রূপালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার নামে মামলা

রূপালী ব্যাংকের দুই কর্মকর্তার নামে মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়। ছবি: নিউজবাংলা

আসামিরা রূপালী ব্যাংকের সাতক্ষীরার ১৫ জন গ্রাহকের নামে ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ মঞ্জুর করেন। এরপর ঋণের টাকা বিভিন্ন গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাবে স্থানান্তর করে নিজেরাই সব টাকা তুলে নেন।

রূপালী ব্যাংক থেকে সাড়ে ৭৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আসামিরা হলেন রূপালী ব্যাংকের সাতক্ষীরার বুধহাটা বাজার শাখার ব্যবস্থাপক ও প্রিন্সিপাল অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) গোলাম মোস্তফা ও সাতক্ষীরা করপোরেট শাখার অফিসার শেখ আরিফুর রহমান।

দুদক এ মামলার জন্য বুধবার অনুমোদন দেয় বলে নিউজবাংলাকে জানান উপপরিচালক আরিফ সাদিক।

সংস্থার উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মামলাটি করবেন।

দুদক সূত্র জানায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাতক্ষীরার ১৫ জন গ্রাহকের নামে ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ মঞ্জুর করেন।

এরপর ঋণের টাকা বিভিন্ন গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাবে স্থানান্তর করে নিজেরাই সব টাকা তুলে নেন। এভাবে টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টি ধরা পড়লে আসামিরা সুদাসল বাবদ ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ৭৫৫ টাকা ব্যাংকে জমা দেন। বাকি টাকা এখনও জমা হয়নি।

২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে আত্মসাতের ঘটনাটি ঘটে।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিতে দুদকের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘চোরাচালানের স্বর্ণ দিয়ে অস্ত্র ও মাদকের লেনদেন’

‘চোরাচালানের স্বর্ণ দিয়ে অস্ত্র ও মাদকের লেনদেন’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১২ কেজি ওজনের মোট ১০৪টি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ছবি: নিউজবাংলা

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রউফ বলেন, ‘অবতরণের পর উড়োজাহাজের ভেতরে রামেজিং বা বিশেষ তল্লাশির জন্য প্রবেশ করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। এসময় কার্গো হোল্ডের মাঝখানে তিনটি প্যাকেট খুলে ১০৪টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। দেশে চোরাই পথে যে স্বর্ণ আসে তার একটি বড় চালান পাশের দেশে চলে যায়। কারণ ওই দেশের মানুষের স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ ও চাহিদা বেশি। এই স্বর্ণের বিনিময়ে অস্ত্র ও মাদকের লেনদেন হয়।’

দেশে চোরাই পথে যে স্বর্ণ আসে তার একটি বড় চালান পাশের দেশে চলে যায়। এই স্বর্ণের বিনিময়ে অস্ত্র ও মাদকের লেনদেন হয়। এ কারণে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারায়।

সোমবার দুপুরে কাকরাইলের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন বাহিনীটির মহাপরিচালক আব্দুর রউফ।

তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১২ কেজি ওজনের মোট ১০৪টি স্বর্ণের বার জব্দ করেছে বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

রোববার রাত সোয়া ৯টায় দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর বিজি-৪১৪৮ থেকে এসব স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানতে পারে যে, রোববার দুবাই-চট্টগ্রাম ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর বিজি-৪১৪৮ এর মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান আসতে পারে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সতর্কতামূলক অবস্থান নেন। পরবর্তীতে দুবাই থেকে আসা বিমানের ফ্লাইটটি আনুমানিক রাত সোয়া ৯টায় হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অবতরণের পর উড়োজাহাজের ভেতরে রামেজিং বা বিশেষ তল্লাশির জন্য প্রবেশ করেন শুল্ক গোয়েন্দারা। এসময় কার্গো হোল্ডের মাঝখানের প্রবেশ মুখের বামদিকে ফ্লোরে তিনটি কাপড়ের বেল্টের ভেতরে লুকানো কালো স্কচ টেপে মোড়ানো তিনটি প্যাকেট খুলে ১০৪টি স্বর্ণবার পাওয়া যায়। যার মোট ওজন প্রায় ১২ কেজি এবং আনুমানিক বাজার মূল্য সাড়ে আট কোটি টাকা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আব্দুর রউফ বলেন, দেশে প্রতি বছর স্বর্ণের চাহিদা ১৬ থেকে ২৬ টন। দেশে চোরাই পথে যে স্বর্ণ আসে তার একটি বড় চালান পাশের দেশে চলে যায়। কারণ ওই দেশের মানুষের স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ ও চাহিদা বেশি। এই স্বর্ণের বিনিময়ে অস্ত্র ও মাদকের লেনদেন হয়। এ কারণে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারায়।

