোহাম্মদ রেজা সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এই আদেশ দেন।

পুলিশ যাদের রিমান্ড পেয়েছে তারা হলেন দেলোয়ার হোসেন, মাসুদ পারভেজ, মো. হুমায়ুন, জাবেদুল ইসলাম, ইফতেখার উদ্দিন, তৌহিদুল আলম, খালিদ বিন ওয়ালিদ, সৈয়দ মঈন উদ্দিন, মো. রাসেল, ওমর ফারুক, নুরুল ইসলাম, মো. সোহাগ, আইয়ুব আলী, আমির হোসেন ও খোরশেদ আলম।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৫ অক্টোবর জুমার নামাজের পর কুমিল্লার ঘটনায় প্রতিবাদী মিছিল থেকে জেএমসেন হলে হামলা করা হয়। এই ঘটনায় পরদিন বিকেল পর্যন্ত ৮৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের নামে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে ১৬ অক্টোবর মামলা করা হয় কোতোয়ালি থানায়।

‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ১৬ জনের সাত দিনের রিমান্ডে আবেদন করেছিলাম আমরা। আদালত সোমবার শুনানির জন্য দিন ধার্য্য করে। সোমবার দুপুরে শুনানি শেষে ১৬ জনকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।’

নগরীর আন্দরকিল্লা এলাকায় জেএমসেন হলে হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরের সংগঠন যুব অধিকার পরিষদের ৯ নেতাকর্মীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাদের মধ্যে ৭ জনের একদিন করে রিমান্ডে পাঠায় আদালত। শনিবার হাবিবুল্লাহ মিজান নামের একজন ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন আদালতে।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: স্বজনের দাফন শেষে ফিরছিলেন তারা
পদ্মায় নৌকাডুবি: ২ মরদেহ উদ্ধার
যমুনায় ঘূর্ণিপাকে ডুবল যাত্রীবোঝাই নৌকা
হাওরে ঝড়ে নৌকাডুবিতে ২ জেলের মৃত্যু
মৎস্য খামারে নৌকাডুবিতে যুবকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জ সহিংসতা: রিমান্ডে আরও ১৩

পীরগঞ্জ সহিংসতা: রিমান্ডে আরও ১৩

পীরগঞ্জের করিমপুরে হিন্দুপল্লিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় নতুন করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম। আদালত শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড দেয়। এর আগে যারা রিমান্ডে ছিলেন তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সে তথ্য অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।’

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু পল্লিতে সহিংসতার ঘটনায় আরও ১৩ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড পেয়েছে পুলিশ।

পীরগঞ্জ আমলী আদালতের বিচারক ফজলে এলাহী খান সোমবার দুপুরে এ আদেশ দেন। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।

এর আগে ৩৭ আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড পেয়েছিল পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগঞ্জ আমলি আদালতের সাধারণ নিবন্ধক শহিদুর রহমান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় নতুন করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম। আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড দেয়।

‘এর আগে যারা রিমান্ডে ছিলেন তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সে তথ্য অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার এক দিন পর এই (আজ যারা রিমান্ডে) ১৩ আসামিদের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে, সে কারণে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।’

পীরগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান নিউজবাংলাকে জানান, পীরগঞ্জে সহিংসতার ঘটনায় তিনটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ও একটি ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৬৬ আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে গত ১৭ অক্টোবর রাতে পীরগঞ্জের রামনাথপুর উত্তরপাড়া হিন্দুপল্লিতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় হিন্দুদের বাড়িঘর; দেয়া হয় আগুন। লুটপাটও করা হয় এসব বাড়িতে।

এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং একটি অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: স্বজনের দাফন শেষে ফিরছিলেন তারা
পদ্মায় নৌকাডুবি: ২ মরদেহ উদ্ধার
যমুনায় ঘূর্ণিপাকে ডুবল যাত্রীবোঝাই নৌকা
হাওরে ঝড়ে নৌকাডুবিতে ২ জেলের মৃত্যু
মৎস্য খামারে নৌকাডুবিতে যুবকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

চাকমাপল্লিতে হামলায় মামলা

চাকমাপল্লিতে হামলায় মামলা

টেকনাফের হোয়াইক্যংয় ইউনিয়নের ১ নম্বর কাটাখালী ওয়ার্ডের অরণ্য বৌদ্ধবিহারের পাশের ওই পল্লিতে হামলা হয়েছে রোববার সন্ধ্যায়। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি তোফায়েল সম্রাট। তিনি ছাত্রলীগ নেতা বলে এলাকায় পরিচিত। যদিও উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নামে কেউ কমিটিতে নেই।

