যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্স লাইব্রেরিতে ‘বাংলা কর্নার’

যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্স লাইব্রেরিতে ‘বাংলা কর্নার’

নিউইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘বাংলা কর্নার’ উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি বসবাস নিউ ইয়র্কের কুইন্স বোরোতে। সেখানে ইংরেজি, স্প্যানিশ ও চায়নিজ ভাষার পরেই বাংলার স্থান। সে কারণে কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে বাংলা কর্নার বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে। বাংলা কর্নারে মোট ৩০৯টি বই দিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বইগুলোর বেশির ভাগই বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা। এ ছাড়া রয়েছে উপন্যাস ও গল্পসমগ্র।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘বাংলা কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব বর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেন নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল। কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির সহযোগিতায় মঙ্গলবার এই ‘বাংলা কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশন উপলক্ষে বর্তমানে নিউ ইয়র্ক সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাংলা কর্নারের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আব্দুল মোমেন বলেন, ‘২০২১ সাল বিভিন্ন দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। আর আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন।

‘আমরাই একমাত্র জাতি, যারা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছি। তাই ভাষার জন্য ভালোবাসা নিয়ে প্রবাসীরা তাদের সন্তানদের নিয়ে বাংলা কর্নারে আসবেন এবং বই পড়বেন বলে আশাবাদী।’

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৩২টি ভাষণের সংকলন ও প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ৭৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির লেখা বিশেষ সংকলন কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিকে উপহার দেন। এসব বই কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির প্রধান শাখায় ৬ মাস প্রদর্শিত হবে। এরপর বইগুলো লাইব্রেরির বিভিন্ন শাখায় রাখা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি বসবাস নিউ ইয়র্কের কুইন্স বোরোতে। সেখানে ইংরেজি, স্প্যানিশ ও চায়নিজ ভাষার পরেই বাংলার স্থান। সে কারণে কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে বাংলা কর্নার বিশেষ তাৎপর্য বহন করবে।

বাংলা কর্নারে মোট ৩০৯টি বই দিয়েছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট। বইগুলোর বেশির ভাগই বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা। এ ছাড়া রয়েছে উপন্যাস ও গল্পসমগ্র।

২০২০ সালে বাংলা কর্নার উদ্বোধনের কথা ছিল, করোনা মহামারির কারণে তা পিছিয়ে যায়।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা, কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেনিস এম ওয়ালকট, নিউ ইয়র্কের স্টেট সিনেটর জন সি ল্যু, কুইন্স বোরোর প্রেসিডেন্ট ডোনাভান রিচার্ডস ও সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ৭ কলেজে সশরীরে ক্লাস শুরু

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ৭ কলেজে সশরীরে ক্লাস শুরু

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে ঢাকা কলেজসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৭ মহাবিদ্যালয়ে। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় বৃহস্পতিবার সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও সেশনজট দূর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সশরীরে পাঠদান শুরু হয়েছে।

একই সঙ্গে অনলাইনেও শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় বৃহস্পতিবার সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও সেশনজট দূর করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকটি গুচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম চলবে। এর মধ্যে প্রথম গুচ্ছে শনি ও মঙ্গলবার, দ্বিতীয় গুচ্ছে রবি ও বুধবার এবং তৃতীয় গুচ্ছে সোম ও বৃহস্পতিবার ধারাবাহিকভাবে অনার্স প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বর্ষ এবং মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলবে। এর পাশাপাশি অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এ সংক্রান্ত সূচি অধিভুক্ত সব কলেজে পাঠিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জট নিরসনে কী ব্যবস্থা

করোনার কারণে সৃষ্ট সেশনজট নিরসনে কোর্সভুক্ত প্রতিটি বিষয়ে বর্ষওয়ারি ক্লাস শুরু ও শেষ, ফরম পূরণ, পরীক্ষা শুরু ও শেষ এবং ফল প্রকাশের নির্দেশনা প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট কমিয়ে আনতে বছরে ১৯৫ দিন শ্রেণি কার্যকাল নির্ধারণ করা হয়েছে।