এ ঘটনায় একটি বিভাগীয় মামলা এবং একটি ফৌজদারী মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে (২০২১-২০২২) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত ৬৬ দশমিক ৯৬ কেজি স্বর্ণ আটক করেছে যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ১৭৪ দশমিক ৪৯ কেজি এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১৮০ দশমিক ৩৫ কেজি স্বর্ণ কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর আটক করে।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিতে দুদকের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

শেয়ার করুন

ডেন্টালে ভর্তির নামে প্রতারণায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র

ডেন্টালে ভর্তির নামে প্রতারণায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র

ডেন্টালসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নামে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার জবি ছাত্র মুসা।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র, একাধিক ভুয়া এনআইডি কার্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রের কপি জব্দ করা হয়।

ডেন্টালের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসে প্রতারণার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ।

গ্রেপ্তার যুবকের নাম আবু মুসা আসারী। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাকে রোববার রাত সাড়ে ৮টায় গেন্ডারিয়া নারিন্দা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের দুটি ভুয়া পরিচয়পত্র, একাধিক ভুয়া এনআইডি কার্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্রের কপি জব্দ করা হয়।

গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার আশরাফ হোসেন জানান, ভুক্তভোগীর মেয়ে ১০ অক্টোবর ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাতে ফল খারাপ হয়। ১২ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর গ্রেপ্তার মুসা আসারীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। মুসা আসারী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে, ভিকটিমের মেয়ের রোল নম্বর নিয়ে তাৎক্ষণিক চেক করে জানায় যে মেয়ের পরীক্ষার রেজাল্ট ভালই হয়েছে।

ভিকটিমের মেয়ে সরকারিভাবে চান্স পেয়েছে, কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনিয়মের কারণে তাকে চান্স না দিয়ে অন্য কাউকে চান্স দেয়া হয়েছে। তিনি যদি মেয়েকে ডেন্টালে চান্স পাওয়াতে চান তাহলে এখন ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। এতো টাকা নাই জানালে মুসা এখন দুই লাখ টাকা দিলে ভর্তির পর বাকিটা দিলেও কাজ হবে বলে জানায়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মুসার কথা বিশ্বাস না করে তখন ভিকটিমের ইমো আইডিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সহকারী সচিব নবিউল হাসান সামসুর পরিচয়পত্র পাঠিয়ে দেয়। সে সঙ্গে বিশ্বাসের জন্য মোবাইলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে ফেইক চ্যাটিং স্ক্রিনশট পাঠায়। পরিচয়পত্র দেখে ভুক্তভোগী কিছুটা আশ্বস্ত হলে মুসার সঙ্গে দেখা করে দুই লাখ টাকা দেন।

তিনি জানান, টাকা দেয়ার পরের দিন মুসাকে ফোন দিয়ে রেজাল্টের বিষয়ে জানতে চাইলে জানান, আজকের মধ্যেই উপরের মহলে আরও এক লাখ টাকা দিতে হবে; না দিলে তার মেয়ের রেজাল্ট আগেরটাই থাকবে।

তখন মুসার কথাবার্তায় সন্দেহ হলে প্রতারণার শিকার হয়েছে বুঝতে পারেন। পরে গত শনিবার যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করে ভুক্তভোগীর পরিবার।

মামলাটি তদন্ত ভার দেয়া হয় গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগকে। তারা গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুসাকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার মুসা এমন বেশ কিছু প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ও লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় মুসা।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিতে দুদকের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

শেয়ার করুন

দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু

দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে অজ্ঞাত যুবকের মৃত্যু

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ।

বংশাল থানার এসআই হাসান মাতবর বলেন, ‘বায়তুল আমান মসজিদসংলগ্ন একটি মোটরসাইকেল ওয়ার্কশপের পাশে নর্দমার মধ্যে পড়ে ছিলেন ওই যুবক।’

রাজধানীর বংশালের ছিক্কাটুলী এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত হয়েছেন। তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। বয়স আনুমানিক ২২ বছর।

সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ছিক্কাটুলী বায়তুল আমান জামে মসজিদসংলগ্ন সুইপার কলোনির পাশে তাকে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

পরে বংশাল থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান মাতবর এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, তার বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট ও কালো প্রিন্ট শার্ট।

তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এখন তার পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।’

এ নিয়ে ৩৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রাজধানীর বংশাল এলাকায় এক নারীসহ তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর আগে বংশাল মোহরটুলিতে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরে বংশাল সিদ্দিকবাজার এলাকায় আরেক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তার পিঠে ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত দেখা গেছে।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিতে দুদকের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