কক্সবাজারের টেকনাফে একটি বৌদ্ধ বিহারের পাশের চাকমাপল্লিতে হামলার ঘটনায় ১৩ জনের নামে মামলা করেছেন আহত এক ব্যক্তি।

যতিন চাকমা নামে ওই ব্যক্তি রোববার মধ্যরাতে টেকনাফ থানায় এই মামলা করেন বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, মামলায় আসামি করা হয়েছে তোফায়েল সম্রাট নামের এক যুবককে। তিনি ছাত্রলীগ নেতা বলে এলাকায় পরিচিত। যদিও উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নামে কেউ কমিটিতে নেই।

টেকনাফের হোয়াইক্যংয় ইউনিয়নের ১ নম্বর কাটাখালী ওয়ার্ডের অরণ্য বৌদ্ধবিহারের পাশের ওই পল্লিতে হামলা হয়েছে রোববার সন্ধ্যায়। রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা পারভেজ চৌধুরী ও উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাকিল আহমদ।

তারা জানান, হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের শিগগিরি আইনের আওতায় আনা হবে।

ইউএনও পারভেজ জানান, এক চাকমা তরুণীকে উত্যক্তের ঘটনার জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শন শেষে জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় চাকমাপল্লির ১২ জনসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই পল্লির এক তরুণীকে উত্যক্ত করতেন তোফায়েল ও তার সহযোগীরা। অরণ্য বৌদ্ধবিহারের কর্মকর্তা অন্তর চাকমা অভিযোগ করেন, এ নিয়ে সালিশ বসলে চাকমা যুবকদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয় তোফায়েল ও তার ভাই কায়সারের। এরপর তোফায়েলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় চাকমাপল্লিতে।

এ বিষয়ে তোফায়েল সম্রাট জানান, বিচারে কথা-কাটাকাটির জেরে কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে। তবে চাকমাপল্লিতে অগ্নিসংযোগের বিষয়টি মিথ্যা।

তোফায়েলের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুন্না বলেন, যে তোফায়েলের কথা বলা হচ্ছে, তাকে আমি চিনি না। সে যে কমিটিতে রয়েছে সেটি অবৈধ। হোয়াইক্যংয়ে গ্রুপিং আছে। তোফায়েলসহ যাদের নাম এসেছে তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়।’

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: স্বজনের দাফন শেষে ফিরছিলেন তারা
পদ্মায় নৌকাডুবি: ২ মরদেহ উদ্ধার
যমুনায় ঘূর্ণিপাকে ডুবল যাত্রীবোঝাই নৌকা
হাওরে ঝড়ে নৌকাডুবিতে ২ জেলের মৃত্যু
মৎস্য খামারে নৌকাডুবিতে যুবকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে সহিংসতা: ২ ‘শিবির কর্মী’ গ্রেপ্তার

পীরগঞ্জে সহিংসতা: ২ ‘শিবির কর্মী’ গ্রেপ্তার

পীরগঞ্জের করিমপুরে হিন্দুপল্লিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে গত ১৭ অক্টোবর রাতে পীরগঞ্জের রামনাথপুর উত্তরপাড়া হিন্দুপল্লিতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় হিন্দুদের বাড়িঘর; দেয়া হয় আগুন। লুটপাতও করা হয় এসব বাড়িতে। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় চারটি মামলা হয়। সোমবার সকাল পর্যন্ত এসব মামলায় ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে সহিংসতার ঘটনায় করা চার মামলায় ৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে রোববার রাতে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেস চন্দ্র।

তারা হলেন ২৩ বছরের মো. মামুন ও ২৪ বছরের উমর ফারুক টনেট।

ওসি বলেন, তাদের ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা শিবির কর্মী বলে তথ্য আছে।

ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে গত ১৭ অক্টোবর রাতে পীরগঞ্জের রামনাথপুর উত্তরপাড়া হিন্দুপল্লিতে হামলা চালানো হয়। ভাঙচুর করা হয় হিন্দুদের বাড়িঘর; দেয়া হয় আগুন। লুটপাতও করা হয় এসব বাড়িতে।

এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এবং একটি অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে।

এর মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ‘প্রধান অভিযুক্ত’ সদ্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈকত মণ্ডল ও তার সহযোগী বটেরহাট মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামকে আসামি করা হয়।