সে অনুযায়ী চলমান সেশনে ভর্তিকৃত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অনার্স ডিগ্রি নিতে পারবে। রুটিন বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ওরিয়েন্টেশন

আজ বিকেলে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশনও হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে বেলা ৩টায় উপাচার্যের কনফারেন্স রুম থেকে ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠান হবে।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

কোন ৭ কলেজে ক্লাস

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মিল রেখে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে সশরীরে ক্লাস শুরু হয়েছে। বর্তমানে সাত কলেজে অন্য বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা থাকায় শুধু স্নাতক চতুর্থ বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরের ক্লাস চলবে।

ওই সাত প্রতিষ্ঠান হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।

শেয়ার করুন

শিশু হত্যার আসামি জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ডের রিভিউ খারিজ

শিশু হত্যার আসামি জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ডের রিভিউ খারিজ

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নির্দোষ একটা শিশুকে হত্যা করা হলো। যার কোনো অপরাধ নাই, কিচ্ছু নাই। একটা বাচ্চাকে মেরে ফেললেন। মামলার মেরিটে আমরা সন্তোষ নয়। তা ছাড়া, মামলায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে। শিশুটির বয়স মাত্র ৯ বছর। এই বাচ্চাতো অপরাধ করার গণ্ডির মধ্যেই যায়নি।’

শিশু হত্যার দায়ে আসামি মো. জাহাঙ্গীরের মৃত্যুদণ্ড সাজার রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতিসহ চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দেয়।

রায়ের সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘নির্দোষ একটা শিশুকে হত্যা করা হলো। যার কোনো অপরাধ নাই, কিচ্ছু নাই। একটা বাচ্চাকে মেরে ফেললেন। মামলার মেরিটে আমরা সন্তোষ নয়। তা ছাড়া, মামলায় আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে। শিশুটির বয়স মাত্র ৯ বছর। এই বাচ্চাতো অপরাধ করার গণ্ডির মধ্যেই যায়নি।’

পরে আদালত রিভিউ আবেদন খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার আদেশ দেয়।

আদালতে আসামি জাহাঙ্গীরের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তার সঙ্গে ছিলেন এবিএম বায়েজীদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ।

আইনজীবী এবিএম বায়েজীদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আদালত শুনানি নিয়ে রিভিউ আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। তবে আমাদের যথেষ্ট গ্রাউন্ড আছে। মক্কেলের সঙ্গে কথা বলে তারা চাইলে দ্বিতীয়বার রিভিউ দায়ের করব।’

এর আগে গত ৮ জুলাই সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শিশু আরাফাত হোসেনকে হত্যার অভিযোগে আসামি মো. জাহাঙ্গীরের আপিল ডিসমিস করে মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখে।

পরে গত ১০ অক্টোবর রিভিউ আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী সুধারাম উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর ৯ বছর বয়সী শিশু আরাফাত হোসেনকে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ তার বাড়ি থেকে খেলনা পিস্তল দেখিয়ে স্থানীয় কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ২০০৮ সালের আসামি জাহাঙ্গীরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় দেয়। এরপর হাইকোর্টও সেই মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। আপিল বিভাগেও মৃত্যুদন্ডের রায় বহাল থাকে।

শেয়ার করুন

বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন

বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন

রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

ঢাকার পূর্বাচলে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৩০৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের অনুদান ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

দেশের পণ্য প্রদর্শনী ও বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১ টার দিকে ভার্চুয়ালি সেন্টারটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে যোগ দেন তিনি।

নির্মাণ কাজ শেষে এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শনী কেন্দ্রটি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে চীন।

ঢাকার পূর্বাচলে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৩০৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের অনুদান ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এটি নির্মাণ করেছে চীনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। এই প্রদর্শনী কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কাছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী ‍টিপু মুনশী বলেন, ‘এই এক্সিবিশন সেন্টারটিকে বিজনেস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

একটা স্থায়ী কাঠামো না থাকার কারণে পণ্য প্রদর্শনীতে যেমন জটিলতা হচ্ছিল তেমনি উন্মুক্তস্থানে মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছিল বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সরকারের ভূমিকায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। আগামীতেও এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং দুই দেশ বাণিজ্য খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করব।’