শেয়ার করুন

পুলিশি নিরাপত্তার ভূয়সী প্রশংসায় বিদেশি কূটনীতিকরা

পুলিশি নিরাপত্তার ভূয়সী প্রশংসায় বিদেশি কূটনীতিকরা

কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় পুলিশ যেভাবে কাজ করছে তার জন্য ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগ তথা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে ধন্যবাদ জানান। নিরাপত্তার জন্য দিন-রাত কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি পুলিশ কোভিড-১৯ মহামারির সময় ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা তাদের জন্য নেয়া বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রশংসা পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ।

ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উদ্যোগে রাজধানীর একটি হোটেলে রোববার নিরাপত্তা সমন্বয় সভা হয়। সেখানে উপস্থিত কূটনীতিকরা পুলিশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কনসাল জেনারেল এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম সভায় বলেন, ‘সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ বৈশ্বিক সমস্যা। তা শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য হুমকিস্বরূপ। সন্ত্রাসবাদ কোনো ধর্ম, জাতি, বিশ্বাস, সংস্কৃতি, নৃগোষ্ঠী বা সমাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না। বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

‘সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।’

পুলিশের নানা প্রচেষ্টার তথ্য তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে বড় ইউনিট ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ ইউনিটে ৩ শতাধিক বিসিএস ক্যাডারসহ ৩২ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিটের মধ্যে সাইবার ইউনিট, সোয়াট, বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট, স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ, সাইবার সিকিউরিটি টিম, ওয়ান স্টপ পুলিশ সার্ভিস ভিন্ন আঙ্গিকে কাজ করে যাচ্ছে।

‘কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় ২০১৩ সালে গঠন করা ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগ ৯৭৯ পুলিশ সদস্য নিয়ে কাজ করে চলেছে। তারা কূটনীতিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করছেন। বিভিন্ন স্থাপনাসহ কূটনৈতিক এলাকার সার্বক্ষণিক ও সার্বিক নিরাপত্তায় সজাগ এ বিভাগ।’

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার কূটনীতিকদের নিরাপত্তায় পুলিশ যেভাবে কাজ করছে তার জন্য ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগ তথা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করছে নিরাপত্তার জন্য। তাছাড়াও কোভিড-১৯ মহামারির সময় তারা ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছে।’

জাপানের রাষ্ট্রদূত নাওকি আইটিও প্রশংসা করেন পুলিশের কাজের। কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগ গঠনসহ ডিএমপি দৃঢ় নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সভায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘২০১৬ সালের হলিআর্টিজান হামলার পর ঢাকায় পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে। সে মোতাবেক সকল ইউনিট সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা আর ঘটেনি।’

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিতে দুদকের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড শেষে কারাগারে আরজে নিরব

দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড শেষে কারাগারে আরজে নিরব

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকমের হেড অফ সেলস (কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন) অফিসার হুমায়ুন কবির নিরব বা আরজে নিরব। ফাইল ছবি

ঢাকার মহানগর হাকিম মাসুদ-উর-রহমানের আদালত এবার রাজধানীর লালবাগ থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে আটকে রাখার আদেশ দেয়।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান কিউকমের হেড অফ সেলস (কমিউনিকেশন অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন) অফিসার হুমায়ুন কবির নিরব ওরফে আরজে নিরবকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকার মহানগর হাকিম মাসুদ-উর-রহমানের আদালত এবার রাজধানীর লালবাগ থানায় করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে আটকে রাখার আদেশ দেয়।

নিরবকে ১৮ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত। সোমবার রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয় তাকে।

এ দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনসের উপ-পুলিশ পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন আরজে নিরবকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন করেন।

নিরবের পক্ষে নূর-এ-আলম চৌধুরী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরজে নিরবের আইনজীবী তাকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিউজবাংলাকে জানান।
এ মামলায় কিউকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিপন মিয়া দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। ১৮ অক্টোবর তার রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত।

৬ অক্টোবর লালবাগ থানায় রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ নামে এক গ্রাহক। মামলায় অভিযোগ করেন, লোভনীয় অফার দিয়ে তিনিসহ তার আরও তিন বন্ধু মিলে কিউকম থেকে ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৫৩৩ টাকার পণ্য অর্ডার করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তাদের পণ্য সরবরাহ করেনি।

গত ৮ অক্টোবর আরজে নিরবকে রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই তেজগাঁও থানার মামলায় নিরবের এক দিনের রিমান্ড আদেশ দেয় আদালত। রিমান্ড শেষে ১০ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে লালবাগ থানার মামলায় তাকে আরও একদিন রিমান্ড দেয় আদালত।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিতে দুদকের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