সৈকত ও তার সহযোগীর বিষয়ে শনিবার র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অরাজকতা তৈরি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের লক্ষ্যে হামলা-অগ্নিসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং মাইকিং করে হামলাকারীদের জড়ো করেন বলে জানিয়েছেন।

সৈকত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণকে উত্তেজিত করে তোলেন। এ ছাড়া তিনি ওই হামলা ও অগ্নিসংযোগে অংশগ্রহণে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করেন।

সৈকত মণ্ডলের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ্ত শাহীন রোববার জানান, র‍্যাবের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলায় সৈকতকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি স্বেচ্ছায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সুদীপ্ত শাহীন জানান, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় মসজিদের ইমাম রবিউল ইসলামকে আদালতে তোলা হলে তিনিও স্বেচ্ছায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা আদালতকে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: স্বজনের দাফন শেষে ফিরছিলেন তারা
পদ্মায় নৌকাডুবি: ২ মরদেহ উদ্ধার
যমুনায় ঘূর্ণিপাকে ডুবল যাত্রীবোঝাই নৌকা
হাওরে ঝড়ে নৌকাডুবিতে ২ জেলের মৃত্যু
মৎস্য খামারে নৌকাডুবিতে যুবকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে

শিক্ষার্থীদের চুল কাটায় অভিযুক্ত রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ফাইল ছবি

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ সোমবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সুন্দর প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটির সদস্যরা সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। তার (ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ সোমবার নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি সুন্দর প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটির সদস্যরা সুন্দরভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছে। তার (ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমরা ঐকমত্যে পৌঁছেছি। তারা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দিয়েছে। আমাদের কিছু নিয়ম-কানুন বাকি আছে, এটা শেষ হলে আমরা সিন্ডিকেটের সভা ডাকব। আশা করছি, ৮-১০ দিনের সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে।’

তদন্ত কমিটি কী তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে, এমন প্রশ্নে আব্দুল লতিফ বলেন, ‘হ্যাঁ, হ্যাঁ।’

অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির এক সদস্যও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সদস্য বলেন, ‘তদন্ত কমিটি ৩৪ জন শিক্ষার্থীর বক্তব্য নিয়েছে। এর মধ্যে ১৪ জন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী ৫ জন শিক্ষক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের একজন সহকারী রেজিস্ট্রার এবং ৫ জন কর্মচারী রয়েছেন। সবার বক্তব্যেই ফারহানার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছি। এখন বিষয়টি সিন্ডিকেট দেখবে।’

ফারহানা ইয়াসমিনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে গত ২২ অক্টোবর রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা অফিসে সিন্ডিকেট সভা ডাকা হয়েছিল। এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় সভা।

বিষয়টি জানার পর রোববার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের সামনে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা জরুরি বৈঠক করে ফের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন। তারা অনশন কর্মসূচি ও লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীরা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন এবং বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন।

এতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

এর আগে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন দরজায় কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের সামনের অংশের বেশ খানিকটা কেটে দেন তিনি। এভাবে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ওই শিক্ষক।

ওই ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফারহানা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের গালাগালি করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে নাজমুল হাসান তুহিন নামের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গালাগালি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের হুমকি দেন।

ওই ঘটনার পর ‘অপমান সইতে না পেরে’ তুহিন রাতে দ্বারিয়াপুরের শাহ মুখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা আটকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তার বিভাগের চেয়ারম্যান পদ, সহকারী প্রক্টর পদ ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন।

ঘটনার তদন্তে পরে রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: স্বজনের দাফন শেষে ফিরছিলেন তারা
পদ্মায় নৌকাডুবি: ২ মরদেহ উদ্ধার
যমুনায় ঘূর্ণিপাকে ডুবল যাত্রীবোঝাই নৌকা
হাওরে ঝড়ে নৌকাডুবিতে ২ জেলের মৃত্যু
মৎস্য খামারে নৌকাডুবিতে যুবকের মৃত্যু

শেয়ার করুন

চোর চিনে ফেলায় প্রাণ হারান স্বামী-স্ত্রী

চোর চিনে ফেলায় প্রাণ হারান স্বামী-স্ত্রী

নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী কামরুন নাহার। ছবি: সংগৃহীত