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘এখন থেকে প্রতিবছরের পয়লা জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করতে পারবেন।’

চীনের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মালিকানায় পূর্বাচলে ২০ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারটি।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে টানতে তৈরি এই কেন্দ্রটির নাম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তাতে সম্মতি দিয়েছে চীন।

এটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবরে। আর শেষ হয় গেল গত বছরের নভেম্বরে।

নির্মাণের কারণ ব্যাখ্যায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বলছে, বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশি-বিদেশি পণ্য উৎপাদনকারী ও ক্রেতাদের বাংলাদেশে আর্ন্তজাতিক মানের একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ও সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করা।

যা থাকছে এক্সিবিশন সেন্টারে

এক্সিবিশন সেন্টারের মোট ফ্লোরের আয়তন ৩৩ হাজার বর্গমিটার। ভবনের ফ্লোরের আয়তন ২৪ হাজার ৩৭০ বর্গমিটার। এক্সিবিশন হলের আয়তন ১৫ হাজার ৪১৮ বর্গমিটার।

এক্সিবিশন হলে ৮০০টি বুথ রয়েছে। প্রতিটি বুথের আয়তন ৯ দশমিক ৬৭ বর্গমিটার।

দোতলা পার্কিং বিল্ডিংয়ের মোট পার্কিং স্পেস ৭ হাজার ৯১২ বর্গমিটার যেখানে ৫০০টি গাড়ি রাখা যাবে। আর এক্সিবিশন বিল্ডিংয়ের সামনের খোলা জায়গায় আরও ১ হাজার গাড়ি পার্কিং করার সুযোগ আছে।

এতে রয়েছে ৪৭৩ আসনের একটি মাল্টি ফাংশনাল হল, ৫০ আসনের একটি কনফারেন্স রুম, ছয়টি নেগোসিয়েশন/মিটিং রুম, ৫০০ আসনের ক্যাফেটরিয়া/রেস্টুরেন্ট, শিশুদের খেলার স্পেস, নামাজের কক্ষ, অফিস রুম দুইটি, মেডিক্যাল রুম, ডরমিটরি-গেস্ট রুম, ১৩৯টি টয়লেট, বিল্ট ইন পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম।

এ ছাড়াও রয়েছে নিজস্ব ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, স্টোর রুম, সিএটিভি কন্ট্রোল রুম, অটোমেটেড সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম, ইনবিল্ট ইন্টারনেট/ওয়াইফাই, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, আলাদা রেজিস্ট্রেশন হল, আধুনিক ফোয়ারা, ইন বিল্ট পতাকা স্ট্যান্ড, রিমোট কন্ট্রোলড-ইলেকট্রনিক প্রবেশ গেইট।

শেয়ার করুন

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায় ফের পেছাল

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায় ফের পেছাল

রায়ের নতুন তারিখের বিষয়টি আদালতের বিচারক নাজমুল আলম এজলাসে বসে জানিয়ে দেন। আর দুদকের আইনজীবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আজ রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয় নাই।’

চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আবার পিছিয়েছে। পরবর্তী তারিখ রাখা হয়েছে ৯ নভেম্বর।

আদালত থেকে বলা হয়েছে, রায় প্রস্তুত না হওয়ায় নতুন তারিখ রাখা হয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে বৃহস্পতিবার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ থাকলেও সেদিন বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পিছিয়ে ২১ অক্টোবর দিন রাখা হয়।

রায়ের নতুন তারিখের বিষয়টি আদালতের বিচারক নাজমুল আলম এজলাসে বসে জানিয়ে দেন।

দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আজ রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয় নাই।’

রায় উপলক্ষে এদিন আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতীকে (বাবুল চিশতী) আদালতে উপস্থিত করা হয়েছিল।

গত ২৪ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলার অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত বছরের ১৩ আগস্ট একই আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলায় আসামিরা খালাশ পাবেন বলে দাবি তাদের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম অনির। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, মামলার শুনানিতে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে মামলার ঘটনা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া জেরার সময় সাক্ষীরা তাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের দাবি, আসামিদের অপরাধ প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তাই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলা তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ।

আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগারে, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এবং একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জামিনে আছেন।

এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন।

শেয়ার করুন

মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৪ পুলিশ

মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৪ পুলিশ

মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে অভিযানে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

নারায়ণগঞ্জ জোনের নৌপুলিশের এসপি মিনা মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কতজন জেলে আহত হয়েছেন তা আমরা তাৎক্ষণিক জানতে পারিনি। তবে আমাদের চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে ইলিশ রক্ষায় অভিযানে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে নৌপুলিশের। এ সময় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন জেলেও।

অভিযান চলাকালে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জোনের নৌপুলিশের এসপি মিনা মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘কতজন জেলে আহত হয়েছেন তা আমরা তাৎক্ষণিক জানতে পারিনি। তবে আমাদের চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

আহতদের মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ইলিশ শিকারে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে জেলায় গত ৪ অক্টোবর থেকে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন ও নৌপুলিশ।

বিস্তারিত আসছে...

শেয়ার করুন

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী নদীতে সেতু না থাকায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি। ছবি: নিউজবাংলা

খারামোরার নুরুল আমীন বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে শুরু কইরে হাজার হাজার মানুষ আমরা কত যে কষ্ট করতাছি, কেউ আমাগো কষ্ট দেহে না। আমরা নদীতে পানি বাড়লে বাজার সদাই করবার পাই না। না খাইয়া থাহা নাগে।’

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচ গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে সোমেশ্বরী নদী। স্বাধীনতার পর থেকেই এ নদীতে একটি সেতু নির্মাণে দাবি জানিয়ে আসছেন এসব গ্রামের লোকজন। এত বছর ধরে আশ্বাসই পেয়ে আসছেন তারা। সেতুর দেখা আর মেলেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারত থেকে বয়ে আসা সোমেশ্বরী উপজেলার গারো পাহাড়ের খারামোরা, রাঙাজান ও কোচপাড়াসহ পাঁচ গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করেছে। এর উত্তর প্রান্তে রয়েছে ভারতের সীমানা।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

বেশির ভাগ সময় এ নদীতে থাকে হাঁটুপানি। তবে একটু বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলে নদী কানায় কানায় ভরে যায়।

গ্রামবাসী জানায়, পাঁচ গ্রামে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ থাকেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নদী পার হতে তাদের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। তবে পানি বাড়লে স্রোতের কারণে তা ব্যবহার করা যায় না।

ওই সময় গ্রাম থেকে বের হতে পারেন না কেউ। দিনের পর দিন শিক্ষার্থীরা স্কুলেও যেতে পারে না। এমনটি সীমান্তে টহল দিতে পারেন না বিজিবির সদস্যরা।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

ওই সময় খাবারের সংকটেও পড়ে গ্রামবাসী। আবার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সময় মতো চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। বিনা চিকিৎসায় অনেকের মৃত্যুও হয়েছে।

৯৫ বছরের আইজুর রহমান ১৯৬৫ সালে ভারতের আসাম থেকে বাংলাদেশে এসে বসতি গড়েন শ্রীবরদীর খারামুরা গ্রামে। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৯৬৫ সালে এইহানে আইছি। এর থাইকে কষ্ট করতাছি। এই নদীর ওপর এডা ব্রিজ অইলে আমাগো খুব বালা অইত।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

আমরা অনেক কষ্ট কইরা নদী পার অই। যেদিন পানি বেশি থাহে, ওই দিন আর বাড়িতে যাবার পাই না। নদীর এপারেই কষ্ট কইরা থাহন নাগে। কত মানুষ আইল আমাগো ব্রিজ কইরা দিবে। ভোটও দিলাম, কিন্তু ব্রিজ আর অইল না। আপনেগর কাছে অনুরোধ, আমাগো ব্রিজটা কইরা দেন। শেষ বয়সে অইলেও ব্রিজটা দেইখা যাবার পামু।’

খারামোরার নুরুল আমীন বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে শুরু কইরে হাজার হাজার মানুষ আমরা কত যে কষ্ট করতাছি, কেউ আমাগো কষ্ট দেহে না। আমরা নদীতে পানি বাড়লে বাজার-সদাই করবার পাই না। না খাইয়া থাহা নাগে।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