শেয়ার করুন

মিরপুরে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিক নিহত

মিরপুরে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিক নিহত

নিহতের সহকর্মী জাফর মিয়া বলেন, ‘সোমবার মোল্লা মার্কেটের পাশে একটি ১২তলা নির্মাণাধীন ভবনের ছয় তলায় আমরা কাজ করছিলাম। হঠাৎ কাজ করতে করতে অসাবধানবশত নিচে পড়ে যান মনিরুল। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে মিরপুর ইসলামিয়া হাসপাতাল নিয়ে যাই।’

রাজধানীর মিরপুর-১২ এলাকায় মোল্লা মার্কেটের পাশে একটি ১২তলা নির্মাণাধীন ভবনের ছয় তলা পড়ে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

৬০ বছর বয়সী ওই শ্রমিকের নাম মনিরুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জে। পেশায় রাজমিস্ত্রী মনিরুল মিরপুর-১২ এর মোল্লার বস্তি এলাকায় থাকতেন।

সহকর্মীরা জানিয়েছেন, সোমবার সকালের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে চিকিৎসক সকাল সোয়া ১১টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের সহকর্মী জাফর মিয়া বলেন, ‘সোমবার মোল্লা মার্কেটের পাশে একটি ১২তলা নির্মাণাধীন ভবনের ছয় তলায় আমরা কাজ করছিলাম। হঠাৎ কাজ করতে করতে অসাবধানবশত নিচে পড়ে যান মনিরুল।

‘পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে মিরপুর ইসলামিয়া হাসপাতাল নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি হলে পঙ্গু হাসপাতাল নিয়ে যাই। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিতে দুদকের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

শেয়ার করুন

লাইসেন্সধারী ইউনানী কারখানায় ফের নকল ওষুধ

লাইসেন্সধারী ইউনানী কারখানায় ফের নকল ওষুধ

নকল ওষুধসহ গ্রেপ্তারকৃত জহির।

ওই কারখানা থেকে ২ হাজার ৫৫০ পিস ক্যাপসুল, ২৫০টি খালি কৌটা, ৫০ হাজার পিস খালি ক্যাপসুলের সেল ও এক হাজার কাগজের লেভেল জব্দ করা হয়েছে।

ইউনানী ওষুধ উৎপাদনের লাইসেন্স নিয়ে কারখানায় বানানো হয় নকল ওষুধ। এবার এমন আরও একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে গোয়েন্দারা।

শনিবার রাতে খিলগাঁও পূর্বনন্দী পাড়ার নেওয়াজবাগ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধসহ কারখানার মালিককে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগ।

রোববার গ্রেপ্তারকৃত ড্রাগ ফেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের মালিক মোহাম্মদ জহিরকে আদালতে পাঠানো হলে তাকে এক দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নকল ওষুধ বানানোর কথা স্বীকার করেছেন জহির। কীভাবে, কাদের মাধ্যমে এসব ওষুদ বাজারজাত করা হয়, এ ব্যাপারে তথ্য পেয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

ডিবি লালবাগের কোতয়ালী জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার সাইফুর রহমান আজাদ জানান, গ্রেপ্তারের আগে জহির ওষুধ তৈরি ও বিক্রির জন্য ঔষধ প্রশাসনের কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।

বিপুল পরিমাণ নকল আয়ুর্বেদিক ওষুধ উদ্ধার সম্পর্কে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, ‘তার কারখানা থেকে ২ হাজার ৫৫০ পিস ক্যাপসুল, ২৫০টি খালি কৌটা, ৫০ হাজার পিস খালি ক্যাপসুলের সেল ও এক হাজার কাগজের লেভেল জব্দ করা হয়েছে।’

এসব নকল ওষুধ ড্রাগ ফেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস (ইউনানী)-এর মোড়কে কার্ডোভিট মাল্টিভিটামিন অ্যান্ড মাল্টিমিনারেল নামে বাজারে সরবরাহ করা হয়। এগুলো তৈরির জন্য ঔষধ প্রশাসনের কোন অনুমোদন নেই।

ডিবি পুলিশের অভিযোগ, ইউনানি লাইসেন্সের আড়ালে নকল ওষুধ বানাচ্ছে একটি চক্র। জহিরও এই চক্রের সদস্য। এই বিপজ্জনক প্রতারণার সঙ্গে আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন:
কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
দুর্নীতিবাজদের শাস্তি নিশ্চিতে দুদকের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

শেয়ার করুন