পিবিআইয়ের পরিদর্শক কবির আহমেদ জানান, চাঁদপুরের শাহরাস্তি নাওড়া এলাকায় গত ১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে বাড়ির ছাদে পাওয়া যায় গৃহকর্তা নুরুল আমিনের মরদেহ। তার স্ত্রী কামরুন নাহারের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায় ঘরের মেঝেতে।

বাড়ির গেট খোলা পেয়ে ভেতরে ঢুকেছিলেন পরিচিত চোর আবদুল মালেক। চিনে ফেলায় তিনি হত্যা করেন গৃহকর্তা নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী কামরুন নাহারকে।

চাঁদপুরের শাহরাস্তির নাওড়া এলাকার জোড়া খুনের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার করা হয়েছে খুনে সরাসরি জড়িত আবদুল মালেক ও তার দুই সহযোগীকে।

পিবিআই জানায়, চাঁদপুরের নুরুল আমিন ও কামরুন নাহার দম্পতিকে হত্যার ঘটনায় আসামি আবদুল মালেককে শুক্রবার রাত ৮টায় লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে মালেক জোড়া খুনের বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

মামলাটি তদন্ত করছেন চাঁদপুর জেলা পিবিআইয়ের পরিদর্শক কবির আহমেদ। তিনি জানান, গত ১ জুলাই সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়ির ছাদে পাওয়া যায় গৃহকর্তা নুরুল আমিনের মরদেহ। তার স্ত্রী কামরুন নাহারের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায় ঘরের মেঝেতে।

খুনের ঘটনায় দম্পতির ছেলে জাকারিয়া আহমেদ বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় মামলা করেন। আসামি করা হয় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের।

শাহরাস্তি থানার পুলিশ প্রায় এক মাস তদন্ত করে হত্যার উদ্দেশ্য ও খুনিদের ব্যাপারে ধারণা পায়নি। পরে বাদীর আবেদনে আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় পিবিআইকে।

চোর চিনে ফেলায় প্রাণ হারান স্বামী-স্ত্রী
চাঁদপুরে দম্পতি খুনের ঘটনায় পিবিআই গ্রেপ্তার করেছে আবদুল মালেক নামের আসামিকে। ছবি: সংগৃহীত

আসামি মালেককে জিজ্ঞাসাবাদের পর পিবিআই জানায়, ঘটনার রাতে নুরুল আমিনের বাড়ির গেট খোলা পেয়ে মালেক চুরি করতে ভেতরে ঢোকেন। সিঁড়ি দিয়ে উঠে ছাদে অবস্থান নেন।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে নুরুল ছাদে উঠলে তাকে পেছন থেকে রড দিয়ে আঘাত করেন আবদুল মালেক। মাথায় আঘাত পেয়ে পড়ে যান নুরুল। তখন তার গলায় মোজা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

এরপর মালেক ছাদ থেকে নেমে ঘরের মালামাল লুটের চেষ্টা করেন। তখন একটি ফাইল কেবিনেটের ড্রয়ার টানাটানি করলে জেগে যান কামরুন নাহার। তিনি ঘরের বাল্ব জ্বালাতেই সামনে দেখতে পান আবদুল মালেককে। মূলত চিনে ফেলার কারণে লোহার রড দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়।

কামরুন নাহার রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে গেলে আবদুল মালেক তার কানের দুল ও নুরুল আমিনের মোবাইল ফোন নিয়ে আবার ছাদে যান। হত্যায় ব্যবহার করা লোহার রড ছাদ থেকে উত্তর দিকে ছুড়ে ফেলে দেন তিনি। এরপর কাঁঠাল গাছ বেয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যান।

পিবিআই জানায়, চুরি করা সে মোবাইল ফোনটি আবদুল মালেক বিক্রি করেছিলেন ইলিয়াছ হোসেন নামের একজনের কাছে। তাকে সহযোগিতা করেছিলেন বশির নামের আরেকজন। মালেকের সঙ্গে এ দুজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত ব্যুরোটি আরও জানায়, জোড়া খুনের ঘটনায় আবদুল মালেকের সঙ্গে আর কারা ছিল তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

আরও পড়ুন:
নৌকাডুবি: স্বজনের দাফন শেষে ফিরছিলেন তারা
পদ্মায় নৌকাডুবি: ২ মরদেহ উদ্ধার
যমুনায় ঘূর্ণিপাকে ডুবল যাত্রীবোঝাই নৌকা
হাওরে ঝড়ে নৌকাডুবিতে ২ জেলের মৃত্যু
মৎস্য খামারে নৌকাডুবিতে যুবকের মৃত্যু

শেয়ার করুন