‘আর কেউ যদি অসুখ হয় তালে তার জন্য ওষুধ পাওয়া যায় না। ওষুধ বেগরে মানুষ মারাই যাব, তাও পার অবার কোনো ব্যবস্থা থাহে না।’

কোচপাড়ার স্কুলছাত্র নাসিদ জানান, ‘প্রায়ই নদীর পানি বাড়ে, তখন আমরা স্কুলে আসতে পারি না। দিনের পর দিন আমাদের স্কুল কামাই করতে হয়। আবার ভয়ে ভয়ে নদী পার হয়ে স্কুলে, বাজার-ঘাটে যাই।’

তাওয়াকুচার অছিরা বেগম জানান, ‘আমি আমার মেয়েডারে নদীর ওপারে বিয়া দিছি। তারেও আপদে-বিপদে দেখবার পাই না। আমরা অনেক কষ্ট করে আছি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্রিজ চাই।’

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

এ বিষয়ে কথা বলতে শ্রীবরদী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বরাবরের মতোই তিনি আশ্বাস দেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে নকশা ও মাটি পরীক্ষার কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলেই শুরু হবে নির্মাণকাজ।’

শেয়ার করুন

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখলের কাজ চলছে। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে পৌর শহরের চৌরাস্তা হাটের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় কোনো বাধা ছাড়াই জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও ভবন নির্মাণ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জমিটি দখলমুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ চলছে অবাধে ও প্রকাশ্যেই।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

পৌরসভা দপ্তরে সূত্রে জানা যায়, বাজারটি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পৌরসভা থেকে বার্ষিক ইজারায় দেয়া হয়। এরপর থেকে আর ইজারা দেয়া হয়নি। ভূমি অফিসের লোকজনের সহায়তায় সেখানে রাতারাতি অবৈধভাবে আধাপাকা বাড়ি, পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন এলাকার প্রভাবশালীরা।

হাটের জায়গায় ব্যক্তি মালিকানায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় পরে কর্তৃপক্ষ তা বাজার হিসেবে ইজারা দিতে চাইলেও প্রভাবশালী দখলদারদের ভয়ে কেউ লিজ নিতে রাজি হয়নি।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪-৮৫ এবং ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে দুটি মিস কেসের মাধ্যমে চৌরাস্তা হাটের সম্পত্তি পেরিফেরিভুক্ত করে ভূমি অফিস।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

বাজারের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ২০০৯ সালে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ওই বছরই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাস্তবায়নে পীরগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলেও সে সময় কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সেই সুযোগে শহরের প্রাণকেন্দ্র রঘুনাথপুর মৌজায় (ঢাকাইয়াপট্টি) পেরিফেরিভুক্ত চৌরাস্তা হাটের উত্তর পূর্বাংশে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনার কাজ শুরু করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি ইমদাদুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব।

শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি হাটের জমি দখল করতে ইমদাদুল হক সীমানা প্রাচীর তুলছেন। আর বিপ্লব ওই জমিতে বানাচ্ছেন বহুতল ভবন।

বিষয়টি নজর আসলে দখল ঠেকাতে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিমকে নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহাবুবুর রহমান।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

ডিসি নিউজবাংলাকে জানান, নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে জানিয়েছেন।

অথচ গত ১৪ অক্টোবর দেখা যায় নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ডিসির নিদের্শনা পর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ না করে দখলদারদের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে চলে যান। সরকারি জমি দখলদারদের পাইয়ে দেয়ার পেছনে খোদ ইউএনও রেজাউল করিম কাজ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও রেজাউল বলেন, অভিযোগ ঠিক নয়। কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। আবার কাজ চালু হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আবারও নির্মাণকাজ বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব বলেন, ‘আমি এখানে বিশ বছর ধরে আধাপাকা বাড়ি করে আছি। এখন ভেঙে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছি। হাটের পেরিফেরি থেকে জায়গাটা অবমুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।’

পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক বলেন, ‘পেরিফেরিভুক্ত জমিতে ঘর নির্মাণের অনুমতি পৌরসভা দিতে পারে না। কাজ বন্ধ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।’

শেয়ার করুন